Home Blog Page 2

কালী কথা – প্রসন্নময়ী কালী

কালী কথা – প্রসন্নময়ী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিখ্যাত কালী মন্দির গুলির মধ্যে অনেকগুলি ব্রিটিশ আমলের জমিদারদের পৃষ্ঠেপোষকতায় গড়ে উঠেছিল যাদের ঘিরে আছে নানা রকম অলৌকিক ঘটনা। এমনই এক কালী মন্দির আছে উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবর ডাঙায়

যা প্রসন্ন ময়ী কালী নামে খ্যাত।আজ কালী কথায় এই ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

শোনা যায় স্থানীয় জমিদারবাবুর স্ত্রীর গর্ভে কোন পুত্রসন্তান না হওয়ায় তিনি খুবই মনঃকষ্টে ছিলেন। সেই সময় এক সন্ন্যাসী এসে তাঁকে কালীমাতার প্রসাদী ফুল দৈব,ওষুধ হিসাবে ধারণ করতে বলেন। কিছু দিন পর সন্তান লাভ হয়। মনে করা হয় ওই ওষুধ ধারণের ফলে তার স্ত্রী ওই

পুত্রসন্তান লাভ করেন। কালী মাতা প্রসন্ন হয়ে এই পুত্রসন্তান দেওয়ায় সেই পুত্রের নাম রাখা হয় কালীপ্রসন্ন এবং কালীমাতার প্রসাদে পুত্রসন্তান লাভ করায় জমিদার বাবু কালীমূর্তি ও কালীমন্দির স্থাপনে উদ্যোগী হন। কিন্তু মন্দির নির্মাণ কার্য শেষ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে পুত্র কালীপ্রসন্ন জমিদার হন এবং মন্দির নির্মাণ কার্য শেষ করেন। এই কালী মন্দির প্রসন্ন ময়ী কালী মন্দির নাম প্রসিদ্ধ হয়।

 

বংশের রীতি মেনে আজও ওই বংশের প্রতিটি পুরুষের নামের সঙ্গে ‘প্রসন্ন’ শব্দ যুক্ত করা হয়।

তারা মনে করেন এই পরিবারে দেবী কালীর বিশেষ আশীর্বাদ রয়েছে।

 

প্রসন্ন ময়ী কালী মন্দির উঁচু ভিত্তি বেদির উপর প্রতিষ্ঠিত। দক্ষিণমুখী মন্দিরটি একটি দালান বিশিষ্ট।গর্ভগৃহে শ্বেত পাথরের বেদির উপর শায়িত স্বেত পাথরের শিবের উপর দণ্ডায়মানা প্রায় ২.৫ ফুট উঁচু কষ্টি পাথরের সুন্দর কালিকা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত।

 

প্রায় চারশো বছরের পুরোনো এই মন্দিরে প্রতিটি বিশেষ তিথি যেমন কৌশিকী বা দীপান্বিতা অমাবস্যায় উৎসব উপলক্ষ্যে আশেপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকের সমাগম হয়। শনি-মঙ্গলবারে অনেকে মনোস্কামনা পূরণের জন্য পূজাও দিয়ে থাকেন।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস সমৃদ্ধ লেখা

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – চঞ্চলা কালী 

কালী কথা – চঞ্চলা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বালুরঘাট শহরের প্রাচীন কালী পুজো পূজো গুলির অন্যতম চঞ্চলা কালী নিয়ে

আজকের কালী কথা।

 

প্রায় তিনশো বছর ধরে পুজো চলছে এখানে শোনা যায় কোনো এক সময়ে এখান থেকে কিছু অলৌকিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তখন স্থানীয় রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজার মৃত্যুর পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এই এলাকার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় জমিদারের সহযোগিতায় আবার পুজোর সূচনা করেন।দেবী এখানে

চঞ্চলা কালী নামে প্রসিদ্ধা।

 

বালুরঘাট শহরের হোসেনপুরের কাছে চকবাখর গ্রামে রয়েছে এই চঞ্চলা কালী। প্রতি বছর এখানে দোলপূর্ণিমার পরের দিন গভীর রাতে চঞ্চলা কালীর পুজো হয়।সাধারণত কালীর পায়ের নিচে শিবের দেখা মিললেও এই কালীর পায়ের নিচে অশুর রয়েছে। অন্য পায়ের নিচে আছে সিংহ। বলা হয়, মহামায়া ও চামুণ্ডার এক রূপ এই চঞ্চলা কালী মাতা।দেবীর উচ্চতা সাড়ে দশ হাত এবং চঞ্চলা কালী মাতার হাতের সংখ্যা আট।

 

চঞ্চলা কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান কালী এবং মাশান কালীর মন্দির। মা চঞ্চলার পুজোর পরের দিন এঁরা তন্ত্র মতে ভক্তিভরে পূজিতা হন। এখানে রয়েছে একটি পুকুর। জনশ্রুতি রয়েছে এই পুকুর থেকে একসময় পূজোর কাজের জন্য থালা-বাসন ভেসে উঠত।পূজোর পর আবার সেগুলি জলাশয়ে রাখা হতো।বর্তমানে এই পুকুরের জল দিয়েই মায়ের পুজো সম্পন্ন করা হয়।

 

দেবী মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির যেখানে পুজোর পরে দুদিন রাতভর মঙ্গলচন্ডীর গান শোনানো হয়।প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো এই পুজোয় শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ প্রতিবেশী রাজ্যের ভক্তরাও আসেন।

 

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। কালী কথা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে উপস্থাপনা

চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – তারাশঙ্করী পীঠ

কালী কথা – তারাশঙ্করী পীঠ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এক প্রসিদ্ধ কালী মন্দির
নিয়ে লিখবো যা তারাশঙ্করী পীঠ নামে প্রসিদ্ধ।

শাস্ত্রে উল্লেখিত শক্তি পীঠ নাহলেও তারাপীঠের মতো এটিকেও একটি সিদ্ধপীঠ রূপে দেখা হয়। ১৯৫২ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক এবং তন্ত্রমতে মায়ের আরাধনা শুরু করেন ।

শোনা যায় অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক। তিনি ভবিষ্যত দেখতে পারতেন।একবার তৎকালীন এক নামি রাজনীতি বিদ এই মন্দিরে এসেছিলেন তখন মাতৃ সাধক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন তিনি সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং মন্ত্রী হবেন।পরবর্তীতে বাস্তবে হয়েছিল ঠিক তেমনটাই।
এমন বহু ঘটনা আছে যা থেকে তাঁর খ্যাতি
ছড়িয়ে পরে গোটা বাংলায়।

বহু প্রাচীন কাল থেকে একটি অদ্ভুত রীতি পালিত হয় এই মন্দিরে|মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় বারাণসীর মণিকর্নিকা মহাশ্মশান থেকে এক সধবার চিতার আগুন আনা হয় এখানে সেই থেকে আজ পর্যন্ত জ্বলছে সেই চিতার আগুন|অত্যন্ত পবিত্র অগ্নি রূপে এই আগুন কে শ্রদ্ধা করা হয় এই মন্দিরে|

মা তারার পাশাপাশি এই মন্দিরের পূজিত হন যশমাধব।তার মূর্তি নিমকাঠের তৈরি যা আনা হয়েছিলো বাংলাদেশ থেকে।নিত্য পুজোয়
যশমাধবকে দেওয়া হয় নিরামিষ ভোগ।
একই সঙ্গে তারাশঙ্করী পীঠে পূজিত হন কালভৈরব|তারাশঙ্করী পীঠের আরও এক আকর্ষণ হল ‘নরমুণ্ডি আসন’। বাঘ, হাতি, শেয়াল, সাপ, অপঘাতে মৃত ব্যক্তি, চণ্ডাল ইত্যাদির ৯টি মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত এই আসন তন্ত্র সাধনায় ব্যাবহিত হতো।

প্রায় প্রত্যেক বিশেষ তিথিতে এবং অমাবস্যায় এখানে বিশেষ পুজো এবং হোম যজ্ঞর আয়োজন হয়।সেই সময়ে বহু মানুষের ভিড় হয়
এই মন্দির প্রাঙ্গনে।

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে কালী কথায়।ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে এই
আধ্যাত্মিক লেখা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – সাত ভাইয়ের কালী পুজো 

কালী কথা – সাত ভাইয়ের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের এককালের অবিভক্ত বাংলার একটি প্রসিদ্ধ ডাকাত কালী পূজোর কথা জানাবো।যে পুজো সাত ভাইয়ের পুজো নামে খ্যাত।অবশ্য সাত ডাকাতের পূজো বললেও ভুল বলা হয়না কারন সাত ভাই ছিলো ডাকাত এবং তারাই শুরু করে এই কালী পূজো।

 

এই পুজোর ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং বর্ণময় অবিভক্ত বাংলার যশোরের কাছে বাস করতো এক পরিবার। সাত ভাইয়ের পরিবারে সবাই ছিলো ডাকাত।জলে জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চল তখন দাপিয়ে বেড়াতো এই সাত ভাইয়ের ডাকাত দল। শোনা যায় তাদের নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো।

 

এক বার যশোর জমিদার বাড়িতে ডাকাতি করতে যায় সাত ভাই দল।সেখানেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।শোনা যায়, ডাকাতি করে ফেরার সময় ডাকাতদের উদ্দেশ্যে সেই বাড়ির মন্দিরের কালীঠাকুর বলেছিলেন, ’’ তোরা সব কিছু নিয়ে যাচ্ছিস, আমাকে নিবি না?’’ এই শুনে ডাকার দল কালীঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে যায়।

 

কিন্তু কোথায় রাখবে দেবীপ্রতিমাকে এবং কেই বা করবে পুজো।শেষ পর্যন্ত আলোচনা করে প্রায় তিনশো কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে বনগাঁর ইছামতি নদীর ধারে এসে হাজির হল ডাকাত দল। বন-জঙ্গলে ঘেরা বট গাছের নীচে

প্রতিষ্ঠা করা হল কালীমূর্তি তারপর দেবীপুজোর জন্য ডাকাত দল পুরোহিতের খোঁজে বের হয়। স্থানীয় এক চক্রবর্তী পুরোহিতকে খুঁজে পায় তারা

সেই পরিবারের এক ব্রাহ্মণ সন্তান

পুজোর ভার নেন।

 

সেই থেকে চলে আসছে এই সাত ভাইয়ের পুজো।অতিক্রান্ত হয়েছে কয়েকশো বছর। আজও সেই চক্রবর্তী পরিবারই বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন।এখন বহু মানুষে এখানে আসেন পুজো দিতে। নিজেদের মনোস্কামনা জানাতে।এই স্থান এখন এক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ কালী তীর্থে পরিণত হয়েছে।

 

বাংলায় যেমন কালী মন্দিরের অভাব নেই তেমনই এই সব কালী মন্দির বা কালী পুজো নিয়ে গল্প এবং অলৌকিক ঘটনার কোনো অভাব নেই।

ফিরে আসবো পরের পর্বে কালী কথা নিয়ে

এখনো অসংখ্য কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।দেখতে থাকুন।

কালী কথা – সাত বোনের কালী পূজো

কালী কথা – সাত বোনের কালী পূজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে শুরু করেছি

ধারাবাহিক কালী কথা। আগের একটি পর্বে আপনাদের বলেছি সাত ভাইয়ের ডাকাত কালী পূজোর কথা। আজ লিখবো বোলপুরের সাত বোনের পূজো নিয়ে।

 

এখানে সাত বোন বলতে সাত দেবী মূর্তির একত্রে পুজোকে বোঝানো হয় কারন একটি ঘরের মধ্যে সাতটি বেদিতে অধিষ্ঠিত আছেন সাতটি কালী। এবং মনে করা হয় প্রত্যেকে সম্পর্কে একে অপরের বোন।দেড়শ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে পূজো করেন মহিলা পুরোহিত। এখানে পূজোর পর মূর্তি বিসর্জন করা যায় না। মন্দিরের বাইরে খোলা আকাশের দেবী প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়।

প্রকৃতির নিয়মে গলে যায় মাটি।

 

শোনা যায় একসময় এই গ্রামেই বাস করতেন লাভপুরের জমিদার পরিবারের উত্তরসুরীরা। সেই সময় এই কালীপুজোর ঘরটি ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ভাবে সংরক্ষিত।জনশ্রুতি আছে

বহু বছর আগে এই গ্রামেই এক সাধক মা কালীর তপস্যায় রত ছিলেন। দীর্ঘ সাধনার পর একদিন চোখ খুলে তিনি দেখেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক অপূর্ব কিশোরী। দেবী তাঁকে জানিয়েছিলেন সাত বোনকে পুজো করতে হবে। সাত দেবী একত্রে এলাকা বাসীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

 

দেবী প্রতিমাগুলির রঙেও রয়েছে বৈচিত্র্য-কোনও দেবীর গাত্রবর্ণ কালো। কারও গাঢ় নীল কিংবা সবুজাভ। সাত বোনের এই রূপের পার্থক্যকেও দেবীর বিভিন্ন শক্তির প্রতীক বলেই

বিশ্বাস করা হয়।

 

পুরোনো পরম্পরা মেনে পুরুষরা সাধারণত এই পুজোয় অংশ নেন না। ঘর সাজানো থেকে মন্ত্রপাঠ মেয়েরাই সমস্ত আয়োজন করেন। প্রতি বছরই কালীপুজোর সময় এই পূজো দেখতে

বহু দর্শনার্থীদের ভিড় হয়।সাত বোনের কাছে

বহু মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে।

 

ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে

আবার আগামী পর্বে। চলতে থাকবে এই

শাস্ত্রীয় লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – রাজবল্লভী কালী 

কালী কথা – রাজবল্লভী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথার এই পর্বে

আপনাদের হুগলি জেলার অন্তর্গত রাজবলহাটের দেবী রাজবল্লভী মন্দিরের কথা লিখবো।

 

বহু ঐতিহাসিক মনে করেন রাজবল্লভী মায়ের নামেই রাজবল হাট নাম হয়েছে এই স্থানের।শোনা যায়, বহুকাল আগে যখন এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে কংসাবতী নদী বয়ে যেত, তখনই এক সদাগর দেবীর দেখা পান। তিনিই এখানে মন্দির তৈরি করেন। তবে এটি নিছক জনশ্রুতি হতে পারে কারন ইতিহাস অন্য কথা বলছে।রাজবলহাট তথা দেবী রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা করেন রাজা

সদানন্দ রায়।

 

স্থানীয় রাজা সদানন্দ রায় একবার দামোদর ও রণ নদীর মধ্যবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে মৃগয়া করতে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে ফিরে প্রাণীহত্যার জন্য গভীর মনস্তাপে পড়ে যান। পরবর্তীতে সেই মনোস্তাপ থেকে মুক্তি পেতে গুরুর নির্দেশে গভীর অরণ্যে মাতৃ সাধনা শুরু করেন এবং দ্বিভূজা, ষোড়শীর বেশে রাজাকে দর্শন দিয়ে দেবী নির্দেশ করেন, এই জঙ্গলেই যেন তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। আর রাজা যেন নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে পুনরায় রাজধর্ম পালনে ব্রতী হন।সেই আদেশ অনুসারে স্থাপিত হয় রাজবল্লভী মায়ের মন্দির।

 

দেবী রাজবল্লভী দ্বিভূজা। তাঁর ডান হাতে একটি ছুরি আর বাঁ হাতে ধরা সিঁদুরের পাত্র। কটিদেশে ছোট ছোট হাতের কোমরবন্ধ, গলায় নরমুণ্ডের মালা‌। সব মিলিয়ে দেবী কালিকার সঙ্গে রাজবল্লভীর কিছু মিল আছে তবে গায়ের রং সাদা।দেবীর পায়ের নিচে একটি নয়, বরং দুটি শিবমূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। ডান পা রয়েছে কালভৈরবের বুকের উপরে। আর বাম পা রাখা আছে বিরূপাক্ষ শিবের মাথায়।

 

সম্ভবত ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা পান বলেই দেবীর নাম রাজবল্লভী।

আজও পূজার্চনার রীতিনীতিতে নানা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়। রাজবল্লভী দেবীর স্বভাবও রাজকীয়। তিনি প্রতি রাত্রে কাঠের পালঙ্কে নিদ্রা যান। রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় মাঝে মাঝে। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া। তবে খাবারের বিষয়ে তাঁর কোনো আড়ম্বর নেই। কোনোরকম সম্বরা না দিয়ে প্রতিদিন সিদ্ধ ভোগ রান্না হয় মন্দিরের লাগোয়া রন্ধনশালায়। বহু ভক্তকে সেই ভোগ পরিবেশন করা হয়।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরের পর্বে অন্য একটি কালী মন্দির নিয়ে

শাস্ত্রীয় উপস্থাপনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বকুলতলার কালী 

কালী কথা – বকুলতলার কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে আবার ফিরে এলাম ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে। বিভিন্ন কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনা দিয়ে সাজানো থাকবে এই পর্ব গুলি। আজ

বর্ধমানের বকুলতলার কালী দিয়ে শুরু করছি।

 

কাটোয়ার মুস্থূলী গ্রামে প্রায় তিনশো বছর ধরে চলে আসছে বকুলতলার কালীর পুজো। কথিত আছে বহু বছর আগে এক সাধক এলাকায় একটি বকুল গাছের নীচে এই কালীর পুজো শুরু করেন।

সেই থেকেই এই রূপ নামকরণ।

 

বকুলতলার কালী এলাকায় সর্বাধিক জাগ্রত কালী। তবে দেবী এখানে এলাকা বাসীর ঘরের মেয়ে তিনি এবং ‘মেজঠাকরুন’ নামেই বেশি পরিচিত।

 

যিনি পুজো শুরু করেছিলেন সেই মাতৃ সাধকের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মন্দিরের কাছেই সমাধিস্থ করা হয়েছে তাঁকে।সাধকের মৃত্যুর পর প্রথমে এলাকার জমিদার, পরে এলাকারই এক বাসিন্দাকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে গ্রামবাসীরা এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

অমাবস্যার রাতে পুজো শুরু হয় রাত বারোটার পর। প্রতিমা রঙ করা হয় পুজোর দিন রাতেই। পুজো হয় তন্ত্রমতে। পুজোয় পশু বলিও হয়।পুজো উপলক্ষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন স্থানীয় মহিলারা

 

দেবীর বিসর্জন এই পুজোর অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ।বিসর্জনের সময় প্রতিমা মন্দির থেকে বার করার পরই গ্রামের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। দেবীর ভক্তদের হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মশাল। কাঁধে তুলে নেওয়া হয় দেবীকে। তার পরই দেবীকে কাঁধে নিয়ে শুরু হয় দৌড়। দেবীর সঙ্গে ছুটতে থাকে সারি সারি মশালের আলো। সেই সঙ্গে চলে দেবীর জয়ধ্বনি। হেঁটে হেঁটে নিয়ে যাওয়া যায় না দেবীকে, কাঁধে প্রতিমা নিয়ে ছোটাই এই পুজোর নিয়ম। প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের গ্রাম আমডাঙায়। সেখানে আছেন বুড়ো শিব। বুড়ো শিবের সঙ্গে দেখা করেন দেবী। দেখা করার পর্ব মিটলে আবার একই ভাবে দৌড়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় দেবীকে। পরে মন্দিরের পাশের একটি পুকুরে বিসর্জন করা হয় প্রতিমা।

বছরের পর বছর এই নিয়ম চলে আসছে।

 

আবার পরের পর্বে আরেকটি প্রাচীন কালী

পুজোর বর্ণনা এবং তার ইতিহাস নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বন্দে মাতরম

বন্দে মাতরম

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সম্প্রতি বঙ্কিম চন্দ্র রচিত বন্দে মাতরম তার একশো পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করলো। আজ আশিতম স্বাধীনতা দিবসে আসুন এই গানের ইতিহাস, তার প্রেক্ষাপট এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জেনে নিই।

বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া এই গান একসময় কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল।দেশমাতৃকার বন্দনা থেকে জাতীয় চেতনার প্রতীক এই গান।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে “বন্দে মাতরম” শুধু একটি গান নয়—এটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার এক অনন্য উপস্থাপনা।

 

“বন্দে মাতরম”-এর রচয়িতা ছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গানটির প্রকাশ ঘটে ৭ নভেম্বর ১৮৭৫ সালে, বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকায়। পরবর্তীকালে এটি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’, যা ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়, তার অন্তর্ভুক্ত হয়।

গানটির মূল ভাবনা ছিল দেশকে মাতৃরূপে এবং দেবীরূপে কল্পনা করে তাঁর বন্দনা করা।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের কালে উনিশ শতকের শেষভাগে গানটি ধীরে ধীরে জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়। দুবার সুর করা হয়। প্রথমে যদুনাথ ভট্টাচার্য পরে ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “বন্দে মাতরম” গানটি পরিবেশন করেন সুর কিছুটা পাল্টে।এর ফলে গানটি বৃহত্তর জাতীয় পরিসরে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।

 

পরবর্তীতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় “বন্দে মাতরম” হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। মিছিল, সভা ও সমাবেশে মানুষ এই গান গেয়ে নিজেদের ঐক্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করত। ধীরে ধীরে “বন্দে মাতরম” স্বাধীনতার স্লোগান এবং আন্দোলনকারীদের এক অনুপ্রেরণাদায়ক মন্ত্রে পরিণত হয়।

 

বিতর্কও কিছু কম হয়নি এই গানকে নিয়ে ব্রিটিশ আমলে “বন্দে মাতরম” এবং ‘আনন্দমঠ’কে ঘিরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কিছু সাম্প্রদায়িক কারণেও গানটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছে। সে বিতর্ক আজ বাদই দিলাম তবে নিষেধাজ্ঞা বা বিতর্ক গানটির জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি বরং অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে

প্রতিরোধের প্রতীক স্বরূপ।

 

স্বাধীনতার প্রাক্কালে “বন্দে মাতরম”-এর মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি জাতীয় সমাবেশে গানটির প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে গানটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

অবশেষে ২৪ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে, স্বাধীন ভারতের সংবিধান সভা “জনগণমন”-কে জাতীয় সংগীত এবং “বন্দে মাতরম”-কে জাতীয় স্তোত্র হিসেবে গ্রহণ করে এবং উভয়কেই মর্যাদার দিক থেকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়।

 

বাঙালির আলাদা করে গর্ব হওয়া উচিৎ কারন সাহিত্য সম্রাট বঙ্গ সন্তান বঙ্কিমচন্দ্রের কলমে জন্ম নেওয়া “বন্দে মাতরম” দেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

 

বন্দে মাতরম আমাদের শেখায় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দায়িত্ব, সম্মান ও আত্মত্যাগের আদর্শ।

“বন্দে মাতরম” আজও ভারতীয় জাতীয় চেতনার এক অমর উচ্চারন মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক চিরন্তন বন্দনা স্বরূপা।

 

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

বন্দে মাতরম। জয় হিন্দ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের গুরু কথার এই পর্বে লিখবো মা সারদাকে নিয়ে।গুরু শব্দের অর্থ অজ্ঞানতার অন্ধকার দুর করে জ্ঞানের আলো দান করেন এমন ব্যক্তিকে বোঝায়। সেই অর্থে সারদা মা ছিলেন

প্রকৃত গুরু। যদিও বিশ্বের কাছে তিনি গুরু পত্নী বা সংঘ জননী হিসেবেই বেশি পরিচিতা।

 

মা সারদা বলতেন আমি কথার কথা মা নই আমি সত্য জননী। বাস্তবেও ছিলো তাই। তা ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়।

 

একবার মা তার ভক্ত আমজাদকে নিজের হাতে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।

 

আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ যিনি সেই যুগে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।মা সারদা প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|

তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

 

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

স্বয়ং রামকৃষ্ণ তাকে আদ্যাশক্তি মহা মায়া রূপে দক্ষিনেশ্বরে পূজো করেছিলেন এক ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে।

 

বিবেকানন্দ সহ অন্যান্য গুরু ভাইরাও মনে করতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব যেমন তার অলৌকিক সত্ত্বাকে গোপন করতে পারতেন

তেমনটা সারদা মা পারতেন না বার বার তাঁর অলৌকিক সত্ত্বা প্রকাশিত হতো।

 

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আজ মা সারদাকে স্মরণ করার আলাদা তাৎপর্য আছে কারন সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ না দিলেও সে যুগে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে তিনি ছিলেন আদর্শ এবং বহু বিপ্লবীর স্নেহের আশ্রয়।

 

আজ গুরু কথায় বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। ফিরে আসবো

গুরু কথার আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী পাহাড়ি বাবা

গুরু কথা – শ্রী শ্রী পাহাড়ি বাবা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র পাহাড়ি বাবা।তাঁর আসল পরিচয় স্পষ্ট ভাবে জানা যায়না।তবে তার জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনা আজও লোকের মুখে মুখে

ফেরে যার মধ্যে দুয়েকটি আজ

আপনাদের জানাবো।

 

পাহাড়ি বাবা তার সন্ন্যাস জীবনে লোক মুখে প্রচারিত নাম।সর্বদা হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ধ্যান মগ্ন থাকার জন্য বাবার নাম হয় পাহাড়ি বাবা।শোনা যায় একদিন শ্রী শুকদেব বাবাজির স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “এই জায়গার নীচে আমার একটি প্রাচীন বিগ্রহ আছে, এটি আবিষ্কার করুন এবং এটি স্থাপন করুন।” জেগে উঠে বাবা জায়গাটি খনন করেছিলেন এবং সেদিন ছিলো বৈশাখ অমাবস্যা বাবা খাক চক নামক সেই স্থানে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শ্রী শুকদেবের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

শোনা যায় পাহাড়ি বাবা একবার এক ভক্তের সাথে গঙ্গাসাগর যাত্রা করেছিলেন জল পথে জাহাজে পৌঁছতে হয় সাগর দ্বীপে তখন বাবার বয়স ছিল একশোর বেশি তার সাথে ক্ষীণকায় শরীর । এই দেখে জাহাজের ক্যাপ্টেন তার বয়স এবং শারীরিক কাঠামোর কথা বলে বাবাকে জাহাজে চড়তে নিষেধ করেছিলেন।সেই সময়ে গঙ্গা নদী

তীরবর্তী সৈকতে পড়ে ছিল বটবৃক্ষের বিশাল কাণ্ড। বাবা সেই বিশাল কাণ্ডটা মাথায় তুলে নিয়ে ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে বলুন, এটা কোথায় রাখব?” ক্যাপ্টেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।কিভাবে এক বৃদ্ধ সাধু এই বিশাল কান্ড এই ভাবে তুলতে পারে তা তার বোধ গম্য হয়নি। তবে তিনি বোঝেন বাবা কোনো সাধারণ ব্যাক্তি নন তিনি সাথে সাথে বাবার চরণে আত্মসমর্পণ করলেন। বাবা তাকে ক্ষমা করেন এবং বলেন “কোনও সাধুকে তার বার্ধক্য বা দুর্বলতার জন্য উপহাস করবেন না, তিনি শ্রী রামের শক্তিতে চলেন”।

 

আরেকবারে কথা বাবা তখন বৃন্দাবনে একবার একজন ভক্ত দীক্ষা নেয়ার আশায় বাবার কাছে আসছিলো । কিন্তু বৃন্দাবনে পৌঁছানোর আগেই বাবা সমাধি গ্রহণ করেন । বৃন্দাবন এসে সব শুনে মনের দুঃখে সেই ভক্ত খাক চকে বাবার সমাধিতে অন্ন-জল ছাড়াই বসে রইলেন। এই ভাবে তিন দিন অতিক্রান্ত হয় চতুর্থ দিনে বাবা অলৌকিকভাবে সমাধি থেকে আবির্ভূত হন এবং সেই ভক্তকে সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে দীক্ষা দেন।

 

বাবার অসংখ্য ভক্ত শিষ্য আজও রয়েছে। পাহাড়ি বাবার প্রয়াণের পর তার তারা বাবার সাধন মার্গ অনুসরণ করেন এবং আজও পাহাড়ি বাবা তার শিষ্য ও ভক্ত দের সব বিপদ ও প্রতিকূলতা

থেকে রক্ষা করেন বলে তাদের বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।অন্য কোনো

গুরুর জীবনী এবং অলৌকিক ঘটনায়

সমৃদ্ধ উপস্থাপনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।