Home Blog Page 59

জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা

জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রতিবছর দেবস্নানা পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের স্নানের উৎসব বা স্নান যাত্রা আজকের এই পর্বে এই স্নান যাত্রার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

 

জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রার উল্লেখ স্কন্দপুরানে আছে। শাস্ত্র মতে পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর পুরি নরেশ ইন্দ্রদ্যুম্নএই অনুষ্ঠান শুরু করেন। যে পূর্ণিমা তিথিতে স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয় তাকে বলা হয় দেব স্নান পূর্ণিমা। এই দেবস্নান পূর্ণিমা আবার জগন্নাথদেবের আবির্ভাব তিথি । জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পবিত্র স্নানবেদীতে আনা হয় তারপর একশো আট কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়।

 

শুধুমাত্র জগন্নাথ দেবেকে স্নান করানোর জন্য পুরীতে রয়েছে সোনাকুয়া নামের এক বিশেষ ধরনের কুয়া। এই কুয়াতে কখনো সুর্যের আলো প্রবেশ করেনা।

 

স্নানপর্বের পর বিগ্রহ সাজানো হয় গজবেশে।এই গজবেশের ও একটিসুপ্রাচীন ইতিহাস আছে

বহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত গণেশ ভট্ট।পুরীর রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা ছিলেন গণপতি।কিন্তু স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট জগন্নাথকে গণেশ রূপেই দেখতে পান।প্রভু জগন্নাথের মায়ায় তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। মনে করা হয় ভক্তের মনবাসনা পূর্ণ করতে স্বয়ং জগন্নাথ গজ বেসে তাকে দেখা দিয়েছিলেন।

সেই থেকে স্নানযাত্রার একটি অঙ্গ হয়ে উঠেছে এই গজ বেশ।

 

শাস্ত্র মতে স্নান যাত্রার সময়ে জগন্নাথ দর্শন করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় স্নানযাত্রার পরে শুরু হয় অনসর সেই সময়ে অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন বা বলা যায় স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হন জগন্নাথদেব। এই সময়ে রাজ বৈদ্যরা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ঔষধদ্বারা তার সেবা সুশ্রশা করেন। এই সময়ে জগতের নাথ প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন এমনকি তাকে উষ্ণতা দেয়ার জন্য কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয়।তারপর সুস্থ হয়ে রথযাত্রার দিন রাজবেশে ভক্ত দের সামনে আসেন জগন্নাথদেব সাথে থাকেন সুভদ্রা এবং বলরাম দুজনেই।

 

আবার রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেব

সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো।

পরের পর্বে থাকবে কালী কথার নতুন একটি

পর্ব পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জগন্নাথ প্রভু কে নিয়ে এই বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনায় আজ পুরীর জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত বেশ কিছু অদ্ভুত তথ্য আপনাদের জানাবো।

 

শাস্ত্র মতে হিন্দু দের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যার জন্যে ভারতের অন্যান্য প্রাচীন মন্দির গুলির থেকে পুরীর মন্দির অনেকটাই আলাদা।

 

পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পুরীর তৎকালীন রাজা ইন্দ্রদুম্ন চেয়েছিলেন ব্রহ্মলোক থেকে স্বয়ং ব্রম্হা এসে পুরীর মন্দিরে জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার শাস্ত্রীয় রীতি নীতি সম্পন্ন করুন। কিন্তু ব্রম্হা তাকে বলেন জগতের নাথ তার স্বেচ্ছায় নিজ রূপে বিরাজ করবেন।তার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার সাধ্য কারুর নেই। বাস্তবে

তাই হয়।সমুদ্রে ভেসে আসে দারু ব্রহ্ম। তাই দিয়ে প্রভুর নির্দেশে তৈরী হয় মূর্তি। সম্পন্ন হয় প্রতিষ্ঠা পর্ব।

 

শুরুর দিন থেকে সব রীতি নীতি এই মন্দিরে একই রকম আছে। আজও মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না|মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না|আপনারা যারা পুরীর মন্দির দর্শন করেছেন হয়তো জানেন পুরীর যে কোন জায়গা থেকেই আপনি যদি মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকান তাহলে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে|এও এক রহস্য|মন্দির চত্বরের কোলাহলের জন্যে হয়তো খেয়াল থাকেনা কিন্তু মন্দিরের ভিতরে সিংহদ্বারে মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট্যটি হল প্রসাদ। রহস্যময় বিষয় হলো সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয় কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর।

এভাবেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|

 

আজও কোনো জাগতিক বিপদ আপদ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে পুরীর মন্দিরে ঘটে যায় কোনো না কোনো ব্যাতিক্রমী ঘটনা। যেমন মন্দিরে ধ্বজা খুলে পড়েযাওয়া বা ওই জাতীয় অন্য কিছু।

 

আবার প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত বিশেষ একটি পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আপনাদের সামনের আসবো।

থাকবে আরো অনেক তথ্য এবং

শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথদেব এবং বিমলা দেবী

জগন্নাথদেব এবং বিমলা দেবী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুধু জগন্নাথ সুভদ্রা বলরাম নন পুরীর মন্দিরে বিরাজ করছেন বিমলা দেবী।পুরীর মন্দিরে বিমলাদেবীর অধিষ্ঠানের কারন এবং

জগন্নাথদেবের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে

আজকের এই পর্ব।

 

আজও জগন্নাথের ভোগ সবার আগে সমর্পন করা হয় দেবী বিমলাকে । দেবীর পুজো হয় তন্ত্রমতে। মনে করা হয় দেবী বিমলার দর্শন না করা অবধি জগন্নাথ দর্শন সম্পূর্ণ হয় না। শৈব বিশ্বাস অনুযায়ী এই দেবীর ভৈরব জগন্নাথ। এক্ষেত্রে জগন্নাথের প্রকাশ শিবরূপে। আর শ্রীমন্দিরে তাঁরা একত্রে শিব এবং শিবানী রূপে অবস্থান করছেন।

 

পীঠনির্ণয় তন্ত্রে আছে – “উৎকলে নাভিদেশশ্চ বিরিজাক্ষেত্রমুচ্চতে বিমলা মা মহাদেবী, জগন্নাথস্ত ভৈরব”অর্থাৎ তিনি শ্রীমন্দিরের কত্রী।প্রভু জগন্নাথ তাঁর ভৈরব হিসেবে অবস্থান করেন।আবার তিনিদেবী মহামায়ার অংশ এবং একান্ন টি সতীপীঠের অন্যতমা দেবী বিমলার মন্দির।

 

পুরান মতে বিষ্ণু দর্শন হেতু মহাদেব একবার বৈকুণ্ঠে হাজির হন। সেই সময় বিষ্ণু আহারে বসেছেন। যা দেখে শিবের ইচ্ছা হয় নারায়ণের প্রসাদ গ্রহন করবেন তাই আহার শেষে নারায়ণের থালায় পড়ে থাকা সামান্য অংশ মুখে দেন তিনি। নারায়ণের ভাবে তিনি এতটাই আবিষ্ট ছিলেন যে সেই প্রসাদের কিছুটা তাঁর মুখে লেগে যায়। কৈলাসে ফিরে নারদকে দেখতে পান মহাদেব। বিষ্ণুভক্ত নারদ মহাদেবের মুখে লেগে থাকা প্রসাদ দেখেই বুঝতে পারেন এই প্রসাদ তাঁর উপাস্যের। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে প্রসাদ নিয়ে মুখে পোড়েন তিনি। দেবী পার্বতীও সেখানে উপস্থিত হন। প্রসাদ পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন কিন্তু শিব তো অপারগ কারন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ক্রোধান্নিতা পার্বতী হাজির হন নারায়ণের কাছে। সব শুনে নারায়ণ তাঁকে বলেন এবার থেকে পুরী ধামে তাঁর শক্তি রূপে অবস্থান করবেন দেবী।এবং নারায়ণের বা জগন্নাথদেবের ভোগ সবার আগে তাঁকে অর্পন করা হবে। যে প্রথা আজও এতটুকু বদল হয়নি। দেবী বিমলাকে অর্পন করার পরই জগন্নাথের প্রসাদ হয়ে ওঠে মহাপ্রসাদ।সেই প্রসাদ পরবর্তীতে বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে।

 

আবার পুরাণমতে সতীর ডান পায়ের কড়ে

আঙুল পড়েছিল এই খানে তাই এটি সতী পীঠ।

 

জগন্নাথ দেবের লীলা এতো বিস্তৃত এবং তার মহাত্ম এতো গভীর যে এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ দিন আলোচনা করা যায়।ফিরে আসবো আগামী পর্বে প্রভু জগন্নাথ প্রসঙ্গে আলোচনা নিয়ে।

থাকবে আরো অনেক তথ্য।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথদেব এবং ভক্ত রঘু

জগন্নাথদেব এবং ভক্ত রঘু

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে পুরী সহ গোটা বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে রথ যাত্রার প্রস্তুতি। বিশেষ এই সময়ে আমি শুরু করছি জগন্নাথ দেবকে নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখি ।আজ প্রভু জগন্নাথের একটি বিশেষ লীলা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। এই লীলাতে প্রভুর সখা ভাব ফুটে উঠেছে।

 

গ্রীষ্মে বাঙালির অন্যতম প্রিয় ফল কাঁঠাল। এই কাঁঠাল জগন্নাথদেবের ও অত্যন্ত প্রিয়। নিজের প্রিয় ফলপেতে একবার এক কান্ড ঘটিয়েছিলেন জগন্নাথ।একবার ভগবান জগন্নাথ তার এক ভক্ত রঘুকে বালক রূপে দর্শন দিলেন এবং তাঁকে রাজার বাগান থেকে কাঁঠাল চুরি করতে তাঁর সঙ্গে যেতে বললেন। রঘু বলল, “তুমি কেন কাঁঠাল চুরি করতে চাও? তোমার যদি কাঁঠাল খাবার ইচ্ছা হয়, আমাকে বল-আমি তোমার জন্য সুন্দর একটি কাঁঠাল এনে দেব।” বালকরূপী জগন্নাথ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন কৃষ্ণরূপে আমি অন্যদের বাড়িতে মাখন চুরি করতে যেতাম। চুরি করা দ্রব্য ভোজনে বিশেষ আনন্দ আছে। আজ তোমাকে আমি উপলব্ধি করাব-চুরি করা কি আনন্দের। আমার সঙ্গে এসো।” রঘু বুঝলো এ প্রভুর লীলা|নিরুপায় হয়ে রঘু প্রভুর প্রস্তাবে সম্মত হল এবং তাঁর সঙ্গ নিল।

 

এরপর চুপিসারে তারা দুজনে রাজার বাগানে প্রবেশ করলেন। জগন্নাথ রঘুকে বললেন, “তুমি গাছে চড়বে। আমি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকব। তুমি সবচেয়ে সুন্দর ও বড় কাঁঠালটি পাড়বে এবং মাটিতে ফেলবে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকব। তারপর আমরা উভয়ে কাঁঠাল নিয়ে পালাব।” রঘু যথাযথভাবে প্রভুর নিদের্শ অনুসরণ করল। রঘু কাঁঠাল গাছে উঠে সবচেয়ে বড় ও ভাল কাঁঠালটি খুঁজে বের করল এবং সেটা পাড়ল। ‘জগন্নাথ’, চাপাস্বরে রঘু জগন্নাথকে ডাকল। ‘তুমি কি তৈরি?’ জগন্নাথ উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তৈরি, নিচে ফেল !’ রঘু কাঁঠাল নিচে ফেলল- জগন্নাথ সেটা ধরবেন ভেবে। কিন্তু কোথায় জগন্নাথ ! তিনি ইতিমধ্যেই বাগান থেকে অদৃশ্য হয়েছেন।কাঁঠাল ধরার জন্য কেউই সেখানে ছিল না। সশব্দে কাঁঠালটি মাটিতে পড়ে ফেটে চৌচির হল। যখন রাজার বাগানের মালী ঐ শব্দ শুনল তখন রঘু

ধরা পড়লো এবং রাজার কাছে খবর গেলো|

 

রাজা তাঁর মন্ত্রীদের সাথে নিয়ে বাগানে গেলেন। রাজা জানতেন রঘু জগন্নাথদেবের অত্যন্ত প্রিয় ভক্ত। নিছক চুরি করার জন্য তিনি এই কাজ করবেন না। নিশ্চই এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে।রাজা রঘুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রভু, তোমার যদি কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছা হয়ে থাকে, তাহলে গভীর রাত্রে আমার বাগানে এসে গাছে চড়ার কি প্রয়োজন ছিল? তুমি আমাকে একবার বলতে পারতে। আমি কাঁঠাল পাড়ার ব্যবস্থা করে তোমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম!’ রঘু তখন প্রভু জগন্নাথ কিভাবে তাঁকে ঠকিয়েছে- সব বৃত্তান্ত বলল। সেখানে উপস্থিত সবাই প্রভুর রম্য এই লীলা শুনে খুবই আনন্দ পেল এবং সকলেই হাসতে লাগল। তাঁরা রঘুর সৌভাগ্যর জন্য তাঁর গুনগান করলেন।

 

সখ্যরসে এই ভাবে প্রভু জগন্নাথ তার ভক্ত দের সঙ্গে বহু বার বহু লীলা করেছেন।পরবর্তী পর্বে আবার ফিরে আসবো প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেব এবং কর্মাবাই

জগন্নাথ দেব এবং কর্মাবাই

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জগন্নাথ ধাম নানা কারণে প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম প্রভুর ছাপ্পান্ন ভোগ।কথিত আছে চার ধামের মধ্যে এই জগন্নাথ ধামে বিষ্ণু জগন্নাথ রূপে আসেন আহার করতে। জগন্নাথদেবের অন্যতম প্রিয় খাদ্য খিচুড়ি। তবে এই খিচুড়ি কোনো সাধারণ খিচুড়ি নয়।এই খিচুড়ির নাম কর্মাবাই খিচুড়ি’। কেনই বা এই নাম আর কিবা এই খিচুড়ির ইতিহাস জানবো আজকের পর্বে।

 

পুরীতে এক সময়ে কর্মাবাই নামে একজন বৃদ্ধা বাস করতেন। তিনি জগন্নাথকে নিজের পুত্র রূপে দেখতেন এবং তাঁকে বালক রূপে সেবা করতেন। বৃদ্ধার মনে হত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জগন্নাথ দেবের খিদে পেয়ে যায়। তাই তিনিও খুব সকালে ঘুম থেক উঠে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করতে বসতেন।প্রতিদিন ভোরে বালক রূপ ধরে জগন্নাথদেব কর্মাবাইয়ের খিচুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতেন। এই খিচুড়ির স্বাদ ছিল জগন্নাথদেবের বড়ই প্রিয়।

 

একদিন মন্দিরের এক পূজারী কর্মাবাইকে স্নান

না করেই খিচুড়ি রান্না করে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করতে দেখেন। তিনি কর্মাবাইকে নিষেধ করে বলেন যে প্রভুর ভোগ রান্না এবং নিবেদনের আগে দেহে এবং মনে বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি।স্নান না করে ভোগ রান্না শাস্ত্র বিরুদ্ধ।পরদিন সাধুর কথামতো কর্মাবাই স্নান সেরে নিয়ম মেনে যখন জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি ভোগ দেন।তাতে দেরি হয়ে যায় অনেকটা। সকাল থেকে ক্ষুদার্থ জগন্নাথ দেব

কর্মা বাইয়ের বানানো গরম খিচুড়ি খেয়ে দুপুরে আর ভোগ গ্রহণ করলেন না।পরে অনুসন্ধান করে দেখা যায় প্রভুর মুখে খিচুড়ি লেগে আছে।

 

পরবর্তীতে জগন্নাথদেব স্বয়ং তার বিশেষ এবং ঘনিষ্ট কয়েকজন সেবককে কর্মাবাইয়ের বৃত্তান্ত শোনান এবং তাদের আদেশ করেন তিনি যেন আগের মতোই সকালে স্নানের আগেই জগন্নাথের জন্য খিচুড়ি রান্না করে ভোগ নিবেদন করেন।

সেবকরা কর্মাবাই এর কাছে ছুটে গিয়ে ক্ষমা চান এবং প্রভুর আদেশ শোনান।

 

শুরু হয় খুব সকালে বাল্য ভোগে জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি দেওয়ার নিয়ম।যতদিন কর্মা বাই জীবিত ছিলেন তিনি নিজেই খিচুড়ি বানাতেন।শোনা যায় কর্মাবাইয়ের মৃত্যুতে জগন্নাথদেব কেঁদে ছিলেন।

কর্মা বাইয়ের অনুপস্থিতিতে পুরীর রাজার নির্দেশে পুরী মন্দিরের বাল্যভোগে ” কর্মাবাই খিচুড়ি ” রান্না চালু হয়।সেই প্রথা আজও চলছে।

 

জগন্নাথদেব সংক্রান্ত আরো অনেক এমন তথ্য এবং ইতিহাস নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাঙালির দূর্গাপুজোর সূচনা যেমন মহালয়া থেকে হয়ে যায় তেমনই প্রভু জগন্নাথের রথ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পবিত্র চন্দন যাত্রার দিন থেকেই। এই চন্দন যাত্রা নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। আজ থেকে এক সপ্তাহ জুড়ে চন্দন যাত্রা সহ জগন্নাথদেব সংক্রান্ত নানা শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো। আজ শুরু করবো স্নান যাত্রার মহাত্ম দিয়ে।

কথিত আছে শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা তার শ্রী অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা। উৎসব। গ্রীষ্ম ঋতুতে প্রভু জগন্নাথ কর্পূর এবং চন্দন লেপনের মাধ্যমে গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পান তাই এই রীতি তিনি নিজে শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।আয়ুর্বেদ মতে
চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এই সময়ে বিগ্রহগকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং জগতের নাথকে মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করানো হয়ে থাকে।

প্রতি বছর অসংখ্য ভক্তদের উপস্থিতিতে বিখ্যাত চন্দন যাত্রা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঐতিহ্য অনুসারে এই দিনই বিখ্যাত রথযাত্রার
রথ নির্মাণের সূচনা হয়।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে চন্দন যাত্রা সম্পর্কে এই সুন্দর অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। শ্রী ক্ষেত্র থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরী পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা তার আরাধ্য গোপালের জন্য এক মণ সুগন্ধি চন্দন দেন। চন্দন নিয়ে ফেরার মাধবেন্দ্র পুরী রেমুনা নামক স্থানে অবস্থিত শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে তার আরাধ্য গোপাল তার স্বপ্নে এসে বলেন “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ ও আমি অভিন্ন।

পরের দিন মাধবেন্দ্র পুরী পুরীরর রাজা কে সব বলেন এবং ঠিক হয় দীর্ঘ ২১ দিন ধরে প্রত্যহ একজন পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করবেন । তাই হয়। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। সেই রীতি নীতি আজও সমান ভাবে চলছে।তবে বর্তমানে পুরীর জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ। চন্দন যাত্রার পর দেবস্নান পূর্ণিমায় হবে স্নান যাত্রা এবিং সব শেষে রথ যাত্রা

প্রভু জগন্নাথ সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য এবং ঘটনা নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক আলোচনা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বুড়া কালীর পুজো

কালী কথা – বুড়া কালীর পুজো

 

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ দিনাজপুরের শতাব্দী প্রাচীন কালী পুজোর মধ্যে অন্যতম হল বালুরঘাট এলাকার বুড়া কালীর পুজো।আজকের কালী কথায় এই পুজো নিয়ে লিখবো।

 

লোক মুখে শোনা যায় কয়েকশো বছর আগে বর্তমান বালুরঘাট বুড়া কালী মাতার মন্দিরের পাশ দিয়ে নাকি আত্রেয়ী নদী বইত। মন্দির ও বাজারের জায়গায় ছিল ঘন জঙ্গল।সেই সময় শুরু হয় এই পুজো।

 

শতাব্দী প্রাচীন পুজো হলেও এর সঠিক বয়স কত তা কেউ বলতে পারে না।তবে একটি অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। জনশ্রুতি আছে এক সময় আত্রেয়ী নদীর ধারে নিজে থেকেই নাকি ভেসে ওঠে বুড়া কালী মাতার বিগ্রহ বা শিলা খন্ড। এক তান্ত্রিক সেই সময় ওই বিগ্রহকে তুলে নিয়ে এসে পুজো দেন। তারপর থেকেই শুরু পুজোর।

 

একটা সময় নাকি কলকাতার রানি রাসমণি এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। বজরায় করে এসে তিনি আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে এসে মায়ের পুজো দিয়ে আবার ফিরে যেতেন কলকাতায়।

 

প্রথম দিকে টিনের ঘেরা দিয়ে বুড়া কালী মাতার পুজো শুরু হয়। বর্তমানে বিশাল আকার মন্দিরের পুজিত হন বুড়া কালী। পুজোর দিন মায়ের মূর্তিতে সারা গায়ে সোনা থেকে রুপোর অলঙ্কারে সুসজ্জিত থাকে।

 

জনশ্রুতি আছে আগে নাকি কুড়ি কিলো ওজনের শোল মাছ বলি দেওয়া হত। এই পুজোকে ঘিরে শুধুমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর নয় সমগ্র উত্তর বঙ্গের মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন।

 

আজও বুড়াকালীকে নিয়ে নানারকম জনশ্রুতি আছে সন্ধ্যের পর নাকি অপরূপ ফুলের সুগন্ধি পাওয়া যায় এই এলাকা থেকে। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কোনও জঙ্গল বা গাছপালা ছিল না।অতীতে গভীর রাতে শোনা যেত নুপুরের আওয়াজ। সব মিলিয়ে জেলাবাসীর অগাধ বিশ্বাস বুড়া কালীর উপর।

 

কালী পুজোর দিন এই পুজোকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ঢল চোখে পরার মতো। এছাড়াও, প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার বুড়া কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার জন্য লম্বা লাইন পরে ভক্তদের।

 

কালী কথা নিয়ে পরবর্তী পর্বে আবার ফিরে আসবো। সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালীর পুজো

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় জাগ্রত মন্দিরের অভাব নেই আর এই সব মন্দিরকে কেন্দ্র করে আছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।এমনই এক মন্দির টাকির কূলে শ্বরী কালী মন্দির যা নিয়ে আমার আজকের কালী কথা।

 

স্থানীয় জমিদার রায়চৌধুরি পরিবারের হাত ধরেই টাকির কুলেশ্বরী কালীবাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল। সেই থেকে আজও একইভাবে কুলেশ্বরী মায়ের পুজো চলে আসছে।

 

জনশ্রুতি আছে বহুবছর আগে ইছামতীতে জেলেদের জালে উঠে এসেছিল একটি সুন্দর নকশা করা ঘট। সেকথা জানতে পারেন টাকির জমিদার রায়চৌধুরীরা। জমিদার গিন্নি সেই রাতেই স্বপ্ন দেখেছিলেন চালাঘর তৈরি করে ঘটটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খড়, বিচালি, গোলপাতা দিয়ে মাটির দেওয়ালের মন্দির বানিয়ে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মন্দিরটি নতুন করে সংস্কার করা হয়।নদীর কূল থেকে ঘটটি পাওয়া গিয়েছিল বলে মন্দিরের নাম হয় কুলেশ্বরী কালীবাড়ি।

 

আবার কেউ কেউ বলেন এক মাতৃ সাধক ইছামতীর পাড়ে মা কালীর সাধনা করতেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত ঘট নদীর পাড়ে পড়েছিল। এরপর টাকির জমিদারকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন ওই ঘট প্রতিষ্ঠা করার। তখনই টাকির জমিদার কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেওয়া হয় কুলেশ্বরী কালীমন্দির। কারণ, নদীর কুলেই এই মন্দিরের ঘট পাওয়া গিয়েছিল।

 

চারশো বছর ধরে এখানে চলে নিত্যপুজো ও অন্নভোগ। বছরের বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বড় আকারে পুজো করা হয়। একটা সময় এই পুজোয় কামান দাগা হত তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো হতো। সেই সব রীতির কিছু কিছু আজও বজায় আছে।টাকির এই কুলেশ্বরী কালী মন্দিরের পুজো দেখতে আজও ভিড় করেন অগণিত ভক্ত। কারণ, ভক্তরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

 

চলতে থাকবে কালী কথা। এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ অক্ষয় তৃতীয়া।পুরান এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে এই তিথি সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে। এই দিনটি নানা কারনে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আজ জেনে নিই অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ যা ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে যুদ্ধে |তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব। পরবর্তীতে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|তাই আজ বিশ্বাস করা হয় আজ তার পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।

 

আবার এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও শুভ কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা

সফল এবং স্বার্থক হয়।

 

বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।

তাই দেশের বহু স্থানে আজকের দিনটি

‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

 

মহাভারতে উল্লেখ আছে যে অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতেই যুধিষ্ঠিরকে অক্ষয় পাত্র দান করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এই অক্ষয় পাত্রের খাবার কখনও ফুরোয় না। এই পাত্র থেকে দরিদ্র মানুষদের খাবার বিতরণ করতেন যুধিষ্ঠির। সেই কারণে অক্ষয় তৃতীয়ায় দান করলে তার শুভ ফল লাভ করা।

এই শুভ দিনেই মর্ত্যে আগমন হয় দেবী গঙ্গার।

আবার এই তিথিতেই ত্রেতা যুগের সূচনা হয়।

 

আজ দিনটি অতি পবিত্র।আজ লক্ষী ও কুবেরের পুজোর মাধ্যমেও সৌভাগ্য লাভ করা যায়|আপনার সবাই আজ দেবী লক্ষী এবং কুবের দেবের কাছে নিজের মনোস্কামনা জানান।

সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

ফিরে আসবো পরের পর্বে কালী কথা নিয়ে সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – তারাশঙ্করী পীঠ

কালী কথা – তারাশঙ্করী পীঠ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এক প্রসিদ্ধ কালী মন্দির

নিয়ে লিখবো যা তারাশঙ্করী পীঠ নামে প্রসিদ্ধ।

 

শাস্ত্রে উল্লেখিত শক্তি পীঠ নাহলেও তারাপীঠের মতো এটিকেও একটি সিদ্ধপীঠ রূপে দেখা হয়। ১৯৫২ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক এবং তন্ত্রমতে মায়ের আরাধনা শুরু করেন ।

 

শোনা যায় অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন যোগী মহারাজ পরেশচন্দ্র রায় মৌলিক। তিনি ভবিষ্যত দেখতে পারতেন|একবার তৎকালীন এক নামি রাজনীতি বিদ এই মন্দিরে এসেছিলেন তখন মাতৃ সাধক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন তিনি সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং মন্ত্রী হবেন।পরবর্তীতে বাস্তবে হয়েছিল ঠিক তেমনটাই। তিনি মালদা থেকে সাংসদ হন এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হন। নাম না করলেও আশা করছি দর্শক বন্ধুরা বুঝতে পারছেন আমি কার কথা বলছি।

 

বহু প্রাচীন কাল থেকে একটি অদ্ভুত রীতি পালিত হয় এই মন্দিরে|মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় বারাণসীর মণিকর্নিকা মহাশ্মশান থেকে এক সধবার চিতার আগুন আনা হয় এখানে সেই থেকে আজ পর্যন্ত জ্বলছে সেই চিতার আগুন|অত্যন্ত পবিত্র অগ্নি রূপে এই আগুন কে শ্রদ্ধা করা হয় এই মন্দিরে|

 

মা তারার পাশাপাশি এই মন্দিরের পূজিত হন যশমাধব।তার মূর্তি নিমকাঠের তৈরি যা আনা হয়েছিলো বাংলাদেশ থেকে।নিত্য পুজোয়

যশমাধবকে দেওয়া হয় নিরামিষ ভোগ।

একই সঙ্গে তারাশঙ্করী পীঠে পূজিত হন কালভৈরব|তারাশঙ্করী পীঠের আরও এক আকর্ষণ হল ‘নরমুণ্ডি আসন’। বাঘ, হাতি, শেয়াল, সাপ, অপঘাতে মৃত ব্যক্তি, চণ্ডাল ইত্যাদির ৯টি মাথার খুলি দিয়ে সজ্জিত এই আসন তন্ত্র সাধনায় ব্যাবহিত হতো।

 

প্রায় প্রত্যেক বিশেষ তিথি এবং দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে বিশেষ পুজো এবং হোম যজ্ঞর আয়োজন হয়।সেই সময়ে বহু মানুষের ভিড় হয় এই মন্দির প্রাঙ্গনে।

 

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে কালী কথায়।ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে এই আধ্যাত্মিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।