তন্ত্র রহস্য – প্রাচীন শাস্ত্র ও তন্ত্র

172

তন্ত্র পক্রিয়া, তন্ত্রের গুরুত্ব এবং মন্ত্র বহু প্রাচীন শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ, তবে এই তন্ত্র বিদ্যার সাথে শাস্ত্রের সম্পর্ক আসলে বেদ নির্ভর কারন তন্ত্র মূলত বেদের শেষাংস থেকে সৃষ্টি যাকে আগম বলে|তাই তন্ত্র শাস্ত্রের আরেক নাম আগম শাস্ত্র|এই কারনেই অনেক তান্ত্রিক নিজেকে আগমবাগীশ হিসেবেও পরিচয় দেন, এর অর্থ তন্ত্র শাস্ত্রে পারদর্শী|শাস্ত্র অনুসারে তন্ত্রের ব্যাখ্যা করতে হলে সহজ করে সংক্ষেপে বলা যায় তন্ত্রের দৃষ্টিতেশরীর প্রধান নিমিত্ত, তন বা তনু থেকে তন্ত্র শাস্ত্রের উৎপত্তি শরীর ছাড়া চেতনার উচ্চস্তরে পৌঁছানো যায় না। এজন্য তন্ত্রের গূঢ়ার্থ নিজ ‘তন’ বা দেহের মাধ্যমে আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন ও নিজ দেহে লুকিয়ে থাকা বা সুপ্ত অবস্থায় থাকা কুন্ডলিনি শক্তির পূর্ণ জাগরণ|এই অসাধ্য সাধন করতে পারলেই জগতের বহু শক্তি সাধকের নিয়ন্ত্রণে আসে|বাইরে থেকে এই শক্তির প্রয়োগজাদু বিদ্যার মত মনে হলেও তা আসলে শাস্ত্র নির্ভর এবং হাজার হাজার বছরের গবেষণার ফসল|শাস্ত্রে তন্ত্রের উল্লেখ সম্পর্কে বলতে গেলে বেদ পূরণের পাশাপাশি বলতে হয় আরো একটি বইয়ের কথা, তন্ত্রশাস্ত্রে সুপন্ডি তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ ১৭০টি তন্ত্র সাধনার গ্রন্থ থেকে নির্যাস গ্রহণ করে বিখ্যাত “তন্ত্রসার” গ্রন্থটি রচনা করেন, এই বই আজ সমগ্র দেশে সমাদৃত হয়।শুধু ভারতীয় বা হিন্দুদের মধ্যে নয় জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম কেও প্রভাবিত করেছিলো তন্ত্রবিদ্যা|তিব্বতী বৌদ্ধ তন্ত্রে একসময় বিশাল উচ্চতায় আরোহন করে ছিলো|মধ্যযুগীয় ভারতের মহাসিদ্ধদের দ্বারা উদ্ভাবিত বজ্রযান মতবাদটি বৌদ্ধ তন্ত্র নামে পরিচিত সাহিত্যের সাথে মিশে গেছে|এই সংক্রান্ত বহু প্রাচীন পুঁথি ও গ্রন্থ আজও সংরক্ষিত আছে বিশ্বের নানা প্রান্তে যা তন্ত্র শাস্ত্রের মনি মুক্ত রূপে প্রশংসিত হয়|ব্যাবহারিক ভাবে তন্ত্র মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে সঠিক দিশায় এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিকার রূপে সাফল্যর সাথে যুগ যুগ ধরে তা প্রমানিত|তন্ত্র মতে যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ