Home Blog Page 46

শিব তীর্থ – বড়ো কাছারি শিব মন্দির

শিব তীর্থ – বড়ো কাছারি শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব রাত্রি উপলক্ষে আজ আরো একটি শিব তীর্থের মাহাত্ম এবং ইতিহাস নিয়ে

আলোচনা করবো।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এক প্রাচীন শিব মন্দির বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত।কিছুদিন আগে নিজে গেছিলাম এই শিব তীর্থ দর্শন করতে। অপূর্ব সেই অভিজ্ঞতা।

 

এই মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন।এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে|

 

কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে,জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে, সুতরাং তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|

 

আজও প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না|সময় সুযোগ হলে একদিন ঘুরে আসুন এই বিখ্যাত শিব মন্দির থেকে|

 

আবার বাংলার এক প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – রসুনিয়ার ডাকাত কালীর পুজো

কালী তীর্থ – রসুনিয়ার ডাকাত কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বর্ধমানের মঙ্গল কোটে রয়েছে প্রাচীন এক ডাকাত কালী মন্দির। প্রায় তিনশো বছর ধরে এখানে
ডাকাত সর্দার শক্তি ডোম প্রতিষ্ঠিত কালী
মূর্তির পূজ হয়ে আসছে। আজকের কালী তীর্থে এই ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস
আপনাদের জানাবো।

মঙ্গলকোটের রসুনিয়া গ্রামে বসবাস করতেন
শক্তি ডোম। দিনের বেলা তিনি নানা রকম খেলা দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন আবার রাতের অন্ধকারে তিনিই চালাতেন বেপরোয়া ডাকাতি। তাঁর লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে উঠেছিল মঙ্গলকোটের ত্রাস।ডাকাতির পাশাপাশি চলতো শক্তি ডাকাতের মাতৃ সাধনা।

বন জঙ্গলে ঘেরা রসুনিয়া গ্রামে পঞ্চমুণ্ডির আসন তৈরি করে মাকালীর উপাসনা করতেন ডাকাত সর্দার।সেই রসুনিয়ার কালী মন্দিরে আজও আছে পঞ্চমুণ্ডির আসন।তবে আজ আর সেই ডাকাত নেই।গ্রামের মানুষ আজও চালিয়ে যাচ্ছেন
শক্তি ডোমের আরাধ্য কালীর পুজো।

এখন এই কালীপুজোই রসুনিয়া গ্রামের মূল উৎসব। পুজো ঘিরে আনন্দে ভরে ওঠে গোটা গ্রাম।
জনশ্রুতি আছে একবার কালীপুজোর রাতে গ্রামের উপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পরই দেবীর ঘট আনা হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দিরের পূর্বদিকে জানালা থাকা আবশ্যিক। কারণ আগে মাটির মন্দির তৈরির সময়, তার পূর্বদিকে জানালা না করায় সেই মন্দিরটি ধসে পড়ে যায়। পরবর্তীকালে পূর্বদিকে জানালা রেখে বড় পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়।

এই পুজোয় নিশিভোরে হয় কালীর পুজো। এখানে দেবীর আরতির প্রচলন নেই। তবে শক্তি ডোমের প্রথা মেনে আজও ছাগবলির রীতি রয়েছে।শোনা যায়, আগে প্রতি অমাবস্যার রাতে মন্দিরের কাছ থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যেত। ওই সময় মা কালী বেরিয়ে আসতেন বলেই স্থানীয়দের বিশ্বাস। এখন প্রতি অমাবস্যায় মায়ের ভোগ দেওয়া হয়।

আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো
একটি কালী তীর্থ নিয়ে থাকবে অন্য একটি
প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – চুঁচুড়ার বামা খ্যাপার প্রতিষ্ঠিত কালী

কালী তীর্থ – চুঁচুড়ার বামা খ্যাপার প্রতিষ্ঠিত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার হুগলি জেলার চুঁচুড়ার রয়েছে সত্যময়ী কালী মন্দির। এই মন্দির নিয়ে আছে একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।স্বয়ং বামা ক্ষ্যাপা এই মন্দিরে দক্ষিনা কালী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আজকের কালী তীর্থ পর্বে এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

চুচুড়ার বিখ্যাত দাসী পিসির গঙ্গার ঘাট

যার নামে তার প্রকৃত নাম সত্যময়ী দেবী। তিনি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন এই গঙ্গার ঘাট সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কালী মন্দির।

বিগ্রহ নিমকাঠের তৈরী ।

 

বাংলার ১২৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই মূর্তি।

যেহেতু এই বিগ্রহ সত্যময়ী দেবী নিজের বাড়িতে তৈরি করিয়েছিলেন।তাই এলাকাবাসীর কাছে এই মূর্তি পরিচিতি পায় সত্যময়ী কালী নামে।

 

বহু কাল আগে সত্যময়ী দেবী ও স্থানীয় এক কারিগর একইসময়ে পেয়েছিলেন দেবীর স্বপ্নাদেশ।সত্যময়ী দেবী স্বপ্নাদেশ পান যে গঙ্গায় ভেসে আসবে নিম কাঠ। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাঠটি গঙ্গা থেকে তুলে এনেছিলেন সত্যময়ী দেবী।কারিগর কে স্বপ্নে বলা হয়েছিল যে গঙ্গায় ভেসে যাওয়া নিমকাঠ নিয়ে দেবী মূর্তির গড়ে দিতে হবে। সেই মতো কারিগর এসে খোঁজ নেন সত্যময়ী দেবীর বাড়িতে। যা শুনে সত্যময়ী বুঝতে পারেন যে সব দেবীরই অলৌকিক লীলা। সেই মতো সূর্য অস্ত্র যাওয়ার আগে তৈরি করা হয়েছিল এই দেবীমূর্তি।দেবীর নির্দেশ মতো পারিশ্রমিক নেয়া হয় নয় টাকা মাত্র।

 

মন্দির তৈরী এবং প্রতিমা নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরে বীরভূম থেকে সাধক বামা ক্ষেপা কে আনিয়ে এখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়।বামাক্ষ্যাপা এখানে

দেবীর ঘটও প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। সেই ঘট আজও এই বাড়ির মন্দিরে অবিকৃত অবস্থায় আছে।

 

আজও পুরোহিত হিসেবে বংশপরম্পরায় থাকেন পরিবারেরই এক সদস্য।

ভক্তদের দাবি এই দেবীর কাছে করা যেকোনো

প্রার্থনা দেবীর আশীর্বাদে পূরণ হয়।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। কালী তীর্থর নতুন

পর্ব নিয়ে। থাকবে অলৌকিক ঘটনায় ভরা একটি দেবী মন্দিরের মাহাত্ম।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – মহা কালীর পুজো

কালী তীর্থ – মহা কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলা পুন্য ভূমিতে দেবীকালী বিভিন্ন রূপে বিরাজ করছেন বিভিন্ন স্থানে।কোথাও তিনি শ্মশান কালী আবার কোথাও তিনি ভবতারিণী আজ আপনাদের যে দেবীর কথা বলবো তিনি দেবী মহা কালী। জানবো এই ভিন্ন তবে শাস্ত্র সম্মত দেবী রূপের পুজোর ইতিহাস।

দেবীর এই রূপে পূজিতা হন মালদার ইংরেজ বাজার এলাকায়।তখন ১৯৩০ সাল, দেশে তখন শাসন করছে ইংরেজরা। মালদহে চরম অত্যাচার চালিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।ব্রিটিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষজন বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন নিজেদের মধ্যে শক্তি আর সাহস বৃদ্ধি করতে শুরু হয় এই মহাকালীর পুজো।

দেবীর ১০ মাথা, ১০ হাত এবং ১০ পা রয়েছে। প্রতিমায় শিবের কোন অস্তিত্ব নেই। দেবীর পায়ের তলায় রয়েছে অসুরের কাটা মুণ্ডু।কিছু ধর্ম শাস্ত্রে এই রূপের উল্লেখ থাকলেও দেবীর এই রূপের পুজোর প্রচলন খুব একটা হয়নি।শোনা যায় বিহারের বিন্দুবাসিনীতে পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন যুগে খোদাই করা রয়েছে এই মূর্তি।এছাড়া এই মূর্তির অস্তিত্ব খুব একটা কোথাও চোখে পড়েনা।

এখানে কালী পুজোর কিছু রীতি নীতি বেশ অদ্ভুত। আজও প্রথা মেনে দিনের আলোয় পূজিতা হন দশ মাথা কালী। বলি প্রথা আজও আছে এবং শোল মাছের টক বিশেষ প্রসাদ হিসেবে চলে আসছে বহু দিন থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে যেখানে মহাকালীর মন্দির রয়েছে, সেখানে তন্ত্র সাধনা করতেন এলাকার এক তন্ত্র সাধক।সাধনার জন্য তৈরি করেন পঞ্চমুণ্ডির আসন। সেই আসনের ওপরে দেবীর বেদি নির্মিত হয়েছে। আজও তন্ত্র মতেই দেবীর পুজো হয়।

প্রতিবছর কালী পুজোয় প্রথা মেনে এখানে শোভাযাত্রা সহকারে মন্দির পর্যন্ত মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। দেবীর পুজো দেখতে আসেন দূর দূরান্তর মানুষ।দেবী এখানে উগ্র রূপে বিরাজ করলেও তার ভক্ত দের কাছে তিনি অত্যন্ত দয়াশিলা এবং বহু মানুষের বহু মনোস্কামনা এখানে পুজো দিয়ে পূরণ হয়েছে বলে শোনা যায়।

আবার ফিরে আসবো পরের পর্বে।কালী তীর্থ
থাকবে অন্য এক কালী তীর্থের ইতিহাস।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – ঝুপো কালীর পুজো 

কালী তীর্থ – ঝুপো কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের কাটোয়াতে রয়েছে এক বহু প্রাচিন

ডাকাত কালী মন্দির যা ঝুপো কালী নামেই

বেশি প্রসিদ্ধ। আজকের কালী তীর্থ পর্বে

এই ঝুপো কালী নিয়ে লিখবো।

 

সে প্রায় তিনশো বছর আগের কথা।সেই সময় এই অঞ্চল ছিলো ডাকাত,বিষধর সাপ এবং দুর্ধর্ষ ডাকাতদের দখলে।সারাদিন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকত ডাকাতরা তারপর রাতের অন্ধকারে

গ্রামে হানা দিয়ে লুঠ করে আনত যা পেত। সে সময় ওই দস্যুরাই নিমগাছের কাছে কালীপুজো শুরু করে।দেশ স্বাধীন হয়। স্থাপিত হয় আইনের রাজত্ব।এক সময় শেষ হয় দস্যুদের দাপট। গাছপালার জঙ্গল কেটে ওঠে কংক্রিটের জঙ্গল। তবে দস্যুদের পূজিত নিমগাছটি কাটা পড়েনি। আজও ওই গাছ পুজো পেয়ে আসছে ‘ঝুপমা’ রূপে।

 

প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন সেই নিমগাছকে আজও কালী জ্ঞানে পুজো করে আসছেন কাটোয়ার এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। এই গাছকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে মন্দির। যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে দেবীর ভক্তের সংখ্যা। ‘ঝুপো মা’ বা ‘ঝুপো কালী’ নামে পূজিত এই কালীর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে।

 

এমনিতে সারা বছর ধরেই চলে পুজো পাঠ। তবে দেবীর আবির্ভাব তিথি ও কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজো পাঠের আয়োজন করা হয়। আলো দিয়ে সাজানো হয় মন্দির চত্বর। ধুমধাম করে চলে পুজো পাঠ। বিসর্জনের দিন হাজার হাজার ভক্ত প্রসাদ গ্রহন করেন।

 

এখানে ঝুপো কালীর কোনও মূর্তি নেই। প্রাচীন নিমগাছটিই স্বয়ং কালী। নিমগাছের গোড়ার অংশে তৈরি হয়েছে বেদি। গাছের গুঁড়িটি ফুল মালা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মাথার মুকুট থেকে হাতের খড়গ, সবই সাজানো থাকে গাছটিকে ঘিরেই।দেবীর কোনও মূর্তি না থাকায় বিসর্জনও হয় না ঝুপমায়ের। তবে প্রাচীন নিমগাছটির বাঁধানো ছবি নিয়ে শোভাযাত্রা বার করা হয় বিসর্জনের সন্ধেবেলায়।বহু বছর ধরে এই রীতিই

চলে আসছে।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী কালী তীর্থ নিয়ে।

আগামী পর্বে। থাকবে আরো একটি

প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিশেষ পর্ব : বিপ্লবীদের কালী পুজো

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

বিপ্লবীদের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

 

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে আজ

আলোচনা করবো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একটি কালী পুজো নিয়ে যে পুজোর সাথে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস।

 

এককালে স্বাধীনতা সংগ্রামী দের সঙ্গে থাকতো গীতা। স্বামী বিবেকানন্দর বই এবং আনন্দ মঠ।তারা অনেকেই কালী পুজোয় করতেন। মাতৃ আরাধনার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে দেশমাতৃকার পরাধীনতা ঘোচানোই ছিলো প্রধান উদ্দেশ্য।

 

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু যখন কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার কালী পুজো নিয়ে বাস্তু তখন

জেলায়র বিপ্লবীরা কালী পুজো শুরু করেন।সালটা ১৯৩৯।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন জ্বলছে সারা দেশে। মেদিনীপুরে আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছেনবিমল দাশগুপ্ত, কিষাণ সাহা। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বহু তরতাজা প্রাণ।মেদিনীপুর শহরের কাছেই লাল দীঘি।দুধারে আদিবাসী জনবসতি,শ্মশান আর ঝোপঝাড়। সেখানেই ছিল বিমল দাশগুপ্তদের গুপ্ত ডেরা। আনাগোনা লেগে থাকতো তরুণদের। গোপনে চলতো ভারতমাতার সন্তানদের দীক্ষা দেওয়া। সেসময়ই বাঁদিকে এক জায়গায় গড়ে তোলা হোল অস্থায়ী বেদী। ঘট প্রতিষ্ঠা করা হলো দেবী কালীর। সামনে চলতে থাকল দেবীরপুজো আর গোপনে অস্ত্র শিক্ষা।

 

পুজো আর শুধু পুজো ছিলোনা। হয়ে উঠেছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মিলন স্থল। সেখানে মিলিত হতেন বিপ্লবীরা। তৈরী হতো পরিকল্পনা। থাকতো অগ্নি গর্ভ ভাষণ। যা আরো অনেক তরুণকে বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতো। সেই সময়ে ব্রিটিশ পুলিশ ও নজরদারি করতো এই সব পুজোয় তবে ধর্মীয় কারণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারতো না।

 

স্বাধীনতা পাওয়ার পরও বিমল দাশগুপ্তরা নিয়ম করে আসতেন এই স্থানে। স্বাধীনতার পরে ১৯৬৮ সালে দক্ষিণাকালী প্রতিমা উপাসনার সূচনা। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় পুজোর সময় এখন বড়ো করে পুজো হয় শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্ৰামিদের।সারা বাংলায় এমন বহু পুজো আছে যা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শুরু করেছিলেন

এবং আজও চলছে।

 

আবার কালী তীর্থ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। থাকবে অন্য একটি কালী পুজোর কথা। শুভ প্রজাতন্ত্র দিবস। জয় হিন্দ।

মৌনী অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

মৌনী অমাবস্যার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী ২৮ এ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যা।

আমাদের তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে এই মৌনী অমাবস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|আজ আপনাদের জানাবো মৌনী অমাবস্যার প্রকৃত অর্থ এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|

 

পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসে মহা শিব রাত্রির আগের শেষ অমাবস্যাই হলো মৌনী অমাবস্যা ৷ অর্থাৎ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাই মৌনী অমাবস্যা।মৌনী অমাবস্যা তিথিতেই জন্মে ছিলেন মহান ঋষি মনু বলা হয় ঋষি মনুর নাম থেকেই মৌনী অমাবস্যা নামকরন|শাস্ত্র মতে মৌনী অমাবস্যার এই বিশেষ দিনেই সূচনা হয়েছিল দ্বাপর যুগের|

 

সংস্কৃতে মৌন শব্দের অর্থ হলো “যে কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না অর্থাৎ যে চুপ অর্থাৎ নিস্তব্ধ অবস্থায় থাকে ” অন্যদিকে নিঃশ্বব্দ কথার অর্থ হলো” বিশ্বভ্রমান্ডের নিঃসীম শুন্যতাকে যদি জানতে হয় এবং ঈশ্বরের স্বরূপ যদি অন্তরে উপলব্ধি করতে হয় তবে হতে হবে মৌন|এই উদ্দেশ্যে মৌনী অমাবস্যার এই তিথিতে সাধকেরা মৌনব্রত পালন করে থাকেন শাশ্বত জ্ঞানকে উপলব্ধি করতে প্রকৃত সাধক এই তিথিতে মৌন ব্রত পালনের মাধ্যমে কুন্ডলিনী জাগ্রত করতে পারেন এবং অসীম শক্তির অধিকারী হতে পারেন তাই যুগ যুগ ধরে তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে মৌনী অমাবস্যা একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে|

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিন টির আলাদা তাৎপর্য আছে, এদিন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করে ৷প্রায় একমাস ধরে সূর্য এই অবস্থানে থাকে এবং অন্যদিকে চাঁদ থাকে আড়াই দিন|চন্দ্র ও সূর্যের এই অবস্থান ও রাশি পরিবর্তন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে নানান ভাবে|

 

আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে এই মৌনী অমাবস্যার পূণ্য তিথিতে মৌনব্রত পালন করলে জীবনের সব আকাঙ্খা, মোহ এবং ইন্দ্রিয়কে নিজের অধীনে রাখা যায় এমনকি এই তিথিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে একজন সাধক জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্তি লাভ করে মোক্ষ লাভ ও করতে পারেন|

 

বহু মানুষের বিশ্বাস এই তিথিতে স্বর্গের দেবতারা নেমে আসেন মর্তে এবং প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনা-স্বরস্বতীর মিলনস্থল ত্রিবেনীসঙ্গমে পূণ্য স্নান করেন|

 

নিজেদের কর্মফল থেকে মুক্তি লাভের আশায় ত্রিবেনী সহ দেশের বিভিন্ন নদী সঙ্গমে স্নান করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ|শাস্ত্র মতে মৌন ব্রত পালন করে, অমাবস্যায় যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে মানব জীবনের বহু জন্মের পাপ ধুয়ে যায়|এদিন নৈঃশব্দ্য পালন করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং রোগমুক্তি ঘটে|শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য মৌনী অমাবস্যা আদৰ্শ তিথি।

 

আগামী পর্বে ফিরে আসবো প্রজাতন্ত্র

দিবস উপলক্ষে বিশেষ পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – বড়ো দেবীর পুজো

কালী তীর্থ – বড়ো দেবীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের কালী তীর্থে কোচবিহারের বড়ো দেবীর পুজোর কথা জানাবো যে পূজোর বয়স প্রায় পাঁচশো বছর।

শতাধিক বছর আগে কোচবিহার রাজ বংশের অন্যতম রাজা মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে ওই এই দেবীকে দেখেছিলেন সেই রূপেই আজও এখানে পূজিত হন দেবী।

প্রথাগত প্রতিমার থেকে এই প্রতিমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেবী রক্তবর্ণা এবং উগ্ররূপে তিনি বিরাজ করছেন । সঙ্গে থাকেন দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। দেবীর বাহন বাঘ এবং সিংহ উভয়।

তবে একদম শুরুতে দেবীর এই রূপ ছিলোনা।
প্রায় পাঁচশো বছর আগে এই রাজ বংশের বিশ্ব সিংহ এবং তাঁর ভাই শীষ্য সিংহ খেলার ছলে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। ময়নার ডালকেই দেবীরূপ দিয়ে পুজো করেন তাঁরা।
পরবর্তীতে সেই কাঠ ‘বড় দেবী’র মন্দিরে এনে, তাকে কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে তার উপর শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ।

একবার রাজা বিশ্ব সিংহ খেলার ছলে এক সাথীকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের মাথা আলাদা হয়ে যায় ধড় থেকে। সেই মাথা দেবীকে নিবেদন করেন বিশ্ব সিংহ। সেই থেকেই এক অদ্ভুত রীতির প্রচলন হয় পুজোয় তা হলো দেবীকে রক্ত দান।
‘বড় দেবী’র পুজোয় একফোঁটা হলেও প্রাণীর রক্তর প্রয়োজন হয় এবং আজও নাকি তাজা রক্ত সংগ্রহ করে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।

বর্তমানে পুজোর আয়োজন করে রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট। আজও পুজোতে পশুবলি হয়। অষ্টমীতে মহিষ, দশমীতে শূকর বলির প্রথা চালু রয়েছে এখনও।
তান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমগ্র পুজো পরিচালিত হয়।

এখানে দূর্গা পুজোয় ধুম ধাম করে দেবী আরাধনা হয় এবং বিসর্জনের সময় যমুনা দীঘিতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী প্রতিমা যা খণ্ডিত করে বিসর্জন দেওয়া হয়।

বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী তীর্থ ।
অন্য একটি কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নেতাজী জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব : নেতাজীর কালী পুজো

নেতাজী জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

নেতাজীর কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ নেতাজীর জন্মদিন সাধারণ আজকের দিনে নেতাজীর দেশ প্রেম এবং স্বাধীনতা সংগ্ৰামের ইতিহাসে তার অবদান সম্পর্কে আলোচনা হয়। আজ তার জন্মদিনে তার চরিত্রের একটি বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করবো।শৈশব থেকেই নেতাজীর মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটে ছিলো। বাড়িতে দূর্গা পুজো এবং কালী পুজোয় অংশ নেয়ার পাশাপাশি একাধিক বারোয়ারি কালী পুজোয় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন তার মধ্যে দুটি কালী পুজো সম্পর্কে আজকের পর্বে লিখবো।

 

নিউ দিল্লি কালীবাড়ি বা মন্দির মার্গের কালীবাড়ি দিল্লীর অতি পরিচিত কালী পুজো । রাজধানী দিল্লির সবচেয়ে পুরনো এই কালীপুজো প্রায় ১০০ বছরের দোরগোড়ায়। কর্মসূত্রে কলকাতা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে দেশের নতুন রাজধানী দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন তৎকালীন বাঙালিবাবুরা।তারাই এই কালী পুজো শুরু করেন ১৯৩০ সালে সেই প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরেই প্রথম পুজো হয়।এই পুজো কমিটির প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৩৫ সালে নেতাজির হাত ধরে স্থাপিত হয় পুজো কমিটি।

দিল্লীতে থাকলে তিনি স্বতস্ফূর্ত ভাবে কালী পুজোয় অংশ নিতেন।আজও এই কালী পুজো নেতাজীর কালী পুজো নামে প্রসিদ্ধ।

 

শোনা যায়, প্রাক্‌-স্বাধীনতার যুগেও দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিযোদ্ধা বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি ছিল এই কালীবাড়ির প্রাঙ্গণ। পুজো কমিটির প্রথম প্রেসিডেন্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মন্দির প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা ডাক দিয়ে দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে ছিলেন।

 

বাংলার একটি বারোয়ারি কালী পুজোর সাথেও নেতাজীর নাম জড়িয়ে আছে।নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একসময়ে ছিলেন পাথুরিয়াঘাটা বড় কালী পুজোর প্রেসিডেন্ট।

 

পাথুরিয়াঘাটা বড় কালী পুজোর সূচনা ১৯২৮ সালে। ১৯৩০ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন নেতাজি। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বিখ্যাত লাঠিয়াল অতুল কৃষ্ণ ঘোষ ছিলেন এই পুজোর প্রবর্তক। স্বদেশীদের শক্তি উপাসনার হাত ধরেই এই কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল যেখানে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু।

 

এই পুজো নিঃসন্দেহে কলকাতার বৃহত্তম কালী পুজো।প্রতিমার উচ্চতা ৩২ ফুট। মায়ের রুপোর খাঁড়ার দৈর্ঘ্য হল ৬ ফুট। সোনা ও রূপো মিলিয়ে কালী ঠাকুরের গায়ে থাকে ৭৫ কেজির অলঙ্কার। পুজোর পরের দিন অন্নকূট উৎসবে প্রায়

দেড় হাজার দরিদ্র নারায়ণের সেবার চল রয়েছে এখানে।

 

আজকের পর্ব দেশনায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং প্রণাম জানিয়ে শেষ করছি। ফিরে আসবো কালীতীর্থ নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – রঙ্কিনী দেবীর মন্দির

কালী তীর্থ – রঙ্কিনী দেবীর মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জামশেদপুরের কাছে এক পাহাড়ি উপত্যকায় রয়েছে রঙ্কিনী দেবীর মন্দির।এই মন্দিরকে ঘিরে থাকা কিছু অলৌকিক ঘটনা বা জনশ্রুতি নিয়ে আজকের পর্ব।

 

জনশ্রুতি অনুসারে মাতা রঙ্কিণী এই অঞ্চলের বনে জঙ্গলে বাস করতেন এবং তিনি এই দুর্গম অরণ্যের রক্ষাকতৃ ছিলেন।স্থানীয় আদিবাসীরা তাকে খুব মান্য করতো। তবে তার মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয় অনেক পরে। শোনা যায় একবার এক স্থানীয় আদিবাসির মেয়ে সন্ধ্যার পর জঙ্গলে পথ হারায় এবং এক অপদেবতার খপ্পরে পরে। দেবী রঙ্কিনি তখন আবির্ভূত হন এবং মেয়েটিকে রক্ষা করেন।

তারপর জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যান।সেই রাতেই ঐ মেয়েটির বাবাকে দেবী রঙ্কিণী স্বপ্নাদেশ দিয়ে দেবীর একটি মন্দির তৈরি করতে বলেন।

 

ঠিক কোন সময়ে মূল মন্দিরটি তৈরি হয়েছে তা জানা যায়না । তবে মন্দিরের বর্তমান যে রূপ আমরা দেখতে পাই, তা তৈরি হয়েছে দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর পর । অনেকের কাছে মা রঙ্কিনী দেবী কালীর একটি রূপ আবার পূর্ব ভারতের বিভিন্ন উপজাতির কাছে তিনি তাদের আঞ্চলিক বা লৌকিক দেবী।

 

আবার একটি প্রাচীন কিংবদন্তি অনুসারে বহুকাল আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি একটি আদিবাসী মেয়েকে দেবীর রূপ ধারণ করে জঙ্গলে একটি রাক্ষসকে হত্যা করতে দেখতে পান। আদিবাসী লোকটি মেয়েটিকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু মেয়েটি জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যায়। রাতে দেবী সেই ব্যাক্তির স্বপ্নে আবির্ভূত হন তিনি তাকে তার একটি মন্দির নির্মাণের পরামর্শ দেন।স্থানীয় ভূমিজ নামের উপজাতিদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে দেবী নিজেই সেই রাক্ষসকে হত্যা করেছেন তাদের রক্ষা করতে এবং দেবী এখানে তাদের রক্ষাকত্রী রূপে বিরাজ করতে চেয়ে মন্দির নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে ছিলেন।

 

শোনা যায় এই মন্দির থেকে কেউ আজ অবধি খালি হাতে ফেরেনি। মা রঙ্কিনী সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করেছেন। পাহাড়ি দুর্গম রাস্তা দিয়ে পৌছাতে হয় দেবীর মন্দিরে।মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনো মূর্তি নেই। একটি পাথরকে দেবীরূপে পূজা করা হয়।মূল মন্দিরের দুই পাশে রয়েছে আরও দুটো মন্দির। ডানপাশে রয়েছে শিবমন্দির এবং বামপাশের মন্দিরে রয়েছে গণেশের মূর্তি।

 

ফিরে আসবো আরো এমন সব অজানা

এবং রহস্যময় কালী মন্দিরের ইতিহাস সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।