Home Blog Page 18

কালী কথা – দেবীনগরের কালী

কালী কথা – দেবীনগরের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় জানবো শতাধিক বছরের পুরনো রায় গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়ির কথা

যে মন্দিরকে ঘিরে বহু অলৌকিক ঘটনার কথা প্রচলিত আছে।

 

ঠিক কত সাল থেকে এবং কে দেবী নগর কালী বাড়ির পূজা প্রচলন করেন তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও পূজার বয়স শতাধিক সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অতীতে কোনো এক সময়ে জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরে পুজো করতো এলাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতরা।পরবর্তীতে দিনাজপুরের জমিদার স্যার গিরিজানাথ রায় বাহাদুর এই পূজার দেখভাল শুরু করেন।তিনি প্রতি বছর দিনাজপুর থেকে এসে এখানে পুজো করতেন।

 

শোনা যায় একবার স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি ভূপালচন্দ্র রায়চৌধুরির গাড়ি এই মন্দিরের সামনে এসে খারাপ হয়ে পড়ে। তিনি নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান পরে অদ্ভুত ভাবে আপনাআপনি তার গাড়ি ঠিক হয়ে যায়। এবং সেই রাতে দেবী তাকে স্বপ্নাদেশ দেন মন্দিরের চারপাশে ঘিরে দেবার জন্য। তারপর তিনি মন্দিরের পাশে প্রাচীর তুলে দেন।নতুন করে মন্দিরের রক্ষানাবেক্ষনও শুরু হয় তার আমল থেকে।

 

পরবর্তীতে জমিদার পরিবার থেকে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে এই ট্রাস্টি বোর্ড সেই ট্র‍্যাডিশন মেনে আজও নিষ্ঠাযোগে পূজা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখানে জমিদার বাড়ির প্রচলিত নিয়ম মেনে কালীপূজার দিন সূর্যাস্তের পর মূর্তি গড়ে, সেই মূর্তিতেই পূজা করে সূর্যোদয়ের আগেই বিসর্জন দেওয়া হয়।

 

বিশেষ বিশেষ তিথিতে পশুবলিও হয়ে থাকে।

তবে তা হয় পূজার পরে। কারণ দিনাজপুরের জমিদাররা ছিলেন বৈষ্ণব, তাঁরা বলি দিতেন না, পশুবলি দিত ডাকাতেরা। সেই পরম্পরা মেনেই এই রীতি পালন হয়।মায়ের মন্দিরে কোন ছাদ নেই। খোলা আকাশের নীচে মায়ের স্থান।

 

দেবী নগর কালী বাড়ির দেবী বহু মানুষের কাছে

পরম দয়াময়ী। ভক্তদের সব মন বাসনা তিনি পূরণ করেন।তাই প্রতি অমাবস্যায় তার কাছে ছুটে আসেন বহু দর্শণার্থী।

 

আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে

চলছে কালী কথা। এমন সব কালী ক্ষেত্র ও তাদের তাদের সাথে জড়িত অলৌকিক বহু ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো প্রতি পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী

কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আপনাদের এমন এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস জানাবো যে মন্দিরের প্রভাব রয়েছে দক্ষিনেশ্বর কালী মন্দিরে।

এই কালী মন্দির ব্রহ্মময়ী কালী মন্দির নামে খ্যাত।আজ থেকে আড়াইশ বছর আগে এই মন্দির তৈরী করেছিলেন সেযুগের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী পরিবার নিয়োগী পরিবার। সেই সময় ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে ব্যবসা চলতো নিয়োগী পরিবারের। মুলত চিনির ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ সম্পদ লাভ করেন তারা।সেই সময়ে এই পরিবারের কর্তা কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

নবরত্ন শৈলী তে নির্মিত ব্রহ্মময়ী মন্দিরটি বাংলার প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরগুলির অন্যতম।
মন্দিরের মূল বেদী থেকে চৌশট্টি ফুট উঁচুতে অর্থাৎ তন্ত্রমতে চৌশট্টি যোগিনী স্তর পার হয়ে মন্দিরের সর্বোচ্চ তলের মধ্যভাগে শ্বেতবর্ণের হংসেশ্বর শিবলিঙ্গের অবস্থান। একতলায় আছেন মা ব্রহ্মময়ী কালী। মন্দিরের চারকোণে চারটি কালো পাথরের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। মন্দিরের অভ্যন্তরে পঞ্চমুণ্ড আসনের উপর বেদীতে শবরূপী মহাদেবের উপর কালো পাথরের খড়গমুণ্ডধারিণী ব্রহ্মময়ী মা অধিষ্ঠিন করছেন।

মন্দিরের প্রথম তলে সমতল ছাদের চারকোণে চারটি চূড়া। মন্দিরের বেদীমূলে সিংহাসনে নারায়ণ শিলা এবং শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও মাতা শ্রী শ্রী সারদা দেবীর চিত্র বর্তমান। মূল মন্দিরের তিনটি প্রবেশপথ তন্ত্রমতে ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার প্রতীক। কেবলমাত্র বছরে একবার শিবরাত্রির দিন মন্দিরের উপরে দর্শনার্থীদের যেতে দেওয়া হয়।বাকি দিন গুলি ওই স্থানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

দেবী এখানে ব্রহ্মময়ী রূপে বিরাজ করছেন। পূজা পাঠ সবই হয় তন্ত্র মতে।প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো এবং তন্ত্র মতে সমস্ত উপাচার নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়।বহু দর্শণার্থী সেই সময় এই মন্দিরে ভিড় করেন।

শোনা যায় ব্রহ্মময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় সাতাশ বছর পরে রানী রাসমনির জামাই মথুরবাবুকে এই মন্দির সম্পর্কে জানার জন্য এখানে আসতে বলেন এবং মথুরবাবু নিজে এসে এই মন্দির সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে যান এবং পরবর্তীতে এই মন্দিরের প্রভাব থেকে যায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে

আবার কালী কথার পরবর্তী পর্বে অন্য এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস
নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বিপদত্তারিনী কালী

কালী কথা – বিপদত্তারিনী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে লিখবো

দক্ষিণ বঙ্গের রাজ পুরের বিপদত্তারিণী কালী প্রসঙ্গে।জানাবো এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্টার কাহিনী এবং তার মাহাত্ম।

 

অনেকে মনে করেন বিপদতারিণী এবং পুরাণে কৌশিকী দেবী একই।যিনি বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিঁনিই বিপদত্তারিণী।বাংলার বিপদত্তারিণী মন্দির গুলির মধ্যে এটি অন্যতম জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ।বর্তমানে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে এই মন্দির চণ্ডীর বাড়ি হিসাবে পরিচিত।

 

দুলাল বাবা বা শ্রী দুলাল চন্দ্র দাস নামে এক মাতৃ সাধক এই পুজোর প্রান পুরুষ।শোনা যায় শৈশব থেকেই তিনি মা চন্ডীর পূজো করতেন তবে ব্রাহ্মন না হওয়ায় তাকে বড়োরা নিষেধ করতেন। একবার পূজো বন্ধ করতে তাকে নিষেধ এবং প্রহারও করা হয়। জন্যশ্রুতি আছে অলৌকিক ভাবে সেই প্রহারের চিহ্ন ফুটে ওঠে মৃন্ময়ী মাতৃ মূর্তিতে। তারপর থেকে আর কেউ তাকে পূজো বন্ধ করতে বলেন নি।

 

পরবর্তীতে দেবী তার এই সন্তানকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বিপত্তারিণী চণ্ডীর মূর্তি গড়তে আদেশ দেন।সেই থেকে রাজপুরে মা বিপত্তারিণী চণ্ডী রয়েছেন।

স্বপ্নে বর্ণিত রূপ অনুযায়ী দেবী এখানে সিংহবাহিনী, তাঁর চার হাত, এক হাতে মহাশূল, এক হাতে খড়গ ও অন্য দুই হাতে বরাভয় ও অভয় দান করছেন তিনি।

 

কথিত আছে পুজোর পদ্ধতিও দেবী স্বয়ং শিখিয়ে গিয়েছিলেন দুলাল বাবাকে।সেই পদ্ধতিতেই আজও পূজো হয়। পুজোর দিন একেবারে ভোর থেকেই এখানে ভক্ত সমাগম শুরু হয়ে যায়। সবাই মাকে তেরো রকমের ফল, মিষ্টান্ন দিয়ে পুজো দেন।ভক্তরা মা চন্ডীকে ভগবান ভেবে নয়, নিজের মা ভেবে সব কিছু মনে মনে জানান, মা নায্য বিচার করে সমাধান করে দেন।

 

প্রতিবছর আষাড় মাসে রাজপুর বিপদত্তারিণী মন্দিরে ধুমধাম করে বিপদত্তারিণী পুজোর আয়োজন হয় এবং বহু ভক্তের সমাগম হয়।

 

 

ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালী

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলায় জাগ্রত মন্দিরের অভাব নেই আর এই সব মন্দিরকে কেন্দ্র করে আছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।আজ থেকে আসন্ন ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে এমনই কিছু কালী ক্ষেত্র নিয়ে লিখবো কালী কথায়। আজ টাকির বিখ্যাত কূলেশ্বরী কালী মন্দির দিয়ে শুরু করছি।

জনশ্রুতি আছে বহুবছর আগে ইছামতীতে জেলেদের জালে উঠে এসেছিল একটি সুন্দর নকশা করা ঘট। সেকথা জানতে পারেন টাকির জমিদার। অন্যদিকে জমিদার গিন্নি সেই রাতেই স্বপ্ন দেখেছিলেন চালাঘর তৈরি করে ঘটটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খড়, বিচালি, গোলপাতা দিয়ে মাটির দেওয়ালের মন্দির বানিয়ে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মন্দিরটি নতুন করে সংস্কার করা হয়।নদীর কূল থেকে ঘটটি পাওয়া গিয়েছিল বলে মন্দিরের নাম হয় কুলেশ্বরী কালীবাড়ি।

আবার কেউ কেউ বলেন এক মাতৃ সাধক ইছামতীর পাড়ে মা কালীর সাধনা করতেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত ঘট নদীর পাড়ে পড়েছিল। এরপর টাকির জমিদারকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন ওই ঘট প্রতিষ্ঠা করার। তখনই টাকির জমিদার কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেওয়া হয় কুলেশ্বরী কালীমন্দির। কারণ, নদীর কুলেই এই মন্দিরের ঘট পাওয়া গিয়েছিল।

সেই জমিদারের আমল থেকে শুরু করে আজ চারশো বছর ধরে এখানে চলে নিত্যপুজো ও অন্নভোগ। বছরের বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বড় আকারে পুজো করা হয়। একটা সময় এই পুজোয় কামান দাগা হত তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো হতো। সেই সব রীতির কিছু কিছু আজও বজায় আছে।টাকির এই কুলেশ্বরী কালী মন্দিরের পুজো দেখতে আজও ভিড় করেন অগণিত ভক্ত। কারণ, ভক্তরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে
থাকবে কালী কথা।ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরী ধামের রহস্য

পুরী ধামের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে এবছরের রথ

যাত্রা উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে পুরী ধামে।আজকের পর্বে পুরী ধামের কিছু রহস্য

নিয়ে লিখবো।

 

পুরী মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না। তবে একাধিক বার এক বিরাট পক্ষীকে মন্দিরের চূড়া প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে। অনেকে বলেন নিশ্চই কোনো পৌরাণিক পক্ষী জগন্নাথ দর্শনে এসেছিলেন।

 

মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না কিন্তু এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটে থাকে|

বিশেষ বিশেষ জাগতিক ঘটনার আগে কখনো এই ধজাতে আগুন লাগা বা ধজা অর্ধনমিত হওয়ার মতো ব্যাতিক্রমী ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকেও অনেকে অলৌকিক বার্তা বলে মনে করেন।

 

মন্দিরের যেকোনো স্থান থেকে মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে।

 

মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

এতো রহস্য এতো অলৌকিক বিষয় থেকে এটাই প্রমান হয় যে জগন্নাথদেবের লীলা বোঝা দায়|তার ইচ্ছায় সবই সম্ভব|সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে ভগবানের লীলার বিচার সম্ভব নয়|

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে বড়ো রহস্য হল প্রসাদ। সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য রান্নার পদ্ধতিতেও বেশ রহস্য আছে, মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর। এই রহস্যর আজও কোনো সমাধান হয়নি।

 

আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

ফিরবো আগামী পর্বে। পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে লেখা লেখি চলতে থাকবে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীতে অক্ষয় তৃতীয়ায় অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথের চন্দন যাত্রা। চন্দন যাত্রার এই পবিত্র সময়ে আজকের পর্ব এই চন্দন যাত্রা নিয়ে।

এই চন্দন যাত্রা নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা তার শ্রী অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা। উৎসব।প্রভু জগন্নাথের রথ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পবিত্র চন্দন যাত্রার দিন থেকেই।

গ্রীষ্ম ঋতুতে প্রভু জগন্নাথ কর্পূর এবং চন্দন লেপনের মাধ্যমে গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পান তাই এই রীতি তিনি নিজে শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

আয়ুর্বেদ মতে চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এই সময়ে বিগ্রহগকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং জগতের নাথকে মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করানো হয়ে থাকে।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আছে বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। শ্রী ক্ষেত্র থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরী পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা তার আরাধ্য গোপালের জন্য এক মণ সুগন্ধি চন্দন দেন। চন্দন নিয়ে ফেরার মাধবেন্দ্র পুরী রেমুনা নামক স্থানে অবস্থিত শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে তার আরাধ্য গোপাল তার স্বপ্নে এসে বলেন “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ এবং আমি অভিন্ন।

পরের দিন মাধবেন্দ্র পুরী পুরীরর রাজা কে সব বলেন এবং ঠিক হয় দীর্ঘ ২১ দিন ধরে প্রত্যহ একজন পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করবেন । তাই হয়। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। সেই রীতি নীতি আজও সমান ভাবে চলছে।তবে বর্তমানে পুরীর জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ।চন্দন যাত্রার পর দেবস্নান পূর্ণিমায় হবে স্নান যাত্রা এবিং সব শেষে রথ যাত্রা

জগতের সকল জগন্নাথ ভক্তকে জানাই চন্দন যাত্রা এবং আসন্ন রথ যাত্রার অগ্রিম শুভেচ্ছা।

আধ্যাত্মিক, শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক লেখা নিয়ে ।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মের পবিত্র তিথি গুলির মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া অন্যতম। অক্ষয় তৃতীয়ায় মূলত লক্ষী

এবং কুবেরের পুজোর মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ

করা হয়।তবে অক্ষয় তৃতীয়ার সাথে জড়িত আছে পুরান এবং শাস্ত্রীয় একাধিক বিষয়।অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে আসুন আজ জেনে নিই সেই সব পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে রথ ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব।তাই বিশ্বাস করা হয় আজ তার পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।

 

আবার এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা

সফল এবং স্বার্থক হয়।

 

অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয় পাত্র দান করেন যাতে তাদের কোনো অভাব না থাকে। আবার এই তিথিতেই গঙ্গার মর্তে আগমন হয়। অক্ষয় তৃতীয়াতেই সত্য যুগের অবসান হয়ে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।

 

বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।

তাই দেশের বহু স্থানে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি

‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

 

সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

ফিরে আসবো পরের পর্ব নিয়ে।

ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা

চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কুবের কথা 

কুবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পৌরাণিক আলোচনায় কুবের দেবকে

নিয়ে লিখবো।

 

কুবেরদেব সম্পর্কে রাবনের ভাই,রাবন তাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করে তার সোনার লঙ্কা এবং পুস্পক রথ ছিনিয়ে নেন|পরবর্তীতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে কুবের দেবতার স্থান পান এবং জগতের সমগ্র ধন সম্পদ তার অধীনে আসে|কুবেরদেব হচ্ছেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডর সমস্ত ধন সম্পদ কুবেরের দখলে থাকে।কুবের দেবের বাসস্থান অলোকাপুরী যা বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন|

 

পুরান অনুসারে কুবের হচ্ছেন ধনরাজ তিনি যক্ষদের রাজা, বামনাকৃতি এবং স্থূল শরীরের অধিকারী।আবার তিনি দিক পাল অর্থাৎ দশটি দিকের অধিপতি এবং নিজে তিনি উত্তর দিকে বিরাজমান তাই বাস্তু শাস্ত্রে উত্তরদিককে ধনস্থান বলে ধরা হয়|আবার কিছু গ্রন্থে কুবেরকে লোকপাল ও বলা হয় কারন তিনি ন্যায় নীতি এবং লোকহিতকর কাজ কর্মের দায়িত্বে আছেন।

 

ভগবান বিষ্ণু যখন শ্রীনিবাস হিসাবে পৃথিবীতে আসেন তখন রাজ কুমারী পদ্মাবতীর সাথে বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য কুবেরের থেকে অর্থ ধার করেন বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান

শ্রীনিবাস যিনি তিরুপতীর বালাজি হিসাবে পরিচিত তিনি ভক্তদের দেওয়া সকল প্রণামী কুবের কে দেন ঋণ পরিশোধ করার জন্য।

তাই ভক্তরাও বালাজি দর্শনে এসে অর্থ দান করে ভগবানের ঋণ মেটাতে সাহায্য করেন|

 

পুরান মতে কুবের অর্থ ও সম্পদের রক্ষা কর্তা তার আশীর্বাদ ছাড়া ধনবান হওয়া বা সম্পদ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব|তাই যারা প্রচুর অর্থ এবং সম্পদের মালিক হতে চান তারা কুবেরের আরাধনা করেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বাস্তু শাস্ত্রেও কুবের গুরুত্বপূর্ণ কারন কুবের যন্ত্র, কুবের রত্ন এবং কুবের কবচ বহু প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত প্রতিকার।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় ফিরবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সমুদ্র মন্থন রহস্য 

সমুদ্র মন্থন রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে বর্ণিত নানা অলৌকিক এবং রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলির মধ্যে সমুদ্র মন্থন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার অনেক কারন আছে। আজকের এই পর্ব সমুদ্র মন্থন এবং সমুদ্র মন্থনে

দেবাদিদেব মহাদেবের ভূমিকা নিয়ে।

 

দেবতাদের শ্রেষ্ঠত্ত্ব প্রদান করতে এবং অসুর দের শক্তি সীমিত করে সৃষ্টি রক্ষা করতে অমৃতের সন্ধানে সমুদ্র মন্থন হয়। তবে শুধু অমৃত নয়

অমৃতের সাথে হলাহল বিষ, লক্ষ্মী, ঐরাবত হাতি, উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া, পারিজাত বৃক্ষ সহ ১৪টি রত্ন উঠে এসেছিল এই মন্থনে। যেহেতু কুবের ধনসম্পদের দেবতা তাই এই ধন ভান্ডার রক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়।

 

অশুরদের অত্যাচারে যখন দেবলোকের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই সময়েই অমরত্ব লাভের জন্য যাবতীয় সমুদ্রমন্থন করা হয়েছিল সমুদ্র মন্থনের ফলেই মিলবে অমৃত সেই অমৃত পান করেই লাভ করা যাবে অমরত্ব ৷ সেই মতই শুরু হয়েছিল সমুদ্রমন্থন| সমুদ্র মন্থনের সময়ে একধিক জিনিসপত্র সমুদ্রগর্ভ তেকে বেরতে শুরু করেছিল ৷ হঠাৎ একটি বড় মাটির পাত্রে উঠে এসেছিল কিছু একটা|

 

তাই নিয়েই বেধেছিল গোলযোগ ৷ অবশেষে জানতে পারা গিয়েছিল মাটির পাত্রে উঠে আসা তরল আসলে অমৃত নয় সেটি গরল অর্থাৎ বিষ ৷ সেই বিষ নির্গত না করলে বা রাখলে পাওয়া যাবেনা অমৃত ৷ তবে সেই অমৃত স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল কোথায় রাখা হবে ? সেই বিষ যেখানেই রাখা হবে থাকবে না প্রাণের স্পন্দন ৷

 

ত্রিলোকজুড়ে যখন এসেছিল এমন সমস্যা স্বয়ং এগিয়ে এসেছিলেন ভগবান শিব ৷ তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন জগতের বিষ ৷ বেঁচেছিল ত্রিলোক ৷ মহাদেব কণ্ঠে বিষ ধারণ করাতেই তাঁর কণ্ঠের রং হয়েছিল নীল ৷ শিবের গলার রঙ নীল বলেও তাঁকে নীলকণ্ঠ বলা হয়ে থাকে ৷সেই সময় দেবী পার্বতী তাঁর স্তন দুগ্ধ পান করিয়ে দেবাদিদেবের সমস্ত জ্বালা নিবারণ করেছিলেন। এই ভাবেই সৃষ্টির রক্ষা করেছিলেন মহাদেব, তাই তাঁকে ‘সৃষ্টির রক্ষাকর্তা’ বলা হয়।

 

আর কিছুদিন পরেই অক্ষয় তৃতীয়া।

বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই সমুদ্র মন্থন থেকে দেবী লক্ষ্মী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই অক্ষয় তৃতীয়া যেকোনো শুভ কাজের জন্য আদর্শ তিথি।

 

আজকের পৌরাণিক আলোচনা এখানেই

শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য পৌরাণিক বিষয়।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

জ্যোতিষ শাস্ত্র ও অমাবস্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি তিথি, নক্ষত্র এবং গ্রহের সঞ্চারের আলাদা আলাদা তাৎপর্য আছে। তবে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ কৌশিকী, মৌনী, ফল হারিণী এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও প্রায় সব অমাবস্যাই তাৎপর্য পূর্ণ যেমন এই বৈশাখী অমাবস্যা।

 

অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা চন্দ্রকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। চন্দ্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে মনের কারক গ্রহ। মাতৃ কারক গ্রহ। মানসিক শান্তি। উৎসাহ এবং সাফল্য নির্ভর করে চন্দ্রর উপর। এই যে জন্মকালীন নক্ষত্র জ্যোতিষ শাস্ত্রে এতো গুরুত্বপূর্ণ তাও ওই চন্দ্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। চন্দ্র যে নক্ষত্রতে অবস্থান করে সেই নক্ষত্রর ফল প্রাপ্ত হয়।

 

শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।

 

স্কন্দ পুরানে চন্দ্রর ষোলো কলা এবং অমাবস্যা পূর্ণিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আবার কিছু শাস্ত্রে রাহু কেতু দ্বারা চন্দ্রকে গ্রাস করার পৌরাণিক আখ্যান আছে।

 

অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব তাই অমাবস্যায় পরলোক গত পিতৃগণের শান্তির জন্য তর্পনের নিয়ম আছে।অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে বা তন্ত্র মতে দীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অমাবস্যাকেই আদৰ্শ তিথি ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো অনেক এমন শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।