Home Blog Page 45

শিব তীর্থ – নর্তকেশ্বর শিব

শিব তীর্থ – নর্তকেশ্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের নটরাজ রূপের পুজো বাংলায় খুব একটা হয়না ঠিকই তবে পূর্বভারতে একসময় ‘নর্তকেশ্বর’ নামক নৃত্যরত শিবমূর্তির পূজা প্রচলিত ছিল।আজকের পর্বে আপনাদের এমনই

এক শিবমূর্তির ইতিহাস জানাবো।

 

দশম শতকের শেষভাগে পালবংশের রাজা যখন মহীপাল। তখন বাংলা আক্রমণ করলেন সে যুগের ভারতবর্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা চোলরাজ রাজেন্দ্র।চোলরাজ রাজেন্দ্র ছিলেন শিব ভক্ত ।

তাই তার সেনাবাহিনী সোনাদানা বা মূল্যবান রত্ন ছাড়াও বঙ্গবিজয়ের আরও একটি স্মারক নিয়ে যান নিজের রাজ্যে। সেটি হল, নর্তকেশ্বরের বিগ্রহ।

সেই অদ্ভুত সুন্দর শিব মূর্তি দেখে অত্যান্ত খুশি হন চোল রাজা। তার ইচ্ছায় তামিলনাড়ুর অমৃতঘটেশ্বর মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন বাংলার শিবঠাকুর।

 

সেই মূর্তি ছিলো শিবের নৃত্যরত রূপের

যাকে বলা হতো নর্তকেশ্বর শিব।এই নর্তকেশ্বর শিব মূর্তি মূর্তি মূলত দুইপ্রকার। দশভুজ নর্তকেশ্বর এবং দ্বাদশভুজ নর্তকেশ্বর।দুটি মূর্তিই অত্যান্ত দুর্লভ।বাংলা থেকে নিয়ে যাওয়া সেই শিব মূর্তি ছিলো দশভুজ নর্তকেশ্বর।

 

অপূর্ব সেই ধাতব বিগ্রহ বৃষরূপী নন্দীশ্বরের পৃষ্ঠে ললিত তাণ্ডবে মত্ত নর্তকরাজ, তাঁর বাহনটি ঊর্ধ্বমুখ হয়ে দেখছে সেই নৃত্যলীলা। মহেশ্বরের মাথায় জটামুকুট, স্কন্ধে নাগ-উপবীত তাঁর মুখ্য দক্ষিণহস্তে রয়েছে গজহস্ত মুদ্রা, বাম হাত উপরে তুলে পতাকামুদ্রায় তার ভক্তদের অভয় দিচ্ছেন। অন্য আটটি হাতে রয়েছে ধনুর্বাণ, খড়গ-চর্ম, ত্রিশূল, খট্টাঙ্গ, কপালপাত্র আর অঙ্কুশ।

তাঁর পায়ের কাছে, তাঁকে ঘিরে রয়েছেন গণপতি, স্কন্দ এবং অন্যান্য অদ্ভুতদর্শন শিবানুচরের দল। মহাদেবের প্রভামণ্ডলের দক্ষিণাংশে শূন্যে মরালপৃষ্ঠে বিরাজ করছেন বীণাধারিণী সরস্বতী, ঊর্ধ্বভাগে হাতে পুষ্পমালা নিয়ে ভেসে রয়েছেন দুই বিদ্যাধর।

 

এমন ধরণের নর্তকেশ্বর রূপে শিব মূর্তি প্রাচীনকালে বাংলার আরো অনেক স্থানে দেখা যেতো তবে বর্তমান সময়ে এই মূর্তি বাংলায় খুব একটা দেখা যায়না। বাংলার নর্তকেশ্বর শিব মূর্তির একটি বৈশিষ্ট ছিলো দুইপাশে দণ্ডায়মানা দুই দেবী দক্ষিণভাগে মকরবাহিনী গঙ্গা এবং বামভাগে সিংহবাহিনী উমা।এই মূর্তির দর্শন পাওয়া খুবই সৌভাগ্যের বিষয় কারণ অতি দুর্লভ এই

শিব মূর্তি।

 

বাংলার শিব মূর্তি এবং শিব মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্ব

গুলিতে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব তীর্থ – দক্ষিনেশ্বরের বুড়ো শিব

শিব তীর্থ – দক্ষিনেশ্বরের বুড়ো শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিনেশ্বর লাগোয়া গঙ্গার ধারে রয়েছে এক অতি প্রাচীন শিব মন্দির যার প্রতিষ্ঠা কাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না তবে মনে করা হয় এই শিব লিঙ্গ ২০০০ বছর পুরোনো। আজকের পর্বে এই প্রাচীন শিব লিঙ্গ প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

বাংলার তখন হোসেন শাহর শাসন চলছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী এক ব্রাহ্মনকে বাবা মহাদেব স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন আমি বহু দিন জঙ্গলে অযত্নে আছি। আমাকে মন্দির নির্মাণ করে পুজো করো। পরদিন সেই স্বপ্নের কথা জানাজানি হয়। অনেক খোঁজার পরে আরিয়াদহর কাছে জঙ্গলে এই শয়ম্ভু শিব লিঙ্গ পাওয়া যায় এবং মন্দির

স্থাপন করে পুজো শুরু হয়।

 

পরবর্তীতে বান রাজাদের আমলে নতুন করে মন্দির তৈরী হয়। শিবের স্বপ্নাদেশেই সেই মন্দিরে চূড়া রাখা হয়নি।পরবর্তীততে একাধিকবার এই মন্দির সংস্কার করা হয় এবং মন্দিরের উত্তর দিকে একটি বানলিঙ্গ স্থাপিত করা হয়।

 

শোনাযায় একবার ব্রিটিশ আমলে বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিং এই শিব লিঙ্গ তুলে গঙ্গায় ফেলে দিতে চেয়ে ছিলেন কিন্তু বহু খোঁড়াখুঁড়ি করেও এই শিব লিঙ্গের তল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ব্যার্থ হয়ে সেই সময় ওয়ারেন হেস্টিং ফিরে গেছিলেন।

 

এই শিব লিঙ্গকে দক্ষিনেশ্বর শিব লিঙ্গ বলা হতো। এবং মনে করা হয় এই শিবের নামেই এই স্থানের নাম হয় দক্ষিনেশ্বর।আজও প্রতি শ্রাবন মাসে এবং শিব রাত্রিতে এখানে বিশেষ পুজো হয়।

 

আবার ফিরে আসবো শিব তীর্থ নিয়ে। শিব রাত্রি উপলক্ষে শিব মাহাত্ম এবং শিব মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা।

চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব তীর্থ – মুকুটেশ্বর শিব 

শিব তীর্থ – মুকুটেশ্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে বাংলার আরো একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরের মহিমা বর্ণনা করবো।মুর্শিদাবাদের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রাচীন শিব মন্দির মুকুটেশ্বর শিব যার ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয়

গুরুত্ব অপরিসীম।

 

ঠিক কবে মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট তথ্য বর্তমান সেবায়েতদের কাছে নেই। এমনকি প্রবীণদের‌ও সেই উত্তর অজানা। কথিত আছে প্রায় দুশো বছর আগে বাঘডাঙার রাজা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

এই মন্দির নির্মাণ নিয়ে রোমাঞ্চকর এক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।শোনা যায় আগে মসড্ডা গ্রামের মাঝামাঝি জায়গা ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। সেই সময়ে মুকুট ঘোষ নামে গ্রামের এক গো পালক তার হারানো গরু খুঁজতে গিয়ে জঙ্গলে ঢুকে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পান তিনি দেখেন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজে থেকেই দুধ দিচ্ছে ওই গরুটি। এতো দুধ দিয়েছে যে সেই এলাকার মাটি ভিজে গেছে।মুকুট ঘোষ বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে পরেরদিন একা একা জঙ্গলের মধ্যে গিয়ে তার গাইয়ের দুধে ভিজে ওঠা জায়গাটা খুঁড়তে শুরু করেন।সেখানে তিন ফুট গভীর গর্ত খোঁড়ার পর তিনি দেখতে পান একটি শিবলিঙ্গ। সেই রাতে তিনি স্বপ্নদেশ পান যে ওই স্থানে একটি মন্দির নির্মাণ করতে হবে এবং মন্দিরের নাম হবে মকুটেশ্বর।

 

যে সময় মুকুট ঘোষ স্বপ্নাদেশ পান সেই সময়ে অদ্ভুত ভাবে মুর্শিদাবাদের কান্দি রাজপরিবারের এক সদস্য‌ও স্বপ্নাদেশ পান যে মন্দির গড়ার জন্য অর্থ যোগান দিতে হবে। নির্দেশ মতো রাজ পরিবারের অর্থে মন্দির নির্মাণ হয়।সেই সময় থেকে মকুটেশ্বর মন্দিরের পুজো শেষে প্রসাদ সেই রাজপরিবারে নিয়ে যেতে হত সেবায়েতদের।আজও সব রীতি আগের মতনই আছে।

শ্রদ্ধা এবং ভক্তিআছে অটুট।

 

এই মন্দিরে করা সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয় এমনটাই স্থানীয়দের বিশ্বাস।শ্রাবণ মাসের সোমবার এবং বিভিন্ন বিশেষ দিনে শিব ভক্তরা আসেন মন্দিরে পুজো দিতে।শিব রাত্রি এবং চৈত্র

মাসেও বহু মানুষের ভিড় হয় এছাড়া

নীল ষষ্ঠীতে বিশেষ পুজো এবং উৎসব হয়।

 

আবার ফিরে আসবো শিব তীর্থ নিয়ে

আগামী পর্বে। এখনো বাংলার বহু প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা

বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ

শিব তীর্থ – অচলেশ্বর শিব

শিব তীর্থ – অচলেশ্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে শুরু করছি দেশের প্রসিদ্ধ শিব তীর্থ গুলি নিয়ে আলোচনা।আজকের পর্বে বলবো একটি রহস্য ময় শিব মন্দির নিয়ে তবে তার আগে শিব তত্ত্ব নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।

 

শিব দেবতাদের আরাধ্যা কিন্তু তিনি তাহলে সর্বদা কার ধ্যান করেন?সনাতন ধর্মে দেবতা ও দেবী কয়েক কোটি হতে পারে কিন্তু ভগবান একজনই তিনি কৃষ্ণ, আমরা জানি যিনি বিষ্ণু তিনিই কৃষ্ণ, তিনিই নারায়ন |তিনিই শিবের আরাধ্য|শিব তার ধ্যানেই মগ্ন থাকেন|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব|এই শ্রেষ্টত্ব নিয়ে অবশ্য শৈব্য ও বৈষ্ণবদের মাঝে মাঝেই বিরোধ দেখা দেয়|তবে সব বিবাদের সমাধান শিব নিজেই দিয়েছেন|দেবী পার্বতী একদিন শিব কে প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি কার ধ্যান করেন, উত্তরে শিব বলেন তিনি শ্রী শ্রী হরির ধ্যান করেন।

 

এবার আসি আজকের শিব ভূমি অচলেশ্বর শিব মন্দিরের কথায়, কয়েকটি বিশেষ কারনে এই মন্দির বেশ রহস্যময় সে বিষয়ে পরে আসছি আগে এই মন্দির নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই|রাজস্থানের সিরোহী জেলায় অচলগড় কেল্লার ঠিক বাইরেই এই মন্দিরের অবস্থান। অচলেস্বর শিব মন্দির নামেই বিখ্যাত এই মন্দির|

 

মহাদেবের একটি পায়ের ছাপকে কেন্দ্র করে এই মন্দিরটি গড়ে ওঠে|নবম শতকে তৈরি হয় এই মন্দির|নন্দীর মূর্তির পাশাপাশি মন্দিরের মধ্যে রয়েছে একটি স্তূপ স্থানীয়দের বিশ্বাস এই স্তূপটি আদপে নরকের দক্ষিণ দ্বার|পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের পাড়ে রয়েছে তিনটি ধাতব মহিষের মূর্তি। বলা হয়,এই তিনটি মূ্র্তি আসলে তিনটি রাক্ষসের প্রতিরূপ যারা এই মন্দির আক্রমন করে ও স্বাস্তি স্বরূপ পাথরে পরিণত হয়|ইতিহাস অনুসারে অতীতে বৈদেশিক আক্রমনের শিকার হয়েছে এই মন্দির কিন্তু রক্ষা পেয়েছে অলৌকিক ভাবে|এই মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুটি এর ভিতরে থাকা শিবলিঙ্গটি।দিনের বিভিন্ন সময়ে এর রং থাকে বিভিন্ন রকমের। দিনে অন্তত তিন বার রং বদলায় এই শিবলিঙ্গ। সকাল বেলা এর রং থাকে লাল, বিকেলে হয় জাফরান, আর রাত্রে এর রং হয় কালো|আরো একটি রহস্যময় ঘটনার উল্লেখ পাওয়াযায় এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে|একবার গর্ভগৃহটি সংস্কারের সময় খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে গর্ভগৃহ বেষ্টন করে থাকা একটি সুড়ঙ্গ আবিষ্কৃত হয়। সুড়ঙ্গের মধ্যে দু’টি কুলুঙ্গিতে পাওয়া যায় দেবী চামুণ্ডার দু’টি মূ্র্তি। দেখা যায়, মূর্তি দু’টিতে লেপা রয়েছে সিঁদুর। যেন সদ্য পূজিতা হয়েছেন দেবী|এও এক রহস্য যার সমাধান আজও সম্ভব হয়নি|

 

আবার ফিরে আসবো শিব তীর্থ নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব তীর্থ – নবাবহাটের একশো আটটি শিব মন্দির

শিব তীর্থ – নবাবহাটের একশো আটটি শিব মন্দির

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বর্ধমানের নবাবহাটে রয়েছে ১০৮ টি প্রাচীন শিব মন্দির। মন্দির গুলি জপমালার মতো পরপর বসানো ১০৮টি শিব মন্দির, জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন ইতিহাস এবং কিংবদন্তী। আজকের পর্বে আলোচনা করবো এই একশো আট
শিব মন্দির নিয়ে।

শোনা যায় বর্ধমানের এই নবাব হাট এলাকা নাকি একসময় জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। কেউ যেত না সেই গ্রামে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীর কারণে এলাকায় ছিল না জনবসতি। প্রজাদের বাঁচাতে
এবং মনের ভয় দুর করতে বর্ধমানের মহারাজা ১০৮ শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বিরাট অংশজুড়ে থাকা শিব মন্দির পর পর রাখা রয়েছে রুদ্রাক্ষের মালার আদলে।ঠিক যেনো এক বিরাট আকৃতি জপ মালা কেউ মাটিতে ছড়িয়ে রেখেছে।

একটি আলাদা শিব মন্দিরও আছে এখানে সেটি যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৯। এই ১০৯তম মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে লক্ষ সাধুর উপস্থিতি ঘটেছিল। তাঁদের পদধূলি রাজপরিবার একটি সোনার কলসিতে
সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন ।

অনেকে আবার মনে করেন রানি বিষ্ণুমতির সঙ্গে এক সময় ইংরেজদের সমস্যা হয়। শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সেই সময় রানি স্বপ্নাদেশ পান মন্দির প্রতিষ্ঠার। সেই সূত্রেই পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছর পর নবাবহাটে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।

বর্তমানে মন্দিরে পুরোহিত রয়েছেন দু’জন। প্রতিদিন তাঁরাই এক-একটি মন্দিরে পুজো করেন। গোটা মন্দির চত্বর ঘুরে ঘুরে পুজো করতে সময়ে লাগে প্রায় দু ঘণ্টা।

শিব এখানে যে রূপে এখন পূজিত হন, সেই রূপ মূলত প্রাক-বৈদিক যুগ ও বৈদিক যুগের মিশ্র সংস্করণ।মন্দিরগুলির অবস্থান যেমন পাশাপাশি, তেমনি প্রতিটি মন্দিরের সামনেই আছে খোলা টানা বারান্দা। প্রতিটি মন্দিরই একটি দরজার। সব মন্দিরেই রয়েছে কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। শোনা যায় প্রতিষ্ঠার সময়ে সবগুলি মন্দিরের সামনেই একটি করে বেল গাছ রোপন করা হয়েছিল।

বর্ধমানের শিব মন্দিরগুলিতে সারা বছরই পুণ্যার্থীদের ভিড় থাকে। বিশেষ করে শিব রাত্রির সময়ে অনেক মানুষের ভিড় হয়।

ফিরে আসবো অন্য এক শিব মন্দিরের ইতিহাস এবং সেই সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে
আবার আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব তীর্থ – রাঘবেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

শিব তীর্থ – রাঘবেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে অসংখ্য শিব মন্দির।

যেগুলির সাথে জড়িত আছে ইতিহাস আছে নানা গল্প এবং কিংবদন্তী। শিব রাত্রির আগে এমনই কিছু শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা করবো। আজকের পর্বে কৃষ্ণ নগরের রাঘবেশ্বর শিব মন্দির।

 

নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের  প্রপিতামহ ছিলেন রাজা  রাঘব  রায়। তার রাজত্বকালে তিনি

কৃষ্ণনগর  থেকে   শান্তিপুর  পর্যন্ত  একটি  রাস্তা  তৈরি  করেন  এবং  জনসাধারণের  জলকষ্ট  নিবারণের  এক  বিশাল  দিঘি  খনন  করেন।

দিঘি  বা  দীর্ঘিকা  থেকে  স্থানের  নাম  হয়  দীর্ঘিকানগর।  দিঘির  পূর্ব  দিকে  রাজা  রাঘব  একটি  সুন্দর  অট্টালিকা এবং একটি সুন্দর শিব মন্দির  নির্মাণ  করেন। রাজা রাঘবের নামে শিব মন্দিরের নাম হয় রাগবেশ্বর শিব মন্দির।

 

এই শিব মন্দির এবং দীঘিকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলে গড়ে ওঠে জনবসতি। সেকালে বিভিন্ন জাতের মানুষের জন্য একাধিক ঘাটও নির্মিত হয়ে ছিলো। এই মন্দির থেকে কিছু দূরেই ছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দিদির বাড়ি। শোনা যায় একাধিক বার কবি গুরু এখানে এসেছেন।

 

রাঘবেশ্বর শিব মন্দির  নদিয়া  জেলার টেরাকোটা  মন্দিরগুলির  মধ্যে  অন্যতম।  মন্দিরে   ব্ল্যাক  বেসল্টের  তৈরী । মন্দিরটি  একটি  উঁচু  ভিত্তি  বেদির  উপর  স্থাপিত।  বাংলা  চারচালা  রীতিতে  তৈরী  মন্দিরটিতে  দক্ষিণ,  পূর্ব  ও  পশ্চিম  দিকে  মোট  তিনটি  দরজা।  দরজার  দুপাশে  দুটি  করে  ছোট  ছোট  থাম  এবং  একটি  করে  কারুকার্য  করা  খিলান। আজ অন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং মন্দির ও অট্টালিকা সবই ধ্বংস হয়েছে তবে রাঘবেশ্বর শিব আজও   নিত্য  পূজিত হন এবং জেলার অন্যতম প্রসিদ্ধ ও জাগ্রত শিব লিঙ্গ রূপে তার জনপ্রিয়তা আছে।

 

ফিরে আসবো আরো একটি শিব মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে আগামী পর্বে। চলতে থাকবে

ধারাবাহিক শিব তীর্থ। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

শিব তীর্থ – সিদ্ধেশ্বর শিব

শিব তীর্থ – সিদ্ধেশ্বর শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব তীর্থের আজকের পর্বে আপনাদের স্বাগত।আজকের পর্বে আপনাদের বীরভূম জেলার মল্লারপুরে অবস্থিত মল্লারপুর বা সিদ্ধেশ্বর শিবমন্দিরের ইতিহাস এবং পৌরাণিক তাৎপর্য সম্পর্কে লিখবো।

 

এখানে বিরাজ করছে গুপ্ত অনাদি অখণ্ড শিবলিঙ্গ। প্রায় ৯৩০ বছর আগে ১২০২ খ্রিস্টাব্দে মল্লারপুরের রাজা ছিলেন মল্লেশ্বর। তিনি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই শয়ম্ভু শিবই

নাকি তারাপীঠের দেবী তারার ভৈরব।

মহাভারতের পাণ্ডবজননী কুন্তী এখানেই মহাদেবের পূজা করেছেন। মহালিঙ্গেশ্বর তন্ত্র, যেখানে স্বয়ম্ভূ শিবমন্দিরের তালিকা আছে, সেখানেও সিদ্ধিনাথ নামে এখানকার ওঁ আকৃতির মহাদেবের উল্লেখ আছে। এই মন্দির এমন এক তীর্থ যেখানে পুরাণ ও ইতিহাস একসাথে মিশে গেছে।

 

এখানকার শিবলিঙ্গ গুপ্ত। আর, তার ওপরে রয়েছে ওঁ চিহ্ন। মল্লেশ্বর শিবমন্দিরের পাশের মন্দিরেই রয়েছেন দেবী মল্লেশ্বরী বা সিদ্ধেশ্বরী। এই মল্লেশ্বর শিব মন্দিরের পিছনে তান্ত্রিকাচার্য শ্রীকৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের জীবন্ত সমাধি বা ইচ্ছাসমাধির বেদী রয়েছে। এই কৃষ্ণানন্দই ছিলেন কালীসাধক রামপ্রসাদের গুরুদেব।তিনি

বৃহৎতন্ত্রসার গ্রন্থ রচনা করে প্রসিদ্ধ হয়ে ছিলেন।

 

এই মন্দিরের কারুকাজ এবং সৌন্দর্য এক কথায় অপূর্ব। শিব ভক্তদের বিশ্বাস এখানকার শিবলিঙ্গে সাধকদের সাধনার মাধ্যমে ওঁ চিহ্ন তৈরি হয়েছে। যে চিহ্নে রয়েছে মহাদেবের তিন নয়নও।এই মন্দির চত্বরে রয়েছে চারচালা রীতি মেনে স্থাপিত আরও কিছু মন্দির।

 

সিদ্ধেশ্বর মন্দির তৈরির পর থেকে সেবাইতরা বংশ পরস্পরায় এখানে পুজো করে আসছেন। অন্যান্য শিবলিঙ্গ মাটির ওপরে থাকে। এখানে শিবলিঙ্গের বেশিটাই রয়েছে মাটির নীচে। তাই একে গুপ্ত শিবলিঙ্গ বলা হয়। এখানে শিবকে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছে বা স্বয়ং প্রকট হয়েছেন দেবাদিদেব এই শিবলিঙ্গ আলাদা করে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।এখানে শিব লিঙ্গের চার পাশে বিশেষ বিশেষ সময়ে জল লক্ষ করা যায়।শিবলিঙ্গকে ঘিরে যে জলধারা অবস্থান করছে তা আসলে গঙ্গা।শুধু জল নয় মাঝে মাঝে শিবের অনুচর নাগ দেবতার দর্শন ও পাওয়া যায়।

 

ফিরে আসবো শিব তীর্থ নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে শিব তত্ব এবং একটি প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী তীর্থ – বোলতলার কালী পুজো

কালী তীর্থ – বোলতলার কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কাটোয়ার মুস্থূলী গ্রামে প্রায় তিনশো বছর ধরে চলে আসছে বোলতলা কালীর পুজো। কথিত আছে বহু বছর আগে এক সাধক এলাকায় একটি বকুল গাছের নীচে এই কালীর পুজো শুরু করেন। আজকের পর্বে এই প্রাচীন কালী পুজো নিয়ে আলোচনা করবো।

 

বকুলতলার কালী থেকেই বোলতলা কালী নামটি এসেছে বলে মনে করা হয়। তবে দেবী এখানে এলাকা বাসীর ঘরের মেয়ে এবং ‘মেজঠাকরুন’ নামেই পরিচিত দেবী।

 

যিনি পুজো শুরু করেছিলেন সেই মাতৃ সাধকের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মন্দিরের কাছেই সমাধিস্থ করা হয়েছে তাঁকে।সাধকের মৃত্যুর পর প্রথমে এলাকার জমিদার, পরে এলাকারই এক বাসিন্দাকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে গ্রামবাসীরা এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

পুজো শুরু হয় রাত বারোটার পর। প্রতিমা রঙ করা হয় পুজোর দিন রাতেই। পুজো হয় তন্ত্রমতে। পুজোয় পশু বলিও হয়।পুজো উপলক্ষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন স্থানীয় মহিলারা

 

দেবীর বিসর্জন এই পুজোর অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ।বিসর্জনের সময় প্রতিমা মন্দির থেকে বার করার পরই গ্রামের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। দেবীর ভক্তদের হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মশাল। কাঁধে তুলে নেওয়া হয় দেবীকে। তার পরই দেবীকে কাঁধে নিয়ে শুরু হয় দৌড়। দেবীর সঙ্গে ছুটতে থাকে সারি সারি মশালের আলো। সেই সঙ্গে চলে দেবীর জয়ধ্বনি। হেঁটে হেঁটে নিয়ে যাওয়া যায় না দেবীকে, কাঁধে প্রতিমা নিয়ে ছোটাই এই পুজোর নিয়ম। প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের গ্রাম আমডাঙায়। সেখানে আছেন বুড়ো শিব। বুড়ো শিবের সঙ্গে দেখা করেন দেবী। দেখা করার পর্ব মিটলে আবার একই ভাবে দৌড়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় দেবীকে। পরে মন্দিরের পাশের একটি পুকুরে বিসর্জন করা হয় প্রতিমা।

 

আবার পরের পর্বে আরেকটি প্রাচীন কালী

পুজোর বর্ণনা এবং তার ইতিহাস নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী সরস্বতী এবং ব্যাস দেব

  • দেবী সরস্বতী এবং ব্যাস দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে শাস্ত্র রচনার ক্ষেত্রে ঋষি ব্যাস দেবের গুরুত্ব অপরিসীম। তার কল্যাণেই আমরা মহাকাব্য এবং পুরান পেয়েছি। অসংখ্য শাস্ত্র তিনি সৃষ্টি করেছেন। এসবই হয়েছে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদে।ব্যাস দেব ছিলেন বাগদেবীর পরম ভক্ত।আজকের পর্ব ব্যাস দেব এবং তার সরস্বতী সাধনা নিয়ে।

 

সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই, বিশেষত বিদ্যার্থীদের তার উত্তর ও রয়েছে পুরানে। এবং এখানেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে সেই ব্যাস দেব।

পুরাণ মতে, দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে একদিন বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন মহামুনি ব্যাসদেব। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী ব্যাসদেবকে একটি শর্ত দেন তাঁকে। একটি কুল বীজ রেখে তিনি বলেন, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে কুল হবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিন দেবী সন্তুষ্ট হবেন ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে।

 

শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করেন ব্যাসদেব। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো সেই বীজ থেকে গাছ হল, গাছে কুল ধরল এবং কুল পেকে তা ব্যাসদেবের মাথাতেও পড়ল। ঘটনাচক্রে সেই দিনটা ছিল পঞ্চমী, এরপর সরস্বতীর অর্চনায় কুল ফল নিবেদন করেন ব্যাসদেব । সেই থেকেই বিদ্যার দেবীর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাই আমরা। এবং দেবীর পুজোর আগে কারোর কুল খাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কারন সরস্বতীর কৃপা তাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজ।

 

দেশের প্রচিনতম সরস্বতী মন্দিরের সঙ্গেও ব্যাস দেবের সম্পর্ক রয়েছে।মন্দির টি অন্ধ্র প্রদেশের আদিলাবাদ জেলায় অবস্থিত। এটি বাসর বা বসরা নামেও পরিচিত। মায়ের এই মন্দিরটি গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত। কিছু ধর্মীয় কিংবদন্তি অনুসারে, মহাভারতের যুদ্ধের পর, ঋষি ব্যাস শান্তির সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে গোদাবরী নদীর তীরে কুমারচল পাহাড়ে পৌঁছেছিলেন। এখানে তিনি দেবীর পুজো করতেন। তার পুজোয় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী তার সামনে আবির্ভূত হয়ে ছিলেন এবং তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন।

 

তিথি অনুসারে আজও সরস্বতী পুজো। আরো একবার আপনাদের সবাইকে জানাই সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা

দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ সরস্বতী পুজো, আসুন আজ জেনে নিই দেবী সরস্বতী সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী।পুরাকালে দেবী সরস্বতী নদীরূপে

দেশকে উর্বরা করতেন। জলকে পবিত্র করতেন। বাগদেবী বোঝাতে সরস্বতী নদীর অধীস্টাত্রী দেবীকে বোঝানো হয়।

 

পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মদেব সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং

এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর|জন্মের পর সরস্বতী তাঁকে এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন ও ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|

 

দেবী সরস্বতী শ্রুতি শাস্ত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠা। তিনি শুক্লাবর্ণা, বীনা ধারিণী এবং চন্দ্রের

শোভা যুক্ত।দেবী কবিদের ইস্ট দেবী তাই তার নাম সরস্বতী। সৃষ্টির আদি পর্বে ঈশ্বরের শক্তি পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয় এই পাঁচটি শক্তি হলো রাধা, পদ্মা, সাবিত্রী দূর্গা এবং সরস্বতী।

 

শ্রীকৃষ্ণই প্রথম দেবী সরস্বতীর পুজো করেন। শ্রী কৃষ্ণর পরামর্শ মেনেই দেবী সরস্বতী নারায়ণ ভজনা শুরু করেন। দেবী ভাগবত মতে সরস্বতী ব্রম্হার স্ত্রী আবার ব্রহ্মবইবর্ত পুরান মতে দেবী সরস্বতী নারায়ণের স্ত্রী।

 

দেবী সরস্বতীর বাহন রাজ হংস কারন হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|

 

আজ সবাই শাস্ত্র মতে সরস্বতী পূজা করুন সবাইকে সরস্বতী পূজার অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আগামী পর্বে বিশেষ ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।