প্রভু জগন্নাথের জ্বর এবং চিকিৎসা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এবছরের মতো স্নান যাত্রা সমাপ্ত। এই মুহূর্তে জ্বরে ভুগছেন প্রভু জগন্নাথ।কারন প্রতি বছর স্নান যাত্রায় ১০৮ কলসি জল ঢেলে স্নান করানোর পরে জ্বর আসে জগন্নাথদেবের। এই সময় কি কি হয়
পুরীর মন্দিরে। কিভাবে জগন্নাথদেবের যত্ন নেয়া হয় এবং তার চিকিৎসা হয় সেইসব নিয়েই আজকের পর্ব।
জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে এই সময়ে জ্বরের কারণে আলাদা রাখা হয়।এই সময়ে সাধারণ দর্শণার্থীদের সাথে সব রকম সাক্ষাৎ বন্ধ থাকে।
ঠিক ১৪ দিন এই অবস্থায় রাখা হয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে
চোদ্দ দিন আলাদা রাখার পরামর্শ দেয় হয়। এই প্রথা বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে জগন্নাথ মন্দিরে। আয়ুর্বেদ এবং কবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এমন নিয়ম সৃষ্টি হয়েছে।
জগন্নাথদেব ভোজন রসিক তবে এই সময়ে ছাপ্পান্ন ভোগের পরিবর্তে এই সময় তাঁদের অসুখের উপযোগী সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় এবং নিয়মিত আয়ুর্বেদ মতে তাঁদের চিকিত্সা চলে।প্রভুর শ্রী অঙ্গ মালিশ করে দেয়া হয় তাঁর কষ্ট লাঘবের জন্য।চিকিৎসা করেন নিদ্দিষ্ট একজন বৈদ্য যিনি রাজ বৈদ্যর মর্যাদা পান।
এই প্রক্রিয়াটি পুরীতে আনাসর নামে পরিচিত। এই সময়ে জগন্নাথের থাকার জন্য আলাদা কক্ষ আছে এবং সেই কক্ষটিও আনাসর কক্ষ
নামে পরিচিত।
জ্বরের সময়ে কি কি পথ্য এবং খাদ্য দেয়া হবে কি কি উপায়ে চিকিৎসা হবে তা খুব একটা প্রকাশ্যে আনা হয়না তবে প্রাচীন কিছু ওড়িয়া গ্রন্থে কিছু তথ্য লিপিবদ্ধ আছে। মূলত হাল্কা খিচুড়ি, মুগডাল, ঘোল পরিবেশন করা হয় এই সময়ে।ওষুধের মধ্যে তুলসী, আদা, দারুচিনি,মধু এবং কিছু কবিরাজি মিশ্রনের উল্লেখ পাওয়া যায়।
অদ্ভুত ভাবে এই সময়ে প্রভু জগন্নাথের দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তিনি সেরে উঠলে পুনরায় দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
প্রভু সেরে উঠলে নেত্র উত্সব
পালন হবে সেদিন তাঁর নেত্র দান সম্পন্ন হবে।
তারপর রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হবে।
আবার জগন্নাথ দেব সংক্রান্ত বিশেষ
পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
