কালী কথা – ঋষিপুরের বড়মার পুজো

46

আজকের কালী কথা পর্বে আপনাদের স্বাগত জানাই।নৈহাটির বড়মাড় কথা আপনারা জানেন। আজ আপনাদের অন্য এক বড়মাড় কথা জানাবো। মুর্শিদাবাদের ঋষিপুর গ্রামে হয় এই বড়মার পুজো।প্রায় পাঁচশো বছর আগে মুর্শিদাবাদের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিলো ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির এবং মন্দিরের সামনে ছিলো বিশাল বিল। বিলের জলে জেলেরা মাছ ধরতে নামার আগে দেবী কালিকাকে তুষ্ট করে তবে নামত জলে।রাতের বেলায় ডাকাত রা এসে এখানে কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো।সেই সময় থেকেই এই খানে পুজোয় এক অদ্ভুত রীতি অনুসরণ করা হয়। এক রাতের মধ্যে মূর্তি তৈরি করে রাতেই বিসর্জন দেওয়া হতো বিলের জলে। সকালে গ্রামবাসীরা প্রাচীন বট গাছের নীচে ফুল, বেলপাতা, সিঁদুর পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিন্তু, মুর্তি কেউ দেখতে পাননি।এই দেবী বর্তমানে ঋষি পুরের বড়মা নামে প্রসিদ্ধ। সেই জেলেরাও নেই সেই ডাকাতরাও নেই। এখন পূজোর ভার গ্রামবাসি দের উপর। তারাই পরম ভক্তিতে সব রীতি মেনে বড়মার পুজো করে।বড়মা রূপে দেবী কালীই পূজিত হন।কৌশিকী অমাবস্যা সহ প্রতি অমাবস্যায় বড়মার বিশেষ পূজোর আয়োজন করা হয় । কোনও আড়ম্বর শোভাযাত্রা ছাড়া গভীর রাতে বিলের জলে বিসর্জন দেওয়া হয় ঋষিপুরের বড়মাকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবীর গায়ের গয়না-সহই বিসর্জন হয়।এখানে কারুর মনোস্কামনা পূরণ হলে তিনি কালী মূর্তি প্রদান করেন তাই বহু কালী মূর্তি একসাথে জমা হয় এবং ঋষিপুরে কালীপুজোর রাতে এক সঙ্গে পুজো হয় একাধিক মূর্তির। যদিও মূল মূর্তি বড়মা।বাকি মূর্তিগুলি তারসাথেই তার পুজো হয়।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতী এই পূজোর অন্যতম বৈশিষ্ট জনশ্রুতি অনুযায়ী এক মুসলিম গুড় বিক্রেতা একবার এইখানে বটগাছ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সে সময় স্বপ্নাদেশ পান বড়মা গুড় খেতে চেয়েছেন। তিনি গুড় অর্পণ করেন দেবীর উদ্দেশ্যে তারপর থেকে আজও সেই মুসলিম পরিবার আখের গুড় পাঠায় পুজোর সময়। উভয় সম্প্রদায় পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।বড়মা সম্পর্কে আরো একটি অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়, এক বছর বিসর্জনের সময় দেবী মূর্তির গা থেকে গয়না খুলে নিতে গিয়েছিলেন পুরহিত। সে সময় কালী মূর্তিতে আগুন ধরে যায়। তারপর থেকে আর অলংকার খোলা হয়না সোনার অলংকার সহ বিসর্জন হয় আবার অলংকার তৈরী করা হয় নতুন করে। বহু বছর ধরে এই রীতি চলছে বড়মার পুজোয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। এই কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ