Home Blog Page 73

কালী কথা – চঞ্চলা কালীর পুজো

কালী কথা – চঞ্চলা কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বালুরঘাট শহরের প্রাচীন কালী পুজো গুলির অন্যতম চঞ্চলা কালী নিয়ে আজকের কালী
এই কথা পর্ব।

বালুরঘাট শহরের হোসেনপুরের কাছে চকবাখর গ্রামে রয়েছে চঞ্চলা কালী।প্রায় তিনশো বছর ধরে পুজো হচ্ছে।চঞ্চলা কালীর।যেখানে বর্তমানে কালী মন্দিরটি রয়েছে শোনা যায় কোনো এক সময়ে সেখান থেকে কিছু অলৌকিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তখন স্থানীয় রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজার মৃত্যুর পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এই এলাকার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় জমিদারের সহযোগিতায় আবার পুজোর সূচনা করেন।

প্রতি বছর দোলপূর্ণিমার পরের দিন গভীর রাতে চঞ্চলা কালীর পুজো হয়।সাধারণত কালীর পায়ের নিচে শিবের দেখা মিললেও এই কালীর পায়ের নিচে অশুর রয়েছে। অন্য পায়ের নিচে আছে সিংহ। বলা হয়, মহামায়া ও চামুণ্ডার এক রূপ এই চঞ্চলা কালী মাতা।দেবীর উচ্চতা সাড়ে দশ হাত এবং চঞ্চলা কালী মাতার হাতের সংখ্যা আট।

চঞ্চলা কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান কালী ও মাশান কালীর মন্দির। মা চঞ্চলার পুজোর পরের দিন তন্ত্র মতে এই দুই দেবীর পুজো হয়।
এখানে রয়েছে একটি পুকুর। জনশ্রুতি রয়েছে এই পুকুর থেকে একসময় পূজোর কাজের জন্য থালা-বাসন ভেসে উঠত। বর্তমানে এই পুকুরের জল দিয়ে মায়ের পুজো করা হয়।

প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো উপলক্ষে এখানে বহু ভক্ত আসেন।দেবী মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির যেখানে পুজোর সময় সারারাত মঙ্গলচন্ডীর গান শোনানো হয়।

শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় শুধু দক্ষিণ
দিনাজপুর জেলার নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ প্রতিবেশী রাজ্যের ভক্তরাও উপস্থিত হন।শোনা যায় ভক্তি সহকারে মায়ের পুজো করলে সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।
থাকবে কালী সংক্রান্ত এই ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আমডাঙার কালী মন্দিরের ইতিহাস

কালী কথা – আমডাঙার কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে জানাবো উত্তর চব্বিশ পরগনার আম ডাঙায় অবস্থিত একটি

প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা|

 

এই আম ডাঙ্গার কালী মন্দির উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে অবস্থিত প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম|এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন রাজা মান সিংহ|এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক অধ্যায়|

 

মুঘল সম্রাট আকবরের সৈনদল দু’বার রাজা প্রতাপাদিত্যের কাছে পরাজিত হন। মুঘল সম্রাটের বিশ্বাস ছিল, যশোরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে তার পর যুদ্ধ শুরু করতেন বলেই জয়লাভ করতেন প্রতাপাদিত্য। প্রতাপাদিত্যের এই রণকৌশল ভবিষ্যতে যাতে আর সফল না হয়, সেই পরিকল্পনা করতে মান সিংহকে নিয়োগ করেন সম্রাট আকবর। মান সিংহ শুরুতেই যশোরেশ্বরী মন্দির থেকে বিগ্রহ সরিয়ে দেন। প্রতাপাদিত্য সে কথা জানতে পারার পরেই রেগে ফেটে পড়েন এবং মন্দিরের পূজারী রামানন্দ গিরি গোস্বামীকে নির্বাসিত করে দণ্ড দেন|

 

নির্বাসিত হয়ে রামানন্দ এই আমডাঙ্গায় এসে উপস্থিত হন এখানে তখন ঘন জঙ্গল তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুখবতী নদী|পরবর্তীতে মান সিংহ স্বপ্নাদেশ পান, মায়ের ভক্ত রামানন্দ উন্মাদ অবস্থায় সুখবতী নদীর তীরে রয়েছেন, তাকে সুস্থ করে পুনরায় সাধন মার্গে ফিরিয়ে আনতে হবে। তারপর সেই স্বপ্নাদেশ মেনে ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দে আমডাঙা কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুর্লভ কষ্টিপাথর দিয়ে মা কালীর শান্ত মূর্তি

স্থাপন করেন করেন মান সিংহ|

 

পরোক্ষ ভাবে বাংলার নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা ও একটি বিশেষ কারনে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রর নাম ও জরিয়ে আছে প্রাচীন এই কালী মন্দিরের সাথে|পলাশীর যুদ্ধের আগের বছর অর্থাৎ ১৭৫৬

সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা অভিযানের সময় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এখানকার এই কালীমূর্তি দেখতে পান এবং প্রার্থনা করেন|পরবর্তীতে মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার পর তিনি এই মন্দিরে প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমি দান করেন যা এই মন্দিরের সম্পত্তি।

 

এই মন্দিরে কালী মূর্তি ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি প্রাচীন শিব মন্দির|বহু মানুষ এখানে আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে, মনোস্কামনা পূরণ হলে পুজো দেন তবে কালী পুজো উপলক্ষে ভিড় হয় সবথেকে বেশি|

 

আবার ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – লেক কালী বাড়ির ইতিহাস

কালী কথা – লেক কালী বাড়ির ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ফল হারিণী অমাবস্যা আমাদের তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এই তিথিতে দেবী ফল হারিণী রূপে আমাদের কৃপা করেন এবং তার কৃপায় কর্ম ফল খণ্ডন হয়। পবিত্র এই সময়ে কালী কথা বলার এবং শোনার আলাদা মহাত্ম আছে।আজ কালী কথায় আপনাদের কলকাতার অন্যতম প্রসিদ্ধ কালী মন্দির লেক কালী বাড়ির ইতিহাস আপনাদের জানাবো।

 

আমি যদি বলি শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী

কালীমাতা মন্দির অনেকেই হয়তো বুঝবেন না আমি কোন মন্দিরের কথা বলছি কিন্তু যদি লেক কালী বাড়ি বলি এক ডাকে সবাই চিনবেন|কারন ওই নামেই এই মন্দির বেশি পরিচিত যদিও পোশাকি নাম শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী

কালীমাতা মন্দির|

 

টালিগঞ্জ এর রবীন্দ্র সরোবর বা বিখ্যাত ঢাকুরিয়া লেক সংলগ্ন সাউদার্ন এভিনিউ এর পাশেই রয়েছে কলকাতারই এই প্রাচীন কালী মন্দির বা লেক

কালীবাড়ি|

 

সময়ের নিরিখে খুব বেশি প্রাচীন না হলেও কলকাতার পুরনো কালী মন্দির গুলির মধ্যে এই মন্দির নিঃসন্দেহে অন্যতম| স্বাধীনতার ঠিক দুবছর পর অর্থাৎ হাজার 1949 সালে স্থানীয় তন্ত্রসাধক হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন| শোনা যায় তন্ত্র সাধক হরিপদ চক্রবর্তী দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে একটি পর্ণকুটির নির্মাণ করে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজো শুরু করেন| পরবর্তীতে লোকমুখে ছড়িয়ে পরে এই দেবীর মাহাত্ম্য এবং ধীরে ধীরে সেই ছোট্ট কালী মন্দির আজকের মন্দিরের রূপ নেয়|

 

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটির নাম করুণাময়ী কালী|হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দিরে একটি পঞ্চ মুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে তন্ত্র সাধনা করতেন|নর মুন্ড দিয়ে নির্মিত সেই পঞ্চ মুন্ডির আসন আজও এখানে স্বজত্নে রক্ষিত রয়েছে|জনশ্রুতি অনুসারে সাধক হরিপদ চক্রবর্তী মা কালীর দর্শন লাভ করে ধন্য হয়েছিলেন|

 

বর্তমান মন্দির ভবনটি বছর দশেক আগে নতুন ভাবে সংস্কার করা হয়|মন্দিরে কালী মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে মা সন্তোষী, বগলা ও ধূমাবতীর মূর্তি যা এই শহরতলীতে আর বড়ো একটা চোখে পড়েনা।

 

প্রতি শনি বার ও মঙ্গলবার বিশেষ পূজা উপলক্ষে বহু মানুষের ভিড় হয় এখানে|বিশেষ বিশেষ তিথি তে দেবীর স্বর্ণ বেশও হয়|দীপান্বিতা অমাবস্যা বা কালীপুজো উপলক্ষে প্রতি বছর ব্যাপক

ভক্ত সমাগম হয় এই মন্দিরে|আজও তন্ত্র মতে সমস্ত উপাচার মেনে নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়।

শোনা যায় বহু মানুষের বহু মনোস্কামনা পূর্ণ হয়েছে এখানে এসে।

 

বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অতি প্রাচীন এবং গভীর তার তাৎপর্য।রয়েছে অসংখ্য কালী মন্দির এবং তাদের ঘটনা বহুল ইতিহাস।ধারাবাহিক ভাবে

সেই সব নিয়ে আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো

কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের একটি নয় একজোড়া কালী পুজোর কথা বলবো। এই কালী পুজো গোটা নদীয়া জেলায় জোড়া কালীর পুজো নামে প্রসিদ্ধ।নদিয়ার ভীমপুরের ময়দানপুরের কালীবাড়িতে একই মন্দিরে পাশাপাশি পূজিতা হন রক্ষাকালী ও দক্ষিণকালী এই দুটি রূপই।

 

এই পুজোর সূচনা হয় একটি অলৌকিক ঘটনার থেকে বহু বছর আগে এক কালীর পুজোর আগের রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্থানীয় এক মহিলা। দেবী তাঁকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছেই মনসা গাছ রয়েছে। সেই গাছের মাটির তলায় তাঁরা আছেন। তাঁদের মাটি থেকে তুলে পুজো করতে হবে।

 

প্রথমে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেননি।সবই

তার অলীক কল্পনা বলে মনে করেছিলেন সবাই শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁর জোরাজুরিতে শুরু হয় মাটি খোঁড়া। বেশ কিছুটা মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় জোড়া কালীমূর্তি। এরপর যেখান থেকে কালীমূর্তি দুটি উদ্ধার হয়, সেই মনসা গাছের পাশেই তৈরি করা হয় দেবীর বেদী।শুরু হয় পুজো। আজ সেই পুজোই জোড়া কালীর পুজো রূপে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোটা নদীয়া জেলায়।

 

এখনো জোড়া সেই মহিলার পরিবারের লোকজনই বংশপরম্পরায় এই পুজো করে চলেছেন।পাশাপাশি অসংখ্য ভক্ত যুক্ত হয়েছে এই পুজোর সাথে।

 

এই মন্দিরে দুই কালী প্রতিমার পাশে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তিও রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীকেও এখানে নিত্য পুজো করা হয়।বিশেষ তিথি তে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। নিত্য পুজোর পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।

কালীপুজোর দিনগুলোয় এই মন্দির পরিসর যেন বিরাট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুলসংখ্যক ভক্ত এখানে ভিড় করেন।

 

সামনেই ফলহারিণী অমাবস্যা । সেই উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে

আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের ইতিহাস

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় যে কালী মন্দির নিয়ে লিখবো সেই মন্দিরে এসে একবার শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ”ওরে এই মা সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তোদের যা যা কামনা তাই তিনি পূর্ণ করতে পারেন ” এই মন্দিরটি হচ্ছে কলকাতার প্রাচীন সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দির।

 

সে আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগের কথা তপস্বী কালীবর নামের এক মাতৃ সাধক হিমালয়ের এক গুহায় উপাসনা করতেন। একদিন স্বপ্নাদেশ পান তিনি। দেবী কালী তাঁকে বলেন, গঙ্গার তীরের এক জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন তিনি। তাঁকে সেখানেই পুজোর আদেশ দেন কালী।সেই স্বপ্নাদেশ পাথেয় পেয়ে কালীবর চলে আসেন বাগবাজারের গঙ্গাপাড়ে।তখন এই অঞ্চলে ঘন জঙ্গল, বন্য জীব আর ডাকাতেরা এলাকার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সেখানেই এক হোগলা বনের মধ্যে তিনি শুরু করেন দেবীর উপাসনা। ভক্তের পুজোয় তুষ্ট হন দেবী। তাঁর নির্দেশেই ওই স্থানেরই বেতবনে বসে কালীর মূর্তি। সেই দেবীর নাম হয় সিদ্ধেশ্বরী কালী।

সাধকের নাম অনুসারে এই কালীকে ‘কালীবরের কালী’ হিসাবেও প্রসিদ্ধ।আবার এক সময়ে

ডাকাতরা পুজো করতো বলে ডাকাত

কালী বলেও পরিচিতি আছে।

বর্তমানে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলির কাছে রবীন্দ্র সরণিতে রয়েছে সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ি

 

আবার ফিরে যাই সেই সুদূর অতীতে শোনা যায় এই মূর্তি স্থাপনের পরে কিছুদিন কালীবরের হাতে দেবী পুজো পেলেও পরবর্তীতে দেবীর পুজোর ভার বর্তায় এক সন্ন্যাসী কাপালিকের উপর। তিনিই গোলপাতার ছাউনির মন্দিরে শুরু করেন দেবীর আরাধনা। সেই সময়েই শুরু হয় বলী প্রথা। এমনকি সেকালে নর বলীও হতো বলে কিংবদন্তী আছে।

 

শোনা যায় একদিন গঙ্গায় ভেসে আসা দুই বালককে বলী দেবে ঠিক করে ডাকাতদল।

সেই বালকদের বাঁচান মন্দিরের পূজারী সেই কাপালিক। তারপর থেকে পুজোর রীতি নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। বন্ধ হয় বলী প্রথা। সেই বালক দুটির পরিবারকে পুজোর কিছু

দায়িত্বও দেয়া হয়।আজও চলছে এই সব রীতি নীতি।

 

প্রায় প্রতি অমাবস্যা তিথিতেই বিশেষ পুজো হয় তবে দীপান্বিতা অমাবস্যায় মহা সমারোহে পুজো

অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর পরনে থাকে বেনারসী আর দেবীর হাতে থাকে খরগ। পুজো হয় তন্ত্র মতে।

 

আবার ফিরে আসবো এমন একটি

ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীরভূমের উদয় পুরের ডাকাত কালী পুজো

বীরভূমের উদয় পুরের ডাকাত কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বীরভূমের তারাপীঠ থেকে কিছুদূরে অবস্থিত উদয়পুর এবং দেখুরিয়ার কালীপুজো। এই পুজো পাঁচশো বছরেরও বেশি পুরনো। আজ কালী কথায় এই কালীপুজো নিয়ে লিখবো।

 

এই কালী পুজোর সাথে জড়িত আছে সাধক বামা ক্ষেপার নাম।শোনা যায় সাধক বামাক্ষ্যাপা নিজের বাড়ির কালীপুজো করার পর এই গ্রামে কালীপুজো করতে আসতেন

 

এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল বর্ধমানের রাজারা। পরবর্তীtebবর্ধমানের রাজারা এই কালীপুজোর দায়িত্ব তুলে দেন স্থানীয় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের হাতে। তখন থেকেই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এই পুজো চালিয়ে আসছেন। এখানে দেবী মূর্তির রূপ ভয়ঙ্কর এবং বিশাল আকারের হয়ে থাকে।উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো শুরুর দিন থেকে আজও এখানে মা কালীর মূর্তির গায়ে কোন কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ভেষজ উপাদান এবং আঠা দুধ ও সর্ষের তেল মিশিয়ে রং তৈরি করে সেই রঙে প্রলেপ দেওয়া হয় প্রতিমার গায়ে।

 

এখনকার আটলা গ্রাম এক সময় ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। সেই সময়ে গভীর রাতে এখানে ডাকাতরা এসে পুজো করে ডাকাতি করতে বার হত। এক সময় তারাপীঠে দ্বারকা নদীর ওপর দিয়ে বণিকেরা নৌকা করে বাণিজ্য করতে বার হতেন।তখনই ডাকাতেরা সেই বণিক দের উপর লুঠ পাট চালিয়ে। সেই ডাকাতির জিনিসপত্র মা কালীর পায়ে অর্পণ করত। তাই এই কালীপুজো ডাকাতকালী নামেও পরিচিত।

 

ভট্টাচার্য পরিবারের বর্তমান বংশধর পূজার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।তার সাথে যোগ দেন এই এলাকার জন সাধারণ। সব মিলিয়ে উদয় পুরের এই কালী পুজো বাংলার অন্যতম প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ কালী পুজোর রূপ নিয়েছে।প্রতিটি বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জন সমাগম হয় এই স্থানে।

 

কালী কথার পরবর্তী পর্বে আবার ফিরে আসবো।থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং অলৌকিক কালী মন্দিরের কথা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বয়রা কালীর পুজো 

কালী কথা – বয়রা কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে সেজে উঠছে বাংলার প্রায় প্রতিটি কালী মন্দির কারন এই তিথি কালী সাধনা এবং তন্ত্র সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি।বাংলার এমনই এক প্রাচিন এবং অতি জাগ্রত কালী মন্দির উত্তর দিনাজপুরের বয়রা কালীর মন্দির যা নিয়ে আজকের কালী কথা।

 

বলা হয় যারা এই বয়রা কালীমন্দিরে একবার ঘুরে গিয়েছেন এবং পুজো দিয়েছেন তারা বারবার এখানেই ছুটে আসেন নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে এবং বয়রা কালী মন্দিরে এলে সব মনস্কামনা পূরণ হয়ে যায়।

 

এই মন্দিরের এই সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে

এখন যেখানে মন্দির আছে এককালে শ্রীমতি নদী।এই স্থান দিয়ে বয়ে যেতো এখন আর নদীর সেই গতি নেই। কিন্তু, একটা সময় এই শ্রীমতি নদী দিয়েই চলত ব্যাপক আকারে পণ্য পরিবহণ। বড় আকারের বাণিজ্য নৌকো নিয়েই শ্রীমতি নদী ধরে দূর-দূরান্তে যেতেন ব্যবসায়ীরা। সেই সময়ে নদী পথেই হতো বাণিজ্য।নদীতে ছিলো জল দস্যুর ভয়। এছাড়া বন্যা প্রাণী এবং ঝড় ঝঞ্জা তো ছিলই।

এসব বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পথে বয়রা গাছের নীচে দেবী কালীর মন্দিরে বণিকরা পুজো দিতেন। দেবীর নাম তাঁরাই দেয় বয়রা কালী।

 

পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে মজে যেতে শুরু করে শ্রীমতি নদী। এই নদীপথ দিয়ে বাণিজ্যযাত্রা ক্রমশ কমে যায়। দেবী বয়রা কালী ও সংলগ্ন অঞ্চল ধীরে ধীরে পরিণত হয় ঘন জঙ্গলে। যাতে ঢাকা পড়ে কালী মন্দির। সেখানে বণিকদের বদলে যাতায়াত শুরু করে ডাকাতরা। এই জঙ্গল পরিণত হয় ডাকাতদের অঞ্চলে। কিন্তু, সেই ডাকাতরাও দেবী বয়রা কালীর পুজো চালিয়ে যাওয়া শুরু করেন।সেদিক দিয়ে এই কালীকে ডাকাত কালীও বলা যায়।

 

পরবর্তী কালে বিশেষ করে ব্রিটিশ আমলে সাধারণ মানুষ নতুন করে এই মন্দিরে আসতে শুরু করেন।নানারকম মনস্কামনা পূরণ হওয়ায় দেবী বয়রা কালীর খ্যাতি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে।ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা নিযুক্ত এক দারোগা সেই সময়ের বয়রা কালীর পুজোর দায়িত্ব নেন।

তারপর সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষের চেষ্টায় আবার নতুন করে মন্দির তৈরী হয়। নিয়মিত পুজো শুরু হয়।

 

বর্তমানে প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় সাড়ম্বরে দেবীর পুজো হয়।বছরের বাকি অমাবস্যাগুলিতেও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।

 

এই মন্দিরে রয়েছে দেবী বয়রার অষ্টধাতুর মূর্তি। বিশেষ তিথিগুলিতে সোনার অলঙ্কারে দেবী কে সাজানো হয়। বয়রা কালীর অলৌকিক মাহাত্ম্যের কথা ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে।

 

বাংলার এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।পরবর্তী পর্ব নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বেত কালীর পুজো

স্বেত কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত কালী মানেই আমরা কৃষ্ণ বর্ণা দেবীকে বুঝি।শ্যামা রূপই দেবী কালীকা পূজিত হন সর্বত্র।

তবে আজ কালী কথায় এমন এক কালী পুজোর কথা জানাবো যেখানে দেবী কালো নন তিনি স্বেত বর্ণা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেই এটা সত্যি।

 

কুলটি তে রয়েছে এই অদ্ভুত কালী মন্দির যেখানে সাদা রূপে পূজিতা হন মা কালী|শোনা যায় এইরূপে ভবতারিণী প্রথম দর্শন দিয়েছিলেন সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।যাই হোক সে অন্য প্রসঙ্গ।এই কুলটির সাদা কালীর পুজো সাধক মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেন এখানে ।

 

দেবী কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। এই দেবী একইসঙ্গে অসুরদলনী ও অন্যদিকে রক্ষাকর্ত্রী এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূজারী মধুময় ঘোষ বলতেন দেবী কালিকা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিত্য পূজা করার জন্য। আর দেবী তার এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির সাদা কালী যাকে অনেকে ফলহারিণী কালীও বলেন।কারন এই কালীর পুজো করলে নাকি কর্মফল ভুগতে হয়না এবং ফল হারিণী অমাবস্যাই এই মন্দিরের প্রধান উৎসব

 

আজ সেই সাধকের পরিবারের সদস্যরা পুজো করে আসছেন পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। ফল হারিণী অমাবস্যা সহ প্রত্যেক অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।

 

পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়। প্রতিষ্ঠাতা মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।

বর্তমানে স্বেত কালী নিঃসন্দেহে বাংলার জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির অন্যতম।

 

কালী কথার পরবর্তী পর্বে থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং অলৌকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বর্ধমানের মহারাজার কালী পুজো

কালী কথা – বর্ধমানের মহারাজার কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একসময় অবিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যায় ছোটো স্থানীয় রাজ্য গুলি বেশ ক্ষমতাশালী এবং প্রভাব শালী ছিলো এবং এই সব রাজ্যের রাজাদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন বেশ ধার্মিক যেমন নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বা বর্ধমানের রাজা কন্দর্পনারায়ণ। তারা তাদের রাজত্ব কাকে নির্মাণ করেছেন একাধিক মন্দির।যার অনেকগুলি আজও টিকে আছেন।তেমনই এক মন্দির নিয়ে আজ

এই কালী কথা পর্ব।

 

বর্ধমানের মহারাজা কন্দর্পনারায় হাওড়া জেলায় বৃন্দাবনতলায় এক কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেবী দক্ষিনা কালী এখানে বাগেশ্বরী নামে বিরাজ করছেন।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়।শোনা যায় কালীভক্ত মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ এক রাতে দক্ষিণা কালীকে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং স্বপ্নে মা দক্ষিণা কালী স্বয়ং মহারাজাকে দামোদরের তীরে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং নিমকাঠের মূর্তি তৈরী করার নির্দেশ দেন শুধু তাই নয় দেবী এও বলেন মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিমকাঠ নিজে থেকেই ভেসে আসবে দামোদর নদীতে।ঠিক যেমন পুরীতে সমুদ্রে জগন্নাথদেবের মূর্তি তৈরীর জন্য দারুব্রহ্ম ভেসে এসে ছিলো।

 

শুধু সেই প্রথমবার নয় আশ্চর্য জনক ভাবে মন্দির সংস্কার এবং সেই উপলক্ষে নতুন প্রতিমা নির্মাণের সময় প্রতিবারই দেবীর মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীম কাঠ ভেসে এসেছিলো পার্শবর্তী দামোদর নদীর স্রোতে।

 

বাস্তবেও তাই হয়।মন্দির তৈরী হয়ার পর সত্যিই একদিন জলের স্রোতে ভেসে এসেছিল নিমগাছের প্রকাণ্ড এক গুঁড়ি। সেই গুঁড়ির কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল আকৃতির দক্ষিণা কালী এবং দেবীর পদতলে থাকা মহাদেব।

 

শাস্ত্র মতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয়েছিলো পুজো এবং দ্রুত বাগেশ্বরী কালীর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। তাঁর করুণা লাভ করার জন্য তাঁর দরবারে আসতে শুরু করেছিলেন দেশ বিদেশের ভক্তের দল।সেই জনপ্রিয়তা এবং শ্রদ্ধা ভক্তি আজও অটুট আছে।

 

আজও দেবীর মন্দিরের আশেপাশের অঞ্চলে কোনও শুভকাজ হলে, আগে মায়ের পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

আজও প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর দূর থেকে দেবীর পুজো অংশ নিতে আসেন মানুষ।

 

বাংলায় এমন বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের সংখ্যা অসংখ্য।ফিরে আসবো আগামী দিনে।কালী কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বীরভূমের হাড় কাটা কালী মন্দিরের ইতিহাস

বীরভূমের হাড় কাটা কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রাচীন বীরভূমি বা বীরভূমের অজয় তীরে এক প্রাচীন দেবী মন্দির হাড়কাটা মন্দির।আজ

কালী কথায় এই হাড়কাটা মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

মন্দিরের প্রাচীনত্ব বোঝা যায়, তার জোড় বাংলা বা প্রাচীন মন্দির শৈলী ও টেরাকোটার কাজ থেকে। এই মন্দিরে তার নমুনা অসংখ্য। গ্রামবাসীদের মতে কালাপাহাড় কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭৫১ সালে বর্গী আক্রমণে প্রায় ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছিল এই মন্দির।

 

এক কালে এই স্থানের অস্থিশিল্পের বেশ সুনাম ছিল। এইখানে প্রধানত অস্থিশিল্পীদের লোকজন বসবাস করতেন। এবং তাঁরা ষোড়শ শতকে বাণিজ্য করতে আসা বিট্রিশদের অস্থি থেকে বিভিন্ন কারুকার্যমন্ডিত শিল্প সামগ্রী তৈরি করে দিতেন। এই সামগ্রীর ইউরোপে দারুণ চাহিদা ছিল।মুলত বিভিন্ন প্রাণী বা হাতির দাঁত দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি বানানোই ছিলো এই শিল্পের বিশেষত্ব।

 

এইভাবে উপার্জিত অর্থ দ্বারা অস্থিশিল্পী তোতারাম মতোবিগঁর নেতৃত্বে সমগ্র অস্থিশিল্পীরা একত্রিত হয়ে মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি ও নয়নাভিরাম মন্দির গড়ে পূজাপাঠ শুরু করেন। যেহেতু অস্থি বা হাড়কাটা কারিগর দ্বারা নির্মিত হয় মন্দির, তাই এই মন্দিরের নাম ‘হাড়কাটা’ মন্দির।

 

মন্দিরে মায়ের যে মূর্তি তা প্রধানত দক্ষিণা কালী। তাঁর ডানের উর্ধ হস্তে খড়্গ ও অধ হস্তে মুণ্ড। এবং বামের উর্ধ হস্তে বর ও অধ হস্তে অভয় মুদ্রা। মা শিবের বুকে দণ্ডায়মানা। কিন্তু মা এখানে একই সঙ্গে ভীষণা এবং একই সাথে বরাভয়প্রদায়নী।

 

অতীতে ১২০ শের আতপ চাল ও বিবিধ ফলমূলের দ্বারা পূজা হত। শোনা যায়, এখানে মা ভীষণই জাগ্রত। কোনও এক সময়ে মূল সেবাইতের দ্বারা কিছু ত্রুটি হলে, তাঁর দ্বাদশ বর্ষীয়া কন্যা নিখোঁজ হন। এবং তাকে খুঁজতে খুঁজতে বিগ্রহের মুখে রক্ত ও কাপড়ের টুকরো দেখতে পাওয়া যায়। তখন মায়ের কাছে আকুল হয়ে ডেকে সেই সেবাইত কন্যাকে ফিরে পান।এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি। তবে সবার বিশ্বাস এখানে ভীষণা এবং একি সাথে মঙ্গলময়ী।

 

অতীতে সব অমাবস্যা তিথিতে পুজো হলেও বর্তমান কেবলমাত্র বাৎসরিক দীপান্বিতা অমাবস্যায় প্রধান পুজো সংঘটিত হয়।

 

বাংলার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।