শুভ অক্ষয় তৃতীয়া

320

মূলত তিনটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে আজকের পবিত্র তিথি যাকে আমরা অক্ষয় তৃতীয়া রূপে পালন করে থাকি সারা দেশ জুড়ে|আজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আমি সেই তিনটি দিক একে একে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যার মধ্যে লুকিয়ে আছে এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য|

প্রথমেই বলতে হয় ধন ও সম্পদের দেবতা কুবেরের কথা|কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য আবার সম্পর্কে তিনি রাবনের দূরসম্পর্কের ভাই|তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|অবশ্য কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|
পুরাণ মতে, এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|শুধু হিন্দু ধর্ম নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ধন সম্পদের দেবতা হিসেবে পূজিত হন কুবের|

দ্বিতীয় যে কারনে অক্ষয় তৃতীয়া তাৎপর্যপূর্ণ তাহলো এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু হয়ে ছিলো ব্যসদেব এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|

তৃতীয়ত বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে। এই কারণে দেশের কোনও কোনও জায়গায় দিনটি ‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজ শুরু করা যেতে পারে আজকের দিনে|
আজকের দিনে সোনা রুপো বা মূল্যবান রত্ন ক্রয় করে গৃহে আনলে গৃহস্তের কল্যাণ হয় তাছাড়া আজ লক্ষী ও কুবেরের পুজোর মাধ্যমেও সৌভাগ্য লাভ করা যায়|যারা জ্যোতিষীর পরামর্শ বা প্রতিকার গ্রহণের কথা ভাবছেন তাদের জন্যেও এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|শুভ হোক আপনাদের অক্ষয় তৃতীয়া|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|