কুবের কথা 

28

কুবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পৌরাণিক আলোচনায় কুবের দেবকে

নিয়ে লিখবো।

 

কুবেরদেব সম্পর্কে রাবনের ভাই,রাবন তাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করে তার সোনার লঙ্কা এবং পুস্পক রথ ছিনিয়ে নেন|পরবর্তীতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে কুবের দেবতার স্থান পান এবং জগতের সমগ্র ধন সম্পদ তার অধীনে আসে|কুবেরদেব হচ্ছেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর সমস্ত ধন সম্পদ কুবেরের দখলে থাকে।কুবের দেবের বাসস্থান অলোকাপুরী যা বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন|

 

পুরান অনুসারে কুবের হচ্ছেন ধনরাজ তিনি যক্ষদের রাজা, বামনাকৃতি এবং স্থূল শরীরের অধিকারী।আবার তিনি দিক পাল অর্থাৎ দশটি দিকের অধিপতি এবং নিজে তিনি উত্তর দিকে বিরাজমান তাই বাস্তু শাস্ত্রে উত্তরদিককে ধনস্থান বলে ধরা হয়|আবার কিছু গ্রন্থে কুবেরকে লোকপাল ও বলা হয় কারন তিনি ন্যায় নীতি এবং লোকহিতকর কাজ কর্মের দায়িত্বে আছেন।

 

ভগবান বিষ্ণু যখন শ্রীনিবাস হিসাবে পৃথিবীতে আসেন তখন রাজ কুমারী পদ্মাবতীর সাথে বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য কুবেরের থেকে অর্থ ধার করেন বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান

শ্রীনিবাস যিনি তিরুপতীর বালাজি হিসাবে পরিচিত তিনি ভক্তদের দেওয়া সকল প্রণামী কুবের কে দেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য।

তাই ভক্তরাও বালাজি দর্শনে এসে অর্থ দান করে ভগবানের ঋণ মেটাতে সাহায্য করেন|

 

পুরান মতে কুবের অর্থ ও সম্পদের রক্ষা কর্তা তার আশীর্বাদ ছাড়া ধনবান হওয়া বা সম্পদ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব|তাই যারা প্রচুর অর্থ এবং সম্পদের মালিক হতে চান তারা কুবেরের আরাধনা করেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বাস্তু শাস্ত্রেও কুবের গুরুত্বপূর্ণ কারন কুবের যন্ত্র, কুবের রত্ন এবং কুবের কবচ বহু প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত প্রতিকার।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ফিরবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।