Home Blog Page 57

কালী কথা – সিয়ারশোল রাজবাড়ির পুজো

কালী কথা – সিয়ারশোল রাজবাড়ির পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সিয়ারসোল রাজবাড়ি কালী পুজো রানী গঞ্জের অন্যতম পুরোনো এবং বিখ্যাত পুজো। এই পুজোর বয়স প্রায় তিনশো বছর এবং পুজো শুরু হয়ে ছিলো একটি বিশেষ কারণে। আজ কালী কথায় এই পুজো নিয়ে লিখবো।

 

এই পুজোর ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় এক সময় গ্রামে দেখা গেছিল মহামারী কলেরার প্রকোপ। একের পর এক গ্রাম উজাড় হয়ে চলেছে কলেরার প্রকোপে।সেই সময়

এই রোগের ওষুধ পাওয়া ছিলো প্রায় অসাধ্য।

 

সেই সময়কালেই গ্রামকে রক্ষার লক্ষ্যে গ্রামের প্রবীণ সদস্যরা চিন্তা করলেন গ্রামে দেবী আরাধনার মাধ্যমে গ্রাম্য দেবীর পুজোর আয়োজন করবেন তারা। সে মতোই তৎকালীন সময়ে গ্রামের পুরোহিত এবং মাতৃ সাধক অনন্ত লাল ভট্টাচার্যকে মা রক্ষা কালী পুজোর জন্য আবেদন জানান সকলে।

 

সব দিক বিচার করে ভট্টাচার্য মশাই দিনক্ষণ তিথি নক্ষত্র ধরে বৈশাখ মাসের এক অমাবস্যা তিথিতে শাক্ত মতে মা রক্ষা কালীর পুজোর আয়োজন করলেন। পরে মা কালীর স্বপ্নাদেশে নির্দেশ দেন তার মন্দির যেন কখনোই আবৃত না থাকে অর্থাৎ খোলা আকাশের নিচেই যেন তার পুজো করা হয়। সে মতোই গ্রামের শেষ প্রান্তে তেঁতুল গাছের নিচেই পূজিত হন মা রক্ষা কালী।

 

এখানের কালীপুজোর বিশেষত্ব হচ্ছে রক্ষা কালীর মূর্তি একই দিনে গড়ে তোলার পর রাতভর পুজো হোম যজ্ঞ, তন্ত্র মতে বলিদান কর্মসূচির মাধ্যমে সমস্ত উপাচার সম্পন্ন হয়। তারপরে রাতে

ভক্ত দের মধ্যে ভোগ বিতরণ হয় এবং সকালের সূর্য উদয় হওয়ার আগেই প্রীতিমা নিরঞ্জন হয়।

 

শোনা যায় এই রক্ষা কালী শুধু মহামারী থেকে যে গ্রামবাসিদের বাঁচিয়েছে তা নয় তার পুজো যেদিন

থেকে শুরু হয়েছে সেদিন থেকে এলাকার মানুষের জীবন যাত্রা উন্নত হয়েছে। ফসল বেশি ফলেছে। সুখ সমৃদ্ধি এবং শান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তিনশো বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সব দেবীর নিয়ম নিষ্ঠা অক্ষুন্ন রেখে দেবীর পুজো দিয়ে আসছেন এবং বংশ পরম্পরায় আজও সেই ভট্টাচার্য পরিবারের হাতেই রয়েছে পুজোর দায়িত্ব।

 

আবার কালী কথার পরবর্তী পর্বনিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে তবে সামনেই অম্বুবাচি এবং প্রভু জগন্নাথের স্নান যাত্রা তাই এই দুটি বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা

চলবে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মিত্র বাড়ির কালী পুজো 

কালী কথা – মিত্র বাড়ির কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের উত্তরি কলকাতার অন্যতম পুরোনো এবং প্রসিদ্ধ বনেদি বাড়ি মিত্র বাড়ির শতাব্দী প্রাচিন কালী পুজোর কথা লিখবো।

 

আজ যে রাস্তার নাম নীলমণি মিত্র লেন।

সেই রাস্তার পাশেই আছে মিত্র বাড়ি।নীল মণি মিত্র বাড়িরই এক কৃতি সন্তান ছিলেন তার নামেই এই রাস্তার নাম।

 

বাড়ির গৃহ মন্দিরে রয়েছে ছোট্ট কালী প্রতিমা। খেয়াল করলেই দেখা যাবে কালী দাঁড়িয়ে শিবের বুকের ওপর, বাঁ পা এগিয়ে।যদিও দক্ষিনা কালী রূপেই কালী পুজো হয়। তবে কেনো এমন রূপ? তার পেছনে একটা গল্প আছে।

 

এই বংশের অন্যতম প্রাণ পুরুষ প্রাণকৃষ্ণ মিত্র তার শৈশবে অন্যান্য মৃৎশিল্পী বন্ধুদের সঙ্গে খেলার ছলে একদিন কালী প্রতিমা তৈরি করেন। বাঁ পা এগিয়ে রাখলেন।এই কালী দক্ষিণাকালিকার মতোই পূজিত হন এখনও। পরিবর্তন হয়নি আকারে। দক্ষিনা কালী হলেও বাঁ পা আগে আছে।

 

শুরুতে অবস্থা ভাল ছিল না মিত্র দের তাই প্রথম পুজোয় ঢাক বাজেনি । কালী পুজো শুরু হওয়ার পর মিত্র দের অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়। কলকাতার অন্যতম ধনী এবং বিখ্যাত

পরিবারে উত্তীর্ণ হয় মিত্র রা তবে এখনও মিত্র বাড়ির কালী পুজোয় ঢাক বাজে না।এটাই

নিয়ম হয়ে গেছে।

 

বর্তমানে কালী পুজোর বয়স দুশো বছরের বেশি।

কালীপুজোয় কালীকে নিবেদন করা হয় একশো আটটি অপরাজিতা।আগে বলিপ্রথা

থাকলেও এখন আর নেই।শোনা যায় একবার পুজোর সময়ে বলির ছাগশিশু রাজকৃষ্ণ মিত্রর পায়ের কাছে চলে আসে, তারপর থেকে তারপর থেকে বলি প্রথা বন্ধ হয়।

 

এক সময়ে বহু প্ৰখ্যাত মনীষীর আনাগোনা ছিলো এই বাড়িতে। কালী পুজো দেখতে আসতেন শহরের বহু বিখ্যাত ব্যাক্তি। মিত্র বাড়ির কালী পুজোর সাথে জড়িয়ে আছে স্বয়ং সাধক রামপ্রসাদের স্মৃতি।

 

বাংলার এমন আরো বনেদি বাড়ির ঐতিহাসিক কালী পুজোর কথা থাকবে আগামী দিনে।

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী

পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – সোনার কালী বাড়ির ইতিহাস

কালী কথা – সোনার কালী বাড়ির ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আপনাদের বর্ধমানের এমন এক ঐতিহাসিক কালী পুজোর কথা জানাবো যে
পুজো বর্ধমান রাজ পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

যদিও দেবীকে এখানে ভুবনেশ্বরী রূপে পুজো করা হয়।এই কালী মন্দির সোনার কালীবাড়ি নামেই বেশি জনপ্রিয়। মন্দির বেশ পুরোনো ১৮৯৯
সালে এই সোনার কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ।

বাংলার বহু কালী মন্দিরের ন্যায় এই কালী মন্দির তৈরির সাথেও জড়িত দেবীর স্বপ্নাদেশ।
বর্ধমানের রাজার স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক। শোনা যায় ধর্মপ্রাণ স্ত্রী স্বপ্নে দেবীকে দেখে ছিলেন এবং স্বপ্নাদেশ অনুসারে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুন্দর শ্বেতপাথর দিয়ে তৈরী এই মন্দির এবং স্ফটিক দিয়ে তৈরী এই মন্দিরের দেওয়ালে বাহারি কারুকাজ আর নকশা খোদাই করা।প্রবেশপথের উঠোনে দুটো বড় আকারের পাতকুয়ো আছে। যা খরা এবং জলাভাবেও কখনও শুকোয় না।আজও এই কুপের জলেই এই মন্দিরের সমস্ত কাজকর্ম হয়। এই পাতকুয়া নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।

প্রবেশ পথ লাগোয়া পরিসরে দেখা মিলবে
বহু প্রাচীন এক নহবতখানার যা রাজা স্বয়ং নির্মাণ করিয়ে ছিলেন।শুরুতে এখানকার কালীমূর্তিটি সোনারই ছিল। একবার সেই মূর্তি চুরি যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় নতুন করে দেবী কালীর মূর্তি স্থাপন করা হয়।সোনার কালী মূর্তির জন্যেই এই মন্দিরেরই নামকরণ হয়
সোনার কালীবাড়ি

এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ এবং দর্শনীয় বস্তু দেবীর পায়ের কাছে রাখা এক শঙ্খ। যার শব্দে মুখরিত হয় গোটা কালীবাড়ির সন্ধ্যা আরতি। এই শঙ্খের আয়তন বিরাট । প্রায় একহাত লম্বা।জনশ্রুতি আছে যে মহারানি নারায়ণী দেবী সমুদ্রতট থেকে এই শঙ্খ সংগ্রহ করেছিলেন। দেবীমূর্তিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। এখানে দেবী কালীর জিহ্বা দেখা যায়না এবং দেবীর পায়ের নীচে মহাদেব নেই কারন দেবী এখানে উগ্র রনং দেহি রূপে নেই।দেবীর শান্ত এবং সৌম মূর্তি এখানে বিরাজ করছে।

সোনার কালীবাড়ী বা ভুবনেশ্বরী মন্দিরে নিত্যপুজো এবং সন্ধ্যা আরতি হয়। ভোগ বিতরণ হয় নিয়মিত।কার্তিক অমাবস্যার কালীপুজোয় এখানে খিচুড়ি ভোগের সঙ্গে থাকে মাছের টকও। বর্তমানে পশুবলি বন্ধ। বদলে হয় চালকুমড়ো বলি। পুজোর বাকি সব রীতি নীতি সেই
আগের মতোই আছে।

ফিরে আসবো কালী কথার আগামী পর্ব নিয়ে থাকবে অন্য এক পুজোর ইতিহাস এবং নানা অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – পাশকুড়ার ডাকাত কালীর পুজো

কালী কথা – পাশকুড়ার ডাকাত কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথার এই পর্বে আপনাদের পাশকুড়ার আড়াইশো বছরের বেশি পুরোনো

শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মায়ের পুজোর ইতিহাস জানাবো। এই পুজোকে অবশ্য অনেকে

বেগুনবাড়ি কালী পুজো বলেও জানে।

 

এই এলাকায় কান পাতলে আজও শোনা যায় একটি প্রচলিত লোককাহিনী। এই কাহিনী অনুসারে এখানকার রাজা রাজনারায়ণ রায়ের প্রধান কুস্তিগীর ছিলেন হিনু দিনু নামে দুই ভাই। এই দুই ভাই ছিলেন অতি দরিদ্র তবে খুব বীর এবং সাহসী যে সময়ের কথা সেই সময়ে, কলেরার কোন চিকিৎসা ছিল না। কলেরার প্রকোপে গ্রামের পর গ্রামের মানুষ মারা যেত। একসময় এই এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে হিনু এবং দিনু দুজনেই কলেরা আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাঁচার আশা যখন প্রায় নেই তখন

তারা দেবী কালীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন  এবং তার পূজা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরোগ্য কামনা করেছিলেন। বেশ কিছু দিন পর প্রায় অলৌকিক ভাবেই দুই ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

 

তবে মন্দির তৈরি বা পূজার ব্যবস্থা করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। অন্য উপায় না দেখে শেষে এই দুই ভাই তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ডাকাতি শুরু করেন এবং ডাকাতি করে অর্থ উপার্জন করে মায়ের পুজোর সাথে সাথে একটি মন্দিরও তৈরি করেন।

 

সেই সময়ে এখানকার বেগুন ছিলো বিখ্যাত এবং প্রচুর বেগুন চাষ হতো চারপাশে ফলতো এই বেগুন বাড়ি নামেও পরিচিত ছিলো সেই সময়ে তাই কালী মন্দিরের নাম হয়

বেগুনবাড়ি কালী মন্দির।

 

ডাকাতরা যখন এখানে পুজো করতো তখন

নর বলীর কথা শোনা গেলেও বর্তমানে ছাগ বলি প্রথা চালু রয়েছে আগত তীর্থযাত্রী গণ তাদের মানত পূরণের জন্য হাজার হাজার ছাগল বলি দেন এবং বহু মানুষ বিশ্বাস করেন বেগুন

বাড়ির মা কালী সবার মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।

প্রতি বছর কালী পুজো এবং অন্যান্য অমাবস্যায় অসংখ্য তীর্থযাত্রী জড়ো হন।

 

এমন বহু জাগ্রত এবং প্রাচীন কালী মন্দির আছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। তাদের নিয়ে আছে অসংখ্য গল্প এবং অলৌকিক ঘটনা। সেসব নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী জহুরার মাহাত্ম

কালী কথা – দেবী জহুরার মাহাত্ম

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

দেবী জহুরা বা জহুরা কালী মন্দির মালদা তথা বাংলার অন্যতম প্রসিদ্ধ কালী মন্দির।
আজকের পর্বে জানবো এই দেবী
জহুরার মাহাত্ম।

কিছু ইতিহাস বিদ মনে করেন এই দেবীর পুজোর সূচনা হয়েছিলো সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে আবার মন্দিরের গায়ে যে পাথরের ফলক আছে তা থেকে অনুমান করা যায়,আজ থেকে তিনশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কোনো এক মাতৃ সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবী জহরা চণ্ডীর বেদি স্থাপন করেছিলেন|

মালদার জহুরা এই প্রাচীন এবং জাগ্রত এই কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে অনেক রহস্যময় ও অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে।কেনো কালী মন্দিরের নাম জহুরা কালী মন্দির তার পেছনেও এক রোমাঞ্চকর গল্প আছে।

ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে এই প্রাচীন জহুরা কালীমন্দির।শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাতরাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’ বা জহরত তাই দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত|

শোনা যায় বহুকাল আগে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা|
বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|এখানে বৈশাখ মাসের মঙ্গল ও শনিবার থাকে বিশেষ পুজোর আয়োজন|উল্লেখযোগ্য বিষয় অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো হয় না পুজো হয় দিনে|

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে|প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে জহুরা কালী মন্দিরে তন্ত্র মতে পুজো হয় এবং বহু দর্শণার্থী আসেন সেই পুজো দেখতে।

আবার কালী কথার পরের পর্বে ফিরে আসবো নতুন কোনো কালী মন্দিরের রোমাঞ্চকর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – চঞ্চলা কালীর পুজো

কালী কথা – চঞ্চলা কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বালুরঘাট শহরের প্রাচীন কালী পুজো গুলির অন্যতম চঞ্চলা কালী নিয়ে আজকের কালী
এই কথা পর্ব।

বালুরঘাট শহরের হোসেনপুরের কাছে চকবাখর গ্রামে রয়েছে চঞ্চলা কালী।প্রায় তিনশো বছর ধরে পুজো হচ্ছে।চঞ্চলা কালীর।যেখানে বর্তমানে কালী মন্দিরটি রয়েছে শোনা যায় কোনো এক সময়ে সেখান থেকে কিছু অলৌকিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তখন স্থানীয় রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজার মৃত্যুর পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এই এলাকার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় জমিদারের সহযোগিতায় আবার পুজোর সূচনা করেন।

প্রতি বছর দোলপূর্ণিমার পরের দিন গভীর রাতে চঞ্চলা কালীর পুজো হয়।সাধারণত কালীর পায়ের নিচে শিবের দেখা মিললেও এই কালীর পায়ের নিচে অশুর রয়েছে। অন্য পায়ের নিচে আছে সিংহ। বলা হয়, মহামায়া ও চামুণ্ডার এক রূপ এই চঞ্চলা কালী মাতা।দেবীর উচ্চতা সাড়ে দশ হাত এবং চঞ্চলা কালী মাতার হাতের সংখ্যা আট।

চঞ্চলা কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান কালী ও মাশান কালীর মন্দির। মা চঞ্চলার পুজোর পরের দিন তন্ত্র মতে এই দুই দেবীর পুজো হয়।
এখানে রয়েছে একটি পুকুর। জনশ্রুতি রয়েছে এই পুকুর থেকে একসময় পূজোর কাজের জন্য থালা-বাসন ভেসে উঠত। বর্তমানে এই পুকুরের জল দিয়ে মায়ের পুজো করা হয়।

প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো উপলক্ষে এখানে বহু ভক্ত আসেন।দেবী মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির যেখানে পুজোর সময় সারারাত মঙ্গলচন্ডীর গান শোনানো হয়।

শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় শুধু দক্ষিণ
দিনাজপুর জেলার নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ প্রতিবেশী রাজ্যের ভক্তরাও উপস্থিত হন।শোনা যায় ভক্তি সহকারে মায়ের পুজো করলে সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।
থাকবে কালী সংক্রান্ত এই ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – আমডাঙার কালী মন্দিরের ইতিহাস

কালী কথা – আমডাঙার কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে জানাবো উত্তর চব্বিশ পরগনার আম ডাঙায় অবস্থিত একটি

প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা|

 

এই আম ডাঙ্গার কালী মন্দির উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে অবস্থিত প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম|এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন রাজা মান সিংহ|এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক অধ্যায়|

 

মুঘল সম্রাট আকবরের সৈনদল দু’বার রাজা প্রতাপাদিত্যের কাছে পরাজিত হন। মুঘল সম্রাটের বিশ্বাস ছিল, যশোরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে তার পর যুদ্ধ শুরু করতেন বলেই জয়লাভ করতেন প্রতাপাদিত্য। প্রতাপাদিত্যের এই রণকৌশল ভবিষ্যতে যাতে আর সফল না হয়, সেই পরিকল্পনা করতে মান সিংহকে নিয়োগ করেন সম্রাট আকবর। মান সিংহ শুরুতেই যশোরেশ্বরী মন্দির থেকে বিগ্রহ সরিয়ে দেন। প্রতাপাদিত্য সে কথা জানতে পারার পরেই রেগে ফেটে পড়েন এবং মন্দিরের পূজারী রামানন্দ গিরি গোস্বামীকে নির্বাসিত করে দণ্ড দেন|

 

নির্বাসিত হয়ে রামানন্দ এই আমডাঙ্গায় এসে উপস্থিত হন এখানে তখন ঘন জঙ্গল তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুখবতী নদী|পরবর্তীতে মান সিংহ স্বপ্নাদেশ পান, মায়ের ভক্ত রামানন্দ উন্মাদ অবস্থায় সুখবতী নদীর তীরে রয়েছেন, তাকে সুস্থ করে পুনরায় সাধন মার্গে ফিরিয়ে আনতে হবে। তারপর সেই স্বপ্নাদেশ মেনে ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দে আমডাঙা কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুর্লভ কষ্টিপাথর দিয়ে মা কালীর শান্ত মূর্তি

স্থাপন করেন করেন মান সিংহ|

 

পরোক্ষ ভাবে বাংলার নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা ও একটি বিশেষ কারনে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রর নাম ও জরিয়ে আছে প্রাচীন এই কালী মন্দিরের সাথে|পলাশীর যুদ্ধের আগের বছর অর্থাৎ ১৭৫৬

সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা অভিযানের সময় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এখানকার এই কালীমূর্তি দেখতে পান এবং প্রার্থনা করেন|পরবর্তীতে মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার পর তিনি এই মন্দিরে প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমি দান করেন যা এই মন্দিরের সম্পত্তি।

 

এই মন্দিরে কালী মূর্তি ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি প্রাচীন শিব মন্দির|বহু মানুষ এখানে আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে, মনোস্কামনা পূরণ হলে পুজো দেন তবে কালী পুজো উপলক্ষে ভিড় হয় সবথেকে বেশি|

 

আবার ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – লেক কালী বাড়ির ইতিহাস

কালী কথা – লেক কালী বাড়ির ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ফল হারিণী অমাবস্যা আমাদের তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এই তিথিতে দেবী ফল হারিণী রূপে আমাদের কৃপা করেন এবং তার কৃপায় কর্ম ফল খণ্ডন হয়। পবিত্র এই সময়ে কালী কথা বলার এবং শোনার আলাদা মহাত্ম আছে।আজ কালী কথায় আপনাদের কলকাতার অন্যতম প্রসিদ্ধ কালী মন্দির লেক কালী বাড়ির ইতিহাস আপনাদের জানাবো।

 

আমি যদি বলি শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী

কালীমাতা মন্দির অনেকেই হয়তো বুঝবেন না আমি কোন মন্দিরের কথা বলছি কিন্তু যদি লেক কালী বাড়ি বলি এক ডাকে সবাই চিনবেন|কারন ওই নামেই এই মন্দির বেশি পরিচিত যদিও পোশাকি নাম শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী

কালীমাতা মন্দির|

 

টালিগঞ্জ এর রবীন্দ্র সরোবর বা বিখ্যাত ঢাকুরিয়া লেক সংলগ্ন সাউদার্ন এভিনিউ এর পাশেই রয়েছে কলকাতারই এই প্রাচীন কালী মন্দির বা লেক

কালীবাড়ি|

 

সময়ের নিরিখে খুব বেশি প্রাচীন না হলেও কলকাতার পুরনো কালী মন্দির গুলির মধ্যে এই মন্দির নিঃসন্দেহে অন্যতম| স্বাধীনতার ঠিক দুবছর পর অর্থাৎ হাজার 1949 সালে স্থানীয় তন্ত্রসাধক হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন| শোনা যায় তন্ত্র সাধক হরিপদ চক্রবর্তী দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে একটি পর্ণকুটির নির্মাণ করে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজো শুরু করেন| পরবর্তীতে লোকমুখে ছড়িয়ে পরে এই দেবীর মাহাত্ম্য এবং ধীরে ধীরে সেই ছোট্ট কালী মন্দির আজকের মন্দিরের রূপ নেয়|

 

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটির নাম করুণাময়ী কালী|হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দিরে একটি পঞ্চ মুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে তন্ত্র সাধনা করতেন|নর মুন্ড দিয়ে নির্মিত সেই পঞ্চ মুন্ডির আসন আজও এখানে স্বজত্নে রক্ষিত রয়েছে|জনশ্রুতি অনুসারে সাধক হরিপদ চক্রবর্তী মা কালীর দর্শন লাভ করে ধন্য হয়েছিলেন|

 

বর্তমান মন্দির ভবনটি বছর দশেক আগে নতুন ভাবে সংস্কার করা হয়|মন্দিরে কালী মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে মা সন্তোষী, বগলা ও ধূমাবতীর মূর্তি যা এই শহরতলীতে আর বড়ো একটা চোখে পড়েনা।

 

প্রতি শনি বার ও মঙ্গলবার বিশেষ পূজা উপলক্ষে বহু মানুষের ভিড় হয় এখানে|বিশেষ বিশেষ তিথি তে দেবীর স্বর্ণ বেশও হয়|দীপান্বিতা অমাবস্যা বা কালীপুজো উপলক্ষে প্রতি বছর ব্যাপক

ভক্ত সমাগম হয় এই মন্দিরে|আজও তন্ত্র মতে সমস্ত উপাচার মেনে নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়।

শোনা যায় বহু মানুষের বহু মনোস্কামনা পূর্ণ হয়েছে এখানে এসে।

 

বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অতি প্রাচীন এবং গভীর তার তাৎপর্য।রয়েছে অসংখ্য কালী মন্দির এবং তাদের ঘটনা বহুল ইতিহাস।ধারাবাহিক ভাবে

সেই সব নিয়ে আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো

কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের একটি নয় একজোড়া কালী পুজোর কথা বলবো। এই কালী পুজো গোটা নদীয়া জেলায় জোড়া কালীর পুজো নামে প্রসিদ্ধ।নদিয়ার ভীমপুরের ময়দানপুরের কালীবাড়িতে একই মন্দিরে পাশাপাশি পূজিতা হন রক্ষাকালী ও দক্ষিণকালী এই দুটি রূপই।

 

এই পুজোর সূচনা হয় একটি অলৌকিক ঘটনার থেকে বহু বছর আগে এক কালীর পুজোর আগের রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্থানীয় এক মহিলা। দেবী তাঁকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছেই মনসা গাছ রয়েছে। সেই গাছের মাটির তলায় তাঁরা আছেন। তাঁদের মাটি থেকে তুলে পুজো করতে হবে।

 

প্রথমে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেননি।সবই

তার অলীক কল্পনা বলে মনে করেছিলেন সবাই শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁর জোরাজুরিতে শুরু হয় মাটি খোঁড়া। বেশ কিছুটা মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় জোড়া কালীমূর্তি। এরপর যেখান থেকে কালীমূর্তি দুটি উদ্ধার হয়, সেই মনসা গাছের পাশেই তৈরি করা হয় দেবীর বেদী।শুরু হয় পুজো। আজ সেই পুজোই জোড়া কালীর পুজো রূপে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোটা নদীয়া জেলায়।

 

এখনো জোড়া সেই মহিলার পরিবারের লোকজনই বংশপরম্পরায় এই পুজো করে চলেছেন।পাশাপাশি অসংখ্য ভক্ত যুক্ত হয়েছে এই পুজোর সাথে।

 

এই মন্দিরে দুই কালী প্রতিমার পাশে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তিও রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীকেও এখানে নিত্য পুজো করা হয়।বিশেষ তিথি তে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। নিত্য পুজোর পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।

কালীপুজোর দিনগুলোয় এই মন্দির পরিসর যেন বিরাট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুলসংখ্যক ভক্ত এখানে ভিড় করেন।

 

সামনেই ফলহারিণী অমাবস্যা । সেই উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে

আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের ইতিহাস

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় যে কালী মন্দির নিয়ে লিখবো সেই মন্দিরে এসে একবার শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ”ওরে এই মা সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তোদের যা যা কামনা তাই তিনি পূর্ণ করতে পারেন ” এই মন্দিরটি হচ্ছে কলকাতার প্রাচীন সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দির।

 

সে আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগের কথা তপস্বী কালীবর নামের এক মাতৃ সাধক হিমালয়ের এক গুহায় উপাসনা করতেন। একদিন স্বপ্নাদেশ পান তিনি। দেবী কালী তাঁকে বলেন, গঙ্গার তীরের এক জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন তিনি। তাঁকে সেখানেই পুজোর আদেশ দেন কালী।সেই স্বপ্নাদেশ পাথেয় পেয়ে কালীবর চলে আসেন বাগবাজারের গঙ্গাপাড়ে।তখন এই অঞ্চলে ঘন জঙ্গল, বন্য জীব আর ডাকাতেরা এলাকার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সেখানেই এক হোগলা বনের মধ্যে তিনি শুরু করেন দেবীর উপাসনা। ভক্তের পুজোয় তুষ্ট হন দেবী। তাঁর নির্দেশেই ওই স্থানেরই বেতবনে বসে কালীর মূর্তি। সেই দেবীর নাম হয় সিদ্ধেশ্বরী কালী।

সাধকের নাম অনুসারে এই কালীকে ‘কালীবরের কালী’ হিসাবেও প্রসিদ্ধ।আবার এক সময়ে

ডাকাতরা পুজো করতো বলে ডাকাত

কালী বলেও পরিচিতি আছে।

বর্তমানে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলির কাছে রবীন্দ্র সরণিতে রয়েছে সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ি

 

আবার ফিরে যাই সেই সুদূর অতীতে শোনা যায় এই মূর্তি স্থাপনের পরে কিছুদিন কালীবরের হাতে দেবী পুজো পেলেও পরবর্তীতে দেবীর পুজোর ভার বর্তায় এক সন্ন্যাসী কাপালিকের উপর। তিনিই গোলপাতার ছাউনির মন্দিরে শুরু করেন দেবীর আরাধনা। সেই সময়েই শুরু হয় বলী প্রথা। এমনকি সেকালে নর বলীও হতো বলে কিংবদন্তী আছে।

 

শোনা যায় একদিন গঙ্গায় ভেসে আসা দুই বালককে বলী দেবে ঠিক করে ডাকাতদল।

সেই বালকদের বাঁচান মন্দিরের পূজারী সেই কাপালিক। তারপর থেকে পুজোর রীতি নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। বন্ধ হয় বলী প্রথা। সেই বালক দুটির পরিবারকে পুজোর কিছু

দায়িত্বও দেয়া হয়।আজও চলছে এই সব রীতি নীতি।

 

প্রায় প্রতি অমাবস্যা তিথিতেই বিশেষ পুজো হয় তবে দীপান্বিতা অমাবস্যায় মহা সমারোহে পুজো

অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর পরনে থাকে বেনারসী আর দেবীর হাতে থাকে খরগ। পুজো হয় তন্ত্র মতে।

 

আবার ফিরে আসবো এমন একটি

ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।