Home Blog Page 164

মন্দির রহস্য – বিজলি বাবার মন্দির

আজ মন্দির রহস্য পর্বে লিখবো হিমাচল প্রদেশের এক রহস্য ময় শিব মন্দিরের কথা যা বিজলি বাবার মন্দির নামে খ্যাত,কেনো এই অদ্ভুত নাম তা পুরোটা পড়লেই বেশ বুঝতে পারবেন|

হিমাচল প্রদেশ মানেই দেবভূমি। হিমাচলে বহু রহস্যে মোড়া দেবদেবীর মন্দির রয়েছে। তেমনই এক মন্দির এই বিজলি বাবার মন্দির।কুলুর ব্যাস ও পার্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে এই মন্দির অবস্থিত|

মহাদেবের এই মন্দিরে প্রতি ১২ বছরে একবার ভয়ঙ্কর বজ্রপাত হয় বজ্রপাতকেই হিন্দিতে বলে বিজলি আর সেই কারনেই এই নাম|প্রতি বারো বছর অন্তর বজ্রপাতে এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। সেই সময় মহাদেবের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য|শিবলিঙ্গের ক্ষতে শুধু মাখনের প্রলেপ দেন মন্দিরের পূজারি।

কেনো বারো বছর পর পর এই বজ্রপাত তা জানতে গেলে এক পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে, পুরান অনুসারে এই অঞ্চলে একটা সময় কুলান্ত নামে এক দৈত্য থাকত। সেই দৈত্য সাপের রূপ ধরতে পারত। একদিন কুলান্ত বিরাটাকার অজগর সাপের রূপ ধরে মথান গ্রামের কাছে ব্যাস নদীতে কুণ্ডলি পাকিয়ে বসে ছিল। ফলে নদীর জলস্রোত বাধা পাচ্ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই অঞ্চলে নদীর জল বাড়তে থাকে। আসলে ওই দৈত্য কুলান্ত ওই গ্রামের সব মানুষকে জলে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু মহাদেব কুলান্তের এমন কাজে ক্ষুব্ধ হন। তখন তিনি এসে দাঁড়ান দৈত্যের সামনে এবং ত্রিশূল দিয়ে তাকে বধ করেন|

কথিত আছে, মহাদেব কুলান্তকে বধ করার পর দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে প্রতি ১২ বছর পর ওখানে বজ্রপাত ঘটানোর আবেদন করেন। সেই আদেশ অনুসারে প্রতি বারো বছরে বজ্রপাত হয় যাতে ওই অঞ্চলে মানুষের কোনও ক্ষতি না হয় সেই জন্যে বজ্রপাত হয় মন্দিরের উপর।

আজ এখানেই থামলাম, তবে বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকারের জন্যে যারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইছেন তারা একবার উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে জেনে নেবেন আমাকে কবে কখন ও কোথায় পাবেন|ফিরবো আগামী পর্বে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – লিলুতিনাথ শিব মন্দির

ভারতের প্রাচীন মন্দির গুলো নিয়ে রহস্যর কোনো শেষ নেই সেই রহস্য একে একে আপনাদের সামনে আনতে শুরু করেছিলাম মন্দির রহস্য শীর্ষক এই ধারাবাহিক পর্ব গুলি|চৈত্র মাস অর্থাৎ শিবের মাস, তাই মাসে কয়েকটি রহস্যময় শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো আজকের পর্বে লিলুতিনাথ শিব মন্দির

উত্তর প্রদেশে অবস্থিত এই লিলুতিনাথ শিব মন্দির,মন্দিরটি, রয়েছে ইউপির পিলভিট নামক স্থানে।বেশ কয়েকটি কারনে এই মন্দির বেশ রহস্যময় যার মধ্যে সবার প্রথমে বলতে হয় শিব লিঙ্গের রঙ পরিবর্তন|

এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ সূর্যের রশ্মির সঙ্গে সঙ্গে দিনে তিনবার তার রঙ পরিবর্তন করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই ধারণা কোনো গুজব নয় একেবারেই সত্যি,এই মন্দিরে শিবলিঙ্গের রঙ সকালে কালো, বিকেলে বাদামী এবং এবং রাতে হালকা শ্বেত বর্ণ ধারণ করে
তবে আজও এই রঙ পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা বা কারন জানা যায়নি|

দ্বিতীয় যে কারনে মন্দিরটি রহস্যময় এবং অলৌকিক সত্ত্বার অধিকারী তা হলো মহাভারতের অমর চরিত্র অস্বথামার উপস্থিতি,একটি জনশ্রুতি রয়েছে যে অশ্বত্থামা আজও মধ্যরাতে এই মন্দিরে পুজো করতে আসেন এবং যখন তিনি আসেন, হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হয় এবং বৃষ্টিও হয়|স্থানীয় দের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত ও জনপ্রিয় এই শিব মন্দির বহু দূর দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন
লিলুতিনাথ শিব মন্দিরে

শ্রদ্ধা ও ভক্তি সংক্রান্ত বিষয় গুলিকে যুক্তি দিয়ে বিচার না করাই ভালো, ভগবানের ইচ্ছায় সবাই সম্ভব তার লীলা বোঝা দায়, আমরা শুধু তার সামনে নিজেদের মাথা নত করতে পারি আর প্রার্থনা করতে পারি|আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম ফিরবো আগামী পর্বে নতুন কোনো রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন, দেখতে থাকুন টিভির অনুষ্ঠান আর অবশ্যই যোগাযোগ করবেন জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে নাম্বার পোস্টে উল্লেখিত আছে |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার শিব- জটেশ্বর শিব মন্দির

বাংলার বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিবমন্দির নিয়ে ইতিমধ্যে লিখেছি এই ধারাবাহিক লেখনীতে, সেই পরম্পরা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো আজকের পর্বে, আজ উত্তর বঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত জটেশ্বর শিব মন্দির|

এই শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক প্রায় দুশো বছর, এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার মন্দিরের সংস্কার হয়েছে তবে জটেশ্বর শিব কে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও ভক্তি রয়েছে একই রকম, অনেক রহস্যময় ঘটনা ও অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে এই মন্দির নিয়ে, মন্দিরের স্থাপনা নিয়েও রয়েছে একটি জনশ্রুতি|

শোনা যায়, একবার মন্দির সংলগ্ন কাঠালবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন জঙ্গলের ভিতর একটি দুগ্ধবতী গাভীর বাঁট থেকে অনবরত দুধ পড়ে যাচ্ছে, কৌতুহলী গ্রামবাসী খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন , তারা সামনে গিয়ে দেখতে পান মাটি ভেদ করে একটি পাথর উঠে আছে, এবং সেই পাথরেই গাভীর দুধ অনবরত পড়ে চলেছে|লোক মুখে এই অলৌকিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র|

পরবর্তীতে জমিদারের আদেশে লোক জন গিয়ে শিব লিঙ্গ টি বহন করে জমিদার বাড়িতে আনার সময় পথে এক স্থানে তা নামিয়ে রাখলেন বিশ্রামের জন্যে, অলৌকিক ভাবে পরে সেই স্থান থেকে শিব লিঙ্গকে ওঠানো আর সম্ভব হয়নি, এমনকি জমিদারের হাতিও ওই স্থান থেকে শিব লিঙ্গ এক চুল নাড়াতে পারেনি, ঐখানেই ছোট মন্দির বানিয়ে পুজো শুরু হয়|এর পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়|

একদিন হঠাত্‍ করে এক উলঙ্গ সাধুর আবির্ভাব ঘটলো, ওই স্থানে তাকে সবাই ‘ কাথেয়া বাবা’ বলে ডাকতো, উনি দীর্ঘদিন পুজো দিয়েছিলন তারপর একদিন তিনিও কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেলেন|এরপর একদিন মিথিলা থেকে এক পুরোহিত এলেন, তিনি এসে স্থানীয়দের জানালেন তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন এখানে আসার জন্য এবং এই স্থানে তিনি এসে দেখেন স্বপ্নে যা যা দেখেছেন সব একশো শতাংশ সত্যি, তিনি লোকেদের সাথে কথা বলে নিয়মিত পুজোর ব্যাবস্থা করেন তৈরি হয় মন্দির|জটেশ্বর মহাদেব নামে এখানে পূজিত হন শিব|

আবার পরের পর্বে লিখবো অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা, পড়তে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজে আমাকে প্রয়োজন বোধ করলে নির্দ্বিধায় ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে অনলাইন ও চেম্বারে আমাকে পাবেন প্রত্যেক দিন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ভারতের সাধক – মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য

ভারতের মহান সাধক দের কথা বলা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি বাংলার নবজাগরনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও মহান সাধক শ্রী চৈতন্যদেবের কথা না বলা হয়,আর তার কথা বলার এটাই শ্রেষ্ট সময় কারন আর কিছু দিন পরই দোল পূর্ণিমা, 1486 সালের এমনই এক দোল পূর্ণিমায় বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার তৎকালীন পীঠস্থান নবদ্বীপে জন্মে ছিলেন গৌরাঙ্গ যিনি কৃষ্ণ সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে বিলিয়ে দিয়ে হয়ে উঠলেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য|

নিম গাছের ছায়ায় তিনি জন্মে ছিলেন তাই নাম রাখা হয়ে ছিলো নিমাই, আসুন আজকের পর্বে জেনে নিই তার জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক , কিছু অলৌকিক ঘটনা|

সচি মাতার গর্ভে তার জন্ম, অকালে পিতৃ বিয়োগ,টোলে শিক্ষা দান, লক্ষী প্রিয়া এবং বিষ্ণু প্রিয়ার সাথে তার বিবাহ, পরবর্তীতে গয়ায় যাত্রা, সন্ন্যাস ও পুরী ভ্রমণ সারা বাংলায় কৃষ্ণ প্রেমের প্রচার এবং শেষে রহস্যময় অন্তর্ধান, এসবই হয়তো আপনারা জানেন, আগেও পড়েছেন বহুবার|শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন নিয়ে হয়েছে নানা গবেষণা ।

আজও অনেকঐতিহাসিক এই বিষয়ে
গবেষণা চালাচ্ছে। অসংখ্য রহস্য ময় ঘটনার উল্লেখ রয়েছে তার জীবন জুড়ে এবং সর্বোপরি তার মৃত্যু বা অন্তর্ধান আজও এক রহস্য|এর মধ্যে একটি বিশেষ ঘটনা আজ উল্লেখ করবো

বহু দূর দূর থেকে চৈতন্য দেবের ভক্তরা আসতেন তার সাথে দেখা করতে, এমনই একবার চৈতন্য দেবের সাথে সাক্ষাত করার জন্য সুদূর বৃন্দাবন থেকে নবদ্বীপ ধামে এসেছেন সনাতন নামে এক ব্যাক্তি।সারা দেহে খোস পাঁচড়া নিয়ে রোগ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তিনি মনে মনে স্থির করেছেন চৈতন্য দেবের সাথে দেখা করে আগামী রথযাত্রায় রথের চাকার তলায় আত্মহত্যা করবেন।
একদিন চৈতন্যদেবের সাথে সনাতন গল্প করছিলেন। হটাৎ চৈতন্য দেব, সনাতনকে বললেন – সনাতন,আত্মহত্যার সংকল্প ত্যাগ কর। আত্মহত্যা মহাপাপ। এতে কখনো কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয়না।অবাক হয়ে গেলেন সনাতন। আত্মহত্যা করার কথা কাউকে জানাননি। তাহলে কী করে চৈতন্য দেব এই কথা জানলেন। এই ভাবেই অপরের মনের কথা জানতে পারতেন চৈতন্য মহাপ্রভু|আরো আশ্চর্য জনক ঘটনা হলো এর কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন সনাতন|এর জন্য কোনো চিকিংসা করতে হয়নি।এবং আত্মহত্যার ভূত মাথা থেকে একদম মুছে যায়|

আরেকটি ঘটনার কথা বলা যায়,
একবার মহপপ্রভু শ্রীনিবাস ঠাকুরেরর বাড়িতে এক অপূর্ব অলৌকিক লীলা প্রদর্শন করেন। তখন প্রবলভাবে সংকীর্তন হচ্ছিল। তিনি ভক্তদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁরা কি খেতে চান, এবং তাঁরা জানালেন যে, তাঁরা আম খেতে চান, তখন তিনি আমের আটি চাইলেন। তখন আমের সময় ছিল না, আঁটিটি যখন তাঁর কাছে আনা হল, তখন তিনি সেটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনে পুঁতলেন এবং তৎক্ষণাৎ সেই আঁটিটি অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমন্বয়ে বর্ধিত হতে লাগল। অচিরেই সেটি একটি আম গাছে পরিণত হল এবং সেই গাছে এত সুপক্ব আম ধরল যে, ভক্তরা তা খেয়ে শেষ করতে পারলেন না। গাছটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনেই রইল এবং ভক্তরা সেটি থেকে তাঁদের যত ইচ্ছে আম নিয়ে খেল। ভক্তরা মহাপ্রভুর এই অপ্রাকৃত লীলা দেখে মুগ্ধ হলো|এখনও সেই গাছ শ্রীনিবাস গৃহের উঠোনে বর্তমান|

মহা প্রভুর মাত্র আটচল্লিশ বছরের জীবন কালে এমন অনেক অলৌকিক ঘটনা আছে লিখতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হয়ে যাবে, চৈতন্য চরিতামৃত সহ অসংখ্য গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে সব তথ্য, গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ এবং পরবর্তীতে কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ মহা প্রভুকে অবতার হিসেবে প্রচার করেছে গোটা বিশ্বে|সারা বিশ্ব কে তিনি দিয়েগেছেন কৃষ্ণ নাম যে নাম আজ ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো সারা পৃথিবীতে|জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মহা প্রভু সবাইকে আপন করে নিয়ে ছিলেন|তার সাধনা ছিলো একটাই মানুষকে ভালো বাসা, আর কৃষ্ণের চরণ যুগলে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে সপেঁ দেয়া, তার সাধনার পদ্ধতিও ছিলো সরল মৃদঙ্গ ও হরে কৃষ্ণ মহা মন্ত্র|

জন্মতিথীর ঠিক আগে মহাপ্রভুকে আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানিয়ে শেষ করলাম আজকের এই বিশেষ পর্ব, জানাবেন কেমন লাগছে আমার এই আধ্যাত্মিক লেখালেখি আর জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকারের বিষয়ে জানতে ফোন করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শিব কথা – শিব তত্ত্ব

শিব সংক্রান্ত অনেক পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের বলেছি ইতিমধ্যে আজ জানবো কেনো মহাদেব সর্বদা রুদ্রাক্ষ ধারন করে থাকেন কেন তাঁর হাতে ত্রিশূল, কেন তাঁর হাতে ডমরু, কেন সাপ তাঁর সঙ্গী, কেনোই বা তার জটায় চন্দ্র ও গঙ্গা আর কি কারনে তিনি বাঘ ছালে বসে থাকেন আর তার ত্রিশূলের কি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তাও জানবো|

শিব ঠাকুরের ত্রুশূলে বাঁধা ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়৷মহাদেবের ত্রিশূল তিনটি শক্তির প্রতীক- জ্ঞান, ইচ্ছা এবং সম্মতি৷তিনি এই তিনটি জ্ঞান তার নিয়ন্ত্রণে রাখেন|

শিবের গলায়-মাথায় নাগের উপস্থিতি সর্বদা দেখা যায়, যা পুরুষের অহংকারের প্রতীক বলে মনে করা হয়৷রুদ্রাক্ষ আসলে শুদ্ধতার প্রতীক৷ অনেকক্ষেত্রে তাঁর হাতে রুদ্রাক্ষমালা থাকে যা ধ্যানমুদ্রার সূচক বলে জানা যায়৷

শিবের জটার থেকে নির্গত জল- মহাদেবের জটাতে অনেকসময় একটি চেহারা দেখতে পাওয়া যায়৷ আসলে তিনি হলেন গঙ্গা নদী৷ য়অনেক ছবিতে আবার চেহারার পরবর্তে জটা থেকে নির্গত জলধারা দেখতে পাওয়া যায় এবং শিব ঠাকুরের মাথার চাঁদ এই ইঙ্গিত দেয় যে, কাল সম্পূর্ণরূপে তাঁর নিয়ন্ত্রণে৷

শিব ঠাকুরের সব ছবিতেই দেখা যায় তিনি বাঘছাল পরে রয়েচেন, আবার কোনও কোনও ছবিতে এও দেখা যায় যে তিনি বাঘ ছালের ওপর বসে রয়েছেন৷ আসলে এই বিষয়টি নির্ভয়তারই প্রতীক৷শিবের কপালের তৃতীয় নেত্র-কে জ্ঞানের প্রতীক বলে মনে করা হয়৷ অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়, তিনি রেগে গেলে এই তৃতীয় চোখটি খুলে যায় এবং সব কিছু ভস্ম হয়ে যেতে পারে তাতে৷

আশা করি ভালো লাগবে এই সহজ সরল ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনা, জানাবেন, আর অবশ্যই যোগাযোগ করবেন যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, সমাধান আমি বলে দেবো, ভালো থাকবেন|ধন্যবাদ|

শিব কথা – নটরাজ রূপ

ইদানিং জ্যোতিষ চর্চার ক্ষেত্রে পেশাগত ব্যস্ততা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, অনলাইন পরিষেবা দেয়ার পাশাপাশি আবার নিয়মিত চেম্বারে বসছি, জেলায় জেলায় ও যেতে হচ্ছে, আগামী দিনে রাজ্যের বাইরেও যেতে হবে, কিছু করার নেই মানুষের দাবী, তবে এতো কিছুর মধ্যেই গোটা চৈত্র মাস ধরে ঠিক করেছি শিবের বিভিন্ন রূপ ও শিব কে নিয়ে নানা পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের সামনে আনবো, আজকের পর্বে আলোচনা করবো শিবের নটরাজ রূপ নিয়ে|

পূরাণে কথিত আছে, শিব যখন ক্ষিপ্ত হন তখনই তার এই নটরাজ রূপ প্রকাশ্যে আসে, শিবের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই নৃত্যরত নটরাজ রূপের মাধ্যমে|শিবের একশো টি নামের মধ্যেও আছে নর্তক ও নিত্যনর্ত নাম দুটি|

শিল্প কলা বিশেষত নৃত্যের সঙ্গে শিবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে|কথিত আছে নৃত্য ও সঙ্গীত শিবের সৃষ্টি, তিনিই এই নৃত্যকলার প্রবর্তক| শিবের সব থেকে প্ৰিয় দুটি নৃত্যের নাম হল তাণ্ডব ও লাস্য| তাণ্ডব ধ্বংসাত্মক এবং পুরুষালি নৃত্য ও লাস্য হলো তাণ্ডবের নারীসুলভ বিকল্প যার মধ্যে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আনন্দ| তাণ্ডব ও লাস্য নৃত্য যথাক্রমে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক|

সমগ্র ভারতে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে নটরাজ বেশে শিবের মূর্তি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি সব শিল্পীর পরম শ্রদ্ধেয় তার আশীর্বাদ নিয়ে অনেক শিল্পীই তার নৃত্য অনুষ্ঠান আরম্ভ করেন|অনেকেই শিবের নটরাজ মূর্তি বাড়িতে সাজিয়ে রাখেন, এক্ষেত্রে বাস্তু শাস্ত্র মতে নৃত্যরত শিবের মূর্তি রাখলে ঘরে পজেটিভ শক্তির মাত্রা মারাত্মক বেড়ে যায়|

আজকের পর্বে নটরাজ রূপ নিয়ে এইটুকুই, আবার ফিরবো পরের পর্বে, পড়তে থাকুন, সঙ্গে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে হলে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে, আমি থাকবো পাশে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শিব কথা – নন্দী ভৃঙ্গী

দেবাদিদেব মহাদেব কে নিয়ে লিখতে যখন শুরু করেছি তার দুই ছায়া সঙ্গী নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে কিছু কথা স্বাভাবিক ভাবেই এসে পড়ে কারন শিবের পাশে সর্বদা থাকেন এই দুজন, এমনকি অনেক শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে। তবে সে মূর্তি সচরাচর বৃষ বা ষাঁড়ের। তবে এটা নন্দীর আসল রূপ নয়,

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে পুরানে অনেক কথাই বলা আছে কূর্মপুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান|

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মুনি, শিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে পুজোয় কিছুতেই রাজি নন। ক্রুদ্ধ পার্বতী অভিশাপ ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

আগামী পর্বে এমনই কোনো পুরান কাহিনী বা পৌরাণিক চরিত্র নিয়ে আবার ফিরে আসবো, পড়তে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসতে চাইলে বা অনলাইন এ নিজের সমস্যার সমাধান চাইলে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে পুরানে অনেক কথাই বলা আছে কূর্মপুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান|

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মুনি, শিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে পুজোয় কিছুতেই রাজি নন। ক্রুদ্ধ পার্বতী অভিশাপ ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

আগামী পর্বে এমনই কোনো পুরান কাহিনী বা পৌরাণিক চরিত্র নিয়ে আবার ফিরে আসবো, পড়তে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসতে চাইলে বা অনলাইন এ নিজের সমস্যার সমাধান চাইলে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শিবকথা – কালভৈরব

শিবের বিভিন্ন রূপগুলির মধ্যে অন্যতম কাল ভৈরব যা শিবের অংশ বিশেষ ।

শিব পুরান বলে, কোনো একসময় ব্রহ্মা নাকি কোনও ধর্মবিরোধী কাজ করেছিলেন যার ফলে শিব অত্যন্ত রেগে যান ব্রহ্ম দেবের উপর। তাই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি |এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর তাঁর হাত থেকে হটাৎ খোশে পড়ে যায় সেই মস্তক। তার পর শিব কাল ভৈরব কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা |

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর, অনেকে বিশ্বাস করেন গভীর রাতে কোথাও যাত্রা করার সময় কালভৈরবের নাম নিলে নাকি তিনি সব বিপদ কাটিয়ে দেন।হিন্দু পুরাণ মতে, কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন। শিব মন্দিরে কালভৈরব এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ওই মন্দিরের চাবির রক্ষক বলে বলে মনে করা হয়|

আগামী পর্বে শিবের অন্য কোনো রূপ নিয়ে ফিরবো আপনাদের সামনে, পড়তে থাকুন, জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ বা পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মতিথি

আজ দিনটি অতি পবিত্র, আজ ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের 186 তম জন্মতিথি,আজ তাকে স্মরণ করার দিন, তার কাছে প্রার্থনা করার দিন|

শ্রী রামকৃষ্ণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছিলেন তার লীলা করতে, পরমহংসদেব যখন জগৎ সমক্ষে উদয় হন, তখন ঘোরতর ধর্মবিপ্লব চলছে চারপাশে, “জড়বাদী মুক্তকণ্ঠে বলছেন – “জড় হইতেই সমস্ত,জড়ের সংযোগেই আত্মা, জড় ব্যতীত আর কিছু নাই।“
ব্রাহ্ম সমাজ বলছে – “বেদ, বাইবেল, কোরান প্রভৃতি কিছুই মানিবার আবশ্যক নাই, কোনটিই অভ্রান্ত নয়, কোনটিই ঈশ্বর বাক্য নয়”
এমন সময় পরমহংসদেব প্রচার করলেন “কোন ধর্ম কোন ধর্মের বিরোধী নয়। বাহ্য দৃষ্টিতেই বিরোধ কিন্তু সকল ধর্মই মূলত এক কথা বলে
আরো সহজ করে বললেন ” যত মত ততো পথ “

তিনি শিব জ্ঞানে জীব সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তার ভাব শিষ্য নরেন কে, সেই আদর্শ আজও এগিয়ে নিয়ে চলেছে রামকৃষ্ণ মঠ, আজকের তিথিকে মহা সমারোহে উদযাপন করা হয় মঠের প্রতিটি শাখায়,জন্ম তিথি তে প্রনাম ও শ্রদ্ধা জানাই এই মহান সাধকে, চরনে রইলো শত কোটি প্রনাম|আপনারাও উদযাপন করুন এই দিনটি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শিব কথা – শরভ অবতার

সবে মহাশিবরাত্রি শেষ হলো, তবে সারা চৈত্র মাসই শিবের গুনগান করার মাস , যদিও শৈব্য দের মধ্যে অবতার তত্ব প্রচলিত নেই তবে শাস্ত্রে শিবের বেশ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ বা অবতারের উল্লেখি পাওয়া যায়, এই মাস জুড়ে তাদের কথা বলবো সঙ্গে থাকবে আরো দেবাদিদেব কে নিয়ে আরো অনেক গল্প, আজ লিখবো শরভ অবতার নিয়ে|

নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন। এমতাবস্থায় মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।

শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি |

শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|এই যুদ্ধ ও দুর্লভ অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় নৃসিংহ পুরান ও শিব পুরানে |

আগামী পর্বে শিব কে নিয়ে অন্য কোনো পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের শোনাবো, পড়তে থাকুন, জ্যোতিষ পরামর্শনিতে, প্রতিকার করাতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|