অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

65

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ অক্ষয় তৃতীয়া।পুরান এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে এই তিথি সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে। এই দিনটি নানা কারনে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আজ জেনে নিই অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ যা ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে যুদ্ধে |তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব। পরবর্তীতে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|তাই আজ বিশ্বাস করা হয় আজ তার পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।

 

আবার এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও শুভ কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা

সফল এবং স্বার্থক হয়।

 

বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।

তাই দেশের বহু স্থানে আজকের দিনটি

‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

 

মহাভারতে উল্লেখ আছে যে অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতেই যুধিষ্ঠিরকে অক্ষয় পাত্র দান করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এই অক্ষয় পাত্রের খাবার কখনও ফুরোয় না। এই পাত্র থেকে দরিদ্র মানুষদের খাবার বিতরণ করতেন যুধিষ্ঠির। সেই কারণে অক্ষয় তৃতীয়ায় দান করলে তার শুভ ফল লাভ করা।

এই শুভ দিনেই মর্ত্যে আগমন হয় দেবী গঙ্গার।

আবার এই তিথিতেই ত্রেতা যুগের সূচনা হয়।

 

আজ দিনটি অতি পবিত্র।আজ লক্ষী ও কুবেরের পুজোর মাধ্যমেও সৌভাগ্য লাভ করা যায়|আপনার সবাই আজ দেবী লক্ষী এবং কুবের দেবের কাছে নিজের মনোস্কামনা জানান।

সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

ফিরে আসবো পরের পর্বে কালী কথা নিয়ে সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।