Home Blog Page 168

তারাপীঠ ভ্রমণ

এতক্ষনে নিশ্চই সবাই বুঝেই গেছেন কোন বিশেষ কারনে আমার এই ছুটি কাটানো বা স্বপরিবারে তীর্থ ভ্রমণ|হ্যাঁ আজ তেইশে জানুয়ারি আমার জন্মদিন|যারা ফোন করে, ম্যাসেজ করে বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাদের জানাই অনেক ধন্যবাদ|আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও আশীর্বাদ আমার আগামী দিনের পথ চলা আরো সুগম করবে|

বিগত দুদিন ধরে বর্ধমান ও বীরভূমের বেশ কিছু উল্লেখ যোগ্য তীর্থ ক্ষেত্র দর্শন করেছি এবং সেই অভিজ্ঞতাও আপনাদের সাথে ছবি ও লেখার মাধ্যমে|আপনাদের তা বেশ ভালো লেগেছে বুঝতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই উৎসাহ বেড়ে গেছে কয়েক গুন|তাই আজ অর্থাৎ এই বারের ভ্রমণের শেষ দিনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

আজ এসে পৌঁছেছি বীরভূমের অন্যতম আকর্ষণ তারাপীঠে|বহু বার এসেছি তারাপীঠে, কাজে বা নিছক ঘুরতে বা মা তারার দর্শন লাভ করে ধন্য হতে|তবে যতবারই আসি নতুন করে রোমাঞ্চ অনুভব করি, মুগ্ধ হই|তারাপীঠ একা ধারে বাংলার তন্ত্র সাধনার প্রান কেন্দ্র, বশিষ্ঠমুনির সিদ্ধি লাভের স্থান আবার বামা খেপার লীলা ক্ষেত্র|এখানে আসা বা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে তো আর নতুন কিছু বলার নেই তাই আজ নতুন করে বরং তারাপীঠের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও ইতিহাস আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই|

তন্ত্র সাধনায় তারাপীঠের গুরুত্ব অপরিসীম কারন
তন্ত্রে তারাকে বলা হয়েছে দ্বিতীয় মহাবিদ্যা|এই বিষয়ে আমি আগেই আলোচনা করেছি দশমহাবিদ্যা লেখনীর মাধ্যমে|তারাপীঠ শ্মশান তন্ত্র সাধনার এক উৎকৃষ্ট স্থান কারন এটি কোনো সাধারণ শ্মশান নয় এটি মহা শ্মশান এই মহাশ্মশানেই জীবন আর মৃত্যুর পটভূমি নিত্য রচনা করে চলেন দেবী তারা|প্রচলিত বিশ্বাস বলে তারাপীঠের মহাশ্মশানেও জ্যোতিরূপে বাস করেন দেবী|কিংবদন্তী অনুসারে দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস। এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ। দূর হয় সব পাপ|আশ্চর্যজনক ভাবে এই নদী উত্তর মুখী|তারাপীঠের পঞ্চমুন্ডীর আসন ও জগৎ প্রসিদ্ধ এই পঞ্চমুণ্ডের আসন আলাদা। এখানে পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের। এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ পরবর্তীতে বামা ক্ষেপা|

মাতারার মুল প্রস্তর নির্মিত মূর্তি টি রয়েছে একটি ধাতব মূর্তির অভ্যন্তরে|এই মূর্তিটি ভীষণা চতুর্ভূজা, মুণ্ডমালাধারিণী এবং লোলজিহ্বা মূর্তি। এলোকেশী দেবীর মস্তকে রয়েছে একটি রৌপ্যমুকুট |বহির্মূর্তিটি সাধারণট শাড়ি-জড়ানো অবস্থায় গাঁদা ফুলের মালায় ঢাকা অবস্থায় থাকে। মূর্তির মাথার উপরে থাক একটি রূপোর ছাতা|প্রতিকৃতি বিগ্রহের নিচে গোলাকার বেদীতে দুটি রূপোর পাদপদ্ম থাকে|যারা তারা পীঠ মন্দির ও দেবীকে দর্শন করেছেন তারা জানেন উত্তরমুখী আটচালা মন্দিরটি লাল ইঁটে নির্মিত এবং মন্দিরের চূড়ায় একটি তামার পতাকাসহ ত্রিশূল ত্তিনটি পদ্ম ভেদ করে উঠেছে|প্রাচীন কালে বণিক জয় দত্তের তৈরি করে দেওয়া তারামায়ের মন্দিরটি আজ আর নেই। বর্তমানের মন্দিরটি ১২২৫ বঙ্গাব্দে তৈরি করান মল্লারপুরের জগন্নাথ রায়|যারা বিশ্বাস করেন তারাপীঠ একটি সিদ্ধ পীঠ তারা মনে করেন দেবী সতীর চোখের ঊর্ধ্বনেত্রের মণি অর্থাৎ তারা পড়ায় দ্বারকা নদীর পুব পাড়ের চণ্ডীপুর আজ তারাপীঠ|

তারাপীঠ সিদ্ধ পীঠ না কেবল মাত্র একটি জাগ্রত শক্তি পীঠ বা উপপীঠ এ নিয়ে বিতর্ক ও মতান্তর বহু যুগ ধরে চলে আসছে|কথিত আছে বশিষ্ট দেব সাধনা করতেন কামাখ্যায় কিন্তু কোনো কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কামাখ্যা ত্যাগ করেন ও বাংলার বীরভূমের এই বিশেষ স্থানে এসে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে দেবী উগ্রতারার সাধনা শুরু করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন|পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই স্থান মাহাত্ম লোক মুখে প্রচারিত হয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারাপীঠ|

পরবর্তীতে আরেক মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে এই মহা তীর্থে, তিনি সিদ্ধ পুরুষ বামা ক্ষেপা|বামা ক্ষেপাও তারাপীঠে পঞ্চমুন্ডীর আসনে বসে সিদ্ধি লাভ করেন ও দেবীর দর্শন লাভ করে ধন্য হন|সেই পরম্পরা চলেছে বহু যুগ ধরে একাধিক তান্ত্রিক সাধক ও মাতৃ সাধকের সাধনার প্রধান কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে তারাপীঠ|হয়ে উঠেছে দেশের আধ্যাত্মিক সাধনা ও বিশেষত তন্ত্র সাধনার অন্যতম প্রান কেন্দ্র|লাল মাটির দেশ বীরভূমে অবস্থিত তারাপীঠের পরিবেশ ও অতি মনোরম ও তন্ত্র সাধনার আদর্শ|রয়েছে মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশান ও অদূরেই অতি পবিত্র দ্বারকা নদী|
কিছু দুরে আটলা গ্রামে বামদেবের জন্মভিটেও একটি দর্শনীয় স্থান|

লক ডাউনে তিন মাস বন্ধ ছিলো তারাপীঠ মন্দির|লক ডাউন খোলার পর এই আমার প্রথম তারাপীঠ দর্শন তাই আনন্দ ও উৎসাহ ভাষায় প্রকাশ করা যায়|তবে ভাবলে একটু খারাপ লাগছে আবার ফিরে যেতে হবে কর্মব্যাস্ত জীবনে, আবার পেশাদার জ্যোতিষ চর্চা|সে যাই হোক কর্ম ও এক ধরণের সাধনা|কর্ম তো করে যেতে হবে|কাল থেকে আবার আপনারা আমার উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

লাল মাটির দেশে

লাল মাটির দেশ, মানে বীরভূম আমার বরাবরই বেশ প্ৰিয় স্থান, বহু বার এসেছি পেশাগত কারনে তবে এবার নিছক ঘুরতে, স্বপরিবারে, ছুটির মেজাজে, বীরভূমের প্রতি আমার বিশেষ টানের একটি কারন অবশ্যই আধ্যাত্মিক কারন এই একটি ছোট্ট জেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি শক্তি পীঠ|

বিগত দিনে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দির ও সাধক কমলা কান্তের মন্দির দর্শন করেছি আপনাদের সাথে সেই অপূর্ব অভিজ্ঞতা ভাগও করে নিয়েছি, আজ প্রথমে এলাম একান্ন পীঠের সর্ব শেষ পীঠ কঙ্কালী তলা দর্শনে|

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র কঙ্কালী তলায় দেবীর কঙ্কাল পড়েছিলো তাই এই পীঠঠের নাম হয় কঙ্কালী তলা তবে ভরত চন্দ্রের অন্যদামঙ্গল এ আবার অন্য কথা বলা হচ্ছে,ভরত চন্দ্রের মতে এখানে দেবীর কাঁক বা কোমর পড়ে ছিলো,সেই থেকেই কঙ্কালী তলা|

মন্দিরের পাশেই এক রহস্য ময় কুন্ডর অবস্থান, প্রচলিত বিশ্বাস এই কুন্ডর জল কোনো দিনও শোকায় না আর এই কুন্ডর মধ্যেই আছে এক শীলা খন্ড বা জীবাশ্ম যা প্রকৃত পক্ষে দেবীর কাঁক বা কোমরের প্রস্তরীভূত রূপ, এই শীলা খন্ড কিছু কিছু বিশেষ বিশেষ তিথি তে তুলে এনে ভক্তিভরে পূজা করা হয় |

দেবী এখানে দেবগর্ভা রূপে পূজিতা হন,তার কোনো মূর্তি নেই, তিনি একটি পটে চিত্রিত |কিংবদন্তী অনুসারে কোনো এক অলৌকিক কারণে দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় নি, এবং এই ভাবেই দেবীর পূজা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|মন্দিরের পাশেই শিব একটি বিশেষ রূপে পূজিত, তার এই বিশেষ রূপ টির নাম “রুরু ” |

এরপরের গন্তব্য শক্তি পীঠ ফুল্লরা, দেবী ভাগবত পুরান অনুসারে দেবী সতীর খণ্ডিত ওষ্ঠের নিম্ন ভাগ পড়ে ছিলো যে স্থানে সেখানেই সৃষ্টি হয়েছে ফুল্লরা নামক শক্তি পিঠ টি |আশ্চর্যর অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় এই মন্দিরে দেবীর কোনো বিগ্রহ নেই তার বদলে আছে এক রহস্যময় শিলা খন্ড যা দেবীর প্রতিভূ হিসেব পূজিতা হয়ে আসছেন যুগ যুগ ধরে|দেবীর আরেক নাম অট্টহাস |আর মন্দিরের পাশেই আছে এক বিরাট পুকুর, কিংবদন্তী যদি সত্যি হয় রাম যখন দূর্গা পূজা করে ছিলেন এই পুকুর থেকে হনুমান সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়ে ছিলেন একশ আট টি পদ্ম |এই পুকুরের আরেকটি নাম দেবী দহ, কথিত আছে এই পুকুরের জল কখনো শোকায় না|

কিছু ইতিহাসকার মনে করেন, সুলতান গজনীর ভারত আক্রমণ এর সময়ে একদল নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ আশ্রয় নিতে আসেন বাংলার এই স্থানে তাদের মধ্যেই কেউ সাথে নিয়ে আসেন এই বিগ্রহ|পরে বর্মন রাজারা এই দেবীকে প্রতিষ্ঠিত করেন |প্রথম মন্দির তৈরা করান কৃষ্ণা নন্দ গিরি, বর্তমান মন্দির টি তৈরী করান যাদব লাল বন্দোপাধ্যায় |

শোনা যায় এক সময় মন্দির চূড়ায় শোভা পেতো স্বর্ণ কলস, কালের নিয়মে সেই জৌলুস হয়তো অনেকটাই ম্লান কিন্তু এই স্থানের আধ্যাত্মিক ও ধার্মীক গুরুত্ব কমে নি এতোটুকু

বোলপুরে এসে কোপাই নদীর কথা না বললেই নয়, এই কঙ্কালী তলার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্ৰিয় নদী কোপাই|শান্তি নিকেতনে থাকা কালীন রবীন্দ্রনাথ বলতেন, কোপাই আমার প্রতিবেশী|রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই নদীর বর্ণনায় লিখেছেন-

” আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকেবৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে”

এ কবিতা ছোটবেলায় আমরা প্রায় সবাই পড়েছি, এই কোপাই এর তীরে কিছুটা সময় কাটানো মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়, আমি তা বেশ অনুভব করছি|

এরপরে কিছুটা নদীর গতি পথ ধরেই পৌঁছে যাবো সোনাঝুরির হাটে, সেই বিখ্যাত গ্রামীণ হাট যেখানে গেলে শোনা যায় বাউল গান আর পাওয়া যায় গ্রামের শিল্পী দের নিজে হাতে তৈরি রকমারি সব জিনিস… সে অভিজ্ঞতাও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|আপাতত এই টুকু থাক|

বুঝতেই পারছেন আপাতত একটু অবসর যাপন, তাই যারা জ্যোতিষী ভৃগুশ্রী জাতক কে খুঁজছেন বা যোগাযোগ করছেন, তারা তারা দুদিন পর থেকে আবার যোগাযোগ করতে পারেন যেমন টা করে থাকেন, আর ফোন করতে চাইলে পোস্টে উল্লেখিত নাম্বার টি ব্যবহার করবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ভারতের সাধক – কালী সাধক কমলাকান্ত

ভারতের সাধকদের নিয়ে লেখা মানে এক গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়া,কারন আমাদের দেশ আধ্যাত্বিক চর্চার পুন্য ভূমি, বহু মহান সাধক জন্মেছেন এই দেশে, কাকে রাখবো তালিকায় আর কাকে বাদ দেবো! তবে শুরু যখন করেছি এগিয়ে তো নিয়ে যেতে হবে,আজ লিখবো বাংলার এক মহান কালী সাধক কমলাকান্তের অলৌকিক জীবনের কথা|

এই লেখার জন্যে আজকের দিনটাই কেনো বেছে নিলাম তার ও একটি বিশেষ কারন আছে, আজ আমার জীবনের একটি বিশেষ দিন এবং আজ আমি ঘটনাচক্রে সাধক কমলাকান্তের সাধন ভূমি ও তার মন্দিরেই উপস্থিত|তাই ভাবলাম এটাই শ্রেষ্ঠ সময় এই মহান সাধক ও অলৌকিক জীবনের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্যে|

সাধক কমলাকান্তের সাধন ক্ষেত্র ছিলো বর্ধমান, তার নানান অলৌকিক কর্মকান্ড ও সাধনার সাথে জড়িয়ে আছে বর্ধমান রাজপরিবার ও তার সমসাময়িক রাজা তেজচাঁদের নাম|

কমলাকান্ত ছিলেন তন্ত্র সাধক তবে গান ছিলো তার সাধনার অন্যতম মাধ্যম, শ্যামা সংগীত ও তন্ত্র সাধনা এই দুই ছিলো কমলাকান্তের জীবনের প্রধান অঙ্গ|মহারাজ তেজ চাঁদ কমলাকান্তের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সভা পণ্ডিত করে বর্ধমান রাজবাড়িতে নিয়ে যান|পরবর্তীতে তেজ চাঁদ কমলাকান্তের তন্ত্রসাধনার কথা জানতে পারেন এবং রাজার উদ্যোগেই কমলাকান্তের সাধনার জন্য তৈরি হয় এই কালী মন্দির।

বাঁকা নদীর ধারে অবস্থিত পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে তন্ত্র সাধনা করতেন সাধক কবি কমলাকান্ত আর গান গাইতেন প্রান খুলে|

কথিত আছে একবার অমাবস্যার রাতে রাজা তেজচাঁদকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত|সাধকের অলৌকিক ক্ষমতার কথা জেনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলেন রাজা|

লোক মুখে শোনাযায় একবার মা কালীর মূর্তির প্রাণ রয়েছে দাবি করেছিলেন কমলাকান্ত|রাজা এই দাবীর স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলে প্রতিমার পায়ে বেল কাঁটা ফুটিয়ে দেন কমলাকান্ত|রাজা দেখেন সেই ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছে|এমনই ছিলো সাধক কমলাকান্তের অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব|

কমলাকান্তের জীবনে ঘটে যাওয়া আরো অনেক অলৌকিক ঘটনার কথা জানা যায়, যার মধ্যে একটি কাহিনী বেশ জনপ্রিয়, শোনা যায় একবার
একদিন রাজা জানতে পারেন কাজকর্ম ভুলে সর্বক্ষণ মদ্যপান করছেন কমলাকান্ত। রাজা সেখানে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করলে কমলাকান্ত কমণ্ডলু থেকে রাজার হাতে ঢেলে দেন সুরা|অবাক হয়ে রাজা দেখলেন এতো সুরা নয়, খাঁটি দুধ| কমলাকান্তের অলৌকিক ক্ষমতায় সুরা পরিণত হয়ে ছিলো দুধে|

এই মহান সাধকের মৃত্যুর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে অলৌকিক ঘটনা|দেহত্যাগের সময় কমলাকান্তকে গঙ্গায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন রাজা। কমলাকান্ত যেতে চাননি। তারপরই দেখা যায় মাটি ভেদ করে উঠে জলের ধারা পড়ছে কমলাকান্তের মুখে|সেই স্থান বাঁধিয়ে কুয়ো তৈরি করা হয়|সেই অলৌকিক জলাধার আজও আছে|সেই কুয়োর জল আজও গঙ্গাজল হিসেবে কাজে লাগানো হয় এবং সেই জল ব্যবহার করা হয় পুজো, ভোগ রান্নার কাজে|

সাধক কমলাকান্তকে মৃত্যুর পর মন্দিরে সমাধিস্থ করা হয় এবং তাঁর সমাধির ওপরই রয়েছে মায়ের বেদি যেখানে প্রতিষ্ঠিত কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমা|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পূজার পাশাপাশি দীপান্বিতা কালীপুজোয় তিনদিন ধরে উৎসব চলে এখানে যা দেখতে আসেন দূরদূরান্তের মানুষ|আমি এলাম, দর্শন করলাম ও মুগ্ধ হলাম আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, আশা করি ভালো লাগলো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন আর যেকোনো জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত কাজের জন্যে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বিদেশে শক্তিপীঠ – শৈল, বাংলাদেশ

দেশ বিদেশে উপস্থিত শক্তি পীঠ ও তাদের সাথে জড়িত নানান গল্প নিয়ে শুরু করেছিলাম শক্তিপীঠ শীর্ষক ধারাবাহিক লেখনী ইতিমধ্যে অনেকগুলি পর্ব আপনাদের সামনে এনেছি|আজ বলবো প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অবস্থিত শক্তিপীঠ শ্রীশৈল নিয়ে|

বাংলাদেশের সিলেটের ৩ কিমি উত্তর-পূর্বে দক্ষিণ সুর্মার কাছে জৈনপুর গ্রামে এই তীর্থস্থান অবস্থিত। এই স্থান শ্রী শৈল নামে বিখ্যাত তাই শক্তিপীঠ টিও শ্রী শৈল নামে চেনেন অনেকে|শাস্ত্র মতে এখানে দেবীর কন্ঠ পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে মহালক্ষী।দেবীর ভৈরব এইখানে সম্বরানন্দ নামে পরিচিত|

ভারত ও বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের হিন্দু ভক্তদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান|প্রাচীন মন্দিরের সংস্কার হয়েছে সময়ে সময়ে এবং বর্তমানে একটি সুন্দর ও দেবী মন্দির বর্তমান যার মধ্যে একটি বিশেষ কক্ষে রয়েছেন দেবী মহালক্ষী|

প্রায় সারা বছরই ভিড় লেগে থাকে এই জাগ্রত দেবী মন্দিরে এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো উপলক্ষে জনসমাগম হয় চোখে পড়ার মতো|আপনারাও চাইলে সময় সুযোগ বুঝে একবার ঘুরে আসতে পারেন দেবী মহালক্ষীর মন্দির থেকে|

ভালো থাকুন, পড়তে থাকুন আর চেম্বারে বা অনলাইনে জ্যোতিষ পরামর্শ বা ভাগ্যগণনা করিয়ে সঠিক প্রতিকার নিতে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ধন্যবাদ|

ইন্দ্রের বজ্র এক রহস্যময় অস্ত্র

অসুর ও দেবতা,অর্থাৎ শুভশক্তি ও অশুভ শক্তি | এই দুই শক্তির দ্বন্দ্ব চলছে সেই পুরা কাল থেকে |দেবতা দের বলে বলিয়ান হয়ে একের পর এক অসুর আক্রমণ করে বসেছে দেবতাদের কেই |অধিকার করে নিতে চেয়েছে স্বর্গ মর্ত পাতাল | আবার সেই দেবতা দের ই কৌশলে রক্ষা করতে হয়েছে সৃষ্টি কে ভয়ানক সব অসুরদেয় হাত থেকে|এই দেব অসুরের সংঘর্ষ নিয়ে অসংখ গল্প ও ইতিহাস ছড়িয়ে আছে আমাদের পুরান ও অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে, আছে অনেক রহস্যময় ঘটনার উল্লেখ যার কিছু আমি ইতিমধ্যে পৌরাণিক অসুর কাহিনী তে উল্লেখ করছি, আপনারা চাইলে আমার ওয়েবসাইট এ গিয়ে পড়তে পারেন সে সব|আজ বলবো দেবরাজ ইন্দ্র ও তার রহস্যময় অস্ত্রর কথা, জানাবো কিভাবে সেই অস্ত্র সৃষ্টি হলো ও এক ভয়ানক অসুর কে বধ করা হলো সেই অস্ত্র দিয়ে|হিন্দুধর্মে দেবতাদের অনেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়, যেমন – আগ্নেয়াস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্র, গরুড়াস্ত্র, কৌমদকী, নারায়ণাস্ত্র, পশুপতাস্ত্র, শিবধনু, সুদর্শন চক্র, ত্রিশূল, বৈষ্ণবাস্ত্র, বরুণাস্ত্র ও বায়বাস্ত্র।যেকোনো যুদ্ধে, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি তে ইন্দ্র এর সাথে সদা থাকে তার বজ্র |এই জাতীয় অস্ত্র আর কোনো দেবতা কে ব্যবহার করতে দেখা যায়না, হয় তো তিনি দেবরাজ তাই |অসীম শক্তিশালী এই অস্ত্র বহু শত্রুর বিনাশ করে একাধিক বার সৃষ্টি রক্ষা করেছে এই বজ্র | যেমন শিবের ত্রিশূল, কালীর খরগ, তেমনি ইন্দ্রের বজ্র যেন একে ওপরের পরিপূরক|অসুর তৃষিরা সুর এর সাথে যুদ্ধে ইন্দ্রের বজ্র ধ্বংস হয় |তার পর কি হয়? সেই ঘটনায় পরে আসছি তবে এখন যে দেবাসুর দ্বন্দ্বর কথা বলবো সেখানে ইন্দ্রের বজ্রর এক বিশেষ ভূমিকা আছে |ইন্দ্র এক বৈদিক দেবতা | সনাতন ধর্মে তিনি আর সকল দেবতা দের রাজা, তিনি স্বর্গের শাসক |তার রাণীর নাম শচীদেবী এবং হাতীর নাম ঐরাবত। তার বাহন পুষ্পক রথ। অনেক বিশেষজ্ঞ আবার মনে করেন মূলত ইন্দ্র কোন বিশেষ দেবতা নন, যিনি স্বর্গের রাজা হন তিনিই ইন্দ্র। ইন্দ্রের বিশেষ অস্ত্র হল বজ্র বা বিদ্যুৎ।ইন্দ্র আদতে একজন বিশেষ পদাধিকারী |এই শুভ ও অশুভের যুদ্ধে ইন্দ্রের প্রতিপক্ষ বৃত্যাসুর,তিনি প্রজাপতি ত্বষ্টার পুত্র এক অসুর। ইন্দ্র ত্রিশিরাকে বধ করলে ত্বষ্টা ত্রুদ্ধ হয়ে ইন্দ্রকে বিনষ্ট করার জন্য অগ্নিতে আহুতি দিয়ে বৃত্রাসুরকে উৎপন্ন করেন। ত্বষ্টার নির্দেশে বৃত্রাসুর গিয়ে ইন্দ্রকে আতর্কিতে গ্রাস করেন। বৃত্রাসুর মুখ হাঁ করলে ইন্দ্র অবশ্য দেহ সংকুচিত করে বেরিয়ে আসতে পারলেন, কিন্তু বহুকাল যুদ্ধ করেও বিত্রাসুরকে পারাজিত করতে পারলেন না।অবশেষে ঋষিরা বৃত্রকে ইন্দ্রের সঙ্গে সন্ধি করার প্রস্তাব দিলে বৃত্র সব শুনে বললেন যে, তিনি তাতে রাজি আছেন। কিন্তু ঋষিদের কথা দিতে হবে যে, শুষ্ক বা আদ্র্র বস্তু দ্বারা, প্রস্তর কাষ্ঠ বা অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা, দিবসে বা রাত্রিতে ইন্দ্র অথবা অন্যদেবতারা ওঁকে বধ করতে পারবেন না। ঋষিরা তাতে রাজি হলে সন্ধি স্থাপিত হল।অর্থাৎ দেবতা দের সব অস্ত্র সস্ত্র বৃত্যাসুর কে বধ করার ক্ষমতা হারালো|এদিকে ক্রমে বৃত্যাসুর যখন অত্যাচারি হয়ে উঠতে লাগলো এবং এক সময় তাকে বধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না, কিন্তু অস্ত্র নেই | তখন ঋষিরা একটা উপায় বাতলালেন | কোনো ত্যাগী এবং তেজময় সন্যাসীর অস্থি থেকে অস্ত্র তৈরী করে বৃত্যাসুর কে বধ করতে হবে |কিন্তু কে করবেন এই ত্যাগ? ত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত সেই বৈদিক ঋষি হলেন দধীচি | দেবতারা দধীচীর কাছে তার অস্থি চাইলেন | এই অনুরোধ শুনে দধীচি নামক এই মহুমুনি সাধক আত্মত্যাগ করতে রাজি হন। দধীচিকে হত্যা করা হয় এবং তার দেহের হাড় দিয়ে বৃত্তাসুরকে হত্যার জন্য ইন্দ্রের জন্য একটি বিশেষ বজ্র তৈরি করা হয়|তার পর ইন্দ্র ও বৃত্তাসুরের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ হলো |অবশেষে সেই বজ্র দিয়ে ইন্দ্র বৃত্যাসুর কে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং হত্যা করেন |ঋষি দের বর অটুট থাকলো এবং অশুভ শক্তির বিনাশ হলো, রক্ষা পেলো স্বর্গ মর্ত পাতাল |ইন্দ্রের বজ্র একদিকে যেমন ত্যাগের প্রতীক অন্যদিকে শৌর্য ও বীর্যের প্রতীক, মহা বিনাশকারী এই অস্ত্র জন্ম নিয়েছে আত্মত্যাগের মাধ্যমে যা রক্ষা করে চলেছে স্বর্গের সিংহাসন|আবার ফিরবো মকর সংক্রান্তিতে বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে, পড়তে থাকুন, দেখতে থাকুন আর অবশ্যই যোগাযোগ করুন জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে, আমাকে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন আমার সাথে, জেনে নিতে পারেন কবে, কখন ও কোথায় আমাকে পাবেন, জানতে পারেন বুকিং সংক্রান্ত সব তথ্য|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

স্বামী বিবেকানন্দর রসবোধ : বিশেষ রচনা

স্বামীজী বলতেই আমরা বিশেষত বাঙালিরা একজনকেই বুঝি তিনি আমাদের সবার প্ৰিয়, নরেন্দ্রনাথ দত্ত অর্থাৎ স্বামী বিবেকানন্দ|যদিও সন্ন্যাসী জীবনের প্রথমে তিনি ছিলেন স্বামী বিবিদিশা নন্দ|মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের শিকাগো তে বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ তাই ওই নামেই তিনি জগৎ বিখ্যাত|আজ হিন্দু ধর্মের এই সর্ব শ্রেষ্ঠ আইকন জন্মদিন|আজকের দিনেই অর্থাৎ এই 12ই জানুয়ারি তে উত্তর কলকাতায় তার জন্ম|স্বামীজীর বাল্য জীবন, তার আধ্যাত্মিক জীবন,বিদেশ যাত্রা, সন্ন্যাস জীবন, রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে তার মহা মানবে রূপান্তর এবং তার সারা জীবন ব্যাপী সমাজ সংস্কার নিয়ে অসংখ্য লেখা লেখি হয়েছে, গবেষণা হয়েছে, হয়েছে সিনেমা, থিয়েটার ও তথ্যচিত্র|কিন্তু আজ তার জন্মদিনে তার চরিত্রের একটি বিশেষ দিক আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, আজ লিখবো স্বামী বিবেকানন্দর রসবোধ নিয়ে, জানাবো কয়েকটি ঘটনার কথা|ঠাকুর তার শিষ্য দের বলতেন ” সর্বদা রসে বসে থাকবে, কেঠ সন্ন্যাসী হবে না ” আর এই দিকটি সব থেকে বেশি প্রতিফলিত হয়েছিলো তার প্ৰিয় শিষ্য নরেনের জীবনে|স্বামীজীর রসবোধ ছিলো অতুলনীয়|আপনি কোন সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী? এই প্রশ্ন পরিব্রাজক বিবেকানন্দ কে বহুবার শুনতে হয়েছে আর প্রতিবারই তিনি হেসে উত্তর দিতেন, ” আমি কচুরি সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী ” আসলে কচুরি ছিলো বিবেকানন্দর অন্যতম প্ৰিয় খাদ্য|স্বামী বিবেকানন্দ একদিন অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন। সারদানন্দ স্বামী। অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে তঁরা কী কথাবার্তা বলেছিলেন সে কথা কাউকে বলেননি ঠিকই, কিন্তু মজা করে বিবেকানন্দ ম্যাকস্‌মুলারদের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে ঘনিষ্ট মানুষদের সামনে উপস্থাপন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন|আমেরিকায় থাকার সময়ে এক বিদেশী বিবেকানন্দকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা স্বামীজী, শুনেছি ভারতবর্ষে নাকি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে গঙ্গার জলে ফেলে দেওয়া হয়?বিদেশীটির মুখে এইরকম অশিক্ষিত-প্রশ্ন শুনে স্বভাবতই স্বামী বিবেকানন্দের মাথাগরম হয়ে গেল। তবু তিনি রাগ সংবরণ করে ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি লাগিয়ে বললেন, আমি কিন্তু বেঁচে গিয়েছি।বিদেশী ভদ্র লোক থামলেন না। আবার প্রশ্ন করলেন বিবেকানন্দকে, স্বামীজী, আপনাদের দেশে কন্যা সন্তান জন্মালেই নাকি তাকে কুমীরের মুখে ছুঁড়ে দেওয়া হয়? এবার রাগের মাত্রা ছাড়িয়ে গেল| তবু বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ মুখে একগাল হাসি নিয়ে বিদেশীকে বললেন, আপনি ঠিকই শুনেছেন মশাই, সেই জন্যই তো আজকাল ভারতে পুরুষ রা সন্তান প্রসব করছে|তার এই রস বোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিতে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে উঠেছিলেন|এই প্রসঙ্গে আরেকটি ঘটনার কথা মনে পরে যায়, বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বিবেকানন্দ উঠেছেন জর্জ হেলের বাড়িতে। স্বামীজী বেশ কিছুদিন হাত, পা-এর নখ কাটার সময় পাননি বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে। নখ কাটতে হবে —তাই তিনি একটি পেনসিল কাটার ছুরি চাইলেন জর্জ হেলের কন্যাদের কাছে। তারা জিগ্যেস করল, ছুরি দিয়ে কী করবেন?স্বামীজী বললেন,’ হাত পায়ের নখ বড় হয়েছে, কাটবো।’ কন্যারা ছুরি এনে নিজেরাই স্বামীজির নখ কেটে দিলো তারপর নখ কাটার জন্যে পারিশ্রমিক চাইলো, বিবেকানন্দ অবাক হলেন এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে বললেন ” এই যে তুমি আমার পা ছোঁয়ার ও নখ কাটার অধিকার পেয়েছ, এর জন্য কী দেবে আমাকে? যে সে আমার পা ছুঁতে পারে না। আমার পা ছুঁলে প্ৰণামী দিতে হয়। পোপদের পা ছুঁলেও টাকা দিতে হয় শুনেছি। এবার বলো তুমি কী করবে, কত টাকা প্ৰণামী দেবে আমাকে? এই উত্তরে চমকে গিয়ে পালিয়ে যায় মেয়েটি, হেসে ওঠেন সেখানে উপস্থিত সকলে|আরো অনেক এমন ঘটনা আছে, সে নাহয় পরে আবার বলা যাবে, তবে বিবেকানন্দর আদর্শ ও বাণী যেমন আমরা মেনে চলবো তেমনই তার রসবোধ থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে, ভাববার আছে|নেয়ার আছে অনেক কিছু|এই মহান সন্ন্যাসীর জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধা জানাই, প্রনাম জানাই বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দকে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

বকুল অমাবস্যা বা পৌষ অমাবস্যা ও শক্তি সাধনা

বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রতিকার বিধানের একটি অন্যতম পন্থা তন্ত্র|বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে জাতক জাতিকার জিবনের গ্রহগতঅশুভ প্রভাব কে দূর করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে আসছে তা মূলত তন্ত্র মতেই হয়ে থাকে|এক্ষেত্রে সময় ওতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সর্বদা|এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময় এই আসন্ন বকুল অমাবস্যা বা পৌষ অমাবস্যা এবং পরবর্তীতে রটন্তী অমাবস্যা যা নিয়ে যথা সময়ে লিখবো|পৌষমাসের এই বিশেষ অমাবস্যা তিথিকে বলা হয় ‘বকুল অমাবস্যা’৷ পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী অমাবস্যা নিয়ে বহু কথা রয়েছে ৷ আর পৌষমাসের এই অমাবস্যার গুরুত্ব এবং মাহাত্ম্যও প্রচুর|অমাবস্যার কারনে যে বিশেষ গ্রহগত অবস্থান সৃষ্টি হয় তা সরাসরি প্রভাবিত করে আমাদের জীবনকে এবং এই সময়ে তন্ত্র মতে শক্তি সাধনা ও আধ্যাত্মিক উপায়ে গ্রহের প্রতিকার বা গ্রহদোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে|আমার নিজের তিন দশকের বেশি পেশাদার জ্যোতিষ জীবনে আমি বহুবার উপলব্ধি করেছি এই অমাবস্যা তিথিতে শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন জাতক জাতিকার জীবনে কিভাবে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে, গ্রহ গত শুভ প্রভাব সৃষ্টি করেছে তাদের জীবনে|তন্ত্র ক্রিয়ার গুপ্ত তথ্য জন সমক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, উচিত ও নয়|শুধু এটুকু বলবো এই অমাবস্যা উপলক্ষে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলার মন্দিরে 12ই জানুয়ারি অমাবস্যা চলা কালীন বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে|আপনারা জানেন দেবী সর্বমঙ্গলা আদি শক্তিরই একটি বিশেষ রূপ, যিনি পূজিতা হন হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে, বিগত অমাবস্যা গুলিতেও শাস্ত্র মতে মন্দিরে বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডন হয়েছে যাতে অংশ নিয়েছেন বহু মানুষ|সাফল্যও এসেছে|এবারও তার অন্যথা হবেনা|আপনারা চাইলে এই দুর্লভ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনের গ্রহগত অশুভ প্রভাবকে কাটিয়ে উঠতে পারেন|শাস্ত্রে বিশ্বাস থাকলে, আমার উপর আস্থা থাকলে ফোন করুন আমার নাম্বারে, সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|কি কি করনীয় তা আমি বিস্তারিত জানাবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|