Home Blog Page 165

মন্দির রহস্য- নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির

সারা দেশের কিছু রহস্যময় মন্দির ও তাদের সাথে জড়িত কিছু আশ্চর্য ও অলৌকিক কাহিনী আপনাদের সামনে আনতে শুরু করেছিলাম এই মন্দির রহস্য শীর্ষক ধারাবাহিক লেখনী|এই মহা শিব রাত্রি তিথীকে কেন্দ্র করে আরো একটি নতুন পর্ব নিয়ে আজ আমি আপনাদের সামনে, আজকের পর্বে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় গুজরাটের নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির নিয়ে লিখছি|

গুজরাতের ভাবনগর জেলায় আরব সাগরের তীরে কোলিয়ক গ্রাম, এখানেই রয়েছে নিষ্কলঙ্ক মহাদেব মন্দির, একাধিক শিবলিঙ্গ রয়েছে এখানে, এগুলি স্বয়মভু অর্থাৎ নিজে থেকেই মাটির তলা থেকে প্রকট হয়েছে|

রহস্যময় ব্যাপার হলো, এই মন্দিরের দেখা সব সময় পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ভাটার সময় মন্দিরে পুজো দেওয়া সম্ভব হয়, জোয়ারের সময় সমুদ্রের জলের তলায় চলে যায় এই মন্দির|কেবল মন্দির চূড়ার পতাকা দেখতে পাওয়া যায়|প্রতিদিন নিদ্দিষ্ট সময়ে সূর্যোদয়ের মত সমুদ্র বক্ষ থেকে উঠে আসে। এই দৃশ্য দেখার জন্যই বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন সমুদ্র তটে। এখনও মনোষ্কামনা পূরণের আশায় এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন বহু পুণ্যার্থী।

মহাভারতে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে, কথিত আছে মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে কৌরব ও অন্যান্যদের হত্যা করার পাপ ধুতে এখানেই পুজো দেন পঞ্চপাণ্ডব|

প্রায় সারাবছরই মনোষ্কামনা পূরণের আশায় এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন বহু পুণ্যার্থী।আপনারাও কখনো সম্ভব হলে অবশ্যই দর্শন করুন এই অদ্ভুত এবং রহস্যময় মন্দির|আবার পরের পর্বে লিখবো নতুন কোনো মন্দির নিয়ে, যারা আমার গৃহ মন্দিরের শিবরাত্রির বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞে অংশগ্রহন করলেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ, যারা জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চান বা দেখা করতে চান তারা দ্বিধা না করে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার শিব – ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দির

আজ বাংলার শিবের এই পর্বে আমি আপনাদের বলবো সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্ব বৃহৎ শিবলিঙ্গের কথা যা এই বাংলার খুব কাছেই অবস্থিত|

একটি পুরান কাহিনি অনুসারে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণ মহাদেবের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি শিব লিঙ্গ পান কিন্তু রাবণ যখন তাঁর পুস্পক রথে করে এই শিবলিঙ্গটি নিয়ে চলে যেতে দেখেন তখন ক্ষুব্ধ হন দেবতারা এবং ঠিক করেন এই শিবলিঙ্গ নিয়ে যাওয়া আটকাতে হবে৷ দেবতারা ওই শিবলিঙ্গ চাইলেও তা দিতে রাজি হন না রাবণ, ফলে এই টানা পোড়েনে রাবণ তখন পথের মধ্যই কোনও এক স্থানে ওই লিঙ্গটি নামিয়ে রাখেন৷ কিন্তু তারপর আবার ওই লিঙ্গটি তুলতে গেলে এত ভারী লাগে যে রাবণ তা তুলতে পারেন না,বহু চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতে রাবনকে লংকায় ফিরতে হয় এবং সেই বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর শিব লিঙ্গটি চীরকালের জন্যে রয়ে যায় মর্তে|মনে করা হয় কৈলাশে এই শিবলিঙ্গটি দেবী পার্বতী পুজো করতেন|

এই স্থানটি হলো বাংলা থেকে অল্প দুরে, দিঘার কাছে উড়িষ্যায়,বালাসোরে এবং এখানেই ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দিরে সেই শিব লিঙ্গ স্বমহিমায় বিরাজমান|শিবলিঙ্গটি মাটি থেকে ১২ ফুট উচু এবং পরিধি ১৪ ফুট|ভুশন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গটির অর্ধেক আসলে দেখা যায় যা মাটির উপর রয়েছে বাকী অর্ধেক রয়েছে মাটির তলায়|

স্থানীয় দের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় এই শিব মন্দির, বহু মানুষ আসেন পুজো দিতে, আর শিব রাত্রিতে অসংখ্য শিব ভক্তের সমাগম হয় এখানে|চাইলে আপনারাও একদিন ঘুরে আসতে পারেন|বিদায় নেয়ার আগের জানিয়ে রাখি আগামী শিব রাত্রির বিশেষ তিথীতে আমার গৃহ মন্দিরে হোম যজ্ঞ বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্যে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে আর জ্যোতিষ পরামর্শ বা ভাগ্যবিচারের জন্যেও ফোন করতে পারেন যেকোনো সময়ে, জেনে নিতে পারেন আমাকে কবে কখন ও কোথায় পাবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার শিব – নব কৈলাশ বা 108 শিব মন্দির

বিশেষ বিশেষ অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথীর ন্যায় বছরের প্রায় প্রতিটি শিব রাত্রি জ্যোতিষ শাস্ত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বহু কঠিন কাজ সম্পন্ন শাস্ত্র মতে সম্পন্ন হয় শিব রাত্রির এই মহা যোগে, আপনারাও চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই বিশেষ সময়ে বিশেষ কার্যসিদ্ধির জন্যে, আজ আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি লেখা, আজ নব কৈলাশ বা একশ আট শিব মন্দির|

সারা ভারতে ১০৮ শিবমন্দির মাত্র দু’টি জায়গায় আছে। এবং এই দু’টি জায়গাই বাংলায়, পূর্ব বর্ধমানে। প্রথমটি বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে নবাবহাটে এবং দ্বিতীয়টি কালনাতে|

সারা দেশে ১০৮ শিবমন্দির রূপে প্রচারিত হলেও কালনার এই মন্দিরের প্রকৃত নাম ‘নবকৈলাস মন্দির’,বর্ধমানরাজ তেজচন্দ্র ১৮০৯ সালে কালনার এই মন্দিরটি নির্মাণ করান যেখানে সাদা ও কালো শিব লিঙ্গের বৈচিত্রপূর্ণ সমাহার লক্ষ্য করা যায়, মনে করা হয় সাদা রং ত্যাগের প্রতীক এবং কালো ভোগের প্রতীক|

কালনা রাজবাড়ি চত্বরের দক্ষিণ দিকে এই ১০৮ শিবমন্দির দু’টি বৃত্তকে কেন্দ্র করে নির্মিত।
মোট ৭১টি সাদা ও ৩৭টি কালো শিবলিঙ্গ নিয়ে এই মন্দির অবস্থান করছে, ভিতরের বৃত্তের মাঝখানে রয়েছে একটি বিরাট কূপ, অনেকেই মনে করেন মন্দিরের পুজোর কাজে জলের চাহিদা মেটানোর জন্যই এই কূপ খনন করা হয়, আবার অন্য মতে এই বৃহৎ কূপটি শূন্য তথা নিরাকার ব্রহ্মস্বরূপ পরম শিবের প্রতীক|

দেশ বিদেশের বহু তীর্থযাত্রী প্রায় সারা বছরই আসেন এই অপূর্ব শিব মন্দির দর্শন করতে, আসন্ন মহা শিব রাত্রি উপলক্ষে এখানে ভিড় ও হবে মানুষের, আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন|লেখা চলবে, আগামী পর্বে অন্য কোনো শিব মন্দির, জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার শিব – রাজ রাজেশ্বর শিব মন্দির

আসন্ন শিব রাত্রি কে সামনে রেখে শুরু করেছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে লেখা, আজকের পর্বে লিখবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে, বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার তিন কিমি দূরে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ব বৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর|

বাংলার ইতিহাস বলছে , নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন, শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির, শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই|

আগামী দিনে নদীয়া বেড়াতে গেলে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই অদ্ভুত কীর্তি, ভালো লাগবে, আবার পরের পর্বে দেখা হবে, আপাতত চেম্বার ও অনলাইন দুভাবেই চলছে জ্যোতিষ কার্য, তার পাশাপাশি সরাসরি সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে উপস্থিত থেকে নিজের গ্রহদোষ খণ্ডন করাতে পারেন, শুধু যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার শিব – মোটা মহাদেব বা দুর্গেস্বর মহাদেব

বাংলার প্রাচীন কিছু শিব মন্দিরের অজানা কথা নিয়ে যে ধারাবাহিক লেখা শুরু করেছি তার দ্বিতীয় পর্বে আজ বলবো কলকাতায় অবস্থিত দুর্গেশ্বর শিব বা ‘মোটা মহাদেব’ মন্দির নিয়ে |

কলকাতার নিমতলা অঞ্চলে অবস্থিত মোটা মহাদেব’ মন্দির বাংলার প্রাচীন আটচালা মন্দির শিল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ, হাটখোলার দত্ত পরিবারের মদনমোহন দত্তের দুই পুত্র রসিকলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্ত এর প্রতিষ্ঠা করেন,আনুমানিক ১৭৯৪ সালে অর্থাৎ প্রায় আড়াইশ বছর আগে, শোনা যায় সেকালে এর পাশ দিয়ে বয়ে যেত গঙ্গা|

বিশালকায় এই মন্দিরের উচ্চতা আনুমানিক পঞ্চাশ ফুট, ভাস্কর্যের রূপকার ছিলেন শিল্পী গদাধর দাস,মন্দিরের ভিতরে রয়েছে প্রায় দশ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ। এতবড় শিব কলকাতার কোন মন্দিরে নেই,প্রকাণ্ড আয়তনের শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে হয় লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে|

এই শিব মন্দির ও প্রতিষ্ঠিত শিব লিঙ্গ নিয়ে একটি অদ্ভুত গল্পও প্রচলিত আছে,শোনা যায়, একসময় এই শিবলিঙ্গ মাঝে মাঝে ‘নিজের জায়গা থেকে সরে’ গঙ্গায় চলে যেত এবং এই চলে যাওয়া আটকাতে শিবলিঙ্গ কে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার রীতি প্রচলিত হয়,

বর্তমানে ভগ্নপ্রায় এই মন্দিরে আজও আসেন বহু দর্শনার্থী, বিশেষ বিশেষ তিথীতে বিশেষ পূজা ও জন সমাগম ও লখ্য করা যায়, অনেকেই মন্দিরকে বুড়ো শিবের মন্দির ও বলেন|

আগামী দিনে এমন আরো অনেক প্রাচীন শিব মন্দিরে কথা নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের সামনে, জানিয়ে রাখি আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে আমার গৃহ মন্দিরে বিশেষ পুজো ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকছে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার শিব – বাবা বড়ো কাছারি

আর কয়েকটি দিন পরেই মহা শিব রাত্রি, আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি ও শিব পার্বতীর বিবাহের দিনটি একত্রে উদযাপিত হবে সারা দেশ জুড়ে,এই আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে আমি আজ শুরু করতে চলেছি একটি বিশেষ ধারাবাহিক লেখনী যেখানে থাকবে বাংলার নানা প্রান্তে অবস্থিত বিভিন্ন কিছু প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা ও তাদের সাথে জড়িত অনেক গল্প ও কিংবদন্তী, আজ প্রথম পর্বে বড়ো কাছারি মন্দির|

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি যা বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত, কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে, সে প্রসঙ্গে পরে আসছি আগে এই মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট জেনে নেয়া যাক|

সময়টা ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দ নবাব আলীবর্দী খানের শাসন কাল, সেই সময়ে বাংলায় আক্রমণকারী মারাঠাদের অত্যাচার ও হামলা প্রতিদিনের ব্যাপার ছিলো , এই সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে ও তাদের মনোস্কামনা জানাতে, শোনা যায় এই শিব মন্দির থেকে কেউ খালি হাতে ফেরেননা|

কেনো বড়ো কাছারি নামে ডাকা হয় এই মন্দির কে তারও নিদ্দিষ্ট কারন আছে, জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে, সুতরাং তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|বহু শিব ভক্তের অগাধ আস্থা ও ভক্তির স্থান এই বড়ো কাছারি মন্দির|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, তবে আগামী দিনে বাংলার এমন অনেক শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানবো, পড়তে থাকুন, আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে বা আমার কাছে আসতে চাইলে যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কলকাতার কালী – আরামবাগের খ্যাপা কালী

আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহকে সম্বল করে কলকাতার কালী শীর্ষক এই ধারাবাহিক লেখণী কলকাতার ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে জেলায় পা রেখেছে আগেই, আজ সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে হুগলী জেলার আরামবাগের কাছে অবস্থিত একটি কালী মন্দির নিয়ে লিখছি, এই প্রসিদ্ধ কালী মন্দির নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা|

হুগলি জেলার আরামবাগ স্টেশন থেকে মাত্র দু কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিরোল গ্রামের খ্যাপা কালীর মন্দির, এই মন্দিরেরে দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত বলে বিশ্বাস করেন সবাই, কথিত আছে এই মায়ের আশীর্বাদে নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন অলৌকিক ভাবে|

আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তার পূজা শুরু করিয়েছিলেন এখানকার জমিদার ধর্মপ্রাণ দীননাথ চক্রবর্তী, শোনা যায় তিরোলের দেবীর হাতের বালা কোনো মানসিক রোগীকে পড়ালে তিনি সুস্থ হয়ে যান, আজ অবধি বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন এখানে এসে|

সাহিত্যিক বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায় তিরোলের বালা নামে একটি ছোটো গল্পও লিখেছেন, যা হয়তো আপনারা অনেকেই পড়েছেন, শোনাযায় মা সারদা স্বয়ং তার বৌদির মানসিক রোগ সারাতে এখানে এসে খ্যাপা কালীর পুজো দিয়েছিলেন|পরবর্তীতে নিজের ভাইঝি রানুর জন্যও মা সারদা এখানে এসেছিলেন এবং খ্যাপা কালীর কৃপায় উপকৃত হয়েছিলেন|

এইখানে দেবীর পুজোর কয়েকটি বৈশিষ্ট আছে, মায়ের পুজোর সময় প্রতিবছর মুকুট আসে ধনিয়া খালির বিশ্বাস বাড়ি থেকে, আবার সানাই বাদকরা আসেন একটি নিদ্দিষ্ট গ্রাম থেকে, এমনকি মায়ের দৈব বালাও বংশ পরম্পরায় তৈরি করে চলেছেন এই গ্রামেরই একটি নিদ্দিষ্ট কর্মকার পরিবার|

এখানে কালী পুজোয় বিশেষ ধুমধাম হয় ও পশু বলীর প্রথা এখনো প্রচলিত আছে|দূর দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী আসেন মায়ের দর্শন ও আশীর্বাদ পেতে|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, আবার লিখবো একটি নতুন পর্ব, পড়তে থাকুন আর জ্যোতিষ বা তন্ত্র সংক্রান্ত কাজের জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন নির্দ্বিধায়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গোপন শক্তিপীঠ

শক্তিপীঠ বললেই আমরা সাধারণত একান্ন পীঠের কথাই ভেবে থাকি, আবার কিছু শাস্ত্র মতে শক্তি পীঠের প্রকৃত সংখ্যা একান্ন নয় বাহান্ন, এমনকি কিছু প্রাচীন গ্রন্থে শতাধিক শক্তি পীঠের উল্লেখও রয়েছে, অর্থাৎ শক্তি পীঠের সংখ্যা নিয়ে কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য রয়েছে, তবে একটি বিষয় নিয়ে সবাই একমত যে বেশ কয়েকটি শক্তিপীঠের প্রকৃত অবস্থান বা স্থান নির্ণয় আজও সম্ভব হয়নি, এমনই চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন শক্তিপীঠের কথা আমি আজকের এই বিশেষ পর্বে লিখবো|

প্রথমেই বলবো কালমাধব শক্তিপীঠের কথা, শাস্ত্র মতে এখানে পতিত হয়েছে দেবীর কোমরের বামদিকের অংশ,বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে দেবীকে এই পীঠের অধীশ্বরী কালমাধব রূপে বর্ণনা করা হয়েছে এবং ভৈরবের নাম এখানে অসিতানন্দ|এই পীঠযে আসলে কোথায় অবস্থিত তা আজও নিশ্চিত ভাবে বলা যায়নি|

শক্তি পীঠগুলির মধ্যে অন্যতম রত্নাবলী শক্তিপীঠের প্রকৃত অবস্থান নিয়েও বিতর্ক এবং মত পার্থক্য রয়েছে, মনে করা হয় দেবী আদ্যা শক্তির কাঁধের একটি অংশ পড়েছিল এই স্থানে, যদিও বেশিভাগ বিশেষজ্ঞই মনে করেন দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাসের কোনো স্থানে রয়েছে এই শক্তি পীঠ তবে, প্রকৃত স্থান আজও অজানাই রয়ে গেছে|

পঞ্চসাগর শক্তিপীঠের প্রকৃত অবস্থানও আজও জানা যায়নি নিশ্চিত ভাবে, যদিও শাস্ত্র মতে এই শক্তি পীঠের অস্তিত্ব আছে এবং এই স্থানে দেবীর চোয়ালের একটা অংশ পড়েছিল|

প্রাচীন শাস্ত্র থেকে একথা স্পষ্ট ভাবে জানা যায় যে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলংকায় ও রয়েছে একটি শক্তিপীঠ, এখানে সম্ভবত দেবীর কিছু গহনা পতিত হয়েছিলো, এই স্থানে দেবী ইন্দ্রাক্ষী এবং ভৈরব রূপে রয়েছেন রাকেস্বর, তবে ঠিক কোন স্থানে এই শক্তি পিঠটি অবস্থান করছে তা নিশ্চিত ভাবে এখনো বলা সম্ভব হয়নি, অর্থাৎ এই শক্তি পীঠকেও একটি গোপন শক্তি পীঠ হিসেবেই ধরা হয়|

আগামী দিনে শক্তি সংক্রান্ত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা আমি আপনাদের সামনে আনবো, সংঙ্গে থাকবে আরো অনেককিছু,দেখতে থাকুন আমার প্রতিটি অনুষ্ঠান এবং পড়তে থাকুন এই আধ্যাত্মিক লেখালেখি, নিজেদের মতামতও জানান, আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্যে আমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে নির্দ্বিধায় ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – রেন টেম্পল, উত্তর প্রদেশ

ভারতে যেমন মন্দিরের পরিমান অসংখ্য তেমনই তাদের নিয়ে রহস্যর ও কোনো শেষ নেই, আজ আপনাদের এমনই এক রহস্যময় মন্দিরের কথা বলবো যার রহস্য ভেদ করতে বিজ্ঞান ও হিমশিম খাচ্ছে|

উত্তর প্রদেশে কানপুরের রয়েছে এই অদ্ভুত দেখতে মন্দির। মন্দিরটি শ্রী জগন্নাথের।মানুষের বিশ্বাস, বৌদ্ধ মঠের আদলে এই মন্দির নাকি তৈরি করিয়েছিলেন সম্রাট অশোক|

যুগ যুগ ধরে এক অলৌকিক উপায়ে এই প্রাচীন মন্দিরটি সঠিক আবহাওয়ার খবর আগাম বলে দিচ্ছে স্থানীয়দের,বৃষ্টি পাতের আগাম খবরের জন্যে স্থানীয়রা অন্য কোনো প্রযুক্তি নয় ভরসা রাখেন এই মন্দিরে, শুধু বৃষ্টির খবর বলে দেওয়া নয়, বৃষ্টি হলেও কতটা হবে সেটাও নাকি বলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই রহস্যময় মন্দির। সেখানকার লোকেরা এই কারণেই মন্দিরটিকে ‘রেন টেম্পল’ নাম দিয়েছেন|যথার্থ নাম করণ সন্দেহ নেই|

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হঠাৎ করেই নাকি প্রখর রোদেও মন্দিরের ছাদ থেকে জল পড়তে থাকে এর অর্থ বৃষ্টি হবেই।প্রতিবার বৃষ্টি হওয়ার ৬-৭ দিন আগে থেকেই নাকি এমন অদ্ভুত সংকেত দেয় এই মন্দির। প্রবল বৃষ্টি হবে নাকি স্বল্প বৃষ্টি হবে, সেটাও নাকি জলবিন্দুর চুঁইয়ে পড়ার ধরণ দেখেই বোঝা যায়, রহস্য এখানেই শেষ নয়, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর এই মন্দিরের ছাদ থেকে যে জল চুঁইয়ে পড়ছিলো তা পুরোপুরি নাকি বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই না, সিলিংয়ে জলের কোনো চিহ্নও থাকেনা,

বৃষ্টির আগাম খবর পাওয়া যায় তাই কৃষকদের কাছে এই মন্দির বেশ পবিত্র। কারণ বৃষ্টির পূর্বাভাস, তাদের চাষবাষে সাহায্য করে।প্রায় সারা বছরই দর্শনার্থীরা আসেন এখানে তবে রথযাত্রা উপলক্ষে উৎসব হয় ও সেই সময়ে বহু মানুষের সমাগম হয়, এই মন্দিরে|

আবার ফিরবো নতুন পর্বনিয়ে যথা সময়ে, পড়তে থাকুন আমার লেখা ও দেখতে থাকুন টিভির অনুষ্ঠান, আর জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করুন নির্দ্বিধায়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – যমরাজ মন্দির , হিমাচল প্রদেশ

এর আগের মন্দির রহস্য পর্ব গুলিতে আমি বেশ কয়েকটি কালী মন্দির, শিব মন্দির এবং বিষ্ণু মন্দির তার সাথে জড়িত রহস্য জনক নানান ঘটনা ও গল্প আপনাদের বলেছি, আজ এমন একটি মন্দিরের কথা বলবো যেখানে প্রতিষ্টিত আছেন যমরাজ, হয়তো অনেকেই আগে এমন মন্দিরের কথা আগে শোনেননি, এই মন্দিরটি রয়েছে হিমাচল প্রদেশেরে চম্বা জেলার ভারময় নামক স্থানে|

এই যমরাজ মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক ঘটনা ও রহস্য, তবে ভক্তির থেকে এই মন্দিরের ক্ষেত্রে ভয়ের প্রাধান্যই রয়েছে ওধিক, কারন যমরাজ মানেই তো মৃত্যু আর এই মন্দিরের যমরাজের সাথে ও অবস্থান করছেন মানুষের যাবতীয় পাপপুণ্যর হিসাব রক্ষক চিত্রগুপ্ত|

মনে করা হয়, মন্দিরের মধ্যেই গোপন এক ঘরেই মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসেবে কষেন তারা, পাহাড়ে ঘেরা মন্দিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক কথায় অপূর্ব যা দেখতে আসেন বহু দর্শনার্থী তবে, মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার দুঃসাহস দেখাতে চায়না তারা, বাইরে থেকে প্রনাম করেই বিদায় নেয় বেশি ভাগ দর্শনার্থী|

কবে এবং কে এই মন্দির এখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই প্রশ্নের উত্তর এখনো রয়েছে অজানা, লোকমুখে প্রচারিত, মন্দিরটিতে মোট চারটি অদৃশ্য দরজা রয়েছে যেগুলি নাকি সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ এবং লোহা দিয়ে তৈরি, পুরাণেও এমনই চারটি দরজার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। যমরাজের ইচ্ছা অনুযায়ীই নাকি মৃত ব্যক্তির আত্মা এসব দরজার কোনো একটি দিয়ে স্বর্গ বা নরকে পৌঁছায়|

মানুষের বিশ্বাস, মৃত্যুর পরে মুক্তি লাভের জন্যে সেই আত্মার ঠাঁই হয় যমরাজের পায়ের কাছে। সেখানে চিত্রগুপ্ত সেই আত্মার ভালো মন্দের হিসাব পেশ করেন মৃত্যুর দেবতার সামনে, তারপর যমরাজ সিদ্ধান্ত নেন, কোন দরজা খোলা হবে সেই আত্মার জন্যে। এইভাবে এই মন্দির মানুষের পাপ পুণ্যের হিসাব করার ও আত্মার পরবর্তী গন্তব্য নির্ণয় করার কাজে ব্যবহিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|

আগামী দিনে, হিমাচলপ্রদেশ ভ্রমণ করলে এই মন্দির টি চাইলে দেখে আসতে পারেন, আজ এখানেই থামছি, আবার দেখা হবে একটি নতুন পর্বে, যাওয়ার আগে মনে করিয়ে দিই বর্তমানে, কোলকাতা, বারাসাত ও অনলাইনে ভাগ্যবিচারের পাশাপাশি জেলায় ও যাচ্ছি নিয়ম করে তাই দূরের বন্ধুরা জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ নিয়ে আমার কাছে আসতে চাইলে আগে উল্লেখিত নম্বরে ফোন করে জেনে নেবেন আমাকে কোথায় কবে ও কখন পাবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|