জগন্নাথদেবের ভোগ

5

জগন্নাথদেবের ভোগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর মন্দির বিখ্যাত তার ভোগের জন্য কারন জগন্নাথ দেব ভোজন রসিক। তিনি খেতে ভালোবাসেন।

 

বলা হয় বিষ্ণু জগন্নাথ রূপে পুরীতে আসেন আহার গ্রহন করতে। পুরী ধামে গিয়ে তিনি ছাপ্পান্ন ভোগ গ্রহণ করেন।তাছাড়াও সারাদিনে নিয়ম করে তাকে নানা রকম সুস্বাদু খাবার দেয়া হয়।

 

জগন্নাথের ভোগে মূলত দুই ধরনের খাবার দেওয়া হয়। ভাত, ডাল, তরকারি, খিচুড়ি জাতীয় রান্না করা খাবার থাকে। আর থাকে খাজা, গজা, খই, মুড়কি জাতীয় শুকনো খাবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোট ছয় বার ভোগ দেওয়া হয় জগন্নাথদেবকে। সব রান্নাই তৈরি হয় মন্দিরের নিজস্ব রন্ধনশালায়।সেই রান্নার আলাদা এবং অদ্ভুত কৌশল আছে। সে নিয়ে পরে কোনো সময়ে জানাবো।

 

সাধারণত সকাল সাত টায় নিদ্রা ত্যাগ করার পর জগন্নাথদেবকে প্রথম ভোগ দেওয়া হয়। এই ভোগকে বলা হয় ‘গোপালবল্লভা ভোগ’। এরপর জগন্নাথদেবের ভোগ হয় সকাল ১০টায়। যাকে বলা হয় ‘সকালা ধূপা’। তারপর থাকে রাজভোগ সকালের এই ভোগে থাকে কুড়ি রকমের পদ। সেগুলি হল, পিঠে-পুলি, বাদকান্তি, এন্ডুরি, মাঠা পুলি, দহি, অন্ন, হামসা কেলি, বড়া কান্তি, কাকাতুয়া ঝিলি ইত্যাদি যেগুলি ওড়িশার প্রাচীন পরম্পরা মেনে নির্মিত। আবার আদা পঁচেদি, বোঁদে ইত্যাদি মিষ্টিও থাকে

আর থাকে নানা রকম খিচুড়ি যেমন টাটা খিচুড়ি, নুখুরা খিচুড়ি, সানা খিচুড়ি, মেন্ধা মুন্ডিয়া, আধা আনিকা, তাইলে খিচুড়ি, সাগু ও দালা খিচুড়ি এবং কণিকা ভোগ যা আসলে একরকম পোলাও।

 

দুপুরের ভোগ মূলত অন্নভোগ। সেখানে থাকে ভাত, ডাল, শুক্তো, তরকারি ও পরমাণ্ণ। এছাড়াও থাকে ক্ষীর ও মালপোয়া। সন্ধেবেলায় দেওয়া হয় লেবু, দই দিয়ে মাখা পান্তাভাত। সঙ্গে খাজা, গজা এবং নানা ধরনের মিষ্টি। শয়নের আগে মধ্যরাতে ডাবের জল খেয়ে শুতে যান জগন্নাথ।

 

শুধু স্নান যাত্রার পর জ্বর থাকার এই কয়েকটি দিন বাদ দিয়ে সারা বছর চলতে থাকে এই জগন্নাথদেবের এই রাজকীয় আহার।

 

ফিরে আসবো প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে

আগামী পর্বগুলিতে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।