Home Blog Page 161

বাংলার কালী – গোকনা কালী মন্দির

আর কিছুদিন পরেই ফলহারিনী অমাবস্যা,কালী সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়|তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতেও এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|এই আসন্ন অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত আরো কিছু প্রসিদ্ধ ও জাগ্রত কালী মন্দিরের জানা অজানা নানান ঐতিহাসিক কাহিনী আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ঠিক করেছি একেকটি পর্বে|আজ উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে অবস্থিত গোকনা কালী মন্দির ও মা ভবানীর কথা লিখবো|

এখানে দেবী কালী কে মা ভবানী রূপে পুজো করা হয় এবং পুজো চলে আসছে আনুমানিক পাঁচশো বছর ধরে|এক কালে এই অঞ্চলে ছিল ডাকাতের রাজত্ব, অরণ্যে ঢাকা এই অঞ্চলে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো নাকি ঠিক মতো প্রবেশ করতো না|
কথিত আছে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা ভবানী’র কাছে প্রার্থনা করত দস্যুরা|

এক কালে মাটির মন্দিরে মা ভবানী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কথিত আছে যে, ধান্যকুড়িয়ার জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইনের ছেলে মরণাপন্ন হলে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই মন্দিরে আসেন ও ছেলের প্রান ভিক্ষা করেন, মায়ের আশীর্বাদে জমিদারের ছেলে পুনর্জীবন লাভ করেন। এর ফলে জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইন পাকা গাঁথুনির মন্দির নির্মাণ করে দেন|মায়ের কৃষ্ণ বর্ণের পাথরের মূর্তি চতুর্দোলায় করে আনানো হয় কাশি থেকে|

মন্দিরের পেছনে রয়েছে একটি প্রাচীন পুকুর, শোনা যায় ডাকাতরা এই মন্দিরের পেছনের পুকুরে ডুব দিয়ে মা ভবানীর পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে যেত এক কালে|মূল মন্দিরে মা ভবানীর
সাথে শিলা খণ্ড রূপে পূজিত হন বৈদ্যনাথ, মানেশ্বর ও পঞ্চানন|অলৌকিক ভাবে এক গ্রামবাসীর চাষ জমিতে লাঙ্গলের ফলায় মাটি খুঁড়তেই পাওয়া যাওয়া এই তিনটি শিলাখণ্ড তারপর তাদের মন্দিরে এনে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়|

শুধু উত্তর চব্বিশ পরগনা নয়, সারা বাংলায় এই প্রাচীন কালী মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রত, বহু মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে|দীপান্বিতা অমাবস্যার কালী পুজোয় বিরাট আকারে পুজোর আয়োজন হয় এখানে এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পুজো হয়|

আগামী ফল হারিনী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত একের পর এক এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখতে থাকবো পর্বে পর্বে|বাড়িতে থাকুন, পড়তে থাকুন|ইউটিউব চ্যানেলেও থাকবে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান|দেখতে ভুলবেন না|আর যারা ঘরে বসে জ্যোতিষ পরামর্শ চান, ভাগ্যগণনা চান, উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – রমনা কালী মন্দির

আর কিছুকাল পরেই ফল হারিনী অমাবস্যা|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি গুলির অন্যতম|এই সময় প্রতি বছর পেশাগত ব্যাস্ততা তুঙ্গে থাকে, এবছর ও ব্যাতিক্রম নয়, তবে কাজের ধরণ পাল্টেছে,এখন দিনের বেশি ভাগ সময় কাটে অনলাইনে,ফোনে বা ভিডিও কলে ভাগ্যগণনা করে|আর তার ফাঁকে যেটুকু অবসর তা পড়াশোনা, মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা পূজার্চনা এবং লেখা লেখি করেই কাটে|আজ লিখবো ওপার বাংলা তথা এই উপমহাদেশের সব থেকে জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির একটি, রমনা কালী মন্দির নিয়ে|

বাংলা দেশের ঢাকায় অবস্থিত রমনা কালী মন্দির যে ঠিক কতো পুরোনো এবং ঠিক কে ও কবে স্থাপন করেছিলেন তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল|এই মন্দির নতুন করে প্রচারে আসে ব্রিটিশ আমলে কারন ইংরেজ আমলে এই মন্দিরটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছিল|স্থানীয় অঞ্চলের নাম থেকেই মন্দিরের নামকরণ|

এই মন্দিরের সংগে দুটি নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, এক বদরীনাথের যোশীমঠ থেকে গোপালগিরি নামে এক উচ্চমার্গের সন্ন্যাসী ও দ্বিতীয় ভাওয়ালের ভক্তিমতী ও দানশীলা রানি বিলাসমণি দেবী|কথিত আছে ঢাকায় এসে সাধন ভজনের জন্য উপযুক্ত একটি আখড়া হিসাবে এই মন্দির গড়ে তোলেন।পরবর্তীতে তার অবর্তমানে তৎকালীন কালীমন্দিরটির সংস্কার করেন আর এক সাধু হরিচরণ গিরি|পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরের প্রধান সংস্কারকার্য ভাওয়ালের রানি বিলাসমণি দেবীর আমলেই হয় তিনি ছিলেন অত্যান্ত ভক্তিমতি ও দানশীলা|

এই মন্দিরের ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে বাংলা দেশের মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস|যুদ্ধে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই মন্দির|শোনা যায় এককালে একশো কুড়ি ফুট উচ্চতা ছিলো এই মন্দিরের চুড়ো যা বহু দূর থেকে দেখা যেতো|যুদ্ধের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই স্থাপত্য|পরবর্তীতে অবশ্য ভক্ত দের চেষ্টায় ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় মন্দির সংস্কার করে তার হৃত গৌরব ফিরিয়ে দেয়া হয়|

বর্তমানে জগৎ প্রসিদ্ধ কালী মূর্তি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, দুর্গা মন্দির ও রাধা মাধব মন্দির|মূল কালী মন্দিরে পাথরের বেদির ওপর বিরাজিত রয়েছে শ্রীশ্রী ভদ্রকালীর সুউচ্চ প্রতিমা|দেবীর রূপ চতুর্ভুজা তিনি মহাদেবের শয়ান মূর্তির ওপর দণ্ডায়মান এবং তার দু’পাশে রয়েছে ডাকিনী ও যোগিনী|

প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই এখানে বিশেষ পুজো হয় যা দেখতে ও দেবীর আশীর্বাদ নিতে আসেন দেশ বিদেশের বহু মানুষ|আজ বিদায় নিলাম|ফিরবো পরের পর্বে|যারা আমার সাথে জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বা বাস্তু বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শর জন্যে যোগাযোগ করছেন বা করতে চান উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শক্তিপীঠ – মেলাই চন্ডী

লেখা লেখি নিয়ে প্রায় নিয়মিত আপনাদের সামনে এলেও বহুদিন কোনো শক্তিপীঠ নিয়ে লেখা হয়নি,তাই আজ ঠিক করলাম বাংলারই একটি তথাকথিত কম জনপ্রিয় কিন্তু অত্যান্ত জাগ্রত ও তাৎপর্যপূর্ণ শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো, আজকের পর্বে বিতর্কিত শক্তি পীঠ মেলাই চন্ডী|

শুরুতেই এই শক্তিপীঠ কে বিতর্কিত বললাম তার
কারন এই পীঠ সর্বজন স্বীকৃত নয় অর্থাৎ পীঠ নির্ণয় তন্ত্রে এই পীঠকে শক্তিপীঠের মর্যাদা দেয়া হয়নি তবে অন্য কিছু প্রাচীন শাস্ত্রে মেলাই চন্ডীকে পীঠ হিসাবেই দেখানো হয়েছে|১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যে আমতার মেলাইচণ্ডীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

যারা বিশ্বাস করেন এটি শক্তিপীঠ তারা মনে করেন দেবী সতীর হাঁটুর মালাইচাকী পতিত হয়ে ছিলো এই স্থানে এবং সেই কারনেই এই পীঠ মালাই চন্ডী নামে পরিচিত|

আরেকটি ভিন্ন মত অনুসারে এই প্রাচীন দেবী মন্দির ও তার পুজো কে কেন্দ্র করে এক কালে বিরাট মেলা বসতো এই অঞ্চলে এবং দেবী এখানে চন্ডী রূপে পূজিতা তাই বহু মানুষের মিলন স্থল এই চন্ডী মন্দির লোক মুখে হয়ে ওঠে মেলাইচন্ডীর মন্দির|

প্রচলিত গল্প অনুসারে, দামোদর দিয়ে যেসব সওদাগর যাতায়াত করতেন, তাঁরাই মেলাইচণ্ডীকে স্থাপন করেন নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। পরে জটাধারী চক্রবর্তী নামের এক ব্রাহ্মণ স্বপ্নাদেশ পেয়ে জয়ন্তী গ্রাম থেকে প্রস্তররূপী দেবীকে আমতায় নিয়ে আসেন এবং দেবীকে স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে কলকাতার হাটখোলার নামকরা লবন ব্যবসায়ী কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত স্বপ্নাদেশ পেয়ে মেলাইচণ্ডী মন্দির নির্মাণ করে দেন|বর্তমানে যে মন্দির দেখা যায় ১৩০৯ সালে সেই মন্দিরের সংস্কার হয়েছে নব রূপে,মূল মন্দিরের মাঝখানে চাতাল ও উঁচু বেদিযুক্ত দুর্গা মণ্ডপ। একটু ঢুকে উপাসনা গৃহ|এই মন্দিরে দেবীর সম্পূর্ণ রূপ নেই। মুখ মন্ডল মালাইচাকির ওপর ভিত্তি করে তৈরি|দেবীর বাহু ও পদযুগল নেই|মূলত একটি গোলাকৃতি প্রস্তর খণ্ড এখানে পূজিতা হয়|এছাড়া বিশেষ বিশেষ তিথিতে ঘট হিসেবে দেবীকে পুজোর রীতিও রয়েছে|

প্রতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন মালাই চন্ডীতে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় এবং দুর্গোপুজার সময় এখানে মহোৎসব হয়। দেবী এখানে দুর্গা ও চণ্ডী উভয় রূপেই পুজিত হন। দেবীর সঙ্গে তার ভৈরবকেও পুজা করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|পুজো উপলক্ষে অসংখ্য মানুষের জমায়েত হয় এই পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গনে|

মা মালাই চন্ডী কে প্রনাম জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করলাম|আপাতত চেম্বারের ব্যাস্ততা নেই, অনলাইনেই জ্যোতিষ পরামর্শ দেয়া চলছে,তাই যেটুকু অবসর পাওয়া যায় তা কাজে লাগিয়ে আবার কোনো নতুন পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের সামনে|ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – মা ঝিংলেস্বরী

বাংলার প্রায় প্রতিটি জেলায় রয়েছে কিছু প্রাচীন কালী মন্দির যা নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অদ্ভুত সব কিংবদন্তি এবং অলৌকিক জনশ্রুতি, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা আপনাদের বলেছি, আজ বলবো পূর্ব মেদিনীপুরে অবস্থিত ঝিংলেস্বরী মায়ের মন্দিরের কথা|

পূর্ব মেদিনীপুরের ভবানীপুর নামক স্থানে রয়েছে এই প্রাচীন মন্দির যা কোনো শক্তি পীঠ না হয়েও স্থানীয়দের কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ|

কথিত আছে আগে এই স্থান দিয়ে বয়ে যেতো হলদি নদী, নদীতে যাতায়াত করতো বিরাট বিরাট জাহাজ, একবার এমনই একটি জাহাজ নোঙর ফেলেছিলো এই স্থানে|জাহাজের নাবিকরা যখন ধূমপান করতে ব্যাস্ত তখন হটাৎ একটি মেয়ের আবির্ভাব হয় সেখানে, মেয়েটি নাবিকদের কাছে আগুন চায়|নাবিকরা মেয়েটিকে আগুন নিতে জাহাজে আসতে বলে|মেয়েটির রহস্যময়ী ভাবে হেসে বলে সে জাহাজে উঠলে বিপর্যয় ঘটতে পারে|নাবিকরা ছোট্ট মেয়েটির কথায় গুরুত্ব না দিলে অবশেষে মেয়েটিকে জাহাজে উঠতে হয়|মেয়েটি জাহাজে পা দেয়ার সাথে সাথে জাহাজ বসে যায় এবং মাস্তলে দেখা যায় দেবী মূর্তি|

এই অলৌকিক ঘটনা আজও লোকের মুখে শোনা যায়|মানুষের বিশ্বাস ওই স্থানেই নির্মিত হয়েছে এই প্রাচীন ঝিংলেস্বরী মন্দির|দেবী সেদিন বালিকার বেশে নাবিক দের জাহাজে উঠেছিলেন|আজও তিনি ঝিংলেস্বরী রূপে সেই স্থানে স্বমহিমায় বিরাজমান|

প্রাচীন মন্দিরটি ঠিক কবে নির্মিত হয়েছিলো এবং কে নির্মাণ করেছিলেন তা সঠিক ভাবে জানা যায়না তবে পরবর্তীতে মহিষাদলের রাজা প্রচুর জমি দান করেন মন্দিরের উদ্দেশ্যে এবং মন্দিরের পূজার ভার অর্পণ করা হয় একটি বিশেষ পরিবারকে যে পরম্পরা আজও চলছে|দেবী এখানে উগ্রতারা রূপে বিরাজিতা|দূর্গা পুজো উপলক্ষে এখানে বহু মানুষের সমাগম হয় এবং নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়|

জানাবেন কেমন লাগছে আমার এই আধ্যাত্বিক লেখা লেখি|আগামী দিনে এমনই আরো কিছু প্রাচীন মন্দির ও দেবীর মহিমা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|বাড়িতে থাকুন, জ্যোতিষ পরামর্শ হোক বা প্রতিকার, বাড়িতে থেকেই সম্ভব|শুধু ফোন করে নেবেন উল্লেখিত নাম্বারে বাস কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

শুভ অক্ষয় তৃতীয়া

মূলত তিনটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে আজকের পবিত্র তিথি যাকে আমরা অক্ষয় তৃতীয়া রূপে পালন করে থাকি সারা দেশ জুড়ে|আজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আমি সেই তিনটি দিক একে একে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যার মধ্যে লুকিয়ে আছে এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য|

প্রথমেই বলতে হয় ধন ও সম্পদের দেবতা কুবেরের কথা|কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য আবার সম্পর্কে তিনি রাবনের দূরসম্পর্কের ভাই|তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|অবশ্য কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|
পুরাণ মতে, এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|শুধু হিন্দু ধর্ম নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ধন সম্পদের দেবতা হিসেবে পূজিত হন কুবের|

দ্বিতীয় যে কারনে অক্ষয় তৃতীয়া তাৎপর্যপূর্ণ তাহলো এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু হয়ে ছিলো ব্যসদেব এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|

তৃতীয়ত বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে। এই কারণে দেশের কোনও কোনও জায়গায় দিনটি ‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজ শুরু করা যেতে পারে আজকের দিনে|
আজকের দিনে সোনা রুপো বা মূল্যবান রত্ন ক্রয় করে গৃহে আনলে গৃহস্তের কল্যাণ হয় তাছাড়া আজ লক্ষী ও কুবেরের পুজোর মাধ্যমেও সৌভাগ্য লাভ করা যায়|যারা জ্যোতিষীর পরামর্শ বা প্রতিকার গ্রহণের কথা ভাবছেন তাদের জন্যেও এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|শুভ হোক আপনাদের অক্ষয় তৃতীয়া|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিব মন্দির

আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো|এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী ও অলৌকিক ঘটনা|

প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|

একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|

এক্তেশ্বরে পাথরের শিব মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটি পশ্চিমমুখী|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি নাকি দেখতে অনেকটা মানুষের পায়ের মতো এবং শিব লিঙ্গটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া নামের উৎপত্তি|

শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|আজও ফাল্গুন মাসে, শিব চতুর্দশী তিথিতে এক্তেশ্বর মন্দিরে শিবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|

আবার অন্য কোনো পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|মনে রাখবেন আপাতত চেম্বারের তুলনায় অনলাইনে সময় দিচ্ছি বেশি তাই যারা কাছে আসতে চাইছেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ নিয়ে অনুগ্রহ করে ফোন করে নেবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার কালী – জহুরা কালী মন্দির

আপাতত চেম্বারে বসা কমিয়ে আবার অনলাইন পরিষেবায় মননিবেশ করতে হয়েছে কিছুটা পরিস্থিতির চাপে, তাই কিছুটা অবসর মিলে গেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে, তাই এই সুযোগে জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দির ও তাদের নিয়ে জানা অজানা কিছু কথা নতুন ভাবে বলবো বলেই এই ধারাবাহিক লেখার সূত্রপাত, আজ বৈশাখী অমাবস্যার দিনে বাংলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির জহুরা কালীর মন্দির নিয়ে লিখবো|

উত্তরবঙ্গের মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে এই প্রাচীন জহুরা কালীমন্দির|দেবীর কেনো এই বিচিত্র নাম হলো সে নিয়েও আছে এক রহস্যময় তত্ব|শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাত রাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’। দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত|

অবশ্য এই মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং কিভাবে পুজো শুরু হলো ও পরবর্তীতে মন্দির স্থাপিত হলো তানিয়ে একাধিক মতামত রয়েছে|কিছু ইতিহাস বিদ মনে করেন এই দেবীর পুজোর সূচনা হয়েছিলো সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে আবার মন্দিরের গায়ে যে পাথরের ফলক আছে, তা থেকে অনুমান করা যায়,আজ থেকে তিনশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কোনো এক মাতৃ সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবী জহরা চণ্ডীর বেদি স্থাপন করেছিলেন|

কথিত আছে এক কালে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা|
বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|এখানে বৈশাখ মাসের মঙ্গল ও শনিবার থাকে বিশেষ পুজোর আয়োজন|উল্লেখযোগ্য বিষয় অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো এখানে হয় না পুজো হয় দিনে|

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে|আপনারও আগামী দিনে সুযোগ বুঝে অবশ্যই দর্শন করবেন দেবীর মন্দির|আজ লেখা এখনেই শেষ করলাম|বাড়িতে থাকুন যতটা সম্ভব জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে ফোন করবেন উল্লেখিত নাম্বারে তাহলেই হবে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রসবোধ

আজ পঁচিশে বৈশাখ, সাধারণত এই দিনটায় আমরা বাঙালিরা গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করে থাকি অর্থাৎ কবি গুরুর গান , কবিতা, নাটক ও তার অন্যান্য সৃষ্টির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করি|গত বছর থেকে অবশ্য ছবিটা অনেকটাই আলাদা,প্রান ঘাতী ভাইরাসের তান্ডবে আমরা সবাই কম বেশি ঘর বন্দী তাই জোট বেঁধে উৎসব করে পঁচিশে বৈশাখ পালন সম্ভব নয়|কিন্তু এই দিনটা আলাদা আজ কবিগুরুকে আমার আমাদের মতো করে স্মরণ করবো শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবো|গতকাল আমার আবৃতি করা দেবতার গ্রাস মুক্তি পেয়েছে আমার ইউটিউবে|আপনাদের প্রশংসাও পেয়েছি|আজ এই লেখার মাধ্যমে কবি গুরুর জীবনের একটি বিশেষ দিক, তার রসবোধ নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও মজার তথ্য আপনাদের সামনে রাখবো|

রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যের এক বিশাল জায়গাজুড়েই রয়েছে হাস্য-কৌতুক। তবে শুধু সাহিত্যেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন হাস্যরসের নিপুণ কারিগর, একজন যথার্থ রসিক মানুষ|কবির জীবন কথায় , প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানিতে এবং রবীন্দ্র গবেষকদের কলমে একাধিক বার উঠে এসেছে রসিক রবীন্দ্রনাথের একাধিক কান্ড কারখানা|

একবার চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় গেছেন শিলাইদহে জমিদার রবীন্দ্রনাথের কাছে লেখা আনতে। চারুচন্দ্র তখন ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ তখন অবস্থান করছিলেন পদ্মার ওপারে বজরায়। নদীর ঘাট থেকে বজরা পর্যন্ত একটা তক্তার সাঁকো পেতে দেয়া হয়েছে।
চারুচন্দ্র পা টিপে টিপে নৌকায় উঠে আসছেন। বজরার ছাদ থেকে এ দৃশ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ সাবধান করলেন চারুকে, ‘সাবধানে পা ফেলো। এ জোড়াসাঁকো নয়!’ তার এই মন্তব্য শুনে আশপাশের সবাই হেসে উঠে ছিলেন|

আরেকবারের ঘটনা, গুরুদেব তখন শান্তি নিকেতনে,শান্তিনিকেতনের ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলছে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ছেলেরা। খেলা শেষে দেখা গেল শান্তিনিকেতনের ছেলেরা আট গোলে জিতেছে। তারাতো মহাখুশি। জানাতে গেল গুরুদেবকে। গুরুদেবও খুশি। মজা করে বললেন ‘জিতেছো ভাল। তাই বলে আট গোল দিতে হবে? ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে।’

রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজির ছিলো অত্যান্ত স্নেহের সম্পর্ক|রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব নাম গান্ধীজিই দিয়েছিলেন|একবার রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজী একসঙ্গে বসে সকালের নাশতা করছিলেন। গান্ধীজীকে দেওয়া হয়েছিল ওটসের পরিজ। কারণ গান্ধীজী লুচি পছন্দ করতেন না। তবে রবীন্দ্রনাথ খাচ্ছিলেন গরম গরম লুচি। গান্ধীজী তাই দেখে বলে উঠলেন, ‘গুরুদেব, তুমি জানো না যে তুমি বিষ খাচ্ছো।’ উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘বিষই হবে; তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে। কারণ, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খাচ্ছি।’শুনে হেসে ফেললেন গান্ধীজি|

ব্যাক্তিগত জীবনে হাসিঠাট্টা করতে খুবই ভালো বাসতেন রবীন্দ্রনাথ যেমন একবার এক ভদ্রলোককে বললেন রবীন্দ্রনাথ, ‘আপনাকে আমি দণ্ড দেব।’ভীষণ বিব্রত হয়ে ভদ্রলোক জানতে চাইলেন, ‘কেন, আমি কি অপরাধ করেছি?’
রবীন্দ্রনাথ লোকটির বিব্রতভাব বুঝতে পেরে হাসি হাসি মুডে বললেন, ‘গতকাল আপনার লাঠি মানে দন্ডটি আমার এখানে ফেলে গিয়েছিলেন। এই নিন আপনার দণ্ড!’ বলে তার দিকে লাঠিটা বাড়িয়ে দিলেন|

আরেকটি মজার ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায় যা ঘটেছিলো কবির জাপান যাত্রার সময়ে ,এক
এক ভক্তগৃহে রবীন্দ্রনাথের নিমন্ত্রন ছিল। খেতে গিয়ে বুঝতে পারলেন তাঁরা যে ডিম দিয়েছেন তা পঁচা।এ নাকি জাপানের বিখ্যাত খাদ্য রবীন্দ্রনাথের সঙ্গিরা বিরক্ত। এ কেমন নিমন্ত্রন! কিন্তু সবাই দেখলেন রবীন্দ্রনাথের প্লেটে ডিম নেই। তিনি পঁচা ডিম খেয়ে ফেলেছেন! বাড়ি ফেরার পথে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, গুরুদেব আস্ত একটা পঁচা ডিম আপনি কিভাবে খেয়ে ফেললেন? সবাইকে অবাক করে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বললেন “আরে খাইনি তো। দাড়ির ভিতর দিয়ে জোব্বার মধ্যে চালান করে বাম হাতে নিয়ে পকেটে রেখে দিয়েছি। এই যে সাথে করে নিয়ে এসেছি”

নবাগত কবি দের সাথে কবিগুরুর বিশেষ আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো, অনেক তরুণ কবিই আসতেন কবিতা শোনাতে, অনেকেই চিঠি লিখতেন, একবার এক তরুণ কবি রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে তার কবিতার এক লাইন পাঠালেন –
“কপালটা ভিজে যাবে দুই নয়নের জলে…” কবিতার এই চরণটি কেমন হয়েছে জানতে চাইলেন|কিন্তু রবীন্দ্রনাথ উত্তর দেন না।
একবার, দুইবার, তিনবার! শেষে কবি বিরক্ত হয়ে একটু কটুভাষায় রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখলেন। শেষমেশ রবীন্দ্রনাথ বিরক্ত হয়ে উত্তর দিলেন;-
” পা দুটো বেঁধে রেখো তাল তমালের ডালে,
কপালটা ভিজে যাবে দুই নয়নের জলে।”

এমনই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ|এমনই ছিলো তার রসবোধ যা নিয়ে লিখতে বসলে পাতার পর পাতা লিখলেও ঘটনা শেষ করা যায়না|তবুও কিছু ঘটনা আজ তুলে ধরলাম যা আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে|গুরুদেবকে তার জন্মদিনে প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – ত্রিযুগী নারায়ণ মন্দির

নমস্কার, মন্দির রহস্যর আজকের পর্বে আপনাদের স্বাগত|আমাদের এই দেশে এমন হাজারটা মন্দির আছে যা অপার রহস্য ও মহিমায় ভরা। তার মধ্যে থেকে বেশ কিছু মন্দির পুরানের পাতা থেকে খুব বেশি প্রকাশ্যে উঠে আসেনি জনমানসে|এমনই কিছু রহস্যময় প্রাচীন মন্দির নিয়ে লিখছি এই ধারাবাহিকে, আজ উত্তরা খন্ডের ত্রিযুগী নারায়ণ মন্দির|

এই মন্দির সবথেকে বেশি যে কারনে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো এই মন্দির শিব ও পার্বতীর বিবাহের স্থান, হ্যাঁ শাস্ত্র মতে এইখানেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে ছিলেন পার্বতী ও দেবাদিদেব মহাদেব|মন্দিরে ঢোকার মুখেই রয়েছে বহ্মশিলা। ঠিক এই স্থানেই তাদের বিয়ে হয় বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন।মন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে একটি অনন্ত কাল ধরে জ্বলতে থাকা দীপ। মনে করা হয় এই দ্বীপকে সাক্ষী মেনেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শিব-পার্বতী।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৯৮০ মিটার উঁচুতে,উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় রয়েছে এই ত্রিযুগী নারায়ণ মন্দির|এই মন্দিরের নির্মাণ শৈলী এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে|মন্দির প্রাঙ্গণে চারটি পুকুর রয়েছে|অভ্যন্তরে রয়েছে শিব-পার্বতীর মূর্তি|এছাড়া এই মন্দিরে রয়েছে ভগবান বিষ্ণুর রুপোর একটি মূর্তি। সঙ্গে দেখতে পাবেন লক্ষ্মী, সীতা, রাম ও কুবেরের মূর্তিও|

যুগ যুগ থেকে বিবাহিত দম্পতিরা ছুটে আসেন এই মন্দিরে,তাদের বিশ্বাস এই মন্দিরে পুজো দিলে ও শিব এবং পরবর্তীর আশীর্বাদ পেলে তাদের জীবনের সব সমস্যা মিটে যাবে এবং সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে|আপনারাও চাইলে সময় সুযোগ বুঝে ঘুরে আসতে পারেন|আপাতত প্রয়োজন ছাড়া বেরোবেন না|সুস্থ থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে অনলাইন সমাধান পেতে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|
ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার কালী – বাঘ রুপী কালী

কলকাতা ও পার্শবর্তী জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা আগেই লিখেছি, লিখেছি সেই সব মন্দিরের সেহে জড়িত অনেক অলৌকিক ঘটনা|এই পরম্পরাকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো এই বাংলার কালী শীর্ষক ধারাবাহিক লেখার মাধ্যমে|লিখবো গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু জাগ্রত কালী মন্দির ও তাদের অজানা কথা|আজকের পর্বে কান্দির ব্যাঘ্ররুপী কালীর মন্দির|

নামটি শুনতে অবাক লাগতে পারে তবে প্রায় হাজার বছর ধরে মুর্শিদাবাদের কান্দির দোহালিয় গ্রামে পুজো হয়ে আসছে ব্যাঘ্ররূপী দক্ষিণাকালীর। এই মন্দির ও দেবীর রূপ নিয়ে রয়েছে অনেক গুলি জনশ্রুতি|

কথিত আছে অন্য এক অন্ধ পরিব্রাজক সাধক এই কালী মন্দিরের গাছের তলায় তপ্যসা করছিলেন। তাঁর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে দক্ষিণাকালী তাঁকে দেখা দেন। সেই সঙ্গে দক্ষিণাকালীর আশীর্বাদে পরিব্রাজক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান এবং লোক মুখে ছড়িয়ে পরে এই কালী মন্দিরের নাম|

কালী পুজোকে কেন্দ্র করে একটি অদ্ভুত প্রথা রয়েছে এখানে,কালীপুজোর রাতে দোহালিয়া গ্রামে অন্য কোনও পুজো হয় না। গ্রামের এই একটি মন্দিরেই কেবল পুজো হয়|এখানে মা কালী বাঘ রূপে বিরাজিতা।

আগে এই গোটা এলাকা জঙ্গল ছিল। তার মধ্যেই ছিল মন্দিরটি,শোনা যায় বল্লাল সেনের আমলে এখানে এক সন্ন্যাসী ধ্যান ভঙ্গ হওয়ার পর দক্ষিণাকালীর এই মূর্তি দেখতে পান। সেই থেকে এখানে পুজো চলে আসছে ব্যাঘ্ররুপী মা কালীর|

আজও কতইনা না রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলার অসংখ্য প্রাচীন কালী মন্দিরগুলিতে|ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো রহস্যময় কালী মন্দির নিয়ে|পরুন, অনুষ্ঠান দেখুন|নিরাপদে থাকুন আর প্রয়োজনে অবশ্যই যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|