Home Blog Page 166

ভারতের সাধক – ভবা পাগলা

ভারতের সাধকদের মধ্যে যারা সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিকতা এক সূত্রে গেথে ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভবেন্দ্র মোহন সেন ওরফে ভবাপাগলা, আজকের পর্বে এই মহান সাধকের কথা আপনাদের শোনাবো, জানাবো তার জীবন,তার সাধনা ও তার সাথে জড়িত কিছু অলৌকিক ঘটনা,

শৈশব থেকেই ভবা ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির ও সর্বদা কালী সাধনায় মগ্ন,প্রথা গত শিক্ষা খুব বেশি না থাকলেও আধ্যাত্মিক ভাবে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন ভবা পাগলা|

ভবা পাগলার জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশে, তার পিতার নাম গজেন্দ্র কুমার সাহা, পারিবারিক সূত্রেই ভবা ছিলেন কালী সাধক|পরবর্তীতে দেশ ভাগ হলে ভবাকে চলে আসতে হয় ভারতে, সেখানেও তার সঙ্গে ছিলো একটি কালী মূর্তি,থাকতে শুরু করেন শোভাবাজার অঞ্চলে এক ভক্তের গৃহে, সেখান থেকেই ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার গান ও অলৌকিক কীর্তি|

হালকা পাতলা গড়ন, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, মাথায় ঝাঁকড়া চুল, চিবুকে এক গোছা দাড়ি, এই অতি সাধারণ চেহারার ভবাপাগলার মধ্যে ছিলো অসীম আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বিশাল অলৌকিক ক্ষমতা, যা বার বার ধরা দিয়েছে তার নানান কর্ম কাণ্ডে, শোনা যায় একবার এক দুরারোগ্য ব্যাধি তে আক্রান্ত ব্যাক্তি কে অলৌকিক ভাবে সুস্থ করে দিয়েছিলেন ভবাপাগলা|

ভবা পাগলার সহজাত প্রতিভা ছিলো গান লেখার ও সুর করার, প্রায় ছেয়াশি হাজার সংগীত রচনা করেছিলেন ও তাতে সুর দিয়েছিলেন,ভবা পাগলা, শ্যামা সংগীত বা ভক্তি গীতিই ছিলো তার সংগীতের প্রধান ভিত্তি|কালী সাধনার মাধ্যম হিসেবে সংগীত কে তিনি সফল ভাবে ব্যবহার করে ছিলেন এবং হয়ে উঠেছিলেন একজন সিদ্ধ পুরুষ|নিজের জীবদ্দশায় প্রায় সাতটি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি|এই মহান সাধক ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে দেহ ত্যাগ করেন, আজও তিনি স্মরণীয় তার অলৌকিক কীর্তি ও তার গানের জন্যে|

এই মহান কালী সাধককে আমার শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের লেখা, কেমন লাগলো জানাবেন, আবার লিখবো অন্য কোনো সাধককে নিয়ে, পড়তে থাকুন, আর গ্রহ গত সমস্যানিয়ে আমার কাছে আসতে চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – ভীষ্ম অষ্টমী

পুরান ও সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের কিছু রহস্য, কিছু অজানা তথ্য আপনাদের সামনে আনতে শুরু করেছিলাম পুরান রহস্য শীর্ষক এই ধারাবাহিক লেখা আজ আমাদের মহাকাব্যে উল্লেখিত একটি বিশেষ ঘটনার কথা বলবো যা ঘটেছিলো আজকের দিনে এবং সেই ঘটনাকে উৎসর্গ করেই আজকের দিনের নামকরণ, আজ ভীষ্ম অষ্টমী|আজকের দিনে প্রান ত্যাগ করেছিলেন ভীষ্ম|

মহাভারত অনুসারে মহারাজ শান্তনু এবং গঙ্গার পুত্র ছিলেন ভীষ্ম। নিজের শপথ রাখতে সিংহাসনের মোহ ত্যাগ করেছিলেন তিনি। এমনকি কোনও দিন তিনি বিবাহ করবেন না বলেও প্রতিশ্র‌ুতিবদ্ধ হন, তাই আজীবন অকৃতদার, এই ভীষণ প্রতিজ্ঞা করার জন্য সিদ্ধার্থ ভীষ্ম নামে পরিচিত হন, ভীষ্ম স্বেচ্ছামৃত্যুর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন, অর্থাৎ তিনি যেদিন চাইবেন সেদিন তার মৃত্যু হবে|

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে সারা শরীরে অজস্র বাণ নিক্ষেপ করে ভীষ্মকে শরশয্যায় শায়িত করে দেন অর্জুন।
ভীষ্ম যখন শরশয্যায় শায়িত হয়েছিলেন তখন সূর্যের দক্ষিণায়ন চলছিল। তিনি প্রাণত্যাগের জন্য উত্তরায়ন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। মাঘ শুক্লা অষ্টমীর সময় সূর্যের উত্তরায়ন শুরু হয়ে যায় এবং তিনি স্বেচ্ছায় নিজের প্রান ত্যাগ করেন|

দেশের নানা স্থানে এই দিন ভীষ্মর ত্যাগ ও বীরত্ব কে স্মরণ করে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়, কোথাও কোথাও পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পনের রীতিও রয়েছে|আপনারও এই মহান যোদ্ধা ও ত্যাগী মহাত্মাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন নিজের মতো করে|

আজ লেখা এখানেই শেষ করলাম, পরের পর্বে দেখা হবে, জ্যোতিষ মতে ভাগ্যগণনা হোক বা সমস্যার সমাধান, চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – ভূতনাথ মন্দির

ইদানিং পেশাগত ব্যস্ততা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে,বহু মানুষ ফোন করছেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রশ্ন ও সমস্যা নিয়ে, অনলাইনের পাশাপাশি চেম্বারে নিয়মিত বসা চলছে, আর প্রতিদিনের টিভির অনুষ্ঠান তো চলছেই আর এতো কিছুর মধ্যেই আজ আবার একটি মন্দির রহস্য পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে, আজ বলবো ভারতের একটি অন্যতম রহস্যময় মন্দির নিয়ে, ভূতনাথ মন্দির|

উত্তরা খন্ডের ঋষিকেশে অবস্থিত একটি বহু প্রাচীন শিব মন্দির, শিব এখানে ভুতেশ্বর মহাদেব নামে প্রসিদ্ধ এবং মন্দিরটি ভূতনাথ মন্দির নামেই জগৎ বিখ্যাত|এই মন্দির ঘিরে রয়েছে একটি রহস্য ও পৌরাণিক আখ্যান|

পুরান অনুসারে দক্ষ কন্যা পার্বতীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া শিবের বরযাত্রী এই স্থানে এসেছিলো, এবং যাত্রা পথে এই নিদ্দিষ্ট স্থানে তারা অপেক্ষা করে ছিলো কিছুক্ষন, এটি তাদের বিশ্রামের স্থান|পরবর্তীতে স্থানীয় দের অনুরোধে স্বয়ং প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি ভুতেশ্বর রূপে এই স্থানে সদা বিরাজমান থাকবেন, তারপর থেকে এই স্থানে সুদৃশ্য আটতল বিশিষ্ট ভূতনাথ মন্দিরে, তিনি বিরাজমান,এমনকি মহাদেবের অশরীরী সঙ্গী সাথীরাও রয়েছে স্বমহিমায়, এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস|

কথিত আছে এই মন্দিরে এসে ভুতেশ্বর মহাদেবের দর্শন করলে অশুভ শক্তি, ভুত, প্রেত মানুষের আর কোনো ক্ষতি করতে পারেনা, বাবা ভুতেশ্বরের কৃপায় দূর হয় অশুভ শক্তি জনিত সব সমস্যা, তাই এই এই সব সমস্যায় পীড়িত বহু মানুষ প্রায় প্রতিদিন আসেন এই মন্দিরে, ভক্তি সহকারে পূজা দেন|

মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে একটি সুসজ্জিত বেদি যার চারপাশে ঝোলানো রয়েছে দশটি ঘন্টা এবং রহস্য রয়েছে এই খানেও, ওই দশটি ঘন্টা থেকে দশ প্রকার আলাদা আলাদা ধ্বনি উৎপন্ন হয় যার কোনো কারন বা ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি|

মন্দিরের চার পাশে বেশ একটা গা ছম ছমে অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়. প্রতিদিন সন্ধে ছটায় বন্ধ হয় মন্দির|আগামী দিনে ঋষিকেশ ভ্রমণ কালে এই মন্দির দর্শন করতে ভুলবেন না|

আবার পরের পর্বে দেখা হবে, নতুন কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে কথা হবে|পড়তে থাকুন, যোগাযোগ রাখুন আর জীবনের সমস্যার জ্যোতিষ নির্ভর সমাধান চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শীতল ষষ্ঠী

আশা করি সরস্বতীপুজো ভালোই কেটেছে আপনাদের, তবে আমাদের বাঙালিদের তো পুজো পার্বন আর ব্রতের শেষ নেই, আজ যেমন শীতল ষষ্ঠী, গ্রাম বাংলার বহু গৃহে আজ পালিত হয় এই উৎসব, শীতল ষষ্ঠী পালনের রয়েছে কিছু বিজ্ঞান ভিত্তিক যুক্তি ও বহু প্রাচীন ঐতিহ্য|

যারা শীতল ষষ্ঠী পালন করেন, তাঁরা সরস্বতী পুজোর পরের দিন বাড়িতে কোনও রান্না করেন না। শীতল ষষ্ঠীর দিনে বাড়িতে উনুন না জ্বালানোর প্রথা রয়েছে, অর্থাৎ এদিন সম্পূর্ণ অরন্ধন, এক্ষেত্রে আগের দিন রান্না করে ষষ্ঠীর দিন সবকিছ শীতল বা ঠান্ডা খেতে হয়,

উপাচারের কথা বলতে গেলে এ বেশ সহজ সরল ও ঘরোয়া সরস্বতী পুজোর পর দিন সকালে তিথিগত ভাবে ষষ্ঠী থাকতে থাকতে হয় ষষ্ঠীপুজো। তারপর হয় বাড়ির শীল, নোড়ার পুজো, ফুল, প্রসাদ দিয়ে শীল-নোড়ার পুজো দিয়ে দইয়ের ফোঁটা দেওয়া হয় শীল-নোড়ার গায়ে,তারপর আগে থেকে রান্না করা খাবারের পুজো সম্পন্ন করে শেষ হয় শীতল ষষ্ঠীর উপাচার|

কিছু কিছু স্থানে আঞ্চলিক মরশুমি শাক সবজি দিয়ে আগের দিন তৈরি হয় পাঁচ মিশেলি বিশেষ তরকারি, অর্থাৎ এই উৎসবএর সাথে যোগ রয়েছে, আঞ্চলিক ফসলের আবার শীত গিয়ে আসতে শুরু করেছে বসন্ত ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরে জীবাণুর বাসা বাঁধতে শুরু করে এই সকল রোগের হাত থেকে বাঁচতে এই টাটকা শাকসবজির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন|

যারা শীতল ষষ্ঠী পালন করছেন, ভক্তি ও শ্রদ্ধা সহকারে করুন, আমাদের সনাতন ধর্মের প্রতিটি ব্রতই গুরুত্বপূর্ণ ও গৃহ কল্যানে বিশেষ কার্যকরী|
এখন বিদায় নিলাম, দেখতে থাকুন টিভির অনুষ্ঠান, ও ইউটিউব এর ভিডিওগুলি আর চেম্বারে বা অনলাইন ভাগ্যবিচারে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ সরস্বতী পুজো

আমাদের সনাতন ধর্মে বিদ্যার দেবী বলা হয় দেবী সরস্বতীকে তাই বিশেষ করে বিদ্যার্থীদের কাছে দেবী সরস্বতী পূজনীয় তবে হিন্দু দের কাছেই তিনি পরম শ্রদ্ধার এবং পূজনীয়। তাঁর আশির্বাদে শুধুমাত্র বিদ্যা নয় বুদ্ধিও বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় সৃজন শীল ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি|আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত সরস্বতী পুজো, আসুন আজ জেনে নিই দেবী সরস্বতী সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য, সহজ সরল ভাবে|

পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মদেব সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং
এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর|জন্মের পর সরস্বতী তাঁকে এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন ও ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|

সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী|

দেবী সরস্বতী কে নিয়ে কয়েকটি বিষয় আরো জানা দরকার, অনেকেই প্রশ্ন করেন রাজহংস কেন সরস্বতীর বাহন? এর কারন জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই হাঁসের সমান গতি, ঠিক যেমন জ্ঞানময় পরমাত্মা সর্বব্যাপী ও সর্বত্র বিরাজমান অর্থাৎ পরম জ্ঞানের প্রতিক এই রাজ হংস|

আবার হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|

সরস্বতী পুজোর আগে কেনো কুল খেতে নেই, বিশেষত বিদ্যার্থীদের তার উত্তর ও রয়েছে পুরানে,
পুরাণ মতে, দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে একদিন বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন মহামুনি ব্যাসদেব। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী ব্যাসদেবকে একটি শর্ত দেন তাঁকে। একটি কুল বীজ রেখে তিনি বলেন, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে কুল হবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিন দেবী সন্তুষ্ট হবেন ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে।

শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করেন ব্যাসদেব। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো সেই বীজ থেকে গাছ হল, গাছে কুল ধরল এবং কুল পেকে তা ব্যাসদেবের মাথাতেও পড়ল। ঘটনাচক্রে সেই দিনটা ছিল পঞ্চমী, এরপর সরস্বতীর অর্চনায় কুল ফল নিবেদন করেন ব্যাসদেব । সেই থেকেই বিদ্যার দেবীর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাই আমরা। এবং দেবীর পুজোর আগে কারোর কুল খাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কারন সরস্বতীর কৃপা তাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন|

আগামী কাল দেখুন আমার টিভির লাইভ অনুষ্ঠান সেখানে পুজোর উপাচার নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো, সরস্বতী পূজা করুন ভক্তি ভরে, আর যেকোনো গ্রহগত সমস্যার সমাধানের জন্যে যোগাযোগ করুন আমার উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন সবাইকে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা|ধন্যবাদ

বিনায়ক চতুর্থী ব্রত

আমাদের সনাতন ধর্মে উল্লেখিত দেবতাদের মধ্যে গণেশ এক বিরাট স্থান জুড়ে বিরাজমান, তিনি সিদ্ধি দাতা আবার তিনিই বিঘ্ন হর্তা, আজ তার আরাধনার দিন, এই পবিত্র দিনে আসুন জেনেনিই কেনো আমরা গণেশ বন্দনা করবো আর কি ভাবে তার পূজা করলে তার কৃপা সহজেই লাভ করা সম্ভব|

আমাদের সনাতন ধর্মে যে কোনও কাজে সমৃদ্ধি তথা সিদ্ধি দান করেন গণেশ। এ ছাড়াও বুদ্ধিভ্রষ্ট মানুষকে বুদ্ধি দান করেন তিনি। তাই গণেশ চতুর্থীর পূজা উপলক্ষে ভগবানের আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপন করা হয় সুখ ও সমৃদ্ধিকেও। বাড়িতে গণেশ পূজা করলে সুখ, শান্তি যেমন বজায় থাকে, তেমনই প্রবেশ করতে পারে না অশুভ শক্তি, মুক্তি পাওয়া যায় বহু বিপদ আপদ থেকে|তাই আজ অবশ্যই গণেশ পুজো করুন নিজের সাধ্য ও সামর্থ অনুসারে|

শাস্ত্রে মূলত ষোড়শপচারে গণেশ পুজোর কথা বলা হয় তবে আপনি সহজেই ধূপ, আরতির থালা, সুপুরি, পান পাতা, নতুন পোশাক, চন্দন কাঠ,লাল ফুল, দূর্বা ঘাস, মোদক, নারকেল, লাল চন্দন, ধুনো ও ধূপ।দিয়ে নিজের গৃহ মন্দিরে গণেশ বন্দনা করতে পারেন, এক্ষেত্রে ভক্তি ও শ্রদ্ধাই আসল বাকি সব তারপরে|যারা গৃহ মন্দিরে এ দিন গণেশ স্থাপন করতে চান তারা গণেশ মূর্তি নিয়ে ঘরে প্রবেশের আগে চাল ছড়াতে ভুলবেন না।বাড়িতে গণেশ মূর্তি স্থাপনের আগে সারা বাড়ি পরিষ্কার করুন। স্নান করে শুদ্ধ হন|মূর্তি স্থাপনের আগেও ছড়িয়ে দিন চাল। ওপরে রাখুন সুপুরি, কাঁচা হলুদ, লাল কুমকুম ও দক্ষিণা।

এরপর ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ মন্ত্রের মাধ্যমে এবং সম্ভব হলে গণেশের ১০৮ নাম জপ করার মাধ্যমে অন্তর থেকে সিদ্ধি দাতা গণেশকে ডাকুন ও তার কাছে প্রার্থনা করুন|তিনি সন্তুষ্ট হলে আপনার জীবনের যাবতীয় বাঁধা বিপত্তি দূর হবে সংসারের শ্রী বৃদ্ধি হবে|

সব শেষে বলি এই শুভ সময় বিশেষ করে আজ ও কাল জ্যোতিষ প্রতিকার গ্রহণের জন্যে অত্যন্ত উত্তম বহু শক্ত কাজ ও এই সময়ে সহজেই হয়ে যায় তাই যারা ভাগ্য বিচার বা প্রতিকার গ্রহণের জন্যে মনস্থির করেছেন প্রয়োজন হলে আমাকে উল্লেখিত নাম্বারে জানাতে পারেন|ভালো থাকবেন|জয় শ্রী গণেশ|ধন্যবাদ|

কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ

বেশ কিছুদিন হলো ভারতের কোনো সিদ্ধ পুরুষ বা সাধকের কথা আপনাদের বলা হয়নি, তবে ধারাবাহিক ভাবে লেখা যখন শুরু যখন করেছি এগিয়ে তো নিয়ে যেতে হবে এবং আধ্যাত্মিকতার দেশ ভারতে এমন অসংখ্য সাধক রয়েছেন যাদের কথা আপনাদের জানাবো বলে ঠিক করেই রেখেছি|তাই আজ পেশাগত ব্যাস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে দেশের তথা বাংলার এক প্রসিদ্ধ এবং জগৎ বিখ্যাত তন্ত্র সাধকের কথা আপনাদের বলবো,তান্ত্রিক কালী-সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ

তন্ত্র সাধক কৃষ্ণানন্দ সপ্তদশ শতকে পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে এক পণ্ডিত-বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মনে করা হয় বাংলার সাধকগণ যখন তন্ত্রের মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছিলেন তখন আদ্যাশক্তি মহামায়া স্বয়ং তাঁকে তন্ত্রশাস্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং তাঁর মাতৃরূপিণী বিগ্রহের পূজা করার নির্দেশ দেন।এনিয়ে অনেক অলৌকিক কাহিনীও প্রচলিত রয়েছে যার কিছু আজ আমিও আপনাদের বলবো|

কথিত আছে, কৃষ্ণানন্দ কোনো এক ধনী ব্যক্তির বাড়ি দুর্গাপূজা করতে গিয়েছিলেন, সেখানে দুর্গাপূজার শেষে ওই বাড়ির কর্তা নিজের অহংবোধের বশবর্তী হয়ে কৃষ্ণানন্দকে বলেন যে তিনি প্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেননি। কৃষ্ণানন্দ ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন যে তিনি যদি প্রাণপ্রতিষ্ঠা না করে থাকেন এক্ষুনি তার প্রমাণ দেবেন, তবে প্রমাণ হওয়ার পরে ওই গৃহের কেউ আর জীবিত থাকবেনা। কর্তা তাতেই রাজি হলেন,কৃষ্ণানন্দ একটি কুশি ছুঁড়ে দেন দেবী প্রতিমার ঊরুতে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমার ঊরু ফেটে রক্তপাত হয়; এবং ওই গৃহের প্রত্যেকেও মুখে রক্ত উঠে তৎক্ষণাৎ মারা যান|এমন অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা রয়েছে এই মহান মাতৃ সাধকের জীবন জুড়ে|

সাধনার শুরুতে কৃষ্ণানন্দ মহামায়াকে বললেন, ‘‘মা, তোমার যে রূপের পূজা আমি করব আমাকে সে রূপ দেখিয়ে দাও’’। তখন মা বললেন, ‘‘যে ভঙ্গীতে আমার এই বিগ্রহের পূজা তোমার দ্বারা প্রচলিত হবে, তা আমি মানবদেহের মাধ্যমেই দেখিয়ে দেব। এই রাত শেষে সর্ব প্রথম যে নারীকে যে রূপে যে ভঙ্গীতে দেখবে, ঐরকম মূর্তিতে আমার পূজার প্রচলন করবে। মায়ের নির্দেশমত পরদিন ভোরে কৃষ্ণানন্দ গঙ্গার দিকে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর এক শ্যামাঙ্গিনী বালিকাকে দেখতে পান। ওই বালিকা তখন অপরূপ ভঙ্গীতে কুটিরের বারান্দার উপরে এবং বামপদ ভূতলে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি একতাল গোময়যুক্ত ডান হাত এমনভাবে উচু করে ধরেছিলেন যা দেখে বরাভয় মুদ্রার মত মনে হয়েছিল। বাম হাত দিয়ে তিনি কুটিরের দেয়ালে মাটির প্রলেপ দিচ্ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে একটি শাড়ি পড়ে ছিলেন। তাই কৃষ্ণানন্দকে দেখে তিনি লজ্জায় জিভ কেটেছিলেন।তাঁর এরকম ভঙ্গী দেখে কৃষ্ণানন্দের মায়ের প্রত্যাদেশের কথা মনে পড়ে গেল। তারপরই তিনি মায়ের ঐরকম মূর্তি রচনা করে পূজার প্রচলন করলেন।

এর পর একে একে কঠিন সব সাধনা ও তাতে সিদ্ধি লাভ করে ধীরে ধীরে তন্ত্র জগতে তিনি হয়ে উঠলেন কিংবদন্তী, প্রবাদপ্রতিম|তিনি ছিলেন শ্রীশ্রী রামপ্রসাদ সেনের তন্ত্রগুরু, পরবর্তীতে তার জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে গল্প হয়েছে সিনেমা|

সারা জীবন ব্যাপী তন্ত্র সাধনার পাশাপাশি কৃষ্ণানন্দ তন্ত্রসার ও শ্রীতত্ত্ববোধিনী নামক দুখানা গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছিলেন যা সর্বত্র সমাদৃত হয়েছিলো এবং আজও তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে ও আধ্যাত্মিক চর্চার ক্ষেত্রে এই বই দুটির ভূমিকা অপরিসীম|

এই মহান তন্ত্র সাধক ও মাতৃ সাধককে আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম জানিয়ে আজকের পর্ব শেষ করছি, যারা আমার কাছে আসতে চান জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ নিয়ে তাদের বলবো উল্লেখিত নাম্বারে একবার ফোন করে নিতে, আমাকে কখন কোথায় ও কবে পাওয়া যাবে সব জানতে পারবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

পক্কানেশ্বরী কালী মন্দির

মৌনী অমাবস্যার ব্যস্ততা বা রটন্তী কালীপুজোর যাবতীয় কাজ শেষ আপাতত তবে বাংলার কালী মন্দির ও সেই সংক্রান্ত রহস্যর কোনো শেষ নেই তাই নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠান ও জ্যোতিষ চর্চার পাশাপাশি আজ লিখবো আরেকটি রহস্যময় কালীমন্দিরের কথা|আজকের পর্বে শান্তিপুরের পক্কানেশ্বরী কালী মন্দির|

শান্তিপুরের এই ঐতিহ্যশালী জজ-পন্ডিত বাড়ীতে আনুমানিক ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দে আদি পুরুষ স্বর্গীয় শ্রী পিতাম্বর চট্টোপাধ্যায় মহাশয় পক্কানেশ্বরী দেবীর এই পূজার শুরু করেন|দেবী কালীকেই এখানে পক্কানেশ্বরী নামে ডাকা হয়, কেনো এই নাম সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি|

কথিত আছে দেবী এখানে অতি সাধারণ বেশে বিরাজিতা, তিনি ধন দৌলত, জাঁকজমক বা রাজকীয় সাজ চান না, তিনি এই অতি সাধারণ রূপেই থাকতে চান এমন কি অসাধারণ রূপে তাকে গড়ে তোলার চেষ্টা হতেই তিনি হয়ে উঠেছেন ভয়ঙ্করী|আর এখানেই এই মন্দিরের রহস্য|

এখানে দেবীর আসন মাটি দিয়ে তৈরি ও অতি প্রাচীন ওই আসন এবং বেদি মার্বেল পাথর দিয়ে সাজাতে গিয়েই মারাত্মক ভৌতিক ঘটনার সাক্ষী হন পরিবারের মানুষ। মৃত্যু হয় পরিবারের সদস্যরেও। সেই থেকেই মাটির আসনেই পূজিতা হন জজ পণ্ডিত বাড়ির কালী পুজো|

শোনা যায়, একবার মায়ের এই পঞ্চমুন্ডীর আসন বাঁধাই করে নির্ম্মাণ করার কাজে বাড়ীর এক পূর্ব্বপুরুষ উৎসাহী হয়েছিলেন। তাঁর আদেশানুসারে শ্রমিকরা কাজও শুরু করেছিল। কিন্তু এরপর থেকেই বিভিন্ন ভৌতিক কান্ড কারখানায় ভীত হয়ে শ্রমিকরা পালায়। নানা রকম ভৌতিক অভিজ্ঞতা হয়েছিল পরিবারের সদ্যদেরও। কিন্তু এতেও না দমে ওই সদস্য নিজেই কোদাল দিয়ে ওই বেদী বাঁধাই করতে যান। বেদীত একটি কোপ পড়া মাত্র তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান, আর কখনো কেউ এই দুঃসাহস দেখান নি, দেবীর ইচ্ছে মেনে নিয়ে সেই থেকে বেদীর চারপাশ বাঁধানো হলেও প্রধান বেদীটি আজও গোবর এবং মাটি দ্বারা নির্ম্মাণ করা হয় প্রতি বৎসর।

দেবী পক্কানেশ্বরী কে নিয়ে ভয় ও ভক্তি দুই ই আছে তার ভক্ত দের মধ্যে, আর দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা অগাধ|এক কালে ১৮ টি মোষ এবং ১০৮ টি পাঁঠা বলি হতো পুজোয় তবে কেবলমাত্র পাঁঠাবলির রীতি প্রচলিত আছে, দেবীর পুজোয় থাকে ২০ থেকে ২২ প্রকার নানাবিধ রকমারি পদ সহকারে নৈবেদ্য আর থাকে দেবীর অতি প্ৰিয় গজা ও পক্কান্ন এবং এই পক্কান্ন থেকেই দেবীর নাম পক্কানেশ্বরী|

আবার ফিরবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন, সঙ্গে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসতে হলে বা অনলাইনে সমস্যার সমাধান চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|