কালী কথা – শেফালীর কালী পুজো
বাংলার কালী – আউস গ্রামের ডাকাত কালী
বাংলার কালী – আউস গ্রামের ডাকাত কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বর্ধমানের আউশগ্রামে আছে এক প্রাচীন ডাকাত কালীর মন্দির যে মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে সাধক কমলাকান্তের নাম আছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। আজ জানাবো সেই ইতিহাস এবং এক অদ্ভুত ঘটনা।
শোনা যায় সাধক কমলাকান্ত এখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই কালী মূর্তি ।এই গ্রাম তখন জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন এলাকা ছিল। সাধক কমলাকান্ত এখানে একটি বটগাছতলায় সাধনা করতেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে একটি নির্দিষ্ট শিলাখণ্ড সেখান থেকে সংগ্রহ করেন। তারপর একটি মাটির ঘরে সেই শিলাখণ্ড প্রতিষ্ঠা করে দেবীরূপে পুজো করতে শুরু করেন। সেই সময়ে দেবী মাথার উপরে ছাউনি ছিলোনা।
পরবর্তীতে কিছুটা দূরে একটি গাছের নীচে ফের শিলাখণ্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন সাধক কমলাকান্ত। সেখানেই দেবীর পুজো শুরু হয়।
এই কালী মন্দিরে কালী ও শিবের শিলামূর্তি এক সঙ্গে পূজিত হয়।তাঁর সঙ্গে অধিষ্ঠান করছেন মহাদেব। এলাকাবাসীর কাছে তা ভৈরবনাথ নামে পরিচিত।এই কালী পরিচিত।
এই কালী কে অনেকে অন্ধ কালীও বলেন।
দেবীর নাম কেনো অন্ধকালী হলো তার পিছনেও রয়েছে একটি ঘটনা।জনশ্রুতি আছে এই মন্দিরে পুজো শুরু হওয়ার পর এক দল ডাকাত এসেছিল এই গাছতলায়। তাদের লক্ষ্য ছিল গর্ভ গৃহে স্থাপিত শিলাখণ্ডটি নিজেদের সাথে নিয়ে যাওয়া কিন্তু সেই শিলাখণ্ডে হাত দেওয়ার চেষ্টা করতেই ডাকাতরা অন্ধ হয়ে যায়। আর ফিরে যেতে পারেনি তারা।
পরে দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মন্দির পার্শবর্তী একটি নীম গাছতলার মাটি চোখে বুলিয়ে নিতে। তারা আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। সেই থেকেই অন্ধকালী নামে পরিচিত হন এই দেবী।
আজও দেবী অন্ধকালীর অসংখ্য ভক্ত আসেন মন্দিরে নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে। দেবী অত্যন্ত দয়া ময়ী এবং তাদের প্রার্থনা তিনি শোনেন এবং মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস।
আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো অন্য
এক কালী মন্দিরের অলৌকিক ইতিহাস নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী মন্দিরের ইতিহাস
কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী মন্দিরের ইতিহাস
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের ইতিহাস এবং মন্দিরের সাথে জড়িত বহু ঘটনা হয়তো আপনারা অনেকেই জাননেন। আজ আপনাদের সেই প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস জানাবো যে মন্দিরের অনুকরনে তৈরী হয়েছিলো রানী রাসমণি এবং ঠাকুর শ্রীরাম কৃষ্ণের দক্ষিনেশ্বর মন্দির।
আজ থেকে আড়াইশ বছর আগে এই মন্দির তৈরী হয়। মন্দির তৈরী করেছিলেন সেযুগের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী পরিবার নিয়োগী পরিবার। সেই সময় ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে ব্যবসা চলতো নিয়োগী পরিবারের। মুলত চিনির ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ সম্পদ লাভ করেন তারা।
সেই সময়ে এই পরিবারের কর্তা কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।দেবী এখানে ব্রহ্মময়ী রূপে বিরাজ করছেন। পূজা পাঠ সবই হয় তন্ত্র মতে।
শোনা যায় ব্রহ্মময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় সাতাশ বছর পরে রানী রাসমনির জামাই মথুরবাবুকে এই মন্দির সম্পর্কে জানার জন্য এখানে আসতে বলেন এবং মথুরবাবু নিজে এসে এই মন্দির সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে যান এবং পরবর্তীতে এই মন্দিরের আদলে দক্ষিণেশ্বরের মন্দির স্থাপিত হয়।
নবরত্ন শৈলী তে নির্মিত ব্রহ্মময়ী মন্দিরটি বাংলার প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরগুলির অন্যতম।
মন্দিরের মূল বেদী থেকে চৌশট্টি ফুট উঁচুতে অর্থাৎ তন্ত্রমতে চৌশট্টি যোগিনী স্তর পার হয়ে মন্দিরের সর্বোচ্চ তলের মধ্যভাগে শ্বেতবর্ণের হংসেশ্বর শিবলিঙ্গের অবস্থান। একতলায় মা ব্রহ্মময়ী কালী। মন্দিরের চারকোণে চারটি কালো পাথরের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। মন্দিরের অভ্যন্তরে পঞ্চমুণ্ড আসনের উপর বেদীতে শবরূপী মহাদেবের উপর কালো পাথরের খড়গমুণ্ডধারিণী ব্রহ্মময়ী মা অধিষ্ঠিন করছেন।
মন্দিরের প্রথম তলে সমতল ছাদের চারকোণে চারটি চূড়া। মন্দিরের বেদীমূলে সিংহাসনে নারায়ণ শিলা এবং শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও মাতা শ্রী শ্রী সারদা দেবীর চিত্র বর্তমান। মূল মন্দিরের তিনটি প্রবেশপথ তন্ত্রমতে ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার প্রতীক। কেবলমাত্র বছরে একবার শিবরাত্রির দিন মন্দিরের উপরে দর্শনার্থীদের যেতে দেওয়া হয়।বাকি দিন গুলি ওই স্থানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো এবং তন্ত্র মতে সমস্ত উপাচার নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়।
বহু দর্শণার্থী সেই সময় এই মন্দিরে ভিড় করেন।
আবার কালী কথার পরবর্তী পর্বে অন্য এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস
নিয়ে ফিরে আসবোআপনাদের জন্য।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – বদ্যি কালী মাতা
কালী কথা – বদ্যি কালী মাতা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে আরো একবার আপনাদের জন্য কালী কথা নিয়ে ফিরে এলাম। বাংলার প্রসিদ্ধ এবং জাগ্রত কালী মন্দির গুলি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করবো। থাকবে কালী সংক্রান্ত নানা পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় তথ্য।আজ জানাবো হুগলীর বিখ্যাত
বদ্যি কালী মন্দিরের কথা।
বাংলার হুগলি জেলার জনাইয়ে অবস্থিত এই বদ্যিমাতা মন্দির। আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।মন্দিরের পাশেই আছে এক রহস্যময় পুকুর যে পুকুর নিয়ে একটি কিংবদন্তী এলাকায় প্রচলিত আছে। তবে সব থেকে বেশি যে কারণে এই মন্দির প্রসিদ্ধ তা একটি প্রচলিত বিশ্বাস।
আজও এও অঞ্চলে কারুর কোনও রোগ-ব্যাধি হলেআগে সে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানান।
দেবী নাকি স্মরনাগত ভক্তদের স্বপ্নাদেশ দেন। সেই স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী ওষুধ খেলে ভক্তদের যাবতীয় রোগ-ব্যাধি সেরে যায়। গত দুশো বছর ধরেই এমনটা চলছে। আর এই সব কারণে ভক্তদের কাছে দেবী বদ্যি কালী নামেই বেশি জনপ্রিয়।
কে এবং ঠিক কবে এই মন্দির তৈরী করে দেবীকে এখানে স্থাপন করেন তা স্পষ্ট নয় তবে আগে এখানে ছিল টালির চাল। সেখানেই এখন তৈরি হয়েছে পাকা দালানের পরিপূর্ণ সাজানো-গোছানো মন্দির। ভক্তদের অর্থ সাহায্যে ধীরে ধীরে নতুন রূপে গড়ে উঠেছে এই মন্দির।দেবীর এখানে দক্ষিণাকালীর রূপে বিরাজ করছেন।
এবার আসি সেই রহস্যময় পুকুর প্রসঙ্গে। মন্দিরের কাছে রয়েছে একটি বহু প্রাচীন জলাশয়।
ভক্তদের বিশ্বাস আজও দেবী এখানে নিত্যরাতে পাশের পুকুরে স্নান করেন। সেই জন্য এই মন্দিরে ভক্তরা সচরাচর রাত্রিবাস করেন না।সারাদিন ভক্ত দের ভিড় থাকলেও রাতে এই মন্দিরের পরিবেশ একদম পাল্টে যায়। শান্ত এবং জনমানব শুন্য এই মন্দির তখন একেবারেই দেবীর ব্যাক্তিগত বিচরণ ক্ষত্রে পরিণত হয়।
অমাবস্যায় মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।সেই সময় রাতে ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের অধিকার দেয়া হয়।ভক্তদের বিশ্বাস অমাবস্যার দিনগুলোয় দেবী তাঁদের মন্দিরে রাত্রিবাসের ছাড়পত্র দিয়েছেন।সেই সময় বিশেষ পুজো এবং শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞর পাশাপাশি ভক্তদের ভোগের প্রসাদও খাওয়ানো হয়।
দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলত থাকবে
ধারাবাহিক কালী কথা। ফিরে আসবো অন্য
একটি মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
লক্ষী পুজোর বিধি নিষেধ
লক্ষী পুজোর বিধি নিষেধ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বিগত কয়েকদিন ধরে দেবী লক্ষী প্রসঙ্গে শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং ব্যাখ্যা করছি।আজকের পর্বে জানবো লক্ষী পুজো সংক্রান্ত কিছু বিধি নিষেধ এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|
দেবী দেবী লক্ষী অন্নদাত্রী এখানে অন্ন শুধু খাদ্য নয় সমৃদ্ধির প্রতীক। লক্ষী পুজোর দিন অন্ন বা যেকোনও খাবার নষ্ট করবেন না। এতে মা অসন্তুষ্ট হন। দেবী লক্ষ্মী অন্নের অপচয় সহ্য করেন না ফলে বাড়িতে অর্থ ও খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে। এই দিনে সম্ভব হলে অন্ন দান করুন তাতে সমৃদ্ধি লাভ করবেন।
লক্ষ্মী দেবীকে সাদা রঙের ফুল দিয়ে পুজো না করে লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের ফুল ব্যবহার করা যাবে। এই রঙগুলি দেবীর বেশি প্রিয়।লক্ষ্মীপুজো করার সময় কোনওভাবেই কালো পোশাক পরা যাবে না। কারন সাদা ও কালো রঙ দেবী পছন্দ করেননা তার প্ৰিয় রঙ হলুদ ও লাল|
মা লক্ষ্মীর পুজোয় সাদা ফুল যেমন ব্যবহার করা যায় না, তেমনই আসনে সাদা বা কালো কাপড় পাতার নিয়ম নেই। ব্যবহার করা যেতে পারে লাল, গোলাপি প্রভৃতি রঙের কাপড়।
মনে করা হয়, শ্রীলক্ষ্মীর পূজতে তুলসী ব্যবহার করলে দেবী অসন্তুষ্ট হন| এর ব্যাখ্যা হলো তুলসির সঙ্গে শালগ্রাম শিলার বিবাহ হয়। শালগ্রাম গ্রাম শিলা নারায়ণের প্রতিভূ। যেহেতু শ্রীলক্ষ্মীও বিষ্ণুপত্নী তাই দুজনের সম্পর্ক মধুর নয় তাই এই পুজোয় তুলসির ব্যবহার চলে না।
পুজোর পর মন্দির বা ঠাকুর ঘরের দক্ষিণমুখে প্রসাদ অর্পণ করার কথা বলে থাকেন অনেকে। এর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা না থাকলেও বাস্তু শাস্ত্র মতে শুভ| লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদে না বলতে নেই। অল্প হলেও মুখে তুলতে হয়।এতে দেবী প্রসন্ন হন|পুজোর প্রসাদ ফেরালে দেবী অসন্তুষ্ট হন।
ঢাক – ঢোল- কাঁসর ঘণ্টা লক্ষ্মীপুজোয় বাজানো যাবে না। অত্যধিক শব্দ পছন্দ করেন না শ্রীলক্ষ্মী। সব পুজোতেই বাদ্যি বাজানো হয়। কিন্তু মা লক্ষ্মীর পুজোয় কাঁসর ঘণ্টা বাজালে দেবীর অসন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়।এবিষয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|
পুরাণ মতে ঘণ্টাকর্ণ নামে এক দেবতা দেবীকে দেবীকে অসম্মান করেছিলেন। যে দেবীকে গোটা দেবলোক পুজো করেন সেই দেবীকেই কিনা অপমান করেন ঘণ্টাকর্ণ। এই ঘটনায় দেবী লক্ষ্মী ঘণ্টাকর্ণের উপর বেজায় ক্রুদ্ধ হন।বলা হয় সেই থেকেই অন্যান্য সমস্ত পুজোতে ঘণ্টা বাজালেও, লক্ষ্মী পুজোতে ঘণ্টা বাজানো নিষিদ্ধ। সেই থেকেই মা লক্ষ্মীর পুজোয় কোন ব্যক্তি ঘন্টা বাজালে, তাঁর উপর বেজায় ক্ষিপ্ত হন পদ্মাসনা দেবী লক্ষ্মী। ঘন্টার বদলে শঙ্খ ব্যাবহার করুন। দেবী লক্ষী শঙ্খ পছন্দ করেন।
আপনাদর সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা। আগামী পর্ব গুলিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী লক্ষীর বাহন
দেবী লক্ষীর বাহন
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে প্রত্যেক দেব দেবীর একটি নিদ্দিষ্ট বাহন আছে। যেমন শিবের নন্দী। বিষ্ণুর গড়ুর। সরস্বতীর রাজ হংস। বিশ্বকর্মার হাতি। তেমনই দেবী লক্ষীর বাহন পেঁচক বা প্যাঁচা। লক্ষী
পুজো উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে আজ আলোচনা করবো দেবী লক্ষীর বাহন প্যাঁচা নিয়ে। জানবো এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
দেবী লক্ষীর বাহন কেনো প্যাঁচা তার অনেক গুলি কারন ও ব্যাখ্যা আছে|
দেবী লক্ষী সমৃদ্ধির দেবী।বলা হয় ধান বাঙালির কাছে লক্ষী বা সমৃদ্ধির প্রতীক।কিন্তু এই ধান ইঁদুরে খেয়ে ফেলে ধানের গোলায় ইঁদুর ঢুকে নষ্ট করে খাদ্যশস্য তাই ধানের শত্রু ইঁদুর। আর ইঁদুরকে খায় পেঁচা অর্থাৎ ধানকে রক্ষা করে ইঁদুরের হাত থেকে। তাই লক্ষ্মী দেবীর বাহন এই নিশাচর এবং মাংশাসি পাখি।
তবে লক্ষ্মীদেবীর বাহন হিসেবে পন্ডিতদের যে মতটি সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য তা হলো যিনি লক্ষ্মী গুন অর্থাৎ সত্য প্রেম পবিত্রতা তপস্যা তিতিক্ষা পেতে চান তাকে পেচক ধর্ম পালন করতে হবে অর্থাৎ জাগতিক বস্তু থেকে একটু দূরে থেকে নির্জনে যোগৈশ্বর্য ও সাধন সম্পদ রক্ষা
করতে হবে। পেঁচা যদি দিনের বেলায় বের হয় অন্যান্য পাখিরা তাকে তাড়া করে তাই অতি গোপনে পেচা বাস করে। সেরকমই সম্পূর্ণ জ্ঞান বা পূর্ণতা লাভ না করা পর্যন্ত জাগতিক বিষয় ব্যক্তির দৈব সম্পদ নষ্ট করে।এসব কারনে পেচাকে লক্ষীর বাহন হিসেবে নির্ধারন করা হয়েছে।কারন পেঁচা নিঃশব্দে এবং অন্ধকারে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যায়। সে অন্তর মুখী এবং একই সাথে শক্তিশালী।
ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, পেঁচা আসলে যমের দূত। যম অর্থ সংযম, যম মানে ধর্ম। ধনোপার্জনের ক্ষেত্রেও সংযমবুদ্ধি ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত রাখার প্রতীক পেঁচা। যমদূত পেচক তাঁর নিজের বৃত্তি ও প্রভুর ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে মৃত্যুচিন্তা ও আত্মচিন্তা জাগ্রত করে মানুষের মনে। তাই সে লক্ষীর বাহন হিসেবেও স্থান পেয়েছে।
আবার লৌকিক মতে কোজাগরীর রাতে মা লক্ষ্মী খোঁজ নেন কে জাগ্রত রয়েছে। জেগে থাকা ব্যক্তিকেই তিনি ধনের সন্ধান দেন। পেঁচা প্রতি রাতেই জেগে থাকে। দিনে ঘুমায় তাই প্যাঁচাকে দেবী নির্বাচন করেছেন তার বাহন রূপে|
আগামী পর্বে লক্ষী পুজো সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো। জানাবো লক্ষী পুজোর কিছু শাস্ত্রীয় নিয়ম নীতি এবং তার ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী লক্ষীর পুজোর প্রচলন
দেবী লক্ষীর পুজোর প্রচলন
পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রী জাতক
আগামী কালই কোজাগরী লক্ষী পুজো|দেবী আসবেন আমাদের গৃহে|তার আশীর্বাদে ও কৃপায় ধন্য হবে আমাদের জীবন|সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে ঘরে ঘরে|সেই উপলক্ষে দেবী লক্ষীর মাহাত্ম নিয়ে এই কয়েকটি দিন আলোচনা করছি।
আগের পর্বে দেবী লক্ষীর আবির্ভাব এবং তার বিবাহ নিয়ে পৌরাণিক যা ব্যাখ্যা আছে তা আপনাদের শুনিয়াছিলাম আজ জানবো লৌকিক দেবী হিসেবে তার মাহাত্ম্য এবং মর্তে দেবীর পুজোর প্রচলন নিয়ে এক অলৌকিক ঘটনা।
কথিত আছে একবার দোলপূর্ণিমার রাতে নারদ বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কাছে গিয়ে মর্ত্যের অধিবাসীদের নানা দুঃখকষ্টের কথা বললেন। লক্ষ্মী মানুষের নিজেদের কুকর্মের ফলকেই এই সব দুঃখের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন। কিন্তু নারদের অনুরোধে মানুষের দুঃখকষ্ট ঘোচাতে তিনি মর্ত্যলোকে লক্ষ্মীব্রত প্রচার করতে এলেন।
এই সময়ে অবন্তী নগরে ধনেশ্বর নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে বিষয়সম্পত্তি ও অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া চলছিল। ধনেশ্বরের বিধবা পত্নী সেই ঝগড়ায় অতিষ্ট হয়ে বনে আত্মহত্যা করতে এসেছিলেন। লক্ষ্মী তাঁকে দেখা দেন এবং লক্ষ্মীব্রত করার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠালেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের পুত্রবধূদের দিয়ে লক্ষ্মীব্রত করাতেই তাঁদের সংসারের সব দুঃখ ঘুচে গেল। ফলে লক্ষ্মীব্রতের কথা অবন্তী নগরে প্রচারিত হয়ে গেল। একদিন অবন্তীর সধবারা লক্ষ্মীপূজা করছেন, এমন সময় এক যুবক বণিক এসে তাদের ব্রতকে ব্যঙ্গ করল। ফলে লক্ষ্মী তার উপর কুপিত হলেন। সেও সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে অবন্তী নগরে ভিক্ষা করতে লাগল। তারপর একদিন সধবাদের লক্ষ্মীপূজা করতে দেখে সে অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চাইল। লক্ষ্মী তাকে ক্ষমা করে তার সব ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন। এই ভাবে সমাজে লক্ষ্মীব্রত প্রচলিত হল|
কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও উত্তর ও পশ্চিম-ভারতে মা লক্ষ্মীর আবাহন মূলত হয় ধনতেরাস-দিওয়ালি তিথিকে কেন্দ্র করে|বাংলায় লক্ষ্মীপুজোর সংস্কৃতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে একটু অন্যরকম। যেমন ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে শুক্রবার মহালক্ষ্মীর উপবাস রাখা হয় ও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ওদিকে বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবারই লক্ষ্মীবার তবে শাস্ত্র মতে প্রতি বৃহস্পতিবারই নিষ্ঠা সহকারে দেবী লক্ষীর পুজো করলে গৃহের কল্যাণ হয়|
লক্ষী পুজোর এই বিশেষ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া গ্রহ দোষ খণ্ডন। বাস্তু দোষ নিবারণ এবং শ্রী যন্ত্র স্থাপন করার জন্যও এটি আদৰ্শ সময়।
সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর আগাম শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো দেবী লক্ষীকে নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনায় আবার আগামী পর্বে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী লক্ষীর আবির্ভাব এবং বিবাহ
দেবী লক্ষীর আবির্ভাব এবং বিবাহ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এবছরের মতো দূর্গা পুজো শেষ। আবার এক বছরের অপেক্ষা তবে মা দূর্গা কৈলাশ পাড়ি দিলেও রেখে গেছেন তার কন্যা লক্ষীকে। আর কয়েক দিন পরেই লক্ষী পুজো। লক্ষী পুজো উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি দেবী লক্ষী কে নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা।আজকের পর্বে জানাবো কে দেবী লক্ষীর আবির্ভাবএবং
তার বিবাহ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন। সেই ক্ষীর-সমুদ্র মন্থনের ফলে উঠে আসল নানা রত্ন, মণি-মাণিক্য, অমৃতসুধা আরও কত কি। এসব ছাড়াও সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন লক্ষ্মী দেবী এবং ঠাই পেলেন বিষ্ণুর বক্ষে।
স্কন্দ পুরানে নারায়ণ লক্ষীর বিবাহের উল্লেখ আছে।লক্ষ্মী দেবী নারায়ণ বা বিষ্ণুকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে বহুকাল কঠোর তপস্যা করেন।তখন ইন্দ্রা বিষ্ণুর ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর নিকট উপস্থিত হলে লক্ষ্মী দেবী তাকে বিশ্বরূপ দেখাতে বলেন। কারণ লক্ষ্মী দেবী জানতেন যে, একমাত্র বিষ্ণুই বিশ্বরূপ দেখাতে সক্ষম। কিন্তু কেউই বিশ্বরূপ দেখাতে না পেরে লজ্জিত হয়ে চলে যান। তাঁরপর লক্ষ্মীর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে একদিন বিষ্ণু নিজে লক্ষ্মীর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁর ইচ্ছায় বিশ্বরূপ দেখালেন। তারপর তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
আবার লৌকিক মতে দেবী লক্ষী শিব দুর্গার সন্তান তাই দেবী দুর্গার সাথে মর্তে আসেন দূর্গা পুজোর সময়ে এবং বিজয়ার পর কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবীর পুজো হয়। দেবী লক্ষী প্রসন্ন হলে অর্থ সম্পদ এবং সমৃদ্ধি লাভ হয়।
ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী লক্ষীর পুজো সংক্রান্ত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাথে নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
পন্ডিত ভৃগুর শ্রী জাতক
বিজয়া দশমী মানে মা ফিরে যাবেন কৈলাশে|তারপর আবার এক বছরের প্রতীক্ষা|তবে প্রকৃত অর্থে এটি দুক্ষের দিন নয় গৌরবের দিন|অন্তত শাস্ত্র তাই বলছে|আসুন জেনে নিই এই বিজয়া দশমী সম্পর্কে আমাদের সনাতন ধর্ম শাস্ত্র
ঠিক কি বলছে|
বিজয়া ও দশমী এই দুই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সব প্রশ্নের উত্তর ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে পিতৃ গৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন দেবী|তাই দশমী শব্দটি ব্যবহিত হয়|
এবার যদি বিজয়া শব্দটির বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে পুরান অনুসারে নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে দেবী মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেন|অর্থাৎ বিজয়া রূপে আত্মপ্রকাশ করেন|তাই এই দিন টি বিজয়া দশমী রূপে চিহ্নিত হয়|
বিজয়া দশমীর সাথে সম্পর্ক রয়েছে নীল কণ্ঠ পাখির। আগে রাজা জমিদার রা তাদের বাড়ির পুজোতে দশমীর দিন নীল কণ্ঠ পাখি ওড়াতো। এই নিয়মের ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে।
রামায়ণ অনুসারে রাবণকে বধ করার সময়
রাম নীলকন্ঠ পাখি দেখতে পেয়েছিলেন। তাই এই পাখিকে শুভ শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়ে থাকে। দশমীর দিন যদি নীলকন্ঠ পাখি দেখতে পাওয়া যায় তাহলে পাপ মুক্তি ঘটে এবং মনের সমস্ত সাধ পূরণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
আবার পুরান অনুসারে সমুদ্র মন্থন করা হয়, তখন দেবাদিদেব সেই বিষ পান করেন এবং তাঁর কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যান। তাই তাঁকে নীলকন্ঠ বলা হয়ে থাকে। আর এই নীলকন্ঠ পাখিকে তাঁরই প্রতিরূপ মনে করা হয় বাংলায়। আর তাই হিন্দু মতে মনে করা হয় দশমীর দিন দেবীর নিরঞ্জনের আগে যদি নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয় তাহলে সেই পাখি কৈলাশে গিয়ে মহাদেবকে খবর দেবে যে তাঁর ঘরণী ফিরছে।
আবার উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে দশেরা উদযাপিত হয়|’দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘দশহর’ থেকে এবং এখানে মূলত রাম কতৃক দশানন রাবন বোধের দিনটিকে উদযাপন করা হয়|বাল্মীকি রামায়ণ অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেছিলেন রাম ওই দিনটাই দশেরা এবং আশ্বিন মাসের তিরিশ তম দিনে যে দিন অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম সেদিনটি দীপাবলি রূপে পালিত হয়|
অর্থাৎ এই দিন টা যথার্থ অর্থেই গৌরবের|
তাই হয় তো স্নেহের আলিঙ্গন এবং মিষ্টি বিতরণের প্রচলন|তবু মন খারাপ থাকতেই পারে কারন নয় দিন ব্যাপী উৎসবের আজ সমাপ্তি|সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া।
দীপাবলি আসছে, আলোর উৎসবে আবার মেতে উঠবে দেশ|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের ক্ষেত্রে সর্ব শ্রেষ্ট সময় দীপান্বিতা অমাবস্যা আর কদিন পরেই|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে। বিশেষ
পর্বগুলি নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
নব রাত্রি – দেবী কাল রাত্রি
নব রাত্রি – দেবী কাল রাত্রি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
নব দুর্গার সপ্তম রূপ হল কালরাত্রি।যার পুজো হয় নব রাত্রির সপ্তম রাতে।আজকের পর্বে দেবীর এই রূপের ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।
বিভিন্ন অস্ত্র ও গহনায় সজ্জিত হয়ে দেবী ধরা দেন কালরাত্রি রূপে|দেবী কৃষ্ণবর্ণা ও ত্রিনয়না|দেবীর বাহন গর্ধব|চতুর্ভুজা দেবী ভীষণদর্শনা|দেবীর তিন হাতে অস্ত্র | এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়।
দেবীর কালরাত্রি রূপের আরাধনায় কেটে যায় সব সংকট| শাক্ত শাস্ত্রানুযায়ী, “সেই দিন সাধকের মন সহস্রার চক্রে অবস্থান করে। তাঁর জন্য ব্রহ্মাণ্ডের সকল সিদ্ধির দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। এই চক্রে অবস্থিত সাধকের মন কাল রাত্রির আবির্ভাবের রাতে সম্পূর্ণভাবে মাতা কালরাত্রির স্বরূপে বিলীন হয়ে যায়।
শাস্ত্র মতে তাঁর সাক্ষাৎ পেলে সাধক মহাপুণ্যের ভাগী হন। তাঁর সমস্ত পাপ ও বাধাবিঘ্ন নাশ হয় এবং তিনি অক্ষয় পুণ্যধাম প্রাপ্ত হন।হিন্দুদের বিশ্বাস করেন, কালরাত্রি দুষ্টের দমন করেন, গ্রহের বাধা দূর করেন এবং ভক্তদের আগুন, জল, জন্তুজানোয়ার, শত্রু ও রাত্রির ভয় থেকে মুক্ত করেন।তারা বিশ্বাস করেন, কালরাত্রির উপাসক তাকে স্মরণ করলেই দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেত পালিয়ে যায়।কালরাত্রির রূপ ভয়ংকর হলেও তিনি শুভফলের দেবী।তার অপর নাম শুভঙ্করী|
বাংলার দুর্গাপুজোর পাশাপাশি দেশ জুড়ে চলছে নব রাত্রি। এখনো দেবীর কয়েকটি রূপের বর্ণনা বাকি আছে আগামী পর্বে ফিরবো দেবীর পরবর্তী রূপ নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।