কালী কথা – শ্যামা রুপী শ্যাম সুন্দরের পুজো

83

তিথি অনুসারে এবছর প্রায় দুদিন থাকছে জন্মাষ্টমী। আগের পর্বে আপনাদের কৃষ্ণ কালীর কথা বলেছি।এই কৃষ্ণ কালীর আবির্ভাবের পেছনে আরো একটি পৌরাণিক ঘটনা আছে।আজ জানাবো সেই কথা। সাথে থাকবে একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পূজোর কথা যেখানে
শতাধিক বছর ধরে কৃষ্ণকালী রূপের পুজো হচ্ছে।

ত্রেতা যুগে নারায়ণের দর্শন পেতে ঘোর তপস্যা শুরু করেন ঋষি আয়ান। দীর্ঘ তপস্যার ফলে নারায়ণ দর্শন দেন।আয়ানকে বর চাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে আয়ান স্বয়ং লক্ষ্মীদেবীকে পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ।প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নারায়ণ সম্মতি দেন। সেই সঙ্গে আয়ানকে বর দেন , দ্বাপরযুগে দেবী লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে পাবেন আয়ান। তবে তখন তাঁর নাম থাকবে রাধিকা। একই সঙ্গে আয়ান ক্লীব হয়ে জন্মাবেন। দ্বাপরযুগে রাজা বৃষভানুর কন্যা রাধিকার জন্ম হয় যিনি স্বয়ং মহালক্ষী।একসময় রাধিকার সঙ্গে কালীভক্ত আয়ানের বিয়ে হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাধা কৃষ্ণের এক অদ্ভুত লীলার মাধ্যমে আয়ান দেবী কালীকে সাক্ষাৎ দর্শন করে তার জীবন সার্থক করেন।

এই কৃষ্ণ কালী রূপে প্রায় চারশো বছর ধরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজরিত খড়দহের শ্রীপাদে চলছে শ্যামসুন্দরের পুজো। জন্মাষ্টমী বা কালী পুজো প্রতি বিশেষ তিথিতে শ্যামের সজ্জাপর্ব চলে নিখুঁত ভাবে সজ্জা পর্ব শেষ হওয়ার পর শ্যামা হয়ে ওঠেন শ্যামা। সজ্জার পর শুরু হয় পুজো।

এই পুজোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কারন আনুমানিক ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে চৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশেই নবদ্বীপ ছেড়ে খড়দহে চলে এসেছিলেন তার অন্যতম শিষ্য নিত্যানন্দ প্রভু । বিবাহের পর সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। খড়দহের পুরন্দর পণ্ডিতের দান করা ২৬ বিঘা জমিতে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর নামে ছেলে বীরভদ্র মহাপ্রভু কুঞ্জবাটিতে শ্যামসুন্দরের প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর সেখানেই নিত্য পুজো পাচ্ছেন শ্যামা রুপী শ্যামসুন্দর।তার অগণিত ভক্ত ভিড় করেন এই পুজোয়।

সবাইকে আরো একবার জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানাই। কালী কথা নিয়ে আবার আগামী পর্বে
ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।