Home Blog Page 29

সাবর্ন রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

সাবর্ন রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তিলোত্তমা কলকাতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায় একটি পরিবারের কথা না বললে। সেই পরিবার হলো সাবর্ন চৌধুরী পরিবার। একাধিক ইতিহাসকার মনে করেন এই কলকাতার দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন এই বংশের আদি পুরুষ লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়।আজকের পর্বে এই বাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে আলোচনা করবো।

 

মোঘল আমলে সাবর্ণ গোত্রীয় জমিদার লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় সেনাপতি মানসিংহের কাছ থেকে পেলেন আটখানি পরগণার জমিদারি সত্ত্ব। তারপর তার আর্থিক উন্নতি ও সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়লো ধূমকেতুর গতিতে।

 

আগে হালিশহরের বাড়িতে পুজো হতো পরবর্তীতে জমিদার লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার বরিশায় এক প্রকান্ড প্রাসাদ বানালেন। সেখানে তৈরী হলো চণ্ডীমণ্ডপ। সেই সুবিশাল চন্ডী মণ্ডপে শুরু করলেন দেবীদুর্গার আরাধনা।

 

প্রায় চারশো বছর ধরে চলে আসছে সাবর্ন রায় চৌধুরীদের দুর্গাপূজা।তবে কালের নিয়মে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিবারের সদস্যর পরবর্তীতে ছড়িয়ে পরেন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। আলাদা আলাদা করে তারা দূর্গা পুজো শুরু করেন।

 

বর্তমানে কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় সাবর্ণদের আটটি বাড়িতে আটটি দুর্গাপুজো হয়। যার মধ্যে বড়িশায় ছয়টি বাড়ির পাশাপাশি একটি বিরাটির বাড়ি ও একটি নিমতার বাড়িতে

পুজো হয়।

 

আটটি বাড়িতে দেবীর গায়ের রঙ হয় স্বর্ণবর্ণা। আজও এই বাড়ির পুজোয় বিভিন্ন প্রাচীন গয়না দিয়ে সাজানো হয় দেবীকে এবং জন্মাষ্টমীতে কাঠামোপুজো হয় এবং কৃষ্ণানবমীতিথিতে বোধন হয়।বিদ্যাপতি রচিত ‘দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী’ মতেই পুজো হয় আটটি বাড়িতে।

 

এই পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায় সুদূর অতীতে পশুবলিপ্রথা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ রয়েছে।বাকি বাড়ি গুলিতে বাড়িতে আমিষভোগ হলেও নিমতার বাড়িতে নিরামিষভোগ হয়।

 

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|

ফিরবো আগামী পর্বে|বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজোর আগামী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

চাঁচল রাজবাড়ির দূর্গা পুজো 

চাঁচল রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শুধু কলকাতা বা দক্ষিণ বঙ্গের পুজো নয় উত্তর বঙ্গেও এমন অনেক বনেদি বাড়ির পুজো আছে যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।আজ আলোচনা করবো মালদার চাঁচল রাজ বাড়ির পুজো নিয়ে।

সতেরো শতকের শেষভাগ। সেই সময় উত্তর মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকার রাজা ছিলেন রামচন্দ্র রায়চৌধুরি। প্রজাদরদী এবং ধর্মপ্রাণ রাজা ছিলেন তিনি। শোনা যায় একবার রাজা দেবী চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে মহানন্দার ঘাটে স্নান করতে যান। সেই সময় তাঁর হাতে অলৌকিক ভাবে চতুর্ভুজা অষ্টধাতুনির্মিত মূর্তি উঠে আসে। দেবী চণ্ডীর অষ্টধাতুর মূর্তি মহানন্দার ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রাজবাড়িতে এনে তিনি

প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেদিন থেকেই রাজবাড়িতে শুরু হয় দেবীর নিত্যপুজো।

সেই সময় থেকেই প্রতিবছর চাঁচল রাজবাড়িতে বেশ ধুমধাম করে দুর্গাপুজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে পুজোর জন্য পাকা মন্দির নির্মাণের করেন রাজা । মন্দির তৈরির পর রাজা রামচন্দ্র দুর্গাপুজোর জন্য সেই সময় বেশ প্রায় সাত হাজার টাকাও বছরে বরাদ্দ করেন।শুরু হয় ধুমাধাম করে দূর্গা পুজো।

সেই রাজা নেই সেই রাজ্যপাটও নেই। চাঁচল রাজবাড়িতে এখন স্থাপিত হয়েছে কলেজ, মহকুমা প্রশাসনিক ভবন, আদালত-সহ একাধিক সরকারি দপ্তর। তবে রাজবাড়ির একাংশে থাকা ঠাকুরবাড়ি এখনও আগের মতোই রয়ে গিয়েছে।পুজোও হয়।

দূর্গা পূজা উপলক্ষে বাড়ির সদস্যরা একত্রিত হয়।

সেই জৌলুস হয়তো নেই। তবে নিষ্ঠা সহকারে আজও দেবী এখানে পূজিতা হন। নিয়ম করে প্রতিটি শাস্ত্রীয় রীতি নীতি আজও পালিত হয়।

আজও প্রাচীন প্রথা মেনে সপ্তমী তিথিতে রাজবাড়ি থেকে দুর্গাদালানে নিয়ে আসা হয় অষ্টধাতুর চতুর্ভুজা মা চণ্ডীকে। দশমীতে তিনি ফের রাজবাড়িতে ফিরে যান। এখানে সতের দিন

ধরে উৎসব পালিত হয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে

চাঁচল রাজ বাড়ির এই পুজো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অদ্ভুত নিদর্শন। এখানে বিসর্জনের সময় মহানন্দার নদীর ধরে বৈরগাছি

নামক এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ লণ্ঠন নিয়ে মাকে পথ দেখান।এই রীতি শুরুর দিন

থেকে আজও প্রচলিত আছে।

আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে চলতে থাকবে এই সব ঐতিহাসিক রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির পুজো গুলি নিয়ে আলোচনা। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দূর্গা পুজো
পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পুজো গুলির কথা বলতে হলে শুধু কলকাতার বনেদি পুজো গুলোর কথা বললে হয়না। জেলার পুজো গুলির কথাও বলতে হয়। এমনই এক পুজো শেওড়াফুলি রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পুজো। আজকের পর্বে এই পুজোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও একটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলবো।
শোনা যায় বর্ধমানের নারায়ণপুরে রাজত্ব করতেন এই বংশের আদি পুরুষরা। মোঘল আমলে স্বয়ং সম্রাট আকবর নাকি তাদের জমি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নদী ভাঙন গ্রাস করেছিল জমিদারি। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে শেওড়াফুলি এসে বসবাস করতে শুরু করেন তৎকালীন জমিদার।
বর্ধমানে যখন এই জমিদার বংশের গৌরব ময় সময় চলছে তখন গ্রামে পুকুর খনন করার সময় স্বপ্নাদেশ পান জমিদার মশাই । স্বপ্নাদেশ অনুসারে মাটির তলা থেকে পান দেবী দশভূজার অষ্টধাতুর মূর্তি।
পরবর্তীতে শেওড়াফুলির বাড়িতে এসে গৃহ মন্দিরে দেবী দশভূজার মূর্তিকে দেবী সর্বমঙ্গলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে সেই প্রতিষ্ঠিত মূর্তিতেই চলে আসছে পুজো । নিত্যপূজা হয় কিন্তু শরতের আকাল বোধন ও বসন্তকালের বাসন্তী পুজো এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
অর্থাৎ দূর্গা রূপেই তারা তাদের আরাধ্যা দেবীর আহ্বান করেন।
আজও অমলিন আছে এই পুজোর গৌরব। বজায় আছে সব সেকালের রীতি নীতি এবং উপাচার যেমনটা বেশিভাগ রাজ বাড়ি বা জমিদার বাড়িতেই চলছে।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের বনেদি বাড়িগুলির আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানাবো। আগামী পর্ব গুলিতে পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এক কালে যখন দূর্গা পুজো মূলত রাজ বাড়ি গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো তখন জাঁকজমকে মাঝে মাঝেই কলকাতার পুজো গুলোকে টেক্কা দিতো কিছু জেলার পুজো।এমনই এক ঐতিহাসিক পুজো পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজবাড়ির পূজো যা নিয়ে আজকের পর্ব।
আগে এই পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে রাখা প্রয়োজন।কাশীপুর রাজপরিবার আসলে পঞ্চকোট রাজবংশের শেষ একটা রাজপরিবার। কয়েকশ বছর আগে পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে এই রাজবংশ বসবাস করত। সেখান থেকে বর্গিরাজাদের আক্রমণের পর কাশীপুরের যিনি মহারাজা ছিলেন উনি রঘুনাথপুর পালিয়ে আসেন সপরিবারে; এবং তারপর থেকে এখানেই অর্থাৎ পুরুলিয়ার কাশিপুরে পুরোপুরি ভাবে অবস্থান করেন। তারপর ধীরে ধীরে উনি ওনার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন ও কাশীপুরের এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন ও সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। দুর্গাপূজার প্রচলন করেন যা আজও অব্যাহত।
এই কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গাপূজোর কিছু বিশেষত্ব আছে।এখানে দেবী পূজো তথা প্রতিটি শাস্ত্রীয় উপাচার পালিত হয় ঘড়ির কাঁটা ধরে।
এক মুহূর্তের হের ফের হয়না।যেহেতু বৈষ্ণব মতে হয়ে থাকে পূজোর যাবতীয় আয়োজন থেকে প্রাণী হত্যা সম্পূর্ণ বাদ তার বদলে পূজো কদিন মায়ের অন্নভোগ দেওয়া হয়।
এই কাশী পুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনাও কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত আছে।পূজোর অষ্টমী তিথিতে নিশিপূজোর সময় সিঁদুরের থালার মধ্যে মায়ের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। সেই সময়টাতে ঠাকুর দালান ভারী পর্দা দিয়ে আচ্ছাদন করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। শুধু সেই সময়টুকু গোপনীয়তা বজায় রাখতে এমন টা করা হয়।
এক সময়ে পারিবারিক পুজো হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে এই জেলার অসংখ্য মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। পুজো কদিন রাজবাড়ির সদর দরজা থেকে ঠাকুর দালান বা প্রাঙ্গন সর্বত্র থাকে মানুষজনের অবাধ আনাগোনা।
আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন ধন্যবাদ।

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

ভারতের প্রাচীন গুরু শিষ্য পরম্পরার দেশ। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষের সফতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন। তিনি তাকে শুধুমাত্র জীবনে সফল হওয়া নয়, কিভাবে একজন ভাল মানুষ হতে হয় শেখাবেন।

সমাজে শিক্ষকদের ভূমিকায় সম্পর্কে শ্রদ্ধেয়
এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘যদি একটি দেশকে বা জাতীতে দুর্নীতিমুক্ত এবং উন্নত হতে হয়, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এ ক্ষেত্রে তিনজনের ভূমিকা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তারা হলেন বাবা, মা এবং শিক্ষক।’
খুবই বাস্তব উপলব্ধি এ নিয়ে সংশয়ের নেই।

তবে আজকের এই শিক্ষক দিবসের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আছে।শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার গুণমুগ্ধ ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন ‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।’
সেই শুরু। সেই থেকে আজও এই দিনটি
শিক্ষক দিবস রূপে পালিত হয়।

আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস এবং আদর্শ
শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন।
সকল শিক্ষককে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা এবং
শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।

আঢ্য বাড়ির দূর্গা পুজো

আঢ্য বাড়ির দূর্গা পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের বনেদিবাড়ির দূর্গাপুজোর এই পর্বের সাথে এই ছড়ার সম্পর্ক আছে।আজ আলোচনা করবো চুঁচুড়ার আঢ্য বাড়ির পুজো নিয়ে যা প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো একটি বিখ্যাত পুজো।
এই পরিবারের একজন অন্যতম প্রাণপুরুষ, ছিলেন যোগীন্দ্রলাল আঢ্য ওরফে যগু মাস্টার।
যখন বাংলায় প্রথম রেলগাড়ি চলতে শুরু হয়
সেই সময় হুগলি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ছিলেন যগুবাবু। তার হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা। তারপর থেকে বংশানুক্রমে আঢ্য বাড়িতে হয়ে আসছে পুজো আজও চলছে সেই পুজো।
এখানে প্রতিমা শিল্পী থেকে শুরু করে পুরোহিত, রান্নার বামুন ঠাকুর প্রত্যেকেই বংশানুক্রমিকভাবে যুক্ত রয়েছেন আঢ্য বাড়ির পুজোর সঙ্গে। কুমারী পুজোতে যে মেয়েটি বর্তমানে পূজিতা হয়, সেও প্রথম যুগের কুমারী মেয়েটির বংশেরই কন্যা।
আঢ্য বাড়িতে দেবী দূর্গা দশভুজা নন তিনি দ্বিভুজা। তিনি এখানে শিবের কোলে অধিষ্ঠাতা। তবে শিবদুর্গার সঙ্গে তাদের পুত্র কন্যারাও থাকেন।
আঢ্য বাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তবে কুমারীপুজো, যজ্ঞ এবং চণ্ডীপাঠ পালন করা হয় শাক্ত মতে। এই বাড়ির পুজোর আরেকটি বৈশিষ্ট্য মিষ্টি৷ পুজোর ফলমূল আর মিষ্টি পরিবেশন করা হয় কাঠের বিশাল তেপায়াতে করে।সেই পাত্রের নাম লটকান।
আঢ্য বাড়িতে মহালয়ার দিন থেকেই প্রতি সদস্য নিরামিষ আহার করেন। দশমীর দিন পুজো শেষে বাড়ির বিবাহিত মহিলারা আরশিতে মায়ের প্রতিবিম্ব দেখার পর খাওয়া হয় আমিষ ।
সুদূর অতীতে এই পরিবারে কাঙালি ভোজন এবং বিদায়ের রেওয়াজ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসতেন প্রচুর দরিদ্র মানুষ। এলাহী আয়োজন থাকতো তাদের জন্য। বর্তমানে সেই প্রথা নেই।
তবে বাকি সব রীতি নীতি আজও মানা হয়।
বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজোর পরের পর্ব নিয়ে
ফিরে আসবো যথা সময়ে। থাকবে অন্য কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গাপূজোর কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রর দূর্গা পুজো

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রর দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার ইতিহাসে বিশেষ করে পলাশী যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে কলকাতার পাশাপাশি নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররা ভূমিকা ছিলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এই রাজ পরবারের দূর্গাপুজার আলাদা মাহাত্ম আছে। সেই নিয়েই আজকের পর্ব।

 

মনে করা হয় কৃষ্ণচন্দ্র মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরকে সাহায্য করেন প্রতাপাদিত্যকে হারাতে। তারপরে কৃষ্ণচন্দ্রকে কৃষ্ণনগরের রাজা করেন জাহাঙ্গীর|রাজত্ব লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক সহকারে দূর্গা পুজো শুরু করেন যা আজও চলে আসছে বংশ পরম্পরায় আগে এই পরিবারে অন্নপূর্ণার পুজো হতো|

 

এই বাংলায় দূর্গা পুজোর শুরু কবে হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিক দের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট|তবে প্রথম দূর্গা পুজো হয়েছিল কোনো রাজ পরিবারে এবং অনেক পরে বারোয়ারি পুজোর সূচনা হয়|সে ক্ষেত্রে একদম প্রথম পারিবারিক পুজোগুলির অন্যতম কৃষ্ণনগর রাজ বাড়ির পুজো|

 

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে|দেবীর এখানে যুদ্ধবেশ পরনে টকটকে লাল শাড়ি|গায়ে বর্ম ও হাতে অস্ত্র। যেহেতু বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তাই দেবী ঘোটকাকৃতি সিংহের ওপর আসীন|একচালা প্রতিমার পিছনে থাকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছটা ও তাতে আঁকা থাকে দশমহাবিদ্যা|

 

রীতি অনুসারে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে মহালয়ার পর দিন থেকেই শুরু হয় পুজো এবং রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। প্রাচীন প্রথা অনুসারে তাকে বেহারাদের কাঁধে চড়িয়ে আনা হয়|এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল সন্ধিপুজো ও দশমীর দিন সিদুর খেলা|আজও সন্ধিপুজোর সময়ে ধোয়ায় ঢেকে যায় দেবীর মুখ এবং প্রচলিত বিশ্বাস, সেই সময়ে মা আসেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে, বিজয়া উপলক্ষেআশেপাশের বহু মহিলা রাজবাড়ির সিদুর খেলাতে অংশগ্রহণ করেন|পুজোতে পশু বলি বা দশমীতে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়তো আজ আর নেই তবুও আবেগ ও ভক্তি রয়েছে একই রকম|

 

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র পলাশীর যুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচিত হতে পারেন তবে তার দান ধ্যান,ধর্ম কর্ম এবং বিশেষ করে দূর্গাপুজোর জন্য তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

 

আজ বিদায় নিলাম আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে বনেদী বাড়ির পুজোর ইতিহাস নিয়ে।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

লাহা বাড়ির দূর্গা পুজো

লাহা বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ধারাবাহিক ভাবে কলকাতার এক কালের বনেদি বাড়ি গুলিরা দূর্গা পুজোর ইতিহাস, সেকাল এবং একাল নিয়ে লিখছি।আজ কলকাতার আরো একটি বিখ্যাত এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন দূর্গা পুজো লাহা বাড়ির পুজো নিয়ে লিখবো।

 

প্রথমে বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা|পরবর্তীতে কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা|এ বাড়ির পুজোর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা আর বেশ অদ্ভুত এবং আর কথাও চোখে পড়েনা|লাহা বাড়ির কুল দেবতা সিংহ বাহিনী এবং দূর্গা পুজোর সময়ের দেবী দূর্গা সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|

 

সিংহ বাহিনীর পুজো নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনা আছে।শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল এই বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছে স্বপ্নাদেশ মেয়ে মূর্তি উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, দেবী বড় বিপন্ন। তিনি যত্নে দেবীকে তুলে নিয়ে এসে কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন|সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত|

 

মনে করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়|এই বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে কলকাতার বনেদি বাড়ির বড়ো পুজোগুলোর একটা|

 

এ বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ অন্য|তিনি এখানে হরপার্বতী রূপের পূজিতা হন|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা।দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|

 

দেবীর রূপ ছাড়াও লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দুই তিন পড়ে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়।প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি|এখনো বলী প্রথা পুরো পুরি লুপ্ত হয়নি তবে প্রাণী হত্যা হয়না|বলী হয় কুমড়ো বা শসা|বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রথা বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবা

ভেতরে প্রবেশ করে|

 

বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো গুলি নিয়ে আছে এমন অনেক ইতিহাস এবং ঘটনা। সেসব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

রানী রাসমণির বাড়ির দূর্গা পুজো

রানী রাসমণির বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বাধীনতারা আগে বাংলার রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির পূজা গুলির মধ্যে যখন দূর্গাপুজোর জাঁকজমক নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছিল তখন তাদের মধ্যে একটি পরিবার ছিলো যারা বাহ্যিক জাঁকজমক থেকে নিষ্ঠা, সারল্য ও শাস্ত্রীয় আচরণকে বেশি গুরুত্ব দিতো|এই পুজো হতো কলকাতার জান বাজারের রানী রাশমনির পরিবারে|এই পুজোর সাথে জড়িত আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের নাম, রয়েছে অনেক গল্প।

 

এই বাড়িতে দূর্গা পুজোর সূচনা করেন এই বংশের প্রাণপুরুষ এবং রানী রাসমণির শশুর মশাই শ্রী প্রীতরাম দাস|তার পর পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন পুত্র রাজেন্দ্র দাস এবং স্বামীর অবর্তমানে এই পরিবারের জমিদারি, ব্যবসা এবং দুর্গাপূজার দায়িত্বে আসেন রানী রাসমণি ও তার আমলে পুজোর শ্রী আরও বাড়ল|মনে করা হয় সেই সময়েই পুজোয় খরচ হত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ধর্ম কর্মের ব্যাপারে রানী রাসমণির বেশ সুনাম ছিলো এবং খরচা করতেন অনেক অর্থ তার সবচেয়ে বড়ো প্রমান তো দক্ষিনেশ্বর মন্দির।

 

একবার বাবুঘাটে কলা বৌ স্নান করাতে যাওয়ার সময় রানী রাসমণির সাথে বিবাদ বাধে এক ইংরেজ সাহেবের|জল অনেক দূর গড়ায় এবং রানীকে পঞ্চাশ টাকা জরিমানাও করা হয়|কিন্তু দমবার পাত্রী ছিলেন না রানী রাসমণি|ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলে তিনি এবং আরো বড়ো করে দূর্গা পুজোর আয়োজন করেছিলেন|বেগতিক দেখে পিছু হট তে বাধ্য হয়ে ছিলো ইংরেজরা|

 

একবার এখানে দূর্গা পুজো করতে এসেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ তবে ভিড় এড়াতে তিনি এক নারীর ছদ্মবেশ ধারন করেছিলেন|সখি বেশে চামর দুলিয়ে দূর্গাপুজো করেছিলেন রামকৃষ্ণদেব এবং জগদ্ধাত্রী পুজো অবধি তিনি এই বাড়িতেই ছিলেন|

 

পুজো উপলক্ষে রানী রাসমণির পরিবারে কখনো বাই নাচ বা খানা পিনার আসর বসেনি সেই ভাবে তবে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে মাতৃ শক্তির আরাধনার জন্য এই বাড়ির সুনাম ছিলো|পরবর্তীতে রানী রাসমণির জামাতা মথুর বাবু এই পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন|বংশ পরম্পরায় সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে|আজও এখানে সমান ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়|বাড়ির লোকেরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে সারা বছরই বিরাজ করেন|শোনা যায় এক কালে নাকি মধ্য রাত্রে, বাড়ির ঠাকুর দালানে দেবীর পায়ের নুপুরের শব্দও শোনা যেত|

 

প্রথা মেনে রাসমণি বাড়িতে কাঠামো পুজো হয় রথের দিন।প্রতিপদথেকে ঘরে পুজো শুরু হয়। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন এবং বেলবরণ। ওইদিনই দেবীর হাতে অস্ত্র দিয়ে গয়না পরানো হয়|সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিনদিনই কুমারী পুজো হয়|এক কালে বলী প্রথা থাকলেও বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকবছর|আজও এই বাড়িতে ভোগে দেবীকে লুচি ও পাঁচরকম ভাজা অর্পণ করা হয় আর থাকে নানা রকম মিষ্টি।

 

ফিরে আসবো ধারাবাহিক লেখনীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে থাকবে বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে আরো একটি পর্ব।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

ছাতু বাবু লাটু বাবুর পুজো

ছাতু বাবু লাটু বাবুর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের পর্বে আপনাদের কলকাতার বিখ্যাত ছাতু বাবু লাটু বাবুর বাড়ির দূর্গাপুজোর কথা জানাবো। এই পুজোর কথা না বললে কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাস সম্পূর্ণ হবেনা।

ব্রিটিশ আমলে রাম দুলাল দে ছিলে পুরোনো কলকাতার বাবু সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র|শোনা যায় তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম লাখপতি|তিন ব্রিটিশ আমলে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করে অগাধ সম্পত্তি করেছিলেন|

তিনিই প্রথম তার বসত ভিটে রামদুলাল নিবাসে দূর্গা পূজা শুরু করেছিলেন|তার অবর্তমানে তার দুই পুত্র আশুতোষ দেব ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথনাথ দেব ওরফে লাটুবাবু পুজো শুরু করেন। সেই সময়েই এই পুজো বিখ্যাত হয়|প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যায় করে ও ব্যাপক ধুম ধাম করে দূর্গা পুজো হতো এই বাড়িতে|দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রায় গোটা কলকাতার নিমন্ত্রণ থাকতো |পুজোর সময় যাত্রা হত এমন কি বাঈ নাচের আসর ও বসতো|

শোনা যায় এককালে এখানে পশু বলীও দেয়া হতো কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলী প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বহু কাল আগে|বলা হয় একবার বলি দেওয়ার সময় পাঁঠাটি ছুটে চলে আসে সামনে দাঁড়ানো রামদুলাল দের কাছে। সেই থেকে এই পুজোয় পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে তার বদলে এখন আঁখ, চালকুমড়ো, শসা বলি হয়।

সেই পুরোনো জৌলুস আর নেই তবু নিষ্ঠা সহকারে সকল প্রথা মেনে দূর্গা পুজো হয়|রথের দিন কাঠামো পুজোর পর প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো|এখানে শুরুর দিন থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত গৃহদেবতা শালগ্রাম শিলার পুজো করা হয় এবং তৃতীয়াতে দেবীকে আসনে বসানো হয়|এই বাড়িতে শাক্ত, শৈব এবং বৈষ্ণব তিনটি মতেই পুজো হয়|উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই বাড়ির পুজোয় দেবীর পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী থাকেন না এবং পদ্মের উপর থাকেন মা দুর্গার দুই সখী জয়া আর বিজয়া।তাছাড়া পুজোর তিন দিন|এছাড়া এখানে কুমারী পুজোও হয় নিষ্ঠা সহকারে|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে পরের পর্বে অন্য একটি জমিদার বাড়ি বা বনেদি বাড়ির পূজার কথা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।