Home Blog Page 72

একান্ন পীঠ – দেবী যোগ্যদা

দেশ বিদেশে অবস্থিত শক্তিপীঠগুলি নিয়ে শুরু করেছি ধারাবাহিক আলোচনা আজ এই বাংলারই পূর্ব বর্ধমানে অবস্থিত অত্যান্ত জাগ্রত শক্তি পীঠ দেবী যোগ্যদার কথা বলবো জানবো তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বেশ কিছু কিংবদন্তী ও রহস্যময় কাহিনী|জানবো দেবী যোগ্যদার আধ্যাত্মিক ও ধার্মিক তাৎপর্য|
পুরানে বর্ণিত একান্ন সিদ্ধ সতীপীঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ পীঠ হল বর্ধমানের ক্ষীরগ্রামে অবস্থিত দেবী যোগ্যদার মন্দির|বাংলার শক্তি পীঠ গুলির মধ্যে এই পীঠটি অন্যতম|পীঠ নির্নয় তন্ত্র মতে দেবী সতীর ডান পায়ের একটি আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো এই স্থানে|
একটি প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে এই দেবীকে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন স্বয়ং বীর হনুমান, এবং তিনি স্বয়ং পুরাকালে দেবীকে দর্শন করতে ও তার পূজা করতে আসতেন|এই দেবী যোগ্যদা বর্তমানে ক্ষীর গ্রামের অধিষ্টাত্রী কুলদেবী|এলাকায় অন্যান্য লৌকিক দেবদেবীর মন্দির ও পূজার প্রচলন থাকলেও দেবী যোগ্যদাকে এখানে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়|সংরক্ষিত একটি প্রাচীন ধার্মীক পুঁথি থেকে দেবী যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে
“বাম স্কন্ধে লক্ষণ নিল,
দক্ষিণ স্কন্ধে রাম,
মাথায় প্রতিমা করে চলে হনুমান ।
শ্রীরাম বলি হুংকার ছাড়িলো হনুমান ।ক্ষীরগ্রাম মধ্যে হনু দিলা দরশন।”
শোনা যায় এক কালে পার্শবর্তী অঞ্চলে বলি প্রথা প্রচলন থাকলেও বৈষ্ণব প্রভাবের ফলে যোগ্যদা দেবীর কাছে পশু বলি হয়না|অবশ্য এ নিয়ে একটি রোমাঞ্চকর অলৌকিক কাহিনীও প্রচলিত আছে এই এলাকায়|প্রাচীন কালে স্থানীয় রাজা দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে তিনি দেবী প্রতিদিন বলি দেবেন, কথামতো রাজা রাজ্যে পালার ব্যবস্থা করলেন, বলি শুরু হলো, প্রতিদিন একটি করে বলি|এইভাবে একটি ব্রাহ্মণের ঘরে এল পালা|প্রান ভয়ে আগের দিন ব্রাহ্মণ গ্রাম ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলেন এবং এক অলৌকিক ঘটনা ঘটলো, ব্রাহ্মণ কে বাধা দিলেন ব্রাহ্মনী বেশি দেবী । ব্রাহ্মণ কে অভয় দিয়ে দেবী বললেন, ” আমি সেই যোগ্যদা ।আর আমি মানুষের রক্ত খাই না ।খাবোনা। রাজা নিজের মত চাপিয়ে দিয়েছে তোমাদের ওপর। তুমি ঘরে ফিরে যাও” এরপর দেবী যোগ্যতা দশভুজা মূর্তি ধারণ করে ব্রাহ্মণ কে দেখা দিলেন|ঘটনাটি এলাকায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পরে এবং সেই থেকে ক্ষীর গ্রামের দেবী যোগ্যতার উদ্দেশ্য বলি বন্ধ হয়|
গোটা অঞ্চলে একাধিক স্থানে দেবী যোগ্যতার পূজা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|মূলত তন্ত্র মতেই দেবীর পূজা হয়|দেবী দুর্গার স্বরূপ আবার ভদ্রকালী হিসেবেও তার পূজা হয় |একটি অতি প্রাচীন পাথর খন্ডের উপর চিত্রিত দেবীকে মূলত পূজা করা হয় বিশেষ বিশেষ তিথীতে|দেবীর একটি প্রতিরূপকে প্রয়োজনে জনসমক্ষে আনা হয়|ক্ষীর গ্রামের দেবী যোগ্যতা কে নিয়ে আরো একটি রহস্যময় প্রথা প্রচলিত আছে,দেবীর মুল বিগ্রহ টি একটি পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয় ও পূজার সময় জল থেকে তুলে এনে তা পূজা করা হয় এবং পূজা হয় মধ্যরাতে|অত্যান্ত গোপনীয়তার সাথে এই পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়|
দেবী যোগ্যদার কৃপায় পেতে অমাবস্যায় কোনো ব্রাহ্মণকে আতপ চাল এবং বস্ত্র দান করে দেবীর উদ্দেশ্যে প্রণাম করুন।
বাংলা এবং দেশ বিদেশে নানা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শক্তিপীঠ গুলির তাৎপর্য ব্যাখ্যা, অজানা কথা ও রোমাঞ্চকর বহু ঘটনা সহজ সরল ভাবে আপনাদের সামনে তুলে আগামী দিন গুলিতে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – সুগন্ধা

শক্তি পীঠ নিয়ে আলোচনায় আপনাদের ভালো লাগছে জেনে আমি উৎসাহিত ও গর্বিত|
আজ যে বিশেষ পীঠটির কথা লিখবো তা বর্তমানে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অবস্থিত।আজকের পর্বে জানবো শক্তি পীঠ সুগন্ধার কথা|
বাংলাদেশ এর বরিশালের শিকারপুর গ্রামে অবস্থিত এই বিশেষ শক্তি পীঠ সুগন্ধা বাংলাদেশ তথা গোটা বিশ্বে বসবাস কারী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ ক্ষেত্র|
পুরান মতে দেবীর নাসিকা পতিত হয়েছিলো এই স্থানে|দেবীর ভৈরব এখানে ত্র্যম্বক|মন্দিরের স্থান টি অতি সুন্দর, পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুগন্ধা নদী|দেবী এখানে সুনন্দা নামেও প্রসিদ্ধা|
অন্নদা মঙ্গল কাব্যে সুগন্ধা নামক শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে, সেখানে বলা হচ্ছে –
সুগন্ধায় নাসিকা পড়িল চক্রহতা|
ত্র্যম্বক ভৈরব তাহে সুনন্দা দেবতা|
এছাড়া শিব চরিত ও পীঠ নির্নয় তন্ত্রেও শক্তি পীঠ সুগন্ধার উল্লেখ আছে|
বহু কাল পূর্বে শিকার পুরের জমিদার শ্রীরাম রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে গভীর জংগলের মধ্যে খুঁজে পান ত্রম্বকেশ্বর মহাদেবের মূর্তি এবং ওই স্থানেই নির্মাণ করান শিব মন্দির।সেই সময়ে ত্রম্বকেশ্বর শিব ছিলেন এখানে আরাধ্য দেবতা।
পরবর্তীতে আরো একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে।শিকারপুর গ্রামে পঞ্চানন চক্রবর্তী নামে একজন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ বাস করতেন|দেবী কালী এই ব্রাহ্মণ কে স্বপ্নাদেশ দিয়ে সুগন্ধা নামক এই বিশেষ শক্তি পীঠের সন্ধান দেন|পড়ে এই ঘটনা লোক মুখে প্রচারিত হয় ও দেবীর মন্দির স্থাপিত হয়|
অত্যন্ত দুক্ষের বিষয় প্রাচীন সুগন্ধার মন্দির টি বহুদিন আগেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, এমনকি প্রাচীন দেবী মূর্তি ও আর নেই|বর্তমান মন্দির ও মূর্তি দুটোই আধুনিক সময়ে নতুন করে নির্মিত|দেবীর প্রস্তুরীভূত দেহাংশ ও এখানে সংরক্ষিত নেই যা অন্য অনেক শক্তি পীঠে আছে|
বর্তমানে এখানে দেবী উগ্রতারার মূর্তি বিরাজিতা। তাকেই দেবী সুগন্ধা রূপে পূজা করা হয় । মাথার ওপর কার্ত্তিক, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব , গণেশ বিরাজমান |দেবী খড়্গ, খেটক, নীলপদ্ম, নর মুণ্ডের কঙ্কাল ধারন করে আছেন |
এককালে স্থান টি ছিলো অতি দুর্গম, দুর দুর থেকে তন্ত্র সাধকরা আসতেন এখানে তন্ত্র সাধনা করতে|
সুগন্ধা মন্দিরে নিষ্ঠা সহকারে ও মহা সমারোহে পালিত হয় শিব চতুর্দশী|সেই উপলক্ষে ব্যাপক জন সমাগম হয়।
আজ এখানেই শেষ করছি শক্তি পীঠ সুগন্ধা
নিয়ে আলোচনা।যথা সময়ে পরের পর্বে
অন্য কোনোশক্তি পীঠ নিয়ে
ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – অট্টহাস

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে লিখবো বর্ধমানে অবস্থিত অট্টহাস শক্তিপীঠ নিয়ে। শাস্ত্র এখানে সতীর অধঃওষ্ঠ বা নিচের ঠোঁট পড়েছিল এখানে। সেই থেকেই নাম হয় অট্টহাস।
বহু প্রাচীন এই অট্টহাস মন্দির। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল নির্দিষ্ট ভাবে জানা না
গেলেও ১৩৪২ বঙ্গাব্দে এই মন্দির
সংস্কার করা হয়।।মন্দিরর গর্ভগৃহ খুবই প্রাচীন। গর্ভগৃহে মায়ের প্রধান শিলা ভূগর্ভের কয়েক হাত নিচে অবস্থান করছে।
দেবী এখানে চামুণ্ডা রূপে পূজিতা হন।
বাম হাত মাটিতে ভর দিয়ে আর ডান হাত হাঁটুতে রেখে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে আছেন দেবী। পাথরের উপর খোদাই করা হয়েছে এই সোওয়া এক ফুটের দন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তি।কোনো এক অজ্ঞাত কারণে
অট্টহাসে কখনো প্রকাশ্যে আনা হয় না দেবীর আসল রূপ। অন্তরালেই থাকেন অট্টহাসের দেবী দন্তুরা চামুণ্ডা। মূর্তির একটি ছবি মহিষমর্দিনী মূর্তির পাশে রেখে পুজো করা হয়।
ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই স্থান একসময় ছিলো খুবই দুর্গম।সেই সময় বাংলার ডাকাতরা এখানে পুজো করত বলে শোনা যায়। তখন এই মন্দিরে প্রায়ই বলী দেয়া হত বলেও শোনা যায়। সেই ডাকাতরা আজ আর নেই। নেই সেই সব নৃশংস রীতি তবে আজও তন্ত্র মতে নিষ্ঠা সকারে পুজো হয়।আজও রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন।
বিশেষ বিশেষ তিথি এবং প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়। শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞ এবং ভোগ বিতরণ হয়।এছাড়াও সারাবছরই এখানে কমবেশি ভিড় থাকে ভক্তদের।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে একান্ন পীঠের পরবর্তী পীঠ নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – নলাটেশ্বরী

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে লিখবো
বাংলার শক্তি পীঠেগুলির অন্যতম একটি পীঠ নিয়ে যা বীরভূমের নলহাটিতে অবস্থিত এবং নলাটেশ্বরী নামে প্রসিদ্ধ।
শাস্ত্র মতে এখানে সতীর গলার নলি পড়েছিল। নলাটেশ্বরী থেকেই এলাকার নাম নলহাটি।
জনশ্রুতি আছে যে আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে স্মরনাথ শর্মা নামে এক সাধক, স্বপ্নে দেবী নলাটেশ্বরীর দেখা পেয়ে জানতে পারেন, এখানেই সতীর খণ্ডিত দেহাংশ শিলারূপে অবস্থান করছে। তারপর সাধক স্মরনাথই এই জায়গা আবিষ্কার করে দেবীর নিত্যপুজার ব্যবস্থা করেন। তারপর ধীরে ধীরে প্রচারিত হয় দেবী নলাটেশ্বরীর মহাত্ম।আবার দ্বিমত ও আছে।অনেকে বলেন, ২৫২ বঙ্গাব্দে ব্রহ্মচারী কামদেব স্বপ্নাদেশে কাশী থেকে এসে এই পীঠস্থানটি আবিষ্কার করেন।
নলহাটিতে আছে ছোট্ট জঙ্গলাবৃত এক প্রাচীন টিলা। তারই এক প্রান্তে দেবী নলাটেশ্বরীর অধিষ্ঠান।এককালে বহু সাধকের সাধনার সাক্ষী জঙ্গল ঘেরা এই পাহাড়। এক সময়ে এখানে সাধারণ মানুষের তেমন আনাগোনা ছিল না। কেবলমাত্র যাতায়াত ছিল দুর্ধর্ষ দস্যু এবং বীরাচারী তান্ত্রিকদের।
ইতিহাস বলছে কোনো এক সময়ে নাটোরের রানি ভবানী বর্তমান মন্দির তৈরি করান।বর্তমানে এখানে গণেশও পাহাড়ে গায়ে শিলারূপে অধিষ্ঠিত।রয়েছে সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রাচীন একটি মন্দির।কথিত আছে, ভৈরব মন্দির স্থাপনের সময়, মাটির নীচ থেকে উঠে এসেছিল শ্রীবিষ্ণুর পদচিহ্ন আঁকা শিলাখণ্ড! আজও দেবী ও ভৈরবের আগে প্রতিদিন এই শিলাখণ্ডের পুজো হয়।
সূর্যোদয়ের আগেই মূল মন্দিরে দেবীর মহাস্নান সম্পন্ন হয়। তারপর মঙ্গলারতি করে দিনের শুরু। তখন থেকেই ভক্তদের জন্য খুলে যায় মন্দিরের দরজা। বিশেষ বিশেষ অমাবস্যা তিথিতে খুব সূর্য ওঠার আগে দেবীর মঙ্গলারতি হয়।
তারপর শুরু হয় নিত্যপুজো।গভীর রাতে একশো আটটি টি প্রদীপ জ্বালিয়ে মায়ের বিশেষ আরতি হয়।যুগ যুগ ধরে এই প্রথা চলে আসছে।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। একান্ন পীঠের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – দন্তেশ্বরী

বাংলার কিছু শক্তিপীঠ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করছি |আজকের পর্বে বাংলার প্রতিবেশী রাজ্য চত্রিশগড়ে অবস্থিত একটি শক্তি পীঠ নিয়ে আলোচনা হবে। আজকের শক্তি পীঠ দন্তেশ্বরী|
শক্তি পীঠ দন্তেশ্বরী অবস্থিত ছত্তিশ গড়ের দান্তেওয়ারা অঞ্চলে।এই দেবীর নামেই এই
অঞ্চনের নামকরণ বলে অনেকে বিশ্বাস করেন|শাস্ত্র মতে দেবী সতীর দাঁত পতিত হয়েছিলো এখানে।
সঠিক সময় কাল না জানা গেলেও মনে করা হয় বহু প্রাচীন কালে এই স্থানে দেবী দন্তেশ্বরীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কাকতীয় বংশের রাজারা|দেবী দন্তেশ্বরী এই প্রাচীন রাজ বংশের কুল দেবী|
আনুমানিক চতুৰ্দশ শতাব্দীতে তৈরী হয়েছিলো এই দেবী মন্দির|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে
দন্তেশ্বরী দেবীর মূর্তি যা একটি কৃষ্ণ বর্ণের পাথর থেকে তৈরী|মূল মন্দির চারটি ভাগে বিভক্ত যথা গর্ভ গৃহ,মহা মণ্ডপ, মুখ্য মণ্ডপ এবং সভা মণ্ডপ|মূল মন্দির কে ঘিরে রয়েছে একটি সুউচ্চ প্রাচীর|
স্থানীয় অধিবাসী দের কাছে দেবী দন্তেশ্বরী অত্যান্ত প্রসিদ্ধ এবং শ্রদ্ধার|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ছাড়াও প্রতিবছর নব রাত্রি ও দশেরা উৎসব এখানে মহাসমারোহে পালিত হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|
সমস্ত শক্তিপীঠের মধ্যে এটিই একমাত্র মন্দির যেখানে দুটি নয় তিনটি নবরাত্রি পালিত হয়। চৈত্র ও শারদীয়া নবরাত্রি ছাড়াও এখানে ফাল্গুন মাসেও নবরাত্রি পালিত হয়। একে স্থানীয় ভাষায়
ফাগুন মাধাই বলা হয়।
যারা তন্ত্র নিয়ে চর্চা করেন তাদের কাছে এই স্থানের আলাদা মহাত্ম আছে।দন্তেশ্বরী শক্তিপীঠকে তান্ত্রিকদের ধ্যানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুগ যুগ ধরে অনেক তান্ত্রিক ও অঘোরি এখানকার পাহাড়ের গুহায় তন্ত্র বিদ্যা চর্চা করেন।
খেলোয়াড় হোক বা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব। ব্যাবসায়ী হোক বা উচ্চ পদস্ত কোনো
সরকারি পদাধিকারী। চত্রিশ গড়ে সবাই নিজের মনোস্কামনা পূরণের জন্য দেবী দন্তেশ্বরীর স্মরণ নেন এবং বিশ্বাস করা হয় দেবী কাউকে শুন্য হাতে
ফেরান না।
আজকের পর্বে এই টুকুই। ফিরবো আগামী পর্বে|অন্য কোনো শক্তিপীঠের কথা নিয়ে।
চলতে থাকবে একান্ন পীঠ নিয়ে
ধারাবাহিক এই আলোচনা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – রত্নাবলী

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে শক্তি পীঠ হুগলির খানাকুলে অবস্থিত রত্নাবলী নিয়ে আলোচনা করবো। জানাবো এই পীঠের ইতিহাস গুরুত্ব।
পুরান অনুসারে রত্নাবলীতে শ্বেত পলাশ গাছের নিচে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ অর্থাৎ ডান দিকের কাঁধ পড়েছিল।পরবর্তীতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে মন্দির বানান সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী।
এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ইতিহাস অনুসারে এক সময়ে খানাকুলের উপর দিয়ে রত্নাকর নদী বয়ে যেত। সেই নদী আজ আর নেই। নদীর চিহ্ন হিসেবে পড়ে রয়েছে মাজা এক খাল।
নদীর শুকিয়ে যাওয়া নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। শোনা যায় একসময় এই নদী ছিল বিশাল চওড়া। একবার প্রসিদ্ধ সাধক অভিরাম গোস্বামী এই নদীতটে স্নান করছিলেন। হঠাৎই নদীর জল ফুলে ফেঁপে জোয়ার আসে। সেই জোয়ারের জলে অভিরামের কৌপিন ভেসে চলে যায়। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সাধক তখন নদীকে শাপ দেন। বলেন, এই মুহূর্তে তুই অন্ধ হয়ে যা। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই তুই অন্তর্বর্তী শিলা হয়ে মাটির তলা দিয়ে বইবি। ওপরে ব্যাপ্তি আর থাকবে না। তারপর থেকেই নদীর জল শুকোতে থাকে। নদী শুকিয়ে হয়ে যায় খাল যাকে এলাকায় কানা দ্বারকেশ্বর খাল বলেই ডাকা হয় ।
আদিকালের সেই রত্নাকর নদী তথা বর্তমানের কানা দ্বারকেশ্বর খালের ধারেই রত্নাবলী কালীমন্দিরটি অবস্থিত । এখানে আগে থেকেই ছিলো ঘন্টেশ্বর শিবমন্দির। পরবর্তীতে মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী। তখন থেকেই দেবীর পূজা হয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠার সময় এই মন্দিরটি ছিল একটি তালপাতার কুঁড়েঘর। বহু বছর পর বর্ধমানের মহারাজা এই মন্দিরটি পাকা করেন। সেই কাঠামোই এখনও রয়েছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী প্রস্তুরীভূত দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধটি মঙ্গলঘটের নীচে রেখে পুজো শুরু করেন।রত্নাকর নদীর তীরে মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল বলেই এখানে মায়ের নাম রত্নাবলী।
সাধক স্বরূপানন্দ মহারাজ পঞ্চমুণ্ডির আসনে ঘটে পুজো শুরু করেন। তার বহু কাল পরে মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়।এখানে মায়ের চার হাত।
যথারীতি এই মন্দিরের প্রথম পূজারী স্বরূপানন্দ মহারাজের দেখানো পথেই আজও পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সেই মতোই সব রীতি নীতি পালন হয় । আজও এখানে নিত্য পুজোর পাশাপাশি অমাবস্যায় হোম যজ্ঞ সহ বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।বহু ভক্ত আসেন।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। একান্ন পীঠের পরবর্তী শক্তি পীঠ নিয়ে। পড়তে থাকুন ।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – বর্গভীমা

আজ একান্ন পীঠ পর্বে আরো একটি সতী পীঠ নিয়ে বলবো যা বর্গভীমা নামে খ্যাত।
পুরাণে কথিত একান্ন সতীপীঠের একপীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা।
কথিত আছে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের খন্ডিত দেবী সতীর বাম পায়ের গোড়ালি এখানে পড়েছিল। পুরান মতে দেবী বর্গভীমা এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। এছাড়াও দেবীর মন্দির নির্মাণ নিয়ে আরো কয়েকটি মিথ প্রচলিত আছে।
দেবী বর্গভীমা মায়ের মন্দির নির্মাণের সাথে একটি অলৌকিক ঘটনা জড়িত আছে এবং এই ঘটনাটি চন্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক ধনপতি সওদাগরকে নিয়ে। ধনপতি সওদাগর তাম্রলিপ্ত বন্দর হয়ে বাণিজ্যতরী নিয়ে সিংহল বা আজকের শ্রী লঙ্কায় যাত্রাকালে দেখতে পান এক জন সোনার কলসি নিয়ে যাচ্ছে। ধনপতি সওদাগর কৌতূহলবশত ওই লোককে জিজ্ঞেস করেন এই সোনার কলসি কোথায় পেয়েছে, উত্তরে তিনি বলেন জঙ্গলের মধ্যে একটি পবিত্র কুণ্ড আছে যেখানে পেতলের পাত্র ডোবালে সোনার পাত্র হয়ে যায়। এরপর ধনপতি সওদাগর অনেক পেতলের পাত্র পবিত্র কুন্ডের জলে ডুবিয়ে সোনায় রূপান্তরিত করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাণিজ্যে প্রভূত লাভ হয়। ফিরে আসার সময় তাম্রলিপ্ত বন্দরে নোঙ্গর করে ঐ পবিত্র কুণ্ড ঘিরে দেবী মায়ের মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ করেন।সেই মন্দিরই আজকের বর্গভীমা মন্দির।
আরো একটি কিংবদন্তী অনুসারে তাম্রলিপ্ত নগরীর রাজা তাম্রধ্বজ দেবীবরণ মায়ের মন্দির নির্মাণ করে। রাজা তাম্রধ্বজের নিয়োজিত এক জেলেপরিবার প্রত্যহ রাজপরিবারে মাছ সরবরাহ করত। রাজ পরিবারে প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ জেলে বউয়ের প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ রাজ পরিবারের জন্য জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরকম একদিনে ওই জেলে বউ মরা মাছ নিয়ে জঙ্গলের সম্পুর্ন পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাজপরিবারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাস্তায় অপরিচিতা নারীর দেখা পান। ঐ জেলে বউ তার সমস্যার কথা সবিস্তারে সেই নারীকে বলেন। তখন সেই অপরিচিতা নারী জেলে বউকে বলেন তার মরা মাছ জীবিত করা সম্ভব। জঙ্গলের মধ্যে এক কুন্ড আছে সেই কুন্ডের জল মাছের উপর ছড়ালেই মরা মাছ জ্যান্ত হয়ে যাবে। এই কথা বলার পর ওই অপরিচিতা নারীর দেখা আর পাননি ঐ জেলে বউ। অপরিচিতা নারীর বর্ণিত পবিত্র কুন্ডু খুঁজে পান জেলে বউ এবং কোন সেই কুণ্ডের জল মরা মাছের ওপর ছড়াতেই মাছ জ্যান্ত হয়ে যায়। এরপর জেলে বউ প্রতিদিনই কুন্ডে জল ছিটিয়ে মরা মাছ জ্যান্ত করে রাজপরিবারের জন্য নিয়ে যায়। প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ সরবারহ দেখে তাম্রলিপ্ত রাজার সন্দেহ। জেলে বউকে জিজ্ঞেস করতেই সে সব সত্যি কথা বলে দেয়। রাজা তাম্রধ্বজ সপারিষদ সেই কুণ্ড দেখতে এলে দেখতে পান একটি বেদী ও বেদীর উপর অধিষ্ঠিত দেবী মূর্তি। রাজা তাম্রধ্বজ জঙ্গল পরিষ্কার করে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণ করেন। অনেকের মতে এটি দেবী বর্গভীমা মন্দির রূপে বর্তমানে পুজিত হয়
বর্তমানে মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি বর্গভীমা মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে।পুরান মতে দেবী ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষ এই চারটি বর্গ দান করেন বলেই মায়ের নাম দেবী বর্গভীমা।
নীল তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। কালীপুজোর দিন রাজবেশে মাকে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো হয়। বছরের অন্য দিনগুলিতে মাকে ভোর চারটেয় স্নান করিয়ে স্বর্নালঙ্কারে সাজানো হয়। অন্নভোগে নানা ব্যঞ্জনের পাশাপাশি এখনও রোজ মাকে নিবেদন করা হয় শোল মাছের ঝোল। আজও তমলুকের কোন কালীপুজো শুরু হয় না দেবী বর্গভীমা মায়ের পুজো না দিয়ে।
চলবে একান্ন পীঠ ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো শক্তি পীঠ নিয়ে। পড়তে থাকুন|
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – ভ্ৰমরী

জলপাইগুড়ির জল্পেশ ধামেই রয়েছে একটি জাগ্রত সতী পীঠ এবং জল্পেশ্বর মহাদেব এই
শক্তি পীঠের ভৈরব। একান্ন পীঠের অন্যতম এই শক্তিপীঠের নাম ভ্রামরী।আজকের পর্বে
এই শক্তিপীঠ সম্পর্কে জানবো।
পুরাণ অনুসারে অরুণাসুর নামে এক অসুর ব্রহ্মার থেকে বরদান পেয়েছিল যে কোনো দ্বিপদী বা চতুষ্পদী প্রাণী তাকে হত্যা করতে পারবে না। এই বরের অহংকারে মত্ব হয়ে সে কৈলাস আক্রমণ করেছিল তখন দেবী পার্বতী ভ্রামরী রূপ ধরে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সাথে নেন শতসহস্র ভ্রমরকে। তারা অরুণাসুরকে দংশন করে এবং শেষে বধ করে। দেবীর এই ভ্ৰমরী রূপেরই পুজো হয় জলপাইগুড়ির এই শক্তি পীঠে।
বর্তমানে এই এই সতীপীঠ উত্তর বঙ্গের ত্রিস্রোতা বা তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত চার পাশে বৈকুণ্ঠ পুরের জঙ্গল।পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে এখানে দেবীর বাম চরণ পড়েছিল। বর্তমান মন্দিরটির নির্মাণ নিয়েও একটি জনশ্রুতি আছে।কয়েক দশক আগে লাল শালু পরা এক সাধক এসেছিলেন। তাঁর জটা পা পর্যন্ত ঠেকত। তিনি দীর্ঘদিন এই মন্দিরে পূজা ও যজ্ঞ করতেন। ওই সাধকই তিনটি মোটা গাছের গুঁড়ির নীচে দেবীর পাথররূপী বাম পায়ের সন্ধান পান।
তারপরই সতী পীঠ হিসেবে এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা গোটা উত্তর বঙ্গ জুড়ে দাবা নলের মতো ছড়িয়ে পরে।নতুন করে মন্দির সংস্কার হয়।ভক্ত সমাগম বাড়তে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত। যাঁর কৃপায় বহু বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।তা সে আইনি বিবাদই হোক বা রোগ ব্যাধি ।
শোনা যায় দেবীর মন্দিরে জানানো সব গুলি মনোস্কামনা আজ অবধি পূর্ণ হয়েছে।
ভ্রামরী দেবীর মন্দিরে দুর্গাপুজো এবং মাঘি পূর্ণিমায় বিশেষ পুজোপাঠ হয়। এই সময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে বহু ভক্ত আসেন।
ফিরে আসবো একান্ন পীঠের নতুন পর্ব নিয়ে। আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – ত্রিপুরেশ্বরী

পশ্চিমবঙ্গর প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায়
মাতাবাড়ি গ্রামে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির অবস্থিত।
সতীর একান্ন শক্তিপীঠের মধ্যে এটি অন্যতম।
আজকের একান্ন পীঠ পর্বে ত্রিপুরা সুন্দরী বা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নিয়ে লিখবো ।
শাস্ত্র মতে দেবী সতীর ডান পা এই স্থানে পতিত হয়েছিল। দেবী সতীকে এই মন্দিরে ত্রিপুরা সুন্দরী বা ত্রিপুরেশ্বরী হিসাবে পুজো করা হয়।
মধ্যযুগে মহারাজা ধন্য মানিক্য দেবীর স্বপ্নাদেশের পর চট্টগ্রাম থেকে দেবী বিগ্রহ নিয়ে এসে মাতাবাড়ির একটি ছোট পাহাড়ের উপর স্থাপন করেন।
এই মন্দিরের গর্ভগৃহে দুটি দেবীমূর্তি রয়েছে।
পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মূর্তিটি ত্রিপুরাসুন্দরী নামে পরিচিত এবং দু ফুট লম্বা ছোট মূর্তিটিকে ছোটমা বা চন্ডীমাতা বলা হয় ।ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে দেবী মূর্তির পাশাপাশি নারায়ণ শিলা রয়েছে।
ভারতের স্বাধীনতার পর ত্রিপুরা রাজ্যর ভারতে অন্তর্ভুক্তির সময় ত্রিপুরার তৎকালীন রানী কাঞ্চন প্রভাদেবীর অন্যতম শর্ত ছিল ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর মন্দিরের পরিচালনার ভার সরকারকে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার শর্তে রাজি হয়। এরপরই রাজ্য সরকার ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।বিশেষ বিশেষ তিথিতে পুজোর সময়
রাজ পরিবারের সদস্যদের অর্ঘ্য আহুতি দিতে হয়।
ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির চত্বরে থাকা কল্যাণ সাগর এই শক্তি পীঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই দিঘিতে আছে প্রচুর পরিমাণে কচ্ছপ।এই দীঘিকে খুবই পবিত্র মনে করা হয় এবং ভক্তরা বিশ্বাস করেন এই দীঘির কচ্ছপদের খেতে দিলে তাদের মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।
শক্তি পীঠ ত্রিপুরাসুন্দরীকে ‘কূর্ম পীঠ’ ও বলা হয়। অনেকে মনে করেন এই কল্যাণ সাগরের কচ্ছপদের উপস্থিতির জন্যই এইরুপ নাম আবার অনেকে বিশ্বাস করেন যেখানে মন্দির অবস্থিত সেই পাহাড়ের আকৃতি ঠিক কচ্ছপের মত ছিল বলে এই শক্তিপীঠের নামকরণ করা হয় কুর্ম পীঠ।
এখনো অনেকগুলি শক্তিপীঠ নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – নন্দীকেশ্বরী

বীরভূমের পাঁচটি সতীপীঠের অন্যতম সাঁইথিয়ার দেবী নন্দিকেশ্বরী।তন্ত্রচূড়ামণিতে নন্দিকেশ্বরীকে মূল পীঠ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।আজকের একান্ন পীঠ পর্বে এই শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো।
শোনা যায় দাতারাম ঘোষ নামে দক্ষিণেশ্বরের অধিবাসী অধিবাসী। ভাগ্য অন্বেষণে বীরভূমে আসেন এক ব্রিটিশ দের সাথে ব্যবসা করে বহু অর্থ রোজগার করেন পরে দেওয়ান হন এবং শেষে জমিদার হয়েছিলেন।শোনা যায়, দেবী নিজেই স্বপ্ন দিয়ে তাঁর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন জনৈক দাতারাম ঘোষকে।তিনি মন্দির তৈরী করে পুজোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
বিশাল এক বটবৃক্ষ ছাতার মতো ঘিরে রেখেছে নন্দীকেশ্বর মন্দির অঙ্গনটি। এই বটবৃক্ষের নীচেই দেবী নন্দিকেশ্বরীর অবস্থান। ভৈরব এখানে নন্দিকেশ্বর। পুরান অনুসারে এখানে দেবী সতীর কণ্ঠহাড় পতিত হয়েছিলো।
বহু বছর আগে সাঁইথিয়া ছিলো নন্দীপুর। অর্থাৎ দেবী নন্দীকেশ্বরীর নামেই এলাকার নাম ছিলো।
যদিও এখন সাঁইথিয়া নামই ব্যবহার হয়।
শক্তি পীঠ হলেও রথ যাত্রা এখানে অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। স্থানীয় ব্যবসায়ী দের উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় রথযাত্রা উৎসব। পুরী থেকে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরামের দারুমূর্তি আনা হয়। সেই মূর্তি অভিষেক পর্বের মাধ্যমে নন্দিকেশ্বরী মন্দিরের প্রবেশপথের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৈরি করা হয় বিশালাকৃতি রথ এবং জগন্নাথদেবের মন্দির।অমাবস্যা তিথি গুলি ছাড়াও রথের সময় এখান ব্যাপক জন
সমাগম হয়।
নন্দীকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গনে মহাসরস্বতী, মহালক্ষ্মী, বিষ্ণুলক্ষ্মী, হনুমান মন্দির, জগন্নাথদেবের মন্দির, কালীয়দমন মন্দির আছে। এগুলির মধ্যে কালীয়দমন মন্দিরটি প্রাচীন।সব মিলিয়ে নন্দীকেশ্বরী শক্তি পীঠ বীরভূমের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে একান্ন পীঠের
পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।