বাংলার কালী – গোকনা কালী মন্দির

182

আর কিছুদিন পরেই ফলহারিনী অমাবস্যা,কালী সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়|তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতেও এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|এই আসন্ন অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত আরো কিছু প্রসিদ্ধ ও জাগ্রত কালী মন্দিরের জানা অজানা নানান ঐতিহাসিক কাহিনী আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ঠিক করেছি একেকটি পর্বে|আজ উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে অবস্থিত গোকনা কালী মন্দির ও মা ভবানীর কথা লিখবো|

এখানে দেবী কালী কে মা ভবানী রূপে পুজো করা হয় এবং পুজো চলে আসছে আনুমানিক পাঁচশো বছর ধরে|এক কালে এই অঞ্চলে ছিল ডাকাতের রাজত্ব, অরণ্যে ঢাকা এই অঞ্চলে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো নাকি ঠিক মতো প্রবেশ করতো না|
কথিত আছে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা ভবানী’র কাছে প্রার্থনা করত দস্যুরা|

এক কালে মাটির মন্দিরে মা ভবানী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কথিত আছে যে, ধান্যকুড়িয়ার জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইনের ছেলে মরণাপন্ন হলে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই মন্দিরে আসেন ও ছেলের প্রান ভিক্ষা করেন, মায়ের আশীর্বাদে জমিদারের ছেলে পুনর্জীবন লাভ করেন। এর ফলে জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইন পাকা গাঁথুনির মন্দির নির্মাণ করে দেন|মায়ের কৃষ্ণ বর্ণের পাথরের মূর্তি চতুর্দোলায় করে আনানো হয় কাশি থেকে|

মন্দিরের পেছনে রয়েছে একটি প্রাচীন পুকুর, শোনা যায় ডাকাতরা এই মন্দিরের পেছনের পুকুরে ডুব দিয়ে মা ভবানীর পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে যেত এক কালে|মূল মন্দিরে মা ভবানীর
সাথে শিলা খণ্ড রূপে পূজিত হন বৈদ্যনাথ, মানেশ্বর ও পঞ্চানন|অলৌকিক ভাবে এক গ্রামবাসীর চাষ জমিতে লাঙ্গলের ফলায় মাটি খুঁড়তেই পাওয়া যাওয়া এই তিনটি শিলাখণ্ড তারপর তাদের মন্দিরে এনে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়|

শুধু উত্তর চব্বিশ পরগনা নয়, সারা বাংলায় এই প্রাচীন কালী মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রত, বহু মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে|দীপান্বিতা অমাবস্যার কালী পুজোয় বিরাট আকারে পুজোর আয়োজন হয় এখানে এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পুজো হয়|

আগামী ফল হারিনী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত একের পর এক এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখতে থাকবো পর্বে পর্বে|বাড়িতে থাকুন, পড়তে থাকুন|ইউটিউব চ্যানেলেও থাকবে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান|দেখতে ভুলবেন না|আর যারা ঘরে বসে জ্যোতিষ পরামর্শ চান, ভাগ্যগণনা চান, উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|