Home Blog Page 2

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির 

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র। মাস এবং আসন্ন নীল সংক্রান্তি কেন্দ্র করে চলছে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।সারা সপ্তাহ ধরে

শিবকে নিয়ে নানা পৌরাণিক, শাস্ত্রীয় এবং লৌকিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আজ জানাবো বাংলার এক প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা।

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহর রাজ্য তথা দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর। যার প্রাচীন নাম ছিল তাম্রলিপ্ত নগরী। এই শহরেই আছে বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক চক্রেশ্বর শিব মন্দির।এই চক্রেশ্বর শিব লিঙ্গের উল্লেখ আছে মহাভারত সহ একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে।কথিত আছে পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় পঞ্চপান্ডবসহ কুন্তী ও দৌপ্রদী পুজো দিয়েছিলেন এই শিব মন্দিরে।চক্রেশ্বর মন্দির মোট চারটি শিবের লিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। জানা যায় তার মধ্যে একটি স্বয়ং প্রকটিত হয়েছে। অর্থাৎ স্বয়ম্ভু।কথিত আছে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যুধিষ্ঠির ভীম ও অর্জুন।তারাই পুজো শুরু করেন এই মন্দিরে। আজও সেই পরম্পরা বয়ে নিয়ে চলেছেন তমলুকের মানুষ।

 

চক্রেশ্বর নামের সাথেও যোগ রয়েছে মহাভারতের শোনা যায় মহাদেবের চক্রান্তের কারণেই গান্ধারী পূজা দিতে পারেনি এই মন্দিরে তাই গান্ধারী নাম রাখেন চক্রেশ্বর। তিনি এই মন্দির সংক্রান্ত একটি পুকুরকেও অভিশাপ দিয়ে বলেন যে তার জলও পুজোয় কাজে লাগবেনা। সেই পুকুরের জল আজও দূষিত এবং শুভ কাজে ব্যবহার হয়না।

 

বর্তমানে চক্রেশ্বর শিব মন্দিরে প্রতিদিন নিত্য পুজো হয় এর পাশাপাশি প্রতি সোমবার বিশেষ পুজো পাঠ চলে। শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসের নীল সংক্রান্তির পূজো হয় এই মন্দিরে। সেই সময়ে অসংখ্য শিব ভক্তর আগমন ঘটে এখানে।

 

ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আগামী পর্বে।

থাকবে শিবকে নিয়ে আরো অনেক তথ্য।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নীল ষষ্ঠীর প্রাক্কালে আরো একবার শিব সংক্রান্ত একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।

আজ লিখবো শিবের একটি লৌকিক বা আঞ্চলিক রূপ পঞ্চানন ঠাকুরকে নিয়ে।

 

পঞ্চানন বা পাঁচু ঠাকুর বাংলার এক বিখ্যাত লৌকিক দেবতা। লোকবিশ্বাসে ইনি মহাদেব শিবের এক লৌকিক রূপ আবার অন্যমতে,ইনি শিবের মানস পুত্র। মূলত গ্রামরক্ষক রূপে পঞ্চানন পূজিত শস্যদেবতা হিসাবেও তার পূজার প্রচলন আছে। মহাদেব শিবের সঙ্গে পঞ্চানন ঠাকুরের দেহাকৃতি।।ও বেশভূষার সাদৃশ্য আছে।পঞ্চাননের গাত্রবর্ণ লাল এবং চোখমুখের ভঙ্গি রুদ্ররূপী; বেশ বড় গোলাকার ও রক্তাভ তিনটি চোখ ক্রোধোদ্দীপ্ত। প্রশস্ত ও কালো টিকালো নাক, দাড়ি নেই, গোঁফ কান অবধি বিস্তৃত। মাথায় পিঙ্গলবর্ণের জটা চূড়া করে বাঁধা এবং তার মধ্যে জটা কিছু বুকে পিঠে ছড়ানো। কানে ধুতুরা ফুল বিরাজমান।গলায় ও হাতে বেশ বড় পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষমালা থাকে। হাতে ত্রিশূল ও ডমরু; পায়ে খড়ম এবং মাথায় বা দেহের উপর সাপ বিদ্যমান। পাশে থাকে পঞ্চরংয়ের বা পাঁচমুখো গাঁজার কলকে।উর্ধাঙ্গ অনাবৃত নিম্নাঙ্গ বাঘছাল পরিহিত।

 

গ্রাম বাংলার বিভিন্ন স্থানে পঞ্চানন ঠাকুরের পূজো হয়।তাছাড়া দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এ প্রাচীন এক মন্দিরে পঞ্চানন ঠাকুরের মূর্তি সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছে।

 

বহুকাল আগে যখন টালিগঞ্জের আদিগঙ্গার পাড়ে জন বসতি সেই ভাবে গড়ে ওঠেনি সেখানে বাস করতে বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য নামে এক পূজারী ব্রাহ্মণ। এক রাতে বৈদ্যনাথ স্বপ্ন দেখলেন, পঞ্চানন ঠাকুর এসেছেন।ঠাকুর বলছেন, এই গঙ্গার ঘাটে আমি তোর অপেক্ষায় আছি। জলের মধ্য থেকে উদ্ধার করে আমাকে নিয়ে চল দ্রুত।পুজো করার আদেশ ও পেলেন।পরের রাতে আবার একই স্বপ্ন ভোর হতে তখনো খানিকটা সময় বাকি, কিন্তু অপেক্ষা করলেন না তিনি। সেই রাতেই গ্রামের কয়েকজন ভক্তকে ডেকে নিয়ে, সস্ত্রীক চললেন গঙ্গার ঘাটে।ঘাটে এসে তিনি দেখলেন, তিনটে প্রায় চারকোণা আকৃতির পাথর রাখা আছে জলের ধারে, আর তিনটিই রক্তাভ। তিনটে পাথরকে এক বিরাট সাপ জড়িয়ে আছে। সেই পাথর তুলে এনে তিনি স্থাপন করলেন নিজের মন্দিরে। পরবর্তীতে স্বপ্নে দেখা রুপ মিলিয়ে তৈরি হলো মূর্তি শুরু হলো পুজো।এই রকম জনশ্রুতি আর ভক্তির সাথে মিলেমিশে রয়েছে এই পঞ্চানন ঠাকুরের মন্দির ও তার অস্তিত্ব।

 

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস হাঁসুলী বাকের উপকথা তেও এক আঞ্চলিক

দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায় যাকে কাহার সম্প্রদায় বাবাঠাকুর নামে ডাকে এবং তাঁর বাহন সাপ। এই বাবা ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর একই বলে মনে হয়। অর্থাৎ দুইই শিবের আঞ্চলিক রূপ।

 

গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি।

গ্রাম বাংলায় পূজিত ধর্ম ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর অনেকের কাছেই একই লৌকিক দেবতা।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব সংক্রান্ত বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনা ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আর কিছুদি পরেই নীল ষষ্টি। শিব কথা শ্রবন এবং শিব মাহাত্ম বর্ণনা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।আজ শিব অবতার শঙ্করআচার্য্যকে নিয়ে লিখবো।

শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।শিবের অংশ।

আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|আনুমানিক 1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।

গৃহ ত্যাগ করে সন দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের।শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য।

কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন। তখন তর্ক শাস্ত্রে তার মতো জ্ঞানী দেশে আর কেউ ছিলোনা। মনে করা হয় নিজের অসীম জ্ঞানের জন্য শঙ্করাচার্য্য যখন সামান্য অহং বোধের শিকার হন তখন একদিন পথে এক চণ্ডাল তার সামনে আসেন।তার সঙ্গে ছিলো কয়েকটি ভীষণ দর্শন কুকুর।আদি গুরু তাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। স্বাভাবিক ভাবেই চণ্ডালের আগমন তাকে বিব্রত এবং বিরক্ত করেছিলো। সেই সময় সেই ভয়ংকর চেহারার চণ্ডাল তখন শঙ্করাচার্য্য কে বলেন যদি অদ্বৈত বাদ সত্য হয়। সব জীবেই পরম ব্রহ্ম বাস করেন। তবে চণ্ডাল আর ব্রাহ্মনে ভেদ থাকা উচিৎ নয়। মুহূর্তে আদি গুরু তার ভুল বুঝতে পারেন। সেই চণ্ডালের সামনে মাথা নত করেন। তখন শিব নিজ রূপে তাঁকে দেখা দেন।শংকরাচার্য্য ধন্য হন বিশ্বনাথের দর্শন পেয়ে।

শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|

শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা
অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

চৈত্র মাস উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের আদি অঘোরী রূপ

শিবের আদি অঘোরী রূপ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের অনেক রূপ।তার মধ্যে সব থেকে রহস্যময় রূপ হলো তার অঘোরী রূপ।চৈত্র মাস উপলক্ষে আজকের পর্বে লিখবো এই বিশেষ সাধন পথ এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে।

যদিও অঘোরীdeর সাধন পক্রিয়া গোপন একটি বিষয় তবু এটুকু জানা যায় যে অঘোরীরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে শিবের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চান।অঘোর পন্থায় শিবের উপাসনা করার উপচার হিসেবে অঘোরীরা শব-সাধনার পথ বেছে নেন।অন্ত্যন্ত কঠিক এই সাধন পক্রিয়ায় একজন অঘোরী মৃতদেহের উপর বসে সাধনা করেন। ‘শব থেকেই শিব প্রাপ্তি’ এই হল তাঁদের দর্শন।এছাড়াও আরো অনেক সাধন পদ্ধতি আছে যেগুলো অত্যন্ত জটিল এবং গোপন।

যুগ যুগ ধরে অঘোরীদের জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন সব সময়ই ব্যাপক কৌতূহলের বিষয় কারন তাঁদের জীবন অনেকটাই রহস্যে মোড়া। সাধারণত এঁরা শ্মশানে থাকেন, ধ্যান করেন। মৃতদেহ এবং শ্মশানকেই তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি করে তোলেন। শুধু মৃতদেহ নয় সাধারন মানুষের কাছে যা তথাকথিত ঘৃণ্য এবং পরিত্যায্য তাই তাদের সাধনার উপাদান। কাশী সহ দেশের অনেক জায়গায় তাঁদের মঠ রয়েছে কুম্ভ মেলা গঙ্গা সাগর মেলায় তাদের দেখা গেলেও তাঁদের আবির্ভাব এবং হঠাৎ অন্তর্ধান সব সময়ই এক রহস্যময় বিষয়।

অঘোরীরা মূলত তিনটি ধাপে সাধনা করেন।প্রথম শব সাধনা এখনে শবকে মাধ্যম করে সাধনা করা হয়।দ্বিতীয় শিব সাধনা এখানে শিবকে আদি অঘোরী রূপে মেনে তার ধ্যান করা হয়।
তৃতীয় শ্মশান সাধনা যেখানে শ্মশান ভূমিতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে হোম যজ্ঞাদি সম্পন্ন করা হয়।
অঘোর পন্থায় শিবকে সর্বত্যাগি শ্মশানচারী এবং রূদ্র মূর্তি রূপে পূজো করা হয়।

আসলে অঘোরীরা বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষই অঘোরী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা বলে, একটি ছোট অবোধ শিশু যেমন তার বর্জ্য ও খাদ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারে না তেমনই করেন না অঘোরীরাও ভেদাভেদ করেননা। তাদের অহং বোধ নেই শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই তাই পোশাকের কোনো প্রয়োজন নেই।তাদের চোখে ভাল বা খারাপের কোনও প্রভেদ নেই আছেন শুধু পরম পিতা যার কাছে সবাই সমান।

বিশ্বাস করা হয় অঘোরীরা শিবের অত্যান্ত প্রিয় এবং শিব তাঁদের সর্বত্র রক্ষা করে থাকেন।

চৈত্র মাসে মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই
শিব সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক আলোচনা।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শুভ হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ হনুমানজির আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালিত হয় আমাদের দেশে। এই পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমান সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এবং হনুমান জয়ন্তীর শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা।

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।

শাস্ত্র মতে হনুমান চার যুগে অমর, পুরাণে তাই বলা হয়|এমনকি আজও তিনি স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।তিনি অষ্ট চিরঞ্জিবীদের অন্যতম।

হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন। মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে মনে করা হয় কুরুক্ষে যুদ্ধে
অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি।সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে হনুমানকে একবার দর্শনও দিয়েছিলেন।

হনুমান চালিসা অনুসারে রোগ ভোগ, ভুত পিশাচ এবং যেকোনো সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হুনুমানের স্মরণ নিলে, তাকে ভক্তি সহকারে ডাকলে|তিনি অসীম বল শালী কিন্তু সম্পূর্ণ নিরহংকার।রামায়ণে একমাত্র তিনিই নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন। প্রভু শ্রী রাম কে সেবা করা ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য নেই।

যেহেতু হনূমান স্বয়ং সশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন তাই একজন প্রকৃত ভক্তের ডাকে তিনি অন্যন্যা দেব দেবীদের তুলনায় অনেক দ্রুত সাড়া দেন এবং ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।

আজ শাস্ত্র মতে হনুমানজীকে ডাকুন। তার পুজো করুন। তার কৃপায় সংকট দুর হয় মনোস্কামনা
পূর্ণ হয়।সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই। ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে।দেখতে থাকুন।

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্যা

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্য

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে
“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস এবং নব নিধী হলো নয়টি অমূল্য সম্পদ।আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো এই অষ্টসিদ্ধি এবং নব
নিধীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

অষ্ট সিদ্ধির প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়।

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়।

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়।

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়।

পঞ্চম সিদ্ধি হলো প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে।

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে।

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে।

বশিত্ব হলো অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি যা অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়।

এবার আসি নবনিধির দিকে। এই নব নিধী বলতে বলতে নয়টি বিশেষ অলৌকিক রত্ন বা ঐশ্বর্যকে বোঝায়। নবনিধির অন্তর্ভুক্ত নয়টি রত্ন বা সম্পদ হলো যথাক্রমে পদ্ম,মহাপদ্ম,শঙ্খ, মকর,কচ্ছপ, মুকুন্দ,কুন্দ,নীল এবং খর্ব।এই নয়টি সম্পদ যে শুধু মূল্যবান পার্থিব বস্তু তা নয়। এগুলি অসীম জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনা যা বজরংবলীর অধিকারে ছিলো এবং প্রভু রামের সেবায় থাকা কালীন তিনি অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে
ব্যবহার ও করেছেন।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীর হনূমান এবং শনি দেব

বীর হনূমান এবং শনি দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রের সঙ্গে বজরংবলীর রয়েছে গভীর সম্পর্ক।শাস্ত্রে আছে হনুমান পুজো করলে শনির খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু কেনো|তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শাস্ত্রে।হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজকের এই বিশেষ পর্বে সেই

প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি হনুমানজী যখন প্রথম লঙ্কায় যান রামের দূত হিসেবে তখন তিনি লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দি শনিদেবকে মুক্ত করে দেন।সন্তুষ্ট হয়ে হনূমানকে আশীর্বাদ দেন শনিদেব।

তবে এখানেই শেষ নয়। একাধিক বার সাক্ষাৎ হয় এই দুই মহারথীর।

 

হনুমান একদিন রামের পুজোয় বসেছেন। এমন সময় শনিদেব এলেন তাঁর কাছে। নিজ পরিচয় সদম্ভে ঘোষণা করে কে বেশী শক্তিশালী তা দেখার জন্য হনুমানকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন।শান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন হনুমান। বললেন, ‘আমি এখন রামের ধ্যানে বসেছি। দয়া করে আমাকে একা ছেড়ে দিন। পুজোর সময় আমাকে বিরক্ত করবেন না’।

 

শনি তো নাছোড়বান্দা! যুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা না করে কিছুতেই যাবেন না তিনি। অগত্যা হনুমান আর কি করেন! নিজের লেজটাকেই বড় করে শনিদেবকে পেঁচিয়ে ফেললেন এবং শক্ত করতে লাগলেন লেজের বাঁধুনি। যতই বাঁধন শক্ত করেন, শনিদেব তো ততই হাঁসফাঁস করতে থাকেন ব্যথায়! শেষে হনুমান যখন লেজ ওপর-নীচ করতে লাগলেন, শনিদেবের তখন রীতিমতো কষ্ট পাচ্ছেন, এরপর পাথরের উপর দিয়ে ঘষে তাকে কিছুটা দূর নিয়ে গেলেন হনুমান, সারা গায়ে যখন তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তিনি মুক্তি চাইলেন, তখন শনির মিনতিতে দয়া হল হনুমানের।শনিদেবকে ছেড়ে দিলেন তিনি।

 

রামায়নের যুগের অবসান হওয়ায় পরেও একবার দুজনের সংঘাত হয়। একবার শনিদেব এসে হনুমানকে হুমকির সুরে সাবধান করে বলেন যে এই মুহূর্ত আমার সাড়ে সাতির দশা আপনার ওপরেও পড়তে চলেছে। এর উওরে হনুমানজী বলেছিলেন শ্রীরামের যারা ভক্ত তাদের উপরে গ্রহের কু প্রভাব পড়েনা।তাছাড়া আমার গোটা শরীরেতো শ্রীরামের বাস আপনার স্থান নেই।

জেদ করে শনিদেব হনুমানজীর মাথায় গিয়ে অবস্থান করলেন।আর হনুমানজীর মাথায় তখন হঠাৎ একটু অসস্ত্বি হতে শুরু হল। হনুমানজী এক পাহাড় তুলে নিজের মাথায় রাখলেন। প্রচন্ড ভারে কাবু হয়ে বললেন আমাকে নিচে নামতে দিন আমি আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি আছি।

 

সন্ধি অনুসারে মুক্তি পান শনি দেব তবে শর্ত শ্রী রামের নাম যারা জপেন এবং যারা বজরংবলীর স্মরণ নেবেন তাদের ক্ষতি করা যাবেনা। আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র এই কথা মেনে চলে।

 

আজকে বজরংবলী কে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

বীর হনুমান এবং দশানন রাবন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

হনূমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি রূদ্রঅবতার বজরংবলীকে নিয়ে কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক আলোচনা।আজ লিখবো হনুমান এবং দশানন রাবনের সম্পর্ক এবং এই দুই
চরিত্রকে ঘিরে কিছু পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে।

একবার কৈলাসে নিজের আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেবের দর্শন করতে গিয়ে অহংকারী রাবন
শিবের অনুচর নন্দীকে বানররুপী বলে ব্যঙ্গ করেন এবং অপমান করেন।সেই অপমানে রেগে গিয়ে নন্দী রাবনকে এক বানর দ্বারা পরাস্ত হওয়ার অভিশাপ দেন। পরবর্তীতে হনুমান রাবনের পতনের অন্যতম কারন হন। অর্থাৎ এই পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে রাবনকে দেয়া নন্দীর অভিশাপ সত্যি করতে হনূমানের আবির্ভাব বলাই যায়।

রাবন এবং হনুমান দুই চরিত্রই শিবের সাথে গভির সম্পর্কযুক্ত। রাবন যেমন শিবের শিষ্য এবং শিবের ধ্যান করে তার আশীর্বাদ পেয়ে বলবান হন তেমনই হনুমান স্বয়ং শিবের অংশ। রূদ্র অবতার।
রামায়নের কালে দুই শিব ভক্ত হয়ে ওঠেন একে অন্যের শত্রু। হনূমান থাকেন ন্যায়ের পক্ষে। সত্যর পক্ষে অন্য দিকে রাবন ছিলেন অন্যায় এবং অধর্মর পক্ষে।

শক্তিতে রাবন অতীব বলশালী হলেও হনূমানের ন্যায় ক্ষমতাবান সে যুগে কেউ ছিলোনা। তিনি একাই রাবনকে পরাস্ত করে মা সীতা কে উদ্ধার করতে পারতেন। কিন্তু এই কাজ প্রভু শ্রী রামের কর্তব্য তাই তিনি রামের সেবায় তার দাস হয়ে রয়ে যান।

রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রহণ করেন তখন|রাবন চেয়েছিলেন সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|
নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন।এমনকি নিজ অহংকার প্রকাশ করতে তিনি গ্রহদের নিজের সিংহাসনে পৌঁছানোর সিঁড়ির ধাপ রূপে ব্যবহার করতেন।
তাদের মাথায় পা রেখে এগিয়ে যেতেন।
স্বর্ণ লঙ্কা জ্বালিয়ে দেয়ার সময় হনূমান গ্রহদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি দেন। রাবনের অহংকারের পতন ঘটান।

আগামী পর্বে হনুমান এবং শনি দেবের সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে লিখবো । জানাবো জ্যোতিষ শাস্ত্রে বজরংবলী কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

শিব মাহাত্ম্য – পঞ্চকেদার রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কেদারনাথ মন্দিরের চারপাশে রয়েছে আরো চারটি প্রাচীন শিব মন্দির এবং এই পাঁচটি শিব মন্দিরকে একত্রে বলা হয় পঞ্চকেদার।আজকের পর্বে জানাবো কি এই

পঞ্চ কেদার এবং কিভাবেই বা সৃষ্টি হয় এই

পঞ্চ কেদারের।

 

পঞ্চ কেদারের রহস্য জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই মহাভারতের যুগে।পাণ্ডবরা কৌরবদের পরাজিত করার পর যুদ্ধের সময় তাদের দ্বারা করা ব্রাহ্মন হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেবাদিদেবের স্মরণ নিতে তারা প্রথমে কাশীতে যান।শিব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মৃত্যু এবং অসততার জন্য গভীরভাবে বিরক্ত ছিলেন তাই পাণ্ডবদের দেখা না দিয়ে নন্দীর রূপ ধারণ করেন এবং গাড়ওয়াল অঞ্চলে লুকিয়ে থাকেন। কাশীতে শিবকে না পেয়ে পাণ্ডবরা গাড়ওয়াল হিমালয়ে চলে যান। ভীম গুপ্তকাশীর কাছে একটি ষাঁড়কে ঘুরে বেড়াতে দেখে তার স্বরূপ উপলব্ধি করেন তৎক্ষণাৎ তিনি ষাঁড় রুপী মহাদেবকে বল পূর্বক ধরতে চেষ্টা করেন তবে লেজ আঁকড়ে ধরার সাথে সাথে বীর বিক্রমে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অদৃশ্য হয়ে গেলো সেই বিশালাকৃতি ষাঁড় রুপী মহাদেব।

পরে কিছু অংশে আবার আবির্ভূত হলো। পাঁচটি স্থানে প্রকাশ পেলো এই রূপ। এই পাঁচটি স্থানকেই একত্রে পঞ্চ কেদার বলা হয়।

 

কেদারনাথে কুঁজ,বাহুগুলি তুঙ্গনাথে, মুখ রুদ্রনাথে, নাভি এবং পেট মধ্যমহেশ্বর এবং লোমগুলি কল্পেশ্বরে প্রকাশিত হয়েছিল।

পাণ্ডবরা এই স্থানে পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।সেই মন্দিরই পঞ্চ কেদার ধাম রূপে আজও বিরাজমান।

 

প্রতিটি শিব ভক্তের মনের সুপ্ত বাসনা থাকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের পাশাপাশি এই পঞ্চকেদার দর্শন করে মহাদেবের আশীর্বাদ লাভ করার।শাস্ত্র মতে পঞ্চ কেদার দর্শন করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় এবং জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

পাঁচটি মন্দিরে পাঁচজন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন এবং তারা এক বছরের জন্য পালাক্রমে প্রধান সেবক হিসেবে কাজ করেন।বছরের একটি দীর্ঘ সময়ে বরফে ঢাকা থাকে এই স্থান। তাপ মাত্রা হিমাংকের নিচে নেমে যায়।তবে এই দুর্গম স্থান হওয়া সত্ত্বেও বহু ভক্ত আসেন প্রতি বছর শিব পুজো করতে।

 

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে ফিরে আসবো বজরংবলী সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম্য

শিব মাহাত্ম্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

চৈত্র মাস কে বলা হয় শিবের মাস।আর কিছুদিন পরেই নীল কণ্ঠ রূপে পূজিত হবেন মহাদেব।
আজ আপনাদের শিবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু বিষয়ের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং অন্তর্নিহিত গুরুত্ব সম্পর্কে লিখবো।

শিবের নীলাভ শরীরের ও অন্তর্নিহিত অর্থ আছে।আকাশ অন্তহীন শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতাতথা অসীমতার প্রতীক।শিবের আরেক নাম নীলকণ্ঠ।

শিব গঙ্গাধর নামেও পরিচিত কারন শিব তার জটায় গঙ্গা কে স্থান দিয়েছেন এবং তার ভয়ংকর গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেছেন।
গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে।
যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়
তখনই পরম জ্ঞান লাভ হয়।

সাপ হচ্ছে কুলকুণ্ডলীনি শক্তির প্রতীক।আবার সর্প মানে ভয় বা আতঙ্ক। যিনি ভয় কে গলায় জড়িয়ে রাখেন তিনি ভয় যার অঙ্গের ভূষণ তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।

শিবের অঙ্গে ভষ্ম থাকে এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে। এই ভস্ম শিবের খুবই প্ৰিয়।

শিবকে চন্দ্রমৌলি ও বলা হয় কারন শিবের জটায় থাকে চন্দ্র চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।
স্বয়ং শিব এই চন্দ্র কে ধারণ করেন অর্থাৎ তিনি মন এবং মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রক।

ডমরু শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।আবার তন্ত্র শাস্ত্র মতে এই ডমরু থেকেই তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।

শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন সত্ত রজ এবং তম গুন।ত্রিশূল তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন। আবার সৃষ্টি এবং ধ্বংশ এই ত্রিশূলের মাধ্যমেই হয়।এই ত্রিশূলই তিনি দিয়েছিলেন মা দুর্গাকে অসুর নিধন করার জন্য।

শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই।চৈত্র মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।