Home Blog Page 147

বাংলার কালী – মালদার গোবরজনা কালি মন্দির

আজ বহুদিন পর আরো একটি প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে লিখবো|সম্প্রতি এই মন্দির নিয়ে আমার টিভির অনুষ্ঠানেও বলেছি|আজকের পর্বে গোবরজন্না কালি মন্দির| মালদার গোবরজন্না কালি মন্দিরের কথা অনেকেরই অজানা। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে হলেও এই কালিমন্দিরের মাহাত্ম্য কিন্তু অপরিসীম|প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই মা কালীর মন্দির, কিন্তু জাঁকযমকে কিন্তু এতটুকু ভাটা পড়েনি। আজও প্রত্যেক কার্তিক অমাবস্যা তিথিতে ধুমধাম করে দেবীর আরাধনা করা হয়। মালদা জেলার প্রসিদ্ধ কালীপুজো গুলোর মধ্যে অন্যতম গোবরজনা কালী পুজো। মালদা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুকুরিয়া থানার অন্তর্গত আড়াইডাঙ্গা অঞ্চলে গোবরজনা গ্রাম। আর এই গ্রামে দেড় বিঘা জমির উপর স্থাপিত গোবরজনা প্রাচীন কালী মন্দির | কথিত আছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবী চৌধুরানী উপন্যাসের নায়ক ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই পুজোয়। এই মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কালিন্দী নদী। শোনা যায় একসময় ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী বজরা করে এই নদী পথ দিয়ে যাওয়ার পথে নদীতে তাদের বজরা আটকে পড়ায় এই গোবর জনা কালী মন্দিরে রাত্রি যাপন করেছিলেন। তারপর মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো দিয়েছিলেন তারা। তারপর থেকে এই পুজোকে ভবানী পাঠকের পূজো বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার বংশধরেরা বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন। এই মন্দিরে প্রতি কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ পুজো হয় এবং আমাবস্যা শেষে পাশেই কালিন্দী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। কালী পূজার সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্ত ভিড় জমায় এই মন্দিরে। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিশাল মেলা বসে পুজোর দুদিন। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের ফলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশি ব্যবস্থা থাকে আটোসাটো। কালীপুজোর দিন ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার পুজো হয়ে থাকে। এ পূজার একটি বড় বিষয় হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। হিন্দু ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই পুজোয়| আগামী পর্বে অজানা কোনো কালী ক্ষেত্র ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অলৌকিক গল্প নিয়ে আবার ফিরে আসবো পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ কেন্দ্রিক সমস্যা নিয়ে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ সরস্বতী পুজো

আমাদের সনাতন ধর্মে বিদ্যার দেবী বলা হয় দেবী সরস্বতীকে তাই বিশেষ করে বিদ্যার্থীদের কাছে দেবী সরস্বতী পূজনীয় তবে সকল হিন্দুদের কাছেই তিনি পরম শ্রদ্ধার এবং পূজনীয়। তাঁর আশির্বাদে শুধুমাত্র বিদ্যা নয় বুদ্ধিও বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় সৃজন শীল ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি|আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত সরস্বতী পুজো|সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী|পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মদেব সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর|জন্মের পর সরস্বতী তাঁকে এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন ও ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|অনেকেই প্রশ্ন করেন রাজহংস কেন সরস্বতীর বাহন| এর কারন জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই হাঁসের সমান গতি, ঠিক যেমন জ্ঞানময় পরমাত্মা সর্বব্যাপী ও সর্বত্র বিরাজমান অর্থাৎ পরম জ্ঞানের প্রতিক এই রাজ হংস|আবার হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|সরস্বতী পূজা করুন ভক্তি ভরে,অঞ্জলি দিন শাস্ত্র মতে|দেখতে থাকুন আমার প্রতিটি অনুষ্ঠান আর যেকোনো গ্রহগত সমস্যার সমাধানের জন্যে যোগাযোগ করুন আমার উল্লেখিত নাম্বারে|সবাইকে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য : সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই ?

বলা হয় সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই, বিশেষত বিদ্যার্থীদের তার উত্তর ও রয়েছে পুরানে,সরস্বতী বন্দনার ঠিক আগে আজ একটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কেনো সরস্বতী পুজোর আগে বিদ্যার্থীদের কুল খেতে নিষেধ করা হয়|এই ঘটনায় প্রধান চরিত্র ব্যাসদেব|পুরাণ মতে, ধ্যান ও ভক্তির দ্বারা দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে একদিন বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন মহামুনি ব্যাসদেব। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী ব্যাসদেবকে একটি শর্ত দেন তাঁকে। একটি কুল বীজ রেখে তিনি বলেন, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে কুল হবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিন দেবী সন্তুষ্ট হবেন ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে। অর্থাৎ বিরাট একটি সময় সীমা নির্ধারিত হয়|দেবী সরস্বতীর শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করেন ব্যাসদেব। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো সেই বীজ থেকে গাছ হল, গাছে কুল ধরল এবং কুল পেকে তা ব্যাসদেবের মাথাতেও পড়ল। ঘটনাচক্রে সেই দিনটা ছিল বসন্তী পঞ্চমী, এরপর সরস্বতীর অর্চনায় কুল ফল নিবেদন করেন ব্যাসদেব । সেই থেকেই বিদ্যার দেবীর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাই আমরা। এবং দেবীর পুজোর আগে কারোর কুল খাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কারন সরস্বতীর কৃপা তাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন|অর্থাৎ প্রচলিত নিয়ম বা বিশ্বাসের সাথে জড়িত আছে শাস্ত্র|দেবী সরস্বতী ও তার পুজো নিয়ে আরো পৌরাণিক ঘটনার ও ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|আপাতত অনলাইন ও চেম্বারে সমান ভাবে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার দেয়ার কাজ চলছে তার জন্য যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার কালী – মহানাদ কালী মন্দির

আগামী 31 তারিখ মৌনী অমাবস্যা, এই অমাবস্যাতেই অনুষ্ঠিত হয় রটন্তী কালী পুজো|এবছর আমি নিজে মৌনী অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে, হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খন্ডনের শাস্ত্রীয় বিধি পালিত হবে ওই দিন|আজ রটন্তী কালী পুজোর ঠিক আগে বাংলার এক এমন প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো যে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে এমনই এক রটন্তী কালী পুজোর সময়|হুগলীর জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী ১৮৩০ সালে মহানাদ কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতি বছর জাঁকজমক করে দুর্গা, লক্ষ্মী ও জগদ্ধাত্রী পুজো হত পরবর্তীতে জমিদার সারা বছর দেবী দর্শন ও তার পুজো চালু রাখতে ১৮২২ সালে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা আট বছর ধরে ৮৪ ফুট উঁচু মন্দিরের কাজ শেষ হওয়ার পরে ১৮৩০ সালের মাঘ মাসে রটন্তি কালী পুজোর সময়ে মন্দিরে দক্ষিণা কালী প্রতিষ্ঠিত হয়। কথিত আছে একবার জমিদার বাড়িতে আসেন রানি রাসমণি। মন্দিরের গঠনশৈলী ও দক্ষিণা কালীর মূর্তি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তার কিছুদিন পরে রাসমণি তাঁর লোকজনদের এনে মন্দিরের উচ্চতা, প্রতিমার খুঁটিনাটি লিখে নিয়ে যান। শেষে মহানাদ কালী বাড়ির আদলেই দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মন্দির তৈরিতে উদ্যোগী হন রানি। মন্দিরের উচ্চতা ৬৪ ফুট এবং কালীমূর্তির চারপাশে শিবলিঙ্গ রয়েছে। শিবলিঙ্গের পুজোর পরেই মায়ের পুজো শুরু হয়। মা খুব জাগ্রত বলে হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান ও দুই ২৪ পরগনা থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে|রটন্তী অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়|আপাতত চলবে কালী কথা, টিভির অনুষ্ঠানে আলোচনা করছি কালী ক্ষেত্র নিয়ে আগামী 31 তারিখ থাকবো তারাপীঠে, গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন আমার সাথে, সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা

আমরা গর্বিত আমরা স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক ভারত বর্ষের নাগরিক, আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত আছে যে সংবিধানের মাধ্যমে আজ সেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন|আজ আমাদের দেশের বাহাত্তর তম প্রজাতন্ত্র দিবস|প্রতিবারের মতো এবারও মহা সমারোহে দেশ জুড়ে পালিত হবে প্রজনতন্ত্র দিবস|হবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তৃতা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা|আসুন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই মহান দিনটির সাথে জড়িয়ে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটু ভালো করে আরো একবার জেনে নেয়া যাক|আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দিন থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়|প্রজাতন্ত্র দিবসের সূচনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি,1950 সালের এই দিনেই স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন|১৯৫০ সালে এই দিনেই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল এবং জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাতন্ত্রের|যদিও শুরুটা ছিলো অন্যরকম ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করে এবং তারপর থেকে প্রতি বছর ওই দিনটাকেই স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করতে শুরু করে কিন্তু পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আসে 1947 সালের 15ই আগস্ট এবং সেই থেকে ওই দিন স্বাধীনতা দিবস ও 26 এ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে|আজ প্রতিটা ভারতবাসির গর্বের দিন|আসুন আজ শ্রদ্ধা জানাই দেশের সংবিধানকে, শ্রদ্ধা জানাই দেশের বীর সৈনিকদের যারা রাষ্ট্র রক্ষায় আত্ম ত্যাগ করেছেন|জয় হিন্দ|বন্দে মাতারাম|আপনাদের সবাইকে জানাই প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

স্বামী বিবেকানন্দ – এক অলৌকিক জীবন

আজ স্বামীবিবেকানন্দর জন্মতিথি, আজ তার জীবনের দুটি অদ্ভুত ও অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করবো, প্রথম ঘটনায় স্বামীজীর অলৌকিক স্মৃতি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয়টিতে তার মানুষের অন্তর দেখে ফেলার ও মন কে নিয়ন্ত্রণ করার ঐশ্বরিক ক্ষমতার উল্লেখ আছে|

এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া এবং মনে রাখা সম্ভব সম্ভব তা জানা সত্যি কঠিন কাজ, অলৌকিক শক্তি ছাড়া বোধ হয় সম্ভব নয়, আর এই অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বিবেকানন্দর
মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। একদিন স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।
এমনই ছিলো স্বামীজীর অদ্ভুত স্মৃতি শক্তি

ফরাসী গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভের সাথে শিকাগোয় ১৮৯৪ খ্রিঃ সাক্ষাৎ হয় স্বামী বিবেকানন্দর, মাদাম কাল্ভে তখন জীবনের প্রতি সম্পুর্ন বীতশ্রদ্ধ এবং আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও স্বাভাবিক কারন তিনি তখন মেজাজী, একগুঁয়ে এবং পুরোমাত্রায় ভোগী মহিলা এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর জীবনে শান্তি ছিল না, ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার অন্তরে|তাকে দেখেই স্বামীজী বলে উঠলেন,বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা বলতে লাগলেন|যেন এক অলৌকিক ব্যাপার। ‘আপনি এত সব জানলেন কি করে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজী বললেন,আমি খোলা বইয়ের মতন তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।শুধু তাই নয় স্বামীজীর কথায় তার অন্তরের সব ঝড় থেমে গেলো শান্ত হলেন তিনি,স্বামীজীর শিষ্য হয়ে সব ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ আপন করে নিলেন|

জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই এই মহান সন্ন্যাসীকে|স্বামীজির জীবন কে জানুন, তার লেখা পড়ুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তেইশে জানুয়ারি – নেতাজী ও হিটলার

নেতাজীকে নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই, বিশেষ করে আজকের এই তারিখে, আজ নেতাজীর জন্মদিন|আজকের দিনে অনেকটা গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করার মতো তার জীবনের একটি ঘটনা স্মরণ করে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবো|স্বাধীনতার যুদ্ধ চলা কালীন একটি বিশেষ পর্যায়,ব্রিটিশ উপনিবেশ গুলোতেও স্বাধীনতার দাবি জোরালো হচ্ছিল। বুদ্ধিমান নেতাজী বুঝেছিলেন এটাই সুযোগ ব্রিটিশকে কোণঠাসা করার এবং শুধু ঘর থেকে নয়, ঘরের বাইরে থেকেও আক্রমণ শানানো উচিত। আর তার জন্য যদি জার্মানির সামান্য সাহায্যও পাওয়া যায়, তাহলে সোনায় সোহাগা|নেতাজী ঠিক করেছিলেন দেখা করতেই হবে জার্মান রাষ্ট্র নায়ক হিটলারের সাথে|যেমন ভাবা তেমন কাজ, রাতের অন্ধকারে ব্রিটিশদের সামনে দিয়ে পালিয়ে আসা, আফগানিস্তান থেকে রাশিয়া এবং সেখান থেকে জার্মানি। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’— এই প্রবাদ বহু আগে থেকেই আমরা শুনে এসেছি। নেতাজি সেটাকে বাস্তবে প্রয়োগ করলেন|অবশেষে বহু চেষ্টার পর এলো সেই সুবর্ণ সুযোগ, বার্লিনে বার্লিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলা কালীন দেখা হলো দুই বিতর্কিত রাষ্ট্র নায়কের, বহু কথাই শোনা যায় এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ঘিরে|কথিত আছে হিটলার সামনে এলেও নেতাজী সুভাষ জায়গা ছেড়ে উঠলেন না। কেন? সটান জবাব, ইনি হিটলার নন ! বহুরূপী। আরও একজন এলেন, এবং এবারও একই ঘটনা। সুভাষ উঠলেন না। তারপর হঠাৎই একটা হাত সুভাষের কাঁধে নেমে এল। এবার উঠে দাঁড়ালেন তিনি, বাড়িয়ে দিলেন হাত। হ্যাঁ, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আসল অ্যাডলফ হিটলার।হিটলারের এরকম বেশ অনেক বহুরূপী রয়েছে, সেটা নেতাজী জানতেন এবং এও জানতেন যে তাঁর পিঠে হাত রাখার মতো সাহস একমাত্র আসল হিটলারের আছে, আর কারোর নেই। ঐতিহাসিক এই সাক্ষাৎ ঘিরে কিঞ্চিৎ বিতর্ক থাকতেই পারে কিন্তু নেতাজীর দেশপ্রেম প্রশ্নতীত ও সব বিতর্কের উর্ধে|সারাজীবন সুভাষের মাথায় একটাই চিন্তা ছিলো স্বাধীনতা। ভারতের স্বাধীনতা যার জন্য তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে লড়ে গেছেন |আজ স্বাধীন ভারতের জনগণের কাছে তাই তিনিই শ্রেষ্ট বীর, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ট সন্তান|জন্মদিনে নেতাজীকে জানাই আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি|জয় হিন্দ|

মন্দির রহস্য – যমেশ্বর শিব মন্দির

বহুদিন পর আজ আবার একটি প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা বলবো যা অবস্থিত আমাদের পার্শবর্তী রাজ্য উড়িষ্যায়|মন্দিরের নাম যমেশ্বর শিব মন্দির|কেনো এই অদ্ভুত নাম সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি আগে মন্দিরের স্থাপত্য ও নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে কিছু কথা বলে নিই|আনুমানিক আজ থেকে প্রায় ৭০০-৬০০ বছর পূর্বে মন্দির টি নির্মিত হয়েছিলো এবং নির্মাণ করেছিলেন সেই সময়ের পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের রাজারা|সুপ্রাচীন যমেশ্বর মন্দিরটিতে প্রাচীন দেউল স্থাপত্য লক্ষ্য করা যায়।সম্পূর্ণ মন্দিরটি বেলে পাথরে নির্মিত|যদিও কালের নিয়মে মন্দিরের অনেক অংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবুও প্রাচীন এই শিব মন্দির আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সমহিমায়|কথিত আছে কথিত আছে এই মন্দিরে যমের দ্বারা শিবের পূজা হয়ে থাকেন তাই মন্দিরের নাম যমেশ্বর শিব মন্দির|আপাতত এই শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি আগামী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|যারা জ্যোতিষ বিষয়ে কথা বলতে অনলাইন বা চেম্বারে দেখা করতে চান অনুগ্রহ করে কমেন্ট বা ইনবক্সে ম্যাসেজ না করে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – গণেশদেবের পুজো কেনো সবার আগে হয়! 

সনাতন ধর্মে ভগবান একজনই তিনি স্বয়ং বিষ্ণু তবে দেবতা অনেক আবার এই দেবতাদের মধ্যে সর্ব প্রথম গণেশের পুজোর রীতি প্রচলিত রয়েছে সেই পুরাকাল থেকে, তার পুজোর পর হয় অন্য সব পুজো|কিন্তু কেনো? আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে সেই কথাই বলবো এবং জানাবো এক পৌরাণিক ঘটনা যেখান থেকে এই রীতির সূত্রপাত|দেবলোকে কোন দেবতা শ্রেষ্ট এবং কার পূজা প্রথম হয়ে দরকার এই বিতর্ক ছিলো বহু প্রাচীন এবং কিছুতেই নিষ্পত্তি হচ্ছিল না, শেষে ঠিক হল, যে দেবতা ত্রিলোক পরিক্রমা করে এই স্থানে প্রথমে পৌঁছবেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর পুজো প্রথম করা হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ|শুরু হলো প্রতিযোগিতা, অংশ নিলেন সব দেবতারা|ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দেবতাগণ নিজ নিজ বাহনে চড়ে ত্রিলোক পরিক্রমা করতে চলে গেলেন।কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ সেই পথে গেলেননা তিনি তার পিতা মাতা অর্থাৎ শিব ও পার্বতীকে পরিক্রমা করলেন কারন পিতা মাতা তার সন্তানের জন্য ত্রিভুবন সমতুল্য|ত্রিলোকের সকল সুখ সম্পদ মাতা-পিতার চরণে বিরাজমান। মাতা-পিতার চরণের সেবাই সর্বোত্তম। যুক্তিতে জিতে গেলেন গণেশ, সব দেবতারা উপায় না দেখে গণেশদেবের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন|সেই থেকে শুরু হয় সবার প্রথমে গণেশ দেবের পুজোর প্রচলন|আজও চলছে সেই রীতি|ফিরে আসবো পুরান রহস্য নিয়ে আগামী পর্বে, সঙ্গে থাকুন, পড়তে থাকুন এবং যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা

আজ মকর সংক্রান্তি এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। হালে পিঠে থেকে পায়েস সবই সহজলভ্য নির্দিষ্ট দোকানে। তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়, পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়।শাস্ত্রের কথা বলতে গেলে মহাভারত দিয়ে শুরু করতে হয়, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন। আবার পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে।আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয় কারন শনিদেব সূর্যের পুত্র|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি টি জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম, মানুষের জীবনকে নানা ভাবে সরাসরি প্রভাবিত করে এই গ্রহের সঞ্চার| মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করেন, যাতে সমস্ত রকম ‘অপরিশুদ্ধতা’ দূর হয়। প্রায় নিত্যদিনই দর্শন আর রূপ পাল্টে যাচ্ছে এই পৃথিবীর। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার-পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। সংক্রান্তির আগেই গ্রামে গ্রামে ঢেকিতে, গানের মধ্যে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়। আশঙ্কা জাগে, আধুনিকতার প্রসারে পৌষ সংক্রান্তিও না কোনও একদিন কাহিনি হয়ে বেঁচে থাকে ইতিহাসের পাতায়|আপনাদের সবাইকে মকর সংক্রান্তির অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|