Home Blog Page 22

শিব অবতার – অশ্বথামা

শিব অবতার – অশ্বথামা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের পঞ্চম অবতারের নাম অশ্বত্থামা।
ভোলেনাথের এই অবতারের জন্ম গুরু দ্রোণাচার্যের গৃহে পুত্ররূপে ঘটেছিল। নিজ আরাধ্য ভোলেনাথকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য দ্রোণাচার্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন ও শিব প্রসন্ন হয়ে তাঁকে পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করার বর দেন। এর সঙ্গে সঙ্গে অশ্বত্থামা অমরত্বের বরও পেয়েছিলেন।

জন্মের সময় তিনি অশ্বের ন্যায় গর্জন করেছিলেন তাই তার নাম হয় অশ্বথামা। শিবের অংশ রূপে তিনি জগৎ বিখ্যাত মহা জ্ঞানী এবং ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও শাস্ত্রে তিনি কিছুটা উপেক্ষিত এবং নানা কারণে সমালোচিত হন।

নানা দিক দিয়ে বিতর্কিত এবং রহস্যময় এক চরিত্র এই অস্বথামা।একদিকে অশ্বথামা ছিলেন মহাভারতেরর অন্যতম বীর যোদ্ধা।তিনি ছিলেন কৌরবদের মিত্র। আবার কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধের পর পাণ্ডবদের সন্তানদের হত্যা করার অপরাধে এবং উত্তরার গর্ভে থাকা সন্তানকে পরীক্ষিতকে অন্যায় ভাবে মারার জন্য শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, তিনি চিরকাল ধরে পাপের ভার বহন করে ঘুরবেন না তিনি মানুষ হওয়ার স্বীকৃতি পাবেন না পাবেন দেবতার মর্যাদা।

অশ্বত্থামা অষ্ট চিরঞ্জীবীর অন্যতম|তিনি দ্রোণাচার্যের এতই প্রিয় ছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর গুজব কানে আসার পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

একটি জনশ্রুতি অনুসারে হিমালয়ের গভীর অরণ্যে থাকেন অস্বথামা তার উচ্চতা প্রায় সাত ফুট এবং তার কপালে রয়েছে একটি গভীর ক্ষত|বহু যোগী পুরুষ অশ্বত্থামা কে দেখার দাবী করেছেন।

সমগ্র চৈত্র মাস জুড়ে থাকবে শিব মাহাত্ম বর্ণনা এবং শিব সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা। ফিরে আসবো পরের শিব অবতার নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব অবতার – নন্দীদেব

শিব অবতার – নন্দীদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

দেবাদিদেব মহাদেবের দুই ছায়া সঙ্গী নন্দী ও ভৃঙ্গী সর্বদা তার অনুচর রূপে তার পাশে থাকেন এবং তার সর্বাধিক বিশ্বস্ত অনুচর নন্দী হলেন তারই অংশ এবং নন্দীদেব শিবের একটি অবতার রূপেই গণ্য হন।

 

ভারতের বহু শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে। তবে সে।মূর্তি সচরাচর বৃষ বা ষাঁড়ের। তবে এটা নন্দীর আসল রূপ নয়।নন্দীদেব একজন বলশালী দেবতা যার হাতে থাকে একাধিক অস্ত্র এবং সর্বদা তিনি শিবের সেবায় এবং আরাধনায় নিয়োজিত থাকেন।শাস্ত্র মতে নন্দীদেব কড়াল দর্শন। বিকটআকার। বামন আকৃতি। মুন্ডিত মস্তক এবং ক্ষুদ্র বাহু বিশিষ্ট।কুর্ম পুরান অনুসারে সুজশা নামে এক কন্যার সহিত নন্দীর বিবাহ দেন স্বয়ং মহাদেব।

 

আবার অনেক পুরান বিশেষজ্ঞ মনে করেন পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান এবং শিবের অবতার হলেও তাকে শিবের বাহন রূপেই পূজো করা হয়।

 

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন। রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন। পরে তাই হয়েছিলো। শিবের আরেক অবতার হনুমান শ্রী রামের সাথে মিলে রাবনের পতন সুনিশ্চিত করেন।

 

নিজের দীর্ঘ তপস্যার বলে নন্দীদেব

শিবের বাহন রূপে স্থান লাভ করেন।

 

ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতারের কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – কালভৈরব

শিব অবতার – কালভৈরব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের উনিশটি অবতারের মধ্যে

অন্যতম কাল ভৈরব। এটিও শিবের একটি ক্রোধি এবং উগ্র রূপ এবং এই অবতারের আবির্ভাব হয় বিশেষ একটি কারণে।

 

সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের এবং কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল।

 

ব্রহ্মার ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরবের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি। এই কপাল হাতে থাকার কারনেই শিবের আরেক নাম হয় কাপালিক।অর্থাৎ কাপালিক এবং কাল ভৈরব একই।

 

এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর গঙ্গা স্নান করে পাপ মুক্ত হন তিনি এবং সেই কপাল থেকে মুক্ত হন

তার পর শিব তার কাল ভৈরব রূপকে কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরবই শেষ কথা |

 

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

 

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর, অনেকে বিশ্বাস করেন গভীর রাতে কোথাও যাত্রা করার সময় কালভৈরবের নাম নিলে নাকি তিনি সব বিপদ কাটিয়ে দেন।পুরাণ মতে কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন।তবে সেই ভৈরব মূর্তিও অনেক প্রকার ভেদ আছে।প্রতি শিব মন্দিরে কালভৈরব এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ওই মন্দিরের চাবির রক্ষক বলে বলে মনে করা হয়।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব অবতার সংক্রান্ত ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় আলোচনা।

ফিরে আসবো পরবর্তী অবতার নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – বীরভদ্র

শিব অবতার – বীরভদ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত অবতার নিয়ে কথা উঠলে শাস্ত্রে বিষ্ণুর দশ অবতার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে শিবের ও একাধিক অবতার রয়েছে। শিবের মোট উনিশটি অবতারকে তার প্রধান এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবতার হিসেবে দেখা হয় যাদের উল্লেখ আছে শিব পুরান সহ একাধিক শাস্ত্রে। আসন্ন চৈত্র মাস উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে শিব অবতার নিয়ে লিখবো ।আজ বীর ভদ্র অবতার।

 

শিবের সকল অবতারের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং উগ্র অবতার বীর ভদ্র। সতীর দেহ ত্যাগের পর তিনি শিবের জটা থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দেবাদিদেবের অপমানের প্রতিশোধ নেয়াই ছিলো বীর ভদ্রর প্রধান উদ্দেশ্যে এবং বলা বাহুল্য সেই কাজে তিনি সফল হন।

 

বীরভদ্র অবতার সতীর মৃত্যুর জন্য দায়ী দক্ষকে হত্যা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নৈবেদ্য দূষিত করে, যজ্ঞের পাত্র ভেঙে এবং পুরোহিতদের অপমান করে যজ্ঞ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি আনুষ্ঠানিক প্রাসাদে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন। তাকে যখন নিরস্ত্র করতে আসেন অন্য দেবতারা তখন তিনি ভগবান ইন্দ্রকে পদদলিত করেছিলেন এবং যমের লাঠি ভেঙে দিয়েছিলেন। মহাকালীও বীরভদ্রের সাথে যোগ দেন।বীরভদ্র তাঁর রোমকূপ থেকে রৌম্য নামক রুদ্রতুল্য অসংখ্য গণদেবতা সৃষ্টি করেন। তাদের ক্রোধে মহা প্রলয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

যখন সব দেবতারা বীরভদ্র কে নিরস্ত্র ও শান্ত করতে চেয়ে ব্যার্থ হন তখন ব্রহ্মা এসে বীরভদ্রের স্তুতি করে তাঁকে শান্ত করেন। এরপর বীরভদ্র দেবতাদের সাথে করে মহাদেবের কাছে উপস্থিত হন। বীরভদ্রের এইরূপ বীরত্ব ও প্রভুপরায়ণতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তার অংশ ও অনুগত বীর ভদ্রকে নানাবিধ বর দান করেন।

 

শিবের অবতার এবং অংশ রূপে বীর ভদ্র সকল শিব ভক্তের রক্ষাকর্তা এবং পূজনীয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতার নিয়ে।

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – অবধুত অবতার

শিব অবতার – অবধুত অবতার

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের উনিশটি প্রধান অবতারের মধ্যে অবধূত অবতার অন্যতম। আজকের পর্বে এই বিশেষ অবতার বা রূপ নিয়ে লিখবো।

একাধিক পুরানে এই অবতার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী সতীকে হারানোর পর দিশেহারা এবং শোকগ্রস্ত শিব অবধূত রূপে আত্ম প্রকাশ করেন।
আবার শিব পুরাণ অনুযায়ী ইন্দ্রের অহংকার চূর্ণ করার জন্য শিব এই অবতার ধারণ করেন।

একবার দেবরাজ ইন্দ্র যখন নিজের ক্ষমতা এবং পদের জন্য অতীশয় অহংকারী হয়ে ওঠেন তখন
শিব দিগম্বর রূপে শরীরে ভস্ম মেখে একজন বৃদ্ধ যোগীর বেশে ইন্দ্রের যাওয়ার পথে শুয়ে পড়েন। ইন্দ্র প্রথমে শিবরূপী অবধূতকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা শুরু করেন কিন্তু ব্যর্থ হন এবং তাঁকে অপমান করেন। কিন্তু তখনও শিব অবিচল এবং শান্ত থাকেন।ক্ষুব্ধ হয়ে ইন্দ্র সেই তাঁর ওপর প্রহার করার জন্য বজ্র তুলে নেন। কিন্তু বজ্র থেমে যায়।সেই সময়ে দেব গুরু বৃহস্পতি উপস্থিত হন এবং ইন্দ্রকে বলেন ইনি অবধূত রুপী শিব।

ইন্দ্রের অহংকার ভেঙে যায়। অনুতপ্ত ইন্দ্র ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মৌনী মহাদেব সন্তুষ্ট হন এবং নিজের প্রকৃত রূপে পুনরায় আত্ম প্রকাশ করেন।

অন্য একটি শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে সতী বিয়োগে দিশেহারা শিব জটাযুক্ত, নগ্ন, ভস্ম মাখা শরীরে মুণ্ড মালা ধারণ করে জগৎ সংসারে ভ্রমণ শুরু করেন। তাঁর এই রূপই অবধূত অবধূত অবতার নামে খ্যাত হয়।

শিবের এই রূপ ত্যাগ। বৈরাগ্য এবং শান্তির প্রতীক রূপে পূজিত হয় এবং সমস্ত শিব ভক্তের কাছে শিবের অবধূত অবতার পরম শ্রদ্ধার এবং নমস্যা।

ফিরে আসবো পরের শিব অবতার নিয়ে। চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব অবতার – শরভ অবতার

শিব অবতার – শরভ অবতার

 

পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

দেবাদিদেব মহাদেবের বিচিত্র এবং উগ্র বা ধ্বংসাত্মক একটি অবতার শরভ অবতার।

একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পন্ন করতে এই অবতারের আবির্ভাব হয়।আজকের শিব অবতার পর্বে লিখবো এই শরভ অবতার নিয়ে।

 

নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। স্বর্গ মর্ত এবং পাতাল কেঁপে ওঠে তার ক্রোধে।

 

এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন। এমতাবস্থায় মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।

 

শাস্ত্রে উল্লেক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি |

 

শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|এই যুদ্ধ ও দুর্লভ অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় নৃসিংহ পুরান ও শিব পুরানে।

 

শিব কে বলা হয় সংহারকর্তা। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে নৃশংহ দেবের ক্রোধ থেকে সৃষ্টি রক্ষা করতে দেবাদিদেব তাকে সংহার করতেই বিকট এবং বিচিত্র শুরভ রূপ নেন।

 

শিবের উনিশটি অবতার আছে। তাই ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই পর্বগুলি।

আগামী পর্বে শিবের অন্য একটি অবতারের কথা আপনাদের শোনাবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব অবতার পিপলাদ

শিব কথা – শিব অবতার পিপলাদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব অবতার গুলির মধ্যে যেমন আছে উগ্র বীর ভদ্র অবতার তেমনই আছেন পরম জ্ঞানী বজরংবলী আবার পিপলাদের ন্যায় শুদ্ধ

ভক্ত রূপেও মহাদেব অবতীর্ণ হয়েছেন। শিবের এই বিশেষ অবতার সম্পর্কে জানবো আজকের পর্বে।

 

শিবের এই অবতারের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সে বিষয়ে পরে বলছি আগে পিপলাদ সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানাই।

 

ত্যাগের মূর্ত প্রতীক সাধু দধিচি ও তাঁর স্ত্রী স্বর্চার সন্তান পিপলাদ রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শিব। শৈশবে পিসি দধিমতির কাছে পালিত হয়েছিলেন তিনি। প্রবল পরাক্রমী ছিলেন পিপলাদ|

 

এই পিপলাদ ও গ্রহ রাজ শনির মধ্যে একবার বিবাদ দেখা দেয়।বড় হয়ে যখন পিপলাদ জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে সমস্যায় ফেলেছিলেন শনিদেব । ক্ষুব্ধ পিপলাদ শনিকে অভিশাপ দিলে স্বর্গ থেকে পতন হয় শনির। দেবতারা এসে পিপলাদের কাছে শনির হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলে পিপলাদ শনিকে ক্ষমা করে দেন কিন্তু বলেন যে শনির দৃষ্টি যার ওপর পড়বে তিনি শিবের পুজো করলে শনির দশা কেটে যাবে। শনির কুপ্রভাব

দুর হবে।

 

আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিবের পুজো করলে ও শিব কৃপা লাভ করলে শনি গ্রহের কু প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ হয় বলেই মনে করা হয়।

 

আপনারাও এই আসন্ন চৈত্র মাস কে কাজে লাগিয়ে নিজের গ্রহ গত দোষ খণ্ডন করাতে পারেন।এই সময় শিব কৃপা লাভের উত্তম সময়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতারের কথা

নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মের অন্যতম পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব আজকের দোল উৎসব। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবের ন্যায় দোল পূর্ণিমার উৎসও খুঁজে পাওয়া যায় শাস্ত্রে।

 

শাস্ত্র অনুসারে রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিল প্রহল্লাদ। সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ বালক। বিষ্ণুর শত্রু হিরণ্য কশিপু এই প্রহল্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা সেই উদ্দেশে প্রহল্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেন । হোলিকা ভেবেছিলেন, তিনি তাঁর মায়াবী ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবেন এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রহল্লাদ। কিন্তু আদতে দেখা যায় তার উল্টোটাই হয়। বিষ্ণুভক্ত বালকের গায়ে আগুনের এতটুকু আঁচও লাগেনি। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় হোলিকার কন্যার। তারপর থেকেই এই অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করতে পালিত হয় হোলি উৎসব।

 

বাংলায় দোল পূর্ণিমার পরের দিনই সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় এই হোলি।ব্যবহারিক প্রয়োগ এক হলেও হোলি এবং দোল আদতে আলাদা আলাদা দুটি উৎসব।শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত মথুরা ও রাধার জন্মস্থান হিসেবে জগদ্বিখ্যাত বৃন্দাবনে ১৬ দিন ধরে এই দোল উৎসব পালিত হয়। কথিত রয়েছে এই দিনেই রাধিকাকে ‘ফাগে’ মানে গুড়ো রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং এই তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণ রাধিকাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন।তাই দোল পূর্ণিমা মূলত রাধা কৃষ্ণের প্রেম উদযাপনের উৎসব।

 

বাংলার ভক্তি আন্দোলনের প্রান পুরুষ

চৈতন্যদেবের সাথেও ও দোল পূর্ণিমার সম্পর্ক আছে কারন এই দোল পূর্ণিমা তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, কৃষ্ণনগরে এই তিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।শ্রী চৈতন্যদেবের লীলা ভূমি বাংলার বাইরে ওড়িশাতেও ধুমধাম করে পালিত হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।

 

দোল বলুন আর হোলি বলুন দুটোই নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।তারুণ্যর উৎসব|অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর উৎসব।

 

সবাইকে জানাই দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছ এবং অভিনন্দন। আগামী পর্বে অন্য আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য 

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দোল যাত্রা উপলক্ষে শুরু করেছিলাম কৃষ্ণ কথা। কৃষ্ণের জীবনের নানা লীলা এবং পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি ধারাবাহিক ভাবে। আজকের পর্বে জানাবো শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু সংক্রান্ত সব রহস্যময় তথ্য।

 

সংক্ষেপে বলা যায় যাদব বংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটি গাছের তলায় বসে থাকা অবস্থায় তাঁর রক্তবর্ণ চরণ দেখে হরিণ মনে করে তীর ছোঁড়েন এক ব্যাধ সেই তীরের আঘাতেই মৃত্যু হয় শ্রী কৃষ্ণের।তবে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

কেনো তা জানতে গেলে আরো অনেক কিছু জানতে হবে।

 

একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে মহাভারতের যুদ্ধের পর নিজের রাজ্য দ্বারকায় ফিরে যান কৃষ্ণ। স্ত্রী রুক্মীনি ও পুত্র সাম্বকে নিয়ে কিছুকাল সুখে বাস করেন।একদিন সপ্তঋষি কৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকা আসেন। তাঁদের নিয়ে একটু মজা করতে চান কৃষ্ণ-পুত্র সাম্ব ও তাঁর বন্ধুরা। মহিলার মত সাজপোশাক করে এবং পেটে লোহার টুকরো বেঁধে গর্ভবতী মহিলা সেজে সপ্তঋষির সামনে আসেন সাম্ব। ঋষিরা পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেন|সপ্তঋষি অভিশাপ দেন যে সাম্বর শরীরে যা বাঁধা আছে, তাই এই যাদব বংশের ধ্বংসের কারণ হবে। ঠিক পরের দিন পেটে প্রচণ্ড ব্যাথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন সাম্ব। কৃষ্ণ ও বলরাম তাঁকে দেখতে এলে সপ্তঋষির অভিশাপের কথা শোনের। সাম্বর পাশে রাখে লোহার টুকরোটাও দেখেন তাঁরা। ওই লোহার টুকরো গুঁড়ো করে প্রভাস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনেকটা গুঁড়ো হলেও একট টুকরো লোহা থেকে যায়। তা নদীর জলে ভাসিয়ে দিলে সেই লোহার টুকরো একটা মাছ গিলে ফেলে। ওই মাছ আবার ধরা পড়ে স্থানীয় এক মত্‍স্যজীবীর জালে। মাছ কেটে পেটের মধ্যে লোহার টুকরো দেখে তা দিয়ে তীর বানান ওই মত্‍স্যজীবী|এবং ঘটনা চক্রে ওই তীরের আঘাতেই প্রান যায় কৃষ্ণর|সত্যি হয় সপ্তর্ষির অভিশাপ।

 

শ্রী কৃষ্ণ বিশেষ কিছু লীলা সম্পন্ন করতে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তার লীলা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি রাজকীয় প্রস্থান করেন।তার মৃত্যুর পরেও কিছু রহস্য থেকে যায়। যা নিয়ে আবার পরের একটি পর্বে আলোচনা হবে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – ভক্তের সাথে কৃষ্ণ লীলা 

কৃষ্ণ কথা – ভক্তের সাথে কৃষ্ণ লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বৃন্দাবনে শ্রী কৃষ্ণ একাধিক লীলা করেছেন তার মধ্যে আজও শ্রী কৃষ্ণের একটি বাল্য লীলা সবার মুখে মুখে ফেরে যেখানে শ্রী কৃষ্ণ একজন সাধারণ ফল বিক্রেতা রমণীকে খেলার ছলে তার অলৌকিক শক্তি দেখিয়ে ছিলেন।

 

একদিন শ্রী কৃষ্ণ তার সখাদের সাথে বৃন্দাবনের পথে খেলছিলেন। ঠিক সসময় এক দরিদ্র ফল বিক্রেতা মহিলা এলেন । ক্ষুদার্থ শ্রী কৃষ্ণ ফল

বিক্রেতার কাছে ফল চাইলেন।ফল বিক্রতা বললেন তার ছেলেমেয়েরা তিন দিন থেকে অনাহারে আছি । এই ফল বেচে তাদের জন্য খাবার কিনতে হবে। তাই কিছু অন্নর বিনিময়ে তিনি ফল দিতে পারবেন।এই কথা শুনে শ্রী কৃষ্ণ ঘরে অন্ন অনতে গেলেন।

 

অন্ন নিয়ে আসার সময়ে ছোট কৃষ্ণের হাতের মধ্যে থেকে সব অন্ন পড়ে গেল। তিনি আবার গেলেন অন্ন আনতে কিন্তু এবার ও ব্যার্থ হলেন।এমন করে বেশ কয়েকবার একই ঘটনা ঘটলো বারবারই সব অন্ন নিচে পড়ে যেতে লাগল।

 

এই ঘটনা দেখে ফলবিক্রেতা মহিলার মন গলে গেল ।বলল আমারো দুটো ছেলে আছে তাদের ক্ষিধার জন্য কান্না তিনদিন থেকে দেখছি । তুমিও আমার পুত্র সম। তুমিও ক্ষুদার্থ এই নাও আমার ঝুড়ির সব ফল নাও ।কৃষ্ণ আনন্দে সব ফল গ্রহন করলেন।

 

এদিকে সব ফল দান করে শুন্য ঝুড়ি নিয়ে ঘরে ফিরে আসে ঐ ফল বিক্রেতা মহিলা । তার এক ছেলে সেই ঝুড়ির দিকে এগিয়ে যায় ।ভাবে যদি অন্ন বা অন্য খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায় । কিন্তু গিয়ে দেখে একি সেই ঝুড়ি তো স্বর্নালংকারে ভর্তি ।ফলবিক্রেতা এই লীলা দেখে বুঝতে পারে শ্রী কৃষ্ণ সাধারন মানব না। তিনি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেব শিশু বা হয়তো ভগবান আজ

তাকে কৃপা করেছেন।তার সব কষ্ট দুর হয়েছে।

 

এই ভাবে বার বার শ্রী কৃষ্ণ দেখিয়েছেন যে তিনি ভক্তের ভগবান। যেখানে ভক্ত তার উপর ভরসা করেন তাঁকে আপন করে নেন সেখানেই তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন ভক্তের জন্য।

 

শ্রী কৃষ্ণ কথা পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।