ভারতের সাধক – কালী সাধক কমলাকান্ত

634

ভারতের সাধকদের নিয়ে লেখা মানে এক গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়া,কারন আমাদের দেশ আধ্যাত্বিক চর্চার পুন্য ভূমি, বহু মহান সাধক জন্মেছেন এই দেশে, কাকে রাখবো তালিকায় আর কাকে বাদ দেবো! তবে শুরু যখন করেছি এগিয়ে তো নিয়ে যেতে হবে,আজ লিখবো বাংলার এক মহান কালী সাধক কমলাকান্তের অলৌকিক জীবনের কথা|

এই লেখার জন্যে আজকের দিনটাই কেনো বেছে নিলাম তার ও একটি বিশেষ কারন আছে, আজ আমার জীবনের একটি বিশেষ দিন এবং আজ আমি ঘটনাচক্রে সাধক কমলাকান্তের সাধন ভূমি ও তার মন্দিরেই উপস্থিত|তাই ভাবলাম এটাই শ্রেষ্ঠ সময় এই মহান সাধক ও অলৌকিক জীবনের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্যে|

সাধক কমলাকান্তের সাধন ক্ষেত্র ছিলো বর্ধমান, তার নানান অলৌকিক কর্মকান্ড ও সাধনার সাথে জড়িয়ে আছে বর্ধমান রাজপরিবার ও তার সমসাময়িক রাজা তেজচাঁদের নাম|

কমলাকান্ত ছিলেন তন্ত্র সাধক তবে গান ছিলো তার সাধনার অন্যতম মাধ্যম, শ্যামা সংগীত ও তন্ত্র সাধনা এই দুই ছিলো কমলাকান্তের জীবনের প্রধান অঙ্গ|মহারাজ তেজ চাঁদ কমলাকান্তের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সভা পণ্ডিত করে বর্ধমান রাজবাড়িতে নিয়ে যান|পরবর্তীতে তেজ চাঁদ কমলাকান্তের তন্ত্রসাধনার কথা জানতে পারেন এবং রাজার উদ্যোগেই কমলাকান্তের সাধনার জন্য তৈরি হয় এই কালী মন্দির।

বাঁকা নদীর ধারে অবস্থিত পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে তন্ত্র সাধনা করতেন সাধক কবি কমলাকান্ত আর গান গাইতেন প্রান খুলে|

কথিত আছে একবার অমাবস্যার রাতে রাজা তেজচাঁদকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত|সাধকের অলৌকিক ক্ষমতার কথা জেনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলেন রাজা|

লোক মুখে শোনাযায় একবার মা কালীর মূর্তির প্রাণ রয়েছে দাবি করেছিলেন কমলাকান্ত|রাজা এই দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলে প্রতিমার পায়ে বেল কাঁটা ফুটিয়ে দেন কমলাকান্ত|রাজা দেখেন সেই ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছে|এমনই ছিলো সাধক কমলাকান্তের অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব|

কমলাকান্তের জীবনে ঘটে যাওয়া আরো অনেক অলৌকিক ঘটনার কথা জানা যায়, যার মধ্যে একটি কাহিনী বেশ জনপ্রিয়, শোনা যায় একবার
একদিন রাজা জানতে পারেন কাজকর্ম ভুলে সর্বক্ষণ মদ্যপান করছেন কমলাকান্ত। রাজা সেখানে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করলে কমলাকান্ত কমণ্ডলু থেকে রাজার হাতে ঢেলে দেন সুরা|অবাক হয়ে রাজা দেখলেন এতো সুরা নয়, খাঁটি দুধ| কমলাকান্তের অলৌকিক ক্ষমতায় সুরা পরিণত হয়ে ছিলো দুধে|

এই মহান সাধকের মৃত্যুর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে অলৌকিক ঘটনা|দেহত্যাগের সময় কমলাকান্তকে গঙ্গায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন রাজা। কমলাকান্ত যেতে চাননি। তারপরই দেখা যায় মাটি ভেদ করে উঠে জলের ধারা পড়ছে কমলাকান্তের মুখে|সেই স্থান বাঁধিয়ে কুয়ো তৈরি করা হয়|সেই অলৌকিক জলাধার আজও আছে|সেই কুয়োর জল আজও গঙ্গাজল হিসেবে কাজে লাগানো হয় এবং সেই জল ব্যবহার করা হয় পুজো, ভোগ রান্নার কাজে|

সাধক কমলাকান্তকে মৃত্যুর পর মন্দিরে সমাধিস্থ করা হয় এবং তাঁর সমাধির ওপরই রয়েছে মায়ের বেদি যেখানে প্রতিষ্ঠিত কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমা|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পূজার পাশাপাশি দীপান্বিতা কালীপুজোয় তিনদিন ধরে উৎসব চলে এখানে যা দেখতে আসেন দূরদূরান্তের মানুষ|আমি এলাম, দর্শন করলাম ও মুগ্ধ হলাম আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, আশা করি ভালো লাগলো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন আর যেকোনো জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত কাজের জন্যে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|