Home Blog Page 28

তমলুকের ঘোষ বাড়ির দূর্গা পুজো

তমলুকের ঘোষ বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন এবং জনপ্রিয় পারিবারিক পুজো হলো তমলুকের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। আজকের পর্বে জানবো এই পুজোর ইতিহাস এবং বিশেষত্ব।

 

এই দুর্গাপুজোর দূর্গা পুজোর দুটি বিশেষত্ব আছে প্রথমটি হলো এই বাড়িতে মহালয়ার আগে কৃষ্ণানবমী তিথিতে দেবীর বোধন হয় দ্বিতীয়টি হলো এখানে পুজো হয় বৃহৎ নন্দীকেশ্বর পদ্ধতিতে।

 

মহালয়ার আগেই কৃষ্ণ নবমী তিথি থেকে প্রতিদিন চলে লক্ষাধিক বার দুর্গানাম জপ, মধুসূদন নামজপ আর চণ্ডীপাঠ।সব নিয়ম মানা হয় শাস্ত্র মতে।সব নিয়ম সেই শুরুর দিন থেকে চলে আসছে। আজও পুকুর থেকে মাটি তুলে এনে মায়ের গায়ে ছোঁয়ানো হয়। এটা এ বাড়ির রীতি।

 

জমিদারি আমলে পুজো ঘোষ বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো পরে ধীরে ধীরে তা পুরো গ্রামের পুজো হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমানে এই থিম পুজোর ভিড়েও দূর্গা পুজো মানে এই বাড়ির ঠাকুর দালানে মা দুর্গার উজ্জ্বল উপস্থিতি।

 

ঘোষ বাড়ির দূর্গাপুজোয় কুমারী পুজোতেও রয়েছে বৈচিত্র।সপ্তমী অষ্টমী ও নবমী এবং সন্ধি পুজোর সময় চার বার আলাদা আলাদা করে কুমারী পুজো হয়।

 

সব শেষে বলতে হয়। যে নন্দীকেশ্বর পদ্ধতিতে এ বাড়িতে দূর্গাপুজো হয়ে তা বর্তমানে বাংলার হাতে গোনা কয়েকটি রাজ বাড়িতে হয়ে থাকে যার মধ্যে আছে শোভাবাজার রাজবাড়ি, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এবং সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ি।

 

আজও ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শাস্ত্রের অপূর্ব মেল বন্ধন ঘটে এই তমলুকের ঘোষ বাড়িরর দূর্গা পুজোয়।

 

ফিরে আসবো এমনই একটি ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজোর ইতিহাস নিয়ে আগামী পর্বে। দেখতে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কিশোর নগর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো 

কিশোর নগর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

অবিভক্ত মেদিনীপুরের অন্যতম প্রভাবশালী রাজ পরিবার ছিলো কিশোর নগরের রাজা যাদবরাম রায়ের পরিবার।দান শীল এবং ধার্মিক রাজা দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু করেন দুর্গাপুজো।

আজকের পর্বে সেই দূর্গা পুজোর ইতিহাস

নিয়ে লিখবো।

 

দেবী দূর্গা এখানে অত্যন্ত জাগ্রত শোনা যায় একবার পুজোর রাতে এক মা ষোড়শী কন্যার বেশে রাজবাড়ির পুজো দেখতে আসেন। সেই সময় এখানে নদী পেরিয়ে আসতে হতো। এক গরীব মাঝি মা দূর্গাকে নদী পার করান প্রতিদানে মা তাঁকে নিজের দিব্য রূপ দর্শন করান এবং রায় বাড়িতে পুজো দেখতে আমন্ত্রণ জানান।

 

প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুজোয়

পঞ্চমুণ্ডির আসনে ষোড়শী রূপে পূজিত হন দেবী দূর্গা।পুজোর সময় চলে চণ্ডীপাঠ। বলি প্রথা আগে থাকলেও বর্তমানে নেই।

 

একবার পুজোর সময় নাকি বাড়ির সদস্যরা দেখেন মন্দিরের পশ্চিম দিকের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। আর দেবীর ঘট পশ্চিম দিকে ঘুরে গিয়েছে। সেই থেকে এখনও পশ্চিম মুখে ঘট বসিয়েই পুজো করা হয়।

 

আজও পুরোনো দিনের স্মৃতি রূপে প্রাচীন নাটমন্দিরটি আর পুজো মন্ডপটি রয়ে গেছে। এখনো দূর্গা পুজো উপলক্ষে মেলা বসে। নানারকম উৎসব হয়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন কিশোর নগরের পুজোয় অঞ্জলি না

দিলে দূর্গা পুজো সম্পূর্ণ হয় না।

 

এমনই সব বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজার গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক লেখা লেখি। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশ্বকর্মা পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

বিশ্বকর্মা পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বিশ্বকর্মাপূজা|

আসুন আজকের এই পবিত্র দিনে জেনে নেই দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার আধ্যাত্মিক স্বরূপ, তাঁর পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং বিশ্বকর্মার সাথে জড়িত কিছু পৌরানিক ঘটনা|

 

আমাদের সনাতন ধর্মে ভগবান বিষ্ণু তার সৃষ্টি কর্মের এক একটি গুরু দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এক একজন দেবতার উপর যেমন বাণিজ্যর ভার দেবী লক্ষীর উপর, শিক্ষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব স্বরস্বতীর আবার প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন দেবী দূর্গা|এদের মধ্যে বিশ্বকর্মা হলেন স্থাপত্য ও নির্মাণের দেবতা|তিনি দেব শিল্পী|

 

বিশ্বকর্মা মূলত বৈদিক দেবতা|ঋগ বেদ সহ একাধিক ধর্ম গ্রন্থে এবং রামায়ন মহাভারতের মত মহাকাব্যে উল্লেখ রয়েছে বিশ্বকর্মার|তিনি ব্রহ্মা সৃষ্টি কর্মের অন্যতম সহযোগী|সৃষ্টির একদম আদি লগ্ন থেকে বিভিন্ন সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে তিনি

জগৎ নির্মাণের কাজে যুক্ত|

 

পুরান অনুসারে দেবগুরু বৃহস্পতির একমাত্র বোন যোগসিদ্ধার পুত্র বিশ্বকর্মা এবং তাঁর বাবা অষ্টম বসুর শ্রেষ্ঠ বসু প্রভাস। আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা আছে, প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিকোষ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি।বিশ্বকর্মার স্ত্রীর নাম ঘৃতচী।

 

বিশ্বকর্মা চতুর্ভুজ এবং তাঁর বাহন হাতি। পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা মহাবীর তাকে বহন করার জন্য প্রয়োজন প্রচুর শক্তি তাই জগতের অন্যতম বলশালী প্রাণী হাতিকে তার বাহন রূপে

নির্বাচিত করা হয়েছে।

 

পুরান ও অন্যান্য শাস্ত্রে বর্ণিত একাধিক অস্ত্র, ও গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর প্রধান কারিগর বিশ্বকর্মা|বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, কুবেরের পুস্পক রথ, শিবের ত্রিশূল

পরশুরামের ধনুক, ইন্দ্রের প্রথম বজ্র এসবই বিশ্বকর্মার সৃষ্টি|রাবনের লংকা নগরী, কুবেরের অলোকা পুরী,এমনকি পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ বিগ্রহও বিশ্বকর্মার স্বহস্তে নির্মিত|

 

যখনই দেব লোকে কোনো বিশেষ স্থাপত্য বা দৈব নিদর্শন সৃষ্টির প্রয়োজন হয় ডাক পড়ে বিশ্বকর্মার|কখনো নিরাশ করেন না বিশ্বকর্মা|নিজের অলৌকিক শিল্প সত্ত্বা ও কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা নির্মান করেন একের পর এক শিল্প কর্ম তথা স্থাপত্য শিল্পের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলি|

 

বিশ্বকর্মা পুজো নিষ্ঠা সহকারে পালন করেন দেশের শিল্পীরা, শ্রমিকরা এবং স্থাপত্য শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমিকেরা|আজ ভাদ্র সংক্রান্তি তার পুজোর দিন।শাস্ত্র মতে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার পুজোয় এবং তাঁর কৃপায় শৈল্পিক নৈপুণ্য এবং কর্ম দক্ষতা লাভ হয়। সব গঠনমূলক কাজে

সাফল্য আসে।

 

সবাইকে জানাই বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার জয়।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

ভাঙ্গর রাজবাড়ির দূর্গাপুজো

ভাঙ্গর রাজবাড়ির দূর্গাপুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম পুরোনো ভাঙ্গর জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়েআজকের পর্বে লিখবো।

 

ভাঙড়ের স্বস্ত্যয়নগাছি গ্রামে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মজুমদার বাড়ি এই মজুমদাররাই ছিলেন ভাঙ্গর অঞ্চলের জমিদার। তাদের বিরাট প্রাসাদপ্রম জমিদার বাড়ির দূর্গা মণ্ডপে শুরু হয়েছিলো দূর্গা পুজো। তবে কবে এবং কোন জমিদারের আমলে এই বাড়িতে দূর্গা পুজো প্রথম শুরু হয় তা নিয়ে নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না।

 

জমিদারি প্রথা যখন চলছে সেই সময়ে সর্বদা লোকজনে গমগম করত মজুমদারদের এই বিশাল জমিদার বাড়ি।পুর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ মিলে তিন মহলার দ্বিতল বাড়ি ছিল মজুমদারদের। নাট মন্দির ছিলো অপূর্ব সুন্দর। বিশাল আকার দূর্গা মণ্ডপে হতো দুর্গাপুজো। সব কিছুরই এখন ভগ্নদশা। একটি মহলার অস্তত্বই বিলোপ হয়েছে। তবে দুটি মহলার দ্বিতল জমিদার বাড়ি এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবু নিয়ম মেনে প্রতি বছরই সাধারণ গ্রামবাসী ও জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্যরা মিলে দূর্গা পুজোর

আয়োজন করেন।

 

আজও এই বাড়িতে গোবিন্দের নিত্যপুজো হয় এবং দূর্গা পুজোর জন্য একজন আলাদা পুরোহিত রাখা আছে সেই শুরুর সময় থেকে। আদতে বিষ্ণু উপাসক হলেও শক্তি সাধনা হয় তন্ত্র মতে যদিও আগের মতো এখন আর পশু বলী হয়না।

 

প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজোর পর শুরু হয় মূর্তি গড়ার কাজ।সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের একসাথে অংশগ্রহণ এই পুজোয় অন্য মাত্রা যোগ করে।বলা যায় এটাই এই পুজোর বৈশিষ্ট্য। দূর্গা পুজোতে সবাই এক সাথে আনন্দে মেতে ওঠেন।

 

অষ্টমীর দিনে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে হয় খাওয়াদাওয়ার রীতি সেই জমিদারির স্বর্ণ যুগ থেকে আজও চলে আসছে।

 

আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বারুইপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

বারুইপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নবাবী আমলে বাংলার বারো ভুঁইয়া দের এক ভূঁইয়া ছিলেন বারুইপুরের রায়চৌধুরীরা যদিও তারা গোড়ার দিকে রায় ছিলেন পরবর্তীতে ব্রিটিশ দের দের সাথে সম্পর্ক এবং নিজেদের প্রভাব ও প্রতিপত্তির জোরে রায় চৌধুরী উপাধি লাভ করেন।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং বর্তমান দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা ছিলো তাদের জমিদারির অংশ।

 

তাদের সেই জমিদারীর স্বর্ণ যুগ আজ আর হয়তো নেই তবে তাদের দুর্গাপূজা আজও আছে। বারুইপুর জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো নানা কারণে ঐতিহাসিক। এই পূজোর ইতিহাস নিয়ে এই পর্বে আলোচনা করবো।

 

প্রায় তিনশো বছর আগে রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। এখনও তিন জন পুরোহিত রীতি মেনে এখানে পুজো করেন।প্রতিপদ থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো।

সেই শুরুর দিন থেকে যা যা রীতি আছে সবই আজও নিষ্ঠার সাথে পালিত হয় এখানে।

 

বেশ কিছু বছর আগেও বারুইপুর আদি গঙ্গার জলে প্রতিমার বিসর্জনের সময় দুটি করে নীলকন্ঠ পাখি ওড়াতেন বারুইপুর রায়চৌধুরী বাড়ির কর্তারা। যদিও সরকারী কারণে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানোর মতো কিছু রীতিতে বর্তমানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও লাগাম টানতে হয়েছে তবুও বাপ ঠাকুর্দার আমল থেকে চলে আসা ঐতিহ্য যতটা সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

 

যেহেতু পুজো হয় তন্ত্র মতে তাই সপ্তমী থেকে নবমী নিশি পর্যন্ত প্রতিদিন এখানে পশু হয় বলি হয়। অষ্টমীতে পরিবারের সবার একসাথে বসে ভোগ খাওয়ার নিয়ম আছে।অতীতে জমিদার বাড়িতে নৈবেদ্যর ডালা সাজিয়ে প্রজারা আসতেন এখন সেই পরম্পরা আর চোখে পড়েনা তবে জেলা থেকে বহু দর্শণার্থী আজও আসেন।

 

চারপাশের অসংখ্য বারোয়ারী পুজোর ভিড়, থিমের চমক থাকলেও আজও অমলিন বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো এবং তাদের গৌরব।আজও তাই রীতি মেনে

বারুইপুরে প্রতি বছরই রায়চৌধুরীদের প্রতিমা সবার আগে বিসর্জন হয়। তারপর অন্যান্য প্রতিমা বিসর্জিত হয়।

 

ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একসময় কিছুদিন বারুইপুরের এই জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। এই বাড়িতে বসেই তিনি কপাল কুণ্ডলা এবং দূর্গেশনন্দিনীর মতো ঐতিহাসিক উপন্যাস

গুলি লিখেছেন। তার ব্যাবহিত টেবিল এবং

চেয়ার এখানে এখনও রাখা আছে।

 

প্রভু জগন্নাথেদেবের রথ যাত্রা এবং দূর্গা পুজো দুটোই এই পরিবারের বেশ জাঁকজমক করে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে যা গোটা জেলার মধ্যে বেশ জনপ্রিয় এবং সমাদৃত।

 

সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পাথুরিয়াঘাটা জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

পাথুরিয়াঘাটা জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই ধারাবাহিক লেখনীরা শুরু দিকে বেশ কয়েকটি কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে লিখেছিলাম।তবে কিছু দূর্গাপুজো নিয়ে না লিখলে বনেদি বাড়ির পুজোর কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ির পুজো তার মধ্যে অন্যতম।

 

নবাবী আমলে বর্ধমান থেকে ব্যবসা সূত্রে কলকাতায় এসে পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে বাড়ি তৈরি করেন রামরাম ঘোষ। পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছর পরে তৈরি হয় পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটের বাড়িটি। পাথুরিয়াঘাটা ঘোষ বংশের প্রতিষ্ঠাতা রামরামের ছেলে রামলোচন ঘোষ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সাথেও ব্যবসা করেছেন পরে তিনি কোম্পানির দেওয়ান নিযুক্ত হন ।রামলোচনের তিন পুত্র শিবনারায়ণ, দেবনারায়ণ এবং আনন্দনারায়ণ।রামলোচনের মেজো ছেলে দেবনারায়ণের ছেলে খেলাৎচন্দ্র ঘোষ উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পুরনো বাড়ির পাশেই দুর্গাদালানসহ নতুন বাড়ি তৈরি করে উঠে যান এবং সেখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন আজও সেই পুজো খেলাৎ ঘোষের পুজো নামে জনপ্রিয়।

 

এই বাড়ির দূর্গা পুজোতে আসতেন সস্ত্রীক ওয়ারেন হেস্টিংস পরবর্তীতে ঘোষ বাড়ির পুজোতে এসেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং গান্ধীজির মতো ব্যাক্তিত্বরা।খেলাৎ ঘোষের ছেলে রামনাথ ঘোষ যখন বাড়ির কর্তা তখন কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় পুজোর সময় এই বাড়িতে আসতেন।কালীপ্রসন্ন সিংহ মানে হুতোম প্যাঁচার লেখায় প্রায়ই উঠে আসত বাবু খেলাত চন্দ্র ঘোষের বৈভবের কথা। ঘোষ বাড়ির বিখ্যাত দুর্গাপুজোর কথা।

 

পুজো হয় শাস্ত্র মতে এবং বেশ নিষ্ঠার সাথে। এবাড়িতে আশ্বিনের কৃষ্ণপ্রতিপদে দেবীর বোধন শুরু হয়। তার আগে মধুসূদন ও রামকৃষ্ণ দেবের পুজো করা হয়।পুজোর প্রতিদিনই কুমারী পুজো হয়।সপ্তমীর দিন কলাবউ স্নান হয়।অষ্টমীর দিন হাজার একটা পদ্ম নিবেদন করা হয় দেবীকে।ঘোষ বাড়ির পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ তার বদলে এখানে বলি দেওয়া হয় চিনির মঠ যা বিশেষ ভাবে কাশী থেকে বানিয়ে আনা হয়।শোনা যায় অতীতে সাতবার বন্দুক দেগে প্রতিমা ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হত কালের নিয়মে কিছু রীতি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে তবে আজও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা একই রকম আছে।

 

ফিরে আসবো অন্য কোনো ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে আগামী পর্বে। চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বেড়ে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বেড়ে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আপাতত জেলার বিভিন্ন বিখ্যাত বনেদি বাড়ির পুজো গুলো নিয়ে লিখছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ বেড়ে জমিদার বাড়ির পুজো নিয়ে লিখবো।বর্ধমানের বেড়ে জমিদার বাড়ির দেড়শো বছরের পুরানো দুর্গাপুজো পুজোকে নিয়ে আছে অসংখ্য লোককথা এবং ঐতিহাসিক ঘটনা।

 

শোনা যায় এই বংশের দাপুটে জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসকে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে

তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার কথা বলেন। আর সেই বছর থেকেই  বেড়ের জমিদার পরিবারে মা দুর্গার পুজো হচ্ছে মৃন্ময়ী মূর্তিতে। একচালার কাঠামোয় বসে থাকা দেবীর ডান পাশে বসে থাকেন দেবাদিদেব মহাদেব। শিব-পার্বতীর দুপাশে অধিষ্ঠাত্রী  লক্ষ্মী আর সরস্বতী । নিচে বসে কার্তিক আর গণেশ। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, দাস পরিবারে হয় হরগৌরীর আরাধনা।স্বপ্নাদেশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত ঘটে পুজো হতো।

স্বপ্নে দেবী দেখা দেয়ার পর থেকে তাঁর রূপ বদলায়।

 

পুজো শুরু হওয়ার পরেই জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসের জীবনে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।

তার কোনও পুত্র সন্তান ছিল না।সবাই একরকম সন্তান লাভের আশা ছেড়েই দিয়ে ছিলেন সেই সময়ে দেবীর সেই স্বপ্নাদেশের পর মহাসমারোহে হরগৌরী মূর্তি তৈরি করে পুজোর শুরু হওয়ার পরই ব্রজেন্দ্রলাল দাস পুত্রলাভ করেন। দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া বলে একমাত্র পুত্রের নাম হয় দুর্গাচরণ দাস।

 

বেড়ে রাজবাড়ীর পুজোতে আসতেন বর্ধমানের মহারাজা সহ বহু গণ্য মান্য ব্যক্তি। সেই যুগে এই রাজবাড়ির পুজো ছিলো গোটা জেলার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ পুজো।ঠাকুর দালানে নিয়ম

করে বসত যাত্রাপালা, গানের আসর। দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া দোতলার ঘর থেকে অন্দরমহলের মহিলারা পুজো দেখতেন।

 

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছু পাল্টালেও আজও রীতি অনুসারে পঞ্চমীতে বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু পুজো। সন্ধি পুজোয় আগে পশু বলী হলেও বর্তমানে এখানে শুধু

মণ্ডা বলি হয় নিয়ম রক্ষায় ।

 

একটি অলৌকিক ঘটনার কথা না বললেই নয় শোনা যায় সেই শুরুর দিন থেকে আজও এখানে অষ্টমীর দিন সন্ধিক্ষণে দুর্গামণ্ডপের উপর একটি শঙ্খচিল উড়তে দেখা যায়। আবার দশমীর দিন যখন দেবীর বিসর্জন করা হয় পাশের একটি প্রাচীন জলাশয়ে তখনও আকাশে উড়তে দেখা যায় সেই শঙ্খচিলটি।যুক্তি দিয়ে এই ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়না তবে আস্থা অন্য বিষয়।

 

ফিরে আসবো বনেদি বাড়ির পূজোর পরের পর্ব নিয়ে। থাকবে এমন সব দূর্গা পূজোর ইতিহাস

এবং অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

একসময়ে উত্তর বঙ্গে দুর্গাপুজো বলতে কয়েকটি জমিদার বাড়ির পুজোকেই বোঝাতো। সেক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুরের বাহিন।জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো ছিলো অন্যতম পুজো।আজকের পর্বে এই বনেদি জমিদার বাড়ির পুজোর কথা জানাবো।

অবিভক্ত বাংলাদেশের দিনাজপুরের জমিদার ছিলেন রুদ্র প্রতাপ চৌধুরী।বাহিন নামক অঞ্চল থেকেই মূলত তার বিশাল জমিদারি পরিচালিত হতো।স্থানীয় ” নাগর ” নদীর ধার ঘেঁষে ছিল জমিদারের অট্টালিকা।জমিদার বাড়ির পাশেই বানানো হয়েছিলো সিংহবাহিনী মন্দির।সেখানেই প্রতিবছর দুর্গাপুজো হতো। আজও হয়।

আজও লোক মুখে শোনা যায় যে পূজোর সময়ে অতিথি দের অভ্যার্থনা জানাতে জমিদার বাড়ির সামনে বড় বাগানে বেশ কয়েকটি হাতি বাঁধা থাকত যা থেকে তাদের প্রতিপত্তি এবং বৈভব সহজেই অনুমান করা যায়।

বাহিনদের পারিবারিক দূর্গাপুজো ঠিক কত পুরনো তা সঠিকভাবে জানা যায় না। অনুমান করা হয় জমিদার বাড়ি নির্মাণ করার পরেই সেখানকার ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো শুরু হয়।এক সময়ে বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গোৎসবে বসত যাত্রাপালার আসর, থিয়েটার, সার্কাস ও বিশাল মেলা এবং পূজোর কদিন প্রজাদের জন্য সাতদিন ধরে ভুড়িভোজ আর আমোদপ্রমোদের আয়োজন হতো।

যুগের সাথে সাথে সব কিছুতেই বদল এসেছে আগে সিংহবাহিনী মন্দির চণ্ডীপাঠ ও দুর্গাপুজো করতেন জনা তিনেক পুরোহিত। তবে এখন আর সেসব আড়ম্বর নেই। জমিদারবাড়ির জৌলুসের সঙ্গে সেসব কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে।এখন বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গাপুজো তথাকথিত
পারিবারিক পুজো থেকে বারোয়ারী পূজোর রূপ নিয়েছে কারন সব এলাকা বাসি একত্রিত হয়ে এই শতাব্দী প্রাচীন দূর্গা পূজোর আয়োজন করেন।

তবে সেই সব জমিদারি রীতি নীতি না থাকলেও আজও এই দূর্গা পূজোর ক্ষেত্রে নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

চলতে থাকবে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা।
আবার ফিরে আসবো এমনই একটি বনেদি
বাড়ির দূর্গা পুজোর কথা নিয়ে।
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

হুগলী জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। আজকের পর্বে এই পূজোর ইতিহাস নিয়ে লিখবো।

 

স্থানীয়দের কাছে এই বাড়ি গোস্বামী বাড়ি নামে পরিচিত।ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং সমৃদ্ধ।বাংলার মসনদে যখন নবাব আলিবর্দি খান তখন এই জমিদারীর পত্তন হয়।রাজা রামগোবিন্দ গোস্বামী শ্রীরামপুর গোস্বামী পরিবারের আদিপুরুষ। তাঁর নাতি হরিনারায়ণ গোস্বামীর আমলে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর। জানা যায়, ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয় শ্রীরামপুর রাজবাড়িতে।

 

জমিদার বাড়িতে বসতবাড়ির অনুকরণে নির্মিত প্রাসাদ সংলগ্ন ঠাকুরদালানে শুরু হয় দুর্গাপুজো। এখানে একচালার মধ্যে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে মা দুর্গার সাথে থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী ঠাকুর। প্রতিমা সজ্জিত হয় ডাকের সাজে।

 

জানা যায় এই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোয় আসর জমিয়ে গিয়েছেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি এবং ভোলা ময়রা যাদের কবিগান ছিলো সে যুগে বিখ্যাত যা নিয়ে পরবর্তীতে সিনেমাও হয়েছে।এই বাড়িতে এসেছেন গান্ধীজি, বিধান রায় এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীগণ।

 

শুরু থেকেই এই রাজবাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। রথের দিন কাঠামো পুজো হয়। তারপর একচালার প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। মায়ের ডাকের সাজ আজও বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে নিয়ে আসা হয়। অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় এখনও পুরনো আমলের পিতলের ১৩৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। দশমীর দিন বাড়ির মহিলারা ঠাকুর দালানের বাইরে মাছ ও পান খেয়ে মাকে বরণ করার পর শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি। শ্রীরামপুর রাজবাড়ি ঘাটেই করা হয় প্রতিমা বিসর্জন।

 

বনেদি বাড়ির পূজোর পরের পর্ব নিয়ে

ফিরে আসবো যথা সময়ে। থাকবে অন্য একটি দূর্গাপূজো নিয়ে অনেক এমন তথ্য থাকবে এমন অনেক ইতিহাস। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাঁকুড়ার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বাঁকুড়ার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার প্রাচীন রাজবাড়ী বা জমিদার বাড়িরপুজো মণ্ডপ গুলি বা বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে ধারাবাহিক লিখছি । আজকের পর্বের বিষয়

বাঁকুড়ার প্রসিদ্ধ রায় চৌধুরী বাড়ির পুজো।

 

গ্রামের নাম দামোদরবাটি জমিদার দামোদর নারায়ণ চৌধুরী এর নাম অনুসারেই গ্রামের নামকরণ হয়।কথিত আছে চৌধুরী পরিবারের আদি পুরুষ তৈলক্যনাথ গুহ বাংলাদেশের যশোরের জমিদার ছিলেন। বর্গিদের হাত থেকে বাঁচতে যশোর ছেড়ে হাজির হয়েছিলেন মল্লগড় বিষ্ণুপুরে। বিষ্ণুপুরের মল্লরাজারা আশ্রয় দিয়েছিল ওই জমিদারকে। পরবর্তীকালে রায় চৌধুরী উপাধি দেন মল্ল রাজারা। মল্লরাজাদের সৌজন্যে আর্থিক ভাবে চৌধুরী জমিদাররা সমৃদ্ধি লাভ করে।দামোদরবাটিতে নতুন করে তৈরি হয় প্রাসাদ।

শুরু হয় দুর্গাপুজো।বাঁকুড়ার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন।

 

সেকালে জমিদাররা বড়ো দীঘি বা পুকুর খনন করতো জলের সমস্যা দূর করতে।একবার পুকুর ক্ষণনের সময় ঘটেএক অলৌকিক ঘটনা।

শোনা যায় গ্রামের বড়পুকুর খননের সময় নিম কাঠের দুর্গার দ্বিভুজা মাতৃ মূর্তি উদ্ধার করেন চৌধুরী পরিবারের এক বংশধর। মনে করা হয় এই ঘটনাকে দেবীর আদেশ হিসেবেই দেখে ছিলেন চৌধুরী পরিবার।তারপর থেকেই চৌধুরী পরিবারে ঘটা করে শুরু হয় দুর্গাপুজা।

 

দূর্গা পূজোর সময়ে আজও জমিদার বাড়ির দুর্গা দালানে বেজে ওঠে নহবতের সুর মুর্ছনা। এখানের প্রতিমা একটু অন্যধরনের। এখানে নিমকাঠের দেবী দুর্গা দ্বিভুজা। উপরে মহাদেব। দেবীর পাশে কার্তিক, গনেশ, লক্ষী স্বরসতী। মল্লরাজাদের মৃন্ময়ীর কাঠামো অনুরুপ চৌধুরী জমিদার বাড়ির দুর্গা। বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।প্রাচীন তালাপাতার চন্ডী পাঠ করা হয় জমিদার বাড়ির দুর্গাদালানে।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক সম্মিলিত রূপ এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।