Home Blog Page 73

শিবধাম – পঞ্চকেদারের ইতিহাস

শিবধাম – পঞ্চকেদারের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রায় সব শিবভক্তের স্বপ্ন থাকে একবার অন্তত পঞ্চকেদার দর্শন করা। কি এই পঞ্চ কেদার এবং কিভাবেই বা সৃষ্টি হলো পঞ্চ কেদার আর তার মাহাত্মই বা কি। আজকের পর্বে এই সব প্রশ্নের শাস্ত্র সম্মত উত্তর খুঁজবো।

 

পাণ্ডবরা কৌরবদের পরাজিত করার পর যুদ্ধের সময় তাদের দ্বারা করা ব্রাহ্মন হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেবাদিদেব মহাদেবের খোঁজ করতে গেল। প্রথমে কাশীতে যান তারা। শিব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মৃত্যু এবং অসততার জন্য গভীরভাবে বিরক্ত ছিলেন তাই পাণ্ডবদের দেখা না দিয়ে নন্দীর রূপ ধারণ করেন এবং গাড়ওয়াল অঞ্চলে লুকিয়ে থাকেন। কাশীতে শিবকে না পেয়ে পাণ্ডবরা গাড়ওয়াল হিমালয়ে চলে যান। ভীম গুপ্তকাশীর কাছে একটি ষাঁড়কে ঘুরে বেড়াতে দেখে তার স্বরূপ উপলব্ধি করেন তৎক্ষণাৎ তিনি ষাঁড় রুপী মহাদেবকে বল পূর্বক ধরতে চেষ্টা করেন তবে লেজ আঁকড়ে ধরার সাথে সাথে

বীর বিক্রমে হিমালয়ের দুর্গম পাদদেশে অদৃশ্য হয়ে গেলো সেই বিশালাকৃতি জীব। পরে কিছু অংশে আবার আবির্ভূত হলো। পাঁচটি স্থানে প্রকাশ পেলো এই রূপ। এই পাঁচটি স্থানকেই একত্রে পঞ্চ কেদার বলা হয়।

 

কেদারনাথে কুঁজ,বাহুগুলি তুঙ্গনাথে, মুখ রুদ্রনাথে, নাভি এবং পেট মধ্যমহেশ্বর এবং লোমগুলি কল্পেশ্বরে প্রকাশিত হয়েছিল।

পাণ্ডবরা এই স্থানে পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।সেই মন্দিরই পঞ্চ কেদার ধাম রূপে আজও বিরাজমান।

 

কেদারনাথের চারপাশেই এই শিব মন্দির গুলি ছড়িয়ে রয়েছে। পাঁচটি মন্দিরে পাঁচজন প্রধান পুরোহিত রয়েছেন এবং তারা এক বছরের জন্য পালাক্রমে প্রধান সেবক হিসেবে কাজ করেন।

বছরের একটি দীর্ঘ সময়ে বরফে ঢাকা থাকে এই স্থান। তাপ মাত্রা হিমাংকের নিচে নেমে যায়।তবে এই দুর্গম স্থান হওয়া সত্ত্বেও বহু ভক্ত আসেন প্রতি বছর শিব পুজো করতে।শাস্ত্র বলছে এই পাঁচটি শিব মন্দির একত্রে দর্শন করলে জীব তার কর্মফল থেকে মুক্তি পায়।

 

ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত নতুন এক পর্ব

নিয়ে আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মহিমা – পৌরাণিক উজ্জ্বয়িনী শিব মন্দিরের ইতিহাস 

শিব মহিমা – পৌরাণিক উজ্জ্বয়িনী শিব মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের যে শিব মন্দিরের ইতিহাস জানাবো পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মার্কণ্ডেয় ঋষি এই মন্দিরেই যমরাজকে পরাজিত করে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে জয় করেছিলেন এবং

চিরঞ্জীবী হয়েছিলেন।

 

আগে সেই পৌরাণিক ঘটনা সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক।পুরান অনুসারে ঋষি মৃকন্দ ব্রহ্মার তপস্যা করে পুত্র লাভের আশীর্বাদ পেয়েছিলেন, কিন্তু জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে তাঁর পুত্র মার্কণ্ডেয়ের আয়ু ছিল কম। যার কারণে ঋষি মৃকন্দ তাঁর পুত্র ঋষি মার্কণ্ডেয়র স্বল্প আয়ু নিয়ে চিন্তিত থাকতেন । পিতাকে চিন্তিত দেখে পুত্রের মনে আঘাত লাগে এবং উদ্বেগ তৈরি হয়। একদিন ছেলের অনুরোধে ঋষি তাঁকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। পিতার দুঃখ দূর করতে এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য মার্কণ্ডেয় অবন্তিকা তীর্থে গভীর জঙ্গলে ভগবান শঙ্করের কঠোর তপস্যা করেন। যখন তার বয়স বারো বছর পূর্ণ হয় এবং মৃত্যুর সময় এসে উপস্থিত হয় তখন যমরাজ ধৰ্মরাজ রূপে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন। কিন্তু মৃত্যুকে স্বীকার করতে চান না তিনি। যমরাজকে হারাতে শিবের মূর্তিকে দুই হাতে চেপে ধরেন। সেই মুহূর্তে মহাদেব তাঁকে রক্ষা করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং নিজের অন্তত আয়ু থেকে পাঁচ বছর সেই বালককে দান করেন। সেই পাঁচ বছর এতো দীর্ঘ সময় যে আজও ঋষি মার্কেন্ডেয় স্বশরীরে এই পৃথিবীতে বিরাজমান।

 

মনে করা হয়, ভক্তদের রক্ষা করার জন্যই এই মন্দিরে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে পরাজিত করেছিলেন মহাকাল। তাই মন্দিরে মহাদেব দর্শনেই

ভক্তরা দীর্ঘায়ু লাভ করেন।

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।

 

ধর্মীয় নগরী উজ্জয়নীত শিবের এই প্রাচীন এবং পৌরাণিক মন্দির রয়েছে। মনে করা হয় বেশ কয়েক বছরের পুরনো এই মন্দিরটি সম্রাট বিক্রমাদিত্যের আমলের নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে শিবলিঙ্গটি দক্ষিণমুখী।শিব লিঙ্গে একটি চোখ খোদাই করা আছে।শিব কে এখানে মার্কন্ডেশ্বর মহাদেব রূপে পুজো করা হয়।

 

শিব মহিমা এবং বাংলার শিব মন্দির গুলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে সমগ্র

চৈত্র মাস জুড়ে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – পঞ্চমুখী শিব মন্দিরের ইতিহাস

বাংলার শিব – পঞ্চমুখী শিব মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের পুরুলিয়ায় অবস্থিত এমন এক প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা জানাবো যেখানে শিবের একটি ব্যতিক্রমী রূপ দেখতে পাওয়া যায়। পুজো পদ্ধতিও একটু আলাদা।

 

পুরুলিয়ায় পিঁড়রা গ্রাম সংলগ্ন কংসাবতী

নদীর উত্তরপাড়ে অবস্থিত ‘বাবা পঞ্চমুখী ধাম’।

শোনা যায় মহাভারতের যুগে পান্ডবদের সময়কাল থেকে এই মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে । এই মন্দিরের সঠিক বয়স সম্বন্ধে কারুরই কোনো ধারণা নেই। এই মন্দিরে বাসস্থান রয়েছে চতুর্মুখী একটি শিবলিঙ্গের কিন্তু এখানে শিব পূজিত হন পঞ্চমুখী রূপে কারণ শিবের পঞ্চম তম মুখটি পুরোহিত নিজের মুখ হিসাবে পরিকল্পনা করেই

পূজা করে থাকেন।যুগ যুগ ধরে চলে আসছে

এই প্রথা।

 

শাস্ত্রে পঞ্চমুখি শিব কে পাঁচটি তত্ত্বর প্রতীক রূপে দেখা হয় আবার অনেকের কাছে পঞ্চমুখি সদাশিব

শিবের পঞ্চাক্ষরি মন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে।শিবের এই রূপকে পঞ্চানন্দ ও বলা হয়। প্রতিটি মুখের রয়েছে নিজস্ব নাম। নামগুলি যথাক্রমে ইশানা, তৎপুরুষ,অঘোর,বাম দেব এবং ব্রম্হা বা সদ্যজাত।

 

হিন্দু সনাতন ধর্মে একাধিক দেব দেবীর পুজোর প্রচলন থাকলেও মানুষের মধ্যে ভগবান বসবাস করেন এমনটাই বিশ্বাস রয়েছে। মানুষের মধ্যে যে সত্যিই যে ঈশ্বর বিরাজমান সেই তত্বকে এই মন্দিরে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাই শিব মূর্তির মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবিকে কল্পনা করে পুজো করেন পুরোহিত। ভক্ত ও ভগবান এই ভাবে এখানে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এমন টা সম্ভবত বাংলা তথা দেশের আর কোনো শিব মন্দিরে দেখা যায়না।

 

সারা বছর দর্শণার্থীরা আসেন তবে চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বহু দুর দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয় এই মন্দিরে। ভক্তদের বিশ্বাস বাবা পঞ্চমুখী শিব ভক্তদের সমস্ত মনোবাসনা পূরণ করে থাকেন। তিনি কাউকেই খালি হাতে ফেরান না তিনি পরম দয়াময়।

 

ফিরে আসবো বাংলার শিব নিয়ে আগামী পর্বে এখনো বাংলার বহু প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – খড়দার ছাব্বিশ শিব মন্দিরের ইতিহাস 

বাংলার শিব – খড়দার ছাব্বিশ শিব মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের নবাবী আমলে গড়ে ওঠা প্রাচীন এক শিব মন্দিরের ইতিহাস জানাবো। তবে শিব মন্দির ঠিক একটি নয় ছাব্বিশটি এবং এটাই এই শিব মন্দিরের বিশেষত্ব। কিভাবে এই ছাব্বিশ শিব মন্দির তৈরী হয় এবং কে করেন এই ঐতিহাসিক নির্মাণ সব জানতে গেলে পুরোটা দেখতে হবে।

 

অভিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যায় পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নবাব বংশের সূর্য যখন অস্তমিত তখন সেই সময়ে এক শ্রেণীর মানুষ ব্রিটিশদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পরে হয়ে উঠলেন এক একজন

ধনী জমিদার।

 

এমনই এক উঠতি জমিদার ছিলেন রামহরি বিশ্বাস যিনি ব্রিটিশ কোম্পানির হয়ে দেওয়ানী করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। দানবীর ও ধর্মীয় কাজে উৎসাহী হিসাবে নাম হয় তার।

তিনি এক সময়ে খড়দায় বিরাট এক প্রাসাদ

নির্মাণ করে বাস করতে শুরু করেন। এই জমিদার ছিলেন শিব ভক্ত। তিনি খড়দায় বারোটি

আটচালা শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

 

পরবর্তীতে ১৮০৩ সালে জমিদার রামহরি

বিশ্বাস মারা যাওয়ার পর তাঁর দুই পুত্র প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস ও জগমোহন বিশ্বাস জমিদারি দেখা শোনা করতেন তারাও ছিলেন ধার্মিক।শোনা যায় এলাকায় তীর্থযাত্রীদের তীর্থ কর দিতে হতো। জগমোহন বিশ্বাস এককালীন দু লক্ষ টাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘরে জমা দিয়ে সেই কর চিরদিনের মতো মুকুব করিয়ে দেন।

 

প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাসের তন্ত্র চর্চার অভ্যাস ছিল।পাশাপাশি শিবের উপাষক ছিলেন। তিনি পিতার তৈরি দ্বাদশ শিবমন্দিরের পরে আরও চোদ্দটি আটচালার শিব মন্দির তৈরী করেন। সেই নিয়ে খড়দহতে তাদের জমিদারিতে মোট ছাব্বিশটি মন্দির স্থাপিত হয়।একত্রে ছাব্বিশ শিব মন্দির বাংলা তথা গোটা দেশে আর আছে বলে শোনা যায়না।

 

জনশ্রুতি আছে প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস তাদের শিব মন্দিরে শ্রীক্ষেত্র পুরীর মতো একটি ‘রত্নবেদী’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সেই জন্য তিনি

আশি হাজার শালগ্রাম শিলা ও কুড়ি হাজার বাণলিঙ্গ সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু ১৮৩৫

সালে অকাল প্রয়াণের পর সেই প্রক্রিয়া

অসম্পূর্ন থেকে যায়।

 

আজও বাংলার এই ঐতিহাসিক শিব মন্দির একটি অপূর্ব পুড়াতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয়

নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

 

ফিরে আসবো এমনই কোনো এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক শিব মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

বাংলার শিব – চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার কাছেই ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত ব্যাপারে। একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে।

পাতাল ফুঁড়ে উঠে আসায় এখানে শিব স্বয়ম্ভূ। বর্গী আমলে তৈরী এই মন্দিরের বয়স প্রায় তিনশো বছরের কাছাকাছি। আগে এখানে ছিল হোগলা বনের জঙ্গল আর কাজুর গাছ।হিংস্র জীব,বিষাক্ত সাপ এবং ডাকাত দের স্বর্গ রাজ্য ছিলো এই এলাকা।

শোনা যায় লক্ষ্মী নামে এক অসহায় মহিলা শিবলিঙ্গটির দর্শন পান।প্রতিদিন তিনি গোরু চরাতে বের হতেন। কিন্তু, সেই গোরু ঠিকমতো দুধ নাদেওয়ায় পরিবারের লোকজন লক্ষ্মীকেই বাড়িছাড়া করেছিল। সেই সময়ই লক্ষ্মী নিজের গোরুর পিছু নিয়ে দেখতে পান জঙ্গলের মধ্যে গোরুটি এক চম্পক গাছের তলায় শিবলিঙ্গের সামনের বসে আছে। ঠিক যেনো শিবের সামনে রাখা নন্দী মূর্তি আর সেই শিবলিঙ্গে কোথা থেকে যেন ফুল, জল বেলপাতা নিজে থেকেই পড়ছে।তারপর পুজো শেষে মাটির তলায় চলে যাচ্ছে ওই শিবলিঙ্গ।এও অলৌকিক দৃশ্য দেখে সেই মহিলা তা সবাইকে জানায়। ধীরে ধীরে লোক মুখে এই শিবের মহিমা প্রচারিত হয়। তৈরী হয় চন্দনেশ্বর শিব মন্দির।

ভক্তদের রোগব্যাধি দূর করা। বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণ। সংস্কারে শান্তি ফেরানো। এমন হাজারো সমস্যায় এই চন্দনেশ্বর মন্দির অঞ্চলের শিব ভক্তদের ভরসাস্থল। দূর-দূরান্ত থেকে চৈত্র এবং শ্রাবন মাসে বিশেষ পুজো উপলক্ষে বহু ভক্ত আসেন এই শিব মন্দিরে।নিজ নিজ মনোস্কামনা নিয়ে।ভক্তবৎসল চন্দনেশ্বর সবার মনোস্কামনা পূরণ বলে বিশ্বাস।

আরো একটি অলৌকিক ঘটনা এই মন্দির চত্বরে কান পাতলেই শোনা যায়।এই মন্দিরে একটি পুকুর আছে। সেখানে চড়কের সময় তিনটি কাঠ পাওয়া যায়। চড়কের প্রধান সন্ন্যাসী তিনটি কাঠের মধ্যে একটিকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করেন। তারপর যথা সময়ে সেই কাঠ নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এমনটা প্রতিবছর ঘটছে বলেই ভক্তরা দাবী করেন।

ফিরে আসবো বাংলার শিবের পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ এই বিশেষ পর্বের শুরুতেই সবাইকে জানাই

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আজ আলোচনা করবো।

 

এই ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমায় ‘দোলযাত্রা’ আয়োজিত হয়। আর ‘হোলি’ পালিত হয় তারপরের দিন।ফাল্গ‌ুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন।মনে করা হয় সেই ঘটনা থেকেই

দোল খেলার উৎপত্তি হয়েছে।

 

শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত মথুরা ও রাধার জন্মস্থান বৃন্দাবনে ষোলো দিন ধরে এই

দোল উৎসব পালিত হয়। এই তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণ রাধিকাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন।তাই দোল পূর্ণিমা মূলত রাধা কৃষ্ণের প্রেম

উদযাপনের উৎসব।

 

আবার হোলির উৎপত্তি এক পৌরাণিক ঘটনা থেকে।রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিল প্রহল্লাদ। সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ বালক। বিষ্ণুর শত্রু হিরণ্য কশিপু এই প্রহল্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা সেই উদ্দেশে প্রহল্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেন । হোলিকা ভেবেছিলেন তিনি তাঁর মায়াবী ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবেন এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রহল্লাদ। কিন্তু আদতে দেখা যায় তার উল্টোটাই হয়। বিষ্ণুভক্ত বালকের গায়ে আগুনের এতটুকু আঁচও লাগেনি। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় হোলিকার কন্যার। তারপর থেকেই এই অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করতে পালিত হয় হোলি উৎসব।

 

তবে বাংলার দোল একটু আলাদা শাস্ত্রের পাশাপাশি এ এক মিলনা উৎসব যা বসন্ত উৎসব নামে পালন হয়। যেখানে জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক রঙে মেতে ওঠে। আবার চৈতন্যদেবের সাথেও ও দোল পূর্ণিমার সম্পর্ক আছে কারন এই দোল পূর্ণিমা তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, কৃষ্ণনগরে এই তিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ওড়িশাতেও ধুমধাম করে পালিত হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।

 

দোল বলুন আর হোলি বলুন দুটোই নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।তারুণ্যর উৎসব|অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর উৎসব।নতুনের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।সবাইকে আরো একবার জানাই দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছ ও অভিনন্দন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – জলেস্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

  • বাংলার শিব – জলেস্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বাংলার আরেকটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শিবমন্দিরের কথা আপনাদের বলবো।

আজকে পর্বে নদিয়ার জলেস্বর শিব মন্দির।

 

নদিয়ার শান্তিপুরে ‘জলেশ্বর শিব মন্দির’ বাংলার অন্যতম প্রাচীন শৈবতীর্থ। এখানে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিশাল আকারের শিবলিঙ্গ। মন্দিরকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী|শোনা যায় এক বছর খরায় চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার উপক্রম,প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ|গ্রামের চাষিরা এক শিবলিঙ্গের মাথায় প্রচুর জল ঢালেন বৃষ্টির প্রার্থনায়। অলৌকিক ভাবে তার পরেই বৃষ্টি নামে। শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় ‘জলেশ্বর’|

 

এই মন্দিরের ইতিহাস খুব প্রাচীন তবে জলেশ্বর মন্দিরে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি নেই।তাই সঠিক দিনক্ষণ জানা যায়না তবে ‘নদিয়া গেজেটিয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির, নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন নদিয়া রাজ রাঘব রায়। তাঁর রাজত্বকাল ছিল আনুমানিক ১৬৩২ থেকে ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ। সেই সূত্রেই মনে করা হয় ওই সময়ের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়|

 

সারা বছরই শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে এই মন্দিরে তবে চৈত্র মাসে এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এই মন্দিরে প্রচুর মানুষ পুজো দেন। পাশাপাশি শিবের মাথায় জল ঢালতেও প্রতি দিন ভক্ত সমাগম হয়। আর শ্রাবণের শেষ সোমবারে ভক্তদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে|চৈত্র মাস এবং নীল ষষ্ঠীতেও এখানে বিশেষ পুজো উপলক্ষে

বহু শিব ভক্ত আসেন।এই চৈত্র মাসে আসন্ন নীল সময়ে আপনারাও পারলে অবশ্যই দর্শন করবেন জলেস্বর শিব মন্দির|

 

আজ এখানেই শেষ করলাম বাংলার শিব চলতে থাকবে আমার এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ফিরে আসবো বাংলার শিব নিয়ে পরের পর্বে।

সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – একশো আট শিব মন্দির

বাংলার শিব – একশো আট শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একটি দুটি এমনকি ছাব্বিশ টি শিব মন্দির একত্রে এই বাংলায় দেখা যায় কিন্তু একসাথে একশো আটটি শিব মন্দির বাংলা কেনো গোটা দেশের মধ্যেই অত্যন্ত বিরল নিদর্শন। আজকের পর্বে আপনাদের এমনই এক শিব মন্দিরের কথা জানাবো ।

 

সারা ভারতে ১০৮ শিবমন্দির মাত্র দু’টি জায়গায় আছে। এবং এই দু’টি জায়গাই বাংলায়, পূর্ব বর্ধমানে। প্রথমটি বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে নবাবহাটে এবং দ্বিতীয়টি কালনাতে|

 

সারা দেশে ১০৮ শিবমন্দির রূপে প্রচারিত হলেও কালনার এই মন্দিরের প্রকৃত নাম ‘নবকৈলাস মন্দির।বর্ধমানের রাজা তেজচন্দ্র ১৮০৯ সালে কালনার এই মন্দিরটি নির্মাণ করান যেখানে সাদা ও কালো শিব লিঙ্গের বৈচিত্রপূর্ণ সমাহার লক্ষ্য করা যায়, মনে করা হয় সাদা রং ত্যাগের প্রতীক এবং কালো ভোগের প্রতীক|

 

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি বাড়িতে স্বেত বর্ণের শিব লিঙ্গ রাখার নিয়ম নেই। স্বেত বর্ণের শিব লিঙ্গ রাখলে তা মন্দিরে রাখতে হয় এবং নিত্য পুজো করতে হয়।

 

এই কালনা রাজবাড়ি চত্বরের দক্ষিণ দিকে এই ১০৮ শিবমন্দির দু’টি বৃত্তকে কেন্দ্র করে নির্মিত। 

মোট ৭১টি সাদা ও ৩৭টি কালো শিবলিঙ্গ নিয়ে এই মন্দির অবস্থান করছে ভিতরের বৃত্তের মাঝখানে রয়েছে একটি বিরাট কূপ। অনেকেই মনে করেন মন্দিরের পুজোর কাজে জলের চাহিদা মেটানোর জন্যই এই কূপ খনন করা হয়।আবার অন্য মতে এই বৃহৎ কূপটি শূন্য তথা নিরাকার ব্রহ্মস্বরূপ পরম শিবের প্রতীক|এই কূপ ঘিরেও তাই রহস্যর শেষ নেই।

 

সেই রাজাও আর নেই কোনো রাজকীয় রীতি নীতি তবে নব কৈলাশ শিব মন্দির একাধারে ঐতিহাসিক এবং ধার্মিক স্থল হিসেবে স্বমহিমায় বিরাজমান।

 

দেশ বিদেশের বহু তীর্থযাত্রী প্রায় সারা বছরই আসেন এই অপূর্ব শিব মন্দির দর্শন করতে চৈত্র সংক্রান্তি এবং মহা শিব রাত্রি উপলক্ষে এখানে বহু শিব ভক্তের ভিড় হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বাংলার আরো একটি শিব মন্দিরের কথা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

 

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করেছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা আজকের পর্বে লিখবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে

বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে।

 

বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার কাছে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ববৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর শিব।

 

বাংলার ইতিহাস বলছে নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন।শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ এবং কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির।শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|

 

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুটের বেশি বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়।

 

শিব মন্দির প্রাঙ্গনে রাজ পরিবার কতৃক নির্মিত রামসীতার মন্দির ও আছে।তবে এই শিব খেত্রের সব থেকে বড়ো আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এই রাজ রাজেশ্বর শিব লিঙ্গ।

 

পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই।স্বাভাবিক ভাবেই এই বৃহৎ আকৃতির শিব লিঙ্গ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে যায় ভক্তি আর আস্থা।এই চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বাংলার বহু শিব ভক্তের গন্তব্য হয় এই রাজ রাজেশ্বর শিবের মন্দির।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। চৈত্র মাস ধরে চলতে থাকবে বাংলার প্রাচিন শিব মন্দির গুলি নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো |এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী এবং অলৌকিক ঘটনা|

 

বর্তমানে ল্যাটেরাইট তৈরি সুগঠিত পশ্চিমমুখী মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। ভক্তদের একাংশের ধারণা সেই দ্বাপর যুগ থেকে এই শিব এখানে বিরাজ করছেন এই মন্দিরটি দ পাণ্ডবদের সময় নির্মিত হয়েছিল। যা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে রয়েছে কুণ্ড। যার মধ্যে রয়েছে শিবলিঙ্গ। অনেকের মধ্যে শিবলিঙ্গ নিয়ে এসে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য।পৌরাণিক ব্যাখ্যা যাই হোক এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই শিব মন্দির।

 

প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া

নামের উৎপত্তি|

 

একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|

 

শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|শ্রাবন এবং চৈত্র মাস উপলক্ষে এখানে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।সেই সময়ে এই শিব পুজোকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|

 

আবার পরবর্তী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|

সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।