Home Blog Page 2

কালী কথা – নৈহাটির বড়মা

কালী কথা – নৈহাটির বড়মা

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

কৌশিকী অমাবস্যার প্রাক্কালে কালী কথায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নানা প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলিনিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি।

আজ বলবো নৈহাটীর বড়মার কথা।

 

এই অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় নিজে আমি শৈশব থেকেই নৈহাটির বড়োমার পুজো দেখে আসছি এই বড়ো মাকে নিয়ে বিশেষ কৌতূহল ও তার প্রতি একটা আলাদা রকমের বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা রয়েছে আমার অন্তরে। বর্তমানে নৈহাটীর বড় মার যে বিশ্ব জোড়া খ্যাতি তার অনেক কারন আছে।

 

শোনা যায় আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে এই বড়মার পুজোর প্রচলন করেছিলেন ভবেশ চক্রবর্তী নামে এক নিষ্ঠাবান মাতৃ সাধক,একবার তিনি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে রাস উৎসবে গিয়ে সেই সময় বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট দেবী মূর্তি দর্শন করেছিলেন তারপরই ফিরে এসেছে তিনি নৈহাটিতে বড়মা কালী মূর্তি তৈরি করে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ইচ্ছায় ও প্রচেষ্টায় সূচনা হয়ে এই বড়মার পুজো|

 

বড়মার পুজো শুধু নৈহাটি নয়, সারা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা তথা বাংলার বৃহত্তম কালী পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম|এখানে কালী মূর্তি ১৪ হাত লম্বা অর্থাৎ ২১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট হয়|

 

প্রত্যেক বছর লক্ষ্মী পুজোর দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়েই বড়মার পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় এবং রীতি অনুসারে বড়মার পুজো শুরু হওয়ার পরই অন্যান্য বারোয়ারি কালী পুজোগুলি শুরু হয় এবং

একইভাবে বড়মার বিসর্জনের পরই নৈহাটিতে অন্যান্য কালী প্রতিমার বিসর্জন হয়|

 

কথিত আছে নৈহাটির বড়মার কাছে শ্রদ্ধা ভরে কিছু প্রার্থনা করলে সেই মনস্কামনা পূর্ণ করেন দেবী তাই প্রতি বছর কালী পুজো উপলক্ষে এখানে অসংখ্য মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|

এছাড়াও দেশ বিদেশ থেকে বহু ভক্তরা আসেন বড়মার পুজো দেখতে|

 

কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে আগামী দিনে আরো অনেক কালী পুজো ও কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আমিও আবার আপনাদের সামনে ফিরে আসবো|কালী কথায়। যারা কৌশিকী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – নিরিশা কালী

কালী কথা – নিরিশা কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। কৌশিকী অমাবস্যা মানেই তারাপীঠ এবং তারাপীঠ মানেই বীরভূম। আর এই বীরভূম বিখ্যাত একাধিক শক্তি পীঠের একসাথে অবস্থানের জন্য।

তবে বীরভূমে সতীপীঠ ছাড়াও আছে কয়েকটি জাগ্রত কালী মন্দির, যে তালিকায় জনপ্রিয় নিরিশা মায়ের মন্দির আজকের কালী কথায় এই কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা করবো।

আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে এই নিরিশা গ্রাম ছিল জঙ্গল। জনবসতি প্রায় ছিল না বললেই চলে। সেখানেই আশপাশের গ্রামবাসীরা এক অমাবস্যার রাতে জঙ্গলের মধ্যে আলো জ্বলতে দেখেন।পরে দেখা যায়, এক সাধক সেখানে সাধনা করছেন। এই সাধক তাঁর রীতিনীতি মেনে পুজো শুরুর জন্য স্থানীয় বন্দোপাধ্যায় পরিবারকে পুজোর দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে পুজোর ভার পান ওই গ্রামেরই রায় পরিবার।আজও এই দুই পরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছে।

শুরুর দিকে পঞ্চমুণ্ডির আসনে মা কালীর আরাধনা করা হত। এখন প্রত্যেক বছর মন্দির থেকে কিছুটা দূরে মায়ের মূর্তি তৈরি হয়। পুজোর দিনে চক্ষুদানের পরে মুহূর্তের মধ্যেই মাকে মন্দিরে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই পুজো উপাচার দেখতে আজও এখানে গভীর রাতেও ভিড় করেন
বহু মানুষ।

আশ্চর্যজনক ভাবে প্রতি বছর প্রতিমা তৈরির কারিগর বদলে গেলেও বদলায় না মায়ের মুখমণ্ডল। প্রত্যেক বছর মায়ের রূপ একই থাকে, কোনও বছরই প্রতিমার উচ্চতা ও ওজনের পরিবর্তন হয় না।এই সব অলৌকিক ঘটনা বলেই সবার বিশ্বাস।

আজও নিরিশা কালী মায়ের উপরে অটুট ভক্তি এই অঞ্চলের মানুষের।সবার সব আপদ বিপদে মা নিরিশাই প্রধান ভরসা। মা নিরিশা কাউকেই খালি হাতে ফেরান না বলেই স্থানীয়দের বিশ্বাস।

কৌশিকী অমাবস্যা হলো গ্রহ দোষ খন্ডনের আদর্শ সময়।পাশাপাশি কালী কথা এবং কালী মাহাত্ম বর্ণনার এটা শ্রেষ্ট সময়। তাই ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে। থাকবে বাংলার অন্য এক প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জন্মাষ্টমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

জন্মাষ্টমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ জন্মাষ্টমীর শ্রী কৃষ্ণের জন্ম তিথি।হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য দেখা যায় তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। |

 

দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান কৃষ্ণ|তিনি বিষ্ণুর অবতার আবার মতান্তরে তিনি স্বয়ং ভগবান।তার জন্ম বৃত্তান্ত ও ইতিহাস আমরা কম বেশি প্রায় সকলেই জানি|তাও আজ আরো একবার তাকে নতুন করে স্মরণ করবো তার লীলার মাধ্যমে|

 

ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় জন্ম হয় তাঁর। সেই সময় মথুরার রাজা ছিলেন দেবকীর ভাই কংস। তাঁকে ভবিষ্যবাণী করা হয়েছিল, দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে।

 

কথিত আছে, কংস তাঁর বোন ও ভগ্নি-পতীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু, তাঁদের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে, এই ভবিষ্যবাণী শোনার পর তাঁদের সব সন্তানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন কংস। প্রথম ছয় সন্তানকে হত্যা করতে সক্ষমও হন। সপ্তম সন্তানের হদিশ পাননি কংস। অষ্টম সন্তান, অর্থাৎ কৃষ্ণের জন্মের সময় গোটা রাজ্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাসুদেব গোপনে সেই সন্তানকে বৃন্দাবনের নন্দ বাবা ও যশোধাকে হস্তান্তরিত করেন।তার পরিবর্তে এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে আসনে বাসুদেব ও দেবকী। যাতে তাঁদের অষ্টম সন্তান কৃষ্ণের কোনও খোঁজ না পান কংস। ওই কন্যাসন্তানকে নিয়ে এসে অসুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু, তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হন, সেই সময় ওই কন্যাসন্তান দেবী দুর্গায় রূপ ধারণ করেন। তিনি কংসকে সব কুকর্মের জন্য সতর্ক করে দেন।এদিকে বৃন্দাবনে বেড়ে ওঠে কৃষ্ণ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। যখন আরও বড় হয়ে ওঠেন, গোটা বিষয়টি তিনি শোনেন। তার পর যথা সময়ে মথুরা চলে আসেন। এখানে এসে কংসকে হত্যা করেন। দেখা হয় মা বাবা দেবকী ও বাসুদেবের সঙ্গে।

 

প্রথমে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ ও পরবর্তীতে ইসকনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে আজ বিরাট ভাবে ও ব্যাপক উদ্দীপনায় পালিত হয় জন্মাষ্টমী|

 

ভগবান কৃষ্ণের জন্মতিথিতে মথুরা ও বৃন্দাবনের বিভিন্ন মন্দির ফুল, মালা ও অন্যান্য সামগ্রীতে সাজিয়ে তোলা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরায় মধ্যরাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কৃষ্ণ। বেড়ে ওঠেন বৃন্দাবনে। যেহেতু, মধ্যরাতে তাঁর জন্ম,তাই শিশু কৃষ্ণর মূর্তি স্নানের পর দোলনায় স্থাপন করা হয়। কৃষ্ণর জীবন-কথা নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রদর্শনীতে যোগ দেন ভক্তরা। তুলে ধরা হয় তাঁর সাহসিকতা, বন্ধুত্ব এবং রাধার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কথা। এই প্রদর্শনীকে বলা হয়, রাসলীলা।

 

সবাইকে জানাই জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন। পড়তে থাকুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে কালী কথা নিয়ে। জয় শ্রী কৃষ্ণ।

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

স্বাধীনতা দিবস পালন হয় দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে|এই তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ও একটা ইতিহাস আছে|এই পতাকা সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ঘটনা ও অনেক গল্প। আসুন আজ সংক্ষেপে জেনে নিই আমাদের জাতীয় পতাকার ইতিহাস।

স্বাধীনতার বছর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে আমাদের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল|

স্বাধীনতারা কিছু বছর আগে আগে ১৯১৬ সালে অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি সাধারণ জাতীয় পতাকার রূপদানের চেষ্টা করেন|অনেক ঘটনা ও টানা পোড়েনের পর তিনিই হন দেশের জাতীয় পতাকার স্রষ্টা বা রূপকার|

ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনুমোদন চাইতে গেলে গান্ধীজি তাঁকে “ভারতের মূর্তপ্রতীক ও দেশের সকল অমঙ্গলহারী” চরকার চিত্র পতাকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গান্ধীজি|যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি|

পরবর্তীকালে ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে পতাকা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাস হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া অঙ্কিত একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।

ওই বছরই ২ রা এপ্রিল কংগ্রেস কর্মসমিতি একটি সাত সদস্যের পতাকা সমিতি গঠন করে। পতাকায় ব্যবহৃত তিনটি রং নিয়ে আপত্তি আছে ওঠে কারণ এই রংগুলি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়। পতাকার রঙ আবার পরিবর্তন করা হয়|আবার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পতাকার এই রঙ বাতিল করা হয়|

স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ভারতের জাতীয় পতাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয় এবং শ্রী রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সি ও বি আর আম্বেডকর। পতাকা কমিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন।

এই কমিটি পতাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিন সপ্তাহ পরে ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাটি উপযুক্ত সংস্কারের পর সব দল ও সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণীয় করে তুলে জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হবে। পরে এমন প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকার কোনো সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। চরকার পরিবর্তে সারনাথ স্তম্ভ থেকে ধর্মচক্র টি গৃহীত হয় পতাকায়।এই পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা রূপে স্বীকৃত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়|

স্বাধীনতা দিবস পালন করুন এবং অবশ্যই জাতীয় পতাকাকে যথাযত সন্মান দিন। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। জয় হিন্দ। ভারত মাতার জয়।

কালী কথা – পুঁটে কালীর পুজো

কালী কথা – পুঁটে কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলা মানেই কালী ক্ষেত্র। বাংলার প্রায় সব জেলায় রয়েছে কিছু প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দির।তাদের নিয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তী। এমনই সব মন্দিরের কথা লিখছি কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে এই কালী কালী কথায়।
আজ কালী কথায় আপনাদের কলকাতার এক অতি প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা জানাবো।

কলকাতার বড়ো বাজার অঞ্চলে কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে অবস্থিত বিখ্যাত পুঁটে কালী মন্দির। ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন।তখন ভারত শাসন করছেন সম্রাট আকবর। কলকাতা তখন ও শহর হয়ে ওঠেনি । উত্তর কলকাতার আজকের কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রীট তখন ছিলো গঙ্গা তিরবর্তী এক জনপদ।চারিপাশ ছিল জঙ্গলে ভর্তি।ডাকাত রা নরবলী দিয়ে ডাকাতি করতে যেতো।সেই সময় থেকে হয়ে আসছে পুটে কালীর পুজো।

বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক মানিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রথম পাকা মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে|যদিও প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে এই দেবী মূর্তি এখানে আরো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো|

শোনা যায় তান্ত্রিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজার দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দিলে মহারাজা তাঁকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং লক্ষ ব্রাহ্মণ ভোজন করান। দেবীর বর্তমান সেবাইতরা রাজা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌহিত্র বংশ।

১৯৩০ সালে মন্দিরের সংস্কার করা হয়মন্দিরটি চারচালা ও তিনটি চূড়াবিশিষ্ট। চূড়াগুলির উপর চক্র, ত্রিশূল ও পতাকার চিহ্ন আছে। মন্দিরটির তলায় একটি পাতালকক্ষ আছে|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটি ছয় ইঞ্চি লম্বা|

মন্দির এবং দেবী মূর্তির এই অদ্ভুত নামকরণ প্রসঙ্গে দুরকম ব্যাখ্যা রয়েছে|কেউ কেউ মনে করেন পুঁটি” অর্থে ছোটো মেয়ে বোঝায়|এই মন্দিরের কালীমূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি এত ছোটো মূর্তি বোঝাতেই তাই “পুঁটিকালী” বা নামটির প্রচলন হয় এবং পরবর্তীতে লোক মুখে তা বিকৃত হয়ে “পুঁটেকালী” হয়ে যায়|

নামের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে একবার মন্দিরে হোম চলা কালীন গঙ্গার খাদ থেকে একটি পুঁটিমাছ লাফিয়ে হোমকুণ্ডের মধ্যে পড়ে যায়|পড়ে অর্ধদগ্ধ মাছটিকে তুলে জলে ফেলে দিতেই সেটি আবার জীবন্ত হয়ে হয়ে ওঠে এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য দেবীর নাম হয় “পুঁটিকালী” বা “পুঁটেকালী”|

পুঁটে কালীর মন্দিরে পূজা হয় তন্ত্রমতে। দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে প্রতিমার স্বর্ণবেশ হয় এবং ভৈরবী পূজাও অনুষ্টিত হয়|এখানে আজও কালী পূজা উপলক্ষে কুমারী পূজা হয়|এছাড়াও কৌশিকী অমাবস্যাসহ বিশেষ বিশেষ তিথিতে ছাগ বলীর ও ব্যবস্থা করা হয়|দেবীর উদেশ্যে আমিষ ও নিরামিষ দু রকম ভোগ ই নিবেদিত হয়|লক্ষণীয় বিষয় এই মন্দিরে দেবী কালীর পাশে দেবী শীতলার ও পূজা করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|

আজকের কালী কথা পর্ব এখানেই শেষ করছি।আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – শান্তিপুরের মহিষখাগী কালী

কালী কথা – শান্তিপুরের মহিষখাগী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী ২২ এ অগাস্ট কৌশিকী অমাবস্যা। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে আজ থেকে আবার শুরু করছি কালী কথা। বাংলার প্রসিদ্ধ সব জাগ্রতা কালী মন্দির এবং কালী পুজো নিয়ে একেকটি পর্বে আলোচনা করবো। আজ শুরু করবো নদিয়ার শান্তি পুরের মহিষখাগী কালী দিয়ে।

 

শান্তিপুর তথা নদিয়ার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এই মহিষখাগীর পুজো।দেবীর এই অদ্ভুত নামের কারন এক অলৌকিক ঘটনা।আজ থেকে আনুমানিক সাড়ে পাঁচশো বছর আগে শুরু হয় এই পুজো।বাংলায় তখন নবাবী আমল চলছে। নদীয়া রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তখন সিংহাসনে।শান্তি পুরে এক তান্ত্রিক পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সাধনা করতে করতে মায়ের দর্শন পান।স্বপ্নে দেবী সেই তান্ত্রিককে মহিষের রক্ত দিয়ে তাঁকে পুজো করতে নির্দেশ দেন। অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় সেই নির্দেশ।সেই থেকেই দেবীর নাম এখানে ‘মহিষখাগী’।

 

দেবীর কাছে করা সব মনোস্কামনা সত্যি হয় এই কথা শুনে এক বার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র আটটি মহিষ বলি দিতে এসেছিলেন মায়ের কাছে। সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়। তাই পুজোকে দুই পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছিল। বলির আগে পর্যন্ত পুজোর প্রথম পর্ব। আর বলির পরবর্তী সময়ে পুজোর দ্বিতীয় পর্ব।

 

এই মহিষখাগীর পুজোয় একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে।এখানে বিয়ের রীতি মেনে মহিষখাগীর পুজো হয়। পুজোর তিথিতে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে সেই দিনই ভোররাতেই বিবাহের ন্যায় দধিমঙ্গল হয়। অমাবস্যা শুরু হলে বিয়ের রীতি মেনে পুজো হয়। আবার পরের দিন বাসি বিয়ের রীতিতে পুজো হয়।সকালে পান্তাভাত এবং খয়রা মাছের রান্না দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়।পুজো শেষে কাঁধে করে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা।

 

এই রীতিই এখানে পাঁচশো বছর ধরে চলে আসছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া ওই তান্ত্রিকের মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি ব্রাহ্মণ পরিবার এই পুজোর ভার নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুজোর দায়িত্ব নেয় এবং তারাই বর্তমানে মহিষখাগী মায়ের পুজো সুন্দর ভাবে পরিচালনা করছে।

 

কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের আদৰ্শ তিথি। যারা এই তিথিতে গ্রহের প্রতিকার করাতে চান যোগাযোগ করতে পারেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।এমনই কালী কথা নিয়ে।থাকবে এমন সব অলৌকিক ঘটনা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – লিলুতিনাথ শিব

শিব মাহাত্ম – লিলুতিনাথ শিব

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রাবন মাস উপলক্ষে শিব মাহাত্মতে ভারতের প্রাচীন শিব মন্দির গুলো নিয়ে আলোচনা করছি।আজকের পর্বে লিলুতিনাথ শিব মন্দির

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত এই লিলুতিনাথ শিব মন্দির,মন্দিরটি, রয়েছে ইউপির পিলভিট নামক স্থানে।বেশ কয়েকটি কারনে এই মন্দির বেশ রহস্যময় যার মধ্যে সবার প্রথমে বলতে হয় শিব লিঙ্গের রঙ পরিবর্তন|

এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ সূর্যের রশ্মির সঙ্গে সঙ্গে দিনে তিনবার তার রঙ পরিবর্তন করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই ধারণা কোনো গুজব নয় একেবারেই সত্যি,এই মন্দিরে শিবলিঙ্গের রঙ সকালে কালো, বিকেলে বাদামী এবং এবং রাতে হালকা শ্বেত বর্ণ ধারণ করে
তবে আজও এই রঙ পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা বা কারন জানা যায়নি|

দ্বিতীয় যে কারনে মন্দিরটি রহস্যময় এবং অলৌকিক সত্ত্বার অধিকারী তা হলো মহাভারতের অমর চরিত্র অস্বথামার উপস্থিতি।একটি জনশ্রুতি রয়েছে যে অশ্বত্থামা আজও মধ্যরাতে এই মন্দিরে পুজো করতে আসেন এবং যখন তিনি আসেন, হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হয় এবং বৃষ্টিও হয়|স্থানীয় দের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও জনপ্রিয় এই শিব মন্দির বহু দূর দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন
লিলুতিনাথ শিব মন্দিরে

শ্রদ্ধা ও ভক্তি সংক্রান্ত বিষয় গুলিকে যুক্তি দিয়ে বিচার না করাই ভালো। দেবাদিদেব মহাদেবের ইচ্ছায় সবাই সম্ভব তার লীলা বোঝা দায়, আমরা শুধু তার সামনে নিজেদের মাথা নত করতে পারি আর প্রার্থনা করতে পারি|

  1. ফিরবো আগামী পর্বে। চলতে থাকবে শিব মাহাত্ম।
    পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – জলেস্বর শিব 

শিব মাহাত্ম – জলেস্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ শিব মাহাত্মতে বাংলার আরেকটি প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ শিবমন্দিরের কথা আপনাদের বলবো।আজকে পর্ব নদিয়ার জলেস্বর শিব মন্দির নিয়ে।

 

এই মন্দিরের ইতিহাস খুব প্রাচীন তবে জলেশ্বর মন্দিরে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি নেই।তাই সঠিক দিনক্ষণ জানা যায়না তবে ‘নদিয়া গেজেটিয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির, নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন নদিয়া রাজ রাঘব রায়। তাঁর রাজত্বকাল ছিল আনুমানিক ১৬৩২ থেকে ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ। সেই সূত্রেই মনে করা হয় ওই সময়ের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়|

 

নদিয়ার শান্তিপুরে ‘জলেশ্বর শিব মন্দির’ বাংলার অন্যতম প্রাচীন শৈবতীর্থ। এখানে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিশাল আকারের শিবলিঙ্গ। মন্দিরকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী|শোনা যায় এক বছর খরায় চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার উপক্রম,প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ|গ্রামের চাষিরা এক শিবলিঙ্গের মাথায় প্রচুর জল ঢালেন বৃষ্টির প্রার্থনায়। অলৌকিক ভাবে তার পরেই বৃষ্টি নামে। শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় ‘জলেশ্বর’|

 

সারা বছরই শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে এই মন্দিরে তবে চৈত্র মাসে এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এই মন্দিরে প্রচুর মানুষ পুজো দেন। পাশাপাশি শিবের মাথায় জল ঢালতেও প্রতি দিন ভক্ত সমাগম হয়। আর শ্রাবণের সোমবার গুলিতে ভক্তদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে|চৈত্র মাস এবং নীল ষষ্ঠীতেও এখানে বিশেষ পুজো উপলক্ষে

বহু শিব ভক্ত আসেন।এই চৈত্র মাসে আসন্ন নীল সময়ে আপনারাও পারলে অবশ্যই দর্শন করবেন জলেস্বর শিব মন্দির|

 

শ্রাবন মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে আমার এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – জল্পেশ্বর শিব

শিব মাহাত্ম – জল্পেশ্বর শিব

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিব মাহাত্ম পর্বে আজ উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত এক শিব তীর্থর কথা উল্লেখ করবো|আজকের পর্বে বিখ্যাত জল্পেশ শিব মন্দির।

জলপাইগুড়ির অন্যতম প্রসিদ্ধ শক্তি পীঠ মন্দির ভ্রামরী দেবীর মন্দির।শাস্ত্র মতে ভ্রামরী শক্তিপিঠের ভৈরব হলেন জল্পেশ। শিব এখানে একটি গর্তের মধ্যে রয়েছেন, তাই তিনি অনাদি নামেও পরিচিত।তার আদি এবং অন্ত খুঁজে পাওয়া যায়না।

পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র হল জল্পেশ মন্দির।এই মন্দিরের সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে।কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের বাবা বিশ্ব সিংহ ১৫২৪ সালে প্রথম এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।১৫৬৩ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৬৬৩ সালে রাজা প্রাণ নারায়ণও একবার মন্দিরটি নতুন করে গড়ে তোলেন।

জল্পেশ মন্দির প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন তত্ত্বর অস্তিত্ব রয়েছে|কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন|জল্পেশ নামে কোনো এক প্রতাপশালী রাজবংশী ক্ষত্রিয় রাজা অথবা সর্দার এই অঞ্চলে এককালে শাসন করতেন । তাঁর নাম অনুসারে মন্দিরের নাম হয়েছে জল্পেশ।অনেকে মনে করেন হয়ত তিনি কোনো দৈব শক্তির অধিকারী ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁকে দেবতার স্থানে উন্নীত করা হয়েছে।
আবার অনেকে ভাবেন জল্পেশ হয়ত কোনো শক্তিশালী গ্রামদেবতা বা লৌকিক দেবতা ছিলেন পরে কোচবিহারের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শিবের সঙ্গে একীভূত হয়ে
তিনিই উত্তরবঙ্গের প্রধান দেবতা রূপে
স্বীকৃত হয়েছেন।জল্পেশ থেকেই জলপাইগুড়ি
নাম করণ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।

বাবা জল্পেশ্বর এর দর্শন পেতে বহু মানুষ এই স্থানে আসেন |বিশেষ করে শ্রাবন ও চৈত্র মাসে দর্শণার্থী দের ভিড় বেশি হয়। শিব রাত্রি এবং নীল ষষ্ঠীতে বিশেষ পুজো হয় এবং সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন শিব ভক্তরা |বাবা জল্পেশ পরম দয়ালু তিনি ভক্তদের মনোস্কামনা
পূর্ণ করেন বলেই বিশ্বাস।

শিব মাহাত্ম নিয়ে আবার পরবর্তী পর্বে
ফিরে আসবো।থাকবে শিব সংক্রান্ত
এমনই তথ্য সমৃদ্ধ আলোচন। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – কেশবেশ্বর শিব

শিব মাহাত্ম – কেশবেশ্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শিব মন্দির। শ্রাবন মাস উপলক্ষে প্রায়

সবগুলি মন্দিরই বিশেষ সাজে সেজে ওঠে।

তেমনই একটি মন্দির দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কেশবেশ্বর শিব মন্দির যা নিয়ে আজকের পর্বে আলোচনা করবো।

 

বিখ্যাত সাবর্ণ রায় চৌধুরী বংশের অন্যতম সদস্য ছিলেন জমিদার কেশবরাম রায় যিনি ছিলেন তৎকালীন বঙ্গ সমাজের অন্যতম গুণী ও সন্মানীয় ব্যাক্তি। কেশবরাম কাশীর বিশ্বনাথের স্বপ্নদর্শনে যে সন্তান লাভ করেছিলেন তাঁর নাম রাখেন শিবদেব, যিনি সন্তোষ রায় চৌধুরী নামে পরিচিত। কেশবরাম রায় ১৬৯৯ সালে ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে স্বতন্ত্র ‘রায় চৌধুরী’ খেতাব পেয়েছিলেন সেই থেকে তারা রায় চৌধুরী পদবি

ব্যাবহার করছেন।

 

ব্রিটিশ আমলে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের সমাজপতি কেশবরাম দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে যে শিবমন্দির এবং শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে যান তার কেশবরামের নামানুসারে নাম হয় কেশবেশ্বর।

মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছেন মহাদেব।লোকমুখে শোনা যায় যে কাশী থেকে আনা হয়েছিল এই শিবলিঙ্গ। শিবমন্দির প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি আটচালা মন্দির। মন্দিরের ২১টি সিঁড়ির মধ্যে ১৬টি ধাপের সিঁড়ির বেশি ভাগই ইতিমধ্যেই মাটির তলায় লীন হয়েছে। সামান্য কয়টি সিঁড়ি দেখা যায়।বিশাল নন্দী মূর্তিও রয়েছে এখানে।

 

প্রায় সারা বছরই এই মন্দিরে জন সমাগম হয় তবে শ্রাবনের প্রথম সোমবার গুলি, শিবরাত্রির দিন এবং চৈত্র মাসেরশেষে নীল ষষ্ঠীর সময়ে বিশেষ পূজা হয় কেশবেশ্বর মন্দিরে।সেই সময়ে বিশাল সংখ্যক ভক্তসমাগম ঘটে এই মন্দির চত্বরে।বহু মানুষ আসেন নিজের মনোস্কামনা নিয়ে। শোনা যায় বাবা কেশবেশ্বর তার ভক্তদের খালি হাতে ফেরান না।বহু মানুষের জীবনের দুঃখ কষ্ট বাবা কেশবেশ্বর দুর করেছেন বলে জানা যায়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শ্রাবন মাসের এই বিশেষ কয়েকটি দিনে বাংলার প্রাচিন এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন শিব মন্দির গুলি নিয়ে

ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চলতে

থাকবে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।