বাংলার শিব – বাবা বড়ো কাছারি

143

আর কয়েকটি দিন পরেই মহা শিব রাত্রি, আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি ও শিব পার্বতীর বিবাহের দিনটি একত্রে উদযাপিত হবে সারা দেশ জুড়ে,এই আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে আমি আজ শুরু করতে চলেছি একটি বিশেষ ধারাবাহিক লেখনী যেখানে থাকবে বাংলার নানা প্রান্তে অবস্থিত বিভিন্ন কিছু প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা ও তাদের সাথে জড়িত অনেক গল্প ও কিংবদন্তী, আজ প্রথম পর্বে বড়ো কাছারি মন্দির|

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি যা বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত, কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে, সে প্রসঙ্গে পরে আসছি আগে এই মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট জেনে নেয়া যাক|

সময়টা ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দ নবাব আলীবর্দী খানের শাসন কাল, সেই সময়ে বাংলায় আক্রমণকারী মারাঠাদের অত্যাচার ও হামলা প্রতিদিনের ব্যাপার ছিলো , এই সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে ও তাদের মনোস্কামনা জানাতে, শোনা যায় এই শিব মন্দির থেকে কেউ খালি হাতে ফেরেননা|

কেনো বড়ো কাছারি নামে ডাকা হয় এই মন্দির কে তারও নিদ্দিষ্ট কারন আছে, জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে, সুতরাং তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|বহু শিব ভক্তের অগাধ আস্থা ও ভক্তির স্থান এই বড়ো কাছারি মন্দির|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, তবে আগামী দিনে বাংলার এমন অনেক শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানবো, পড়তে থাকুন, আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে বা আমার কাছে আসতে চাইলে যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|