একান্ন পীঠ – দেবী অপর্ণা
বিশেষ পর্ব – কল্পতরু উৎসব
বিশ্ববাসির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে ইংরেজি নব বর্ষের সূচনা হলেও বাঙালির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে কল্প তরু উৎসব।আজকের দিনে কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ। ১৮৮৬ সালের সেই দিনকে স্মরণে রেখেই মঠ মিশন সহ ঠাকুরের গৃহি ভক্তদের গৃহে পালন করা হয় কল্পতরু উৎসব।
প্রথমে আসুন শাস্ত্র কল্পতরু সন্পর্কে কি বলছে।
পুরাণ মতে দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে কল্প তরু বৃক্ষ পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই কল্প তরু বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই বৃক্ষ সবার মনোস্কামনা পূর্ণ করতো অর্থাৎ এই বৃক্ষর কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।
এবার আসুন জেনে নিই কেনো ঠাকুর রামকৃষ্ণকে কল্পতরু বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয় এবং কেনই বা এই বিশেষ দিনটিকে কল্পতরু দিবস রূপে পালন করা হয়।
দিন টা ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যান বাড়িতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০ জন মতো গৃহী ভক্ত।শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে ঠাকুর এই বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, “হ্যাঁ গো,তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী”? গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, “তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন”। সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করল এবং ঠাকুর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের চৈতন্য হউক”।
তখন উপস্থিত ভক্তরা ইচ্ছা পূরণের এক দিব্য অনুভূতি অনুভব করেন নিজেদের অন্তরে।বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো এক অলৌকিক শক্তি যেনো প্রবেশ করে তাদের শরীরে। ঠাকুর তখন ভাব লেশ হীন। তন্ময় অবস্থায় পৌঁছে গেছেন।তিনি যেনো সাক্ষাৎ কল্পতরু।
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কেই আজ স্মরণ করা হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।
সবাইকে সবাইকে জানাই ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
একান্ন পীঠ – দাক্ষায়নী
একান্ন পীঠ এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সতীপীঠ হল মানস সতীপীঠ অথবা মানস শক্তিপীঠ। তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে অবস্থিত এই শক্তি পীঠ।পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে এখানে সতীর ডান হাত পতিত হয়েছিল।
মানস সতী পীঠে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন দাক্ষায়নী এবং হর হলেন ভৈরব।
মানস সতী পীঠের মাহাত্ম্যের সবচেয়ে বড় একটি কারন পার্শ্ববর্তী মানস সরোবর। এই হ্রদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী।অল্প দূরেই কৈলাশ পর্বত তিব্বতে অবস্থিত এই কৈলাস এবং মানস সরোবরকে কেন্দ্র করেই এই মানস শক্তি পীঠটি গড়ে উঠেছে।
পুরান মতে ব্রহ্মার মন থেকে সৃষ্ট হয়েছিল এই সরোবর যে সরোবরে স্নান করলে রজ, তমো গুণ দূর হয় এবং সাত্ত্বিক গুন লাভ করা যায়।
হিমালয়ের বুকে প্রায় বাইশ হাজার ফুট উঁচু কৈলাস পর্বতের কাছে এই মানস সরবরের পবিত্র কুণ্ডকেই সতী পীঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দাক্ষায়নী দেবী সাক্ষাৎ এখানে বিরাজ করছেন বলে মনে করা হয়।অনেকে রাত্রে কৈলাস পর্বতের উপরে দুটি আলোকছটা দেখতে পান। যাকে দৈব আলোক জ্যোতিও বলা হয়। সেই আলোক ছটা পরস্পরের অনুগামী। মানুষের বিশ্বাস অনুসারে এই আলোক ছটাই আসলে শিব এবং পার্বতীর প্রতিরূপ বা দেবী দাক্ষায়নী এবং তার ভৈরব এই অঞ্চলে নিত্য লীলা করে চলেছেন।
কৈলাস পর্বতের অপার সৌন্দর্য আর মানস সরোবরের প্রশান্তি এই সতী পীঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলাই যায়। এখানে আলাদা করে কোনরকম মন্দির নির্মাণ করা হয়নি। নেই কোনো আলাদা মূর্তি। দেবী মহামায়া এখানে পরম প্রকৃতির রূপে ধরা দেন ভক্তদের কাছে।
প্রচলিত বিশ্বাস মতে স্বর্গের দেবতা, দেবী, গন্ধর্ব, অপ্সরা সকলেই আসেন এই শক্তি পীঠে পাশাপাশি
সারা বছরজুড়ে প্রায় সব সময় এই শক্তি পীঠে ভক্তদের আনাগোনা চলতেই থাকে।
ফিরে আসবো আগামী শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে
পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।