Home Blog Page 19

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পয়লা বৈশাখ। সনাতন ধর্মে এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্ব।

সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বা
মধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।অনেকে বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাথেও বৈশাখ মাসের সম্পর্ক আছে।“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়।

জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন।

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয় । প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে
ব্যবসার হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে লিপিবদ্ধ করার পক্রিয়া। এ থেকে বাঙালির ব্যবসার গৌরবময় অতীত উপলব্ধি করা যায়।

আবার ফিরে আসি শাস্ত্রের কথায়। যেহেতু আজ থেকে মধুসূদন মাস শুরু হচ্ছে তাই পয়লা বৈশাখ থেকে সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। এই সময় সকালে সূর্য প্রণাম করে ” ওম মাধবায় নমঃ “মন্ত্র জপ করুন। শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।

শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অন্য আধ্যাত্মিক বিষয়
নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

চড়ক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যে প্রাচীন শাস্ত্র গুলিতে শিব মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন লিঙ্গপুরাণ, শিব পুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে শিবের আরাধনার কথা বলা থাকলেও চড়ক পুজোর উল্লেখ নেই। তবে পাশুপত সম্প্রদায় প্রাচীন কালে এই উৎসব পালন করত।নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন ধরে চড়ক উৎসব চলে এবং শৈব সম্প্রদায়ের এটি একটি প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

ঠিক কবে থেকে এবং কী ভাবে চড়ক পুজো শুরু হয় তার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায় না।

বলা হয়ে থাকে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা চড়ক পুজো চালু করেন এবং সেই রীতি মেনে আজও চড়ক পূজো চলছে।

 

আবার কিছু শাস্ত্র বলে দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে একবার মহাদেবের একনিষ্ঠ উপাসক বাণরাজার যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে জয়লাভ ও অমরত্ব লাভের প্রার্থনায় বাণরাজা নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে শিব পূজো করেন। শিব কৃপা লাভের পর সেদিন ভক্তিমূলক নাচগানও হয় । সেই দিন ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। তখন থেকেই এই পুজোর শুরু হয়।

 

একটি অস্থায়ী গাছ কে কেন্দ্র করে চড়ক পূজো অনুষ্ঠিত হয়।চড়কগাছে ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে লোহার হুড়কা দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘোরানো হয়। মনে রাখতে হবে চড়ক পুজোর মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের প্রতি বিশ্বাস। চড়ক পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল দৈহিক যন্ত্রণা। এখানে অনেকটা কঠিন হট যোগের ন্যায় দৈহিক যন্ত্রনা লাভের মধ্যে দিয়ে নিজের আরাধ্য দেবতার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তার ভক্তরা।

 

অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং ভক্তি সহকারে শিব ভক্তরা এই

চড়ক পুজোর আয়োজন করেন।

পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়, পূজারীরা একে ‘বুড়োশিব’ বলে থাকেন। এছাড়া এই সময় মাটির তৈরী কুমির পুজোর রীতি আছে অনেক স্থানে।

 

এই ছিলো সংক্ষেপে চরক পুজোর ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সবাইকে জানাই চড়ক পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী

পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

নীল ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণেরই অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত।

দুরকম ভাবে এই দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় একটি লৌকিক মতে দ্বিতীয়টি পৌরাণিক মতে।

আগের একটি পর্বে শিবের নীল কণ্ঠ রূপের পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম আজ নীল ষষ্ঠী ব্রত নিয়ে লিখবো।

 

নীল ষষ্ঠীর ব্রত যারা করেন তারা সারাদিন নির্জলা উপোস রেখে সন্ধের পর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, মহাদেবের পুজো করেন এবং প্রসাদ খেয়ে তবে উপবাস ভঙ্গ করেন। সাধারণত গ্রাম বাংলায় আমাদের মায়েরা এই ব্রত করেন সংসারের ও বিশেষ করে সন্তানের কল্যাণের জন্য।

 

পৌরাণিক ব্যাখ্যার বাইরে যে লৌকিক ব্যাখ্যা আছে নীল ষষ্ঠী নিয়ে সেখানে একটি

ব্রত কথার উল্লেখ পাওয়ার যায়।

এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণী ছিলেন।

তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। মন দিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করলেও তাঁদের সব ছেলে-মেয়েগুলি একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় ঈশ্বরের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ব্রাহ্মণী। তাঁরা দু-জনে ঘরবাড়ি ছেড়ে মনের দুঃখে কাশীবাসী হন। কাশীতে গিয়ে একদিন গঙ্গায় স্নান সেরে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে আছেন, হঠাত্‍ই এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীকে দেখা দিয়ে একটি উপদেশ দেন। তিনি বলেন – চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করবে। সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি দিয়ে তবেই জল খাবে।’ ষষ্ঠীবুড়ির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ফের সন্তান লাভ করেন ওই ব্রাহ্মণী।

আসলে ওই বৃদ্ধা ছিলেন মা ষষ্ঠী। এবং সেই

থেকে মর্তে নীল ষষ্ঠীর ব্রত প্রচলিত হয়।

 

আবার নীল কণ্ঠ শিবের আরাধনা হয় এই তিথিতে। নীল পুজোয় শিব লিঙ্গে জলাভিষেক করলে এবং শিব লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করলে শিব কৃপা লাভ হয়। সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলেও বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। সবাইকে জানাই নীল পূজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

চড়ক উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস হল শিব পার্বতীর মাস।এই মাসের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব চড়ক উৎসব এবং শিবের গাজন।এই চড়ক এবং গাজনের মাধ্যমে শিব ভক্তরা তাদের আরাধ্য মহাদেব কে এবং দেবী পার্বতীকে স্মরণ করেন।গাজনের শেষ দিনের অনুষ্ঠান চড়ক যা এই উৎসবেরই একটি অঙ্গ।আজকের পর্ব চড়ক এবং গাজন নিয়ে।

 

কেউ বলেন গর্জন থেকে গাজন, কেউ বলেন ‘গাঁয়ের জন’-এর উৎসব থেকে গাজন।প্রকৃত অর্থ যাই হোক দুটি অর্থই বেশ মানানসই।কারন এককালে ঢাকের বাদ্যি, ভোলা মহেশ্বরের নামে সন্ন্যাসীদের গর্জন ও গাজনগীতিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠতো বাঙালি মেতে ওঠে গাজন উৎসবে। বর্তমান সময়ে গ্রামেই গাজন গানের উৎসব পালন হয়।বহু গ্রামাঞ্চলে আজও বৈশাখী আমেজ মানেই গাজন এবং চড়ক উৎসব।

 

বাঙালির নব বর্ষের সূচনা হয় গাজন এবং চড়ক উৎসবের মধ্যে দিয়ে। এই গাজন এবং চড়ক দুটি বেশ প্রাচিন কাল থেকেই বঙ্গদেশে প্রচলিত। শিব পার্বতী ছাড়াও বহু লৌকিক দেব দেবী এই উৎসবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

 

গ্রাম বাংলার পাশাপাশি এক সময় কলকাতার

বাবু সমাজেও চড়ক বেশ জনপ্রিয় ছিলো।

এককালে কলকাতার বাবুরা ঘটা করে চড়ক উৎসব পালন করতো।বাগবাজারের এই চড়ক ছিল কলকাতার বিখ্যাত ও সর্বপ্রধান চড়ক। চড়ক গাছের সঙ্গে উপর উপর চারটি মাচান বেঁধে তার মাঝখানে এক জন করে মহাদেব সাজিয়ে চার কোণে চার জন করে মোট ষোলো জনকে পিঠ ফুঁড়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হত।

 

এই উৎসবে মুখোশ নাচও হতো কোথাও কোথাও।সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হতো।বিশেষ করে উত্তর বঙ্গে গম্ভীরা রূপে পালন হতো এই উৎসব।

 

পরবর্তীতে শারীরিক নৃশংসতার কারণে কোথাও কোথাও গাজনের কিছু উপাচার নিষিদ্ধ হয়। তবে এই চৈত্র উৎসবে সন্ন্যাসীদের নিষ্ঠা এবং

ভক্তি আজও অটুট আছে । বাংলার প্রায় প্রতিটি শিব মন্দিরে এই সব রীতি নীতি দেখা যায়।

আজও বাংলা জুড়ে গাজন এবং চড়কের মেলা বসে।আনন্দ এবং উৎসাহ আগের মতোই আছে।

 

আসলে শিব এবং পার্বতী বাংলার ঘরের মেয়ে এবং জামাতা রূপে দেখা হয় তাই শাস্ত্র বা পুরানের উর্ধে গিয়ে বাংলায় লৌকিক রূপে শিব পার্বতীর আরাধনার একটি পন্থা এই চড়ক উৎসব।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই গাজন এবং

চড়ক উৎসবের আগাম শুভেচ্ছা অন্য রকম

শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আবার ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

শিবের নীল কণ্ঠ রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের নানা রূপ। নানা অবতার। একাধিক রূপ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক পর্ব গুলিতে। আজ শিবের নীল কণ্ঠ রূপ নিয়ে লিখবো।

 

পুরান মতে দেবাদিদেব শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ বা নীল কারন সমুদ্র মন্থণের সময় উঠে আসা বিষ পান করে তার কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যায়।যখন অমৃতের সন্ধানে ভয়ঙ্কর হলাহল বিষ উঠে আসে সমুদ্র গর্ভ থেকে তখন সেই বিষের প্রভাবে সমস্ত প্রাণী জগৎ বিপদগ্রস্ত হয়। শিব হলেন সংহার কর্তা। বিপদ এবং অনিষ্ট নাশ করেন তিনি।এবারেও তাঁরই ডাক পরে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। শিব সমস্ত বিষ পান করেন। বিষের প্রভাবে কণ্ঠ নীল হয়ে যায়।রক্ষা পায় সৃষ্টি। কণ্ঠ নীল হওয়ায় শিবের নাম হয় নীল কণ্ঠ।

 

আবার এই নীল কণ্ঠ রূপের অন্য একটি

ব্যাখ্যাও হয়। বৈষ্ণবদের একাংশ মনে করে যে নীল হলেন নীল মাধব শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং। শিব পরম বৈষ্ণব। পরম হরি ভক্ত। সর্বদা তাঁর কণ্ঠে হরি নাম থাকে। তিনি সর্বদা হরির ধ্যানে মগ্ন থাকেন। তাই নীল বর্ণের কৃষ্ণকে সর্বদা কণ্ঠে ধারণ করার জন্য তিনি নীল কণ্ঠ। অর্থাৎ এই নীল বিষ নয় নীল বর্ণের অর্থ শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং।

 

নীল ষষ্টিতে নীল কণ্ঠ রূপের পূজো হয়।

শাস্ত্র মতে এই তিথিতে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয় । দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে আবির্ভূতা হয়ে ছিলেন ৷ এরপর রাজা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে শিবের সঙ্গে ফের বিয়ে দেন ৷ সেই বিবাহের তিথি উদযাপন করা হয় নীল পূজায়।

 

সবাইকে নীল পুজোর আগাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

শিব – পার্বতীর বিবাহ পর্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিব পার্বতীর মাস।আজকর পর্বে শিব এবং পার্বতীর বিবাহ প্রসঙ্গ নিয়ে লিখবো।

জানাবো দুজনের বিবাহ সংক্রান্ত কিছু

পৌরাণিক তথ্য।

 

একবার তারকাসুর নামক এক শক্তিশালী অসুর জগতের, বিশেষ করে দেবরাজ ইন্দ্রের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।সমগ্র সৃষ্টি তার অত্যাচার ভোগ করতে থাকে।তারকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে এই বর পেয়েছিল যে, শিবপুত্র ছাড়া সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে আর কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে না! তাকাসুরের অপরাজেয়তার কথা জেনে, শিবের পুত্রের শীঘ্রই আগমন প্রয়োজন হয়ে পরে।

কিন্তু শিব তখন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী রূপে সর্বদা ধ্যানে মগ্ন।

 

ব্রহ্মার পরামর্শ অনুসারে, দেবদের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল শিবের কাছে যায় এবং পার্বতীর সঙ্গে তার বিবাহের প্রসঙ্গ তোলে। শিব অন্তর্যামী। তিনি জানতেন এই বিবাহ না হলে সৃষ্টি রক্ষা পাবেনা। তাই তিনি বিবাহে সম্মতি দেন।

 

অন্যদিকে পার্বতী মনে প্রাণে শিবকে স্বামী মেনে সর্বদা তাঁর ধ্যানেই মগ্ন থাকতেন। দুজনের বিবাহ ছিলো সময়ের অপেক্ষা।

 

যথা সময়ে বিবাহ স্থির হয় এবং বিবাহের শুভ দিন এসে উপস্থিত হয়।বিয়ের দিন শিব চঞ্চল নর্তকের পোশাক পরে ‘নটরাজ’ ছদ্মবেশে ছিলেন এবং কন্যা পক্ষ তাকে চিনতে না পেরে অবহেলা করে বসে।তখন তিনি ঘোষণা করলেন যে তিনিই শিব।

 

তখন পার্বতীর বাবা-মা দুজনেই শুধু অসন্তুষ্টই হননি, বরং শিবের সাথে তাদের কন্যার বিবাহ দিতেও অস্বীকার করলেন। সপ্ত ঋষিদের আবির্ভূত হয়ে শিবের বিষয়ে তাদের বোঝাতে হয়েছিল।তারপর তারা বিয়েতে মত দেন।

 

যখন বরযাত্রী এসে পৌঁছাল, তখন বাবা-মায়েরা অনুষ্ঠানে আগত প্রত্যেক দেবতাকেই বর বলে ভ্রান্ত ধারণায় ছিলেন। আর যখন ভগবান সত্যিই এলেন, তখন তিনি শিবগণ, ভূত এবং পিশাচদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে, নন্দী নামক বৃষ বাহন-এর উপর ভূতনাথের এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হলেন।

এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

 

ভগবান বিষ্ণুকে হস্তক্ষেপ করে বলতে হয়েছিল যে, তারা যা দেখছে তা শিবের একটি মায়া, যা তাদের মৌলিক বিশ্বাস পরীক্ষা করার জন্য করা হয়েছে।

অবশেষে বিবাহ অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়।এতো কিছুর পরেও পার্বতী কিন্তু শিবের প্রতি নিজের বিশ্বাসে অবিচল ছিলেন।

 

শিব পার্বতীর বিবাহ শোভাযাত্রায় ব্রহ্মাণ্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, ‘সপ্তমাতা’ অর্থাৎ সাতজন মাতা যথা ব্রহ্মী, মহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বরাহী, ইন্দ্রী এবং চামুণ্ডা। সাথে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র, গ্রহপ্রধান ও দেবগণ, সপ্ত ঋষি, ব্রহ্মমানস পুত্র, ঋষিগণ, শিবগণ, পিশাচ, দেবী ভগবতীর বিভিন্ন অবতার, গন্ধর্ব, অপ্সরা,সবাই এসেছিলেন এই দিব্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

 

আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন হয়।যথা সময়ে শিব পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়ের জন্ম এবং তারকাসুরের বিনাশও হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে নীল ষষ্ঠী পর্যন্ত। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং কুবের

শিব এবং কুবের

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ধন সম্পদের দেবতা কুবের দেব হলেন মহান শিব

ভক্ত শিবের দয়াতেই তিনি ধনরাজ হন।

আজ এই মহান শিব ভক্ত নিয়ে লিখবো।

জানাবো তার জীবনে শিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

কুবের ছিলেন যক্ষের রাজা এবং সম্পর্কে রাবনের ভাই।একবার লঙ্কার রাজা রাবণ ভাই কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন এবং পুষ্পক রথ সমেত তার সমস্ত ধন সম্পদ অধিকার করে নেন।তখন কুবেরকে সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হয়। নিজের রাজ্য এবং সম্পদ হারানোর হতাশায় কুবের হিমালয়ে গিয়ে ভগবান শিবের তপস্যা শুরু করেন এবং পরম শিব

ভক্ত হয়ে ওঠেন।

 

তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে শিব দয়া করে কুবেরকে তার রাজ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ধনসম্পদের অধিকারী করে দেন এইভাবেই কুবের সৃষ্টির সবচেয়ে ধনী দেবতা হয়ে ওঠেন।

 

তবে এতে ধনরাজ হয়ে কুবেরের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয় তিনি ভাবতে শুরু করেন তিনিই শিবের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত কারণ তিনি শিবের বিশেষ কৃপা লাভ করেন আবার তিনি শিবকে নৈবেদ্য রূপে বিপুল ধন সম্পত্তি দিতে চাইলে ভগবান শিব শুধুমাত্র বিভূতি ছাড়া আর কিছুই স্পর্শ করেননি।

 

ভক্ত রূপে কুবের যখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেন তখন শিব তাকে শিক্ষা দিতে কুবেরের প্রাসাদে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গণেশকে পাঠান।সব খাদ্য দ্রব্য শেষ করে গণেশ কুবেরের সমস্ত সঞ্চিত ধনসম্পদ গ্রাস করতে শুরু করেন।যখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে তখন কুবের মহাদেবের লীলা বুঝতে পারেন এবং নিজের অহংকারের জন্য মহাদেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান।

 

শিব অল্পেই তুষ্ট হন এবং ভক্তের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন আবার ভুল করলে তাকে শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়েও আনতে পারেন।

 

যারা আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন। তারা কুবেরের কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি যদি এই নীল ষষ্ঠীর সময়ে শিব পূজো করেন তাতেও ফল পাবেন।কুবের স্বয়ং শিব ভক্ত। শিবের উপাসকদের তিনি বিশেষ কৃপা করেন।

 

ফিরে আসবো চৈত্র মাস উপলক্ষে আরো

এক পর্ব নিয়ে নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির 

প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র। মাস এবং আসন্ন নীল সংক্রান্তি কেন্দ্র করে চলছে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।সারা সপ্তাহ ধরে

শিবকে নিয়ে নানা পৌরাণিক, শাস্ত্রীয় এবং লৌকিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আজ জানাবো বাংলার এক প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা।

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহর রাজ্য তথা দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর। যার প্রাচীন নাম ছিল তাম্রলিপ্ত নগরী। এই শহরেই আছে বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক চক্রেশ্বর শিব মন্দির।এই চক্রেশ্বর শিব লিঙ্গের উল্লেখ আছে মহাভারত সহ একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে।কথিত আছে পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় পঞ্চপান্ডবসহ কুন্তী ও দৌপ্রদী পুজো দিয়েছিলেন এই শিব মন্দিরে।চক্রেশ্বর মন্দির মোট চারটি শিবের লিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। জানা যায় তার মধ্যে একটি স্বয়ং প্রকটিত হয়েছে। অর্থাৎ স্বয়ম্ভু।কথিত আছে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যুধিষ্ঠির ভীম ও অর্জুন।তারাই পুজো শুরু করেন এই মন্দিরে। আজও সেই পরম্পরা বয়ে নিয়ে চলেছেন তমলুকের মানুষ।

 

চক্রেশ্বর নামের সাথেও যোগ রয়েছে মহাভারতের শোনা যায় মহাদেবের চক্রান্তের কারণেই গান্ধারী পূজা দিতে পারেনি এই মন্দিরে তাই গান্ধারী নাম রাখেন চক্রেশ্বর। তিনি এই মন্দির সংক্রান্ত একটি পুকুরকেও অভিশাপ দিয়ে বলেন যে তার জলও পুজোয় কাজে লাগবেনা। সেই পুকুরের জল আজও দূষিত এবং শুভ কাজে ব্যবহার হয়না।

 

বর্তমানে চক্রেশ্বর শিব মন্দিরে প্রতিদিন নিত্য পুজো হয় এর পাশাপাশি প্রতি সোমবার বিশেষ পুজো পাঠ চলে। শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসের নীল সংক্রান্তির পূজো হয় এই মন্দিরে। সেই সময়ে অসংখ্য শিব ভক্তর আগমন ঘটে এখানে।

 

ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আগামী পর্বে।

থাকবে শিবকে নিয়ে আরো অনেক তথ্য।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

শিবের লৌকিক রূপ পঞ্চানন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নীল ষষ্ঠীর প্রাক্কালে আরো একবার শিব সংক্রান্ত একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।

আজ লিখবো শিবের একটি লৌকিক বা আঞ্চলিক রূপ পঞ্চানন ঠাকুরকে নিয়ে।

 

পঞ্চানন বা পাঁচু ঠাকুর বাংলার এক বিখ্যাত লৌকিক দেবতা। লোকবিশ্বাসে ইনি মহাদেব শিবের এক লৌকিক রূপ আবার অন্যমতে,ইনি শিবের মানস পুত্র। মূলত গ্রামরক্ষক রূপে পঞ্চানন পূজিত শস্যদেবতা হিসাবেও তার পূজার প্রচলন আছে। মহাদেব শিবের সঙ্গে পঞ্চানন ঠাকুরের দেহাকৃতি।।ও বেশভূষার সাদৃশ্য আছে।পঞ্চাননের গাত্রবর্ণ লাল এবং চোখমুখের ভঙ্গি রুদ্ররূপী; বেশ বড় গোলাকার ও রক্তাভ তিনটি চোখ ক্রোধোদ্দীপ্ত। প্রশস্ত ও কালো টিকালো নাক, দাড়ি নেই, গোঁফ কান অবধি বিস্তৃত। মাথায় পিঙ্গলবর্ণের জটা চূড়া করে বাঁধা এবং তার মধ্যে জটা কিছু বুকে পিঠে ছড়ানো। কানে ধুতুরা ফুল বিরাজমান।গলায় ও হাতে বেশ বড় পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষমালা থাকে। হাতে ত্রিশূল ও ডমরু; পায়ে খড়ম এবং মাথায় বা দেহের উপর সাপ বিদ্যমান। পাশে থাকে পঞ্চরংয়ের বা পাঁচমুখো গাঁজার কলকে।উর্ধাঙ্গ অনাবৃত নিম্নাঙ্গ বাঘছাল পরিহিত।

 

গ্রাম বাংলার বিভিন্ন স্থানে পঞ্চানন ঠাকুরের পূজো হয়।তাছাড়া দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এ প্রাচীন এক মন্দিরে পঞ্চানন ঠাকুরের মূর্তি সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছে।

 

বহুকাল আগে যখন টালিগঞ্জের আদিগঙ্গার পাড়ে জন বসতি সেই ভাবে গড়ে ওঠেনি সেখানে বাস করতে বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য নামে এক পূজারী ব্রাহ্মণ। এক রাতে বৈদ্যনাথ স্বপ্ন দেখলেন, পঞ্চানন ঠাকুর এসেছেন।ঠাকুর বলছেন, এই গঙ্গার ঘাটে আমি তোর অপেক্ষায় আছি। জলের মধ্য থেকে উদ্ধার করে আমাকে নিয়ে চল দ্রুত।পুজো করার আদেশ ও পেলেন।পরের রাতে আবার একই স্বপ্ন ভোর হতে তখনো খানিকটা সময় বাকি, কিন্তু অপেক্ষা করলেন না তিনি। সেই রাতেই গ্রামের কয়েকজন ভক্তকে ডেকে নিয়ে, সস্ত্রীক চললেন গঙ্গার ঘাটে।ঘাটে এসে তিনি দেখলেন, তিনটে প্রায় চারকোণা আকৃতির পাথর রাখা আছে জলের ধারে, আর তিনটিই রক্তাভ। তিনটে পাথরকে এক বিরাট সাপ জড়িয়ে আছে। সেই পাথর তুলে এনে তিনি স্থাপন করলেন নিজের মন্দিরে। পরবর্তীতে স্বপ্নে দেখা রুপ মিলিয়ে তৈরি হলো মূর্তি শুরু হলো পুজো।এই রকম জনশ্রুতি আর ভক্তির সাথে মিলেমিশে রয়েছে এই পঞ্চানন ঠাকুরের মন্দির ও তার অস্তিত্ব।

 

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস হাঁসুলী বাকের উপকথা তেও এক আঞ্চলিক

দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায় যাকে কাহার সম্প্রদায় বাবাঠাকুর নামে ডাকে এবং তাঁর বাহন সাপ। এই বাবা ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর একই বলে মনে হয়। অর্থাৎ দুইই শিবের আঞ্চলিক রূপ।

 

গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি।

গ্রাম বাংলায় পূজিত ধর্ম ঠাকুর এবং পঞ্চানন ঠাকুর অনেকের কাছেই একই লৌকিক দেবতা।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব সংক্রান্ত বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনা ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

শিব এবং আদি শঙ্করাচার্য্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আর কিছুদি পরেই নীল ষষ্টি। শিব কথা শ্রবন এবং শিব মাহাত্ম বর্ণনা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।আজ শিব অবতার শঙ্করআচার্য্যকে নিয়ে লিখবো।

শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।শিবের অংশ।

আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|আনুমানিক 1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।

গৃহ ত্যাগ করে সন দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের।শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য।

কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন। তখন তর্ক শাস্ত্রে তার মতো জ্ঞানী দেশে আর কেউ ছিলোনা। মনে করা হয় নিজের অসীম জ্ঞানের জন্য শঙ্করাচার্য্য যখন সামান্য অহং বোধের শিকার হন তখন একদিন পথে এক চণ্ডাল তার সামনে আসেন।তার সঙ্গে ছিলো কয়েকটি ভীষণ দর্শন কুকুর।আদি গুরু তাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন। স্বাভাবিক ভাবেই চণ্ডালের আগমন তাকে বিব্রত এবং বিরক্ত করেছিলো। সেই সময় সেই ভয়ংকর চেহারার চণ্ডাল তখন শঙ্করাচার্য্য কে বলেন যদি অদ্বৈত বাদ সত্য হয়। সব জীবেই পরম ব্রহ্ম বাস করেন। তবে চণ্ডাল আর ব্রাহ্মনে ভেদ থাকা উচিৎ নয়। মুহূর্তে আদি গুরু তার ভুল বুঝতে পারেন। সেই চণ্ডালের সামনে মাথা নত করেন। তখন শিব নিজ রূপে তাঁকে দেখা দেন।শংকরাচার্য্য ধন্য হন বিশ্বনাথের দর্শন পেয়ে।

শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|

শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা
অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

চৈত্র মাস উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।