Home Blog Page 60

পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ পর্ব 

পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য নিয়ে যতো না আলোচনা হয় তার দৈনন্দিন জীবন, স্বভাব, ভালো লাগা মন্দ লাগা, অর্থাৎ মানুষ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ততটা আলোচনা হয়না। আজ জন্ম জয়ন্তীতে তার মানবিক দিক গুলি যেমন রস বোধ, খাওয়া দাওয়া, প্রকৃতি প্রেম নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করছি।

 

অসাধারণ রসিক মানুষ ছিলেন কবিগুরু।

একবার চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় গেছেন শিলাইদহে জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে লেখা আনতে। চারুচন্দ্র তখন ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ তখন অবস্থান করছিলেন পদ্মার ওপারে বজরায়। নদীর ঘাট থেকে বজরা পর্যন্ত একটা তক্তার সাঁকো পেতে দেয়া হয়েছে।

চারুচন্দ্র পা টিপে টিপে নৌকায় উঠে আসছেন। বজরার ছাদ থেকে এ দৃশ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ সাবধান করলেন চারুকে, ‘সাবধানে পা ফেলো। এ জোড়াসাঁকো নয়!’ তার এই মন্তব্য শুনে আশপাশের সবাই হেসে উঠে ছিলেন|

 

রবীন্দ্রনাথের রসনা বিলাস নিয়েও বহু মিথ চালু আছে। অনেকে বলেন কবি রাজি কাটলেট এর কবি আসলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। এই নিয়ে একটি গল্পও আছে।একবার তিনি বিখ্যাত বসন্ত কেবিনে গিয়েছিলেন কাটলেট খেতে।কাটলেটের উপরে থাকা পাউরুটির প্রলেপ কবির একেবারে পছন্দ হয়নি। বাবুর্চি তা জানতে পেরে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে বানিয়ে দিলেন এক নতুন কাটলেট। সেটা খেয়ে কবির বেশ পছন্দ হয়েছিল।কবির মন রাখতে যেহেতু আবিষ্কার তাই সেই থেকে এই কাটলেটের নাম দেওয়া হয় ‘কবিরাজি কাটলেট’|

 

বর্ষা ছিলো কবির প্রিয় ঋতু।বর্ষা ঋতু কবির অজান্তেই যেন তাঁর অন্তর সত্তায় স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছিল। তাই রবীন্দ্র সঙ্গীতে ও সাহিত্যে সর্বত্রই তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।বর্ষায় কবি শান্তি নিকেতনেই থাকতে পছন্দ করতেন। সেই সময় বর্ষার বোলপুর যেনো এক স্বপ্নের জগৎ। সেই জগৎ ধরা দিতো তার গানে তার কবিতায়।

 

জন্ম দিনে তার চরিত্রের কিছু বিশেষ দিক ছুঁয়ে যেতে চেষ্টা করলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। গুরুদেব কে জানাই প্রণাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি। ভালো থাকুন। পড়তে থাকুন।

কালী কথা – বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস

কালী কথা – বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার ইতিহাসের সাথে, সমাজ জীবনের

সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত আছে অসংখ্য কালী মন্দির এবং দেবী কালী সংক্রান্ত নানা পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী|সেই সব ইতিহাস নিয়েই কালী কথা।আজ লিখবো বর্ধমানের প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে|

 

বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীপুজোর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনা যা অনেকটা সাহিত্য বা চলচ্চিত্রর কাহিনীর মতো শোনায়।আসুন প্রথমে জেনে নিই কি সেই ঘটনা।

 

তখন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল । রাজার এক কন্যা ছিল, নাম বিদ্যা ৷ আর রাজবাড়ির পুজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। সুন্দরের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না । রাজবাড়িতে ফুল দিতে আসত মালিনী মাসি নামে জনৈক ভদ্র মহিলা|তিনি প্রতিদিন রাজ পরিবারের ঠাকুর বাড়িতে ফুলের মালা দিতেন। যথারীতি একদিন মালিনী মাসি মন্দিরে ফুলের মালা নিয়ে এসেছেন । সেই মালা দেখে পুজারি সুন্দর খুব আকৃষ্ট হন । তিনি মালিনী মাসিকে জিজ্ঞাসা করেন, এত সুন্দর ফুলের মালা কে গেঁথেছে। যে মালা গেঁথেছে তাকে দেখতে চায় সুন্দর । মালিনী মাসি তাকে বলে, রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথেছে কিন্তু তাকে দেখা সম্ভব নয়।ঘটনা চক্রে পরবর্তীকালে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের পরিচয় হয় । তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । এমনকী তারা নাকি মন্দিরের পাশ থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ বানিয়ে তার ভিতর দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যেত।

 

একদিন এক গুপ্ত চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন । খবরটা কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান । তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷সেই সময়ে দামোদর তীরবর্তী গভীর জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির। ওই কালী মন্দিরে কেউ সচরাচর যেতেন না। জনশ্রুতি আছে যারা অন্যায় অত্যাচার করত, তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে হাঁড়িকাঠে নরবলি দেওয়া হত । তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ মশান কালী নামে পরিচিত ছিল ।রাজার হুকুম মতো তাদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই মন্দিরে|বলি দেওয়ার আগের মুহূর্তে বিদ্যা ও সুন্দর সেই মন্দিরের কাপালিকের কাছে অনুরোধ জানায়, মৃত্যুর আগে তারা দেবীকে প্রণাম করে আসতে চায় । কাপালিক সেই অনুমতি দেন । প্রণাম করতে যাওয়ার সময় কাপালিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান । তারপরেই বিদ্যা ও সুন্দর নাকি কোথায় যেন মিলিয়ে যায় । এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি । সেই সময় থেকেই মন্দিরের নামকরণ হয় বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দির । তার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি প্রথা।

 

বর্তমানে এখানে দেবীর মন্দির ছাড়াও দুটো শিব মন্দির আছে যা ভৈরব এবং পঞ্চানন্দ নামে পরিচিত। নরবলি বন্ধের পরে মন্দিরে মেষ বলি ও পরে ভেড়া বলি দেওয়া হত । এখন ছাগল বলি দেওয়া হয়। প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তন্ত্র মতে বিশেষপুজোর আয়োজন হয়।

 

এমন বহু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছে

বাংলার বহু প্রাচীন কালী মন্দির। সেই সব ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – নলহাটির কালী পুজো

কালী কথা – নলহাটির কালী পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গোটা বাংলার মধ্যে কালী সাধনার ক্ষেত্রে বীরভূম জেলার আলাদা মহাত্ম আছে কারন এই জেলায় রয়েছে সর্বাধিক সিদ্ধপীঠ। আজ এই বীরভূমের নলহাটির এমন এক কালী পুজোর কথা আপনাদের জানাবো যা খুব একটা প্রাচীন নয় এবং মাত্র কিছুকাল আগেই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বেশ আলোচিত হয়েছিলো।
নলহাটির অন্তর্গত একটি ছোট্ট গ্রাম জুঙ্গল। এই গ্রামে বসবাস করে আচার্য পরিবার। এই পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পেয়ে মা কালীর মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন গ্রামবাসীরা। সেই মতো বাড়িতে মৃত শিল্পী ডেকে মূর্তিও তৈরি করানো হয়। সিদ্ধান্ত হয় গ্রামের মধ্যে প্রাচীন কাল থেকে অবস্থিত একটি বেদিতেই মা কালীর পুজো করা হবে।সেই মতো ব্যবস্থা হয়।
যথা সময়ে মাকালীর মৃন্ময়ী মূর্তি প্রস্তুত হয় কিন্তু মূর্তি বেদিতে তোলার সময়ই চোখে পড়ে আশ্চর্য ঘটনা।দেখা যায় পাঁচ ফুটের মূর্তি গড়া হলেও সেই মূর্তি রাতারাতি ছয় ফুটের বেশি উচ্চতার হয়ে গিয়েছে।কিভাবে রাতারাতি মূর্তির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলো তা কারুর বোধগম্য হলোনা।স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা একটি অলৌকিক ঘটনা রূপে চারপাশে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়লো।
তবে অলৌকিক ঘটনা এখানেই শেষ নয়।পুজোর স্থানের কাছাকাছি পুকুর বলতে বেদির পাশে একটি ছোট্ট জলাশয় ছিলো তাতে জল বেশি ছিলো না তাই ভরা থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়েও চিন্তিত ছিলো এলাকাবাসী।পুজোর কিছু দিন আগেই গ্রামবাসীরা দেখেন সেই পুকুর রাতারাতি জলে ভরে উঠেছে। এসব দেখে গ্রাম বাসীরা সবই দেবীর কৃপা বলে মেনে নেন।
নলহাটি অঞ্চলে এই কালী পুজো বেশ জনপ্রিয়তা পায় এবং বহু দূর দূর থেকে মানুষ এই পুজো এবং সেই অলৌকিক জলাশয় দর্শন করতে আসেন।
এই সব থেকে আরো ঘটনা থেকে আরো একবার প্রমান হয় প্রতিনিয়ত কতো অলৌকিক ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের আসে পাশে। জনশ্রুতি হোক বা আস্থা যেখানে শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস জড়িত
থাকে তাকে অবহেলা করা যায়না।
এমন আরো অনেক কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কালীকাপুরের কালী পুজো 

কালী কথা – কালীকাপুরের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কালী কথায় হাওড়ার একাধিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রতিটি পুজোর রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রায় সবগুলি পুজোর সাথে জড়িয়ে আছে একাধিক অলৌকিক ঘটনা। আজকের কালী কথায় এই জেলারই কালী কাপুরের কালী পুজো নিয়ে লিখবো।

 

সে প্রায় পাঁচশো বছর আগের কথা। হাওড়ার উদয় নারায়ণপুর সংলগ্ন গঙ্গা তিরবর্তী অঞ্চল তখন জঙ্গলময় ছিল। জঙ্গলে বন্য পশুর দাপট ছিল। কেউ সাহস পেতোনা এখানে আসার। জনশ্রুতি থেকে জানা যায় এই ঘন জঙ্গলেই বাস করতেন এক কাপালিক। তিনি জঙ্গলে একাকী থেকে মা কালীর আরাধনা করতেন।

 

এই অঞ্চলে আধিপত্য ছিলো বর্ধমান রাজ পরিবারের একবার কাপালিক যখন কিছু দিনের জন্য অদৃশ্য হয়ে যান তখন বর্ধমানের রাজার নির্দেশে বর্ধমান রাজসভার নবরত্নের একজন তিলক রাম ঘোষ। বর্ধমান থেকে রাজার আদেশ মতোই মা কালীর সেবার উদ্দেশ্যে সপরিবারে হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে চলে এসেছিল। তারপর থেকে এই ঘোষ পরিবারই বংশ পরম্পরায় কালী পুজো করে আসছে।

 

এক সময়ে এই স্থান ছিলো খুবই বিপদজনক। বন্যা পশু এবং দস্যুরাই এলাকা শাসন করতো।

সেই সময় পুজো করার জন্য পুরোহিতের সঙ্গে লেঠেল নিয়ে আসা হতো বন্য পশুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে।বর্তমানে এই অঞ্চলের নাম ‘ কালীকাপুর’। কালী পুজোকে কেন্দ্র করেই গ্রামের এমন নামকরণ।আসলে এই কালী পুজো বা মন্দির কে কেন্দ্র করে এই জঙ্গল ময় দুর্গম এলাকায় জনবসতি গড়ে ওঠে সেই কারনেই গ্রামের নামকরণ হয় কালীকাপুর।

 

মন্দিরের পুরনো রীতি অনুযায়ী প্রতিদিন একবার মাতৃ পুজো অনুষ্ঠিত হয় এখানে। একবার পুজো হওয়ার কারণেই ‘একাহারি ‘কালী মা ‘ ও বলা হয়।

শোনা যায় অতীতে গ্রামে অন্য কোনও মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ ছিল। বৈশাখের ফলহারিণী, মকর সংক্রান্তি, নবমী এবং শ্যামাকালী পুজো-সহ মোট চারটি বিশেষ পুজো হয় প্রতি বছর।জানা যায়, মন্দিরে কষ্ঠি পাথরের মায়ের যে মূর্তি আছে তা কয়েক শতাব্দী প্রাচীন।

 

চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা পর্ব। ফিরে আসবো অন্য একটি কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জঙ্গল মহলের কালী পুজো 

কালী কথা – জঙ্গল মহলের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের জঙ্গল মহলের প্রাচীন এবং রহস্যময় বামাকালী পুজোর কথা

জানাবো।

 

জঙ্গল মহলে তিনদিক পাহাড় ঘেরা এক গ্রামে দেবীর মন্দির।কর্মা বুরু, কানা পাহাড় আর তিলাই পাহাড় এই তিন পাহাড় ঘেরা ছোট্ট জনপদ বেশ দীর্ঘ সময় ধরে এখানে কালী পুজো করে আসছে।আজ থেকে প্রায় আড়াইশ বছর আগে বিশেষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু হওয় কর্মকার পরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই পুজো এখন সার্বজনীন হয়ে উঠেছে।

 

অনেকের কাছেই জঙ্গল মহলের এই দেবী বামা কালী নামে বেশি পরিচিত।এই কালী পুজোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট আছে। একসময় দেবী মূর্তি বাঁধা থাকতো শিকলে।তার সঠিক কারন আজও অজ্ঞাত। এখানে ভূত চতুর্দশীতে মূর্তি গড়া হয়। অমাবস্যার রাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় । জঙ্গলমহলের বলরামপুরের কর্মা গ্রামে, এই প্রাচীন কালী পুজোয় আরও এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বামা কালী মূর্তি গড়েন পূজারী। এটাই পরম্পরা যা শুরুর দিন থেকে বজায় আছে।

 

তন্ত্র মতে এখানে পুজো সম্পন্ন হয়।পুজোয় কয়েকশো পশু বলি হয়। কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে মন্দিরে।জঙ্গল মহল ছাড়াও ভিন রাজ্যের ভক্ত আসেন মানত করেন। আশা আকাঙ্খা পূরণের পর মানত শোধ করেন।

ভক্তরা বিশ্বাস করেন অত্যান্ত জাগ্রত এই জঙ্গল মহলের কালী এবং তিনি সর্বদা ভক্ত দের সব মনোস্কামনা পুর্ন করেন।

 

বর্তমানে এই অঞ্চলে দুর্গাপুজো নয় কালীপুজো প্রধান উৎসব।পুজো উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মনোরঞ্জন আর বিনোদনের আখড়া হয়ে মন্দির প্রাঙ্গন।

 

আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো কালী কথার অন্য একটি পর্ব নিয়ে। থাকবে প্রাচীন এক কালী পুজোর ইতিহাস এবং অলৌকিক নানা

ঘটনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – অরন্যা কালীর পুজো

কালী কথা – অরন্যা কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হাড়োয়ার বুক চিরে বয়ে গিয়েছে বিদ্যাধরী নদী। তার কিছু দূরে রয়েছে প্রাচীন অরন্যা কালী মন্দির। আজকের কালী কথায় জানাবো এই মন্দিরের মাহাত্ম।

 

আজ থেকে আড়াইশো বছর আগে বিদ‍্যাধরীর জলস্ফিতি হয়ে বন‍্যায় ভেসেছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় সুন্দরবনের জঙ্গলে বিদ‍্যাধরী নদীর পাশে এক সাধু জঙ্গলের মঙ্গলের জন্য এই অরণ‍্য কালীর যজ্ঞ শুরু করেছিলেন।

দেবী কালীএ কৃপায় সে যাত্রায় রক্ষা পান এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। তারপর এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় একটু একটু করে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে এই মন্দির। বর্তমানে অরণ্য কালিবাড়ি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করছে এই কালী ক্ষেত্র।

 

কথিত আছে, আড়াইশো বছর আগে বিদ‍্যাধরীর জলস্ফিতি হয়ে বন‍্যায় ভেসেছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় সুন্দরবনের জঙ্গলে বিদ‍্যাধরী নদীর পাশে এক সাধু জঙ্গলের মঙ্গলের জন্য এই অরণ‍্য কালীর যজ্ঞ শুরু করেছিলেন। তারপর একটু একটু করে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে একটি মন্দির। বর্তমানে অরণ্য কালিবাড়ি বলে পরিচিত।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ার পর এই পুজোর দায়িত্ব গ্রামেরই ভট্টাচার্য্য পরিবারের হাতে হস্তান্তর করে গ্রামবাসীরা। তখন থেকেই ভট্টাচার্য্য পরিবার এই পূজার দেখাশোনা করে আসছে।স্থানীয় দের মতে এখানকার মা কালী খুবই জাগ্রত। তার কাছে মন থেকে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।

 

প্রতি বছর শ‍্যামা পুজোর দিন পশু বলী হয় পাশাপাশি ফলও বলি দেওয়া হয়। খিচুড়ি ভোগ তৈরি হয়। পুজো উপলক্ষে এই সময়ে কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে বহু দূর দূরান্ত থেকে পূণ‍্যার্থীদের আগমন ঘটে।

 

এমন বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির আছে এই বাংলার বুকে। পরবর্তী পর্বে অন্য

এক কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো কালী কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গোঘাটের কালী পুজো

কালী কথা – গোঘাটের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার প্রত্যন্ত একটি জনপদ হল গোঘাট।এই গোঘাটে রয়েছে এক হাজার বছরের প্রাচীন কালী মন্দির। মাতৃ সাধক সন্ন্যাসী অহরলাল গোস্বামী এই স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর আরাধনা শুরু করেন। আজকের কালী কথায় এই কালী পুজো নিয়ে লিখবো।

 

যে গ্রামে কালী মন্দির আছে তার নাম আগাই গ্রাম। আজ থেকে হাজার বছর আগে এই স্থান ছিল জঙ্গলে ঘেরা।পায়ে হাঁটা মেঠো পথে ডাকাত আর জংলী প্রাণী দের আনাগোনাই বেশি ছিলো। সন্ধ্যের পর এই গ্রামে রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করত না।

 

সেই সময়ে বর্ধমান রাজ পরিবারের আর্থিক সাহায্যে গোঘাটের এই আগাই গ্রামে চারটি জলাশয় কেটে গড় প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর পুজো শুরু হয়েছিলো গোস্বামী পরিবারের হাত ধরে।

 

যদিও মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার বহু আগে থেকে দেবী কালী এই স্থানে বিরাজ করতেন। গোস্বামী বাড়ির কাছে একটি পুকুরের পাড়ে বিশাল এক নিম গাছ ছিল। সেই নিম গাছের তলাতেই মা কালীর প্রথম পুজো হতো। এই নিম গাছের তলায় ডাকাত দল পুজো করে ডাকাতি করতে যেত।পরবর্তীতে নিম গাছের তলায় পুজোর পর মূল মন্দিরে দেবীর আরাধনা হত।

 

সেই অতীত আজ শুধুই স্মৃতি আর কিছুটা জনশ্রুতি তবে এখনও বহু প্রাচীন রীতি প্রচলিত আছে।নিমগাছের নিচে যখন পুজোপাঠ শুরু হয় তখন গোট গ্রাম নিশুতি হয়ে যায়। অন্ধকারে গোটা গ্রাম ঢেকে যায়। কারুর বাড়িতে কোনও আলো জ্বলে না। একটা গা ছমছমে ও রহস্যময় পরিবেশ পুরোহিত ঠাকুর নিমগাছের তলায় মা কালিকে আহ্বান জানান।গভীর রাতে এই মন্ত্র উচ্চারণ যেনো এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে।

 

আজও প্রথমে মঙ্গল ঘট স্থাপন করে শুরু হয় পুজো।তারপর দেবী মূর্তির চক্ষুদান করা হয় এবং সেই সময় বলী প্রথার রীতি রয়েছে। তন্ত্র মতেই সম্পন্ন হয় পুজো। সবমিলিয়ে এখনও বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে ও প্রাচীন প্রথা মেনে আগাই গ্রামে মা কালীর পুজোপাঠ হয়।বিশেষ বিশেষ তিথিতে বহু দর্শণার্থী আসেন মনোস্কামনা নিয়ে।গোঘাটের জাগ্রত কালী সব ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন বলে বিশ্বাস।

 

ধারাবাহিক কালী কথা চলতে থাকবে।

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – দেবী মন্দিরবসিনীর পুজো

বাংলার কালী – দেবী মন্দিরবসিনীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের ফিকাহার এলাকার মন্দিরবাসীনি কালী মায়ের মন্দির প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো।আজকের বাংলার কালী পর্বে আপনাদের এই প্রাচীন কালী নিয়ে লিখবো।

 

এমনিতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়। এখানে যেমন রয়েছে বৌদ্ধতান্ত্রিক নিদর্শন, মহাভারতের নিদর্শন তেমনি রয়েছে শাক্ততন্ত্রের নিদর্শনও।এই শাক্ত তন্ত্রের অন্যতম নিদর্শন এই মন্দির বসিনী কালী মন্দির।

 

এই কালী মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক মহিলা তান্ত্রিক। লোকশ্রুতি রয়েছে, এই মহিলা তান্ত্রিক কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাঁর কিশোরী কন্যাকে জীবন্ত কবর দেন এবং তার ওপরই গড়ে তোলেন এই কালী মায়ের মূর্তি। এখানে বসেই তান্ত্রিক তাঁর তন্ত্রসাধনা করতেন। তান্ত্রিকের মৃত্যুর পর এরপর দক্ষিণ দিনাজপুরের এক জমিদার তান্ত্রিকের তন্ত্র সাধনার জায়গাতেই এই মন্দির গড়ে তোলেন। যা ছয়শো বছেরেরও পুরনো।হার হিম করা এই তন্ত্র সাধনার উপখ্যান আজও এই অঞ্চলের মানুষ সত্যি বলেই মানেন।

 

বিশেষ কিছু রীতি আছে এই মন্দিরে এই মা কালী হলেন অসূর্যস্পর্শা যার অর্থ সূর্যের আলো দেখেননা তিনি। মন্দিরেই বাস এই দেবীর তাই এই দেবীকে মন্দিরবাসীনি দেবী হিসাবে ডাকা হয়।

আজও তার উপস্থিতি ভক্তরা উপলব্ধি করেন।

 

নিয়ম করে প্রতি বছর কালীপুজোর দিন সূর্যাস্তের পরে কালীর মূর্তি তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু দান সহ মূর্তি তৈরি করে একরাতের মধ্যে পুজো সম্পন্ন করা হয় এবং সূর্যোদয়ের আগেই মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রথাই চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। শাক্তমতে পুজো হয় তাই বলি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে এই কালী পুজোয়।

 

বর্তমানে মন্দিরের অবস্থা প্রায় ভগ্নাশেষ। এই পুজোতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, এখানে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ।যা বাংলার আর কোনো কালী মন্দিরে লক্ষ্য করা যায়না।পুজোর কাজ থেকে শুরু করে সবকিছু পুরুষরাই করে থাকেন। এমনকী ওই দেবীর ছবি তোলাও নিষেধ, যদি দেবী সূর্যের আলো দেখে ফেলেন তাতে গ্রামের অকল্যাণ হতে পারে বলে মনে করে গ্রামবাসীরা।সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেবী মন্দির বসিনীর পুজো হয়।

 

বাংলার প্রাচীন কালী পুজোগুলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

.

বাংলার কালী – রানীগঞ্জের অলৌকিক কালীপুজো 

বাংলার কালী – রানীগঞ্জের অলৌকিক কালীপুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই বাংলা বরাবরই কালী সাধনার ক্ষেত্র এখানে পুরনো কালী মন্দির আছে যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একই পরম্পরা মেনে একই রীতিতে পুজো চলছে। এমনই এক পুরনো মন্দির রয়েছে রাজ্যের শিল্পশহর রানিগঞ্জে। যেখানে রয়েছে তিনশো বছরের পুরনো বড়মা কালী মন্দির।

 

একটা সময় রানিগঞ্জের বড়বাজার এলাকা ছিল শ্মশানভূমি। শ্মশানভূমির পাশ দিয়ে বয়ে যেত দামোদর নদ। আজ থেকে তিনশো বছর আগে এক মধ্যরাতে অন্ডালের বাসিন্দা তারাচরণ চট্টোপাধ্যায় দেবী কালীর স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তারাচরণ ছুটে আসেন রানিগঞ্জের জঙ্গলে। প্রতিষ্ঠা করেন দেবী বড়মা কালীর। তারপর থেকে নিয়মিত অন্ডাল থেকে যাতায়াত করেই দেবী কালীর নিত্যপূজা সামলেছেন তিনি এবং পরবর্তীতে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা । আজও বংশপরম্পরায় সেই রীতি বহাল রয়েছে এই মন্দিরে।

 

যুগ পাল্টেছে সেই শ্মশানভূমি আজ ব হয়ে উঠেছে ব্যস্ত শহর।কিন্তু বড়মার পুজো আজও একই রীতিতে হয়।সময়ের হাত ধরে এই মন্দিরে বেড়েছে ভক্তদের ভিড়। প্রতিদিন এই মন্দিরে দেবীর হাতের খাঁড়া-ধোয়া জল পান করতে ভিড় করেন অজস্র ভক্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন ভক্তরা। তাঁরা দেবীর খাঁড়া ধোয়া জল পান করেন। ভক্তদের দাবি, এই জল পান করে নাকি তাঁদের নানা রোগ-ব্যাধি সেরে যায়। সবার সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।দেবীর খাঁড়া ধোঁয়া জলে অলৌকিক শক্তি আছে এটা ভক্তরা বিশ্বাস করে। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর। বিশ্বাস এবং ভক্তির কাছে যুক্তি ম্লান হয়ে যায়।

 

এই মন্দিরে তিনশো বছর আগে থেকেই রয়েছে একটি কুয়ো। সেই কুয়ো রয়েছে মন্দিরের চত্বরের মধ্যে। যা ঢেকে রাখা হয়। সাধারণত বলা হয়, সূর্যের আলো না-পড়লে কুয়োর জল নষ্ট হয়ে যায়। অলৌকিক ভাবে এখানকার কুয়োর জল কিন্তু অত্যন্ত স্বচ্ছ । শুধু তাই নয়, এই জল সারাবছর থাকে। গ্রীষ্মে দামোদরের খাতে জল শুকিয়ে যায়। গরমে খনি অঞ্চল রানিগঞ্জে জলাভাব দেখা যায়। কিন্তু, এই কুয়োর জল কিছুতেই কমে না।

 

এ সবই বড়োমায়ের কৃপায় হয় অন্তত এমনটাই দাবি ভক্তদের।প্রতি অমাবস্যায় বহু দর্শণার্থীদের সমাগম হয় এই মন্দিরে।

 

ফিরে আসবো বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে আরো একটি প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – অষ্টসিদ্ধির ব্যাখ্যা

বিশেষ পর্ব – অষ্টসিদ্ধির ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

 

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে

“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস। আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো কি এই অষ্টসিদ্ধি এবং কিভাবে এই আটটি শক্তি হনুমানজী কাজে লাগিয়েছিলেন তার প্রভু রামের সেবায়।

 

প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়। লঙ্কায় সীতাকে খোঁজার জন্য হনুমান যখন গোপনে প্রবেশ করেছিলেন তখন তিনি এই সিদ্ধি প্রয়োগ করে ক্ষুদ্র দেহ ধারণ করেছিলেন।

 

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়। যখন যুদ্ধে লক্ষন আহত এবং একমাত্র সঞ্জীবনি গাছ প্রয়োজন তার প্রাণ রক্ষার জন্য তখন বজরংবলী এই সিদ্ধি ব্যবহার করে সঞ্জীবনি বৃক্ষ সহ সুমেরু পর্বতকে তুলে এনে ছিলেন।

 

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়। মহাভারতের যুদ্ধের সময়ে ভিমের অহংকারকে চূর্ণ করতে হনুমান এই সিদ্ধি প্রয়োগ করেছিলেন। ভীম বৃদ্ধ হনুমানের লেজ তুলে তার পথ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে ব্যার্থ হন। পরে তিনি হনুমানের স্বরূপ বুঝতে পেরে তার কাছে ক্ষমা চান এবং যুদ্ধে সাহায্য করার অনুরোধ করেন।

 

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়। এই সিদ্ধি ব্যাবহার করে বজরংবলী সহজেই সমুদ্র অতিক্রম করে লঙ্কায় পৌঁছতে পারতেন।

 

পঞ্চমসিদ্ধি প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে। যা কিছু মনোস্কামনা মনে উদয় হয় তা সাথে সাথে পূর্ণতা পায়।শুন্য হাতে এসে যেতে অস্ত্র।যুদ্ধ ক্ষেত্র সহ একাধিক ক্ষেত্রে বজরংবলীকে এই সিদ্ধি প্রয়োগ করতে দেখা গেছে।

 

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে। যাদের এই সিদ্ধি আছে তারা জলের মধ্যেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে।বজরংবলী যে অজেয় এবং চিরঞ্জিবী হন তার একটি বড়ো কারন এই সিদ্ধির অধিকারী হওয়ার।

 

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে। বজরংবলী ছিলেন এই সিদ্ধির অধিকারী। এই সিদ্ধি থাকলে প্রাকৃতিক যেকোনো ঘটনা ঘটানো যায় যেমন বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, নদীর জল ধারা কে পরিচালনা করা যায়। বজরংবলী তা পারতেন।

 

বশিত্ব এই অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়। যার এই সিদ্ধি থাকবে সে যেকোনো মানুষ বা প্রাণীর মনের কথা বুজতে পারবে এবং তার মনকে প্রভাবিত করতে পারবে। বজরংবলী অষ্ট সিদ্ধির অধিকারী হওয়ায় তার এই ক্ষমতা ছিলো।

 

বজরংবলীকে নিয়ে ধারাবাহিক এই আলোচনা আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।