Home Blog Page 23

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের গোলোক ধাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মর্ত লোকে মথুরা, বৃন্দাবন এবং দ্বারকা যেমন শ্রী কৃষ্ণের লীলা স্থল তেমনই অতীন্দ্রীয় জগতে শ্রী কৃষ্ণের আবাস স্থল হলো গোলোক।

 

শাস্ত্র মতে গোলক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার নিত্যধাম যা মূলত প্রেমের স্থান, ভক্তির স্থান এখানে কৃষ্ণ তার গোপ-গোপী এবং সখাদের সঙ্গে নিত্য লীলা করেন।

 

স্কন্দপুরাণ এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণেও গোলোকের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্রে বৈকুণ্ঠ ও গোলোক উভয়কেই নিত্য ধাম এবং কৃষ্ণ তাঁর দ্বি-ভুজ রূপে চিরকাল গোলোকধাম ও তাঁর চতুর্ভুজ বিষ্ণু রূপে তিনি নিত্যকাল বৈকুণ্ঠ লোকে বাস করেন

 

অনেকে মনে করেন বৃন্দাবন আসলে সেই দিব্য গোলক ধামেরই অংশ এবং মায়া বলে জাগতিক রূপে বিরাজমান আসলে তা অলৌকিক ওব অপার্থিব।গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন অনুসারে অবশ্য পৃথিবীর বৃন্দাবন ও গোলোক বৃন্দাবনের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।সবই এক।

 

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে বৈকুণ্ঠর উপরে গোলক অবস্থিত। আয়তন ৫০ কোটি যোজন। সুবিশাল পর্বত দিয়ে ঘেরা এই দিব্য স্থান শ্রী কৃষ্ণের লীলা স্থল।

 

শ্রী কৃষ্ণ কে নিয়ে আছে অনেক রহস্য। সেই সব নিয়েই ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে এই উপস্থাপনা। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও গিরিরাজ গোবর্ধন

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও গিরিরাজ গোবর্ধন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রীকৃষ্ণের লীলা ভূমি বৃন্দাবনের অন্যতম পবিত্র এবং দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে একটি গোবর্ধন পর্বত যাকে গিরিরাজ নামেই অভিহিত করা হয়।

 

শ্রী কৃষ্ণের শৈশবের সাথে জড়িয়ে আছে গিরিরাজ গোবর্ধন পর্বতের কথা পুরাণের কাহিনিতে মতে ভালো বৃষ্টি হয়ে যাতে ফলন ভালো হয়, তার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের পুজো করতেন বৃন্দাবনবাসী।কারন গবাদী পশু পালন এবং কৃষি কাজের জন্য জলের উপর নির্ভর করতে হতো।

একবার শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী বৃন্দাবনের অধিবাসীরা ইন্দ্রের পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন দেবরাজ তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বৃন্দাবনে প্রবল বৃষ্টি নামান।ভারী দুর্যোগ দেখা দেয়।

 

দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে বন্যায় গোটা বৃন্দাবন প্রায় ভেসে যায়। কৃষ্ণের কারণেই তাঁদের এই বিপদ বলে অভিযোগ করেন বৃন্দাবনবাসী। তারা কৃষ্ণকে সাহায্য করতে বলেন।তখন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কিশোর শ্রীকৃষ্ণ। নিজের কনিষ্ঠ আঙুলের ডগায় বৃন্দাবনের গোবর্ধন পর্বত অনায়াসে তুলে ফেলেন শ্রীকৃষ্ণ।

 

প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তার নীচে আশ্রয় নেয় বৃন্দাবনের সকল মানুষ ও গবাদি পশু। টানা সাত দিন শ্রী কৃষ্ণ আঙুলের ডগায় গোবর্ধন পাহাড় তুলে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।তার এই দিব্য লীলা দেখে বৃন্দাবনবাসীরা ধন্য হয়।

 

অবশেষে দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই প্রবল বৃষ্টি বন্ধ করেন।রক্ষা পায় বৃন্দাবন

এই ঘটনায় শ্রী কৃষ্ণের পাশাপাশি বৃন্দাবনবাসী গোবর্ধন পর্বতের কাছেও ঋণী হয়ে পরে। তারা গোবর্ধন পর্বতকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করতে শুরু করেন এবং সেই থেকে দীপাবলির পরের দিন গোবর্ধন পুজো শুরু হয়। শুধু তাই নয় বৃন্দাবনে আসা প্রত্যেক পূন্যার্থী গোবর্ধন পরিক্রমা করেন এবং গিরিরাজের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ যুগে যুগে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসেছেন এবং নানা রকম লীলা করছেন।

তার সর্বদা ছিলেন তার লীলা সঙ্গিনীরা।

সত্য যুগে যিনি বেদবতী ত্রেতাতে তিনিই সীতা এবং দ্বাপর যুগে তিনিই দ্রৌপদী। তার কৃষ্ণ ভক্তির জন্য তার আরেকনাম কৃষ্ণা।কৃষ্ণ তত্ত্ব বুঝতে হলে দ্রৌপদীর সাথে তার সম্পর্ক এবং লীলা ভালো করে বুঝতে হবে।

 

শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্রৌপদীর সম্পর্ককে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আসলে পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী হয়েও আজীবন তিনি কৃষ্ণ ভক্তে মজে ছিলেন।

 

পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের যজ্ঞ বেদী থেকে দ্রৌপদীর আবির্ভাব হয়ে ছিলেন এবং তার স্বয়ংবর সভায় পৌঁছে পঞ্চ পান্ডব তাদের বীরত্ব এবং শ্রী কৃষ্ণের আশীর্বাদের জোরে দ্রৌপদীকে জয় করেন।

 

যখন রাজ সভায় কৌরব কতৃক দ্রৌপদীর

বস্ত্র হরণ হচ্ছিলো তখন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ তার সন্মান রক্ষা করেন। এখানে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো যতক্ষণ পর্যন্ত দ্রৌপদী নিজের সন্মান রক্ষার ভার নিজের হাতে রেখেছিলেন ততক্ষন পর্যন্ত শ্রী কৃষ্ণ হস্থক্ষেপ করেননি যেই মুহূর্তে দ্রৌপদী সমস্ত ভার কৃষ্ণের হাতেsঅর্পণ করে নিজেকে তার চরনে সম্পূর্ণ রূপে সমর্পন করলেন তখন শ্রী কৃষ্ণ নিজেই অবতীর্ণ হলেন।অর্থাৎ ভগবান চান ভক্তের সম্পূর্ণ সমর্পন এবং স্মরনাগতি।

 

পরবর্তীতে দ্রৌপদীর ইচ্ছেতেই পান্ডবরা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অংশ নেন এবং কৌরবদের পরাজিত করেন। সেখানেও নেতৃত্বে স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।যুদ্ধে আহত কৃষ্ণের সেবা করায় দ্রৌপদীকে নিজের ভগিনীর বলে ঘোষণা করেন এবং কোনও না কোনও দিন এর প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নিজের সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেন শ্রী কৃষ্ণ।

 

শ্রী কৃষ্ণ শুধু প্রেমের নয়। পবিত্রতার প্রতীক। সহনশীলতা এবং সৌন্দর্যর প্রতীক। তার লীলা বুঝতে হলে তার লীলা সহযোগীদের ও বুঝতে হবে। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আপাতত সেই চেষ্টাই করছি।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে।

যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা –শ্রী কৃষ্ণ ও সুদর্শন চক্র

কৃষ্ণ কথা –শ্রী কৃষ্ণ ও সুদর্শন চক্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের যেমন ত্রিশূল। ইন্দ্রের যেমন বজ্র তেমনই শ্রী কৃষ্ণের সুদর্শন চক্র। সুদর্শন একাধারে ভগবানের অস্ত্র আবার তার সর্বক্ষণের সঙ্গী এবং একই সাথে ভগবানের চরণ আশ্রিত পরম ভক্তও।আজকের পর্বে আলোচনা করবো শ্রী কৃষ্ণের হাতের সুদর্শন চক্র নিয়ে।

 

সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|

সুদর্শনের দুটি সত্ত্বা আছে একটিতে তিনি ভগবানের হাতের অস্ত্র। আবার অন্য দিকে তিনি কৃষ্ণের দেহ রক্ষী এবং তার পরম ভক্ত এবং নিজেও একজন দেবতা স্বরূপ।

 

সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|স্বয়ং শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন।

 

সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম।

 

সুদর্শনকে শ্রী কৃষ্ণ যেমন স্নেহ করতেন তেমনই শাসন ও করেন। একবার সুদর্শন যখন নিজের বল এবং পরাক্রমের জন্য অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন তখন বিষ্ণু বজরংবলীকে ডেকে পাঠান এবং সুদর্শনকে বলেন দ্বার রক্ষী থাকতে এবং আদেশ দেন কাউকে যেনো তার অমুমতি ছাড়া অন্দর মহলে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়। কিন্তু বজরংবলী অবলীলায় সুদর্শনকে পরাস্ত করে তার প্রভুর কাছে চলে যান।সুদর্শনের অহংকার চূর্ণ হয় এবং তিনি আবার নিজের অহং ভুলে কৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত হন।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথা নিয়ে আগামী পর্বে।ভগবানের আরো অনেক লীলা নিয়ে আলোচনা বাকি আছে।যারা আসন্ন দোল পূর্ণিমায় গ্রহের প্রতিকার করাতে চান। নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং খাটু শ্যাম 

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং খাটু শ্যাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই ঘোর কলিযুগে যে কয়েকটি দেব মন্দির আজও প্রতিনিয়ত অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয় এবং যে কয়জন দেবতার কাছে করা প্রতিটি মনোস্কামনা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয় খাটু শ্যাম তাদের মধ্যে অন্যতম।এই খাটু শ্যাম আসলে ঘটৎকচের পুত্র বারবারিক। শ্রী কৃষ্ণের বরে তিনি আজও পূজিত হচ্ছেন।আজ কৃষ্ণ কথার এই বিশেষ পর্ব বাবা খাটু শ্যামকে উৎসর্গ করলাম।

 

মহাদেব বারবারিককে বর দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর ‘তিনটি তীর’ দিয়েই বিশ্বজয় করতে পারবেন। প্রথম তীরটি দিয়ে বারবারিক যা যা ধ্বংস করতে চান সেগুলি চিহ্নিত করতে পারতেন। দ্বিতীয় যে তীর তা দিয়ে বারবারিক যাকে যাকে বাঁচাতে চান তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারতেন। আর তৃতীয় তীরটি দিয়ে প্রথম তীর দ্বারা চিহ্নিত সকল বস্তু ধ্বংস করতে পারতেন।

 

এই তিন তীর নিয়েই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে লড়তে উদ্যোগী হন বারবারিক। তিনি চাইতেন যে পক্ষ হারবে তিনি তার হয়ে যুদ্ধ করবেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অচিরেই বুঝেছিলেন, বারবারিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ কোনও পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। যুদ্ধ চলতে থাকবে।বারবারিক এর জন্য এই যুদ্ধ শেষই হবেনা। আদি অনন্ত কাল ধরে চলবে।তখন শ্রীকৃষ্ণ এক ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ান। আর জিজ্ঞেস করেন, বারবারিক কার পক্ষে লড়তে চান।বারবারিক বলেন তিনি পক্ষ বদলে বদলে মায়ের আদেশ মতো দুর্বলের পক্ষে লড়বেন।অর্থাৎ বারবারিক যদি যুদ্ধ করেন তাহলে শেষে তিনিই শুধু বেঁচে থাকবেন। আর কেউ নয়।

 

তাই এরপর কৃষ্ণ ভিক্ষা হিসেবে বারবারিকের মস্তক চান। এবারে বারবারিক বুঝতে পারেন যে এই ব্রাহ্মণ সাধারণ কেউ নন। পরিচয় জানতে চাইলে কৃষ্ণ নিজের রূপ ধারণ করেন। আর তারপর বারবারিক তারপর কৃষ্ণকে নিজের মস্তক কেটে নিবেদন করেন।

 

তবে মস্তক নিবেদন করলেও বারবারিক শর্ত দিয়েছিলেন। তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চান। ফলে শ্রীকৃষ্ণ বারবারিকের মস্তক একটি উঁচু ঢিবির ওপর রাখেন। যাতে বারবারিক অনায়াসে যুদ্ধ দেখতে পান।যুদ্ধ শেষে বারবারিকের মস্তক বলে ওঠে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষে ছিলেন বলেই তাঁরা জিততে পেরেছেন।

 

শ্রীকৃষ্ণ বারবারিককে বর দিয়েছিলেন যে তিনি কলিযুগে খাটুশ্যাম নামে পূজিত হবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “তোমার পুজো আমি আমার নিজের পুজো বলেই গ্রহণ করব।” সেই থেকেই খাটু শ্যামের প্রসিদ্ধি সর্বত্র ছড়িয়ে পরে।

রাজস্থানের সিকারে খাটুশ্যামজির বড় মন্দির রয়েছে।অসংখ্য ভক্তসমাগম হয় এই মন্দিরে।

মনে করা হয় খাটু শ্যাম এর কাছে করা প্রতিটি মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বাবা খাটু শ্যামের কৃপা পেয়ে ধন্য হয়েছি। আজ যা কিছু করতে পারছি তা খাটু শ্যাম বাবার আশীর্বাদেই সম্ভব হচ্ছে বলে বিশ্বাস করি।

 

প্রণাম জানাই খাটু শ্যামের চরণে।

আবার কৃষ্ণ কথা নিয়ে পরবর্তী পর্বে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং রাজা জয়মাল

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং রাজা জয়মাল

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী কৃষ্ণ সর্বদা তার চরনে আশ্রিত ভক্তদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। যারা সম্পূর্ণ রূপে শ্রী কৃষ্ণের স্মরনগত হয় তারা তাঁর কৃপা লাভ করেন। যেমন একবার রাজা জয়মাল কে প্রতিবেশী রাজার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিজেই

অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ।

ভক্তমালা গ্রন্থ অনুসারে একবার রাজা জয়মালের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার প্রতিবেশী রাজ্যের রাজ রাজ্য আক্রমণ করে বসেন। যুদ্ধের জন্য জয় মাল প্রস্তুত ছিলেন না। তাই যুদ্ধে তার পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পরে। যখন তার সৈন্যরা যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে শত্রুরা রাজ্য দখল করবে এমন সময়ে জয়মালের মন্ত্রীরা তাকে আসন্ন বিপদের কথা জানাতে ছুটে আসেন।জয়মল তার উপাসনায় অবিচল থেকে বলেন “এই রাজ্য আমার ভগবান কৃষ্ণ আমাকে দিয়েছিলেন, এবং তিনি যদি এটি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে আমি কী করতে পারি? কিন্তু তাঁর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে থাকলে কেউ আমার ক্ষতি করতে পারবে না।”

জয়মাল যখন তাঁর পূজা শেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছেন, তখন তিনি দেখতে পান তাঁর ঘোড়া হাঁপাচ্ছে এবং ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তিনি আরও দেখলেন যে শত্রু বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজাও আত্ম সমর্পন করেছেন।

বন্দী রাজা জানালেন একটি রহস্যময় নীল যোদ্ধা ঘোড়ায় চেপে এসে একা হাতে তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছেন এবং জয় মালের রাজ্য

তিনিই রক্ষা করেছেন।

সব শুনে রাজা জয়মাল বুঝতে পারলেন স্বয়ং শ্যাম সুন্দর তার রাজ্য রক্ষার জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবস্থিত সকলে বুঝতে পারেন

ভক্ত যখন সম্পূর্ণ রূপে ভগবানের কাছে আত্ম সমর্পন করেন তখন ভগবানে তার ভক্তকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করেন। প্রয়োজন শুধু ভক্তি এবং বিশ্বাস।রাজা জয় মাল একজন প্রকৃত

ভক্ত এবং ভগবান তাঁর রাজ্য রক্ষা করছেন।

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত এমনই এক অলৌকিক ঘটনা এবং তার ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সখা এবং ভক্ত সুদামার প্রসঙ্গ উঠবেই।আজকের পর্বে এই দুই জনের বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো।শুধু প্রেম নয়। শত্রু দমন বা অধর্ম নাশ নয়।শ্রী কৃষ্ণ রূপে ভগবান তার ভক্তদের

সাথে বন্ধু রূপে মিশেছেন।সেই বন্ধুদের অন্যতম সুদামা।

 

বৃন্দাবনের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সুদামা এবং ভগবান কৃষ্ণ ছিলেন সহপাঠী আচার্য সন্দীপনের আশ্রমে অধ্যয়ন শেষ করে কৃষ্ণ এবং সুদামা উভয়েই শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ নিজ গৃহে চলে যান। পরবর্তীতে যেখানে কৃষ্ণ দ্বারকা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন অন্যদিকে সুদামা দারিদ্র্যতার জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন । এতো কিছুর পরেও তার ভক্তি, অনুরাগ এবং কৃষ্ণপ্রেম অব্যাহত ছিল।

 

সংসার জীবনে প্রায়শই সুদমার বাচ্চারা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বহু বছর পরেও কৃষ্ণের প্রতি সুদামার ভালোবাসা কমেনি এবং প্রভুর গল্প তার বাচ্চাদের শোনাতেন। তার স্ত্রী সুশীলা একবার তাকে জোর করে ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে পাঠান।

 

দরিদ্র বেশে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত সুদামা দ্বারকায় পৌঁছেন।দ্বারকার সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে সুদামা কৃষ্ণের দুর্গ খুঁজতে থাকেন। রক্ষীরা তাকে অপমান করে দুর্গে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।কীভাবে একজন ভিক্ষুকের সাথে কৃষ্ণর বন্ধুত্ব থাকতে পারে তা ভেবে তারা অবাক।

 

এদিকে কৃষ্ণের আগমনের খবর পৌছায় দ্বারকার অন্দর মহলে।সুদামা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন শুনে কৃষ্ণ সরাসরি মূল ফটকের দিকে দৌড়ে গেলেন। কৃষ্ণের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে কৃষ্ণ সুদামাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সিংহাসন অর্পণ করেন । তিনি তার অশ্রু দিয়ে সুদামার পা ধুয়ে দিলেন। বসালেন স্ত্রী রুক্মিণীর আসনে। কিছু দিন সেবা এবং আতিথ্য গ্রহন করে সুদামা জাগতিক কিছু না চেয়ে খালি হাতেই ফিরে এলেন।

 

সুদামা গ্রামে ফিরে দেখলেন তার পুরানো এবং ভাঙা কুঁড়েঘরটি একটি জমকালো প্রাসাদে রূপান্তরিত হয়েছে। স্ত্রীও রাজ রানী হয়েছেন। দারিদ্রতার অভিশাপ মুছে গেছে।সুদামা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি তাঁর লীলা ধর , তাঁর প্রিয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লীলা। শ্রী কৃষ্ণ পরম করুণাময়। সুদামা এই সত্য বুঝতে পারলেন।

শ্রী কৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার মধ্যে এই লীলাটি নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও বাঁশি

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ ও বাঁশি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আসন্ন দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে পুনরায় শুরু করেছি এই কৃষ্ণ কথা। কৃষ্ণের সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ের শাস্ত্রীয় তাৎপর্য আছে। তার বাঁশিও ব্যাতিক্রম নয়।শ্রী কৃষ্ণের হাতে বাঁশি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু বাঁশির ও ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে।আজ কৃষ্ণ কথায় কৃষ্ণের বাঁশিনিয়ে লিখবো।

এই বাঁশি বা মুরলী থেকেই শ্রী কৃষ্ণের নাম হয়েছে মুরলীমনোহর বা মুরলীধর।মুরলী শ্রী কৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় এবং তার লীলা সংগী বলা যায়।তাঁর রাস লীলা হোক বা গোপিনীদের সাথে কাটানো সময়। বাঁশি সর্বত্র স্বমহিমায় বিরাজমান।

বাঁশির সাথে কৃষ্ণর সম্পর্ক নিয়ে একটি সুন্দর পৌরাণিক কাহিনী আছে একেবার ঈর্ষা বসত গোপিনীরা অসতর্ক মুহূর্তে চুপি চুপি বাঁশিটি কে চুরি করলেন।বাঁশি গোপীদের বলিলেন : ” এভাবে আমাকে আপনারা কৃষ্ণের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করলেন কেন ?” গোপীরা বলিলেন : ” তোমার এমন কি গুণ আছে যে , তুমি সর্বদা কৃষ্ণের হাতে হাতে ফের আর তাঁর অধর স্পর্শ করে থাকো? বাঁশি বললো গুণের কথা ছেড়ে দিন, আমার তো কোন অস্তিত্ব নেই । আমার আমিত্ব বলে আর কিছু নেই । আমার যা- কিছু সব কৃষ্ণের। কৃষ্ণ ছাড়া আমার অস্তিত্ব নেই। আমি কৃষ্ণের স্মরনাগত। শরণাগতকে তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না । আমার সর্বস্ব তাঁকে অর্পণ করে আমি তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। গোপিনীরা কথার মর্মার্থ বুঝলেন|নিজের সব অহং বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ভগবানের চরনে সমর্পন করলে তবেই তার সম্পূর্ণ কৃপা পাওয়া যায়।কৃষ্ণের বাঁশি সেই সম্পূর্ণ সমর্পনের প্রতীক স্বরূপ।

শ্রীকৃষ্ণ তিন প্রকারের বাঁশী ব্যবহার করেন। তার একটিকে বলা হয় বেণু, অন্যটি মুরলী এবং তৃতীয়টি বংশী। বেণু অত্যন্ত ছোট, ছয় ইঞ্চির বেশী দীর্ঘ নয়, এবং তাতে ছয়টি ছিদ্র থাকে। মুরলীর দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো ইঞ্চি। তার একপ্রান্তে একটি ছিদ্র থাকে এবং তার গায়ে চারটি ছিদ্র থাকে। এই মুরলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুর সৃষ্টি করে। বংশী প্রায় পনেরো ইঞ্চি লম্বা, এবং তাতে নয়টি ছিদ্র থাকে।শ্রীকৃষ্ণ প্রয়োজন অনুসারে এই তিন রকমের বাঁশী বাজান।শ্রীকৃষ্ণের আর একটি বংশী আছে যা আরও লম্বা, যাকে বলা হয় মহানন্দ বা সম্মোহনী বা আকর্ষনী এই বাঁশী কখনো কখনো মণিরত্ন খচিত থাকে, কখনো তা মর্মর দিয়ে তৈরী হয় এবং কখনো কখনো বাঁশ দিয়ে তৈরী হয়। বাঁশী যখন মণিরত্ন দিয়ে তৈরী হয় তখন তাকে বলা হয় সম্মোহনী। আর যখন তা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাকে বলা হয় আকর্ষণী।

কৃষ্ণ সংক্রান্ত আরো এমন অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে|কৃষ্ণ কথায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্বারকা নগরী

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্বারকা নগরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। তিনি রাজা রাজার রাজা রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হন অধর্ম থেকে জগৎ সংসারকে রক্ষা করতে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজার একটা রাজপ্রাসাদ থাকবেই। শ্রী কৃষ্ণের রাজ ধানী বা রাজপ্রাসাদ ছিলো দ্বারকা নগরী।

 

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। একাধিকবার যুদ্ধ হয়। অবশেষে কৃষ্ণ তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী।

 

দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন।

 

 

দ্বারকা ছিলো মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো।

 

কুরুক্ষেত্র পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এই দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|

 

গুজরাট সংলগ্ন সুমুদ্রই প্রাচীন কালে দ্বারকা নগরীর স্থান ছিলো বলে মনে করা হয়। বর্তমানে

যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে

এক সূত্রে।

 

শ্রী কৃষ্ণের জীবন নিয়ে রহস্যর শেষ নেই|আবার আগামী পর্বে নতুন বিষয় নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কুরুক্ষেত্রে শ্রী কৃষ্ণ

কৃষ্ণ কথা – কুরুক্ষেত্রে শ্রী কৃষ্ণ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক আছে কিন্তু ভগবান একজনই|তিনি শ্রী কৃষ্ণ|তার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান|জন্মাষ্টমীতে যেমন তার বালক রূপ অর্থাৎ গোপাল রূপের পুজো হয় তেমনই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি একজন সারথী। অর্জুনের শিক্ষক এবং বিশ্বরূপ দেখিয়ে তার বিরাটত্ত্ব দেখিয়েছিলেন।

 

কুরুক্ষেত্রে তিনি নিজে যুদ্ধ করেননি। অস্ত্র হাতে তুলে নেননি, তবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৃষ্ণকে অর্জুন নিজের বিশ্বরূপ দেখানোর অনুরোধ করেন

তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|

 

এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।

শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন ও যাঁর ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে।

 

শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন।

 

ভগবানের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষ নেন। অধর্ম নাশ করে ধর্ম পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেন। তবে জ্ঞানের মাধ্যমে। তার সেই জ্ঞান এবং শ্রীমুখ নিঃসৃত বাণীই ভগবত গীতা যা বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং মূল্যবান শাস্ত্র।

 

আসন্ন দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে কৃষ্ণ কথা। ফিরে আসবো শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত

আরো একটি পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|