বাংলার কালী – জহুরা কালী মন্দির

296

আপাতত চেম্বারে বসা কমিয়ে আবার অনলাইন পরিষেবায় মননিবেশ করতে হয়েছে কিছুটা পরিস্থিতির চাপে, তাই কিছুটা অবসর মিলে গেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে, তাই এই সুযোগে জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দির ও তাদের নিয়ে জানা অজানা কিছু কথা নতুন ভাবে বলবো বলেই এই ধারাবাহিক লেখার সূত্রপাত, আজ বৈশাখী অমাবস্যার দিনে বাংলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির জহুরা কালীর মন্দির নিয়ে লিখবো|

উত্তরবঙ্গের মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে এই প্রাচীন জহুরা কালীমন্দির|দেবীর কেনো এই বিচিত্র নাম হলো সে নিয়েও আছে এক রহস্যময় তত্ব|শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাত রাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’। দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত|

অবশ্য এই মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং কিভাবে পুজো শুরু হলো ও পরবর্তীতে মন্দির স্থাপিত হলো তানিয়ে একাধিক মতামত রয়েছে|কিছু ইতিহাস বিদ মনে করেন এই দেবীর পুজোর সূচনা হয়েছিলো সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে আবার মন্দিরের গায়ে যে পাথরের ফলক আছে, তা থেকে অনুমান করা যায়,আজ থেকে তিনশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কোনো এক মাতৃ সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবী জহরা চণ্ডীর বেদি স্থাপন করেছিলেন|

কথিত আছে এক কালে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা|
বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|এখানে বৈশাখ মাসের মঙ্গল ও শনিবার থাকে বিশেষ পুজোর আয়োজন|উল্লেখযোগ্য বিষয় অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো এখানে হয় না পুজো হয় দিনে|

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে|আপনারও আগামী দিনে সুযোগ বুঝে অবশ্যই দর্শন করবেন দেবীর মন্দির|আজ লেখা এখনেই শেষ করলাম|বাড়িতে থাকুন যতটা সম্ভব জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে ফোন করবেন উল্লেখিত নাম্বারে তাহলেই হবে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|