Home Blog Page 71

বিশেষ পর্ব – হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা

বিশেষ পর্ব – হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বজরংবলীজীর আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মের মানুষ ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালন করেন।আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমানজী সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|

 

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। তাই কোথাও তাকে কেশরী নন্দন আবার কোথাও অঞ্জনি পুত্র বলা হয়েছে।হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।তিনি স্বয়ং শিবের অংশ।

 

একবার দশানন রাবণ কৈলাশে দ্বার পাহারারত নন্দীকে ব্যাঙ্গ করেছিলেন  বানর বলে|ক্ষিপ্ত হয়ে নন্দী রাবণকে অভিশাপ দিলেন নর আর বানরের সম্মিলিত প্রয়াসেই রাবণ আর তার কূল ধ্বংস হবে|এই অভিশাপ পরবর্তীতে কি ভাবে সত্য হয়েছিলো তা রামায়নে বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে|

 

শৈশব থেকেই বজরংবলী অসীম শক্তির অধিকারী

পুরান অনুসারে একদা তিনি সূর্য দেবতাকে ফল হিসাবে গ্রাস করে ফেলেছিলেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্দ্র হনুমানকে বজ্রাঘাত করে সূর্য উদ্ধার করেন।

সহকারী হিসেবে রাবনকে পরাজিত করতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন বজরংবলী। তিনিই একমাত্র চরিত্র যিনি আগাগোড়া নিষ্কাম কর্ম করেগেছেন তার কোনো ব্যাক্তি স্বার্থ নেই। শুধু প্রভূ শ্রী রামের কাজ নিঃস্বার্থ ভাবে করে যাওয়াই তার উদ্দেশ্যে।

গীতায় শ্রী কৃষ্ণ যে নিষ্কাম কর্মর কথা বলেছেন বজরংবলী সেই আদর্শের প্রতীক স্বরূপ।

 

রূদ্র অবতার হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন।মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে একবার হনুমানজীকে দর্শনও দিয়েছিলেন।

 

যত দেব দেবী আছেন তাদের মধ্যে সব থেকে দ্রুত ভক্তের প্রার্থনা শোনেন হনুমান কারন তিনি শশরীরে এই পৃথিবীতেই বিরাজ করছেন। যেখানেই প্রভু রামের গুনগান হয় সেখানেই তিনি আসেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বলা হয় যার উপরে হনুমানজীর কৃপা আছে তার উপর শনিদেবের অশুভ দৃষ্টি পড়েনা। এনিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

 

আজ রূদ্র অবতার হনুমানের চরনে প্রনাম জানাই আপনাদের সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর অনেক শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী প্রসঙ্গে আরো একটি আলোচনা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – চিরঞ্জিবী হনুমানজী 

বিশেষ পর্ব – চিরঞ্জিবী হনুমানজী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি ছয়দিন ব্যাপী বজরংবলী সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা। আজ শুরুতে বজরংবলীর চিরঞ্জিবী সত্ত্বা নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে যে সাতজন চিরঞ্জিবীর উল্লেখ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হনুমান।ভগবান হনুমান ভগবান ইন্দ্রের বরপ্রদত্ত। বিশ্বাস করা হয়, হনুমান একমাত্র নিজের ইচ্ছেয় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন বলে বর দিয়েছিলেন ইন্দ্র।কিন্তু কেনো এমন বর দেয়ার প্রয়োজন হলো তা নিয়ে শাস্ত্রে একটি

ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

 

হনুমান যখন শিশু ছিলেন, তিনি সূর্যকে দেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন এটি একটি লাল ফল, তাই তিনি এটি খাওয়ার চেষ্টায় এর দিকে উড়ে গেলেন। ইন্দ্র যখন হনুমানকে আসতে দেখেন, তখন তিনি তাকে আঘাত করার জন্য তার বজ্র নিক্ষেপ করেন। আঘাতে হনুমানের বাম গালের হাড় আহত হয়। বায়ু দেবতা, যিনি হনুমানের পিতা ছিলেন, তাঁর পুত্রের আঘাতে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, তাই তিনি আর পৃথিবীতে বায়ু সঞ্চালন করতে অস্বীকার করেছিলেন। বায়ুর অভাবে জীবকুল যখন শেষ হয়ে যেতে বসে তখন সমস্ত দেবতারা হনুমানকে বর দেন।বর দিয়েছিলেন যাতে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা হনুমানের কোনো ক্ষতি না হয়।ভগবান শিব বর দিয়েছিলেন যে তাঁর বা তাঁর কোনো অস্ত্র দ্বারা কখনোই হনুমানের মৃত্যু হবেনা।এই সময়ে দেবরাজ ইন্দ্র বর দিয়েছিলেন যে হনুমানের মৃত্যু কেবল তার নিজের ইচ্ছায় ঘটবে।

 

ভগবান শ্রী রামও বর দিয়েছেন হনুমানকে। সেই বর অনুযায়ী কলি যুগের শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে হনুমানের। আবার সীতাদেবীর বর অনুযায়ী হনুমান চিরঞ্জীবী। বিশ্বাস করা হয়, মা সীতার বরদানের কারণেই দ্বাপর যুগে ভগবান হনুমানের উল্লেখ পাওয়া যায়। ওই যুগে ভীমের পরীক্ষা নিয়েছিলেন ভগবান হনুমান। মহাভারতের যুদ্ধেও অর্জুনের রথের ধ্বজা রূপে হনুমান উপস্থিত ছিলেন।কলিযুগেও ভগবান হনুমানের দর্শন পেয়েছিলেন কবি তুলসিদাস। ভগবৎ গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে কলিযুগে গন্ধমাদন পর্বতে বাস করবেন ভগবান হনুমান।

 

বজরংবলী অজর-অমর হওয়ার বর প্রাপ্ত। অর্থাত্‍‌ তিনি কখনও বুড়ো হবেন না। আবার তাঁর কখনও মৃত্যু হবে না। কথিত আছে, রামায়ণের সমস্ত চরিত্র মোক্ষ লাভ করে, কিন্তু হনুমান সব সময়ের জন্য পৃথিবীতে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যত দিন মানুষের হৃদয়ে রাম জীবিত আছেন, তত দিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন।মনে করার হয় যেখানে ভক্তি সহকারে রাম নাম হয় সেখানেই তিনি আসেন এবং শ্রীলংকার একটি জনগোষ্ঠীকে নিদ্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর দেখা দেন|এমনটাও শোনা যায় যে হিমালয়ে অবস্থিত বহু উচ্চকোটির সাধু সন্ন্যাসীরা তার দর্শন পেয়েছেন।

 

শোনা যায় যেখানেই অন্তরথেকে রাম নাম করা হয় সেখানেই তিনি আসেন। তাই সব নাম সংকীর্ণ এর স্থানে হনুমানের জন্য একটি নিদ্দিষ্ট আসন সর্বদা ফাঁকা রাখা হয়।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। বজরংবলী সংক্রান্ত আরো একটি পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – জলপাইগুড়ির ভদ্র কালীর পুজো

বাংলার কালী – জলপাইগুড়ির ভদ্র কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়ায় রয়েছে প্রাচীন এক কালী মন্দির। নাম দেবী ভদ্রকালীর মন্দির।

গোটা উত্তর বঙ্গের মানুষের কাছে দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। ব্যতিক্রমী ব্যতিক্রমী বিষয় হচ্ছে দেবী সাপের ওপর বিরাজিতা।

 

কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন কোচবিহারের মহারাজার রূপনারায়ণ ১৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার

অনেকের আবার দাবি বৈকুণ্ঠপুরের মহারাজা দর্পদেব রায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মন্দিরটি এবং সেই সময়ে পুরী থেকে পান্ডা নিয়ে এসে শুরু করেছিলেন এই পুজো।

 

প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে দেবীমূর্তি পূজিত হচ্ছেন। দেবীর গড়নেও রয়েছে বৈচিত্র্য। যার সঙ্গে অগ্নিপুরাণে বর্ণিত দেবীর রূপের সাদৃশ্য আছে।এখানে দেবীর পায়ের তলায় মহাদেব নেই। রয়েছে দুটি গোখরো সাপ। যা সৃষ্টি ও প্রলয়ের প্রতীক। দেবী এখানে জিহ্বা বার করে নেই বরং প্রসন্নময়ী স্নিগ্ধ এবং শান্ত রূপ।দেবী বিগ্রহের উচ্চতা প্রায় চার ফুট।

 

যদিও রূপ কিছুটা ভিন্ন তবুও দেবীকে এখানে দক্ষিণকালী রূপে পুজো করা হয়।বর্তমানে এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন রাজপরিবারের এক সদস্য।বংশ পরম্পরায় পান্ডারাই পুজো করেন।এই মন্দির ঘিরে রয়েছে পাণ্ডাদের বসতি। সেই থেকেই এলাকার নাম হয়েছে পাণ্ডাপাড়া।

 

প্রতি কার্তিক অমাবস্যায় বেশ ঘটা করে দেবীর পুজো করা হয়। প্রতিপুজোয় এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। সেই সময় মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে।

দেবীর ভক্তরা বিশ্বাস করেন তাঁর কাছে যা

প্রার্থনা করা হয় সেটাই পূরণ হয়।

 

বাংলার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

চলতে থাকবে বাংলার কালী। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – কোচবিহারের শ্মশান কালীর পুজো 

বাংলার কালী – কোচবিহারের শ্মশান কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তন্ত্র সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশ এর হাত ধরে বাঙালির ঘরে ঘরে দক্ষিনা কালীর পুজো

শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত বাংলায় মুলত শ্মশান কালীর পুজো হতো। সেই সময় কালী পুজো করতো ডাকাত এবং তন্ত্র সাধকরা। এমনই এক জাগ্রত শ্মশান কালী মন্দির আছে কোচবিহারে।

 

কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকায় পুরাতন শ্মশান কালী মন্দিরটি রয়েছে। একসময় তোর্সা নদীর পাশেই ছিল শ্মশান। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন শ্মশান কালী মা।তোর্সা নদীর তীরেই

পুজো হতো কালী মায়ের তারপর ১৯৫৩ সালে বন্যায় নদী ভাঙ্গনে হারিয়ে যায় সেই মায়ের মন্দির। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় মা। তারপরে বহু কষ্টে মায়ের মন্দিরের অবশিষ্টাংশ ধরে রেখে আজও পুজো হয়ে আসছে

 

স্থানীয়দের মতে এই পুজো পাঁচশো বছরেরও বেশি পুরনো।প্রথম দিকে এই পুজো শুরু করেছিলেন কোচবিহারের মহারাজা গোপাল কৃষ্ণ নারায়ণ। দয়াল চন্দ্র সাধু প্রথম এই পুজো শুরু করেন। এরপর বন্যার সময় মন্দির ভেঙে যায় একটা সময়। কিছুটা অংশ চলে যায় নদীর বিপরীত দিকে টাপুরহাট এলাকায়। সেখানেও শ্মশানকালীর একটি মন্দির করা হয়েছে। কিছুটা অংশ চলে আসে নদীর এই পারে অর্থাৎ শহরের দিকে, যা বর্তমানে পুরাতন শ্মশান কালী মন্দির হিসেবে পরিচিত।

 

একটা সময় কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড এই মন্দিরের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। কিন্তু, স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগের কারণে মন্দিরের দায়িত্বভার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড-এর হাতে দিতে অস্বীকার করে। বর্তমানে যেখানে পুজো চলছে সেখানে মা কে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন স্থানীয় এক মাতৃ সাধক তার নাম ছিলো।বুধু মুনি। তার মৃত্যুর পরে তার পুজো পদ্ধতি মতে সেবায়েতরা বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন।

 

এখানে লক্ষ্মী পুজোর দিন থেকে দীপাবলি কালী পুজো পর্যন্ত বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।

এলাকাবাসীর কথায়, ‘জাগ্রত এই দেবী সবসময়ই সাধারণ মানুষের কল্যাণ করে থাকেন।

 

বাংলার প্রাচিন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির গুলি নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা চলত থাকবে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – পুরুলিয়ার  বড়ো কালী পুজো

বাংলার কালী – পুরুলিয়ার  বড়ো কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

 

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বড়ো কালী। শুধু জেলা নয় রাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত কালীপুজো।এই পুজো মৌতড়ের পুজো নামেও প্রসিদ্ধ।

আজকের বাংলার কালী পর্বে এই বিখ্যাত

কালী পুজোটি নিয়ে লিখবো।

 

শোনা যায় আজ থেকে আড়াইশো বছর আগে এই গ্রামে কালীপুজোর সূচনা করেন গ্রামে জমিদার বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের আত্মীয় শোভারাম বন্দ্যোপাধ্যায়। আদতে বর্ধমান শহরের বাসিন্দা সাধক প্রকৃতির মানুষ শোভারাম বন্দ্যোপাধ্যায় বিয়ের পর থেকে মৌতোড় গ্রামেই শশুরালয়ে থাকতেন।এই শোভারাম ছিলেন মা কালীর ভক্ত ।

এও শোনা যায় যে তিনি গুপ্ত সাধক ছিলেন।

 

সংসারে তার মন ছিলোনা দিনরাত জঙ্গল, দুর্গম এলাকায় এমনকি শ্মশানঘাটেও ঘুরে বেড়াতেন। হঠাৎ তিনি একদিন মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্নাদেশ পান। তারপরই পাথরের মূর্তি তৈরি করে পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরি করে তিনি পুজো শুরু করেন।

 

সেই পুজোই আজকের বড়ো কালীর পুজোর রূপ নিয়েছে।এরপর যতদিন গিয়েছে এই কালীপুজোর নাম দূরত্ব দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। মৌতড়ের এই জাগ্রত পুজো বর্তমানে শোভারাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এবং রাজ্যের মধ্যে অন্যতম কালীপুজো হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

 

প্রায় প্রতিটি অমাবস্যাতেই বিশেষ পুজো হয় তবে দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন মন্দির প্রাঙ্গনে

জড়ো হন অসংখ্য ভক্ত। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মেলাও চলে এখানে। মৌতড়ের বড়ো কালীর পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হল এখানকার বলি প্রথা।

এই প্রথা সেই শুরুর দিন থেকে চলে আসছে এবং বর্তমানে বহু ভক্ত এই প্রথায় অংশ নেন।

 

ভক্তদের বিশ্বাস এখানে মা কালী ভীষণ জাগ্রত এবং মায়ের পুজো দিয়ে প্রার্থনা করলে সবার সব মনস্কামনা পূর্ণ হয়।

 

বাংলার প্রাচীন কালী পুজোগুলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রামনবমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

রামনবমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এবছর রাম নবমী বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারন এবছর রামনবমী যখন পালন হচ্ছে তখন স্বয়ং রাম লালা তার জন্ম স্থানে বিরাজমান। এর থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে।

 

সনাতন ধর্মে যতজন ভগবানের অবতার আছেন তাদের মধ্যে রামকে এক কথায় সর্বশ্রেষ্ঠ বলা যায়।

তাই আজও এতো বছর পরেও তার মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠে গোটা দেশ। তিনি ন্যায় এবং সুশাসনের প্রতীক। তার জীবন এবং দর্শন ভারতের আদর্শ। আজ তার তার জন্ম তিথিকেই আমরা রাম নবমী রূপে

পালন করি।রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা। মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা।

 

বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে

নানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেন|ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মেছিলেন।

 

শ্রী রাম ছিলেন সূর্য্য বংশীয় রাজা দশরথের অস্বমেধ যোগ্য লব্ধ যেষ্ঠ পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি রাজধর্ম পালন করছেন কারন রামের যখন চোদ্দ বছর বয়স তাকে ঋশি বিস্বামিত্র রাক্ষস দের হাত থেকে যজ্ঞ রক্ষা করার জন্য দশরথের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে শুরু হয় তার দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন যা শেষ হয় রাবন বধের মধ্যে দিয়ে।

 

ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে। বিশ্বের বহু দেশেই রামের মন্দির আছে,ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম রাম মূর্তি|শ্রী রাম সততার প্রতীক, ত্যাগের প্রতীক,অসত্যর উপর সত্যর জয়ের প্রতীক|রাজ ধর্ম পালন করতে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেনতা এক দৃষ্টান্ত|রাম নামকে বলা হয় কলিযুগের সব অন্ধকারকে দূর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র|

 

শাস্ত্রমতে এই রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় বইগুলি থেকে পাঠ করে শোনাবার রীতি আছে| এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে সহজেই বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায়, অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। বহু স্থানে সূর্য দেবকে জল প্রদান করে সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয় আজকের দিনে|

 

কোন রীতি পালন করলেন সেটা বড়ো কথা নয়। আসল বিষয় হলো শ্রী রামের প্রতি আপনার বিশ্বাস এবং তার আদর্শকে অনুসরণ করার ইচ্ছা|

শ্রী রামের চরণে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পন করতে পারলে আর দুঃখ কষ্ট থাকবেনা।

 

সবাইকে জানাই রাম নবমীর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী দিনে। নতুন একটি শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অন্নপূর্ণা পূজার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ মা অন্নপূর্ণার পূজার এই বিশেষ দিনে দেবী অন্নপূর্ণা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রী তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যার মধ্যে দিয়ে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন।

 

সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণা অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় শাস্ত্রে।পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে একবার দেবাদিদেবের কোনো কারণনে গুরুতর মতবিরোধে দেখা দিলে দেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। সাথে সাথে ভয়ানক মহামারি, খাদ্যাভাব দেখা দেয়।ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও অভাব ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবীর লীলা বুঝতে পারেন মহাদেব। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ নিতে কাশীতে আসেন। দেবী তাকে অন্ন ভিক্ষা দেন। সেই অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন মহাদেব।

 

দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণের পর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী তার কৃপায় কাশিতে ইচ্ছা থাকলেও অনাহারে থাকা যায়না, প্রত্যেক কাশী বাসির অন্নদানের ভার দেবী অন্নপূর্ণার|তিনি অন্নদাত্রী।তাই অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদা।পুরান মতে এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা

আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে|

 

শাস্ত্রে বর্ণিত এই ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়। দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরেক রূপ দেবী অন্নপূর্ণা তার অনুপস্থিতি ঘটলেই দেখা দেয় অশান্তি, অভাব এবং দারিদ্রতা।স্বয়ং মহাদেব কেও তার সামনের হাত পাততে হয় অন্নর জন্য।

 

দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর পর দরিদ্রকে অন্ন দান করলে জীবন থেকে সব অভাব দূর হয়|

দেবী অন্নপূর্ণা কতৃক মহাদেবকে অন্নদানের ছবি বা মূর্তি যে গৃহে থাকে সেই অন্নর অভাব হয়না বলেও শাস্ত্রে আছে।

 

এবছরেও প্রতিবারের ন্যায় আমার গৃহ মন্দিরে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। দেবীর কাছে আজ জগৎ কল্যানের জন্য প্রার্থনা করবো।আপনারাও দেবী অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থনা করুন নিজের পরিবারের সুখ এবং সমৃদ্ধির জন্যে।

 

সবাইকে জানাই অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো আগামী দিনে আরো একটি

বিশেষ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

  • ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – বাসন্তী পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

বিশেষ পর্ব – বাসন্তী পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সারা বছরে দুবার দূর্গাপুজোর শাস্ত্রীয় বিধান আছে। শরৎ এবং বসন্ত এই দুই ঋতুতে দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। বসন্ত কালে দেবী দুর্গার যে পুজো হয় তাকে বাসন্তী পুজো বলা হয়। এই কারণে দেবী দুর্গার আরেক নাম ও বাসন্তী। আজ বাসন্তী পুজোর এই মহা তিথিতে আপনাদের বাসন্তী পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করবো।

 

পুরান অনুযায়ী সমাধি নামক বৈশ্যর সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করে। যা পরবর্তীকালে বাসন্তী পুজো নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চন্ডিতে রাজা সুরথের নাম উল্লেখ রয়েছে।

 

যোদ্ধা হিসাবে রাজা সুরথ ছিলেন বিখ্যাত । কোন যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হেরে যাননি একদিন প্রতিবেশী রাজ্য তাকে আক্রমণ করলে তিনি পরাজিত হন এই সুযোগে তার সভাসদরা লুঠপাঠ চালায়। নিজের কাছের লোকেদের এমন আচারনে তিনি অবাক হয়ে যান।ভগ্ন হৃদয়ে রাজকার্য ছেড়ে রাজা সুরথ এই সময় ঘুরতে ঘুরতে ঋষি মেধসের আশ্রমে পৌঁছান। ঋষি তাকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা মনের শান্তি পান না। এর মধ্যে একদিন তার সঙ্গে সমাধি বলে একজনের দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন সমাধিকে তার স্ত্রী ও ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তবুও তিনি বউ ছেলের ভালো-মন্দ এখনও ভেবে চলেছেন।

 

তারা দুজনেই বিস্মিত হলেন যে, যাদের কারণে তারা আজ সব হারিয়েছে, এখনও তারা তাদের ভালো চেয়ে যাচ্ছেন। ঋষিকে এ কথা জানানোতে তিনি বলেন যে এসবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনী বর্ণনা করেন। ঋষির পরামর্শ মতই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করে। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই রাজা বসন্তকালের শুক্লপক্ষে দেবী দুর্গার পুজো শুরু করে সেই সময় থেকে শুরু হয়েছিল বাসন্তী পুজো।আজও শরৎ এবং বসন্ত এই ঋতুতে দেবী দুর্গার দুবার পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

 

শরৎ কালে পুজো অকাল পুজো তাই শরৎ ঋতুতে দেবীর বোধন করে পুজো করতে হয়। শাস্ত্র মতে শরৎ ঋতু দেবতাদের রাত্রি তাই অকাল বলা হয় এবং বোধন করে পুজো শুরু করতে হয়। বসন্ত ঋতুতে দেবতারা জাগরিত থাকেন তাই

বোধনের প্রয়োজন হয়না।

 

অর্থাৎ শাস্ত্র মতে বাসন্তী পুজো বিশেষ ভাবে তাৎপর্য পূর্ণ। আজ এই বাসন্তী পুজোর দিনে আপনাদের সবাইকে আন্তরিক জানাই শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে। বিশেষ একটি পর্ব। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যতই ইংরেজি নিউ ইয়ার নিয়ে মাতামাতি হোক বাংলির সাথে বাংলা নববর্ষর রয়েছে এক আবেগের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক।

 

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রে পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|এক সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে। বিশেষ করে বড় বাজার, নিউ মার্কেট বা বই পাড়ায় এই ঐতিহ্য আজও টিকে আছে।

 

যদিও আরো একটু পিছিয়ে যাই দেখা যাবে জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন

আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে|

 

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা

মধুসূদন মাস বলা হয় যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।জ্যোতিষ শাস্ত্রের দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে “বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়।আগেই বলেছি  এই মাস কৃষ্ণের প্রিয় মাস।বৈশাখ মাসে গীতা পাঠ বা শ্রবণ করা উচিত।তাতে আধ্যাত্মিক উন্নতি হয় ও ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।

 

সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ। সঙ্গে থাকুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। থাকবে একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে লেখা। পড়তে থাকুন ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

চড়ক এবং গাজন উৎসবের ইতিহাস

চড়ক এবং গাজন উৎসবের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাঙালির নব বর্ষের সূচনা হয় গাজন এবং চড়ক উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এই গাজন এবং চড়ক দুটি বেশ প্রাচিন কাল থেকেই বঙ্গদেশে প্রচলিত। শিব পার্বতী ছাড়াও বহু লৌকিক দেব দেবী এই উৎসবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

 

কেউ বলেন গর্জন থেকে গাজন, কেউ বলেন ‘গাঁয়ের জন’-এর উৎসব থেকে গাজন।প্রকৃত অর্থ যাই হোক দুটি অর্থই বেশ মানানসই।কারন এককালে ঢাকের বাদ্যি, ভোলা মহেশ্বরের নামে সন্ন্যাসীদের গর্জন ও গাজনগীতিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠতো বাঙালি মেতে ওঠে গাজন উৎসবে।পরবর্তী শহর অঞ্চলে

এই উৎসব কিছুটা জৌলুস হারালেও আজও গ্রাম গঞ্জের মানুষের কাছে পয়লা বৈশাখী আমেজ মানেই গাজন এবং চড়ক উৎসব।

 

চৈত্র মাস হল শিব-পার্বতীর বিবাহের মাস। এই মাসেই তাই গাজনের ধুম। এই গাজনের মাধ্যমে শিব ভক্তরা তাদের আরাধ্য মহাদেব কে এবং দেবী পার্বতীকে স্মরণ করেন।গাজনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান চড়ক যা এই উৎসবেরই একটি অঙ্গ।

 

এককালে কলকাতার বাবুরা ঘটা করে চড়ক উৎসব পালন করতো।বাগবাজারের এই চড়ক ছিল কলকাতার বিখ্যাত ও সর্বপ্রধান চড়ক। চড়ক গাছের সঙ্গে উপর উপর চারটি মাচান বেঁধে তার মাঝখানে এক জন করে মহাদেব সাজিয়ে চার কোণে চার জন করে মোট ষোলো জনকে পিঠ ফুঁড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হত। পিছিয়ে ছিলোনা জেলা গুলির। কোথাও মুখোশ নাচ কোথাও সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হতো।

বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে গম্ভীরা রূপে পালন হতো এই উৎসব।

 

পরবর্তীতে শারীরিক নৃশংসতার কারণে কোথাও কোথাও গাজনের কিছু উপাচার নিষিদ্ধ হয়। তবে সন্ন্যাসীদের নিষ্ঠা এবং ভক্তি অটুট থাকে। আজও বাংলা জুড়ে গাজন এবং চড়কের মেলা বসে।আনন্দ এবং উৎসাহ আগের মতোই আছে।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই গাজন এবং চড়ক উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভ নববর্ষ। ভালো থাকুন। সঙ্গে থাকুন। ফিরে আসবো আগামী পড়বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।