Home Blog Page 22

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি 

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের মানস পুত্র। মা সারদা যেমন ছিলেন ঠাকুরের লীলা সঙ্গিনী তেমনই নরেন ছিলেন তার প্রধান শিষ্য এবং প্রচারক। তিনি ছিলেন ভারতের অন্তরাত্মার প্রকাশ। ভারতকে বুঝতে গেলে স্বামীমীজী কে বুঝতে হবে। তিনি যুব শক্তির প্রতীক।

তাই আজ তার জন্মদিন জাতীয় যুব দিবস

রূপেও পালিত হয়।

 

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ তার প্রিয় শিষ্য নরেনকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠেছিলেন সর্বজ্ঞানী এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তার গোটা জীবন অলৌকিক ঘটনায় ভরা।

 

স্বামীজীর মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তি ছিলো যারা তার সংস্পর্শে আসতেন তারা এক আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করতেন। একবার গুরুভাইদের সাথে হিমালয় ভ্রমণ কালে এক গৃহস্ত ভক্তের বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। গৃহস্তের এক শিশুকে কাঁদতে দেখে স্বামীজি সারারাত তাকে কোলে নিয়ে জপ করে কাটিয়েছিলেন আশ্চর্য বিষয় সারা রাত শিশুটি আর কাঁদেনি।

 

এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া এবং মনে রাখা সম্ভব সম্ভব তা জানা সত্যি কঠিন কাজ, অলৌকিক শক্তি ছাড়া বোধ হয় সম্ভব নয়, আর এই অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বিবেকানন্দর

মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। একদিন স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।

এমনই ছিলো স্বামীজীর অদ্ভুত স্মৃতি শক্তি

 

একবার মঠের বারান্দায় সারা রাত স্বমীজীকে পায়চারি করতে দেখে তার এক গুরুভাই তাকে জিগেস করলেন কি হয়েছে। স্বামীজী বললেন কথাও বহু মানুষ বিপদে পড়েছে। কষ্ট পাচ্ছে।

পরদিন জানা যায় ভারত থেকে বহু দুরে সমুদ্রে একটি জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই রাতে এবং

বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

ফরাসী গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভের সাথে শিকাগোয় ১৮৯৪ খ্রিঃ সাক্ষাৎ হয় স্বামী বিবেকানন্দর, মাদাম কাল্ভে তখন জীবনের প্রতি সম্পুর্ন বীতশ্রদ্ধ এবং আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও স্বাভাবিক কারন তিনি তখন মেজাজী, একগুঁয়ে এবং পুরোমাত্রায় ভোগী মহিলা এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর জীবনে শান্তি ছিল না, ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার অন্তরে|তাকে দেখেই স্বামীজী বলে উঠলেন,বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা বলতে লাগলেন|যেন এক অলৌকিক ব্যাপার। ‘আপনি এত সব জানলেন কি করে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজী বললেন,আমি খোলা বইয়ের মতন তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।শুধু তাই নয় স্বামীজীর কথায় তার অন্তরের সব ঝড় থেমে গেলো শান্ত হলেন তিনি,স্বামীজীর শিষ্য হয়ে সব ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ আপন করে নিলেন।

 

এমন বহু নজীর আছে। স্বামীজির অগাধ জ্ঞান এবং বিশ্ব জোড়া খ্যাতি সত্ত্বেও তিনি তার গুরু ভাইদের কাছে যখন আসতেন। যখন লাটু মহারাজ বা রাখাল মহারাজ দের সাথে আনন্দে মেতে উঠতেন তখন তিনি হয়েযেতেন এক শিশুর মতোই সহজ সরল।

 

জন্মদিনে শ্রদ্ধা এবং প্রনাম জানাই এই মহান সন্ন্যাসীকে|ফিরে আসবো কালী কথা সংক্রান্ত ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে।

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

কালী কথা – বর্ধমানের জীবন্ত কালী

কালী কথা – বর্ধমানের জীবন্ত কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বর্ধমানের পাতুন নামে ছোট্ট একটি গ্রামে হয় এক অদ্ভুত কালী পুজো। অদ্ভুত কারন এই গ্রামে প্রায় চারশো বছর ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন জ্যান্ত কালী। জ্যান্ত কালী মানে সত্যি সত্যি মানব রুপী কালী অর্থাৎ কোনও মূর্তি নয় মানুষই কালীর সাজে সেজে থাকেন এখানে । তাঁকে ঘিরেই চলে পূজা অর্চনা এবং যাবতীয় তান্ত্রিক উপাচার। শুনতে অদ্ভূত লাগলেও এই গ্রামের মানুষের কাছে এটা স্বাভাবিক রীতি।

 

শুধু জীবন্ত মানুষকে দেবী রূপে পুজো নয়। আরো কিছু রীতি নীতি বহু বছর ধরে এই গ্রামে পালিত হয়ে আছে এই পুজোকে কেন্দ্র করে।

 

কালী পুজো উপলক্ষে মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়

চৈত্র সংক্রান্তিতে এই সময়ে মা কালীর বেশে বহুরূপী গ্রামে ঘুরে ঘুরেই করেন গাজনের নাচ। সেই সময়ে ওই শোভা যাত্রায় নানা রকম লোকগান এবং মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। মা কালীর এক হাতে থাকে খাঁড়া বা তরোয়াল এবং অন্য হাতে থাকে কাগজ বা মাটির তৈরি নরমুণ্ড।অদ্ভুত সেই রূপ এবং শোভা যাত্রা দেখতে আসেন বহু মানুষ।

 

তবে একটি নিদ্দিষ্ট পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ দেবী কালীর মুখোশ পড়ে কালী সাজতে পারেননা। এই মুখোশও রাখা থাকে ওই পরিবারের কাছেই। মুখোশকে নিত্য পুজো করা হয়। এবং বছরের এই নিদ্দিষ্ট সময়ে মুখোশ জনসমক্ষে আনা হয়।গ্রামের বাকি পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন তবে তারা সাজেন কালীর চ্যালাচামুণ্ডা আর একজন সাজেন শিব।

 

স্থানীয় রা বলেন পুজোর কিছু বিশেষ সময়ে এবং বিসর্জনের সময়ে একজন ব্যক্তিকে দেবীকে ধরে রাখতে হয়। কারন দেবীর মুখোশ পড়ার পরে সেই দেবীর সাজে সজ্জিত মানুষটির মধ্যে অদ্ভুত শক্তি সঞ্চারিত হয় যা যেকোনো সময়ে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে এবং কোনো বিপত্তি ঘটে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হয়।

 

প্রতি বছর গভীর রাতে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সব রীতি পালিত হয়।ঢাকের শব্দ। ধুনীর ধোঁয়া। নাচ গান। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত এবং মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

এমন কতই না অদ্ভুত সব পুজো এবং রীতি নীতি আছে সারা বাংলা জুড়ে। রয়েছে কতো রহস্যময় দেবী মন্দির।আবার এমন কোনো কালী পুজোর কথা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বোল্লা কালী

কালী কথা – বোল্লা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবছরও আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকছে,সেই সংক্রান্ত তোড়জোড় নিয়ে এখন থেকেই কিছুটা ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি|তার ফাঁকেই আজ বাংলার একটি অন্যতম জাগ্রত ও বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো। আজকের পর্বে বোল্লা কালী মন্দির|

 

বোল্লা কালীমন্দির আমাদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি বিখ্যাত কালী মন্দির।

 

বালুরঘাট শহর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মাত্র কুড়ি কিলোমিটার|মন্দিরটি দক্ষিণ দিনাজ পুরের বোল্লা গ্রামে অবস্থিত এবং মূলত গ্রামের নাম থেকেই বোল্লা কালী মন্দিরের নামকরণ।

আজ থেকে চারশো বছর এই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরি|তার নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয় বোল্লা।

 

বোল্লা মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা|কথিত আছে একবার স্থানীয় জমিদার মুরারী মোহন চৌধুরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যান। তারপর তিনি বোল্লা মায়ের কাছে মানত করে মামলায় জয় লাভ করেন শোনা যায় দেবী কালি স্বয়ং তার উদ্ধারের জন্য এসেছিলেন এবং পরবর্তী দিনই জমিদার মুক্তি পেয়েছিলেন|কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসাবে তিনি দেবী কালির একটি সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।

 

তবে এই ঘটনার অনেক আগে থেকেই এখানে কালী পুজোর প্রচলন ছিলো|বহুকাল আগে এখানে এক মহিলা স্বপ্নাদেশে একটি কালো পাথরখণ্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন।

 

কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয় স্বয়ং

বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ

করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন।

 

বর্তমানে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে দক্ষিণ বোল্লা কালী মন্দিরে পুজো ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়|

সমগ্র উত্তর বঙ্গ সহ সারা রাজ্য এমনকি বাংলা দেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন মা বোল্লা কালীর দর্শন করতে ও তার পুজোয় অংশ নিতে|

 

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। যারা আগামী মৌনী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান। নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বড়ো দেবী 

কালী কথা – বড়ো দেবী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথায় কোচবিহারের পাঁচশো বছরের প্রাচীন বড়ো দেবীর পুজোর কথা জানাবো।একাধিক অলৌকিক ঘটনা এবং কিংবদন্তী জড়িত আছে এই পুজোর সাথে।

 

একবার কোচবিহার রাজ বংশের অন্যতম রাজা মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে ওই এই দেবীকে দেখেছিলেন সেই রূপেই আজও এখানে পূজিত হন দেবী।

 

একটি জনশ্রুতি মতে এই রাজ বংশের বিশ্ব সিংহ এবং তাঁর ভাই শীষ্য সিংহ খেলার ছলে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। ময়নার ডালকেই দেবীরূপ দিয়ে পুজো করেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই কাঠ ‘বড় দেবী’র মন্দিরে এনে, তাকে কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে তার উপর শুরু হয় প্রতিমা

তৈরির কাজ।

 

বর্তমানে প্রথাগত প্রতিমার থেকে এই প্রতিমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেবী রক্তবর্ণা এবং উগ্ররূপে তিনি বিরাজ করছেন । সঙ্গে থাকেন দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। দেবীর বাহন বাঘ এবং সিংহ উভয়।

 

কিংবদন্তী অনুসারে ‘বড় দেবী’র পুজোয় একফোঁটা হলেও প্রাণীর রক্তর প্রয়োজন হয় এবং আজও নাকি তাজা রক্ত সংগ্রহ করে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।

 

এই অদ্ভুত রীতি নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। শোনা যায় একবার মহারাজা বিশ্ব সিংহ খেলার ছলে এক সাথীকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের মাথা আলাদা হয়ে যায় ধড় থেকে। সেই মাথা দেবীকে নিবেদন করেন বিশ্ব সিংহ। সেই থেকেই এই রীতির প্রচলন।যদিও এই সবই জনশ্রুতি আকারে প্রচলিত যার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ সেই ভাবে উপলব্ধ নয়।

 

বর্তমানে পুজোর আয়োজন করে রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট। আজও পুজোতে পশুবলি হয়। অষ্টমীতে মহিষ, দশমীতে শূকর বলির প্রথা চালু রয়েছে আজও।

 

এখানে দূর্গা পুজোয় ধুম ধাম করে দেবী আরাধনা হয় এবং বিসর্জনের সময় যমুনা দীঘিতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী প্রতিমা যা খণ্ডিত করে বিসর্জন দেওয়া হয়।

 

বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র এবং অলৌকিক ঘটনাবলী নিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জয় কালী

কালী কথা – জয় কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কয়েকটি দিন পরেই রটন্তী কালী পুজো এবং মৌনী অমাবস্যা। সেই উপলক্ষে শুরু করেছি কালী কথা।আজ কালী কথা পর্বে শ্যামবাজারের জয়কালী বাড়ির কথা লিখবো|এই কালী মন্দিরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নানা অলৌকিক ঘটনা ও অদ্ভুত সব জশ্রুতি|

 

এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত আছে অলৌকিক এক ঘটনা|সাড়ে তিনশো বছর আগে এই পরিবারের পরিবারেরই এক সদস্য গঙ্গার স্নান করার পথে এই মাতৃ মূর্তিকে দেখেন। তিনি সেখানে মা কে প্রনাম করে বাড়ি চলে যান। সেদিনই তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে মা চাইছেন তিনিই তাঁর পুজো করুন। সেই শুরু হয় জয়কালির আরাধনা।

 

শাস্ত্র মতে পুজোয় ডিম ব্যবহার হয়না,কিন্তু এই মন্দিরে পুজোয় ডিম ব্যবহার হয়।

অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই সত্যি। কি করে শুরু হলো ডিম দিয়ে পুজোর তা নিয়েও এক ঘটনা আছে শোনা যায় বহুকাল আগে পরিবারের সদস্যরা এক বিকাল বেলা নিজেদের মধ্যেই আলচনা করছিলেন আলোচনার বিষয় ছিল ঠাকুরের খাবার।” ঠাকুরের খাবারের জন্য মিষ্টি , ফল এসব ব্যবহার হয় । আবার ঠাকুরের মাছ, মাংস ভোগ হিসাবে নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। কিন্তু সেদিন তাঁরা আলোচনা করছিলেন কেউ যদি এই পুজোর উদ্দেশ্যে ফল , মিষ্টির জায়গায় ডিম দেয় তখন কি হবে? ঠাকুর কি তা গ্রহন করবেন ? “অদ্ভুত ভাবে কিছুক্ষণ পরেই একজন মন্দিরে পুজো দিতে আসেন ডিম নিয়ে।” ডিম দিয়ে পুজো শুনেই সবাই নাকচ করে দেন। অনেকে আবার কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভক্ত নাছোড়বান্দা ছিলেন। কিছুতেই তিনি না পুজো দিয়ে ফিরে যাবেন না। আর পুজো দিলে তিনি দেবেন ওই ডিম দিয়েই। কারন তিনি সম্প্রতি ডিমের ব্যবসা শুরু করেছেন এবং তিনি ঠিক করেছেন ব্যবসা শুরুর আগে মা’কে পুজো দেবেন। আর যেহেতু তিনি ডিমের ব্যবসায়ী তাঁর বিশ্বাস ওই ডিম দিয়ে পুজো অর্পণ করলেই দেবী খুশি হবেন। ব্যবসায় উন্নতি হবে তাঁর। শেষে ডিম দিয়েই পুজো হয় তবে ওই ব্যবসায়ী একবারের জন্যও মন্দিরে প্রবেশ করেননি। বাইরে থেকেই পুজো নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।সেই থেকে ডিম দিয়ে পুজোর প্রচলন হয়|

 

জয় কালীর পুজোর প্রায় সাড়ে তিনশো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।আজও জয়কালি একই ভাবে পূজিতা হচ্ছেন । অবিশ্বাস্য হলেও অত বছর আগে পাওয়া একটি মাটির মূর্তি এখনও অবিকল একরকম থেকে গিয়েছেন। সব অমাবস্যাতেই দেবী জয় কালীর বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।

 

আগামী পর্বে অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা

নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ডুমুর কালী

কালী কথা – ডুমুর কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে আপনাদের এক এমন একটি গাছের কথা জানাবো যে গাছে স্বয়ং মা কালী বাস করেন বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এবং সেই গাছের নামেই মা কালীর নামকরণ হয়েছে।

 

বিহারের পূর্ণিয়া জেলার কেনাগর নামক স্থানেবহু বছর ধরে রয়েছে একটি ডুমুর গাছ। এই গাছেই মা কালীর অধিষ্ঠান বলে প্রচলিত বিশ্বাস মানুষের মনে।সেই থেকে দেবীকে গাছ কালী বা ডুমুর কালী বলেও ডাকেন অনেকে।বাংলা বিহার উড়িষ্যা যখন থেকে অভিভক্ত ছিলো তখন থেকেই এই গাছে দেবী কালীর বাস বলে বিশ্বাস করা হয়।

 

আজ থেকে প্রায় ছয়শো বছর আগে

স্বয়ং মা কালী নিজেই নাকি গ্রামবাসীদের স্বপ্নাদেশ দিয়ে জানিয়েছেন যে ওই গাছে তিনি বাস করেন।সেই থেকেই ডুমুর গাছের পুজো শুরু হয়।

 

এই ডুমুর গাছের নীচে রয়েছে মা কালীর ছবি।

বহু দূর দূর থেকেও এই গাছ দর্শন করতে মানুষ আসেন এখানে।বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো উপলক্ষে বহু মানুষের ভিড় হয়। বহু মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে। মনোস্কামনা

পূর্ণ হওয়ার পর আবার আসে পুজো দিতে।

 

সব থেকে আশ্চর্য বিষয় হলো প্রচণ্ড ঝড়েও ওই গাছের কিছু হয় না। একাধিক ঝড় ঝাপটা সাইক্লোন সহ্য করে আজও কয়েকশো

বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে

দেবীর বাসস্থান এই ডুমুর গাছটি।

 

দেবী ডুমুর কালী এই অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এলাকার প্রধান দেবী রূপে সমাদৃতা এবং

পূজিতা হন।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্বে।

থাকবে এমন কোনো ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র

নিয়ে লেখা পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গোকনার মা ভবানী

কালী কথা – গোকনার মা ভবানী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে অবস্থিত গোকনা কালী মন্দির এবং মা ভবানীর কথা লিখবো|

এখানে দেবী কালী কে মা ভবানী রূপে পুজো করা হয় এবং পুজো চলে আসছে আনুমানিক পাঁচশো বছর ধরে।আগে মাটির মন্দিরে মা ভবানী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কথিত আছে যে, ধান্যকুড়িয়ার জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইনের ছেলে মরণাপন্ন হলে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই মন্দিরে আসেন ও ছেলের প্রান ভিক্ষা করেন, মায়ের আশীর্বাদে জমিদারের ছেলে পুনর্জীবন লাভ করেন। এর ফলে জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইন পাকা গাঁথুনির মন্দির নির্মাণ করে দেন|মায়ের কৃষ্ণ বর্ণের পাথরের মূর্তি চতুর্দোলায় করে আনানো হয় কাশি থেকে|

বহু পূর্বে এই অঞ্চলে ছিল ডাকাতের রাজত্ব। অরণ্যে ঢাকা এই অঞ্চলে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো নাকি ঠিক মতো প্রবেশ করতো না|
কথিত আছে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা ভবানী’র কাছে প্রার্থনা করত দস্যুরা|

মন্দিরের পেছনে রয়েছে একটি প্রাচীন পুকুর, শোনা যায় ডাকাতরা এই মন্দিরের পেছনের পুকুরে ডুব দিয়ে মা ভবানীর পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে যেত এক কালে|মূল মন্দিরে মা ভবানীর
সাথে শিলা খণ্ড রূপে পূজিত হন বৈদ্যনাথ, মানেশ্বর ও পঞ্চানন|অলৌকিক ভাবে এক গ্রামবাসীর চাষ জমিতে লাঙ্গলের ফলায় মাটি খুঁড়তেই পাওয়া যাওয়া এই তিনটি শিলাখণ্ড তারপর তাদের মন্দিরে এনে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়|

এই প্রাচীন কালী মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রত, বহু মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে|দীপান্বিতা অমাবস্যার কালী পুজোয় বিরাট আকারে পুজোর আয়োজন হয় এখানে এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পুজো হয়।

আগামী মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত একের পর এক এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখতে থাকবো পর্বে পর্বে|
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা – ভৈরবী কালী

কালী কথা – ভৈরবী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভৈরব হল একটি সংস্কৃত শব্দ। যার প্রকৃত অর্থ ভয়ঙ্কর। ভৈরব হল মহাদেবের একটি ভয়ঙ্কর রূপ। শিব পুরাণে শিবের এই রূপের বিষয়ে বর্ণণা করা হয়েছে।একসময়ে অহংকারী হয়ে ওঠা ব্রম্হাকে শাস্তি দিতে তার একটি শির চ্ছেদ করেন শিব

তার ফলে ব্রহ্ম হত্যার পাপ হয় এবং কাশীতে এসে সেই পাপ থেকে মুক্তি পান শিব। সেই সময় তিনি কাল ভৈরব রূপ ধরেছিলেন।

 

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর বঙ্গের হিলী অঞ্চলে একসময় চলত শিবের ভৈরব রূপের পুজো । শিবের নাম অনুসারের ওই এলাকার নাম হয় ভৈরবতলা। পরে শিবের সঙ্গে পূজিতা হতে থাকেন দেবী কালীও প্রায় দুশো বছর ধরে এই জায়গায় ভৈরবী কালীর পুজো হয়ে আসছে।

আজকের কালী কথার কালী এই ভৈরব কালী।

 

এলাকায় শিবের উপাসনা থেকে ভৈরবী কালীপুজো শুরু হওয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর ইতিহাস। শোনা যায়, এই স্থানেই একসময় তন্ত্র সাধনা করতে এসেছিলেন দুর্গা চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি একটি মন্দিরও গড়ে তোলেন।তার ছিলো অলৌকিক ক্ষমতা। তিনি তন্ত্র মতে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন।

তারপর থেকে ভৈরবী কালীপুজোর প্রচলন শুরু হয় সেখানে।বর্তমানে এই ভৈরব কালীর পুজো গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে খুবই জনপ্রিয়।

 

এই ভৈরব কালীর মন্দিরে আজও তন্ত্র মতে পূজিতা হয়ে আসছেন মা ভৈরবী কালী। পশু বলির প্রথাও রয়েছে। মন্দিরের দশা এখন ভগ্নপ্রায়। দুর্গা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তার পূর্বপুরুষরা পুজোর দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন ।

তবে বর্তমানে তাদের শিষ্য ও জনসাধারণ একত্রিত হয়ে পুজোর আয়োজন করেন।

 

সামান্য কিছুদিন পরেই মৌনী অমাবস্যা।

জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সেই উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ঘোমটা কালী 

কালী কথা – ঘোমটা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে কলকাতার একটি প্রাচীন কালীর পুজোর কথা আপনাদের জানাবো।

 

তিলোত্তমা কলকাতার শ্যামপুকুরে রয়েছেন মা ভবতারিণীর এক প্রাচীন মন্দির এখানে দেবী ঘোমটায় ঢাকা থাকেন।তাই তিনি ঘোমটা কালী।

 

এই মন্দিরের নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসতা আগে জানাই।বলরাম ঘোষের উত্তরসূরি তুলসীরাম ঘোষকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন দেবী।স্বপ্নে দেখা রূপ অনুযায়ীই এখানে দেবী কালীর মূর্তি তৈরি হয়েছে। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করেন সারদা প্রসাদ ঘোষের মা দয়াময়ী দাসী। তুলসীরাম ঘোষ স্বপ্নে দেখা কালী মূর্তি অনুযায়ী একটি ছবি আঁকিয়েছিলেন। সেই ছবিটি এখনও মন্দিরে রাখা আছে। তুলসীরামের পুত্রবধূ দয়াময়ী দেবী স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলের সঙ্গে কলকাতায় এসে জমি কিনে মন্দির তৈরি শুরু করেন এবং তুলসীরামের আঁকানো ছবি অনুযায়ী কালী মূর্তি তৈরি করান। পরবর্তীতে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় স্থাপিত হয় একটি কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি এবং নিয়মিত পুজো শুরু হয়।

 

বর্তমান মন্দিরটি মন্দিরটি ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত।

দেবী কালিকা আদপে দক্ষিণাকালীরই ভিন্নরূপ। সাধক, সন্ন্যাসীরা দেবীকে ভবতারিণী বলেন। গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের দক্ষিণাকালী ভবতারিণী নামেই নিত্য পূজিতা। মন্দিরের  গর্ভগৃহের একদিকে শ্রীধর অর্থাৎ নারায়ণ শিলা, কৃষ্ণ-রাধিকা মূর্তি, গণেশ, কৃষ্ণ মূর্তিও নিত্য পূজিত হয়।  মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। দক্ষিণেশ্বরের আদলে নবরত্নশৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত।

 

ভবতারিণী মন্দিরে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।

মন্দিরে প্রতিদিন নিত্য পুজো হয়। কার্তিক অমাবস্যায় ধূমধাম করে কালী পুজো হয়। এছাড়াও জন্মাষ্টমী,দুর্গাপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে থাকে। মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাসন্তী পঞ্চমীর দিন, সেই কারণে, প্রতি বছর বসন্ত পঞ্চমীর দিন মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পুজো হয়।

 

গোটা শহরে ঘোমটা কালী খুবই প্রসিদ্ধ।স্থানীয় বাসিন্দারা বিপদে-আপদে মন্দিরে ছুটে আসেন। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর কৃপায় যেকোনও বিপদ থেকে পরিত্রাণ মেলে।বর্তমানে এই

মন্দিরটি হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে।

 

ফিরে আসবো পরের অনুষ্ঠানে ।

কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী চিত্তেস্বরী 

কালী কথা – দেবী চিত্তেস্বরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে চিত্তেশ্বরী কালী বা চিতু ডাকাতের কালী কালী পুজো নিয়ে লিখবো।শহর কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একদম প্রথম সারি তে রয়েছে চিৎপুতের চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির|

 

কেউ কেউ মনে করেন এই মন্দির নির্মান করেন ও দেবীকে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন সেই সময়ের এই অঞ্চলের কুখ্যাত ডাকাত চিতে বা চিতু|তার নাম থেকেই নাকি এই অঞ্চলের নাম হয় চিৎপুর এবং দেবীর নাম চিত্তেশ্বরী।অনেকেই বিশ্বাস করেন ষোড়শ শতকে এই মন্দির বানিয়েছিলেন তৎকালীন ধনী জমিদার মনোহর ঘোষ যিনি একসময়ে আকবরের মনসাবদার টোডর মলের রাজ কর্মচারী ছিলেন।

 

ভক্তদের বিশ্বাস যে এই মন্দিরে দেবী সাক্ষাৎ

অবস্থান করছেন |এখানে মূল মন্দিরে দেবী সর্বমঙ্গলা ছাড়াও আছে তিনটি শিব মন্দির। লোকমুখে শোনা যায় এককালে এই এলাকা

ছিলো অত্যান্ত দুর্গম|ছিলো ভয়ঙ্কর বাঘ ও দুর্ধর্ষ ডাকাতের উৎপাত|ডাকাত দলের নেতা ছিলো চিতু ডাকাত।সত্যি মিথ্যে প্রমান করা মুশকিল তবে লোক মুখে শোনা যায় এক কালে ডাকাতরা নাকি এখানে নরবলি দিয়ে ডাকাতি করতে বেরোতো|ডাকাত দের আতঙ্কে জমিদার পরিবার এই স্থান ত্যাগ করে চলে যান এবং এলাকার অধিকার সম্পূর্ণ রূপে চলে যায় চিতু ডাকাত এবং তার দলের হাতে।

 

শোনা যায় একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গার জলে ভেসে আসা নিম কাঠ সংগ্রহ করে তাই দিয়ে মা চণ্ডীর বিগ্রহ তৈরি করেন চিতু ডাকাত৷

মা চিত্তেশ্বরী দশভুজা দুর্গা রূপে পূজিতা হন এখানে আর মায়ের সামনে রয়েছে একটি বাঘ|শোনা যায় চিতে ডাকাতের মৃত্যুর পরে তৎকালীন জমিদার মনোহর ঘোষ ও নৃসিংহ ব্রহ্মচারী পুনরায় এই স্থানে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই মন্দিরে রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং আজীবন তারা নিষ্ঠা সহকারে পূজার দায়িত্ব পালন করেন।

সেই প্রথা আজও চলে আসছে।

 

দূর্গাপুজোর সময়ে এবং কালী পুজোর সময় বিশেষ পুজো হয়।আজও এখানে

নিমকাঠের বিগ্রহতেই দেবীর পুজো হয়।

বর্তমানে রায় চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের হাতেই পুজোর ভার রয়েছে।

 

আগামীকাল পর্বে কালী কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। থাকবে অন্য এক প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।