Home Blog Page 160

হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা

আগামী কাল ফলহারিনী অমাবস্যা, ফলহারিণী অমাবস্যা তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন।জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন। ধরিত্রীজাত ফলের সঙ্গে এই মাতৃপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এই ফল মানবজাতির কর্মফলের কথা স্মরণ করায়।দিনটিতে মা স্বয়ং ভক্তদের সুকর্মের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন। অপরদিকে সন্তানের কুকর্মের জন্য উদ্ভূত অশুভ ফলের প্রভাব থেকে তিনিই আবার সন্তানদের মুক্ত করেন। অর্থাৎ ওই দিনে মা স্বয়ং যেমন সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন, তেমনি তিনি সন্তানদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন। এই তিথিতে যেকোনো গ্রহ দোষ খণ্ডন বা প্রতিকার ধারন অনেক বেশি কার্যকরী হয় বলে শাস্ত্রে বর্ণিত আছে|

কয়েক বছর আগে এমনই এক ফল হারিনী অমাবস্যার পুন্য সময়ে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিলো সর্ব সাধারণের জন্যে, যদিও আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সেবক এবং উপাসক হিসেবে মা সর্বমঙ্গলা পুজোয় নিয়োজিত রয়েছি, আপনারা জানেন আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক ঘটনা থেকেই, দেবী সর্বমঙ্গলার আগমন এবং পরবর্তীতে হৃদয়েশ্বরী দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির প্রতিষ্ঠা|শুরুর দিন থেকেই অসংখ্য মানুষ যুক্ত হয়েছেন এই আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডের সাথে, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সমর্থক করেছেন নানা ভাবে|বর্তমান পরিস্থিতিতে শারীরিক সম্ভব না হলেও মানসিক ভাবে লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ পাশে থেকেছেন|প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দেবীকে দর্শন করেছেন, পূজা দিয়েছেন|

আপনারা হয়তো জানেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার যেমন রত্ন বা কবজ ধারনের মাধ্যমে হয় তেমনি সঠিক পদ্ধতিতে মন্ত্র উচ্চারণ পূজা পাঠ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের মাধ্যমেও হয়|আর এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত কার্যকর হয় প্রতিকার|এই প্রতিকারে জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরে|বিশেষ তিথি তে হবে বিশেষ পুজো,যজ্ঞ আহুতি দান ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন|সবই হবে প্রয়োজন অনুসারে|সামনেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তিথি যার মধ্যে অন্যতম ফলহারিনী অমাবস্যা|আসুন এই সময় কে কাজে লাগান| আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে মা সর্বমঙ্গলার আশীর্বাদে জীবনের সব বাঁধা দুর করে সাফল্য লাভ করুন|

যারা জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করেছেন তাদের অনেকেরই শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন করে প্রতিকারের ব্যবস্থা হয়েছে এই মন্দিরে, প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা সাক্ষী থেকেছেন সেই বিরল মুহূর্তের|সাফল্য এসেছে, এসেছে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা|আমিও ধন্য হয়েছি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে, তাদের জীবনের সমস্যা দুর করতে পেরে|এই পদ্ধতিতে মানুষের পাশে থাকা এই ভাবে চলতে থাকবেন আগামী দিনেও|জীবনে হতাশ হবেননা, আস্থা হারাবেননা, এগিয়ে চলুন, বাকিটা ছেড়ে দিন মা সর্ব মঙ্গলার উপর|তিনি মঙ্গল করেন সবার, দুর করেন দুঃক্ষ কষ্ট|

আপনারা হয়তো জানেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার যেমন রত্ন বা কবজ ধারনের মাধ্যমে হয় তেমনি সঠিক পদ্ধতিতে মন্ত্র উচ্চারণ পূজা পাঠ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের মাধ্যমেও হয়|আর এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত কার্যকর হয় প্রতিকার|এই প্রতিকারে জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরে|বিশেষ তিথি তে হবে বিশেষ পুজো,যজ্ঞ আহুতি দান ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন|সবই হবে প্রয়োজন অনুসারে|সামনেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তিথি যার মধ্যে অন্যতম ফলহারিনী অমাবস্যা|আসুন এই সময় কে কাজে লাগান| আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে মা সর্বমঙ্গলার আশীর্বাদে জীবনের সব বাঁধা দুর করে সাফল্য লাভ করুন|

আমাদের দেশে প্রাচীনতম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় সর্ব মঙ্গলা মন্দির অবস্থিত বর্ধমানে|যাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু অলৌকিক লোককাহিনী বা কিংবদন্তী|কথিত আছে, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে শহর বর্ধমানের উত্তরাংশে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাগদিরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি শিলামূর্তি পেয়েছিল। সেটিকে প্রস্তর খণ্ড ভেবে তার উপরে শামুক–গুগলি থেঁতো করতো। পরবর্তীতে বর্ধমান মহারাজা সঙ্গম রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে শিলামূর্তিটিকে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন।যদিও এই নিয়ে কিঞ্চিৎ মতপার্থক্য রয়েছে| পরবর্তীকালে ১৭০২ সালে টেরাকোটার নিপুণ কারুকার্য খচিত সর্বমঙ্গলা মন্দির নির্মাণ করেন মহারাজাধিরাজ কীর্তিচাঁদ মহতাব|মন্দিরের তুলনায় দেবী মূর্তি বহু প্রাচীন|কারুর কারুর মতে দেবী মূর্তি হাজার বা দুহাজার বছরের পুরোনো|পরবর্তীতে শেষ যুবরাজ উদয়চাঁদ মহতাব ট্রাস্ট কমিটি গঠন করেন এবং প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পরম্পরা আজও চলে আসছে একি নিষ্ঠা ও ভক্তির সাথে|

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দেবী সর্বমঙ্গলা মূলত বাংলার লৌকিক দেবতা হলেও অনেকেই
মন্দিরটিকে শক্তিপীঠ বলেন|সেই মতে এখানে দেবীর নাভি পরেছিল।দেবী সর্বমঙ্গলার ভৈরব এখানে মহাদেব|সর্বমঙ্গলা দেবীর মুল মূর্তিটি কষ্টি পাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী ‘মহিষমর্দিনী’ মহালক্ষীরূপিণী|কষ্টি পাথরে নির্মিত হওয়ায় দেবী মূর্তি স্বাভাবিক ভাবেই ঘোর কৃষ্ণবর্ণের|তাছাড়া তিনি আদ্যা শক্তি মহামায়ার রূপ বিশেষ তাই করল বদনা হওয়াটাই স্বাভাবিক|

আমার গৃহমন্দিরে স্থাপিত হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার রূপ সৃষ্টির খেত্রে তার আদি ও প্রাচীনতম প্রচলিত রূপকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে|দেবী করাল বদনা এবং আদ্যা শক্তি মহা মায়ার একটি রূপ বিশেষ তিনি দূর্গা ও কালীর সম্মিলিত রূপ|এই ফল হারিনী অমাবস্যায় দেবী ফলহারিনী রূপে বিরাজ করেন ও কর্মফল থেকে মুক্তি দিয়ে তার ভক্তদের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন|

প্রতিটা বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পূজা, হোম যজ্ঞ, চণ্ডী পাঠ ও প্রসাদ বিতরনের সু ব্যবস্থা থাকে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে|শাস্ত্র মতে হয় গ্রহ দোষ খণ্ডন|এবারও এই ফলহারিনী অমাবস্যায় একি রকম ব্যবস্থা থাকছে মন্দিরে|আপনাদের এই মন্দির, আপনাদের এই আধ্যাত্মিক কর্মযজ্ঞ আপনাদেরকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে|আমি পাশে থাকবো আর সবার উপরে থাকবেন মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা|ভালো থাকুন|নমস্কার| 

ফলহারিনী অমাবস্যা ও জ্যোতিষ শাস্ত্র

আগামী 9 তারিখ অর্থাৎ বুধবার,ফল হারিনী অমাবস্যা, এবারও আপনাদের সবাইকে মাহৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়েছে, প্রথমেই আমার সব পাঠক ও অনুরাগীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখি এই বিশেষ পুজো ও হোমযজ্ঞ অনুষ্ঠানে|মহামারী সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও লকডাউন চলার জন্যে এবার জনসমাগম হবেনা, কিন্তু শাস্ত্র মতে পুজোপাঠে কোনো ত্রুটি হবে না, প্রতি বারের ন্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন ও থাকছে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে আপনারা সমগ্র পুজো পক্রিয়া ঘরে বসে দেখতে পারবেন ও অংশ নিতে পারবেন, গ্রহদোষ খণ্ডন ও করাতে পারবেন বাড়িতে বসেই|এই সংক্রান্ত সব তথ্য মন্দিরের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে নিয়মিত দেয়া থাকবে|

এবার এই তিথির আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় তাৎপর্য সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক|
জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়।মানুষ সারা জীবন কর্ম করে যান। কিন্তু মনে করা হয়, এই কর্মসমূহের ফল দান করেন দেবী কালিকা|ফলহারিণী কালী পুজোর দিন মা কালী স্বয়ং তাঁর সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন এবং সেই সঙ্গে তাঁদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন, একদিকে ফলহারিণী রূপে তিনি সাধকের কর্মফল হরণ করেন। অন্য দিকে তাদের অভীষ্টফল, মোক্ষফল প্রদান করেন|
স্বাভাবিক ভাবেই এই তিথিতে দেবীকে পুজো করে তার কৃপা লাভ করলে জীবনের সব দুক্ষ, কষ্ট ও পাপ দূর হয়|

জ্যোতিষ শাস্ত্রে যতরকম প্রতিকারের কথায় উল্লেখ আছে তার মধ্যে শাস্ত্র মতে পুজো পাঠ ও মন্ত্র উচ্চারনের মধ্যে দিয়ে গ্রহদোষ খণ্ডনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে|এক্ষেত্রে তিথি খুব গুরুত্বপূর্ণ|সঠিক তিথিতে করা শাস্ত্রীয় মতে দোষ খণ্ডন সবথেকে বেশি প্রভাব শালী হয়, এবং এই তিথি গুলির মধ্যে ফলহারিনী অমাবস্যা কে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হিসেবে দেখা হয়|

বিগত বছর থেকে কৌশিকী অমাবস্যা, ফলহারিনী অমাবস্যা দীপান্বিতা অমাবস্যা সহ প্রায় প্রতিটি তিথিতেই আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়ে আসছে, অসংখ্য মানুষ ইতিমধ্যে অংশ নিয়েছেন, নিজেদের গ্রহ দোষ খণ্ডন করিয়েছেন|মা সর্বমঙ্গলার একজন উপাসক ও সেবক হিসেবে আমি শুধু উপস্থিতি থেকেছি এবং মাধ্যম হিসেবে কাজ করে গেছি|আসন্ন ফলহারিনী অমাবস্যাতেও একি ভাবে থাকবো|যারা ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তাদের ধন্যবাদ|যারা এখনো যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি কিন্তু ইচ্ছে আছে তারা উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন যেকোনো সময়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ফলহারিণী অমাবস্যা ও মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা

মানব জীবনে জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহদোষ রয়েছে। অর্থাৎ কিছু শুভ গ্রহ এবং কিছু অশুভ গ্রহের গ্রহগত সংযোগ ও তার কুপ্রভাব দেখা যায় এবং সেই প্রভাব আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় যদি না সঠিক সময়ে শাস্ত্র সম্মত ভাবে সেই গ্রহ দোষ খণ্ডন হয় । সমস্যা থাকলে সমাধানও রয়েছে, তবে এই গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সময় ও পদ্ধতি|

তন্ত্র মতে বা শাস্ত্র সম্মত ভাবে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে যে বিশেষ অমাবস্যা তিথি গুলি রয়েছে তার মধ্যে দীপান্বিতা অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা বা মৌনী অমাবস্যার থেকেও কিছুটা এগিয়ে থাকে ফল হারিনী অমাবস্যা কারন এই অমাবস্যার অর্থাৎই হলো জন্ম জন্মান্তরের পাপের ফল থেকে মুক্তি লাভ|শাস্ত্র মতে এই সময়ে করা যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপাচারের ফলে দেবী কালীর কৃপা সহজেই লাভ করা যায় এবং তিনি সমস্ত গ্রুহ গত কুপ্রভাব ও তার খারাপ ফল হরণ করে নেন, তাই এই অমাবস্যা ফলহারিনী নামে পরিচিত|

এই অমাবস্যার অন্য একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে, দক্ষিনেশ্বরে রামকৃষ্ণদেব ফলহারিণী কালী পুজোর দিনই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। এদিন শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন বলে আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামেও পরিচিত|

একটা সময় ছিলো যখন এই বিশেষ অমাবস্যায় কামাখ্যা, তারাপীঠ সহ একাধিক স্থানে তান্ত্রিক জ্যোতিষীরা উপস্থিত হয়ে বিশেষ পুজো,হোম যজ্ঞর মাধ্যমে বহু মানুষের গ্রহগত দোষ খণ্ডন করতেন|বর্তমানে সেই সুযোগ আর নেই তবে মানুষের সমস্যা আছে এবং তার সমাধানের পথ ও আছে, বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমলঙ্গলা মায়ের মন্দিরে বিশেষ হোম যজ্ঞ, ও পূজা পাঠের মাধ্যমে শাস্ত্র মতে গ্রহগত দোষ খণ্ডন হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং মন্দিরের ওয়েবসাইট কে ব্যবহার করে লখ্য লখ্য মানুষ ও মায়ের ভক্তরা দূর থেকেই এই বিশেষ পুজোয় অংশ নিয়েছেন ও মায়ের কৃপায় জীবনের সমস্যাথেকে মুক্তি লাভ করেছেন|

আগামী 9 ই জুন ফলহারিনী অমাবস্যা, এবছর প্রথা মেনে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন করা হয়েছে, আমি থাকবো নিমিত্ত হিসেবে বাকিটা মায়ের কৃপা ও আপনাদের আস্থা এবং শ্রদ্ধা|কিভাবে অংশগ্রহণ করবেন, এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন বা নিজেদের গ্রহদোষ খণ্ডন করাবেন জানতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার কালী – বুড়িমা

ফলহারিনী অমাবস্যা যত এগিয়ে আসছে, পেশা গত ব্যাস্ততা ততো বাড়ছে, সেটাই স্বাভাবিক কারন বহু মানুষ এখন থেকেই এই অমাবস্যা তিথীতে নিজেদের গ্রহদোষ খণ্ডনের জন্যে যোগাযোগ করছেন , অন্যদিকে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞর আয়োজন এখন থেকেই প্রায় শুরু হয়ে গেছে|এতো কিছুর মাঝে আজ আরো একটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত|আজকের পর্বে বালুরঘাটের বুড়িমা|

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির,ভক্তরা কেউ কেউ এখানে দেবীকে বুড়ামা বা বুড়ি মা কালী বলেও ডাকেন। অনেকে বলেন সতীর একান্ন পীঠের একটা গুপ্ত পীঠ হলো বালুরঘাটের এই বুড়িমা কালী মন্দির।
মাটির কোনও প্রতিমা নয় দেবী এখানে স্বয়ংভূ। কালো প্রস্তর খণ্ডকেই এখানে মা রূপে পুজো করা হয়ে থাকে।

মন্দির সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা, কথিত আছে, বহু বছর আগে জনৈক এক বাসিন্দার গাভী হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরেও সেটিকে পাওয়া যায় না। পরে বৃদ্ধারূপী মা কালী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নির্দেশ দেন আত্রেয়ী নদী পাড়ের জঙ্গলে গিয়ে খুঁজতে। তাঁর দেখানো দিক-নির্দেশ অনুযায়ী সেই ব্য়ক্তি যান। গিয়ে দেখেন, জঙ্গলের ভিতর বালির মধ্যে পড়ে থাকা একটি পাথরের খণ্ডকে গরুটি নিজে থেকে দুধ ঝরিয়ে স্নান করিয়ে দিচ্ছে। এর পরেই তিনি পাথরটি স্বযত্নে এনে আত্রেয়ীর পাড়েই সেটিকে প্রতিষ্ঠা করে মা বুড়িমা কালীর পুজো শুরু করেন।

কয়েকশো বছর ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা বুড়িমা কালী। ৩৬৫ দিন সকাল সন্ধ্যে দেবীর পূজা হলেও মূল পূজা কার্তিকী অমাবস্যার রাতেই হয়ে থাকে। কার্তিকী অমাবস্যার রাতে বুড়ামা কালী মন্দিরে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই উপলক্ষে দেবীকে সোনার গহনা দিয়েই সাজানো হয় এবং রুপো-চাঁদির বাসনে পুজোর ভোগ নিবেদন করা হয়|

সারাবছরই আমি আপনাদের সামনের বিভিন্ন কালী মন্দির ও কালী পুজো নিয়ে নানা তথ্য নিয়ে আসি,তাই এই ফল হারিনী অমাবস্যার পবিত্র সময়েও সেই পরম্পরা বজায় থাকবে|যারা আমার পোস্টে কমেন্ট করে আসন্ন অমাবস্যার বিশেষ পুজো, গ্রহদোষ খণ্ডন বা কোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করছেন তাদের জানিয়ে রাখি পেশাগত ভাবে আমি সর্বদা এই কাজে লিপ্ত আছি, বিস্তারিত জানতে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করে নেবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – মা সিদ্ধেশ্বরী

প্রতিবছর এই সময় অর্থাৎ এই ফলহারিনী অমাবস্যার আগের সময়টা পেশাগত ব্যাস্ততা প্রায় তুঙ্গে থাকে কারন এই সময় তন্ত্র ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্যে শ্রেষ্ট সময়,জ্যোতিষ শাস্ত্রে তিথি নক্ষত্র সব সময় গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কোনো তিথীতর তুলনায় এই বিশেষ তিথি গুলিতে প্রতিকার গ্রহণ বা গ্রহ দোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী হয়|তাই বহু মানুষে যোগাযোগ করেন, তাছাড়া মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অমাবস্যায় মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহদোষ খণ্ডনে অংশ নেন বহু মানুষে|সশরীরে না হলেও প্রযুক্তির ব্যাবহারে বহু দূর থেকেও অনেক মানুষ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং উপকৃত হন|এবছর ও ব্যাতিক্রম নয়|তবু এই বাবস্ততার মধ্যেও আজ বাংলার কালী নিয়ে লিখবো, লিখবো কালনার বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরী মায়ের কথা|

প্রাচীন তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসাবে এই অঞ্চলের উল্লেখ আছে বহু প্রাচীন গ্রন্থে, আসল মন্দির এখানে কবে তৈরি হয়েছিলো ঠিক জানা যায়না, তবে আনুমানিক ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমানের জমিদার চিত্রসেনের আমলে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়|মনে করা জৈনদেবী অম্বুয়া বা অম্বিকাই পরে সিদ্ধেশ্বরীতে রূপান্তরিত হয়েছেন এবং বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী রূপে পূজিতা হন, আবার অন্য একটি মত অনুসারে সিদ্ধেশ্বরী দেবীকে বিখ্যাত মাতৃ সাধক অম্বরীশের আরাধ্য দেবী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়|

এই মন্দিরে দেবী মূর্তি নির্মিত নিমকাঠ দিয়ে।
দেবী এখানে বামাকালী মূর্তিতে বিরাজমান, দেবী শবরুপী শিবের উপর ভয়ঙ্করী রূপে দণ্ডায়মান |
বহু প্রাচীন রীতি অনুসারে সারা বছর দেবীকে দর্শন করা গেলেও শুধুমাত্র কোজাগরী পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণা পঞ্চমী থেকে কৃষ্ণা ত্রয়োদশী পর্যন্ত দেবী দিগম্বরী থাকেন বলে ওই সময়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে পুজো হয় তবে বাইরে থেকে|

মন্দিরের বাইরে রয়েছে একটি রহস্যময় বিরাট পুকুর যার নাম অম্বিকা পুকুর|শোনা যায় এক কালে পুকুরের জলের মধ্যে রাখা থাকত প্রচুর বাসনপত্র। গরিব মানুষ সেই বাসনপত্র বিয়ে বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে, ফের জলের মধ্যে রেখে যেতেন। মন্দিরের নানা কাজে ওই পুকুরের জলই ব্যবহার করা হত। ওই পুকুরেই ছাগ স্নান করিয়ে মন্দিরে নিয়ে আসা হত বলির জন্য|

এক কালের তন্ত্র সাধনার জন্যে বিখ্যাত সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দির বর্তমানেও সমান প্রসিদ্ধ ও বহু মানুষের আস্থার স্থল|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা উপলক্ষে এখানে বিশেষ পুজো হয় ও দূর দূর থেকে মানুষ আসেন দেবীকে দর্শন করতে, তার আশীর্বাদ নিতে ও নিজের মনোস্কামনা জানাতে|

আজ এখানেই শেষ করছি, আপনাদের জানিয়ে রাখি যারা আসন্ন ফলহারিনী অমাবস্যার এই বিশেষ সময়ে শাস্ত্র মতে নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটাতে আগ্রহী, যারা আমার উপর এবং মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের উপর আস্থা রাখতে ও বিশেষ পুজোয় অংশনিতে চান তারা উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে একবারে সরাসরি আমার সাথে কথা বলে নেবেন| ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – জোড়া কালী মন্দির

আরে কয়েকটি দিন পরেই ফলহারিণী কালী পূজা, ইতিমধ্যে ফল হারিনী অমাবস্যার মাহাত্ম নিয়ে বেশ কয়েকটি উপস্থাপনা আমি আপনাদের সামনে এনেছি, আগামী দিনে এই তিথীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগতের সাথে এই অমাবস্যার গভীর সম্পর্ক নিয়ে আরো অনেক কথাই বলবো|এই সময়টা কালী কথা বা কালী তত্ব নিয়ে আলোচনা করার শ্রেষ্ঠ সময় তাই এই পরম্পরা বজায় রেখে আজকের বাংলার কালীতে এক অদ্ভুত এবং ব্যাতিক্রমী কালী মন্দির নিয়ে লিখবো, জানবো এমন একটি মন্দিরের কথা যেখানে একটি নয় একটি নয় একসাথে দুটি কালী মূর্তির পুজো হয়|

বর্ধমানের কাটোয়ায় রয়েছে এই প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন জোড়া কালী মন্দির|শুরুতে অবশ্য একটি মূর্তির পুজো হতো এবং কেনো ও কিভাবে এই জোড়া কালী একসাথে দুটি কালী মূর্তির পুজো শুরু হয় তা জানতে গেলে বাংলার ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায় জানতে হবে|

বাংলার মসনদে তখন নবাব সিরাজ উদ দৌলা, পার্বতীচরণ শর্মা ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজদৌলার উচ্চপদস্থ কর্মচারী। নবাব তাঁকে এই অঞ্চলের জমিদার হিসাবে নিযুক্ত করেন এই বংশেরই এক সদস্যর হাতেই শুরু হয়েছিলো এই কালী পুজো|পরবর্তীতে পরিবার ভাগ হওয়ার পর পারিবারিক অশান্তির জেরে একবছর পৃথকভাবে এক সদস্য কালীপুজো শুরু করেন, তবে তার ফল একেবারেই ভালো হয়নি, সেবছর পরিবারে নাকি কিছু ভয়ঙ্কর বিপদ হয়েছিল এবং কিছুকাল পরে দেবী স্বপ্নাদেশে নাকি জানিয়েছিলেন একই বেদিতে জোড়া প্রতিমার পুজো করতে হবে। তখন থেকেই একই মন্দিরে জোড়া প্রতিমার পুজো হয়ে আসছে|

এক কালে এই পুজোয় বলি প্রথা চালু থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে বৈষ্ণব মতে পুজো শুরু হয়, এই নিয়েও আছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|
শোনা যায় প্রায় ৩০০ বছর আগে কালীপুজোয় রাতে বলিদান হয়েছিল। সেই মাংস বলী প্রদত্ত মাংস পরের দিন রান্না করে সকলে যখন ভোজ খাচ্ছিলেন তখন মাংসে রহস্যজনক কটু গন্ধ পাওয়া যায়। পুরোহিত তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন, মায়ের পুজোয় প্রাণীহত্যা বন্ধ করতে। সেই থেকে বলিদান প্রথা বন্ধ হয়ে যায় এই পুজোয়|

বর্তমানে বাংলার আর কোথাও এক সাথে এই রূপ জোড়া কালী মূর্তির পুজো সেই ভাবে লখ্য করা যায়না|প্রতিটি বিশেষ তিথীতে এখানে ধুমধাম করেই পুজো হয়। আশপাশের গ্রামের মানুষ এই জোড়া কালীর পুজোয় অংশ নেন। সকলেই জাগ্রতা দেবী হিসাবে মানেন জোড়া কালীকে|দেবী বেশ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও বহু মানুষ তার কাছে আসেন মনোস্কামনা নিয়ে|

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো এমন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে|দেখতে থাকুন আমার ইউটিউব এবং টিভির অনুষ্ঠান ও যেকনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যানিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বর্ধমানের কাটোয়ায় রয়েছে এই প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন জোড়া কালী মন্দির|শুরুতে অবশ্য একটি মূর্তির পুজো হতো এবং কেনো ও কিভাবে এই জোড়া কালী একসাথে দুটি কালী মূর্তির পুজো শুরু হয় তা জানতে গেলে বাংলার ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায় জানতে হবে|

বাংলার মসনদে তখন নবাব সিরাজ উদ দৌলা, পার্বতীচরণ শর্মা ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজদৌলার উচ্চপদস্থ কর্মচারী। নবাব তাঁকে এই অঞ্চলের জমিদার হিসাবে নিযুক্ত করেন এই বংশেরই এক সদস্যর হাতেই শুরু হয়েছিলো এই কালী পুজো|পরবর্তীতে পরিবার ভাগ হওয়ার পর পারিবারিক অশান্তির জেরে একবছর পৃথকভাবে এক সদস্য কালীপুজো শুরু করেন, তবে তার ফল একেবারেই ভালো হয়নি, সেবছর পরিবারে নাকি কিছু ভয়ঙ্কর বিপদ হয়েছিল এবং কিছুকাল পরে দেবী স্বপ্নাদেশে নাকি জানিয়েছিলেন একই বেদিতে জোড়া প্রতিমার পুজো করতে হবে। তখন থেকেই একই মন্দিরে জোড়া প্রতিমার পুজো হয়ে আসছে|

এক কালে এই পুজোয় বলি প্রথা চালু থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে বৈষ্ণব মতে পুজো শুরু হয়, এই নিয়েও আছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|
শোনা যায় প্রায় ৩০০ বছর আগে কালীপুজোয় রাতে বলিদান হয়েছিল। সেই মাংস বলী প্রদত্ত মাংস পরের দিন রান্না করে সকলে যখন ভোজ খাচ্ছিলেন তখন মাংসে রহস্যজনক কটু গন্ধ পাওয়া যায়। পুরোহিত তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন, মায়ের পুজোয় প্রাণীহত্যা বন্ধ করতে। সেই থেকে বলিদান প্রথা বন্ধ হয়ে যায় এই পুজোয়|

বর্তমানে বাংলার আর কোথাও এক সাথে এই রূপ জোড়া কালী মূর্তির পুজো সেই ভাবে লখ্য করা যায়না|প্রতিটি বিশেষ তিথীতে এখানে ধুমধাম করেই পুজো হয়। আশপাশের গ্রামের মানুষ এই জোড়া কালীর পুজোয় অংশ নেন। সকলেই জাগ্রতা দেবী হিসাবে মানেন জোড়া কালীকে|দেবী বেশ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও বহু মানুষ তার কাছে আসেন মনোস্কামনা নিয়ে|

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো এমন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে|দেখতে থাকুন আমার ইউটিউব এবং টিভির অনুষ্ঠান ও যেকনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যানিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – বড়ো কালী

বাংলার বিভিন্ন স্থানে অনেক সুউচ্চ কালী মন্দির বা বিশালআকার কালী মূর্তি থাকলেও আজও বড়ো কালী বলতে অনেকেই বর্ধমানের কালনার ভট্টাচার্য পরিবার কতৃক স্থাপিত একটি বিশেষ কালী মূর্তির কথাই বোঝান|অনেক রহস্য ময় ঘটনা ও জনশ্রুতি সৃষ্টি হয়েছে এই প্রাচীন কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে|আজকের পর্বে কালনার এই প্রসিদ্ধ এবং জাগ্রত বড়ো কালীর কথা লিখবো|

ব্রিটিশ আমলে এই কালী মন্দির তৈরি হয়, আনুমানিক ভাবে বড়কালীর পুজো অন্তত ৪০০ বছরের প্রাচীন|৪০০ বছর আগে হোগলা পাতার ছাউনি দেওয়া মাটির মন্দিরে শুরু হয়েছিল পুজো|পরবর্তীতে স্থানীয় ভট্টাচার্য পরিবারের প্রচেষ্টায় তৈরি হয় পাকা মন্দির আজও বংশ পরম্পরায় তারাই বড়োকালীর পুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিষ্ঠা সহকারে পালন করে আসছেন|দেবী হয়ে উঠেছেন তাদের পারিবারিক কুলদেবী|এলাকাও আজ পরিচিত বড়োকালী তলা নামে|

এবার একটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলি,এখানে দেবীর পায়ে নূপুর থাকার জন্য পুজোর দায়িত্বে থাকা পরিবারের কারও নূপুর পরা বা নূপুর উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ। কথিত আছে, একবার সেই রীতি ভেঙে পরিবারের এক মহিলা নুপুর পড়েছিলেন আশ্চর্য জনক ভাবে ওই দিনই সন্ধ্যাবেলায় সর্পদষ্ট হন তিনি পরে অবশ্য দেবীর কৃপায় প্রানে বাঁচেন তিনি|

আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়, শোনা যায় একবার এলাকারই অন্য এক পরিবার বড়কালীর চেয়ে বেশি উচ্চতার প্রতিমা বানাবে বলে মাপ চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগীরথীর ঘাটে বিসর্জনের সময়ে দেখা যায়, বড়কালীর উচ্চতাই সবথেকে বেশি|

এই কালী মন্দিরের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট মশাল|এক সময়ে এলাকায় ছিল ঘন বন। ছিলো ডাকাত,আনাগোনা ছিল বাঘেরও। বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অমাবস্যার রাতে দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হত পুজোর সময়। সেই রীতি মেনে আজও পুজোর সময় দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হয়|

বাংলার তথা জেলার বিখ্যাত এই কালী মন্দিরে একাধিক সময়ে একাধিক বিখ্যাত মাতৃ সাধক এসেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন সাধক রামকৃষ্ণ,আনন্দ ময়ী মা, ভবা পাগলা ও ওমকার নাথের মতো ব্যাক্তিত্বরা|

আজ এখানেই থামছি,তবে কালী নিয়ে লেখা চলবে কারন সামনেই ফলহারিনী অমাবস্যা|তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে ও এই সময় অত্যান্ত তাৎপর্য পূর্ণ|জানিয়ে রাখি প্রতিবারের ন্যায় এবারও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের বিশেষ পূজা হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|সেই সংক্রান্ত সব খবর পেতে ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|

বুদ্ধ পূর্ণিমা

আজ দিনটি অতি পবিত্র, আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা, ভগবান বুদ্ধ এই বিশেষ দিনটিতে জন্ম গ্রহন করেছিলেন সেই থেকে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় “বুদ্ধ পূর্ণিমা ” আজ এই উৎসব শুধু বৌদ্ধ দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সারা বিশ্বের শান্তি প্ৰিয় ও আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পন্ন মানুষের কাছে একটি বিশেষ দিন |

“বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি “

এই মন্ত্র আজ আর শুধু একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আজ এই শ্লোক বিশ্ব বাসির মুক্তির স্লোগানে পরিণত হয়েছে, এবং তা হয়েছে বুদ্ধের ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক চেতনা কে সামনে রেখে|

আজ গোটা পৃথিবী যে রক্তাক্ত ও হিংস্র সময়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আরো দিন দিন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন ভগবান বুদ্ধ ও জীবন দর্শন, কিন্তু কি সেই মহান জীবন দর্শন আর কি বা ভগবান বুদ্ধের স্বরূপ? এসব জানার ও অনুভব করার জন্য আজকের দিনটি শ্রেষ্ঠ দিন|

নেপালের লুম্বিনী তে শুদ্ধধোন ও মায়াদেবীর সন্তান হিসেবে জন্মে ছিলেন সিদ্ধার্থ |যৌবনে রাজকুমারী যশোধরা দেবীর সাথে বিবাহ হয় সিদ্ধার্থর এক পুত্র ও হয়, নাম রাহুল |কিন্তু তিনি তো সংসার করতে আসেননি তিনি বুদ্ধ, তিনি আবির্ভুত হয়েছিলেন মানুষ কে সংসারের যাবতীয় দুক্ষ, কষ্ট ও মায়া থেকে মুক্তি দিয়ে মহানির্বানের পথ দেখাতে |

একবার রাজকুমার সিদ্ধার্থ প্রাসাদ থেকে ভ্রমণে বেরোলে, প্রথমে দেখলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ তারপর একজন অসুস্থ মানুষ শেষে একজন মৃত মানুষ ও এই সবের পর এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। এই দিন জীবনের এক চরম সত্য উপলব্ধি করলেন সিদ্ধার্থ, ভোগের রাস্তা ত্যাগ করে বেড়িয়ে পড়লেন ত্যাগের পথে, মুক্তির পথে এবং কঠোর সাধনার পর অবশেষে সিদ্ধি লাভ অর্থাৎ তার বুদ্ধ হয়ে ওঠা এবং বিশ্ববাসীকে মুক্তির পথ দেখানো যে পথে আজ হাটছে কোটি কোটি মানুষ |

বৈষ্ণব মতে বুদ্ধ আবার ভগবানের নবম অবতার মনে করা হয় বেদ অমান্য কারীদের ভিন্ন পথ প্রদর্শন করতে ও প্রানী হত্যা বন্ধ করতে তিনি আবির্ভূত হয়ে ছিলেন |যদিও এই মতবাদ নিয়ে কিছু ভিন্ন মতও আছে |সে বিতর্ক আজ থাক|

শুধু জন্ম নয় আজকের এই বিশেষ তিথিতে সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন গৌতম বুদ্ধ,আজও সারা পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বিশেষ ভাবে পালন করে এই দিনটা |বৌদ্ধ মঠ গুলিতে সন্ন্যাসীরা প্রদীপ জ্বালিয়ে সমবেত ভাবে বিশেষ প্রার্থনা করেন |এই বিশেষ তিথি বৈশাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত|

সবাইকে বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা 

বাংলার কালী- কৃপাময়ী কালী মন্দির

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের পর্বে আপনাদের এক ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের কথা বলবো, মুর্শিদাবাদের কাসিম বাজারে রয়েছে এই কালী মন্দির যা কৃপাময়ী কালী মন্দির নামেই প্রসিদ্ধ, এই মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, রয়েছে বাংলার ডাকাতদের গল্প|

কাসিম বাজারের রাজা রাজা মণিন্দ্র চন্দ্র উদ্যোগী হয়ে এই আজকের এই মন্দির তৈরি করেন প্রায় দুশো বছর আগে|এককালে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই মন্দিরে গোপন আস্তানা তৈরি করেছিলেন। শোনা যায় নেতাজিও এখানে আসতেন এখানে|শোনা যায় এই মন্দির হয়ে ওঠে স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের গোপন ডেরা। আর মন্দিরে অন্য কেউ না এলেও পুরোহিতরা রোজ আসতেন। কিন্তু তাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পূর্ণ সহযোগিতা করতেন এখানে লুকিয়ে থাকতে|

এক সময় এই এলাকা ডাকাতদের জন্যে কুখ্যাত ছিলো, কথিত আছে একবার মন্দিরে ডাকাতি করে পালানোর সময় হঠাৎ কাঁসার বাসন পড়ে যায়। সেই সময় অলৌকিক ভাবে সেবাইত পরিবারের এক সদস্যও স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন মন্দিরে ডাকাতি হচ্ছে তিনি ছুটে আসেন তিনি গুলি করে এক ডাকাতকে মেরে ফেলেন। ডাকাতরা নাকি মূর্তির গা থেকে গয়না খোলার সময় মায়ের একটি পা ভেঙে ফেলে। পরে বারাণসী থেকে আবার কষ্ঠিপাথর নতুন মুর্তি
নিয়ে আসা হয়।

মুর্শিদাবাদের অত্যন্ত জাগ্রত দেবী আনন্দময়ী করুণাময়ী ও কৃপাময়ী তার দুই বোন|আজও প্রতিটি বিশেষ তিথীতে অসংখ্য মানুষ আসেন কৃপাময়ী কালী মন্দিরের|কথিত আছে দেবী কাউকে খালি হাতে ফেরান না|আজ এখানে শেষ করলাম,ভালো থাকুন জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নম্বরে এবং যুক্ত হন মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার কালী – বোল্লা কালী মন্দির

একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি , সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের পাশাপাশি এই প্রতিকূলতার প্রভাব পড়েছে আমাদের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও কারন তারাপীঠ, কামাখ্যা সহ দেশের প্রায় সব মন্দিরই বন্ধ|আবার সামনেই ফলহারিনী অমাবস্যা,এই সময় জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে একটি বিশেষ সময়, আপনাদের জানিয়ে রাখি বিগত বছরের ন্যায় এবছরও আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকছে,সেই সংক্রান্ত তোড়জোড় নিয়ে এখন থেকেই কিছুটা ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি|তার ফাঁকেই আজ বাংলার একটি অন্যতম জাগ্রত ও বিখ্যাত কালী মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো|আজকের পর্বে বোল্লা কালী মন্দির|

বোল্লা কালীমন্দির আমাদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি বিখ্যাত কালী মন্দির। বালুরঘাট শহর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব মাত্র কুড়ি কিলোমিটার|মন্দিরটি দক্ষিণ দিনাজ পুরের বোল্লা গ্রামে অবস্থিত এবং মূলত গ্রামের নাম থেকেই বোল্লা কালী মন্দিরের নামকরণ|

আজ থেকে চারশো বছর এই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরি|তার নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয়েছে বোল্লা|মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথেও জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা|কথিত আছে একবার স্থানীয় জমিদার মুরারী মোহন চৌধুরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যান। তারপর তিনি বোল্লা মায়ের কাছে মানত করে মামলায় জয় লাভ করেন শোনা যায় দেবী কালি স্বয়ং তার উদ্ধারের জন্য এসেছিলেন এবং পরবর্তী দিনই জমিদার মুক্তি পেয়েছিলেন|কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসাবে তিনি দেবী কালির একটি সুদৃশ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন|

যদিও অনেক আগে থেকেই এখানে কালী পুজোর প্রচলন ছিলো|বহুকাল আগে এখানে এক মহিলা স্বপ্নাদেশে একটি কালো পাথরখণ্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন|

কথিত আছে একবার এই এলাকায় পরপর ডাকাতের অত্যাচার শুরু হয়, বোল্লাকালী তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বাসিন্দাদের রক্ষা করেন।

বর্তমানে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে দক্ষিণ বোল্লা কালী মন্দিরে পুজো ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়|সমগ্র উত্তর বঙ্গ সহ বাংলা দেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন মা বোল্লা কালীর দর্শন করতে ও তার পুজোয় অংশ নিতে|জনশ্রুতি অনুসারে, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত ও তার কাছে নিবেদিত প্রতিটি মনোস্কামনা তিনি পূর্ণ করেন|

অন্তরে আস্থা ও শ্রদ্ধা থাকলে মা কাউকে খালি হাতে ফেরান না, এ আমি একজন সর্বমঙ্গলা মায়ের উপাসক হিসেবে নিজের বহুবার ব্যাক্তিগত ভাবে অনুভব করেছি, সাক্ষী থেকেছি বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতার|মাকে ডাকুন তিনিই পারেন আমাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করতে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে নেবেন|ভালো থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|