বাংলার শিব – ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দির

167

আজ বাংলার শিবের এই পর্বে আমি আপনাদের বলবো সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্ব বৃহৎ শিবলিঙ্গের কথা যা এই বাংলার খুব কাছেই অবস্থিত|

একটি পুরান কাহিনি অনুসারে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণ মহাদেবের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি শিব লিঙ্গ পান কিন্তু রাবণ যখন তাঁর পুস্পক রথে করে এই শিবলিঙ্গটি নিয়ে চলে যেতে দেখেন তখন ক্ষুব্ধ হন দেবতারা এবং ঠিক করেন এই শিবলিঙ্গ নিয়ে যাওয়া আটকাতে হবে৷ দেবতারা ওই শিবলিঙ্গ চাইলেও তা দিতে রাজি হন না রাবণ, ফলে এই টানা পোড়েনে রাবণ তখন পথের মধ্যই কোনও এক স্থানে ওই লিঙ্গটি নামিয়ে রাখেন৷ কিন্তু তারপর আবার ওই লিঙ্গটি তুলতে গেলে এত ভারী লাগে যে রাবণ তা তুলতে পারেন না,বহু চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতে রাবনকে লংকায় ফিরতে হয় এবং সেই বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর শিব লিঙ্গটি চীরকালের জন্যে রয়ে যায় মর্তে|মনে করা হয় কৈলাশে এই শিবলিঙ্গটি দেবী পার্বতী পুজো করতেন|

এই স্থানটি হলো বাংলা থেকে অল্প দুরে, দিঘার কাছে উড়িষ্যায়,বালাসোরে এবং এখানেই ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দিরে সেই শিব লিঙ্গ স্বমহিমায় বিরাজমান|শিবলিঙ্গটি মাটি থেকে ১২ ফুট উচু এবং পরিধি ১৪ ফুট|ভুশন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গটির অর্ধেক আসলে দেখা যায় যা মাটির উপর রয়েছে বাকী অর্ধেক রয়েছে মাটির তলায়|

স্থানীয় দের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় এই শিব মন্দির, বহু মানুষ আসেন পুজো দিতে, আর শিব রাত্রিতে অসংখ্য শিব ভক্তের সমাগম হয় এখানে|চাইলে আপনারাও একদিন ঘুরে আসতে পারেন|বিদায় নেয়ার আগের জানিয়ে রাখি আগামী শিব রাত্রির বিশেষ তিথীতে আমার গৃহ মন্দিরে হোম যজ্ঞ বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্যে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে আর জ্যোতিষ পরামর্শ বা ভাগ্যবিচারের জন্যেও ফোন করতে পারেন যেকোনো সময়ে, জেনে নিতে পারেন আমাকে কবে কখন ও কোথায় পাবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|