Home Blog Page 74

একান্ন পীঠ – জয়ন্তী

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে যে শক্তি পীঠটি নিয়ে আলোচনা করবো তার সঠিক অবস্থান নিয়ে কিঞ্চিৎ বিতর্ক আছে।আজকের পর্বে শক্তি পীঠ জয়ন্তী নিয়ে লিখবো ।
অনেকের মতে এই শক্তি পীঠের প্রকৃত স্থান পশ্চিমবঙ্গর হাওড়ার কোনো এক স্থানে আবার অনেকে মনে করেন ভারত ভূটান সীমান্তে এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই পীঠ অবস্থিত।তবে বাংলা দেশের শ্রীহট্টর জয়ন্তী অঞ্চলে এই শক্তি পীঠ অবস্থিত বলেই বেশি ভাগ শাস্ত্রজ্ঞ মনে করেন এবং এখানেই আছে দেবীর মন্দির।জ্ঞানার্ণব তন্ত্র ও বিশ্বসার তন্ত্রে এই স্থানের উল্লেখ আছে ।
পুরান মতে এই স্থানে সতীর ‘বামজঙ্ঘা’ পতিত হয়ে ছিলো । দেবী জয়ন্তীর ভৈরব ক্রমদীশ্বর শ্রীহট্ট জেলার অন্তর্গত জয়ন্তিয়া নামক পার্বত্য অঞ্চলে
রয়েছে দেবীর মন্দির। দুর্গম পাহারে চারকোণা অগভীর গর্তের মধ্যে একটি চৌকো পাথরের মধ্যে দেবীর অবস্থান ।
মন্দিরের অনতিদূরে আর একটি কুণ্ড আছে। স্বচ্ছ জলের এই কুন্ডের জলে দেবীর পূজো হয় । মন্দিরের থেকে অল্প দূরে আর একটি শিবলিঙ্গ দেখা যায়।পাহাড়ে তিনটি গুহা । খুব সরু এবং দুর্গম প্রবেশ পথ । তিনটি প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি প্রাচীন গুহা আছে । একটি হল মহাকাল ভৈরবের গুহা। একটি জয়ন্তী রূপী মহাকালী মায়ের গুহা। অপর একটি গুহাতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ দেখা যায়।এখানে শিবলিঙ্গ ও শয়ম্ভু।
বহু কাল পূর্বে এই পাহাড়ে জয়ন্তীর রাজা দেবীর পুজো করতেন । পাহাড় কেটেই এক কালে তৈরী হয়েছিলো মন্দির যা আদতে গুহারই অংশ বলে মনে করা হয়।মন্দির তৈরীর সাথে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা।স্থানীয় আদিবাসী গ্রামের এক আদিবাসী সর্দার স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে দেবীর পুজো শুরু করেন সেই সময়ে আদিবাসী মেয়েরা খড় বাঁশের মন্দির নির্মাণ করে দেবী আদ্যা শক্তি ও শিবের পূজা করতেন। পড়ে স্থানীয় রাজা মন্দির নির্মাণ এবং পুজোর দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। সেই থেকে এই দেবী রাজ পরিবারের পৃষ্ঠেপোষকতায় পূজিতা হন।
শোনা যায় এক সময়ে শ্রীহট্টের এই মন্দিরে জয়ন্তীর রাজা দুর্গাপূজার নবমীর দিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বলী দিতেন।পুজো হতো তন্ত্র মতে।পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে রাজ তন্ত্রর অবসান ঘটলে বলী প্রথা বন্ধ হয়।
আজও এই শক্তি পীঠ অসংখ্য তন্ত্র সাধক ও মাতৃ সাধকদের আস্তানা। বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখানে আগত ভক্তরা আজও পদে পদে অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি অনুভব করেন
ফিরে আসবো অন্য এক শক্তি পীঠের কথা নিয়ে আগামী পর্বে যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – জ্বালা মুখী

আজকের শক্তিপীঠ পর্ব জ্বালামুখী নিয়ে।ভারতের হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকায় অবস্থিত জ্বালা মুখী শক্তি পীঠ।
ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যেও এই পীঠের উল্লেখ আছে, সেখানে বলা হচ্ছে-
“জ্বালমুখে জিহ্বা তাহে অগ্নি অনুভব
দেবী অম্বিকা নাম উন্মত্ত ভৈরব”
পুরান মতে এখানেই কালীধর পাহাড়ে কোথাও দেবী সতীর জিহ্বা পতিত হয়েছিল।
এই শক্তি পীঠে দেবতাদের তেজ সম্পন্ন হয়ে একটি অগ্নিশিখা সর্বদা নাকি জ্বলছে সেই থেকেই নাম জ্বালা মুখী।রাজা ভূমিচন্দ্র সেই স্থানের অনেক সন্ধান করেন কিন্তু খুঁজে না পেয়ে নগরকোটের সামনে একটি দেবীর মন্দির নির্মাণ করেন পরে একদিন রাজা এক গোয়ালার কাছে দেবীর অগ্নি শিখার কথা শুনলেন এবং সেই স্থান খুঁজে পেয়ে সেখানেই দেবীর মন্দির নির্মাণ করলেন ।মহাভারত কালে নাকি পঞ্চপাণ্ডব এই স্থানে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন এমনটাও শোনা যায়|
বহু কিংবদন্তী ও অলৌকিক মহিমা প্রচারিত আছে এই শক্তি পীঠ ঘিরে|এই পীঠের দেবী হলেন- সিদ্ধিদা আর ভৈরব হলেন উন্মত্ত । আবার কারোর মতে এই পীঠের দেবী হলেন অম্বিকা, ভৈরব হলেন উন্মত্ত |মন্দিরের কাছেই এক পাহাড়ে ভৈরব বিরাজমান |
মায়ের মন্দিরে কোনো বিগ্রহ নেই|এক জ্বলন্ত দিব্য অগ্নি শিখাকে দেবী রূপে পূজা করা হয়|মায়ের মন্দিরের উত্তর দিকের দেওয়ালের মাঝে মায়ের মূল জ্যোতি বা আগুনের শিখা বিরাজমানা|বলা হয় এই আগুনের শিখাই হলেন মা জগদম্বা সিদ্ধিদা বা অম্বিকা যা জ্বালামুখী নামেই বেশি বিখ্যাত ভক্তেরা যে যে নামে ডাকবে মা তাদের কে সেই রূপেই কৃপা করবেন । এই আগুনের শিখা অনবরত জ্বলছে| কোনদিন নেভেনি |
বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই শক্তি পীঠ| মুঘল সম্রাট আকবর, দেবীর মহিমা প্রত্যক্ষ করতে একবার এই পীঠে আসেন। আবুল ফজলের রচিত ‘আইন- ই – আকবরি’ তেও এই পীঠের কথা উল্লেখ আছে।দেবীর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমান পেয়ে আকবর দেবীর মহিমা স্বীকার করেন এবং দেবীর মন্দিরে একটি সোনার ছাতা প্রদান করেন|
একবার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে ফিরোজ শাহ জ্বালা দেবীর মন্দির লুঠপাঠ ও ধ্বংস করার জন্য রওনা হয়েছিলেন কিন্তু পথে এক জায়গা তে তারা মৌমাছিল আক্রমণের শিকার হলেন| কাতারে কাতারে ফিরোজের সেনারা মৌমাছির বিষাক্ত হূলে মারা পড়তে লাগলো|অবশেষে ফিরোজ শাহ পরাজয় স্বীকার করে পিছু; হটলেন|মনে করা হয় দেবীর ইচ্ছাতেই মৌমাছির আক্রমণের স্বীকার হয়েছিলেন ফিরোজ শাহ|কিছু ঐতিহাসিকের মতে ঔরংজেবও এই মন্দির ধ্বংস করতে চেয়ে ব্যর্থ হন|শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিং এই মন্দিরে তাঁদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থসাহিব’ নিত্য পাঠ ও দেবীর পূজা করতেন । তিনি ১৮১৫ খ্রীঃ মন্দির সংস্কার করে এক ভব্য মন্দির নির্মাণ করেন|পরবর্তীতে মহারাজা রঞ্জিত সিং দেবীর মন্দিরের চূড়া শোনা দিয়ে বাধিয়ে দেন।
বর্তমানে প্রায় সারা বছরই এই মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে| মন্দিরের তোরণদ্বার টি বিশাল। দুপাশে দুটি বাঘের মূর্তি এত সুন্দর মনে হয় যেনো জীবন্ত। বাঘ হল ভগবতীর বাহন । তাই মায়ের মন্দিরে মায়ের বাহন কেও পূজা করা হয় । এর পর সূর্য কুন্ডের পাশ দিয়ে মন্দিরের দিকে যেতে হয় । সূর্য কুন্ড এক অপূর্ব দিব্য অলৌকিক কুন্ড। মানুষের বিশ্বাস এখানে স্নান করলে সর্ব পাপ নাশ হয় । মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে রুদ্রকুন্ড, গোমুখী, ব্রহ্মকুন্ড নামক তিনটি কুণ্ড| রুদ্রকূন্ডর জল অনবরত ফোটে তবে তাপমাত্রা কম।
এই পবিত্র জল স্পর্শের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়| প্রথা অনুসারে এই পীঠ দর্শন করে এখানে একটি অতি প্রাচীন ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির দর্শন করতে হয় এবং শেষে উন্মত্ত ভৈরবের পুজো করতে হয়।
আজ এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো পরবর্তী একান্ন পীঠ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – প্রয়াগ

সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত একান্ন
পীঠের অন্যতম শক্তি পীঠ হল উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের ত্রিবেণী সঙ্গমে অবস্থিত প্রয়াগ শক্তিপীঠ যা নিয়ে আমার আজকের পর্ব।
প্রয়াগে গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মিলন স্থলে অবস্থিত এই শক্তিপীঠ প্রয়াগ শক্তিপীঠ নামেই বিখ্যাত।পুরান অনুসারে এখানে সতীর হাতের দশটি আঙুল পতিত হয়েছিল। এখানে অধিষ্ঠিত দেবীকে অলোপি মাতা বা ললিতা রূপে পুজো করা হয় এবং দেবীর ভৈরব হলেন ভব যিনি অনেকের কাছে বেনীমাধব।
অলোপী কথার অর্থ হল লুপ্ত না হওয়া।সতীর দেহ যখন বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের আঘাতে খন্ড-বিখন্ড হয়ে যাওয়ার পরেও দেবীর অস্তিত্ব রক্ষিত ছিল তার দেহ খণ্ড গুলির মধ্যেই। তাই লুপ্ত হয়ে লোপ না পাওয়ায় দেবীর নাম হয় অলোপি।
প্রাচীনকালে এই ত্রিবেণী সঙ্গম অঞ্চল ঘন বন জঙ্গলে ঢাকা ছিল, আর সেই সব ঘন জঙ্গলে থাকতো দুর্ধর্ষ সব ডাকাত। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যখনই কোন বিবাহ যাত্রীর দল যেত, ডাকাতরা তাদেরকে আটক করে সর্বস্ব লুট করে নিত।
সেই সময়ে দেবী ললিতা রূপে এই অঞ্চলের রক্ষাকত্রী রূপে দেখা দেন।
আবার পুরান মতে সত্য যুগে ভন্ডাসুর নামে এক অসুর শিবের বর পেয়ে দেবতাদের হেনস্থা করতে শুরু করে।স্বর্গ অধিকার করে নেয়ার উপক্রম দেখা দিলে ইন্দ্র এবং আরও অন্যান্য দেবতারা যজ্ঞের মাধ্যমে মহাশক্তির জাগরণ ঘটান।তখনই যজ্ঞের আগুন থেকে রক্ত বস্ত্র পরিহিতা চতুর্ভূজা দেবী ললিতার আবির্ভাব ঘটে। ভন্ডাসুর এর সঙ্গে যুদ্ধ করে সর্বলোক পুনরায় অসুর মুক্ত করে দেন।
দেবীর সেই ললিতা রূপেই এই শক্তিপীঠে
পূজিতা হন।
প্রয়াগ শক্তিপীঠে মূলত তিনটি মন্দির আছে, অক্ষয়বট, মীরাপুর এবং অলোপি।
এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এখানে একটি পালকিকে দেবী রূপে পূজা করা হয়।তার একটি কারন হলো দেবী পালকিতে করে নববধূ রূপে এখানে আবীরভূতা হয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।
যদিও পালকির পাশাপাশি দেবীর নব দুর্গা রূপের পুজোও হয় দেবীর বেদির নিচে একটি গর্ত তে জল আছে। মনে করা হয় যে, এই জল আসলে স্বয়ং মা গঙ্গার। অক্ষয় বটের নিচে দেবীর
ভৈরবের মন্দির রয়েছে।
প্রয়াগ এই জায়গাটি সাধারণভাবে কুম্ভ মেলার জন্য বিখ্যাত হলেও প্রয়াগ শক্তি পীঠে নবরাত্রি উৎসব খুবই জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয়।নবরাত্রীর সময় এখানে প্রচুর লোক জমা হয়, নিয়ম মত নারকেল ফাটিয়ে নারকেলের জল দেবীকে অর্পণ করে অর্ধেক নারকেল মন্দিরের সমর্পণ করেন ভক্তরা।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি শক্তিপীঠের কথা নিয়ে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – উজানী

বাংলায় অবস্থিত একান্ন পীঠের অন্যতম সতীপীঠ উজানি প্রসঙ্গে আজকের একান্ন পীঠ পর্ব।পীঠনির্ণয় তন্ত্র মতে উজানী হলো ত্রয়োদশ সতীপীঠট।
পৌরানা অনুসারে উজানীতে সতীর বাঁ হাতের কনুই পড়েছিল। এখানে দেবী মঙ্গলচন্ডী রূপে পূজিতা হন এবং দেবীর ভৈরব হলেন কপিলেশ্বর।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কোগ্রামে এই শক্তি পীঠ অবস্থিত।
অন্নদা মঙ্গল গ্রন্থ অনুসারে ধনপতি সওদাগর ছিলেন শিবভক্ত তিনি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করতে অস্বীকার করেন।একবার বাণিজ্যে বেরোবার আগে তিনি মায়ের ঘটে লাথি মেরে বাণিজ্যে গিয়েছিলেন। দেবীর আক্রোশে তিনি আর উজানি নগরে ফিরে আসেননি।সওদাগরের স্ত্রী খুল্লনা মা মঙ্গলচন্ডীকে পুজোয় সন্তুষ্ট করে তার স্বামীর ফিরে আসবার জন্য প্রার্থনা করতেন।সবাই যখন সওদাগরের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে মা মঙ্গল চন্ডীর কৃপায় অলৌকিক ভাবে সওদাগর একদিন ফিরে আসেন। সেই থেকে মর্তে মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর প্রচলন হয় ।
বর্তমানে অজয় নদের পাড়ে এই মন্দির অবস্থিত।
মূল মন্দিরটিতে প্রথমে একটি বারান্দা আছে। তার ভিতরে আয়তাকার গর্ভগৃহ। এই গর্ভগৃহের মধ্যে মা মঙ্গলচণ্ডীর ছোটো কালো কষ্টি পাথরের দশভূজা মূর্তি রয়েছে। দেবী মঙ্গল চন্ডীর মূল মন্দিরের সামনে একটি ছোট নাটমন্দির রয়েছে ।
দেবীর ভৈরব কপিলাম্বর শিব লিঙ্গ আছে মন্দির চত্বরে শিবলিঙ্গের সামনে নন্দীর কালো পাথরের একটি ছোট মূর্তিও আছে।
দেবী উজানী বা মঙ্গল চন্ডী এই অঞ্চলে অত্যান্ত জাগ্রত এবং দয়াময়ী। তার কৃপা পেতে বহু দূর থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন। দেবীর মন্দিরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবার বিশেষ পুজো হয়।কোগ্রামের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব হচ্ছে উজানির মেলা।এছাড়াও সারাবছরই এখানে দুর্গাপূজা , কালীপুজো সবই হয়।তবে কোনো আলাদা মূর্তি হয় না ।সারাবছর দেবীর অন্ন, ভাজা,
ডাল, পায়েস , মাছ ইত্যাদি সহকারে নিরামিষ ভোগ হয়।শুধু মাত্র দুর্গাষ্টমীর দিন
দেবীকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়।
আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা
নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – মেলাই চন্ডী

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে বাংলারই একটি তথাকথিত কম জনপ্রিয় কিন্তু অত্যান্ত জাগ্রত এবং তাৎপর্যপূর্ণ শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো ।
আজকের পর্বে বিতর্কিত শক্তি পীঠ মেলাই চন্ডী|
শুরুতেই এই শক্তিপীঠ কে বিতর্কিত বললাম তার
কারন এই পীঠ সর্বজন স্বীকৃত নয় অর্থাৎ পীঠ নির্ণয় তন্ত্রে এই পীঠকে শক্তিপীঠের মর্যাদা দেয়া হয়নি তবে অন্য কিছু প্রাচীন শাস্ত্রে মেলাই চন্ডীকে পীঠ হিসাবেই দেখানো হয়েছে|১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যে আমতার মেলাইচণ্ডীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
যারা বিশ্বাস করেন এটি শক্তিপীঠ তারা মনে করেন দেবী সতীর হাঁটুর মালাইচাকী পতিত হয়ে ছিলো এই স্থানে এবং সেই কারনেই এই পীঠ মালাই চন্ডী নামে পরিচিত|
আরেকটি ভিন্ন মত অনুসারে এই প্রাচীন দেবী মন্দির ও তার পুজো কে কেন্দ্র করে এক কালে বিরাট মেলা বসতো এই অঞ্চলে এবং দেবী এখানে চন্ডী রূপে পূজিতা তাই বহু মানুষের মিলন স্থল এই চন্ডী মন্দির লোক মুখে হয়ে ওঠে মেলাইচন্ডীর মন্দির দেবী প্রসিদ্ধ হন মেলাই চন্ডী রূপে।
প্রচলিত একটি জনশ্রুতি আছে যে দামোদর নদ দিয়ে যেসব সওদাগর যাতায়াত করতেন। তাঁরাই মেলাইচণ্ডীকে স্থাপন করেন নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। পরে জটাধারী চক্রবর্তী নামের এক ব্রাহ্মণ স্বপ্নাদেশ পেয়ে জয়ন্তী গ্রাম থেকে প্রস্তররূপী দেবীকে আমতায় নিয়ে আসেন এবং দেবীকে স্থাপন করেন।সেই অর্থে তিনিই এই মেলাই চন্ডী দেবীর প্রথম সাধক এবং প্রতিষ্ঠাতা।
পরবর্তীতে কলকাতার হাটখোলার নামকরা লবন ব্যবসায়ী কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত স্বপ্নাদেশ পেয়ে মেলাইচণ্ডী মন্দির নতুন করে নির্মাণ করে দেন|
বর্তমানে যে মন্দির দেখা যায় ১৩০৯ সালে সেই মন্দিরের সংস্কার হয়েছে।
মূল মন্দিরের মাঝখানে চাতাল ও উঁচু বেদিযুক্ত দুর্গা মণ্ডপ। একটু ঢুকে উপাসনা গৃহ|এই মন্দিরে দেবীর সম্পূর্ণ রূপ নেই। মুখ মন্ডল মালাইচাকির আদলে তৈরি হয়েছে।এখানে দেবীর বাহু এবং পদযুগল নেই।
যদিও সতীর দেহের আসল প্রস্তুরীভূত মালাই চাকি ঠিক কোন স্থানে অবস্থান করছে সুস্পষ্ট ভাবে জানা যায়না।মূলত একটি গোলাকৃতি প্রস্তর খণ্ড এখানে পূজিতা হয় এবং মনে করা হয় এটি সেই আদি প্রস্তুরীভূত দেহখন্ড হতে পারে।
এই দিব্য শীলা খন্ডের পুজোর পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ তিথিতে ঘট হিসেবেও দেবী মেলাই চন্ডীর পুজোর রীতি রয়েছে|
প্রতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন মালাই চন্ডীতে
প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় এবং দুর্গোপুজার সময় এখানে মহোৎসব হয়। দেবী এখানে দুর্গা ও চণ্ডী উভয় রূপেই পুজিত হন। দেবীর সঙ্গে তার ভৈরবকেও নিষ্ঠা সহকারে পুজো করা হয় |
পুজো উপলক্ষে অসংখ্য মানুষের জমায়েত হয় এই পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গনে|মা মালাই চন্ডী কে প্রনাম জানিয়ে আজকের একান্ন পীঠ পর্ব শেষ করলাম|
দেখা হবে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – কিরিটেশ্বরী

বাংলার জেলা গুলির মধ্যে ঐতিহাসিক দিক দিয়ে একসময় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো মুর্শিদাবাদ। সাধারণত মুর্শিদাবাদ বলতেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজ দৌলা, পলাশীর যুদ্ধ, মতি ঝিল, হাজার দুয়ারী, ইমামবারার ছবি কিন্তু এই মুর্শিদাবাদেই রয়েছে অন্যতম জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ এক সতী পীঠ যার নাম কিরীটেশ্বরী। এই পীঠকে

কেন্দ্র করে অলৌকিক ঘটনা বা কিংবদন্তীর শেষ নেই।

 

প্রাচীন ইতিহাস অনুসারে এই স্থানের নাম

ছিল কিরীটকণা। অনেকে মনে করেন এখনে সতীর মুকুটের বা কিরিটের কণা পড়েছিল। আবার কেউ বলেন কিরীট অর্থে এখানে ললাট বা কপাল বোঝানো হয়েছে।তবে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সেবাইত দের অনেকেই বলেন কিরীট কথাটি এসেছে করোটি বা মাথার খুলি থেকে। সেই থেকে দেবীর করোটি এখানে পতিত হয়ে ছিলো।

শুধু তাই নয় সেই করোটির টুকরো প্রস্তুরীভূত অবস্থায় আছে বলেই অনেকে মনে করেন।

তাই করোটি থেকে কিরীটী নাম হয়েছে বলেই তাদের ধারনা।

 

পৌরাণিক ব্যাখ্যা যাই হোক মন্দিরটি বেশ প্রাচীন এবং আদি মন্দির ঠিক কবে কে স্থাপন করেছেন তা স্পষ্ট ভাবে বলা না গেলেও বর্তমান মন্দিরটি বাংলার ১১০৪ সালে নাটোরের রানি ভবানী প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তী সময়ে মহারাজা

যোগেন্দ্রনারায়ণ রাই ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে নবরূপে

এই মন্দিরের সংস্কার করেন।

 

তিন ধর্মের স্থাপত্যের মিশেল রয়েছে এই মন্দিরে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও ইসলাম ধর্মের স্থাপত্য শৈলীর অতি সুন্দর এবং যথাযত ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়

এই মন্দিরে।মা কিরীটেশ্বরী এখানে

দক্ষিণাকালী রূপে ধ্যানআসনে পূজিতা।

নিয়ম প্রত্যেক নিশি রাতেই মায়ের পুজো হয়।

 

শোনা যায় বৃদ্ধ বয়সে নবাব মীরজাফর যখন দুররোগ্য কুষ্ট রোগে আক্রান্ত হন

এই মন্দিরের চরণামৃত গ্রহণ করে কুষ্ঠ রোগ

থেকে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে কিরীটেশ্বরীতে একটি পুস্করিণী খনন করে দেন

নবাব মীরজাফর। মন্দিরের পাশে করা সেই পুষ্করিণী কালী সাগর নামে পরিচিত।

 

বহু সতী পীঠ নিয়ে আলোচনা এখনো বাকি আছে।

চলতে থাকবে একান্ন পীঠ নিয়ে এই

বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনা।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ধনতেরাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

আজকের পর্ব ধনতেরাস নিয়ে। আজ জানবোএই উৎসবের সাথে জড়িত এক অদ্ভুতপৌরাণিক ঘটনা এবং এই উৎসবের শাস্ত্রীয় বা আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক গুরুত্ব|এক সময়ে শুধু মাত্র অবাঙালিদের মধ্যে এর প্রচলনথাকলেও এখন বাঙালিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসব। এই উৎসবে মূলত সোনা কেনা হয়।ধনতেরাসের পরের দিন নরক চতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী।প্রাচীন কালে ভারতবর্ষে এক রাজা ছিলেন, তার নাম ছিলো রাজা হিমা, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার, হিরে,জহরতের উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়।এই ঘটনার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো যার প্রতি দেবী লক্ষী প্রসন্ন হন তিনি তার ঐশর্য এবং সম্পদের বলে প্রতিকূলতা জয় করেন।দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্সব। এর আর এক নাম আছে— ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। ‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন|ভারতে ধনতেরাস উত্সব উদযাপিত হয় সোনা, রুপো বা বাসন কিনে। একে সৌভাগ্যের লক্ষণ বলা হয়।যারা প্রতিকার রূপের রত্ন, রুদ্রাক্ষ বা যন্ত্র ধারণ বা স্থাপন করতে চান তাদের জন্য এই সময় শ্রেষ্ঠ সময়।সবাইকে ধনতেরাসের শুভেচ্ছা।সামনেই দীপাবলী। চলছে কালী কথা। আগামী পর্বে যথা সময়ে ফিরে আসবো কালী কথার একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – সিংহবাড়ির কৌটো কালীর কথা

দীপাবলী উপলক্ষে শুরু করেছি কালী কথা।

কালী কথা মানে দেবী কালিকার মাহাত্ম তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যার পাশাপাশি সারা বাংলা জুড়ে অবস্থান করা অসংখ্য কালী মন্দিরের কথা আপনাদের সামনের তুলে ধরা।আজ লিখবো চন্দ্র কোনার সিংহ বাড়ির কৌটো কালীর কথা। দেবীর কেনো এই অদ্ভুত নাম তা পরে জানাচ্ছি আগে এই পুজো সম্পর্কে কিছু তথ্য জানিয়ে দিই।

প্রায় তিনশো বছর ধরে চন্দ্রকোণা এক নম্বর ব্লকের পুড়শুড়ি গ্রামে পূজিতা হয়ে আসছেন সিংহ পরিবারের কৌটো কালী মা|মনে করা হয় পুড়শুড়ি গ্রামের সিংহ পরিবারের এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন জমিদার রাম চন্দ্র সিংহ ১২৭৪ সালে |নিয়ম অনুযায়ী, দেবী প্রতিমাকে পুরোহিত ছাড়া কেউ দর্শন করতে পারেন না। মহিলারা তো রীতিমতো ব্রাত্য মাতৃদর্শনে। এমনকি ওই পরিবারের বাড়ির লোকজনও মাতৃদর্শন করেন না|পুজোর সব দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় ঘোষ পরিবার সিংহ পরিবার কেবলমাত্র অতিথি হিসেবে থাকে|

এই দেবীর পুজো ও মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কিছু বিচিত্র প্রথা যা শুনতে বেশ অদ্ভুত লাগে|কয়েকশ বছর ধরে এই রীতি নীতি পালিত হয়ে আসছে এখানে|কৌটো কালী মাকে বিষ্ণু মন্দিরে ঠাঁই দেন জমিদার নীলকন্ঠ সিংহ। ক্ষুদ্রকৃতি মা কালী সারা বছর বিষ্ণু মন্দিরেই অধিষ্ঠান করেন একটি কৌটোর মধ্যে শুধু কালীপুজোর সময় মাত্র চার ঘন্টার জন্য মন্দির থেকে দেবী প্রতিমাকে বার করা আনা হয়| আবার পুজো শেষে তাকে কৌটোর মধ্যে রেখে দেয়া হয়।সেই কারণেই দেবী এখানে কৌট কালী নামে প্রসিদ্ধ|

আজও পুজো উপলক্ষে দেবীর সামনে দেওয়া হয় ছাগল বলিও। রীতি মেনে চার ঘন্টার মধ্যে পুজো ও ছাগল বলি সম্পন্ন করে, ফের দেবীপ্রতিমা বিষ্ণু মন্দিরে রেখে আসেন পুরোহিত| এই ভাবে নিয়ম ও প্রথা মেনে প্রতিটি বিশেষ তিথি তে এখানে কালীপূজা হয়|স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় দেবী কৌটা কালী।

আগামী পর্বে আবার কোন বিশেষ কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো কালী কথা পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী বাগেশ্বরী

বাংলার জাগ্রত কালী মন্দির গুলি নিয়ে অনেক
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় বাগনানের বৃন্দাবনতলার মাঠের মন্দিরে বিরাজমান দেবী বাগেশ্বরী এবং তার নামানুযায়ী এই স্থানটির নাম আজ বাগনান।আজকের পর্বে দেবী বাগেশ্বরী প্রসঙ্গে জানবো।

জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ।
একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়
এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে।শোনা যায় তৎকালীন মহারাজা কালীভক্ত মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ এক রাতে দক্ষিণা কালীকে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং স্বপ্নে মা দক্ষিণা কালী স্বয়ং মহারাজাকে দামোদরের তীরে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং নিমকাঠের মূর্তি তৈরী করার নির্দেশ দেন শুধু তাই নয় দেবী এও বলেন মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিমকাঠ নিজে থেকেই ভেসে আসবে দামোদর নদীতে। বাস্তবেও তাই হয়।মন্দির তৈরী হয়ার পর সত্যিই একদিন জলের স্রোতে ভেসে এসেছিল নিমগাছের প্রকাণ্ড এক গুঁড়ি। সেই গুঁড়ির কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল আকৃতির দক্ষিণা কালী এবং দেবীর পদতলে থাকা মহাদেব।

শাস্ত্র মতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয়েছিলো পুজো এবং দ্রুত বাগেশ্বরী কালীর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। তাঁর করুণা লাভ করার জন্য তাঁর দরবারে আসতে শুরু করেছিলেন দেশ বিদেশের ভক্তের দল।সেই জনপ্রিয়তা এবং শ্রদ্ধা ভক্তি আজও অটুট আছে।আজও প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর দূর থেকে দেবীর পুজো অংশ নিতে আসেন মানুষ। কথিত আছে বাগনানের দক্ষিনা কালী কাউকে খালি হাতে ফেরান না।

দেবী বাগেশ্বরী আদতে দক্ষিনাকালীর এক রূপ।
স্থানীয় দের বিশ্বাস দেবী বাগনানের অভিভাবিকা তাই তাঁর অনুমতি ছাড়া বাগনানে কোনও শুভকাজ হয় না। বাগনান ও আশেপাশের অঞ্চলে কোনও শুভকাজ হলে, আগে মায়ের পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়াটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।

তবে অলৌকিক ঘটনা যে শুধু শুরুতেই ঘটেছে তা নয়। তারপরেও ঘটেছে।পরবর্তীতে দু বার এই বাগেস্বরী কালী মন্দিরের সংস্কার হয় এবং আশ্চর্য জনক ভাবে প্রতিবারই দেবীর মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীম কাঠ ভেসে এসেছিলো পার্শবর্তী দামোদর নদীর স্রোতে।

দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে
এই কালী কথা। ফিরে আসবো আগামী দিনে
নতুন পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আনন্দময়ী কালীর মাহাত্ম

সামনেই দীপান্বিতা অমাবস্যা । কালী কথা বলার এইতো শ্রেষ্ঠ সময়।আজকের পর্বে লিখবো শহর কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় এক কালী মন্দির নিয়ে যার প্রকৃত নাম আনন্দময়ী কালী হলেও অন্য একটি নামে বেশি জনপ্রিয়।বর্তমান হেঁদুয়ার কাছে রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে, বিখ্যাত বেথুন কলেজ থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত কলকাতার অন্যতম প্রাচীন আনন্দময়ী কালী মন্দির যা সবার কাছে বসা কালী মন্দির নাম খ্যাত|মন্দিরে উল্লেখিত তারিখ অনুসারে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল বাংলার ১১২৫ সালে|সেই সময়ে অঞ্চল ছিল স্থানীয় জমিদার পরিবার অর্থাৎ মিত্র পরিবারের জমিদারির অংশ|তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল এই মন্দির|দেবী কালী এখানে আনন্দ ময়ী রূপে পূজিতা হলেও একটি বিশেষ কারণে বসা কালী নামেই মন্দির বিখ্যাত|সে বিষয়ে পরে আসছি|আগে জেনে নেয়া যাক এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত এক অলৌকিক কাহিনী|শোনা যায় মিত্র পরিবারের এক পূর্ব পুরুষ বহুকাল পূর্বে স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তাদের জমিদারীর অন্তর্গত এক জঙ্গলময় স্থানে অযত্নে পড়ে আছে এলে কালী মূর্তি|পরবর্তীতে তিনি সেই স্থানে জান ও দেখতে পান এক অদ্ভুত কালী মূর্তি যা রয়েছে সম্পূর্ণ বসা অবস্থায়|সেই মূর্তি তুলে এনে নিষ্ঠা সহকারে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়|এবং পড়ে নির্মাণ করা হয় বর্তমান মন্দিরটি|বর্তমানে মুল মন্দিরটি লাল রঙের একটি দালান মন্দির|দরজার মুখেই রয়েছে হাড়িকাঠ|যেখানে বিশেষ বিশেষ তিথি তে বলী দেয়া হতো|মন্দির সংলগ্ন নাটমন্দির লাগোয়া গর্ভমন্দিরে শায়িত শিবের বুকে দেবী কালিকা বসে আছেন|দেবী এখানে ঘোর কৃষ্ণবর্ণা আর রয়েছে দেবীর পাহারাদার কালভৈরব|দেবীর জিভ সোনার । মাথায় রয়েছে মুকুট|দেবী আনন্দময়ী মাথাভরা চুল বুকের উপর দিয়ে এলিয়ে এসে পড়েছে পায়ের কাছে|দেবীর একহাতে খাড়া, অন্যহাতে অসুরের মুন্ডু। বাকি দুই হাতে অভয় মুদ্রা , বরদ মুদ্রা|দেবীর এই বসা রূপ একেবারেই অনন্যসাধারণ| এমনটা বাংলার আর কোথাও দেখা যায় না|এই বিশেষ রূপে কেবল মাত্র এখানেই দেবী বিরাজমানা|আর সেই থেকেই কালী ক্ষেত্রবসা কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ।দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে বিশেষ পূজা হয় যা দেখতে আসেন দূর দূরান্তের মানুষ তাছাড়া প্রতি দিনই নিত্যপুজো উপলক্ষে বহু মানুষ আসেন এখানে|আজও শোল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়ার প্রাচীন প্রথা এখানে বিদ্যমান|আজকের পর্ব এখানেই শেষ করলাম|পরের পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।