শিব পুজোয় কেনো চম্পা ফুল নিষিদ্ধ

90

শিব পুজোয় কি অর্পণ করা যায় কি অর্পণ করা যায় না এই আগেও আলোচনা করেছি। হয়তো আপনারা জানেন চম্পা ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়না। কিন্তু কেনো তা জানেন কি? তার কারন জানতে হলে একটি পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে।দাক্ষিণ ভারতের গোকর্ণপুর নামক স্থানে শিব বিরাজ করতেন ‘গোকর্ণেশ’ রূপে। শোনা যায়সেই শিব লিঙ্গ দর্শনেই সমস্ত পাপ স্খলন হয়।একবার ছদ্মবেশে নারদমুনি এলেন শিব লিঙ্গ দর্শননে।তিনি দেখলেন মন্দিরের রাস্তার দুধারে আকন্দ আর কলকের বন তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে চাঁপাফুলের সৌন্দর্য আর সুগন্ধ ।নারদ গাছের সামনে এক ব্রাহ্মণকে দেখেন এবং তার হাতে ফুলের সাঁজি দেখে নারদ জিজ্ঞেস করলেন সে কি ফুলের সংগ্রহের জন্যই দাঁড়িয়ে? ব্রাহ্মণ জানায় না ভিক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নারদ সরল মনে তা বিশ্বাসও করেন। মন্দির থেকে ফেরার পথে আবার সেই ব্রাহ্মণের সাথে দেখা এবার তার সাঁজি তাও আবার পাতা ঢাকা। নারদ সাঁজিতে কি আছে জানতে চাইলে সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এবারেও এক কথা জানায় সাঁজিতে সামান্য ভিক্ষেই আছে। কিন্তচাঁপাগাছের সামনে পৌঁছে নারদ রীতিমতো অবাক। গাছে একটিও ফুল নেই। নারদ বুঝতে পারেন ব্রাহ্মণ মিথ্যে বলছেন। চাঁপা গাছকে জিজ্ঞাসা করেও দেবঋষি কোনো সদুত্তর পাননা।যখন কৌতূহল বসত তিনি মন্দিরে ফিরে গেলেন দেখলেন শিবলিঙ্গের সামনে কেউ ১০৮ টি চাঁপাফুলে দিয়ে পুজো দিয়েছেন । পূজারীকে জানতে চাইলে তিনিই সবটা খুলে বলেন। তিনি জানান ও এক ভন্ড ব্রাহ্মণ। ইচ্ছে করেই সব ফুল আগে তুলে নেয় রোজ। যাতে সে ছাড়া আর কেউ চাঁপাফুলে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতে না পারে। চাঁপাগাছটিকেও তার বশেই রেখেছে।শুধু তাই নয় ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও তিনি নির্দয় এবং মিথ্যার আশ্রয় নেন সুযোগ পেলে দরিদ্র মানুষদের প্রতারণা করতেও তার বাঁধে না।প্রচন্ড রাগে নারদ মহাদেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে এমন ধূর্ত লোককে কেন কৃপা করছেন তিনি!শিব জানান চাঁপা তাঁর পছন্দের ফুল। এই ফুলে তিনি সহজেই সন্তুষ্ট হয়ে যান এমনকি বশীভূত হয়ে পড়েন। তবে ব্রাহ্মণ যে ব্রাহ্মণ যে অন্যায় করেছেন তাও সত্যি এবং তার শাস্তি পাওয়া উচিৎ বলে তিনি নারদ বলেন।নারদ তখন সেই ব্রাহ্মণকে অভিশাপ দেন যে পরজন্মে রাক্ষস কূলে তার জন্ম হবে। সত্য গোপন করা এবং ব্রাহ্মণকে সাহায্য করার জন্য চাঁপাগাছকেও তিনি অভিশাপ দেন যেএই ফুল আর কোনোদিন মহাদেব গ্রহণ করবেন না। সেই থেকে চাঁপাফু শিব পুজোয় নিষিদ্ধ।শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। থাকবে এমন বহু জানা অজনা পৌরাণিক ঘটনা।তার ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।