Home Blog Page 123

শিব ভূমি – এক্তেশ্বর শিব মন্দির

আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির নিয়ে লিখবো|এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী ও অলৌকিক ঘটনা|প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|এক্তেশ্বরে পাথরের শিব মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটি পশ্চিমমুখী|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি নাকি দেখতে অনেকটা মানুষের পায়ের মতো এবং শিব লিঙ্গটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া নামের উৎপত্তি|শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|আজও ফাল্গুন মাসে, শিব চতুর্দশী তিথিতে এক্তেশ্বর মন্দিরে শিবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|আবার আগামী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিবভূমি – জটেশ্বর শিব মন্দির

বাংলার বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিবমন্দির নিয়ে ইতিমধ্যে বলেছি,সেই পরম্পরা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো আজকের পর্বে, আজ উত্তর বঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত জটেশ্বর শিব মন্দির|এই শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক প্রায় দুশো বছর, এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার মন্দিরের সংস্কার হয়েছে তবে জটেশ্বর শিব কে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও ভক্তি রয়েছে একই রকম, অনেক রহস্যময় ঘটনা ও অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে এই মন্দির নিয়ে, মন্দিরের স্থাপনা নিয়েও রয়েছে একটি জনশ্রুতি|শোনা যায়, একবার মন্দির সংলগ্ন কাঠালবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন জঙ্গলের ভিতর একটি দুগ্ধবতী গাভীর বাঁট থেকে অনবরত দুধ পড়ে যাচ্ছে, কৌতুহলী গ্রামবাসী খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন , তারা সামনে গিয়ে দেখতে পান মাটি ভেদ করে একটি পাথর উঠে আছে, এবং সেই পাথরেই গাভীর দুধ অনবরত পড়ে চলেছে|লোক মুখে এই অলৌকিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র|পরবর্তীতে জমিদারের আদেশে লোক জন গিয়ে শিব লিঙ্গ টি বহন করে জমিদার বাড়িতে আনার সময় পথে এক স্থানে তা নামিয়ে রাখলেন বিশ্রামের জন্যে, অলৌকিক ভাবে পরে সেই স্থান থেকে শিব লিঙ্গকে ওঠানো আর সম্ভব হয়নি, এমনকি জমিদারের হাতিও ওই স্থান থেকে শিব লিঙ্গ এক চুল নাড়াতে পারেনি, ঐখানেই ছোট মন্দির বানিয়ে পুজো শুরু হয়|এর পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়|একদিন হঠাত্‍ করে এক উলঙ্গ সাধুর আবির্ভাব ঘটলো, ওই স্থানে তাকে সবাই ‘ কাথেয়া বাবা’ বলে ডাকতো, উনি দীর্ঘদিন পুজো দিয়েছিলন তারপর একদিন তিনিও কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেলেন|এরপর একদিন মিথিলা থেকে এক পুরোহিত এলেন, তিনি এসে স্থানীয়দের জানালেন তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন এখানে আসার জন্য এবং এই স্থানে তিনি এসে দেখেন স্বপ্নে যা যা দেখেছেন সব একশো শতাংশ সত্যি, তিনি লোকেদের সাথে কথা বলে নিয়মিত পুজোর ব্যাবস্থা করেন তৈরি হয় মন্দির|জটেশ্বর মহাদেব নামে এখানে পূজিত হন শিব|আবার পরের পর্বে বলবো অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা|দেখতে থাকুন|

আন্তর্জাতিক বিশ্ব জ্যোতিষ দিবসের শুভেচ্ছা

আজ আন্তর্জাতিক বিশ্ব জ্যোতিষ দিবস,আজ এই মহান পেশা কে উদযাপন করার দিন, আজ রাশি চক্রের সূচনা উপলক্ষে সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক জ্যোতিষ দিবস|হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে রয়েছে জ্যোতিষ শাস্ত্র, প্রাচীন মায়া সভ্যতা থেকে ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি, সর্বত্র মানুষের সাথে থেকে তার সব প্রশ্নর উত্তর দিয়ে ভবিষ্যতকে সহজ করেছে জ্যোতিষ শাস্ত্র, গণনা পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিছু বেসিক রীতি নীতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সব দেশে, সব সময়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রের মূল আদর্শ একই তা হলো মানব জীবনে গ্রহ নক্ষত্রর প্রভাব নির্ণয় ও সঠিক পথনির্দেশ|তাই এই পেশা মহান এবং যুগউপযোগী|ঐতিহ্য, প্রাচীনত্ব এবং গণনা শৈলীর দিক থেকে ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অত্যন্ত উন্নত এবং বিজ্ঞান সম্মত|ইদানিং কালে জ্যোতিষ শাস্ত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছেন, অনলাইন পরিষেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভার্চুয়াল কনফারেন্স,আরো অনেককিছু, এক কথায় প্রযুক্তি আগের থেকে বেশি ব্যবহিত হচ্ছে ব্যাবহারিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে, হচ্ছে আধুনিকীকরণ, এর সুফল পাচ্ছেন জ্যোতিষী এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ|তবে আধ্যাত্মিকতার সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের সম্পর্ক দিন দিন আরো দৃঢ় হচ্ছে|ভারত বর্ষের যত মহান ঋষি বা শাস্ত্রজ্ঞ জ্যোতিষ নিয়ে কাজ করেছেন এবং নিজেদের গবেষণাদিয়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা কেউই জ্যোতিষ শাস্ত্র থেকে এই আধ্যাত্মিকতা কে আলাদা করে দেখেন নি|ভৃগু থেকে পরাশর, বরাহ মিহির থেকে খনা কিংবা আধুনিক সময়ের বেজান দারুওয়ালা, এরা কেউ ব্যতিক্রম নন আর অভিজ্ঞতা ও অধ্যাবসায়ের এখনো কোনো বিকল্প নেই|নিজের দীর্ঘ জ্যোতিষ জীবনে অসংখ্য মানুষের সমস্যা শুনেছি এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে তার সমাধান করেছি|আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনেও এই কর্মকান্ড চলতে থাকবে|বিশ্বাস রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে, আস্থা রাখুন নিখুঁত ভাগ্যবিচার ও সঠিক প্রতিকারে, আমার সকল শুভাকাঙ্খী ও সব জ্যোতিষ প্রেমীদের জানাই আন্তর্জাতিক জ্যোতিষ দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – ঝাড়েস্বর শিব মন্দির

শিবভূমি শীর্ষক এই ধারাবাহিক লেখনী তে আগেও বেশ কয়েকটি পর্বে বাংলার প্রাচীন ও জনপ্রিয় শিব মন্দির গুলি কথা বলেছি |মেদিনীপুরে কানাশোলে রয়েছে এমনই এক প্রাচীন শিবমন্দির যা ঝাড়েশ্বর শিব মন্দির নামে খ্যাত| কানাশোলের এই ঝাড়েশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন|সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি আগে থেকে এখানে ঝাড়েশ্বর মহাদেবের পুজোর প্রচলন রয়েছে|১২৪১ বঙ্গাব্দে নাড়াজোলের রাজা অযোধ্যা রাম খানের দেওয়ান রামনারায়ণ জানা এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। কঠিন অসুখ থেকে সেরে ওঠার পরেই তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মহাদেব এখানে ঝাড়েশ্বর রূপে পূজিত হন|শোনো যায় একটি দীঘি খননের সময়ে এখানে এই শিব লিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়|কিংবদন্তী অনুসারে একটি গাভী গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে এই শিব লিঙ্গকে নিজের দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে যেতো| রাজ্যের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই মন্দির একদিকে স্থাপত্য শৈলীর অনুপম নিদর্শন, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। এখানে রয়েছে মহাকাল ভৈরবের থান, নাটমন্দির, ভোগমন্দির|শোনা যায় ঝাড়েশ্বর মহাদেব খুব দয়ালু বহু ভক্ত তার কাছে মনস্কামনা করে ফল পেয়েছেন| শিব রাত্রি ও শ্রাবন মাসে বিশেষ তিথি গুলিতে এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়|দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন ঝাড়েশ্বর মহাদেবের দর্শন করতে ও তার কৃপা লাভ করতে| আজকের শিব ভূমি পর্ব এখানেই শেষ করছি|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো দেখতে থাকুন|

দোল যাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

আজ পবিত্র দোল পূর্ণিমা|শাস্ত্র মতে বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন। কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে। অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর তার রক্ত ছিটিয়ে সকলে আনন্দ করে। এই অশুভ শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহানন্দে পরিণত হয়।আবার দৈত্যরাজ হিরণ্যকিশপুর কাহিনি আমরা সকলে জানি। ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক ছিলেন। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে প্রহ্লাদের কোনো ক্ষতি হয় না কিন্তু হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদের এই অক্ষতের আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়। এই দহনকে হোলিকা দহন বলা হয়।দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৭ম শতাব্দীর এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়।হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্মাবলী’তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে। এমনকি আল বেরুনীর বিবরণে জানা যায় মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে হিন্দু ছাড়াও অন্য বহু ধর্মের মানুষ ও হোলিকোৎসবে সংযুক্ত হত। মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব।শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন থেকে দোল কথার উদ্ভব। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। বাংলা অঞ্চলে বৈষ্ণব প্রাধান্য রীতি প্রচলিত। রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে। শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ হয়। পরের দিন রঙ খেলা। বাংলাতেও কোথাও কোথাও দোলের আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম, একে আমরা কোথাও বলী ন্যাড়া পোড়া আবার কোথাও বলা হয় ‘চাঁচর’।আবার বাঙালি তথা হিন্দু সমাজের অন্যতম মহাপুরুষ শ্রীচৈতন্যের জন্মতিথি হচ্ছে এই পূর্ণিমা তিথি তথা হোলি তিথি। এই মহান পুরুষের জন্ম উৎসবের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ ও পরবর্তীতে ইস্কন এই দোল উৎসবকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করেছে|আজ প্রায় সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় দোল এবং হোলি|রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায় হোলির রঙ আমাদের মর্মে লাগুক- ওরে গৃহবাসী খোল, দ্বার খোল, লাগলো যে দোল স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল । দ্বার খোল, দ্বার খোল|আপনাদের সবাইকে আমার তরফ থেকে দোল যাত্রার অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – নব কৈলাশ বা 108 শিব মন্দির

চলছে চৈত্র মাস সারা চৈত্র মাস জুড়ে বিশেষ বিশেষ কিছু শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা করবো , আজ আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি সেই আলোচনা , আজ নব কৈলাশ বা একশ আট শিব মন্দির|সারা ভারতে ১০৮ শিবমন্দির মাত্র দু’টি জায়গায় আছে। এবং এই দু’টি জায়গাই বাংলায়, পূর্ব বর্ধমানে। প্রথমটি বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে নবাবহাটে এবং দ্বিতীয়টি কালনাতে|সারা দেশে ১০৮ শিবমন্দির রূপে প্রচারিত হলেও কালনার এই মন্দিরের প্রকৃত নাম ‘নবকৈলাস মন্দির’,বর্ধমানরাজ তেজচন্দ্র ১৮০৯ সালে কালনার এই মন্দিরটি নির্মাণ করান যেখানে সাদা ও কালো শিব লিঙ্গের বৈচিত্রপূর্ণ সমাহার লক্ষ্য করা যায়, মনে করা হয় সাদা রং ত্যাগের প্রতীক এবং কালো ভোগের প্রতীক|কালনা রাজবাড়ি চত্বরের দক্ষিণ দিকে এই ১০৮ শিবমন্দির দু’টি বৃত্তকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মোট ৭১টি সাদা ও ৩৭টি কালো শিবলিঙ্গ নিয়ে এই মন্দির অবস্থান করছে, ভিতরের বৃত্তের মাঝখানে রয়েছে একটি বিরাট কূপ, অনেকেই মনে করেন মন্দিরের পুজোর কাজে জলের চাহিদা মেটানোর জন্যই এই কূপ খনন করা হয়, আবার অন্য মতে এই বৃহৎ কূপটি শূন্য তথা নিরাকার ব্রহ্মস্বরূপ পরম শিবের প্রতীক|দেশ বিদেশের বহু তীর্থযাত্রী প্রায় সারা বছরই আসেন এই অপূর্ব শিব মন্দির দর্শন করতে,প্রতি বছর নীল ষষ্ঠী ও মহা শিব রাত্রি উপলক্ষে এখানে ভিড় হয় মানুষের, আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন|চলবে শিব ভূমি আগামী পর্বে অন্য কোনো শিব মন্দির,নিয়ে লিখবো হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – বড়ো কাছারি শিব মন্দির

চৈত্র মাস শিবের মাস |আসন্ন নীল ষষ্ঠী ও আসলে শিব পুজো তাই আজ থেকে শুরু করছি বাংলার কিছু বিখ্যাত শৈব তীর্থ নিয়ে আলোচনা|আজ প্রথমেই বড়ো কাছারি শিব মন্দির|দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এক প্রাচীন শিব মন্দির বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত|এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে|কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে,জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে, সুতরাং তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না|সময় সুযোগ হলে একদিন ঘুরে আসুন এই বিখ্যাত শিব মন্দির থেকে|আজ শুরু করলাম বড়ো কাছারি দিয়ে এবং চৈত্র মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব ভূমি নিয়ে ধারাবাহিক লেখা লেখি |দেখতে থাকুন|

কালী তীর্থ – বারাসাতের ডাকাত কালী

আজ আমার শহর বারাসাতের বিখ্যাত ডাকাত কালী মন্দিরের কথা লিখবো|এই শহরকেই কেন্দ্র করেই আছে বহু পুরনো স্থাপত্য। তেমনই এক পুরনো স্থাপত্য ডাকাত কালিবাড়ি যা তার জরাজীর্ণ দেহ আর রোমহর্ষক স্মৃতি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে। বারাসাত চাঁপাডালি থেকে কাজীপাড়া পেরিয়ে নদীভাগ হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে পড়ে এই ডাকাত কালিবাড়ি।কথিত আছে সময়ের ভারে জরাজীর্ণ, ভগ্নপ্রায় মন্দিরটি প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ বছরের পুরোনো। রঘু ডাকাতের আরাধ্যা এই মন্দিরে বর্তমানে মুর্তির কোনো অস্তিত্ব নেই। মন্দির গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা বট গাছকেই পুজো করেন ভক্তরা।এই জাগ্রত কালিবাড়িকে ঘিরে আছে বহু জনশ্রুতি ও মানুষের ব্যাক্তিগত অভিমত। একসময় ঘন জঞ্জলে ঘেরা ছিল গোটা এলাকা। আর সেই সময় ডাকাতদের বিচরণক্ষেত্র ছিল এই অঞ্চল। রঘু ঘোষ ওরফে রঘু ডাকাত ও তার ভাই বিধূ ভূষণ ঘোষ ওরফে বিধূ ডাকাত দুজনই ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এই মন্দিরে মায়ের আরাধনা করত। আরাধনায় কোনো ত্রুটি ছিল না তাদের। লোকমুখে শোনা যায় এক সময় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়ায় রাগে-ক্ষোভে মুর্তিটি তরোয়াল দিয়ে ভেঙে ফেলে রঘু ডাকাত। পরবর্তীতে এই ভগ্ন মুর্তিকেই পুজো করত সে। স্বাধীনতার পরও এখানে বাসুদেবের একটি মুর্তি ছিল। যদিও পরে এটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখানে আর মুর্তি স্থাপনের সাহস দেখায়নি কেউ।স্থানীয়দের থেকে জানা যায় এই মন্দিরে নাকি ঘটেছে নানান অলৌকিক ঘটনা তাছাড়াও স্বচক্ষে মাতৃদর্শনের সুযোগ হয়েছে নাকি অনেকের। একসময় এখানে অষ্টধাতুর প্রতিমাকে কালিরূপে পুজো করত রঘুডাকাত। ডাকাতি করার আগে নরবলি দিয়ে পাশের পুকুরে ভাসিয়ে দিত সে। এইভাবেই সে নরবলির মাধ্যমে মাকে প্রসন্ন করত। আজও মন্দিরের পাশে রয়েছে সেই পুকুরটি। মন্দিরের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে গাছের শিকড়ে দেখা যায় একটি হাতের ছাপের মত অবয়ব। গাছের যে অংশকে কালী রূপে পুজো করা হয় সেটিও মানব দেহের নিম্নাংশের মত দেখতে|প্রতি অমাবস্যা ও মঙ্গলবারে হোমযজ্ঞের মাধ্যমে মাকে স্বরণ করেন ভক্তরা। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে তাদের মনস্কামনা পূরণের জন্য। ভক্তদের কথায় মা নাকি তার সন্তানদের কখনো খালি হাতে ফেরান না। স্থানীয়রা আজও এই বহু প্রাচীন মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ করেন। মুর্তিহীন এই মন্দিরটির পুজো সমান তালে চলেছে৷ তাদের কথায় ভক্তিতেই আছে ভগবান। আর মাকে প্রসন্ন করতে মন প্রাণ দিয়ে আজও উদ্যত তাঁরা।চলতে থাকবে বিশেষ এই ধারাবাহিক লেখালেখি, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী তীর্থ – প্রল্হাদ ডাকাতের বামা কালী

আজ কালী ক্ষেত্রতে লিখবো ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদের প্রতিষ্ঠিত কালী বামার কথা| পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পাণ্ডুক গ্রামের ডাকাত দলের প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৩৫৩ বছরের পুরোনো বামা কালী বেশ বিখ্যাত ।পাণ্ডুক গ্রামের মেটে পরিবারের পূর্ব পুরুষেরা বর্ধমানের বিখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা সালারের কাছে কেতুগ্রাম থানার মেটলি গ্রামের ‘রামসীতা’ মন্দিরের স্বর্ণ অলঙ্কার ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন। পথে বীরভূমের মুলুকের কাছে অপরূপা নারী মূর্তি দেখে ডাকাতরা চমকে ওঠেন। কিন্তু ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ মেটের নির্দেশ ছিল, ডাকাতির পথে মেয়ে মানুষ আর শিশুর গায়ে হাত তোলা যাবে না শোনা যায় একবার সে নীতি লঙ্ঘন করায় এক সদস্যকে সর্দার প্রহ্লাদ এক কোপে দু’টুকরো করে দেন। সেই অপরিচিতা নারীর কাছে জানতে চান, ‘এই রাত্রিকালে আপনি কে মা?’ তখন সেই নারী জানান, আমি কালী বামা।ডাকাতি করতে যাওয়ার পথে দলটি দেখে মা মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী মূর্তি ধরে জানান, আমাকে এখান থেকে নিয়ে না গেলে তোদের সর্বনাশ হবে। সেই মতো মায়ের এই বিশাল মূর্তিকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে অসুবিধার কথা বলেন ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ। সেই সঙ্গে বলেন, আজকে রাতে ডাকাতিতে সাফল্য পেলে তবেই মা তোকে নিয়ে যাব। কথিত আছে, মায়ের আর্শীবাদে সাফল্যও পায় ডাকাত দলটি। তাই ডাকাতি করে ফেরার পথে বামা মায়ের ছোট শিলা মূর্তিকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ডাকাত দলটি। পাণ্ডুক গ্রাম ঢোকার পথে মায়ের নির্দেশ মতো তির ছোড়েন এবং সেই তির এসে পাণ্ডুক গ্রামের মাঝখানে পড়ে। সেখানেই মা বামাকে স্থাপন করেন সাধক ডাকাত প্রহ্লাদ। কার্তিক মাসে আমাবস্যার গভীর রাতে, ঢাক ঢোল বাজিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা মায়ের ঘট এনে পুজো করতেন। পুজো হয়ে গেলে পর দিন রাতে কাঁধে তুলে মাকে রসফাল্লা পুকুরে বিসর্জন করা হয় ।তারপরই ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ-সহ সকলে কাঁদতে থাকেন মায়ের টানে। তাই মা বামার নির্দেশে পরবর্তীতে বারমাস পুজোর জন্য আর একটি মূর্তি গড়ে ডাকাত দলটি। সেখানে পুজো দিয়েই ডাকাতিতে বের হতেন তাঁরা। বর্তমানে দেবীর বিশাল মন্দির তৈরি হয়েছে। যা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। তবে পুরোনো রীতি মেনে এখনও ডাকাত পরিবারের সদস্যরা বামা কালীর পুজোতে কোনও না কোনও জিনিস চুরি করে আনেন|এখানে মায়ের বাঁ পা-টি এগিয়ে থাকে। কার্তিক মাসের আমাবস্যায় ২২ ফুট উচ্চতার মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি করে পুজো হয়।বাংলার ডাকাত কালী গুলির মধ্যে অন্যতম এই প্রহ্লাদ ডাকাতের বামা কালী|চলতে থাকবে কালী ক্ষেত্র|দেখতে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী তীর্থ – বেনে পাড়ার কালী

আজকের কালী তীর্থ পর্বে লিখবো আড়বেলিয়া বেনে পাড়ায় অবস্থিত পাঁচশো বছরের বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা|আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে বসিরহাট মজুমদার বাড়িতে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। কথিত আছ যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্বের শেষদিকে যখন রাজ‍্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা। সেই সময় রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ‍্যের দেওয়ান ছিল আড়বেলিয়ার এই মজুমদার পরিবারের পূর্বশূরী এক বংশধর। রাজা প্রতাপাদিত্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যশোরের বিখ্যাত য কালী মন্দির যা যশোরেশরী নামে খ‍্যাত|এই যশোরেশ্বরী কালীমাতা দ্বারা মজুমদার পরিবারের ওই পুরুষ স্বপ্নে আদেশ পান, “আমাকে এখান থেকে তুই নিয়ে চল, এখানে আমি থাকতে পারছিনা।” দেবীর নির্দেশ মতো তিনি মন্দিরের দেবী ঘট ও মায়ের হাতের খাঁড়া নিয়ে যশোহর ত‍্যাগ করেন।বেনে পাড়ায় একটি খড়ের চালা ঘরে দেবীর ঘট স্থাপন করে পুরোহিতকে দিয়ে পুজো শুরু করেন। দেবী স্বপ্নাদেশ দেন মন্দিরে যেন কোনও বিগ্রহ বা প্রতিমা স্থাপন না করা হয়। সেই থেকে আজ অবধি বিনা বিগ্রহে কেবলমাত্র ঘটে এই মন্দিরে কালীমাতার পূজা অর্চনা চলে আসছে।বর্তমানে মন্দিরে একটি বেদীর উপর কাঠের বড়ো সিংহাসন ও রুপার খাটে দেবীর তামার ঘট প্রতিষ্ঠিত আছে। মজুমদার পরিবারের সদস্যরা জানান, এই মজুমদার পরিবারে ভিটায় প্রতিমা সহযোগে কোনওরকম পূজা অর্চনা করা নিষেধ। এমনকি কোনরকম দেবদেবীর ক‍্যালেন্ডার এই পরিবারের ঘরে টানানো যাবেনা। এই বিধান সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।প্রতি বছর কার্তিক মাসে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে মন্দিরে পূজা হয়। পাশাপাশি আড়বেলিয়া গ্রামে কোন কালীপূজা করতে হলে প্রথমে এই বেনে পাড়ার কালী মন্দিরে পূজা উৎসর্গ করে তবেই কালীপূজা করতে হয়|আবার ফিরে আসবো কালী তীর্থ নিয়ে যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|