Home Blog Page 2

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং রাজা জয়মাল

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং রাজা জয়মাল

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী কৃষ্ণ সর্বদা তার চরনে আশ্রিত ভক্তদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। যারা সম্পূর্ণ রূপে শ্রী কৃষ্ণের স্মরনগত হয় তারা তাঁর কৃপা লাভ করেন। যেমন একবার রাজা জয়মাল কে প্রতিবেশী রাজার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিজেই

অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।

ভক্তমালা গ্রন্থ অনুসারে একবার রাজা জয়মালের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার প্রতিবেশী রাজ্যের রাজ রাজ্য আক্রমণ করে বসেন। যুদ্ধের জন্য জয় মাল প্রস্তুত ছিলেন না। তাই যুদ্ধে তার পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পরে। যখন তার সৈন্যরা যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে শত্রুরা রাজ্য দখল করবে এমন সময়ে জয়মালের মন্ত্রীরা তাকে আসন্ন বিপদের কথা জানাতে ছুটে আসেন।জয়মল তার উপাসনায় অবিচল থেকে বলেন “এই রাজ্য আমার ভগবান কৃষ্ণ আমাকে দিয়েছিলেন, এবং তিনি যদি এটি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে আমি কী করতে পারি? কিন্তু তাঁর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে থাকলে কেউ আমার ক্ষতি করতে পারবে না।”

জয়মাল যখন তাঁর পূজা শেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছেন, তখন তিনি দেখতে পান তাঁর ঘোড়া হাঁপাচ্ছে এবং ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তিনি আরও দেখলেন যে শত্রু বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজাও আত্ম সমর্পন করেছেন।

বন্দী রাজা জানালেন একটি রহস্যময় নীল যোদ্ধা ঘোড়ায় চেপে এসে একা হাতে তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছেন এবং জয় মালের রাজ্য

তিনিই রক্ষা করেছেন।

সব শুনে রাজা জয়মাল বুঝতে পারলেন স্বয়ং শ্যাম সুন্দর তার রাজ্য রক্ষার জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবস্থিত সকলে বুঝতে পারেন

ভক্ত যখন সম্পূর্ণ রূপে ভগবানের কাছে আত্ম সমর্পন করেন তখন ভগবানে তার ভক্তকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করেন। প্রয়োজন শুধু ভক্তি এবং বিশ্বাস।রাজা জয় মাল একজন প্রকৃত

ভক্ত এবং ভগবান তাঁর রাজ্য রক্ষা করছেন।

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত এমনই এক অলৌকিক ঘটনা এবং তার ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সখা এবং ভক্ত সুদামার প্রসঙ্গ উঠবেই।আজকের পর্বে এই দুই জনের বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো।শুধু প্রেম নয়। শত্রু দমন বা অধর্ম নাশ নয়।শ্রী কৃষ্ণ রূপে ভগবান তার ভক্তদের

সাথে বন্ধু রূপে মিশেছেন।সেই বন্ধুদের অন্যতম সুদামা।

 

বৃন্দাবনের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সুদামা এবং ভগবান কৃষ্ণ ছিলেন সহপাঠী আচার্য সন্দীপনের আশ্রমে অধ্যয়ন শেষ করে কৃষ্ণ এবং সুদামা উভয়েই শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ নিজ গৃহে চলে যান। পরবর্তীতে যেখানে কৃষ্ণ দ্বারকা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন অন্যদিকে সুদামা দারিদ্র্যতার জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন । এতো কিছুর পরেও তার ভক্তি, অনুরাগ এবং কৃষ্ণপ্রেম অব্যাহত ছিল।

 

সংসার জীবনে প্রায়শই সুদমার বাচ্চারা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বহু বছর পরেও কৃষ্ণের প্রতি সুদামার ভালোবাসা কমেনি এবং প্রভুর গল্প তার বাচ্চাদের শোনাতেন। তার স্ত্রী সুশীলা একবার তাকে জোর করে ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে পাঠান।

 

দরিদ্র বেশে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত সুদামা দ্বারকায় পৌঁছেন।দ্বারকার সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে সুদামা কৃষ্ণের দুর্গ খুঁজতে থাকেন। রক্ষীরা তাকে অপমান করে দুর্গে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।কীভাবে একজন ভিক্ষুকের সাথে কৃষ্ণর বন্ধুত্ব থাকতে পারে তা ভেবে তারা অবাক।

 

এদিকে কৃষ্ণের আগমনের খবর পৌছায় দ্বারকার অন্দর মহলে।সুদামা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন শুনে কৃষ্ণ সরাসরি মূল ফটকের দিকে দৌড়ে গেলেন। কৃষ্ণের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে কৃষ্ণ সুদামাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সিংহাসন অর্পণ করেন । তিনি তার অশ্রু দিয়ে সুদামার পা ধুয়ে দিলেন। বসালেন স্ত্রী রুক্মিণীর আসনে। কিছু দিন সেবা এবং আতিথ্য গ্রহন করে সুদামা জাগতিক কিছু না চেয়ে খালি হাতেই ফিরে এলেন।

 

সুদামা গ্রামে ফিরে দেখলেন তার পুরানো এবং ভাঙা কুঁড়েঘরটি একটি জমকালো প্রাসাদে রূপান্তরিত হয়েছে। স্ত্রীও রাজ রানী হয়েছেন। দারিদ্রতার অভিশাপ মুছে গেছে।সুদামা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি তাঁর লীলা ধর , তাঁর প্রিয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লীলা। শ্রী কৃষ্ণ পরম করুণাময়। সুদামা এই সত্য বুঝতে পারলেন।

শ্রী কৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার মধ্যে এই লীলাটি নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও বাঁশি

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও বাঁশি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আসন্ন দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে পুনরায় শুরু করেছি এই কৃষ্ণ কথা। কৃষ্ণের সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ের শাস্ত্রীয় তাৎপর্য আছে। তার বাঁশিও ব্যাতিক্রম নয়।শ্রী কৃষ্ণের হাতে বাঁশি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু বাঁশির ও ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে।আজ কৃষ্ণ কথায় কৃষ্ণের বাঁশিনিয়ে লিখবো।

এই বাঁশি বা মুরলী থেকেই শ্রী কৃষ্ণের নাম হয়েছে মুরলীমনোহর বা মুরলীধর।মুরলী শ্রী কৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় এবং তার লীলা সংগী বলা যায়।তাঁর রাস লীলা হোক বা গোপিনীদের সাথে কাটানো সময়। বাঁশি সর্বত্র স্বমহিমায় বিরাজমান।

বাঁশির সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক নিয়ে একটি সুন্দর পৌরাণিক কাহিনী আছে একেবার ঈর্ষা বসত গোপিনীরা অসতর্ক মুহূর্তে চুপি চুপি বাঁশিটি কে চুরি করলেন।বাঁশি গোপীদের বলিলেন : ” এভাবে আমাকে আপনারা কৃষ্ণের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করলেন কেন ?” গোপীরা বলিলেন : ” তোমার এমন কি গুণ আছে যে , তুমি সর্বদা কৃষ্ণের হাতে হাতে ফের আর তাঁর অধর স্পর্শ করে থাকো? বাঁশি বললো গুণের কথা ছেড়ে দিন, আমার তো কোন অস্তিত্ব নেই । আমার আমিত্ব বলে আর কিছু নেই । আমার যা- কিছু সব কৃষ্ণের। কৃষ্ণ ছাড়া আমার অস্তিত্ব নেই। আমি কৃষ্ণের স্মরনাগত। শরণাগতকে তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না । আমার সর্বস্ব তাঁকে অর্পণ করে আমি তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। গোপিনীরা কথার মর্মার্থ বুঝলেন|নিজের সব অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ভগবানের চরনে সমর্পন করলে তবেই তার সম্পূর্ণ কৃপা পাওয়া যায়।কৃষ্ণের বাঁশি সেই সম্পূর্ণ সমর্পনের প্রতীক স্বরূপ।

শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশী ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, ছয় ইঞ্চির বেশী দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনেরো ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে।শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই তিন রকমের বাঁশী বাজান।শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী বা আকর্ষনী এই বাঁশী কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশী যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।

কৃষ্ণ সংক্রান্ত আরো এমন অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|কৃষ্ণ কথায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্বারকা নগরী

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্বারকা নগরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। তিনি রাজা রাজার রাজা রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হন অধর্ম থেকে জগৎ সংসারকে রক্ষা করতে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজার একটা রাজপ্রাসাদ থাকবেই। শ্রী কৃষ্ণের রাজ ধানী বা রাজপ্রাসাদ ছিলো দ্বারকা নগরী।

 

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। একাধিকবার যুদ্ধ হয়। অবশেষে কৃষ্ণ তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী।

 

দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন।

 

 

দ্বারকা ছিলো মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো।

 

কুরুক্ষেত্র পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এই দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|

 

গুজরাট সংলগ্ন সুমুদ্রই প্রাচীন কালে দ্বারকা নগরীর স্থান ছিলো বলে মনে করা হয়। বর্তমানে

যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে

এক সূত্রে।

 

শ্রী কৃষ্ণের জীবন নিয়ে রহস্যর শেষ নেই|আবার আগামী পর্বে নতুন বিষয় নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কুরুক্ষেত্রে শ্রী কৃষ্ণ

কৃষ্ণ কথা – কুরুক্ষেত্রে শ্রী কৃষ্ণ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক আছে কিন্তু ভগবান একজনই|তিনি শ্রী কৃষ্ণ|তার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান|জন্মাষ্টমীতে যেমন তার বালক রূপ অর্থাৎ গোপাল রূপের পুজো হয় তেমনই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি একজন সারথী। অর্জুনের শিক্ষক এবং বিশ্বরূপ দেখিয়ে তার বিরাটত্ত্ব দেখিয়েছিলেন।

 

কুরুক্ষেত্রে তিনি নিজে যুদ্ধ করেননি। অস্ত্র হাতে তুলে নেননি, তবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৃষ্ণকে অর্জুন নিজের বিশ্বরূপ দেখানোর অনুরোধ করেন

তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|

 

এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।

শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন ও যাঁর ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে।

 

শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন।

 

ভগবানের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষ নেন। অধর্ম নাশ করে ধর্ম পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেন। তবে জ্ঞানের মাধ্যমে। তার সেই জ্ঞান এবং শ্রীমুখ নিঃসৃত বাণীই ভগবত গীতা যা বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং মূল্যবান শাস্ত্র।

 

আসন্ন দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে কৃষ্ণ কথা। ফিরে আসবো শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত

আরো একটি পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব 

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ভক্ত মহাদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সবে শেষ হলো এবছরের মহা শিব রাত্রি আর কিছুদিন পরেই দোল পূর্ণিমা। শিব এবং কৃষ্ণের সম্পর্ক ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক। শিব পরম বৈষ্ণব এবং তিনি সদা তার আরাধ্য বিষ্ণু বা কৃষ্ণের ধ্যানে মগ্ন। আজ দেবাদিদেবের এমন এক লীলার কথা লিখবো যেখানে তার কৃষ্ণ প্রেম গভীর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

 

একবার ভক্ত মহাদেব তার আরাধ্য বিষ্ণুকে কৃষ্ণ রূপে দেখতে এবং তার সান্নিধ্য লাভ করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।তখন তিনি কৈলাশে গভীর ধ্যানে মগ্ন সেই অবস্তায় তিনি শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির মধুর ধ্বনী শুনতে পেলেন।সেই অতীন্দ্রিয় শব্দ অনুসরণ করে তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছান যেখানে ভগবান গোপীনাথ তাঁর গোপীদের সাথে মহা রাস-লীলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

 

মহা-রাসে যোগদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় শিব নিধী বনের প্রবেশদ্বারের কাছে যান কিন্তু দ্বার রক্ষী যোগমায়া তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন – কৃষ্ণ ব্যতীত কোনও পুরুষের প্রবেশের অনুমতি নেই। প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকে ব্রজের দাসী অর্থাৎ এক গোপীর রূপে থাকতে হবে।

 

এরপর শিব মানসরোবরের জলে ডুব দেন এবং সেখানে স্নান করার পর ভগবান শিব হ্রদ থেকে সুন্দরী গোপীনীর রূপে আবির্ভূত হন এবং সেই রূপে শ্রী কৃষ্ণের রাস স্থলে গিয়ে তার ভগবানের দর্শন লাভ করেন।

 

কিন্তু ভগবান অন্তর্যামী এবং তিনি শিবের এই ছদ্মবেশ ধরে ফেললেন এবং বললেন “হে গোপীশ্বর, তোমাকে গোপী রূপে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু আপনি জানেন যে এই রস গৃহস্থদের জন্য নয়। অতএব, যেহেতু আপনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনার ইচ্ছা পূরণ করেছেন, তাই আমি আপনাকে রাস স্থানের দ্বার পাল নিযুক্ত করলাম এবং আপনি এই স্থানে সর্বদা গোপেশ্বর মহাদেব রূপে বিরাজ করবেন।

 

আজও শিব তার আরাধ্য হরির ইচ্ছেয় ওই স্থানে গোপেশ্বর রূপে বিরাজমান।ভগবানের সাথে মিলিত হতে শুদ্ধ ভক্তরা সব কিছু করতে পারেনা এমনকি স্বয়ং মহাদেবও ব্যাতিক্রম নন।কৃষ্ণ প্রেমে তার অনেক ভক্তই এমন কান্ড ঘটিয়েছেন এবং ভগবানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার পরের পর্বে ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সোমবতী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

সোমবতী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব রাত্রি তিথির মধ্যেই আজ রয়েছে সোমবতী অমাবস্যা। এই শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে অপরিসীম। তা বুঝতে হলে শিবের সাথে তন্ত্রর সম্পর্ক বুঝতে হবে।

 

সাধারণত তন্ত্র শাস্ত্রর সঙ্গে দশমহাবিদ্যাকে যুক্ত করে দেখা হয়। তাই কৌশিকী বা দীপান্বিতা অমাবস্যা গুলির মতো অমাবস্যা তিথি গুলিকে জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে শিবের সঙ্গে তন্ত্রের রয়েছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই শিব রাত্রি এবং বিশেষ করে এই অমাবস্যা যুক্ত শিব রাত্রি তিথি তন্ত্র মতে প্রতিকারের আদর্শ তিথি।

 

তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

 

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।আগেই বলেছি তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর।বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

 

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

 

সংক্ষেপে তাই বলাই যায় মহাদেব ও আদ্যা

শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে।

 

যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান তাদের জন্য আজ

মা হৃদয়েশ্বরি সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে গ্রহ দোষ খন্ডন চলছে । যার সরাসরি সম্প্রচার আপনারা দেখতে পারেন এখানে।

 

সবাইকে জানাই শিব রাত্রি এবং সোমবতী অমাবস্যার শুভেচ্ছা।হর হর মহাদেব। ওম নমঃ শিবায়।ফিরে আসবো অন্য আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

শিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নমস্কার আমি পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের এই বিশেষ পর্বে আপনাদের শিব

রাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জানাবো।

জানাবো এই দিনটির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

যদিও শিব ভক্তরা প্রায় সারা বছরই শিব পুজো করেন তবু শিব চতুর্দশী তিথির আলাদা মহাত্ম আছে। এই তিথি শিব পুজো করে শিব কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ঠ তিথি। কিন্তু কেনো? দুটি কারন আছে এবং সেই দুটি কারন খুঁজতে হলে আমাদের পুরানের আশ্রয় নিতে হবে।

 

পুরান অনুসারে এই শিব রাত্রির তাৎপর্য সব থেকে বেশি কারন এটা আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি ও একি সাথে শিব পার্বতীর বিবাহের দিন। স্বাভাবিক ভাবেই এই দিন উৎফুল্ল চিত্তে থাকেন শিব এবং পার্বতী দুজনেই এবং অল্প তেই তুষ্ট হন তারা। ভক্তের ডাকে এই দিন তাই সহজেই সাড়া দেন দেবাদিদেব এবং তার শক্তি পার্বতী।

 

শিব পূরাণ মতে এক সময় ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্টত্ত্ব প্রমানের জন্য ভিষণ বিবাদ দেখা দিয়েছিল। লড়াই প্রায় বাঁধে বাঁধে। সেই সময় হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলতে থাকা একটা কালো স্তম্ভ দুই দেবাতার মাঝে আর্বিভাব হয়। এই স্তম্ভ হঠাৎ করে এল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্রহ্মা ঠিক করেন স্তম্ভের উপরের দিকে গিয়ে দেখবেন কোথায় এর শেষ আর বিষ্ণু দেব যাবেন নিচের দিকে। দেখবেন এর সূচনা।

সেই জ্বলন্ত তেজময় স্তম্ভ ছিলো আদি শিব লিঙ্গ।

 

বলা বাহুল্য দুজনেই ব্যর্থ হন। কারন শিব অনাদি এবং সনাতন। তার না আছে আদি না আছে অনন্ত। আছে শুধু অফুরন্ত শক্তি এবং তেজ।

আদি শিব লিঙ্গের সেই সেই আবির্ভাব তিথিকেই

পালন করা হয় শিব রাত্রি রূপে।

 

কেনো এই শিব রাত্রিতে শিব লিঙ্গে জল ঢালা হয় তার ও নিদ্দিষ্ট কারন আছে, আসলে অগুনে জ্বলতে থাকা ওই কালো থামটি ছিল আদি শিব লিঙ্গ। যার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে যে বিপদ! আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। যেখানে অনন্ত শক্তি বিরাজমান সেই শক্তির উৎস স্থান কে ঠান্ডা রাখা, শান্ত রাখাই মূল উদেশ্য।

 

আবার লৌকিক মতে এই দিন শিবরাত্রি ব্রত এবং শিবলিঙ্গের জলাভিষেক করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে বিবাহের বাধা দুর হয়ে মনের মতো জীবন সঙ্গী লাভ হয়।সবাই আজ যথাসাধ্য শাস্ত্র মতে শিব রাত্রি পালন করুন।

 

আপনাদের সবাইকে শিব রাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি আজকের এই বিশেষ পর্ব|সবাই ভালো থাকুন। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং মা গঙ্গা

শিব কথা – শিব এবং মা গঙ্গা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিব রাত্রি উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে আজ শিবের জটায় বিরাজমান মা গঙ্গাকে নিয়ে লিখবো

পুরাণ মতে সূর্য বংশের রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের কপিল মুনির অভিশাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য মা গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর জন্য কঠোর তপসা করেন । ভগীরথের তপস্যায় খুশি হয়ে মা গঙ্গা পৃথিবীতে আসতে রাজি হন এই ঘটনা একাধিক শাস্ত্রে উল্লেখিত হয়েছে।

তবে মা গঙ্গার মর্তে আগমন এতো সহজ ছিলোনা। দেবী গঙ্গা ভগীরথকে বললেন যে পৃথিবী
তার এই প্রবল গতি সহ্য করতে পারবেনা এবং পাতালে চলে যাবে।ভগীরথ ব্রহ্মাজীর কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা বলেন।ব্রহ্মাজী ভগীরথকে শিবকে খুশি করতে বললেন।কারন একমাত্র শিবই পারেন এই সমস্যার সমাধান করতে।

এর পর নিজ লক্ষ্যে অবিচল ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে শিবকে খুশি করেন এবং সন্তুষ্ট হয়ে শিব তাকে বর দিতে চাইলে তিনি তার সমস্যার কথা বলেন। গঙ্গার বেগে পৃথিবীকে বাঁচাতে ভগবান শিব তখন তার জটায় গঙ্গাকে ধারন করেন। কিন্তু আবার এক সমস্যা দেখা দেয় শিবের জটায় সম্পূর্ণ ভাবে আবদ্ধ হয়ে পরেন গঙ্গা
এদিকে তার মর্তে আগমন না হলে ভগীরথের পূর্ব পুরুষরা উদ্ধার পাবেন না তাই তার অনুরোধ
শিব তার জটার কিছুটা অংশ খুলে দেন এবং এইভাবে মা গঙ্গা দেবলোক থেকে শিবেরজটা হয়ে
পৃথিবীতে আসেন।ভগীরথের পূর্বপুরুষরা মা গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষলাভ করেন।শিবের জটায় গঙ্গা বিরাজমান তাই শিবের আরেক নাম গঙ্গাধর।

পবিত্র এই শ্রাবন মাসে তামার ঘটিতে গঙ্গা জল নিন তাতে কাঁচা দুধ মেশান এবং এই মিশ্রণ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করুন। এতে আপনার পরিবারের অশান্তি ও অভাব অভিযোগ দূর হবে এবং মহাদেবের অসীম কৃপা লাভ করবেন।

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিব রাত্রিতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করালে দ্রুত এবং নিশ্চিত ভালো ফল পাওয়া যায়।তাই যাদের প্রয়োজন আছে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। শিব কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিবের অর্ধনারীশ্বর রূপ

শিব কথা – শিবের অর্ধনারীশ্বর রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের এমনই এক তাৎপর্য পূর্ণ রূপ তার অর্ধনারীশ্বর রূপ।শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এই রূপের কথা না বললে।তাই আজকের পর্বে এই রূপ নিয়ে লিখবো।

 

পুরান মতে শিবের বাহন ভৃঙ্গীর একবার ইচ্ছে হয়েছিল তার আরাধ্য শিবকে প্রদক্ষীণ করার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন পার্বতী। তিনি তাঁর স্বামীর পাশে বসে থাকায় শিবকে প্রদক্ষীণ করতে পারলেন না ভৃঙ্গী কারন তিনি শুধু শিবকে প্রদক্ষিণ করবেন|উপায় না দেখে ভৃঙ্গী মাছির রূপ নিয়ে শিবকে প্রদক্ষীণ করার চেষ্টা করলেন। তখন পার্বতী তাঁর এবং শিবের মধ্যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে মিলে গেলেন মহেশ্বরের শরীরের সঙ্গে।সৃষ্টি হলো অর্ধনারীশ্বর রূপ। ভৃঙ্গী বুঝলেন শিব এবং পার্বতী একই। তারা ভিন্ন নয়। শিব এবং শক্তি আলাদা নয়।

 

অর্ধনারীশ্বর রূপ সম্পর্কে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে।একবার শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী।শিব বুঝিয়ে দেন শিব ও পার্বতী এক এবং অভিন্ন।

তারা আলাদা নন|

 

বৈদিক একটি ব্যাখ্যাও আছে এই বিষয়ে|সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ব্রহ্মার খেয়াল হয় যে জগত তো সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রান চাই, আরো সৃষ্টি চাই। সেই ক্ষনে তার সামনে ভেসে উঠলো মহেশ্বরের আকার, যাঁর এক অংশ পুরুষের এবং বাকি অর্ধেক অংশ নারীর। এই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রহ্মা নিজেকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেললে তার ডান দিকের অংশ থেকে জন্ম নিল পুরুষ লিঙ্গের সব প্রাণী এবং বাঁ দিক থেকে জন্ম নিল সব প্রাণীর নারী লিঙ্গ।অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মে ব্রম্ভাকে পথ দেখিয়েছিলো অর্ধ নারীশ্বর রূপ|

 

শাস্ত্রে অর্ধনারীশ্বর রূপ নর এবং নারী শক্তির মিলিত রূপ যেখানে মহেশ্বর ত্রিনেত্র এবং চতুর্ভুজ রূপে বিরাজমান তার হস্তে রয়েছে

পাশ, রক্ত কমল, নরকপাল এবং শুল।অনন্ত

শক্তি এবং তেজের প্রতীক এই মূর্তি।

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে ফিরে আসবো দেবাদিদেবের অন্য রূপ এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং সেই সম্পর্কিত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে।সময় আর বেশি নেই হাতে যারা শিব রাত্রিতে গ্রহের প্রতিকার চান তারা এখনই যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।