Home Blog Page 124

কালী ক্ষেত্র- গোকর্ণের শ্মশান কালী

আজকের পর্বে আলোচনা করবো গোকর্ণের শ্মশান কালী নিয়ে শতাধিক বছর আগে গ্রামে কালীপুজো হত একটিই। গোটা গ্রামের মানুষ স্থানীয় জমিদার হট্টেশ্বর রায়ের বাড়িতে ভিড় করত। এখন সেই জমিদারিও নেই। কিন্তু রায় বাড়ির পুজো ঘিরে গ্রামের আবেগ এখনও একই রকম।প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ কান্দীর গোকর্ণ গ্রাম। শক্তির আরাধনা হয় এই গ্রামের অলিগলিতে। আর প্রাচীন পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম বড়রায়,শ্যামরায়ের পুজো। স্থানীয়রা বলেন বড়রায় কালী পুজোর সূচনা কাল নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, ধরে নেওয়া হয় আনুমানিক এক হাজার বছরের পুরনো এই পুজো। শায়িত অবস্থায় রয়েছে বড়রায় মন্দিরের বেদি। দেবীর সামনে পুরোহিতদের বসার জন্য পঞ্চমুণ্ডির আসন রয়েছে। দেবীর পেছনে ১০৮ টি প্রদীপ দানের ব্যবস্থাও রয়েছে। কালী পুজোয় সেজে উঠেছে মন্দির।গোকর্ণের অন্যতম শ্যামরায় কালীপুজোর প্রচলন করেন প্রয়াত জমিদার হটেশ্বর রায়। তবে গ্রামের বাইরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শ্মশান কালীর। হট্টরায় কালী থেকে ওই বংশেরই এক সাধকের নামানুসারে পরবর্তীতে নাম হয় শ্যামরায় কালী। আগে শ্মশানে মায়ের আসনে রত্নবেদির ওপর পুজো হত। রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নানা রকম অসুবিধা দেখা দেয়। কালী প্রতিমা গ্রামের বাইরে থাকার কারনে পরবর্তীতে হট্টেশ্বর রায়ের বংশধর শ্যামচরণ রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে গোকর্ণের পুকুরপারের শ্মশান বেদী থেকে পাঁচবাড়ি পাড়াতে ওই কালীকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেন। পঞ্চমুণ্ডি আসনে প্রতিষ্ঠিত এই শ্মশান কালীর পুজো হয় তান্ত্রিক মতে। লোক মুখে প্রচলিত আনুমানিক দুশো বছর আগে এই পুজোর সূচনা।কথিত, গোকর্ণে বহুবছর আগে ‘ঘোষকুঁড়ো’ নামে এক পুকুর ছিল। পুকুরের ধারে গোকর্ণ গ্রামের জমিদার হট্টেশ্বর রায় প্রথম শ্মশানকালীর পুজো শুরু করেছিলেন। তবে দেবীপ্রতিমা গ্রামের বাইরে থাকায় প্রতিমার বেদির রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক ভাবে হত না। কথিত আছে, হট্টেশ্বর রায়ের বংশধর শ্যামাচরণ রায় স্বপ্নাদেশ পান, পুকুরের ধার থেকে প্রতিমা জমিদার বাড়িতে অথবা জনবসতিপূর্ণ কোনও স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনশ্রুতি, সেই নির্দেশ পেয়ে শ্যামাচরণ গ্রামের মধ্যে বেদি প্রতিষ্ঠা করেন। চারশো বছরের পুরনো ওই পুজো। বর্তমানে স্থায়ী মন্দিরে পুজো হয়।ফিরে আসবো পরের পর্বে পড়তে থাকুন|

কালনার বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরী মায়ের কথা

আজ কালী ক্ষেত্রতে বলবো কালনার বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরী মায়ের কথা|তন্ত্র পুরাণে দেবী কালীর একাধিক রূপভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তোড়লতন্ত্র অনুসারে, কালী আট প্রকার। যথা: দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালিকা, শ্মশানকালিকা ও মহাকালী। মহাকাল সংহিতার অনুস্মৃতিপ্রকরণে নয় প্রকার কালীর উল্লেখ পাওয়া যায়। যথা: দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, শ্মশানকালী, কালকালী, গুহ্যকালী, কামকলাকালী, ধণকালিকা, সিদ্ধিকালী, সিদ্ধিকালী, চণ্ডিকালিকাকালনার এই কালী ক্ষেত্র প্রাচীন তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসাবে উল্লেখিত আছে বহু প্রাচীন গ্রন্থে, আসল মন্দির এখানে কবে তৈরি হয়েছিলো ঠিক জানা যায়না, তবে আনুমানিক ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমানের জমিদার চিত্রসেনের আমলে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়|মনে করা জৈনদেবী অম্বুয়া বা অম্বিকাই পরে সিদ্ধেশ্বরীতে রূপান্তরিত হয়েছেন এবং বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী রূপে পূজিতা হন, আবার অন্য একটি মত অনুসারে সিদ্ধেশ্বরী দেবীকে বিখ্যাত মাতৃ সাধক অম্বরীশের আরাধ্য দেবী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়|এই মন্দিরে দেবী মূর্তি নির্মিত নিমকাঠ দিয়ে।দেবী এখানে বামাকালী মূর্তিতে বিরাজমান, দেবী শবরুপী শিবের উপর ভয়ঙ্করী রূপে দণ্ডায়মান |বহু প্রাচীন রীতি অনুসারে সারা বছর দেবীকে দর্শন করা গেলেও শুধুমাত্র কোজাগরী পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণা পঞ্চমী থেকে কৃষ্ণা ত্রয়োদশী পর্যন্ত দেবী দিগম্বরী থাকেন বলে ওই সময়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে পুজো হয় তবে বাইরে থেকে|মন্দিরের বাইরে রয়েছে একটি রহস্যময় বিরাট পুকুর যার নাম অম্বিকা পুকুর|শোনা যায় এক কালে পুকুরের জলের মধ্যে রাখা থাকত প্রচুর বাসনপত্র। গরিব মানুষ সেই বাসনপত্র বিয়ে বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে, ফের জলের মধ্যে রেখে যেতেন। মন্দিরের নানা কাজে ওই পুকুরের জলই ব্যবহার করা হত। ওই পুকুরেই ছাগ স্নান করিয়ে মন্দিরে নিয়ে আসা হত বলির জন্য|এক কালের তন্ত্র সাধনার জন্যে বিখ্যাত সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দির বর্তমানেও সমান প্রসিদ্ধ ও বহু মানুষের আস্থার স্থল|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা উপলক্ষে এখানে বিশেষ পুজো হয় ও দূর দূর থেকে মানুষ আসেন দেবীকে দর্শন করতে, তার আশীর্বাদ নিতে ও নিজের মনোস্কামনা জানাতে|চলতে থাকবে কালী প্রসঙ্গে আলোচনা ফিরে আসবো অন্য কালী ক্ষেত্রে নিয়ে|দেখতে থাকুন|

কালীতীর্থ – বীরভূমের বৈষ্ণব দ্বারা পূজিত শ্মশান কালী

বীরভূমে রয়েছে এমন এক শশ্মান কালী যেখানে বৈষ্ণব রাগ পুজো করেন, এখানে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে শ্মশানকালীর পুজো চলে আসছে। একসময় এই এলাকা ঘন জঙ্গল এবং শ্মশান ছিল, যা থেকেই এই কালীর না ম হয়েছে শ্মশানকালী।বৈষ্ণব হলেও শাক্তমতেই পূজিতা হন এই দেবী |অন্ধকার ঘরে কাঁটার আসনে বসে পুজো দেন পুরোহিত। সেই পুজো দেখার অনুমতি নেই কারোর। পাহাড়েশ্বরের শ্মশানকালীর পুজোর নিয়ম এমনই অদ্ভুত|অন্যান্য কালীপুজোর মতো এই কালীরও পুজো হয় অমাবস্যায়। এই কালী সারা বছর মন্দিরে থাকেন, বিসর্জন দুর্গা পুজোর পরের একাদশীতে। মা কালীর নাম শ্মশানকালী হওয়ার নেপথ্যে এলাকায় শ্মশানের অস্তিত্বকেই বোঝায়।এই দেবীর পুজো যাঁরা করেন তাঁরাই দেবী মূর্তি তৈরি করেন। মূর্তি তৈরি করতে শ্মশান থেকে আনা হয় কাঠ, অঙ্গার, হাড়-সহ অন্যান্য দ্রব্যাদি। মায়ের মূর্তি শুকোনোর জন্য ব্যবহার করা হয় শ্মশানের পোড়া অবশিষ্ট কাঠের জ্বালানি, মায়ের অঙ্গরাগ থেকে শুরু করে যাবতীয় সমস্ত কিছু শ্মশানের সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়।এই দেবীর বৈষ্ণব পূজারীরাগ জানান, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে শ্মশানকালীর পূজা চলে আসছে। একসময় এই এলাকা ঘন জঙ্গল এবং শ্মশান ছিল, যা থেকেই এই কালীর নাম হয়েছে শ্মশানকালী। ৩৫০-৪০০ বছর আগে হারাধন চক্রবর্তী সুদূর কামাক্ষ্যা থেকে নিয়ে এসেছিলেন এই কালীমূর্তি। তারপর থেকে বংশপরম্পরায় তারাই পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন। পরবর্তীকালে, ওই হারাধন চক্রবর্তীর পরিবার বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। কিন্তু, শাক্তমতেই পুজো হয় দেবীর।এখানে মায়ের প্রতিমার পাশাপাশি থাকেন মায়ের দুই সঙ্গী ডাকিনী ও যোগিনী। বর্তমানে এলাকায় জনবসতি বেড়ে যাওয়ায় শ্মশান সরে গিয়েছে। কালীপুজোর রাতে পুজোর সময় যে আসন ব্যবহার করা হয় তা আসলে কাঁটার আসন। যিনি পুজো করেন তিনি ওই কাঁটার আসনে বসে থাকেন। অন্ধকার ঘরে মায়ের হোমযজ্ঞ দেখতে পেলেও পুজো দেখার অনুমতি নেই কারোর। বংশপরম্পরাতেই এই রীতি চলে আসছে।বৈষ্ণব হলেও যেহেতু তন্ত্র মতে পুজো হয়, তাই এর উপাচারও তন্ত্রমতেই পালিত হয়। দেবীর ভোগের জন্য নিবেদিত হয় চ্যাং মাছ পোড়া ও কারণবারি অর্থাত্‍ মদ। মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি জলকুণ্ড। পাহাড়ি-পাথরময় পরিবেশে ওই কুণ্ডের কাছে দুই ফুট মাটি খোঁড়া হলেই জল পাওয়া যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মায়ের মূর্তি তৈরি হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই জল শুকিয়ে যায়।পুজোর দায়িত্ব এলাকার ওই বৈষ্ণব পরিবার থাকলেও বিসর্জনের দায়িত্বে থাকেন এলাকার দাস পরিবাররা। শ্মশান কালী বিসর্জন হয় দুর্গাপুজোর দশমীর পরের দিন অর্থাৎ একাদশীর দিন। বিসর্জন ঘিরে একাদশীর দিন এলাকার দাস পরিবারের মধ্যে দেখা যায় আলাদা উৎসাহ-উদ্দীপনা, বাড়িতে বাড়িতে ভিড় জমান আত্মীয় স্বজনেরা। তবে একাদশীতেই একমাত্র দাস পরিবার মায়ের বিসর্জনের অনুমতি পান। তাই এই দিনটি তাঁদের কাছে আলাদা আনন্দের।আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দির ফিরে আসবো কালী তীর্থতে|দেখতে থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীতীর্থ – জ্বালাজি মন্দির

আজকের কালী তীর্থ পর্বে জ্বালাজি মন্দির নিয়ে লিখবো|হিমাচল প্রদেশের অতি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই রহস্যময় প্রাচীন মন্দির এই মন্দির সতী মাকে উৎসর্গ করা , এই মন্দিরে এক রহস্য ময় অগ্নি প্রজ্বলিত আছে যেটা কয়েক শতাব্দীর বেশি সময়ে ধরে জ্বলছে|জ্বালাজি মন্দিরে ৭টি আগুনের শিখা দেখা যায় যেগুলি আজ পর্যন্ত কখনও নিভে যায়নি। কখনও কখনও শিখাগুলির সংখ্যা বেড়ে হয় ৯টি। ভক্তদের বিশ্বাস, শিখাগুলি মা ভগবতীর সাত বোনের বহিঃপ্রকাশ। কেউ আবার বলেন, শিখাগুলি আসলে মা দুর্গার ন’টি অবতারের প্রতীক। ভক্তদের ব্যাখ্যা যা-ই হোক, ঘটনা হল, এই শিখাগুলি জ্বলছে স্মরণাতীত কাল থেকে।একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে কিংবদন্তি অনুসারে, সম্রাট আকবর নাকি একবার এই অগ্নিশিখাগুলি নেভানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন‌|এটাই এই মন্দিরের প্রধান রহস্য যার উদ্ঘাটন আজও সম্ভব হয়নি|এমন কি বিজ্ঞানীরাও এটা খুজে বের করতে পারেনি এই অগ্নি কোথা থেকে এর জ্বালানি তেল পাচ্ছে এবং কিভাবে আদি অনন্ত কাল ধরে জ্বলছে এই দিব্য অগ্নি শিক্ষা|হয়তো এই রহস্য চিরকাল রহস্যই থেকে যাবে আর সেখানেই আমাদের আধ্যাত্মিকতার জয়, আমাদের সনাতন ধর্ম বিশ্বাসের জয়|আগামী পর্বে আবার লিখবো নতুন কোনো মন্দির ও তার রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|

কালী তীর্থ – বোল্লা কালী মন্দির

আজ কালী তীর্থ পর্বে বাংলার একটি অন্যতম জাগ্রত ও বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা আপনাদের জন্য লিখবো|আজকের পর্বে বোল্লা কালী মন্দির|বোল্লা কালীমন্দির আমাদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি বিখ্যাত কালী মন্দির। বালুরঘাট শহর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মাত্র কুড়ি কিলোমিটার|মন্দিরটি দক্ষিণ দিনাজ পুরের বোল্লা গ্রামে অবস্থিত এবং মূলত গ্রামের নাম থেকেই বোল্লা কালী মন্দিরের নামকরণ|আজ থেকে চারশো বছর এই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরি|তার নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয়েছে বোল্লা|মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা|কথিত আছে একবার স্থানীয় জমিদার মুরারী মোহন চৌধুরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যান। তারপর তিনি বোল্লা মায়ের কাছে মানত করে মামলায় জয় লাভ করেন শোনা যায় দেবী কালি স্বয়ং তার উদ্ধারের জন্য এসেছিলেন এবং পরবর্তী দিনই জমিদার মুক্তি পেয়েছিলেন|কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসাবে তিনি দেবী কালির একটি সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন|যদিও অনেক আগে থেকেই এখানে কালী পুজোর প্রচলন ছিলো|বহুকাল আগে এখানে এক মহিলা স্বপ্নাদেশে একটি কালো পাথরখণ্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন|কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয়, বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন। বর্তমানে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে দক্ষিণ বোল্লা কালী মন্দিরে পুজো ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়|সমগ্র উত্তর বঙ্গ সহ বাংলা দেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন মা বোল্লা কালীর দর্শন করতে ও তার পুজোয় অংশ নিতে|জনশ্রুতি অনুসারে, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত ও তার কাছে নিবেদিত প্রতিটি মনোস্কামনা তিনি পূর্ণ করেন|চলবে কালী তীর্থ ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দির নিয়ে পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী তীর্থ – কুলটির সাদা কালী

পুরাণ মতে দেবী কালী হলেন মহামায়ার কালিকা শক্তিরূপ। অসুরদের অত্যাচারে ও মানব সমাজের কান্না হাহাকার দেখে মহামায়া ভয়ঙ্কর ক্রোধ ধারণ করেন। সেই সময় তার শরীর থেকে তীব্র জ্যোতি বের হতে থাকে তখনই কালো রূপ ধারণ করেন মহামায়া। মায়ের এই শ্যামা রূপই পূজিত হন সর্বত্র। কিন্তু কুলটি তে রয়েছে এক অদ্ভুত কালী মন্দির যেখানে সাদা রূপে পূজিতা হন মা কালী|শোনা যায় এইরূপে ভবতারিণী প্রথম দর্শন দিয়েছিলেন সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।সাধক মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেন এখানে । তবে কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না এই বাংলার বুকে।পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। বাংলা জুড়ে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি বিশেষ দেখতে পাওয়া যায় না। পাশের জেলা বাঁকুড়া একটি জায়গায় এই রূপে কালীপুজো হয়। তবে কুলটির ফলহারিণী কালী জেলার একমাত্র সাদা রূপের কালীপুজো। এই দেবী একইসঙ্গে অসুরদলনী ও অন্যদিকে রক্ষাকর্ত্রীওএই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূজারী মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এরূপে কালীর পুজো শুরু করেছেন।তিনি জানিয়েছেন, দেবী কালিকা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিত্য পূজা করার জন্য। আর দেবী, এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির ফলহারিণী কালী।আজ ওই নিদ্দিষ্ট পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। প্রত্যেক অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাতার বাড়ির পাশেই এক চিলতে মন্দিরে পুজো নেন কালীসাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে দর্শন দেওয়া ভবতারিণী।ভবতারিণীর এই মন্দিরে সম্পূর্ণ প্রস্থর নির্মিত মূর্তি রয়েছে দেবীর। পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়। প্রতিষ্ঠাতা মধুময় ঘোষ জানিয়েছেন, স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই তিনি বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।আগামী পর্বে অন্য কোনো কালীতীর্থ নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|

কালীতীর্থ – রত্নাবলী

রত্নাবলী কালী সতীর ৫১ পীঠের একটি হুগলির খানাকুলের রত্নাবলী কালী।কথিত আছে, শ্বেত পলাশ গাছের নিচে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ অর্থাৎ ডান দিকের কাঁধ পড়েছিল। পরবর্তীতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে মন্দির বানান সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী। কথিত খানাকুলের উবিদপুর দিয়ে একসময় রত্নাকর নদী বয়ে যেত। সেই নদী আজ আর নেই। নদীর চিহ্ন হিসেবে পড়ে রয়েছে মাজা এক খাল। প্রশ্ন কী ভাবে হারিয়ে গেল সেই নদী স্থানীয়রা বলেন, একসময় এই নদী ছিল বিশাল চওড়া। গুপ্ত বৃন্দাবনের সাধক অভিরাম গোস্বামী এই নদীতটে একদিন স্নান করছিলেন। হঠাৎই নদীর জল ফুলে ফেঁপে জোয়ার আসে। সেই জোয়ারের জলে অভিরামের কৌপিন ভেসে চলে যায়। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সাধক তখন নদীকে শাপ দেন। বলেন, এই মুহূর্তে তুই অন্ধ হয়ে যা। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই তুই অন্তর্বর্তী শিলা হয়ে মাটির তলা দিয়ে বইবি। ওপরে ব্যাপ্তি আর থাকবে না। কথিত আছে এর পর থেকেই নদীর জল শুকোতে থাকে। নদী শুকিয়ে হয়ে যায় খাল যাকে এলাকায় কানা দ্বারকেশ্বর খাল বলেই পরিচিত।আদিকালের রত্নাকর নদী তথা বর্তমানের কানা দ্বারকেশ্বর খালের ধারেই কালীমন্দির। মন্দিরের পুরোহিতদের থেকে জানা গেল, আনুমানিক ৭১২ সালে খানাকুলে প্রতিষ্ঠিত হয় ঘন্টেশ্বর শিবমন্দির। তার দু’বছর পর অর্থাৎ ৭১৪ সালে মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী। তখন থেকেই দেবীর পূজা হয়ে আসছে। আজও একইভাবে পূজিত হন মা। প্রতি অমাবস্যায় ঘটা করে পুজো হয়। যারা জানেন, তাঁরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন। প্রতিষ্ঠার সময় এই মন্দিরটি ছিল একটি তালপাতার কুঁড়েঘর। বহু বছর পর বর্ধমানের মহারাজা এই মন্দিরটি পাকা করেন। সেই কাঠামোই এখনও রয়েছে।প্নাদেশ পাওয়া স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী পাথরে পরিণত হওয়া দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধটি মঙ্গলঘটের নীচে রেখে দেবীমূর্তির প্রতিষ্ঠা করেন। রত্নাকর নদীর তীরে মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল বলেই এখানে মায়ের নাম রত্নাবলী বলে মনে করেন অনেকে। সাধক স্বরূপনারায়ণ মহারাজ পঞ্চমুণ্ডির আসনে ঘটে পুজো শুরু করেন। তার বহু কাল পরে মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়। তাও আনুমানিক প্রায় ১২০০ বছর বা তারও আগের হবে।’এখানে মায়ের চার হাত।যথারীতি এই মন্দিরের প্রথম পূজারী ছিলেন স্বরূপানন্দ মহারাজ। ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ তাঁর মুখে এসে পড়েছিল। তিনি তা দেখতে পান। তখনই মায়ের এই আদেশ পান স্বরূপানন্দ এবং সূচনা হয় পুজোর|মন্দিরের পাশেই রয়েছে ঘণ্টেশ্বর শিবমন্দির যেখানে যা এই স্থানের অধ্যায়ত্মিক আরো বৃদ্ধি করে|যা দেখতে আসেন দূর দুরন্তের মানুষ|চলবে কালীতীর্থ ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দির নিয়ে পড়তে থাকুন|

ঠাকুর রামকৃষ্ণর জন্মতিথিতে প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য

আজ রামকৃষ্ণদেবের 187 তম আবির্ভাব তিথিকথিত আছে, তিনি যখন জন্মগ্রহন করেছিলেন, কামারপুকুর বাটিতে তাদের শিব মন্দির চন্দ্রালোতে আলোকিত হয়ে উঠেছিল। রামকৃষ্ণদেবের গড়নে ছিল দৈবিকভাব|সেটাই স্বাভাবিক, তিনি কোনো স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন না, একাধারে সাধক ও দার্শনিক এই মানুষ টাকে হয়তো এখনো বাঙালি ঠিক চিনে উঠতে পারেনি, তার অবতার তত্ত্ব নিয়েও দ্বিমত আছে, তবে, সাধনার যে উচ্চস্তরে তিনি গিয়েছিলেন তা, কল্পনা করা কঠিন|শ্রী রামকৃষ্ণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছিলেন তার লীলা করতে, পরমহংসদেব যখন জগৎ সমক্ষে উদয় হন, তখন ঘোরতর ধর্মবিপ্লব চলছে চারপাশে, “জড়বাদী মুক্তকণ্ঠে বলছেন – “জড় হইতেই সমস্ত,জড়ের সংযোগেই আত্মা, জড় ব্যতীত আর কিছু নাই।“ব্রাহ্ম সমাজ বলছে – “বেদ, বাইবেল, কোরান প্রভৃতি কিছুই মানিবার আবশ্যক নাই, কোনটিই অভ্রান্ত নয়, কোনটিই ঈশ্বর বাক্য নয়”এমন সময় পরমহংসদেব প্রচার করলেন “কোন ধর্ম কোন ধর্মের বিরোধী নয়। বাহ্য দৃষ্টিতেই বিরোধ কিন্তু সকল ধর্মই মূলত এক কথা বলেআরো সহজ করে বললেন ” যত মত ততো পথ “তিনি শিব জ্ঞানে জীব সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তার ভাব শিষ্য নরেন কে, সেই আদর্শ আজও এগিয়ে নিয়ে চলেছে রামকৃষ্ণ মঠ,জন্ম তিথিকে মহা সমারোহে উদযাপন করা হয় মঠের প্রতিটি শাখায়,আজ প্রনাম ও শ্রদ্ধা জানাই এই মহান সাধককে, তারচরনে রইলো শত কোটি প্রনাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য |

কালীতীর্থ – বর্গ ভীমা

আজ কালীতীর্থ পর্বে আরো একটি সতী পীঠ নিয়ে লিখবো যা বর্গভীমা নামে খ্যাত পুরাণে কথিত একান্ন সতীপীঠের একপীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা। কথিত আছে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের খন্ডিত দেবী সতীর বাম পায়ের গোড়ালি এখানে পড়েছিল। পুরান মতে দেবী বর্গভীমা এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। এছাড়াও দেবীর মন্দির নির্মাণ নিয়ে আরো কয়েকটি মিথ প্রচলিত আছে।দেবী বর্গভীমা মায়ের মন্দির নির্মাণের পেছনে একটি অলৌকিক কাহিনী বর্তমান। এই কাহিনীটি গড়ে উঠেছে চন্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক ধনপতি সওদাগরকে নিয়ে। ধনপতি সওদাগর তাম্রলিপ্ত বন্দর হয়ে বাণিজ্যতরী নিয়ে সিংহল যাত্রাকালে দেখতে পান এক লোক সোনার কলসি নিয়ে যাচ্ছে। ধনপতি সওদাগর কৌতূহলবশত ওই লোককে জিজ্ঞেস করেন এই সোনার কলসি কোথায় পেয়েছে, উত্তরে সেই লোক বলেন জঙ্গলের মধ্যে একটি পবিত্র কুণ্ড আছে যেখানে পেতলের পাত্র ডোবালে সোনার পাত্র হয়ে যায়। এরপর ধনপতি সওদাগর অনেক পেতলের পাত্র পবিত্র কুন্ডের জলে ডুবিয়ে সোনায় রূপান্তরিত করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাণিজ্যে প্রভূত লাভ হয়। ফিরে আসার সময় তাম্রলিপ্ত বন্দরে নোঙ্গর করে ঐ পবিত্র কুণ্ড ঘিরে দেবী মায়ের মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ করেন। তমলুকের বর্গভীমা মায়ের মন্দির নির্মাণ নিয়ে নানান কাহিনী থাকলেও পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এটি একটি সতীপীঠ হিসেবেই দেবী পুজিত হয়।দেবীর মন্দির নির্মাণ নিয়ে আরও দুটি কাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান লাভ করেছে। একটি কাহিনী হলো শোল মাছের কাহিনী। কথিত আছে তাম্রলিপ্ত নগরীর রাজা তাম্রধ্বজ দেবীবরণ মায়ের মন্দির নির্মাণ করে। রাজা তাম্রধ্বজের নিয়োজিত এক জেলে প্রত্যহ রাজপরিবারে মাছ সরবরাহ করত। রাজ পরিবারে প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ জেলে বউয়ের প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ রাজ পরিবারের জন্য জোগাড় করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। এরকম একদিনে ওই জেলে বউ মরা মাছ নিয়ে জঙ্গলের সম্পুর্ন পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাজপরিবারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাস্তায় অপরিচিতা নারীর দেখা পান। ঐ জেলে বউ তার কথা সবিস্তারে সেই নারীকে বলেন। তখন সেই অপরিচিতা নারী জেলে বউকে বলেন তার মরা মাছ জীবিত করা সম্ভব। জঙ্গলের মধ্যে এক কুন্ড আছে সেই কুন্ডের জল মাছের উপর ছড়ালেই মরা মাছ জ্যান্ত হয়ে যাবে। এই কথা বলার পর ওই অপরিচিতা নারীর দেখা আর পাননি ঐ জেলে বউ। অপরিচিতা নারীর বর্ণিত পবিত্র কুন্ডু খুঁজে পান জেলে বউ এবং কোন সেই কুণ্ডের জল মরা মাছের ওপর ছড়াতেই মাছ জ্যান্ত হয়ে যায়। এরপর জেলে বউ প্রতিদিনই কুন্ডে জল ছিটিয়ে মরা মাছ জ্যান্ত করে রাজপরিবারের জন্য নিয়ে যায়। প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ সরবারহ দেখে তাম্রলিপ্ত রাজার সন্দেহ। জেলে বউকে জিজ্ঞেস করতেই সে সব সত্যি কথা বলে দেয়। রাজা তাম্রধ্বজ সপারিষদ সেই কুণ্ড দেখতে এলে দেখতে পান একটি বেদী ও বেদীর উপর অধিষ্ঠিত দেবী মূর্তি। রাজা তাম্রধ্বজ জঙ্গল পরিষ্কার করে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণ করেন। অনেকের মতে এটি দেবী বর্গভীমা মন্দির রূপে বর্তমানে পুজিত হয়।সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা, বর্তমানেও নিষ্ঠার সাথে পুজিত হয় মা, শক্তি পুজো শুরুর আগে রয়েছে অনুমতি নেওয়ার প্রথা। মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে।পুরাণ বলে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পরমন্দিরের সেবায়েতের কথায় ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষ। এই চারটি বর্গ দান করেন বলেই মায়ের নাম দেবী বর্গভীমা। নীল তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। কালীপুজোর দিন রাজবেশে মাকে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো হয়। বছরের অন্য দিনগুলিতে মাকে ভোর চারটেয় স্নান করিয়ে স্বর্নালঙ্কারে সাজানো হয়। অন্নভোগে নানা ব্যঞ্জনের পাশাপাশি এখনও রোজ মাকে নিবেদন করা হয় শোল মাছের ঝোল। আজও তমলুকের কোন কালীপুজো শুরু হয় না দেবী বর্গভীমা মায়ের পুজো না দিয়ে।চলবে কালীতীর্থ ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী ক্ষেত্র নিয়ে পড়তে থাকুন|

কালী তীর্থ – মানকরের বড়োমা কালী

আজ কালী তীর্থতে বর্ধমানের মানকরের বড়মাকালীর কথা বলবো|শোনা যায় এই গ্রামে আজ থেকে প্রায় সাতশো বছর আগে কালী পূজা শুরু করেন রামানন্দ গোস্বামী । তিনি ছোটবেলা থেকে কালী মায়ের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন । কাব্যতীর্থ পাশ করার পর বেশীর ভাগ সময়ে শ্মশানে পড়ে থাকতেন । তাঁর বাবা দেবভক্ত হলেও কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পুত্রের কালী-মা ভক্তি মোটেই পছন্দ করতেন না তবে পরবর্তীকালে কঠোর সাধনা করে মায়ের দর্শন পেয়ে ছিলেন রামানন্দ গোস্বামী । মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন ঠাকুর রামানন্দ । তাঁর সাধনার স্থান ছিল কাশ আর বেতবনে ঘেরা শ্মশান বর্তমানে যা মানকর ভট্টাচার্য পাড়া নামে খ্যাত।বলা হয়, বড় মা কালী নাকি তিন বোন । মেজ বোন মানকর ডাঙাপাড়ায় ক্ষ্যাপা কালী, আর এক বোন পাল পাড়ায় পঞ্চানন কালী ।মন্দির প্রসঙ্গে একটি অলৌকিক ঘটনার কথাও শোনা যায় ঘটনাটি হলো সাধক রামানন্দ শ্মশানে ধ্যানে মগ্ন । পাড়ার কেউ তাঁর বাবাকে এই খবর দিয়েছেন । তাঁর কৃষ্ণভক্ত বাবা শ্মশানে এসে শুধু কৃষ্ণ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি ।পরবর্তীকালে মায়ের সেবার দায়িত্ব আসে ঠাকুর বাণীকণ্ঠ ভট্টাচার্যের হাতে । তিনি ছিলেন মানকরের তৎকালীন জমিদার সদাশিব ভট্টাচার্যের বংশধর ।আরো একটি অলৌকিক ঘটনা আছে , একদিন এক শাঁখারী মায়ের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছেন । এমন সময় একটি কালো বরণ বাচ্চা মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায় । শাঁখারী দু-হাতে শাঁখা পরাতেই আরও দুটি হাত বাড়িয়ে দেয় ওই মেয়েটি । শাঁখারী হতবাক হলেও আবারও দুটি শাঁখা পরিয়ে টাকা চায় । মেয়েটি তখন উত্তরে জানায়,’ মন্দিরের কুলুঙ্গিতে বেলপাতা ঢাকা দু-টাকা রাখা আছে ছেলেকে দিতে বলবি ।’শাঁখারী তাঁর কথা মতো বাণীকণ্ঠ ঠাকুরের কাছে সমস্ত কথা বলেন । ঠাকুর অবাক হলেও দু-টাকা সেখান থেকে দিয়ে শাঁখারীকে বলেন, আমার কোন মেয়ে নেই । যে মেয়েটি তোমার শাঁখা পরেছে তাঁর কাছে নিয়ে চল । শাঁখারী বাণীকণ্ঠকে নিয়ে গেলেও মেয়েটিকে আর দেখতে পায়নি । তখন ঠাকুর বুঝতে পেরে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েই মাকে শাঁখা দেখানোর অনুরোধ করেন । সন্তানের অনুরোধে মা কালী স্বয়ং পুকুরের মাঝে চার হাত তুলে শাঁখা দেখায় । সেই থেকে ওই শাঁখারীর বংশধরেরা এখনও মায়ের পুজোয় শাঁখা দিয়ে যায়এই মন্দিরে দূর্গা পুজো হয় তবে রাত্রে মায়ের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিষিদ্ধ । কথিত আছে বহু বছর আগে একবার এক প্রতিমাশিল্পী রাত্রে মায়ের চক্ষুদান করছেন । ওই সময় এক অদৃশ্য হাত প্রতিমা নির্মাণে বাঁধা দেয় তখন থেকে আজও মায়ের প্রতিমা দিনেই তৈরী করা হয়বাণীকণ্ঠ ঠাকুরের বর্তমান বংশধরদের উদ্যোগে নতুন মন্দির তৈরী করা হয়েছে|প্রতিটি বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো উপলক্ষে জন সমাগম হয় ব্যাপক|আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|দেখতে থাকুন কালী ক্ষেত্র|