একান্ন পীঠ – ভ্ৰমরী

17
জলপাইগুড়ির জল্পেশ ধামেই রয়েছে একটি জাগ্রত সতী পীঠ এবং জল্পেশ্বর মহাদেব এই
শক্তি পীঠের ভৈরব। একান্ন পীঠের অন্যতম এই শক্তিপীঠের নাম ভ্রামরী।আজকের পর্বে
এই শক্তিপীঠ সম্পর্কে জানবো।
পুরাণ অনুসারে অরুণাসুর নামে এক অসুর ব্রহ্মার থেকে বরদান পেয়েছিল যে কোনো দ্বিপদী বা চতুষ্পদী প্রাণী তাকে হত্যা করতে পারবে না। এই বরের অহংকারে মত্ব হয়ে সে কৈলাস আক্রমণ করেছিল তখন দেবী পার্বতী ভ্রামরী রূপ ধরে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সাথে নেন শতসহস্র ভ্রমরকে। তারা অরুণাসুরকে দংশন করে এবং শেষে বধ করে। দেবীর এই ভ্ৰমরী রূপেরই পুজো হয় জলপাইগুড়ির এই শক্তি পীঠে।
বর্তমানে এই এই সতীপীঠ উত্তর বঙ্গের ত্রিস্রোতা বা তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত চার পাশে বৈকুণ্ঠ পুরের জঙ্গল।পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে এখানে দেবীর বাম চরণ পড়েছিল। বর্তমান মন্দিরটির নির্মাণ নিয়েও একটি জনশ্রুতি আছে।কয়েক দশক আগে লাল শালু পরা এক সাধক এসেছিলেন। তাঁর জটা পা পর্যন্ত ঠেকত। তিনি দীর্ঘদিন এই মন্দিরে পূজা ও যজ্ঞ করতেন। ওই সাধকই তিনটি মোটা গাছের গুঁড়ির নীচে দেবীর পাথররূপী বাম পায়ের সন্ধান পান।
তারপরই সতী পীঠ হিসেবে এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা গোটা উত্তর বঙ্গ জুড়ে দাবা নলের মতো ছড়িয়ে পরে।নতুন করে মন্দির সংস্কার হয়।ভক্ত সমাগম বাড়তে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত। যাঁর কৃপায় বহু বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।তা সে আইনি বিবাদই হোক বা রোগ ব্যাধি ।
শোনা যায় দেবীর মন্দিরে জানানো সব গুলি মনোস্কামনা আজ অবধি পূর্ণ হয়েছে।
ভ্রামরী দেবীর মন্দিরে দুর্গাপুজো এবং মাঘি পূর্ণিমায় বিশেষ পুজোপাঠ হয়। এই সময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে বহু ভক্ত আসেন।
ফিরে আসবো একান্ন পীঠের নতুন পর্ব নিয়ে। আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।