Home Blog Page 73

একান্ন পীঠ – যশোরেশ্বরী

আজ একান্ন পীঠ পর্বে যে শক্তিপীঠের কথা লিখবো তা বাংলা দেশে অবস্থিত এবং যশোরেশ্বরী নামে জগৎ বিখ্যাত।
দেহত্যাগের পর দেবী সতীর শরীর যে একান্ন খন্ডে বিভক্ত হয় তার পাঁচটি খন্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এর মধ্যে এর মধ্যে সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সতীর করকমল বা পাণিপদ্ম পতিত হয়। পরবর্তীতে এই পবিত্র স্থানেই গড়ে ওঠে
যশোরেশ্বরী মন্দির।
তন্ত্রচূড়ামণিতে বলা হয়েছে—
‘যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বর /চণ্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।’
অর্থাৎ যশোরে সতীর পাণিপদ্ম বা করকমল পড়েছে। দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, ভৈরব হলেন চণ্ড। এই সতীপীঠে কায়মনোবাক্যে পুজো করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।
মনেকরা হয় বহু প্রাচীনকাল থেকেই এখানে এক অজ্ঞাত ব্রাহ্মণ কতৃক নির্মিত যশোরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত ছিলো পরবর্তীকালে বাংলার শাসক লক্ষ্মণ সেন তৈরী করেন মন্দির। তার আরো পরে রাজা প্রতাপাদিত্য কর্তৃক মন্দিরের সংস্কার এবং নবরূপ প্রদান করা হয়।
মন্দির নিয়ে একটি অলৌকিক এবং
ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখও পাওয়াযায়।
জনশ্রুতি আছে যে মহারাজা প্রতাপাদিত্যর আমলে তার সেনাপতি এখানকার জঙ্গল থেকে একটি আলৌকিক আলোর রেখা বের হয়ে মানুষের হাতেরর তালুর আকারের একটি পাথরখণ্ডের উপর পড়তে দেখেন।পরবর্তীতে তিনি ওই স্থানে কালীর পূজা করতে আরম্ভ করেন এবং যে স্থানে সেই পাথরটি ছিলো সেই স্থানেই একটি সুন্দর কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন যা আজ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|এই মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন মোঘল সেনাপতি মানসিংহ|
বর্তমানে মন্দির-বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধু মুখমণ্ডলই দৃষ্টিগোচর হয়|মায়ের মাথার ওপর টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। মাথায় সোনার মুকুট। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি তবে মুখ মন্ডলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা|
শ্রীযশোরেশ্বরীর পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং প্রতিবছর মন্দিরে খুব ধুমধাম করে শ্যামাপুজো হয় যা দর্শন করতে আসেন অসংখ্য মানুষ ও নিজেরদের মনোস্কামনা জানান দেবীর কাছে|
আজ এখানেই শেষ করছি একান্ন পীঠ পর্ব
ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – কালী ঘাট

বাংলার শক্তি পীঠ গুলির অন্যতম কালীঘাট নানা দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ন আজকের পর্বে লিখবো
এই মহা তীর্থ কালীঘাট নিয়ে।
কলকাতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তি দের একটি বড়ো অংশ মনে করেন এই কলকাতা নাম টির উৎপত্তি হয়েছে কালী ক্ষেত্র থেকে আর এই কালী কালী ঘাটের কালী|অর্থাৎ কলকতার নামের পেছনেও আছে এই বিশেষ পীঠ টির অবদান|
জনশ্রুতি আছে বহু প্রাচীন কালে যখন এই
অঞ্চল ছিলো ঘন অরণ্যে ঢাকা তখন এই গঙ্গা তীরবর্তী দুর্গম অঞ্চলে কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তি গড়ে তাতে প্রান প্রতিষ্ঠা করেন ব্রহ্মনন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারি নামে দুই সন্ন্যাসী|বর্তমানে আমরা যে কালীঘাট মন্দির টি দেখতে পাই তা নির্মাণ করেন বিখ্যাত সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের শিবদাস চৌধুরী 1809 সালে ও পরবর্তীতে মন্দির টি সংস্কার করেন এই পরিবারের অন্য আরেক জমিদার সন্তোষ চৌধুরী|
বর্তমান মন্দির টি তৈরী হয়েছে এক বিঘের কিছু বেশি পরিমান জমিতে এবং আনুমানিক খরচ হয়েছিলো 300000 টাকা |মন্দির টির উচ্চতা নব্বই ফুট|পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আদি গঙ্গা ও অদূরে কেওড়া তলা মহা শ্মশান|চার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরো অনেক গুলি রাধা কৃষ্ণ ও শিবের মন্দির|সব মিলিয়ে সর্বদা এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে এই বিশেষ শক্তি পীঠ কে কেন্দ্র করে যা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায়না অনুভব করতে হয়, শ্রদ্ধা ও ভক্তি দিয়ে|
পীঠ মালা তন্ত্র মতে সতীর ডান পায়ের চারটি আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো এই পবিত্র স্থানে|যদিও অন্য একটি মত অনুসারে সতীর একটি মাত্র আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো কালীঘাট এর পবিত্র স্থানে|দেবীর ভৈরব রূপে এখানে বিরাজমান নকুলেশ্বর|দেবী এখানে দক্ষিনা কালী রূপে বিরাজ করছেন।
এখানে দক্ষিনা কালী সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলে রাখা ভালো| দক্ষিণাকালী করালবদনা,মুক্তকেশী, চতুর্ভূজা এবং মুণ্ডমালাবিভূষিতা। তার বামকরযুগলে সদ্যছিন্ন নরমুণ্ড ও খড়্গ দক্ষিণকরযুগলে বর ও অভয় মুদ্রা।দক্ষিণা কালীর ডান পা শিবের বুকে। তিনি কালীর অন্যান্য রূপ থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং তাকে সাধারণত মন্দিরে পূজা করা হয়। তার গাত্রবর্ণ গভীর নীল,তিনি দিগম্বরী। তার গলায় মুণ্ডমালার হার শোভা পায় |এই রূপ ও এক রহস্য নানা ভাবে যার ব্যাখ্যা করা হয়|দেবীর এই রূপের পুজোই হয় কালীঘাটে।
কালী ঘাট মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবী মূর্তি কষ্ঠি পাথরে নির্মিত|দেবীর জিভ, দাঁত মুকুট, এমনকি মুন্ড মালাটিও সবই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত |মন্দিরের মধ্যে একটি বিশেষ কক্ষে একটি সুরক্ষিত সিন্দুকে দেবীর প্রস্তরীভূত অঙ্গ টিও স্বজত্নে রক্ষিত আছে যা কখনো জন সমক্ষে আনা হয় না|
এমনিতে প্রায় প্রতিদিনি ভক্ত দের ভিড় উপচে পড়ে কালীঘাটে তবে কিছু বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পূজাঅর্চনা অনুষ্ঠিত হয় |প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালীপূজার দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে|
আজ কালী ঘাট নিয়ে আলোচনা এখানেই
থামাচ্ছি ফিরে আসবো আগামী দিনে পরবর্তী শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – কঙ্কালী তলা

বাংলায় অবস্থিত শক্তি পীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ হল বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমায় অবস্থিত বিখ্যাত কঙ্কালীতলা মন্দির ।আজকের পর্বে এই
প্রাচীন কঙ্কালী তলার ইতিহাস এবং
তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম নিয়ে লিখবো।
তন্ত্রচূড়ামতির মতে, এটি ২৮ নং সতীপীঠ।
প্রাচীনকালে এই জায়গাটি কাঞ্চি নামে প্রসিদ্ধ ছিল।পুরান মতে মতে দেবী সতীর কাঁখাল অর্থাৎ কোমর পড়েছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের কোপাই নদীর তীরে । মতান্তরে দেবী সতীর কঙ্কাল পড়েছিল এই স্থানে।তাই পরবর্তীকালে কঙ্কালীতলা নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করে।ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে লেখা রয়েছে, এখানে সতীর কটিদেশ বা কোমরের অংশটি পরেছিল।এখানে দেবীর নাম দেবগর্ভা ও দেবীর রক্ষক ভৈরবের নাম রুরু ।
জনশ্রুতি আছে যে আজ থেকে কয়েকশো
বছর আগে এক সাধু স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠের অস্তিত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তার পরে অন্য এক মাতৃসাধক দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠে পুজোর শুরু করেন।
এই শক্তি পীঠে রয়েছে একটি রহস্যময় জলাশয় বা কুন্ড শোনা যায় কঙ্কালীতলার কুন্ডের সঙ্গে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সরাসরি সংযোগ আছে । এই জলাশয়েই আছে দেবী সতীর প্রস্তুরীভূত দেহেরঅংশ যা কুড়ি বছর অন্তর কুন্ড থেকে তোলা হয় পুজার্চনার জন্য। পুজোর পরে আবার কুন্ডের জলে ডুবিয়ে রাখা হয়।
দেবীর কোনও মূর্তি নেই কঙ্কালী তলায় তার বদলে এখানে রয়েছে শ্মশানকালীর বড় বাঁধানো ছবি। যাকে দেবী রূপে পুজো করা হয়।
নিত্য পুজো ও ভোগ বিতরণ হয় এই কালী ক্ষেত্রে এই কঙ্কালীতলা গুপ্ত তন্ত্রসাধনার জন্য খুবই বিখ্যাত।তন্ত্র সাধকদের পাশাপাশি এখানে প্রায় সারা বছর সাধারণ পর্যটকদের ভিড় লেগে
থাকে এই শক্তি পীঠে।
ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো শক্তি পীঠ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – বক্রেশ্বর

আজ শক্তিপীঠ বক্রেশ্বর নিয়ে লিখবো।
পীঠমালা, কালিকাপুরাণ ও তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থে বক্রেশ্বরের উল্লেখ আছে।
আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে বক্রেশ্বর ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা নির্জন ভূমি। চৈতন্য ভাগবতে তার প্রমাণ মেলে। কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণের পর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য বলেছিলেন, ‘বক্রেশ্বর আছেন যে বনে, তথায় যাইনু মুঁঞ্চি থাকিমু নির্জনে।’ সেই সময়টায় তান্ত্রিক, ভৈরবী, অঘোরপন্থীদের দাপট ছিল বক্রেশ্বরে।
বক্রেশ্বরের সঙ্গে জড়িয়ে ঋষি অষ্টাবক্রের কাহিনি। কথিত আছে, অষ্টাবক্র মুনি প্রথমে কাশীতে উপাসনার সংকল্প নেন। কিন্তু কাশীর বিশ্বনাথ স্বয়ং তাঁকে গৌড়দেশের গুপ্তকাশী বক্রেশ্বরে গিয়ে সাধনা করতে বলেন
সতীর ভ্রুসন্ধি বা মনঃস্থান পড়েছিল বলে, ভারতবর্ষের একান্ন পীঠের মধ্যে বক্রেশ্বরকে মহাপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। তন্ত্রের ভাষায় ওই মনঃস্থানকে আজ্ঞাচক্র বলে।
পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে আজকের বক্রনাথের মন্দির সাতশো বছরের বেশি পুরনো। নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা নরসিংহ দেব। বাংলায় সুলতানি শাসনে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজা দর্পনারায়ণ সতেরোশো একষট্টি খ্রিস্টাব্দে তা সংস্কার করেন।
মহাপীঠ বক্রেশ্বরকে বেষ্টন করে রয়েছে সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ এবং একটি শীতল জলের কুণ্ড। মাটির নিচ থেকে জলের নিরন্তর বিচ্ছুরণ হয়ে চলেছে অলৌকিক ভাবে।
বক্রনাথের মন্দিরে ভগবানের চেয়েও উচ্চাসনে রয়েছেন তাঁর ভক্ত। গর্ভৃগৃহে পিতলের ধাতু মণ্ডিত উঁচু যে শিলা রয়েছে তা অষ্টাবক্র মুনির। এর ঠিক পাশেই কিছুটা নিচে বক্রেশ্বর মহাদেবের ছোট শিলা।
দেবীমন্দিরে বেদীর ওপরে ভ্রুসন্ধির প্রস্তুরীভূত রূপটি রক্ষিত আছে। জনশ্রুতি আছে যে খাকি খাকিবাবা নামে খ্যাত এক সিদ্ধ সন্ন্যাসী শাস্ত্র মতে বহু যুগ আগে বেদীতে এটির প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রায় প্রত্যেক অমাবস্যায় এই বক্রেশ্বর পীঠে অসংখ্য দর্শণার্থী আসেন। তন্ত্র মতে পুজো এবং হোম যজ্ঞ হয়।
আজকের একান্ন পীঠ পর্ব এখানেই শেষ করছি পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – প্রভাস

একান্ন পীঠের অন্যতম শক্তি পীঠ গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের সোমনাথ জেলায় অবস্থিত।এই শক্তি পিঠের নাম প্রভাস।সতীর পাকস্থলী অথবা উদারভাগ এই স্থানে পতিত হয়েছিল।
প্রভাস শক্তিপীঠে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন চন্দ্রভাগা এবং ভৈরব হলেন বক্রতুণ্ড।
প্রভাস শক্তি পীঠের সাথে জড়িত রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনী পৌরাণিক কাহিনীএই স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে সত্য যুগে চন্দ্র প্রজাপতি দক্ষ রাজার ২৭ জন কন্যাকে বিবাহ করলেও শুধুমাত্র রোহিনীর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন বেশি তার বাকি ২৬ জন স্ত্রী অবহেলিত ও অপমানিত বোধ করে তাদের বাবা দক্ষকে নালিশ করেন।
এই কথা শুনে দক্ষ রাজা, চন্দ্রকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবেন। তখন চন্দ্র শাপমোচনের জন্য এই প্রভাস নামক স্থানে এসে শিবের আরাধনা করতে শুরু করেন। শিবের কৃপায় তার শাপ মোচন হয় এবং পরবর্তীতে প্রভাস তীর্থের কাছেই স্বয়ং চন্দ্র দেব সোমনাথ মন্দির তৈরি করেছিলেন।
বর্তমানে সোমনাথ মন্দির থেকে কিছুটা দূরে প্রভাস শক্তি পীঠ বা চন্দ্রভাগা দেবীর এই মন্দিরটি অবস্থিত। সেই পৌরাণিক কালের ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরটির রুপই এখনও বর্তমান।
পাথরের তৈরি এই মন্দিরের গায়ে বিভিন্ন দেবতার মূর্তি খোদাই করা আছে। সঠিক কোন সময়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল তার কোন ঐতিহাসিক তথ্য আজও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তবে ঐতিহাসিক তথ্য মতে চন্দ্রভাগা দশভুজা সিংহ বাহনা রূপে রানী অহল্যা বাইকে স্বপ্নে আদেশ দিয়ে বলেন যে, ভূগর্ভে চাপা পড়া সতীর অঙ্গ উদ্ধার করে মন্দির সংস্কার করে পুজো শুরু করতে ।এরপরই দেবীর স্বপ্নের আদেশ মতো অহল্যা বাই সেই অঙ্গশিলা উদ্ধার করে দেবীর মন্দির সংস্কার করে নিত্যদিনের পুজোর আয়োজন করেন।সেই সময় থেকেই প্রভাস শক্তিপীঠের জনপ্রিয়তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।দেবী চন্দ্র ভাগা কে দেবী উমা নামেও ডাকেন তার ভক্তরা।
শিবরাত্রি এবং কার্তিক পূর্ণিমার সময় সোমনাথ মন্দিরে ভিড় হওয়ার দরুন এখানেও ভিড় হয়। তবে নবরাত্রির সময় এখানে প্রচুর পরিমাণে ভক্তদের সমাগম দেখা যায়। তাছাড়া প্রায় সারা বছর ধরে এখানে পূজা অর্চনা চলতে থাকে। আর তাই সারা বছর সমগ্র দেশ থেকে এবং দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন মানুষ এখানে আসেন পূজা দিতে।
আপাতত প্রভাস শক্তি পীঠ নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – বৈদ্যনাথ

আজ একান্ন পীঠ পর্বে যে শক্তিপীঠের কথা জানাবো তা শক্তি পীঠ হওয়ার পাশাপাশি একটি দ্বাদশ জ্যোৎরলিঙ্গের অন্যতম অর্থাৎ একটি শৈব
তীর্থও বটে।আজ শক্তিপীঠ বৈদ্যনাথ নিয়ে আলোচনা করবো এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘর জেলায় অবস্থিত।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড পড়েছিল। বৈদ্যনাথ ধামে অধিষ্ঠিত দেবী জয় দুর্গা ও ভৈরব হলেন স্বয়ং শিব যিনি বৈদ্যনাথ রূপে এখানে বিরাজমান।
পুরানে আছে একবার রাবন শিবকে স্থায়ী ভাবে লঙ্কায় নিয়ে যেতে কঠোর তপস্যা করেন।তপস্যয় সন্তুষ্ট হয়ে চন্দ্রহাস নামে একটি বিরাট শক্তিশালী অস্ত্রও রাবণকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন রাবন, শেষমেষ শিব আত্মলিঙ্গ অর্পণ করে লঙ্কার প্রতিষ্ঠা করতে বলেন তাকে।শর্ত ছিলো কৈলাস থেকে লঙ্কার পথে যাওয়ার সময় কোথাও যদি রাবণ শিবলিঙ্গ কে কোন জায়গায় রেখে দেন, তাহলে তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্থ রাবন এই স্থানে শিবলিঙ্গ কিছুক্ষনের জন্য নামিয়ে রাখেন আর সেখানেই শিবলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সেই শিব লিঙ্গই বৈদ্য নাথ রূপের এই শক্তি পীঠের ভৈরব রূপে বিরাজ করছে।
মন্দিরের ভৈরবকে আরোগ্য বৈদ্যনাথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হল যিনি সর্বরোগহারি, রামায়ণেও এই বৈদ্যনাথ
মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।শিব পুরাণে এই মন্দিরকে দুটি আত্মার মিলনস্থল বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।কারন এটিই একমাত্র শক্তিপীঠ যেখানে বৈদ্যনাথে শিব এবং শক্তি একসাথে বিরাজমান।একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে এই শক্তি পীঠে বর ও কনের একসঙ্গে বিবাহ দিলে তাদেরও বন্ধন অটুট হয়।
প্রাচীন কালে মন্দিরের কিছু দূরে শ্মশান ছিল, যেখানে মায়ের হৃদয় পড়েছে বলে মনে করা হয়, এই জায়গাটি বর্তমানে “চিতাভূমি” নামে পরিচিত সকলের কাছে। মায়ের হৃদয় পতিত হওয়ার এই শক্তিপীঠ “হৃদয় পিঠ” নামেও ডাকা হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এই বৈদ্যনাথ শক্তিপীঠের মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন এবং দেওঘর রাজ্যের রাজা দ্বিধাউর এই মন্দির নির্মাণের কাজে অনেকখানি সহযোগিতা করেছিলেন, পরবর্তী কালে এই মন্দির একাধিক বার সংস্কার করা হয় এমনকি ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের ভার নিয়ে ছিলো।
শক্তি পীঠ হওয়ায় অমাবস্যা তিথি গুলিতে এখানে ধুমধাম করে পুজো হয় আবার জ্যোতির্লিঙ্গ থাকায় বৈদ্যনাথে বিরাট আকারে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি।
আজকের একান্ন পীঠ পর্ব এখানেই শেষ করছি।
দেখা হবে পরের পর্বে থাকবে একটি অন্য
শক্তি পীঠের কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – কাত্যায়নি

এই মাত্র কিছু দিন আগেই ঘুরে এলাম বৃন্দাবন থেকে যদিও বলতেই মনে আসে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রধান মন্দির গুলি, রাধা কৃষ্ণের স্মৃতি বিজড়িত স্থান গুলি, নিধী বনের রাশ লীলা, ইত্যাদি তবে এতো কিছুর মাঝে, এই বৃন্দাবনের পবিত্র ভূমিতেই রয়েছে ৫১ শক্তি পীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ যার নাম কাত্যায়নী। আজকের পর্বে এই শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো।
শক্তিপীঠটি কাত্যায়নী নামে বেশি পরিচিত হলেও দেবী এখানে উমা বা যোগমায়া নামেও পূজিতা হন এবং দেবীর ভৈরব হিসেবে এই স্থানে পূজিত হন ভূতেশ।
সতীর দেহের কোন অংশ বৃন্দাবনের এই বিশেষ স্থানে পতিত হয়েছিলো তা নিয়ে বিভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। একটি মত অনুসারে এখানে দেবী সতীর কেশ রাশি পড়েছিলো আবার অন্য একটি মত অনুসারে অনুসারে এই স্থানে পড়েছিলো দেবীর আংটি।
বর্তমানে রঙ্গনাথ মন্দিরের কাছে রাধাবাগে শক্তি পীঠ কাত্যায়নী অবস্থিত এবং দেবীর ভৈরব ভূতেশ বৃন্দাবনের ভূতেশ্বর রোডের কাছে ভূতেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পূজিত হয়ে থাকেন।
প্রাচীন কালে কবে কে কিভাবে এই শক্তিপীঠ আবিস্কার করেন তার কোনো সঠিক এবং নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না তবে ১৯২৩ সালে যোগীরাজ স্বামী কেশবানন্দ এই স্থানটি চিহ্নিত করেন এবং দেবী মন্দির তৈরী করেন।এই মন্দিরের অন্যতম দর্শনীয় বস্তু একটি বিশাল আকৃতির তলোয়ার আছে যাকে উচ্ছল চন্দ্রহাস বলে।
ভাগবত পুরাণে আছে যে ব্রজের গোপীগন
শ্রীকৃষ্ণ কে পতি রূপে পাওয়ার জন্য সারা মাঘ মাস জুড়ে কাত্যায়নী ব্রত পালন করেছিলেন।
সেই সময়ে তারা প্রতিদিন কাত্যায়নী শক্তি পীঠে
দেবীর পুজো করতে আসতেন এবং
নিজেদের মনোস্কামনা দেবীকে জানাতেন।
শাস্ত্র মতে কাত্যায়নী রূপ নবদুর্গার ষষ্ঠ রূপ তাই নবরাত্রির সময় এখানে বিশেষ পুজো হয় এবং বেশ বড়ো আকারে উৎসব হয়।ভক্ত রা বিশ্বাস করেন কাত্যায়নী রূপে দেবী উমার পূজা করলে ভয়, শোক, দুঃখ দূর হয়ে যায় তার পরিবর্তে শান্তি ও শক্তির সঞ্চার হয়। তাই এই স্থানে বহু ভক্তের সমাগম হয়।
আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো শক্তিপীঠের কথা ও তার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা
নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – কালমাধব

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের অমরকণ্টক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি মাহাত্ম্যপূর্ণ তীর্থস্থান। এখানেই অবস্থিত কালমাধব শক্তিপীঠ
একান্ন পীঠের অন্যতম একটি পীঠ হলো এই কালমাধব সতীপীঠ।পুরান অনুসারে সতীর বাম নিতম্ব পড়েছিলো এই স্থানে।কালমাধব মন্দিরে দেবী কালীরূপে পূজিতা হন এবং এই শক্তি পীঠে দেবীর ভৈরব হলেন অসিতাঙ্গ।
যে স্থানে কাল মাধব শক্তি পীঠটি নির্মিত হয়েছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়।মন্দিরের চারপাশে রয়েছে শ্বেত পাথর দিয়ে বাঁধানো পুকুর এবং মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে শোন নদী।
চার দিকে বিস্তৃত পার্বত্য ভূমি যা এখানকার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
এই শক্তি পীঠ মন্দিরের ইতিহাস অতি প্রাচীন।
আমরা কোনো বস্তু বা স্থানের প্রাচীনত্ত্ব বোঝাতে একটি প্রবাদ ব্যবহার করে বলি ” মান্ধাতার আমল” এই মান্ধাতা আসলে প্রাচীন ভারতের
এক সূর্য বংশীয় সম্রাট ছিলেন। আজ থেকে আনুমানিক ৬০০০ বছর আগে এই সূর্যবংশীয় সম্রাট মান্ধাতা শোন নদীর তীরে অমরকন্টকে এই কালমাধব মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। সেই সময়ে শ্বেত শুভ্র পাথরের তৈরি করা হয় মন্দিরটি।
আজও এই মন্দিরের সৌন্দর্য এবং নির্মাণ শৈলী দর্শণার্থীদের মুগ্ধ করে।
সেই প্রাচীনকাল থেকে এই শক্তিপীঠে দেবী
কালীরই পুজো চলে এসেছে । তবে পরবর্তীতে এখানে দেবীকে নর্মদা মা রূপে পুজো শুরু হয় দেবীর বিগ্রহের দুই পাশে জয়া ও বিজয়ার মূর্তি আজও প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কাল মাধবে নর্মদা মায়ের পূজা ও ধ্যান মন্ত্র চামুণ্ডার বিধি মতে হয়ে থাকে। পূজারীরা সেই হাজার হাজার বছর থেকে
বংশ পরম্পরায় পুজোর দায়িত্ব সামলে আসছেন।
যদিও প্রায় সারা বছর ধরেই এখানে অসংখ্য ভক্তদের সমাগম দেখা যায়। তবে দুর্গাপূজা বা নবরাত্রীর সময় এই মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় এবং ভিড় হয় অনেক বেশি।
আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য
এক শক্তি পীঠের ইতিহাস ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – বিশালক্ষী

সনাতন ধর্মে কাশি হল একটি মহা পুণ্যময় তীর্থ
যদিও শৈব্য তীর্থ হিসেবেই বেশি পরিচিত তবু এই কাশির অধীস্টাত্রী দেবী মা অন্নপূর্ণা এবং কাশির সুরক্ষার ভার অর্পণ করা হয়েছে স্বয়ং কাল ভৈরবকে।প্রায় সবকটি পুরাণে এই নগরের মাহাত্ম্য উল্লেখ রয়েছে। পুরানে বলা হয়েছে কাশি নগর ভগবান শিবের ত্রিশূলের উপরে অবস্থিত। এই কাশিতেই রয়েছে একটি শক্তি পীঠ শাস্ত্রে
যার নাম বিশালক্ষী।
এই কাশিতে বিশালক্ষী মন্দির যে স্থানে আছে সেখানে দেবীর কানের দুল পতিত হয়েছিল।
শিবপুরানেও এই শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে এবং বলা হয়েছে এখানে দেবীর দেহের কোন অংশ পড়েনি তবে দেবীর গহনা অথবা অলংকার পড়েছিল। দেবী হলেন অন্নপূর্ণা আর ভৈরব হলেন বিশ্বনাথ।দেবীর আরেক নাম মনিকর্নিকা তার নামেই মনিকর্নীকা ঘাট এবং এখানে দেবীর ভৈরব হলেন স্বয়ং কালভৈরব।
পুরান অনুসারে ভগবান বিষ্ণু কাশিতে এসে সুদর্শন চক্র দিয়ে একটি পুষ্করিণী খনন করেছিলেন এবং সেখানে বসে হর গৌরীর তপস্যা করেন। সেই সময় ভগবান বিষ্ণুর শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয়ে এই পুষ্করিণী টি জলে পূর্ণ হয়।পরবর্তীতে বিষ্ণুর ধ্যানে সন্তুষ্ট হয়ে হর গৌরী দেখা দেন।
শাস্ত্র মতে মা গৌরীর কানের দুল এই জলে পতিত হয়েছিল।তখন থেকেই এই জলাশয়ের নাম হয় মনিকর্নিকা। পরবর্তীতে এই জলাশয় গঙ্গাতে মিলিত হয় এবং গঙ্গার ঘাটটির নাম হয় মণিকর্নিকা।
বিশালক্ষী শক্তি পীঠের আশেপাশের পরিবেশ এক কথায় অপূর্ব। মন্দিরে দুটি বিশালক্ষী দেবীর মূর্তি আছে। মনে করা হয় প্রথম মূর্তিটির আড়ালে আছে আদি বিশালক্ষী মূর্তি যা স্বয়ম্ভু অর্থাৎ অলৌকিক ভাবে দেবী নিজেই এখানে প্রকট হয়েছেন।
সারা বছর পুজো হলেও নব রাত্রি এই শক্তিপীঠে প্রধান উৎসব। নবরাত্রিতে দেবীর বিশেষ পুজো হয় এবং প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।
আবার অন্য একটি শক্তিপীঠের ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা সাথে শাস্ত্রীয় তথ্য নিয়ে
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্নপীঠ – পাটনেশ্বরী

ভারতের একান্নটি সিদ্ধ শক্তি পীঠের মধ্যে
একটি পাটনেশ্বরী শক্তিপীঠে। পুরান মতে
দেবী সতীর ‘ডান উরু’ এই স্থানে পড়েছিল।
আজকের পর্বে এই শক্তিপীঠ নিয়ে লিখবো।
বিহারের পাটনায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পাটনেশ্বরী মন্দির।সর্ব প্রথম পাটন দেবী মন্দিরটি গুপ্ত রাজবংশের দ্বারা খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। পরবর্তীতে সেই প্রাচীন মন্দির কোনো ভাবে কালের গহব্বরে অদৃশ্য হলে পুনরায় মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিং ওই মন্দির স্থাপন করেছিলেন। দেবীর মন্দিরে দূর্গা সহ গণেশ, বিষ্ণু এবং সূর্য দেবের মূর্তি রয়েছে এবং নিয়মিত
তাদের পুজো হয়।
মন্দিরের মূর্তিগুলো সবই কালো পাথরে তৈরি। মন্দিরের প্রবেশপথে একটি বারান্দা রয়েছে। এর পরে, মহাকালী, মহালক্ষ্মী, মহা সরস্বতী। ভৈরব ব্যোমকেশের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ।
পাটনেশ্বরী শক্তিপীঠে ভৈরব ব্যোমকেশ নামে পরিচিত। দেবী সতীকে এখানে পাটনেশ্বরী রূপে পুজো করা হয়।মনে করা হয় দেবীর নামেই এই শহরের নাম হয় পাটনা।
মন্দিরের গর্ভ গৃহে একটি রাজকীয় সিংহাসনে দেবী মূর্তি রাখা আছে। মূর্তির উচ্চতা প্রায় সাত ফুট। বিশেষ বিশেষ দিনে দেবীর বিশেষ অঙ্গ সজ্জা হয় সেই সময়ে দেবীকেপরানো হয় বিশেষ শাড়ি।
দূর্গাপুজো বা নব রাত্রি এই শক্তিপীঠের প্রধান উৎসব এবং এই সময়ে অসংখ্য ভক্ত সারা দেশ থেকে এই শক্তিপীঠে আসেন এবং নিজের মনোস্কামনা জানিয়ে পুজো দেন।এই সময়ে এখানে দেবীর উদ্দেশ্যে নারকেল নিবেদনের রীতি আছে।
ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের ইতিহাস নিয়ে আগামী পর্বে। এখনো বহু শক্তিপীঠ সম্পর্কে আলোচনা বাকি আছে। ধারাবাহিক ভাবে এই একান্ন পীঠ নিয়ে পর্ব গুলি চলতে থাকবে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।