Home Blog Page 162

হনুমানজির পঞ্চমুখী রূপের ব্যাখ্যা

কিছুদিন আগেই আমরা হনুমান জয়ন্তী পালন করলাম, হনুমান সংক্রান্ত অনেক পৌরাণিক ঘটনাআমি ইতিমধ্যে বলেছি, আজ এই বিশেষ পর্বে জানাবো হনুমানজির পঞ্চমুখী রূপের ব্যাখ্যা ও এই রূপ ধারণের কারন|

কেনো বজরংবলী কে পঞ্চ মুখী রূপে অবতীর্ন হতে হয়েছিলো তার উত্তর রামায়নেই রয়েছে, রামায়ণ অনুসারে, প্রভু শ্রীরাম এবং রাবণের যুদ্ধ চলাকালীন পরাজয় এড়াতে রাবণ তাঁর ভাই অহিরওয়ানের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, ওহিরাবন ছিলেন পাতালের রাজা। রাবণের ভাই অহিরওয়ান তার মায়ার মধ্য দিয়ে প্রভু শ্রীরামের সেনাকে ঘুমের মধ্যে ফেলে রাম-লক্ষ্মণকে বন্দী করে করে পাতালে নিয়ে যান।

হনুমান জি রাম ও লক্ষণকে উদ্ধার করতে পাতাল লোকে যাওয়ার পরে সম্মুখীন হন মকরধজ নামে এক যোদ্ধার তাকে পরাজিত করে পাতালের অভ্যন্তরে গিয়ে হনুমান দেখলেন সেখানে পাঁচটি মোবাতির পাঁচটি শিখা জ্বলছে এই গুলোই অহিরাবনের শক্তির উৎস|এই সময় হনুমান পঞ্চমুখী রূপে অবতীর্ন হন|

পঞ্চমুখ অবতারে হনুমান তার পাঁচটি মুখ দিয়ে একসাথে সেই পাঁচটি মোমবাতি নেভান ও পরে রাবণের ভাই অহিরাভানকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করেছিলেন এবং ভগবান শ্রী রাম ও লক্ষ্মণকে মুক্তি দিয়েছিলেন।এই হলো পঞ্চমুখী রূপে অবতীর্ন হওয়ার কারন|ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র, বাস্তু শাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক জগতে হনুমানের এই রূপের গুরুত্ব অপরিসীম|পাঁচটি মুখের রয়েছে নিদ্দিষ্ট নাম ও ব্যাখ্যা|

প্রথম মুখটির নাম শ্রী হনুমান –

এই মুখের তাৎপর্য হ’ল এই মুখটি পাপের সমস্ত দাগ দূর করে এবং মনের বিশুদ্ধতা দেয়।

দ্বিতীয় মুখটির নাম নরসিংহ –

এই মুখের তাৎপর্য হ’ল এই মুখটি শত্রুদের ভয়কে সরিয়ে দেয় এবং বিজয় দেয়। নরসিমা হলেন ভগবান বিষ্ণুর সিংহ-মানুষ অবতার, যিনি তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে তাঁর দুষ্ট পিতা হিরণ্যকশিপু থেকে রক্ষা করার জন্য এই রূপ নিয়েছিলেন।

তৃতীয় মুখটির নাম গরুড় –

এই মুখের তাৎপর্য হলো এই মুখটি অশুভ শক্তি, নেতিবাচক প্রভাব দূরে সরিয়ে দেয় এবং শরীরের সমস্ত বিষাক্ত প্রভাব দূর করে। গরুড় হলেন ভগবান বিষ্ণুর বাহন।

চতুর্থ মুখটির নাম বরাহ –

এই মুখ ও বিষ্ণুর একটি অবতার অনুসারে সৃষ্ট এই মুখটি সুখ ও সমৃদ্ধি দান করে এবং মনকে শান্ত রাখে|

পঞ্চম মুখটি হয়গ্রিব –

এই মুখটি ঘোড়ার আকৃতি বিশিষ্ট |এই মুখে শক্তি ও জ্ঞান দান করে ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায় |

রূদ্র অবতার হনুমান কল্যানের দেবতা হিসাবে বিবেচিত হন।শাস্ত্র মতে পঞ্চমুখী হনুমানজি তাঁর ভক্তদের সমস্ত দুর্ভোগকে নষ্ট করে দেন এবং নিয়মিত তার আরাধনা অপার ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি প্রদান করে|পবন পুত্র হনুমানকে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের এই পর্ব| পড়তে থাকুন আগামী দিনে আরো অনেক এমন তথ্য সমৃদ্ধ লেখা ও অভিনব বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আসবো|যারা অনলাইন আমার কাছে জ্যোতিষ পরামর্শ চান বা অফলাইনে সাক্ষাৎ চান কমেন্ট বা মেসেজ না করে অনুগ্রহ করে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

পুরান রহস্য – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য

আমাদের সনাতন ধর্মে অসংখ্য দেবদেবী থাকলেও ভগবান একজনই, তিনি স্বয়ং কৃষ্ণ|শৈশবে কালিয়া নাগ,পুতনা সহ একাধিক অসুর বধ এবং পরবর্তীতে মহাভারতের যুদ্ধে তার ভূমিকা আমরা কম বেশি সবাই জানি|কিন্তু মহাভারতের যুদ্ধের পর কৃষ্ণ কোথায় গেলেন?কিভাবে মৃত্যু বরণ করলেন তিনি? এমনকি মৃত্যুর পরেও তার শরীরের একটি অংশ নাকি জীবিত আছে! আজও তা অক্ষয় রয়েছে! কি তা?আজকের পর্বে জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য|

যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার শোকে একটা গাছের তলায় বসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই সময় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন সেই মত্‍স্যজীবী। এই তীর তৈরিহয়েছিল একটি বিশেষ লোহার টুকরো থেকে। পায়ে এই তীর গেঁথে মৃত্যু হয় শ্রীকৃষ্ণের|এবার এর আগের ঘটনা জানলে বোঝা যাবে কিভাবে শেষ হলো যাদব বংশ এবং এই বিশেষ তীর বা এলো কোথাথেকে|

মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে ৩৫ বছর সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্‍স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্‍স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ|

এবার আসি কৃষ্ণের মৃত্যুর পরের রহস্যে|কৃষ্ণের অন্তেষ্টি ক্রিয়া সাঙ্গ করেন পাণ্ডবরা। কিন্তু চিতা নিভে গেলেও দেখা যায় তাঁর হৃদপিণ্ডটি অক্ষত আছে । তখন সেটিকে নদীর জলে ভাসিয়ে দ্বারকার সব মহিলা ও শিশুদের নিয়ে হস্তিনাপুর ফিরে যান পাণ্ডবরা। সমুদ্রের জল এসে ভাসিয়ে নিয়ে দ্বারকাকে। সমুদ্রের নিচে ডুবে যায় দ্বারকা।কিন্তু কৃষ্ণের হৃদপিণ্ড সাগরের জলে জীবিত অবস্থায় নিমজ্জিত হয়|

এরপর কেটে যায় বহু কাল, একদিন নদীর জলে স্নান করতে করতে কৃষ্ণের দিব্য হৃদয় উদ্ধার করেন পুরীর মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন। সেই হৃদয় হাতে নিতেই স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর কানে ফিসফিস করে বসেন যে এই হৃদয় তাঁরই। এই পৃথিবীতে এটি বরাবর থাকবে। দ্রুত জগন্নাথ মন্দিরে এসে জগন্নাথ দেবের মুর্তির মধ্যেই তা স্থাপন করেন ইন্দ্রদ্যুম্ন।বিষ্ণুর আদেশে এমন ভাবে তা করা হয়, যাতে তা কেউ দেখতে না পায়|মনে করা হয় আজও সেই দিব্য বস্তু, স্বজত্নে এবং গোপনে সংরক্ষিত আছে প্রভু জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে|

এই তথ্য বা তত্ত্ব বহু কাল থেকেই কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত রয়েছে ভারতের আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে| যদিও কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য বা ভিন্ন মত ও রয়েছে|শাস্ত্রীয় ভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও অনেকের কাছেই এই তত্ত্ব গ্রহন যোগ্য এবং সমর্থনযোগ্য|তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, ভগবানের লীলা বোঝা তো ওতো সহজ নয়, আমরা শুধু অনুমান করতে পারি|আর কিছু রহস্য আজীবন রহস্যই থাকবে|কিছু প্রশ্নের উত্তর না খোঁজাই ভালো|শ্রদ্ধা আর ভক্তি টাই শেষ কথা|

কাজের ফাঁকে যখনই সামান্য অবসর পাবো আবার লিখবো, এমন আরো অনেক রহস্যময় পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী দিনে আপনাদের সামনে আসবো|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ,বাড়িতে বসেই মিলবে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার|ভালো থাকুন| সুস্থ থাকুন|ধন্যবাদ| 

পুরান রহস্য – শনিদেবের এতো ক্রোধ কেনো?

আমাদের পুরান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ রাজ শনিকে একটি ভয়ানক গ্রহ বা রাগী দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে|সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই আতঙ্ক রয়েছে তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে তার মুখে আনতে বা সরাসরি তার দর্শন করতেও ভয় পান অনেকেই|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে তার কুদৃষ্টি বা কু প্রভাব ছারখার করে দিতে পারে একজন জাতক বা জাতিকার জীবনে|শনিদেব বদরাগী, তিনি নিষ্ঠুর! কিন্তু কেনো?কি তার রাগের কারন? সত্যি কি তিনি এতটা ভয়ের? এতটা হানিকারক!এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আমাদের শাস্ত্রে|উত্তর পেতে গেলে জানতে গেলে জানতে হবে শনিদেবের শৈশব কিভাবে কেটেছিলো, কি ঘটে ছিলো তার সাথে! আজ জানাবো|দেখতে থাকুন|

বিভিন্ন হিন্দু পুরাণে শনির কাহিনি সম্পর্কে ভিন্ন মতবাদ রয়েছে।হাজার বদনাম সত্ত্বেও মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। মৎস্য পুরাণে বলা হচ্ছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সঙ্গে বিয়ে হয় সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রায় ঝলসে যান সঞ্জনা। তখন তাঁর নতুন নাম হয় সন্ধ্যা। নিজের এমন দূরবস্থায় স্বামীর প্রতি সমস্ত ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সূর্যের থেকে দূরে পালাতে চান তিনি। কিন্তু কী ভাবে? তখন সন্ধ্যা নিজেরই একটি প্রতিকৃতি সৃষ্টি করেন| তাঁর নাম দেন ছায়া। ছায়াকে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে সন্ধ্যা পিতার ঘরে ফিরে যান। এ ভাবে যে তাঁর স্ত্রী বদল হয়ে গেল তা খেয়ালই করেন না সূর্যদেব।

এই সূরদেব ও ছায়ার সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শনি। মেয়ে তাঁর কাছে, এদিকে সূর্যের সন্তান-জন্মের খবর পেয়ে বিশ্বকর্মা ধন্দে পড়ে যান। সন্ধ্যার কাছে ছুটে গিয়ে সব জানতে চান। সব শুনে বিশ্বকর্মা সন্ধ্যাকে সেই মুহূর্তেই পতিগৃহে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। ক্ষুব্ধ সন্ধ্যা ফিরে গিয়ে ছায়াকে নিঃশেষ করে নিজে ফের সূর্যের স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এ ঘটনাও সূর্যের নজর এড়িয়ে যায়|

শনির জীবনের দুক্ষ দুর্দশার সূত্রপাত এখান থেকেই, এর পর শনির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে শুরু করেন সন্ধ্যা। শনিকে সূর্যের থেকে দূরে সরাতে অনবরত স্বামীর কান ভাঙাতে থাকেন সন্ধ্যা। এভাবে মায়ের স্নেহ এবং বাবার ভালোবাসা না পেয়ে ক্রুদ্ধ, বিরক্ত, অলস হয়ে উঠতে থাকেন শনি। কোনও কিছুই তাঁর ভালো লাগে না।

কিছুকাল পরে, সূর্যের ঔরসে সন্ধ্যার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখা হয় যম ও মেয়ের নাম যমুনা। ক্রমে ছেলে-মেয়েরা বড় হলে তাঁদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সূর্য। যমকে দেওয়া হয় ধর্মরাজের দায়িত্ব। পৃথিবীর বুকে ধর্মরক্ষার দায়িত্ব তাঁর। যমুনা পবিত্র নদীর রূপ নিয়ে সব পাপ-তাপ ধুয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পান।

ওদিকে সন্ধ্যার ক্রমাগত কান ভাঙানোর ফলে বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শনিকে কোনও দায়িত্বই দেন না সূর্য। এ ভাবে বঞ্চিত, অসহায় শনি ভাই-বোনের থেকে দূরে সরে গিয়ে আরও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। একদিন শোক ও রাগে পাগল হয়ে সন্ধ্যাকে লাথি মারেন তিনি। সেই রাগে শনিকে খোঁড়া হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দেন সন্ধ্যা। মা-কে লাথি মারার জন্য শনির ওপর সূর্য ক্রুদ্ধ হলেও বেশি অবাক হন সন্ধ্যার ভূমিকায়। একজন মা কী করে তাঁর সন্তানকে এমন অভিশাপ দিতে পারেন! সন্ধ্যার কাছে সব কথা জানতে চান তিনি। সূর্যের জেরায় ভেঙে পড়ে অবশেষে তাঁকে সব জানাতে বাধ্য হন সন্ধ্যা।

অবশেষে শনির ওপর এতদিন এত অন্যায় হয়েছে বুঝতে পেরে নিজের ভুল স্বীকার করেন সূর্য। শনিকে সৌরমণ্ডলে স্থান দেন তিনি। কর্মফলের দেবতা হিসেবে শনিকে উন্নীত করা হয়। এ জন্যই কেউ কোনও অপকর্ম করলে শনির নজর এড়ায় না এবং শনির হাতে তার শাস্তি নিশ্চিত।অর্থাৎ তার এই ক্রোধ ও নিষ্ঠুরতা দিয়ে তাকে বিচার করলে হবেনা|তিনি কর্ম ফল প্রদান করেন|তিনি ভালোর জন্যে ভালো আবার খারাপের জন্যে খারাপ|মানুষের জীবনে তার প্রভাব দুরকমেরই হয়|তার দশায় একজন রাজাও হতে পারে আবার ক্ষতির সম্মুখীন ও হতে পারে|আশার কথা হলো তার ক্রোধ উপশম করে তাকে তুষ্ট করারও অসংখ্য পন্থা রয়েছে যা অনুসরণ করে প্রতিদিন উপকৃত হচ্ছেন বহু মানুষ|

শনিকে ভয় পাবেন না, আস্থা রাখুন নিজের সৎ কর্মের প্রতি, ভরসা রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে|আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চাইলে আমার নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন, বর্তমানে অনলাইনে আমি ভাগ্যবিচার ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করছি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ

ভারতের সাধক – বামা খ্যাপা

ভারতের সাধক দের নিয়ে ধারাবাহিক লেখা বামা খ্যাপা কে বাদ দিয়ে হতে পারেনা কারন তার মত মহান ও ব্যতিক্রমী সাধক এদেশে খুব কমই আছেন|তারাপীঠ নিয়ে আমি আগেও লিখেছি, সেখানে বামা খ্যাপা প্রসঙ্গ নিশ্চই এসেছে, তার জীবন,সাধনা, অলৌকিক ঘটনাবলী একাধিক বার আলোচিত হয়েছে|আজকের পর্বে তার জীবনের একটি বিশেষ সময় এবং ঘটনা কে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

এমনটা নয় যে তারাপীঠ মন্দিরে আসার প্রথম দিন থেকেই বামার জয় জয়কার শুরু হয় বা সবাই তার অলৌকিক ক্ষমতা স্বীকার করে নেয়|তারাপীঠে মা তারার সঙ্গে বামা খ্যাপা কে ভোগ দেয়ার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে তার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা যা বদলে দিয়ে ছিলো বামা খ্যাপার জীবনে ও তার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি|

তারাপীঠ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাটোর রাজ পরিবার, একদিন নাটোরের রানী স্বপ্নে দেখলেন মা তারা মন্দির ছেড়ে চলে যাচ্ছেন,ঘুম ভেঙে কাঁদতে কাঁদতে  তাঁর আরাধ্য দেবী মা তারাকে স্মরণ করলেন রানী। দু’হাত জোড় করে মা’কে বললেন, “মা গো, আমি কি অপরাধ করেছি যে তুমি স্বপ্নে এসে আমাকে বললে… এই রাজ্য ছেড়ে তুমি চলে যাবে! মা,” উত্তরে মায়ের আদেশ ভেসে এলো রানীর কানে, মা বললেন  ‘মন্দিরের পুরোহিত আর দারোয়ান মিলে আমার পাগল ছেলে খ্যাপাকে প্রচণ্ড মারধর করেছে। ওরা জানে না যে তাদের ওই মার আসলে আমার শরীরেই পড়েছে। আমার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমার খ্যাপা ছেলের অপরাধ ছিল যে, সে আমারই ডাকে আমার সঙ্গে বসে ভোগ খাচ্ছিল। ওই রকম প্রচণ্ড মার খাওয়ার পর থেকে তিনদিন হয়ে গেল, ছেলেটা আমার কিচ্ছু খায়নি… তাই আমিও তিন দিন ধরে জলস্পর্শ করিনি! তুই বল, ছেলে না খেলে মা কখনও খেতে পারে!’

মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন রানী|ভোরবেলাতেই রানি ছুটলেন মন্দিরে। তাঁর মুখে গত রাতের ঘটনা শুনে সবাই স্তম্ভিত|জানা গেলো ঘটনা সত্যি,কদিন আগে, বামা মন্দিরের ভিতর ভোগ খেতে ঢুকেছিলেন।তখন পুরোহিত এবং দারোয়ান মিলে তাঁকে বেধড়ক মেরেছে|সেই থেকে বামা কিছু খাচ্ছেন না|সব শুনে সেই সময়ে রানী নির্দেশ দিলেন ‘আজ থেকে এই তারাপীঠ মন্দিরে তারা মায়ের সঙ্গে তাঁর পাগল ছেলে মহাসাধক বামাখ্যাপাকেও ভোগ দেওয়া হবে’|তারাপীঠে এই ভাবে শুরু হয়েছিলো মা তারা ও তার স্নেহের খ্যাপা  সন্তান বামাকে এক সাথে ভোগ নিবেদনের রীতি|

বামা খ্যাপার জীবনে অলৌকিক ঘটনা এতো বেশি ও তার তাৎপর্য এতো গভীর যে একটি পর্বে শেষ করা যায়না, আগামী কোনো পর্বে আবার তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|আজ এখান থেকে বিদায় নিলাম তবে জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে আমাকে অনলাইনে সর্বদাই পাবেন শুধু যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – মহাভারতে বজরংবলী

আর কিছুদিন পরই হনুমান জয়ন্তী,আমাদের সনাতন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় চরিত্রগুলির মধ্যে তিনি অন্যতম|রামায়ণ, পুরান এবং অন্যবহু ধর্মশাস্ত্রে তার মহিমা বর্ণিত হয়েছে|জ্যোতিষ শাস্ত্রেও তার তাৎপর্য রয়েছে,মনে করা হয় হনুমানের স্মরন নিলে গ্রহরাজ শনির প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়|তবে হনুমানের কথা উঠলেই আমরা রামায়নের কথা ভাবি, রামের কথা স্মরণ করি| কিন্তু শুধু রামায়ণ নয়, মহাভারতেও হনুমানের উপস্থিতি রয়েছে|কোথায় এবং কি ভাবে সেটাই এখন লিখতে চলেছি|

প্রথমত, বলবান ভীম তাঁর চার ভাই ও স্ত্রী দ্রৌপদীর সঙ্গে জঙ্গলে নারায়নাশ্রমে যখন ইন্দ্রের অস্ত্রের খোঁজে গিয়েছিলেন তখনও হনুমানের দেখা পেয়েছিলেন৷একদিন দ্রৌপদী ভীমকে তাঁর জন্য ফুল আনতে বলেছিলেন৷ স্ত্রীর কথা মতো ফুলের সন্ধানে বেড়িয়েছিল ভীম? কিন্তু পথ আটকায় হনুমান৷ হনুমানের লেজ ধরে তাঁকে সরানোর চেষ্টা করলেও হনুমানকে এক চুলও সড়াতে পারেননি ভীম|মহাবীর ভীমের বীরত্ব নিয়ে সব অহংকার নিমেষে দূর হয়ে গেছিলো বৃদ্ধ হনুমানের সম্মুখীন হয়ে|হনুমানের পরিচয় পেয়ে ভীম তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, আশীর্বাদ চেয়েছিলেন|ভীম কে ক্ষমা করে নিজের লেজ স্বেচ্ছায় সরিয়ে ভীমকে পথ করে দিয়েছিলেন হনুমান|

দ্বিতীয়ত, মহাভারতে হনুমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায় কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ময়দানে অর্জুনের রথের উপরে থাকা পতাকায়৷কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে অর্জুনের রথের মাথায় থাকা পতাকা ছিলো আসলে হনুমান, তিনি অর্জুনকে অতিরিক্ত শক্তি জুগিয়ে রক্ষা করতেন|কিন্তু প্রভু কৃষ্ণের নির্দেশে নিজে সরাসরি পান্ডবদের হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি|

এছাড়া শোনা যায় তীর্থযাত্রায় বেড়িয়ে অর্জুন যখন রামেশ্বরমে গিয়েছিলেন তখনো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল হনুমানের৷ এমনকি হনুমানের কথা শুনে তীর দিয়ে সেতু নির্মাণেরও চেষ্টা করেছিলেন অর্জুন|মহাভারতের কালে একবার হনুমানের অনুরোধে কৃষ্ণ তাকে শ্রী রাম রূপে দর্শনও দিয়েছিলেন|

হনুমান রামের আশীর্বাদে অমর ও অপরাজেয়, তিনি যুগে যুগে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক|রূদ্র অবতার হনুমানকে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের পর্ব|জানিয়ে রাখি আপাতত এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চেম্বারের তুলনায় অনলাইনে জ্যোতিষ পরামর্শ ও ভাগ্যগণনায় আবার জোর দিতে হয়েছে|তাতে মানুষের সুবিধা হচ্ছে বেশি|আপনাদেরও যদি প্রয়োজন বোধ হয় যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

ভারতের সাধিকা – ভৈরবী ব্রাহ্মনী

ভারতের সাধকদের নিয়ে বেশ অনেক গুলি পর্ব ইতিমধ্যে লিখেছি, তবে সাধকদের পাশাপাশি আমাদের দেশে অসংখ্য সাধিকাও রয়েছেন যারা আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আজ এমনই এক সাধিকার কথা লিখবো|আজকের পর্বে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের তন্ত্র তন্ত্র সাধনার গুরু ভৈরবী ব্রাহ্মনীর কথা বলতে চলেছি|তার ব্যক্তিগত জীবনে, সন্যাস পূর্ব জীবন নিয়ে খুব একটা তথ্য পাওয়া যায়না তবে তার দক্ষিনেশ্বর আগমন ও ঠাকুর রামকৃষ্ণকে তন্ত্র সাধনায় দীক্ষিত করার মধ্যে দিয়ে তার অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব ও শাস্ত্রজ্ঞান পরিলক্ষিত হয়|

গুরু স্থানীয় হলেও শ্রীরামকৃষ্ণ ভৈরবীকে মাতৃরূপে দেখতেন। অন্যদিকে ভৈরবী তাঁকে মনে করতেন ঈশ্বরের অবতার। মাতাজী প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রথম সর্বসমক্ষে শ্রীরামকৃষ্ণকে অবতার বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু নানা লোকের কথা শুনেই শ্রীরামকৃষ্ণ নিজে তাঁর অবতারত্ব সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন। পরবর্তীতে ভৈরবীর নিকট তন্ত্রসাধনা তাঁর আধ্যাত্ম-সাধনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বিবেচিত হয়।

ভৈরবী ব্রাহ্মণী ১৮৬১ সালে দক্ষিনেশ্বর আসেন যতদূর জানা যায় তাঁর প্রকৃত নাম ছিল যোগেশ্বরী এবং বয়স ছিল চল্লিশের কাছাঁকাছি। দক্ষিণেশ্বরে আগমনের পূর্বে তাঁর জীবন সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না। তবে তিনি ছিলেন তন্ত্র ও বৈষ্ণব সাধনে সিদ্ধা|

সাধনার একটি পর্যায়ে শ্রীরামকৃষ্ণ ভৈরবীর কাছে তাঁর ভাবতন্ময়তা ও দৈহিক পীড়ার বর্ণনা দিলেন। ভৈরবী তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে তিনি পাগল হয়ে যাননি এক আধ্যাত্মিক ‘মহাভাব’ তাঁকে আশ্রয় করেছে। এই মহাভাবের বশেই তিনি দিব্যপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন ভক্তিশাস্ত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখালেন রাধা ও চৈতন্য মহাপ্রভুরও একই ভাব উপস্থিত হয়েছিল। ভৈরবী তাঁর দৈহিক পীড়া অবসানের পথ ও নির্দেশ করলেন|

যোগেশ্বরী ভৈরবীর পথনির্দেশনায় শ্রীরামকৃষ্ণ তন্ত্রমতে সাধনা শুরু করলেন ও তন্ত্রোল্লেখিত ৬৪ প্রকার প্রধান সাধন অভ্যাস করলেন। জপ ও পুরশ্চরণের মতো মন্ত্রসাধনায় চিত্ত শুদ্ধ করে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ স্থাপন করলেন। সমস্যা দেখা দেয় যখন ঠাকুর জানলেন তন্ত্রসাধনায় বামাচারের মতো ধর্মবিরোধী পন্থাও অভ্যাস করতে হয়, যার মধ্যে মাংস ও মৎস্য ভক্ষণ, মদ্যপান ও যৌনাচারও অন্তর্ভুক্ত। শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর জীবনীকারগণের কথা থেকে জানা যায়, শেষোক্ত দুটি তিনি অভ্যাস করেননি, শুধুমাত্র সেগুলির চিন্তন করেই কাঙ্খিত সাধনফল লাভ করেছিলেন।

ভৈরবী শ্রীরামকৃষ্ণকে কুমারী পূজা শিক্ষা দেন। এই পূজায় কোনও কুমারী বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এছাড়াও ভৈরবীর নির্দেশনায় শ্রীরামকৃষ্ণ কুণ্ডলিনী যোগেও সিদ্ধ হন। ১৮৬৩ সাল নাগাদ তাঁর তন্ত্রসাধনা সম্পূর্ণ হয়।শ্রীরামকৃষ্ণ বামাচারকে একটি জ্ঞানমার্গ বলে উল্লেখ করলেও, অন্যদের এই পথে সাধন করতে নিষেধ করতেন|স্বামী বিবেকানন্দকেও তিনি এই বামাচারের পথে চলতে নিষেধ করেন|

একটি কথা একবাক্যে স্বীকার করতে হয় ঠাকুরের আধ্যাত্বিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই তন্ত্র সাধন পর্ব এবং এই পর্বে প্রধান চালিকা শক্তি ভারতের এই মহান তন্ত্র সাধিকা ভৈরবী মাতা|রামকৃষ্ণ পরবর্তী কালে এই সাধিকার জীবন ও আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড সম্পর্কে খুব একটা জানা যায়না তবে দক্ষিনেশ্বরে তার অলৌকিক উপস্থিতি ও আধ্যাত্মিক শক্তির কথা আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে|

আজ এই মহান সাধিকাকে প্রনাম জানিয়ে এই পর্ব শেষ করছি, আগামী দিনে এমন আরো অনেক সাধিকার জীবন ও সাধন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|যাওয়ার আগে জানিয়ে রাখি বাড়তে থাকা মহামারীর কারনে আপাতত জ্যোতিষ পরামর্শ বা ভাগ্যবিচারের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমকেই ওধিক গুরুত্ব দিচ্ছি|যারা শারীরিক ভাবে আসতে পারছেন না চিন্তা করবেননা|উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – ভূতওয়ালা মন্দির

ভগবানের নাম শুনলে অশরীরীরা পালিয়ে যায় , কিন্তু শিব ব্যাতিক্রম, তিনি ভূতনাথ|শিবকে ঘিরে থাকে অশরীরীরা|এমনকি এদেশে এমন একটি মন্দির ও আছে যা নির্মাণ করেছিলো ভুতেরা,তাদের উপস্থিতি মন্দিরকে অন্য মাত্রা দেয়, মন্দিরের নামই ভূতওয়ালা মন্দির|

উত্তর প্রদেশের দাতিয়ানা নামের এক গ্রামে রয়েছে এই ভূতওয়ালা মন্দির|মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে স্বয়ং ভূতনাথ|মন্দির নাকি রাতারাতি নির্মাণ করেছিলো একদল অশরীরী|পুজো পাঠের দায়িত্বও তাদের উপরেই|মন্দিরের নির্মাণ শৈলীও বেশ অদ্ভুত|ইটের গাঁথা দেয়াল কিন্তু সিমেন্ট বলে কিছু ব্যবহার হয়নি|মন্দিরের চুড়ো কিছুটা অসম্পূর্ণ কারন একরাতে নির্মিত হয়ে ছিলো মন্দির, ভোরের আলো ফোটায় ভুতেরা ওই কাজ টুকু শেষ করতে পারেনি|

বন্যা, ঝড় , বজ্রপাত এবং ভূমিকম্পর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মন্দিরের প্রাচীন অংশের কোনো ক্ষতি হয়না, উল্টে গোটা গ্রামকে যেকোনো বিপদে রক্ষা করে এই মন্দির|এমনটাই জনশ্রুতি চলে আসছে কয়েকশো বছর ধরে|

সন্ধের পর এই মন্দির চত্বরে পা রাখলেই একটি গা ছমছমে অনুভূতি হতে বাধ্য, স্বয়ং ভূতনাথ ও তার অনুগত ভূত প্রেতের বাসস্থান হিসেবে এই মন্দিরকে সমিহ করে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা|ভক্তি সহকারে পুজো করে নিজের মনোস্কামনা জানাতে আসেন অসংখ্য মানুষ|সব মিলিয়ে ভূত ওয়ালা মন্দির সত্যি বেশ রহস্যময়|

পরের পর্বে আবার কোনো রহস্যময় মন্দির নিয়ে ফিরে আসবো|ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ধন্যবাদ| 

শক্তিপীঠ ঢাকেশ্বরী

আপাতত প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্যে অফলাইন চেম্বার প্রাকটিসের থেকে অনলাইন কন্সালটেন্সির উপর একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে তাই হাতে রয়েছে কিছুটা বাড়তি অবসর আর সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে আজ অনেকদিন পর একটি শক্তিপীঠ পর্বনিয়ে আমি আপনাদের মুখোমুখী|আজ লিখবো বাংলাদেশের ঢাকেশ্বরী মন্দির নিয়ে|

সতীর দেহ ছিন্ন হবার পর এই স্থানে তার কিরীটের ডাক এই জায়গায় পড়ে তাই এটা উপ-পীঠ|ডাক হল উজ্জ্বল গহনার অংশ। ডাক থেকেই ঢাকেশ্বরী নামের উৎপত্তি এই ঢাকেশ্বরী থেকেই রাজধানী ঢাকার নামকরণ|

মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন কথিত রয়েছে, ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন রাজা বল্লাল সেন মন্দিরটি স্থাপন করেছিলেন৷কিংবদন্তি অনুযায়ী, রাজা আদিসুর তার এক রানীকে কোনো কারনে বুড়িগঙ্গার এক জঙ্গলে নির্বাসন দেন জঙ্গলে রানী প্রসব করে পুত্র বল্লাল সেন কে। জঙ্গলেই বেড়ে ওঠে বল্লাল সেন। শৈশবে জঙ্গলের মধ্যে বল্লাল সেন একটি দেবী মূর্তি পান বল্লাল সেন বিশ্বাস করতে শুরু করে জঙ্গলে সকল বিপদ-আপদ থেকে এই দেবী দুর্গাই তাকে রক্ষা করছে। পরে বল্লাল সেন রাজ ক্ষমতায় অসিন হলে তার জন্মস্থানে যেখানে দেবীর মূর্তি পেয়েছিলেন সেখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

নাম করনের অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে রাজা মূর্তিটি জঙ্গলে ঢাকা অবস্থায় পেয়েছিলেন যায় বলে দেবীর নাম হয় ঢাকাঈশ্বরী বা ঢাকেশ্বরী মন্দিরটিও ঢাকেশ্বরী মন্দির নামে পরিচিতি পায়।

মুক্তি যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার গোলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷ পরে বাংলাদেশ সরকার সংস্কার করে ফের ফিরিয়ে আনেন মন্দিরের হারানো সৌন্দর্য|বর্তমানে এই মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় সম্পত্তি৷ কথিত আছে দেবী স্বয়ং মহানগর ঢাকার রক্ষাকত্রী৷ তাই তিনি ঢাকার ঈশ্বরী অর্থাৎ ঢাকেশ্বরী|

আজ এই শক্তিপীঠের কথা এখানেই শেষ করছি,স্বাস্থ সংক্রান্ত সকল বিধি নিষেধ মেনে চলুন|আমার কাছে জ্যোতিষ পরামর্শ নিতে বাইরে বেরোতে হবেনা, প্রয়োজনে ফোন করে নেবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন|ধন্যবাদ|

রাম নবমীর শুভেচ্ছা

বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতেনানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেন|ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মেছিলেন আজকের দিনে, এই দিনটি প্রতি বছর পালিত হয় রামনবমী রূপে, অর্থাৎ রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা। মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা|ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে। বিশ্বের বহু দেশেই রামের মন্দির আছে,ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম রাম মূর্তি|শ্রী রাম সততার প্রতীক, ত্যাগের প্রতীক,অসত্যর উপর সত্যর জয়ের প্রতীক|রাজ ধর্ম পালন করতে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেনতা এক দৃষ্টান্ত|রাম নামকে বলা হয় কলিযুগের সব অন্ধকারকে দূর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র|শাস্ত্রমতে এই রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় বইগুলি থেকে পাঠ করে শোনাবার রীতি আছে| এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে সহজেই বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায়, অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয় আজকের দিনে|কোন রীতি পালন করলেন সেটা বড়ো কথা নয়, আসল বিষয় হলো শ্রী রামের প্রতি আপনার বিশ্বাস এবং তার আদর্শকে অনুসরণ করার ইচ্ছা|তবে একজন পেশাদার জ্যোতিষী হিসেবে বলবো,এই রামনবীমি এবং কিছু দিন পরেই হনুমান জয়ন্তী, অমাবস্যা,সব মিলিয়ে একটা আধ্যাত্মিক ভাবে তাৎপর্য সময়ের মধ্যে আমরা রয়েছি|এই সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ এবং প্রতিকারের শ্রেষ্ট সময়|এই সময়কে কাজে লাগাতে চাইলে যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী অন্নপূর্ণা ও মহাদেব

আজ মা অন্নপূর্ণার পূজার দিন,তিনি অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|কথিত আছে তার পুজোর পর দরিদ্রকে অন্ন দান করলে জীবন থেকে সব অভাব দূর হয়|নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনায় সংসার হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ|দেবী অন্নপূর্ণাকে নিয়ে আমি আগেও লিখেছি, সেই লেখা আপনারা পড়তে পারেন আমার ওয়েবসাইট এ গিয়ে,আজ জানাবো দেবীর আবির্ভাবের কথা, তার পৌরাণিক ব্যাখ্যা|

এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে|
পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে দেবাদিদেবের মতবিরোধে দেবী কৈলাস ত্যাগ করলে মহামারি, খাদ্যাভাব ঘটে। ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও আকাল ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবীকে চিনতে মহাদেবের একটুও দেরি হয় না। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করেন ও অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন|

এরপর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী তার কৃপায় কাশিতে ইচ্ছা থাকলেও অনাহারে থাকা যায়না, প্রত্যেক কাশী বাসির অন্নদানের ভার দেবী অন্নপূর্ণার|

অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদা
তিনি দেবী দুর্গার আরেক রূপভেদ।মূলত দ্বিভূজা বা চতুর্ভূজা । গায়ের রঙ লালচে। দ্বিভূজা দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|

প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে, আবার অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে|সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম|আজ দেবী অন্নপূর্ণাকে প্রনাম জানিয়ে লেখা শেষ করলাম আপনাদের সবাইকে জানাই অন্নপূর্ণা পুজোর অনেক শুভেচ্ছা|এই শুভ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যারা ভাগ্যগণনা করাতে বা প্রতিকার গ্রহন করতে চান অবশ্যই যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|