Home Blog Page 51

কালী কথা – দুবরাজপুরের শ্মশান কালী

কালী কথা – দুবরাজপুরের শ্মশান কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বীরভূমের মাটি শক্তি স্বাধনার জন্য বরাবরই প্রসিদ্ধ। একাধিক সিদ্ধ পীঠ এবং তারাপীঠের ন্যায় জগৎ বিখ্যাত শক্তি পীঠ যেমন আছে তেমনই আছে তিনশো বছরের প্রাচীন এক শ্মশান কালী মন্দির। আজকের পর্বে এই শ্মশান কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

আনুমানিক সাড়ে তিনশ থেকে চারশ বছরের প্রাচীন বীরভূমের দুবরাজপুরের পাহাড়েশ্বরের শ্মশান কালীর প্রধান বিশেষত্ব হলো এখানে কালী পুজো শুরু করেছিলেন বৈষ্ণবরা এবং বৈষ্ণবরা আজও এই পুজোর দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে আসছেন।

 

দুবরাজপুরের এই শ্মশান কালীর পুজোর দায়িত্বে থাকা বৈষ্ণব পরিবারের পূর্বপুরুষ হারাধন চক্রবর্তী কামাখ্যা থেকে এই শ্মশান কালীকে এনে দুবরাজপুরের শ্মশানের পাশে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সেই সময় এই জায়গা ছিল সম্পূর্ণ জঙ্গলে ঘেরা এবং শ্মশান। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে জনবসতি বাড়তে থাকায় শ্মশান কিছুটা দূরে সরে গিয়েছে।

 

সনাতন ধর্মে সাধারণত শাক্ত এবং বৈষ্ণবদের মধ্যে এক ধরণের বিরোধ লক্ষ্য করা যায়। একে অন্যের সমালোচনা এবং মত বিরোধ থাকে কিন্তু এই শ্মশানকালীর পুজোয় শাক্ত এবং বৈষ্ণব ভাবধারা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে

বহু পূর্বে।

 

বীরভূমের দুবরাজপুরের এই শ্মশান কালীর প্রতিমা তৈরি থেকে পুজো এবং বিসর্জন সবক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। সারা বছর এই শ্মশান কালী বৈষ্ণব পরিবারের হাতে পূজিত হলেও দুর্গাপুজোর পর একাদশীর দিন এলাকার দাস পরিবারের হাত দিয়ে এখানকার প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। বৈষ্ণবদের হাতে এখানকার শ্মশানকালী পূজিত হলেও পুজো হয় তন্ত্র মতে।

কালী পুজো এবং দুর্গাপুজো দুই পালিত হয় বেশ জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে। বহু মানুষের সমাগম হয়।

 

আবার পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো কালী কথার আরেক পর্ব নিয়ে। থাকবে আরেকটি প্রাচীনএবং ঐতিহাসিক কালী পুজোর ইতিহাস।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – যোগেশ্বরী কালী 

কালী কথা – যোগেশ্বরী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মথুরাপুরের সাতঘরা ঠাকুরঝি গ্রামের যজ্ঞবাটি মহাশ্মশানে কয়েকশো বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন মা যজ্ঞেশ্বরী কালী।আজকের কালী কথায় জানাবো এই যোগেশ্বরী কালীর মাহাত্ম এবং এই পুজোর ইতিহাস।

 

অতীতে এক সময় এই স্থান দিয়ে বয়ে যেতো আদি গঙ্গা।অধুনালুপ্ত আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শ্মশান। শ্মশানে রয়েছে তিন চূড়া বিশিষ্ট মন্দির। সেখানেই পূজিত হন মা যোগেশ্বরী কালী।

এই শ্মশানে কালীর আরাধনা শুরু করেছিলেন তান্ত্রিকরা। কালের নিয়মে জঙ্গল না থাকলেও এখনও শ্মশান চত্বরে নির্জন পরিবেশ। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য সমাধি। তারই মধ্যে মাথা তুলেছে লতাপাতার জঙ্গল সব মিলিয়ে এই যোগেশ্বরী কালী মন্দিরের পরিবেশ বেশ রহস্যময় এবং গা ছমছমে।এই স্থানে তন্ত্র সাধনার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।এখানে তন্ত্র সাধনা করতে প্রথম আসেন শিবানন্দ ব্রহ্মচারী নামে এক তন্ত্র সাধক। তিনিই প্রথম একশো আটটি টি নরমুণ্ড দিয়ে তন্ত্র সাধনা শুরু করেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মায়ের মন্দির। শুরু হয় মা যজ্ঞেশ্বরী কালীর নিত্যপূজা।

 

সাধক শিবানন্দের দেখানো পথ ধরেই মূলত সুন্দরবন এলাকার তান্ত্রিকরা তন্ত্র সাধনার জন্য এই শ্মশানে আসতেন।আগে এই জায়গায় বৈরাগী সম্প্রদায়ের মানুষের সমাধি দেওয়া হত। অনেকের ধারণা বৈরাগীরা সমাধিকে ‘যজ্ঞবাড়ি’ বলত, তাই এই এলাকার নাম হয়ে যায় যজ্ঞবাটি এবং যজ্ঞবাটির প্রতিষ্ঠিত কালী জনসাধারনের

কাছে হয়ে ওঠেন দেবী যজ্ঞেশ্বরী।আবার কথিত আছে, পৌরাণিক কালে ভাগীরথ মর্তে গঙ্গা আনয়নের সময় অধুনা যজ্ঞবাটি শ্মশানের কাছে বিশ্রাম নিয়ে যজ্ঞ করেছিলেন। সেই থেকে এই এলাকার নাম যজ্ঞবাটি। নাম করণের ইতিহাস যাই হোক। দেবী যজ্ঞেশ্বরী এই অঞ্চলের প্রধান দেবী।

 

মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের সাথেও এই স্থানের যোগসূত্র আছে এক সময় ছত্রভোগ হয়ে নীলাচলে যাওয়ার পথে এই শ্মশানেই নাকি বিশ্রাম নিয়েছিলেন স্বয়ং চৈতন্য মহাপ্রভু।

 

এখানে আজও রীতি মেনে তন্ত্র মতে নৈবেদ্য হিসেবে দেবীকে অর্পন করা হয় মদ, মাংস ও ছোলা।বিশেষ বিশেষ অমাবস্যাতিথিতে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয় বহু ভক্তের সমাগম হয়।

 

কালী কথায় বাংলার কয়েকটি প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে আপনাদের বলেছি।এই ধারাবাহিকতাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবো আজ আগামী দিনে।চলতে থাকবে কালী কথা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা 

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বাধীনতা দিবস পালন হয় দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে|এই তিরঙ্গা জাতীয় পতাকার ও একটা ইতিহাস আছে|এই পতাকা সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ঘটনা ও অনেক গল্প|

 

ভারতের জাতীয় পতাকার রূপটি অতি সুন্দর এবং অর্থবহ|এই পতাকারা কেন্দ্রে চব্বিশটি দণ্ডযুক্ত নীল “অশোকচক্র” সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদের একটি অধিবেশনে এই পতাকার বর্তমান রূপটি ভারত অধিরাজ্যের সরকারি পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল|

 

স্বাধীনতারা কিছু বছর আগে আগে ১৯১৬ সালে অধুনা অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম শহরের নিকটস্থ ভাটলাপেনামারু গ্রামের বাসিন্দা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া একটি সাধারণ জাতীয় পতাকার রূপদানের চেষ্টা করেন|অনেক ঘটনা ও টানা পোড়েনের পর তিনিই হন দেশের জাতীয় পতাকার স্রষ্টা বা রূপকার|

 

ভেঙ্কাইয়া এই পতাকার জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনুমোদন চাইতে গেলে গান্ধীজি তাঁকে “ভারতের মূর্তপ্রতীক ও দেশের সকল অমঙ্গলহারী” চরকার চিত্র পতাকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গান্ধীজি|যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি|

 

পরবর্তীকালে ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেস অধিবেশনে পতাকা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাস হয়। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া অঙ্কিত একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয়। এই পতাকায় আনুভূমিক গেরুয়া, সাদা ও সবুজের মধ্যস্থলে একটি চরকা খচিত ছিল। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও প্রগতির প্রতীক তথা চরকা ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।

 

ওই বছরই ২ রা এপ্রিল কংগ্রেস কর্মসমিতি একটি সাত সদস্যের পতাকা সমিতি গঠন করে। পতাকায় ব্যবহৃত তিনটি রং নিয়ে আপত্তি আছে ওঠে কারণ এই রংগুলি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়। পতাকার রঙ আবার পরিবর্তন করা হয়|আবার সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পতাকার এই রঙ বাতিল করা হয়|

 

স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ভারতের জাতীয় পতাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গণপরিষদ স্থাপিত হয়। গণপরিষদ রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, কে এম মুন্সি ও বি আর আম্বেডকর। পতাকা কমিটি স্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন।

 

এই কমিটি পতাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিন সপ্তাহ পরে ১৯৪৭ সালের ১৪ জুলাই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকাটি উপযুক্ত সংস্কারের পর সব দল ও সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণীয় করে তুলে জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হবে। পরে এমন প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকার কোনো সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। চরকার পরিবর্তে সারনাথ স্তম্ভ থেকে ধর্মচক্র-টি গৃহীত হয় পতাকায়।এই পতাকাই ভারতের জাতীয় পতাকা রূপে স্বীকৃত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়|

 

স্বাধীনতা দিবস পালন করুন এবং অবশ্যই জাতীয় পতাকাকে যথাযত সন্মান দিন। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। জয় হিন্দ। ভারত মাতার জয়।

কালী কথা – শকুন্তলা কালী

কালী কথা – শকুন্তলা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বপ্নাদেশে পেয়ে শুরু হয়েছিল কোন্নগরে শকুন্তলা কালী পুজো । প্রায় দেড়শো বছর ধরে

আজও হয়ে আসছে সেই পুজো।

আজকের পর্বে শকুন্তলা কালী।

 

লোকশ্রুতি আছে শ্রী চৈতন্যদেব প্রায় ৫৩৪ বছর আগে পানিহাটিতে এসেছিলেন রাঘব পন্ডিতের টোলে ।তখন তিনি গঙ্গাস্নান করে উল্টো দিকে জনপথ দেখতে পান। তখন তিনি প্রশ্ন করেন উহা কোন নগর এরপরেই নাকি কোন্নগরের নামকরণ হয়েছিল। সেই সময়ে কোন্নগরে তেমন মানুষের বাস ছিল না।চক্রবর্তী পরিবার ছিলো এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের অন্যতম।

 

এই পরিবারের পূর্বপুরুষ ইন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পুজো করে ফেরার পথে এক রাতে তিনি দেখতে পান সাদা কাপড় পরে খোলা চুলে কোন এক রমণী রাতের অন্ধকারে হেঁটে আসছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে পূজারী খানিক দূর আসতেই দেখতে পান সুন্দরী রমণী এক ভাগাড়ের মধ্যে থাকা অশ্বত্থ গাছের নিচে এসে বিলীন হয়ে গেলেন। ওইদিন রাতেই ওই পূজারীকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন, ভাগাড়ের সেই অশ্বত্থ গাছের নিচে যেখানে শকুনের বাসা রয়েছে তার তলায় দেবীর ঘট স্থাপন করে পুজো করার জন্য। তারপর

অশ্বত্থ গাছের শকুনের বাসার নিচে হোগলা পাতা তালপাতার মণ্ডপ সাজিয়ে শুরু হয় দেবীর আরাধনা।খুব সম্ভবত শকুনের বাসস্থানে এই কালীর পুজো শুরু হয় তাই লোকমুখে নাম হয় শকুন্তলা কালী।

 

এখানে পুজোর দিন। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে কাঁধে করে দেবীকে নিয়ে আসা হবে তার বেদীতে। আবারো সূর্য ওঠার আগেই শকুন্তলা কালী মায়ের বিসর্জন হয়।

 

কয়েকশো বছরের প্রাচীর এই পুজোকে ঘিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটে মন্দির চত্বরে। প্রতিবছর বাংলা বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শনিবার এই পুজো আয়োজন করা হয়। পুজোর দিন রাতভর চলে গঙ্গাস্নান।

 

আবার আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য থাকবে অন্য একটি কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং

অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কাঠের কালী

কালী কথা – কাঠের কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সে আজ থেকে প্রায় তিনশো বছর আগের কথা মুড়াগাছার জমিদার বরদাপ্রসাদ রায়চৌধুরীর প্রতিপত্তি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দক্ষিণ বঙ্গে যদিও তিনি ছিলেন শিবের ভক্ত তবে আজ আলোচনা করবো তার প্রতিষ্ঠিত একটি কালী মন্দির নিয়ে।এই কালী মন্দিরটি রয়েছ ডায়মন্ড হারবারের সরিষা গ্রামে এবং এখানে দেবী কালী কাঠের কালী নামে প্রসিদ্ধ
স্থানীয়দের মধ্যে এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে একাধিক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। শোনা যায় এক সময় এই সব অঞ্চলে বসন্ত রোগের ভয়ানক প্রকোপ দেখা দেয়। প্রজারা আসেন জমিদার বাবুর কাছে সমাধানের জন্য । চিন্তিত হয়ে পড়েন বরদাপ্রসাদ। তখনই এক রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। তিনি স্বপ্নে জানতে পারেন একটি নিদিষ্ট স্থানে কালী মন্দিরে বানাতে হবে। সেই স্থানের কাছেই আছে একটি পুকুর যার জলে একটি কাঠ আছে এবং সেই কাঠ দিয়ে বানাতে হবে কালী মূর্তি। জমিদার কথা মতো কালী মন্দির নির্মাণ করেন।দেবীর নির্দেশেই মন্দিরের জন্য নির্বাচিত স্থানের পশের এক পুকুর থেকে কাঠ উদ্ধার করে সেই কাঠ দিয়ে তৈরি হয় কালীমূর্তি। সেই কাঠের কালীমূর্তিকেই আজও পুজো করেন সরিষা গ্রামের মানুষ।এই কারণে এই দেবীকে অনেকেই কাঠের কালী নামে চেনেন।
পরবর্তীতে বরদাপ্রসাদের বিরাট জমিদারির অধিকাংশ জমি এবং প্রভাব প্রতিপত্তি চলে যায় স্থানীয় হালদার পরিবারের হাতে সেই সঙ্গে মন্দিরের পুজো এবং রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব চলে যায় এই হালদার পরিবারের হাতে। সেই থেকে মন্দির ও মূর্তি দুই আগলে রেখেছেন হালদার পরিবারের সদস্যরা ।
আজও এই পুজো একই রীতিনীতি মেনে পালন করে আসছেন হালদার পরিবার। এই পুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে একাধিক রীতি নীতি।
এখানে কালীপুজোর দিন এই গ্রামে অন্য কোথাও কালী পুজো হয় না। আগে একাধিকবার গ্রামবাসীরা বারোয়ারি কালীপুজোর উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে। সেই থেকে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কাঠের কালীর পুজোই প্রায় একমাত্র এবং প্রধান পুজো।
সব নিয়ম মেনে দেবীর নিত্যপুজো হয় এখানে। তবে কালীপুজোর সময় বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। দেবীকে প্রতিদিন অন্নভোগ দেওয়া হয়। তবে কালীপুজোর সময় দেবীমূর্তির সামনে তন্ত্র মতে পশু বলির রীতি আছে।বর্তমানে নিয়ম রক্ষা করে প্রতি বছর মাছ বলি হয় । এছাড়া সবজি বলি দেওয়া হয়। সেই বলীর মাছ ও সবজি নিয়ে মায়ের অন্নভোগের আয়োজন করা হয় মন্দিরে।
পরবর্তীতে ভোগ বিতরণ হয়। কালীপুজোর সময়ে বিশেষ পুজো উপলক্ষে সারারাত ধরে এখানে ভক্তদের ভিড় হয়।
ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে যথা সময়ে। থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন কালী পুজোর কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – হাজার হাত কালী

কালী কথা – হাজার হাত কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সাধারণত কালী বলতেই আমরা দেবীর চতুর্ভুজা রূপের কথা ভেবে থাকি।তবে বেশ কিছু শাস্ত্রে দেবীর হাজার হাত রূপের উল্লেখ রয়েছে|
দেবীর এই বিশেষ রূপের পুজো হয় হাওড়ার এক কালী মন্দিরে।আজকের পর্বে হাওড়ায় অবস্থিত এই হাজার হাত কালীর মন্দির নিয়ে লিখবো।

চণ্ডীপুরাণের বাইশ তম অধ্যায়ে কালীর এই রূপের কথা উল্লেখ আছে|চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী, অসুর বধের সময় দেবী দুর্গা অনেক রূপ ধারন করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হাজার হাতের রূপ। কাত্যায়নী এবং মহামায়ার পরেই অসুর নিধন করতে আসেন হাজার হাত রূপী মা কালী|দেবী কালীর এই রূপটি খুব একটা জনপ্রিয় বা পরিচিত রুপ নয়, এই রূপ খুব কম কালী মন্দিরেই রয়েছে, দেবীর এই বিশেষ রূপই দেখা যায় হাওড়ার শিব পুরের এই প্রাচীন কালী মন্দিরে|

এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্টা নিয়েও একটি লোককথা প্রচলিত আছে।শোনা যায় স্থানীয় মুখোপাধ্য়ায় বাড়ির ছেলে তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মা চণ্ডীর স্বপ্নাদেশে কালীর এই হাজার হাত রূপ দেখতে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবীর এই রূপের পুজো করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন|কিন্তু এই মন্দির নির্মাণের বিপুল ব্যয় ভার বহন করার সাধ্য ছিলোনা তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বা তার পরিবারের|তবে স্বয়ং দেবী যার সহায় তার আর চিন্তা কি! আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায়ের এই ইচ্ছাপূরণের জন্য এগিয়ে আসেন স্থানীয় ধনী হালদার পরিবার এবং তাদের চেষ্টায় ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় এই মন্দির এবং দেবীর এই বিশেষ রূপ এখানে প্রতিষ্টিত হয়|এই রূপে দেবী নীল বর্ণা, বাহন সিংহের উপর তাঁর ডান পা|

এই কালী মন্দির পশ্চিম বঙ্গ এবং হাওড়া ছাড়াও দক্ষিণ ভারতীয়দের মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়, তার কারন জানতে হলে একটি অলৌকিক ঘটনা জানতে হবে।শোনা যায়, প্রায় ৬০ বছর আগে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এক শুক্রবার দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা এক দৃষ্টি হীন ব্যাক্তি এই মন্দিরে এসেছিলেন এবং তিনি হাজার হাত কালীর কাছে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন|অলৌকিক ভাবে এক বছরের মধ্যে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তার পর থেকে তিনি মায়ের মাহাত্ম্য প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ভারত জুড়ে। এখন প্রচুর দক্ষিণ ভারতীয় মানুষ এই দেবীর কাছে নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে আসেন।শ্রাবণে শুক্লপক্ষের শুক্রবারে বহু ভক্ত পুজো দেন এই
বিখ্যাত হাজার হাত কালীর মন্দিরে|

এখানে দেবী পূজিত হন তন্ত্র মতে তবে বলী প্রথা এখানে নেই এবং প্রাচীন প্রথা মেনে আজ ও মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা এখানে পুজো করে আসছেন|দৈনন্দিন পুজোর পাশাপাশি বুদ্ধ পূর্ণিমা ও দীপাবলিতে এখানে বিশেষ পুজো হয় এবং সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|

কালী কথায় কলকাতার এবং জেলার কয়েকটি প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে আপনাদের বলেছি।এই ধারাবাহিকতাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবো আজ আগামী দিনে।
চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী 

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বীরভূমের নলহাটির কাছেই আকালীপুরে আছে

মহারাজা নন্দকুমারের গুহ্য কালী মন্দির।

যদিও এই কালীমূর্তিটি তাঁর দ্বারা নির্মিত হয়নি।

তা আরো প্রাচীন।আজ সেই ইতিহাস

আপনাদের জানাবো

 

জনশ্রুতি আছে মগধরাজ জরাসন্ধ এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে বিভিন্ন রাজার হাতে পূজিত হওয়ার পর কাশীরাজ চৈত সিংহের রাজ্যের এক কৃষক তার জমিতে মূর্তিটি খুঁজে পান। সংবাদ পেয়ে চৈত সিংহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবী গুহ্যকালিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি কারন ওয়ারেন হেস্টিংসও এই মূর্তির সন্ধান পেয়ে এটিকে লন্ডনের জাদুঘরে প্রেরণে উদ্যোগী হন। মূর্তিটি ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষা করতে চৈত সিংহ সেটিকে গঙ্গাবক্ষে লুকিয়ে রাখেন।

 

বহু যুগ অতিক্রান্ত হয়।তারপর মহারাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেটিকে কাশী থেকে নিজের চেষ্টায় উদ্ধার করে নিজ জন্মস্থান বীরভূমের ভদ্রপুর গ্রামে নিয়ে আসেন। নন্দকুমার নিজে ছিলেন পরম শাক্ত ও দেবী মহাকালীর ভক্ত। তিনি ১৭৭৫ সালের গোড়ায় তিনি মুর্শিদাবাদ-বীরভূমের সীমান্তবর্তী আকালীপুর গ্রামে দেবী গুহ্যকালীর মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। তবে নির্মাণ শেষ করার আগেই বৈপ্লবিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন এবং তার মৃত্যু দ্বন্দ্ব হয়।

 

মহারাজা নন্দ কুমারের পুত্র পিতার শেষ ইচ্ছে স্বরূপ দেবী গুহ্যকালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ করেন ও নিয়মিত দেবীর পূজার ব্যবস্থা করেন।

 

গুহ্যকালী দ্বিভুজা, সর্পভূষিতা ও খড়্গহস্তা। তাকে সূর্যকালী বা গোপন কালী নামেও ডাকা হয়।

যে কোন কালী মূর্তির সাথে আমরা শায়িত অবস্থায় দেবাদিদেব মহাদেব কে দেখতে পাই‌। কিন্তু গুহ্য কালীর মূর্তির সাথে শিব শায়িত অবস্থায় থাকে না‌।সাধারণত তান্ত্রিকরাই এই দেবীর পুজো করে থাকেন। গৃহস্ত পরিবারের গৃহ মন্দিরে দেবীর পুজো হয়না সাধারনত।এটি দেবীর উগ্র এবং ভীষণ দর্শনা রূপ।

 

বহু এমন ঐতিহাসিক কালী মন্দির এবং

দেবী কালীর নানা রূপ নিয়ে আলোচনা

এখনো বাকি আছে। আবার কালী কথা

নিয়ে ফিরে আসবো।আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – রাজকুসুম গ্রামের বন কালী

কালী কথা – রাজকুসুম গ্রামের বন কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের কাঁকসার রাজকুসুম গ্রামে শাল পিয়াল গাছে ঘেরা ঘন জঙ্গলে বন কালী দেবী অধিষ্ঠান করছেন এই পুজোর সূচনা হয়েছিল আনুমানিক সাড়ে চারশো বছর আগে।আজকের কালী কথায় এই বন কালী দেবীর কথা আপনাদের জানাবো।

 

গোড়ার দিকে জঙ্গলের মধ্যেই মূর্তি এনে পুজোর আয়োজন হতো। পুজোর পুরোহিত ছিলেন স্থানীয় ভট্টাচার্য্য পরিবারের এক সদস্য। দুর্গম এই অরণ্যে সেই সময় ছিলো বন্য পশু এবং ডাকাতের ভয়।পুজোর সময়ে পুরোহিতকে রীতিমত লাঠিয়াল সাথে করে জঙ্গলে আনা হত। পুজো অনুষ্ঠিত হতো দিনের বেলায়।

 

একবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য পুজোর স্থানে পৌঁছাতে নানা বাঁধার সৃষ্টি হয়।তারপর স্বপ্নাদেশ পান পুরোহিত । দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে তার বাড়িতেই রেখে পুজো করতে বলেন।পুরোহিত দেবীর কাছে জানতে চেয়েছিল যে জঙ্গলে যে পুজো চলে আসছে সেই পুজোর কি হবে?

তার উত্তরে দেবী বলেন জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছের গায়ে দুটো চোখের আকৃতি দেখা যাবে সেই গাছেই তিনি বিরাজমান থাকবেন। সেই গাছের গোঁড়ায় মূর্তি ছাড়াই হবে পুজো।

 

সেই থেকে ভট্টাচার্য বাড়িতে দেবী অধিষ্ঠান করছেন আবার একই সাথে জঙ্গলে এক গাছে দেবীর শক্তি উপস্থিত। সেখানেও ভক্তরা এসে পুজো দেন। জঙ্গল বা বনের মধ্যে দেবী বিরাজ করছেন তাই নাম হয় বন কালী

 

সাধারণত বাংলার সব কালী মন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যা বা কালী পুজোর দিনেই বড়ো করে

কালী পুজোর আয়োজন হয় কিন্তু বর্ধমানের কাঁকশায় বন কালীর পুজো হয় কালী পুজোর পরদিন।এখানে নেই কোনো মূর্তি তার বদলে আছে গাছ এবং গাছে চোখের আকৃতিও দেখা যায়।

 

আবার এমন এক প্রাচীন কালী পুজোর ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো

কালীর কথার পরবর্তী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

কালী কথা – বর্ধমানের কল্যাণী কালী

কালী কথা – বর্ধমানের কল্যাণী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের কল্যাণী কালীমন্দিরকে কেন্দ্র করে আছে বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ যা মুলত জনশ্রুতি তাই সবার আগে বলে রাখি যে অলৌকিক ঘটনা গুলির কথা এখন বলতে চলছি সেগুলি মূলত স্থানীয় দের কাছে শোনা যার বেশি ভাগই লোক মুখে প্রচলিত কিংবদন্তী।

 

এই অঞ্চলে কান পাতলেই শোনা যায় এক ঘটনা এই মন্দিরে এক চোর চুরি করেছিল। তবে আশ্চর্য জনক ভাবে প্রণামীর অর্থ সে আর নিয়ে যেতে পারেনি। পথেই আচমকা সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চোর হলেও সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও কোনো রকমে মন্দিরে ফিরে এসে দেবী কল্যাণীকে তার প্রণামীর অর্থ ফিরিয়ে দেয় এবং ক্ষমা চেয়ে নেয় দেবীর কাছে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও পর মুহূর্তে সেরে যায় ওই চোরের রোগ । সে নিশ্চিন্তে ফিরে যায় সুস্থ শরীর নিয়ে।

 

বর্ধমানের কল্যাণী কালী মন্দিরের দেবী কালী ভক্তদের কাছে জীবন্ত কালী নামেই বেশি পরিচিত।

কারণ তাঁদের বিশ্বাস দেবী কল্যাণী আজও জীবন্ত। তিনি কালীরূপে এই মন্দিরে বিরাজিতা।

তিনি আছেন মানেই সব আছে। সব নিরাপত্তা আছে। ভয় এলে তা দূরে চলে যেতে বাধ্য।

এবং এই বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা একদিনে আসেনি

এসেছে এই সব অলৌকিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। এসেছে দেবীর ভক্তদের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি এবং নানাবিধ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে।

 

এমন আরো একটি জনশ্রুতি আছে।

শোনা যায় একবার এক মহিলা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সেই সময়ে তিনি দেবীর কাছে নিজের জীবনভিক্ষা করেন দয়াময়ী কল্যাণী কালী সেই আবেদন যেন কান পেতে শুনেছিলেন ।কিছুদিন পরে দেখা

যায় হটাৎ সেরে গিয়েছেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ওই মহিলা। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ্য শরীরে বহু দিন জীবিত ছিলেন।

 

দেবী কল্যাণী যেমন দয়াময়ী তেমনই আবার তিনি

ক্রোধ ও করেন। একবার দেবী জীবন্ত কালীর ছবি মোবাইলে বন্দি করেছিলেন কোনো এক ভক্ত সেই সময় তিনি হটাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেবীর মন্দিরে প্রণাম করে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে আরোগ্য প্রার্থনা করেন এবং সুস্থ্য হন।আজও অনেক ভক্ত অনুভব করতে পারেন যে দেবী তাঁদের আশপাশেই আছেন। আশপাশেই ঘোরাঘুরি করছেন। এভাবেই এই মন্দিরের দেবী কালী যেন বুঝিয়ে দেন।তিনি জড় বিগ্রহ নন। তিনি জীবন্ত।প্রয়োজন শুধু আস্থা আর তার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পন।তিনি পরম দয়াময়ী এবং শুন্য হাতে কাউকে ফেরান না।তাই প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো উপলক্ষে কল্যাণী কালী মন্দিরে উপচে পরে ভক্তদের ভিড়।এছাড়া প্রতিদিন দর্শণার্থীদের আনাগোনা তো লেগেই আছে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। কালী কথা নিয়ে

ধরাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। আগামী দিনে এমন অনেক অজানা অবিশ্বাস্য ঘটনা জানতে পারবেন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গঙ্গা সাগরের আদি কালী

কালী কথা – গঙ্গা সাগরের আদি কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বঙ্গোপ সাগরের মোহনায় অবস্থিত গঙ্গা সাগর দ্বীপ মুখ্যত কপিল মুনির আশ্রমের জন্য তবে এই দ্বীপে আছে এক প্রাচীন কালী মন্দির।আজকের পর্বে এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরদ্বীপ তখন তা ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। রুটি-রুজির টানে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ এই দ্বীপে এসে কাঠ ও মধু সংগ্রহ করতেন। তখন জঙ্গলের হিংস্র জীবজন্তু এবং জল দস্যু দের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে বন বিবির পুজোর পাশাপাশি একটি বটবৃক্ষের তলায় কালী পূজা করে জঙ্গলে যেতেন এলাকাবাসীরা। তখন সেই স্থানে কোনো স্থায়ী মন্দির ছিলো না।

একবার সাগরদ্বীপের এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পান। সেইমতো তিনি ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে সেই বট গাছের নিচে মন্দির তৈরি করে কালী মূর্তির প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দির ছিলো সম্ভবত এই অঞ্চলের প্রাচীনতম কালী মন্দির তাই এই মন্দির আদি কালীমন্দির নামে পরিচিত।সেই থেকে ওই মন্দিরে কালী পুজাে হয়ে আসছে। জাগ্রত এই কালীমন্দিরে মনস্কামনা জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন পুজো দিতে। প্রতিবছর কালীপুজোর দিন জাঁকজমকের সঙ্গে গঙ্গাসাগরে আদি কালীমন্দিরে পূজিতা হন মা কালী।শোনা যায় আদি কালী মন্দিরে করা মনোস্কামনা দ্রুত পূরণ হয়।

এই আদি কালী মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা রয়েছে এছাড়াও প্রতি অমাবস্যা এবং
সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বংশ পরম্পরায় সেই শুরুর দিন থেকে মায়ের সেবা করে আসছেন এখানকার পুরোহিতরা।

এমন আরো প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা বলা এখনো বাকি আছে। আবার ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।