গণেশে চতুর্থীর প্রাক্কালে আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে গনেশের বিবাহ নিয়ে লিখবো|বাংলার দুর্গোৎসবের সময়ে কলা বউ স্নান করানোর রীতি আছে|অনেকে মনে করেন এই কলা বউ গণেশের স্ত্রী|পুরান কিন্তু অন্য কথা বলছে| শিব পুরাণ অনুসারে প্রজাপতি ব্রহ্মার দুই কন্যা সিদ্ধি ও বুদ্ধির সঙ্গে বিয়ে হয় গণেশের। দুই স্ত্রীর সঙ্গেই গণেশের একজন করে সন্তানের জন্ম হয়। সিদ্ধির গর্ভে জন্মান ক্ষেম। আর বুদ্ধির সন্তানের নাম লাভ। তবে গণেশের দুই স্ত্রীর নাম নিয়ে কিন্তু মতভেদ রয়েছে। কোথাও গণেশের দুই বউয়ের নাম তুষ্টি ও পুষ্টি আবার কোনো শাস্ত্রে ঋদ্ধি ও বুদ্ধি। গনেশের জন্ম ও তার অদ্ভুত রূপ নিয়ে যেমন অনেক পৌরাণিক ঘটনা আছে তেমন তার বিবাহ নিয়েও পুরানে একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় বিবাহ স্থির করার আগে মহেশ্বর কার্তিক ও গণেশ কে বললেন–তোমরা দুজনেই আমাদের কাছে সমান। আমরা ঠিক করেছি যে আগে পৃথিবী পরিক্রমা করে আসবে, তার আগে বিয়ে হবে।কার্তিক তার বাহন ময়ুরে চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে বেরিয়ে পড়লেন|বেগতিক দেখে বুদ্ধিমান গণেশ এক অদ্ভুত কান্ড করে ফেললেন|তিনি তার পিতা মাতা কেই সাত বার প্রদক্ষিণ করলেন ভক্তি সহকারে ও বললেন পুত্রের প্রধান তীর্থ পিতা-মাতার পাদপদ্ম। তেমনি স্বামীই পত্নীর পরম তীর্থক্ষেত্র। এখন আমি আপনাদের প্রদক্ষিণ করলাম। এতো পৃথিবী পরিক্রমা হল আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে বেদবাক্যকে মিথ্যা বলতে হয়। যথারীতি এই উত্তরে প্রসন্ন হয়ে শিব ও পার্বতী তাদের প্ৰিয় পুত্র গনেশের বিবাহ আগে স্থির করেন ও যথা সময়ে গণেশের বিবাহ সম্পন্ন হয়| আজ পুরান রহস্য এইখানেই শেষ করলাম|আবার আগামী দিনে নতুন লেখা নিয়ে ফিরে আসবো|যারা চেম্বারে বা অনলাইনে জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজ নিয়ে যোগাযোগ করতে চান একবার উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে নেবেন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
শিক্ষক দিবস
সমাজে শিক্ষকদের ভূমিকায় সম্পর্কে এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘যদি একটি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুন্দর মনের মানুষের জাতি হতে হয়, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এ ক্ষেত্রে তিনজন সামাজিক সদস্য পার্থক্য এনে দিতে পারে। তারা হলেন বাবা, মা এবং শিক্ষক।’
ভারতের প্রাচীন গুরু শিষ্য পরম্পরার হাত ধরে আমরা জাানি, একজন মানুষের সফতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন। তিনি তাকে শুধুমাত্র জীবনে সফল হওয়া নয়, কিভাবে একজন ভাল মানুষ হতে হয় শেখাবেন।
শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার গুণমুগ্ধ ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন ‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদ্যাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।’
আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস এবং আদর্শ শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের ১৩৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সকল শিক্ষককে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা|
বাংলার কালী – দুর্লভা কালী, বর্ধমান
কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ পুজো ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানের আর বেশি দেরি নেই, ব্যস্ততার মাঝেই আজ কলম ধরেছি আপনাদের জন্যে, আজ আপনাদের নিয়ে যাবো বর্ধমান, বর্ধমানের প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম লাকুড্ডি দুর্লভা কালী।বর্ধমানের দুর্লভা কালীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ কাহিনী ও নানা লোককথা তার কিছু আজকে বলবো আপনাদের বাংলার কালীর এই পর্বে যে অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে এই প্রাচীন কালী মন্দির সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান দুটি চরিত্র হোলেন প্রখ্যাত তান্ত্রিক সাধক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারি ও বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদ|জনশ্রুতি অনুসারে ঘটনাটি অনেকটা এই রকম|লোকমুখে তাঁর নানান অলৌকিক ক্ষমতা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ক্ষমতার কথা শুনে একদিন রাত্রে বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ মন্ত্রী সান্ত্রীদের নিয়ে সেখানে গেলেন গোকুলানন্দ কাছে|চারদিকে ঘন জঙ্গল। তার মাঝে বসে কালী সাধনা করছেন তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী। বর্ধমানের মহারাজ দেখতে চান তান্ত্রিকের অলৌকিক ক্ষমতা। সেদিন ঘোর অমাবস্যা। রাজা জানতে চাইলেন, আজ কি তিথি? তান্ত্রিক জানালেন, আজ পূর্ণিমা। রাজা বললেন, আমাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখাতে পারেন।তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী বুঝলেন, রাজা তাঁর ক্ষমতার পরীক্ষা নিতে এসেছেন। মৃদু হাসলেন গোকুলানন্দ। চারদিক জ্যোৎস্না আলোকিত হয়ে উঠলো। আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে তান্ত্রিক বললেন, ওই পূর্ণিমার চাঁদ। দেখুন মহারাজ|বিস্মিত চোখে তন্ত্র শক্তির অদ্ভুত প্রয়োগ দেখলেন রাজা|পরবর্তীতে মহারাজ তেজচাঁদ কালী মন্দির করে দিলেন। সেদিন থেকেই বর্ধমানের লাকুড্ডির দুর্লভা কালীবাড়িতে নিত্য পুজো চলছে।এই কালীমন্দিরে ঘটের আবাহন বা বিসর্জন নেই। ঘট ছাড়াই শুধু বিগ্রহের নিত্য পূজা হয় এই কালী মন্দিরে।বর্ধমানের রাজারা এই মন্দিরে ভোগঘর তৈরি করে দেন। পুজোর ব্যয়ভার বহন করতেন তাঁরাই। এখানে আজও নিত্য পূজার পাশাপাশি দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়।দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। মনে করা হয় দেবীর দর্শন পাওয়া অতি দুর্লভ। তাই নাম দুর্লভা কালী। প্রায় আড়াইশো বছর আগে তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী পাশের জলাশয়ে স্নান করতে নেমে একটি পাথর পান।সেই পাথরকেই মা কালী রূপে পুজো করেন তিনি। সেই পাথর খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয় রাজার তৈরি করে দেওয়া মন্দিরে। পরে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও সেখানে সেই পাথর খণ্ড সামনে রেখেই পুজো করা হয়। সাধক কমলাকান্তও এখানে তন্ত্র সাধনা করতে আসতেন।আপাতত আজ বাংলার কালী নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখা এখানেই শেষ করলাম|কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের বিশেষ পুজোয় আপনাদের স্বাগত|পুজোয় যোগ দিতে বা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালী
নদিয়ার শান্তিপুর স্টেশন থেকেব প্রায় দু কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির যেখানে মা সিদ্বেশ্বরী রূপেই পূজিত হন|অবশ্য মা কালীর এখানে একটি পোশাকি নাম আছে, তাহলো চাঁদুনি, এবং এই মন্দিরে পুজোর ক্ষেত্রে মহিলারাই প্রধান ভূমিকায় থাকেন|কেনো এই নাম এবং কেনো মহিলা দের এতো বেশি গুরুত্ব তার সাথেও জড়িত আছে এক কিংবদন্তী|বহুকাল আগে নদিয়ার শান্তিপুর ছিল বর্ধিষ্ণু জনপদ৷ তখন শান্তিপুর দিয়ে প্রবাহিত হত মা গঙ্গা৷ আর সেই গঙ্গার পাড়ে একটি কুটিরে বাস করতেন সাত্ত্বিক গোপীনাথ সার্বভৌম যিনি ছিলেন শ্রীচৈতন্যর শিক্ষা গুরু|কথিত আছে এক রাতে গোপীনাথ মায়ের স্বপ্নাদেশ পান৷ স্বপ্নাদেশে তিনি জানতে পারেন মা সিদ্ধেশ্বরীরা প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে তাঁরই পত্নীকে৷ মায়ের নির্দেশে বাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে গোপীনাথ প্রতিষ্ঠা করেন মা চাঁদুনিকে৷মায়ের এহেন নাম নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে৷ কারও মতে চাঁদুনি নামটি এসেছে চাঁদনি থেকে৷ চাঁদনি মানে জ্যোৎস্না৷তবে অনেকেই একমত নন তাই নামের উৎস নিয়ে কিঞ্চিৎ বিতর্ক রয়েছে|সার্বভৌমর পরিবারের লোকেরাই বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন মা সিদ্বেশ্বরীরা| এখানে দুর্গাপুজোর শেষে দুর্গা দেউলেই শুরু হয় মায়ের কাঠামো গড়া৷ পারিবারিক রীতি অনুযায়ী আজও বংশের বড় বউ কাঠামোতে প্রথম মাটি দিয়ে এর শুভারম্ভ করেন৷প্রতি অমাবস্যায় মায়ের কাঠামো শক্তিরূপে পুজো করা হয়৷ কালীপুজোর দিন মা চাঁদুনিকে দুর্গাদেউল থেকে বাতাস করতে করতে কালীমন্দিরে আনা হয়৷ দেবীর পুজো হয় নিষ্ঠা ও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে যদিও একসময় এখানে মোষবলি হত৷ এখন তা না হলেও পাঁঠাবলি হয়|আপাতত আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে ব্যাস্ততা চূড়ান্ত|প্রতিবারের ন্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরীর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পুজো ও গ্রহ দোষ খণ্ডন যজ্ঞ|অনেকেই ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন|সবাইকে জানাই স্বাগত|এখনো যারা যোগাযোগ করবেন ভাবছেন তারা নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করুন|দেখা হবে পরের পর্বে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নন্দ উৎসব
নন্দ উৎসব পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক কংসের হাত থেকে তাঁর প্রজাদের রক্ষা করতে মাতা দেবকীর কোলে বিষ্ণু অষ্টম অবতার রূপে জন্ম নেন শ্রী কৃষ্ণ|শ্রী কৃষ্ণের জন্ম তিথি উপলক্ষে প্রতিবছর ভাদ্রমাসে কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় জন্মাষ্টমী যা কাল মহা সমারোহে গোটা দেশ জুড়ে পালিত হয়েছে|আমার গৃহ মন্দিরে সারাদিন ব্যাপী পুজো অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ দেখেছেন|ধন্যবাদ আপনাদের|তবে উৎসব এখনো শেষ হয়নি|শাস্ত্র মতে জন্মাষ্টমীর ঠিক পরের দিনই ভারতবাসী মেতে ওঠেন নন্দ উৎসবে। পুরাণ কাহিনী অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল রাত্রে।গোকুল রাজ নন্দ হলেন শ্রীকৃষ্ণের পালিত পিতা|নন্দ সেই আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছিলেন পরেরদিন সকালে। সেই খবর শুনে সমস্ত গোকুলবাসী সেদিন মেতে উঠেছিলেন আনন্দে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই শুরু নন্দ উৎসব। মথুরা ও বৃন্দাবনের পাশাপাশি নদীয়ায় মহা সমারোহে জন্মাষ্টমীর পরদিন পালিত হত নন্দ উৎসব। বহু স্থানে,এই উৎসবে শিশুরা শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানান ঘটনা ছড়া আকারে বলে বা গান গেয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে, প্রত্যেক গৃহস্থের বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করত তালের বড়া।এখনও জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দউৎসব পালিত হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়।বলা যায় এই নন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়েই সমাপ্ত হয় কৃষ্ণের জন্মোৎসব, এরপর আবার একটা বছরের অপেক্ষা| পালন করুন নন্দ উৎসব|আগামী দিনে আরো নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে|দেখতে থাকুন ইউটিউব ও টিভির অনুষ্ঠান|আর যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে বা সমস্যারা সমাধান চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শ্রী কৃষ্ণর বিশ্বরূপ
আজ জন্মাষ্টমী|সনাতন ধর্মের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ উৎসবের অন্যতম জন্মাষ্টমী কারন এই তিথিতে জন্মে ছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ যিনি কোনো সাধারন অবতার নন|শাস্ত্র মতে তিনি স্বয়ং ভগবান|সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক আছে কিন্তু ভগবান একজনই|তিনি শ্রী কৃষ্ণ|তার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান|যদিও আজকের দিনে তার বালক রূপ অর্থাৎ গোপাল রূপের পুজো হয় তবে শাস্ত্রের তাকে নানা রূপে ও নানা ভূমিকায় পাওয়া গেছে|তিনি একাধারে বীর যোদ্ধা আবার পরম দয়ালু তিনি দ্বারকাধীশ আবার অর্জুনের রথের সারথি|তার রূপ ও অনেক|তার রূদ্র রূপ আছে আবার সৌম দেব রূপ ও আছে|আজ আলোচনা করবো তার বিশ্বরূপ বা বিরাট রূপ নিয়ে|কুরুক্ষে যুদ্ধে কৃষ্ণ বার বার অর্জুনকে নিজের বিশ্বরূপ দেখার আজ্ঞা দেন, কিন্তু অর্জুন কিছু দেখতে পারেন না|তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন ও যাঁর ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে|শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন|আজ শ্রী কৃষ্ণের দিন|সংক্ষেপে তার বিশ্ব রূপ বর্ণনা করে তাকে প্রনাম জানালাম|আগামী দিনে ফিরে আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে নতুন কোনো পর্বে|সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী- হুগলীর মা সারদার স্মৃতি বিজরিত প্রাচীন কালী মন্দির
বাংলার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অসংখ্য ডাকাত কালী মন্দিরে এবং যার অধিকাংশ রয়েছে হুগলীতে|এই হুগলীর পুরুষোত্তমপুরে রয়েছে একটি শতাব্দী প্রাচীন ডাকাত কালীর মন্দির যে মন্দিরে ঘটেছিলো এক অলৌকিক ঘটনা এবং এই ঘটনার মধ্যমনি ছিলেন স্বয়ং মা সারদা| শোনা যায়, মা সারদা একবার এই পথে ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব কে দেখতে যাওয়ার সময় এই পুরুষোত্তমপুরের গগন ডাকাতের খপ্পরে পড়েন। কিন্তু এর পর একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে এবং সারদা মায়ের মধ্যে মা কালীর রূপ দর্শন করে ডাকাত দল পথ ছেড়ে দেয়। ডাকাতরা সারদা মা-কে চাল কলাই ভাজা খেতে দেন|তার কাছে ক্ষমা চান ও নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে স্বসম্মানে তাকে পৌঁছে দেন তার গন্তব্যে| এই অলৌকিক ঘটনার পর থেকেই চাল কলাই ভাজা হয়ে ওঠে পুরুষোত্তমপুরের মা কালীর মূল প্রসাদ| শতাব্দী প্রাচীন এই কালী মন্দিরে আগে কোনও মূর্তি ছিলনা, ঘটে পুজো হত। পরবর্তীকালে নিকটবর্তী চালকেপাটি বাঁকিপুর গ্রামের অধিবাসীরা বর্তমানের সুদৃশ্য আটচালা মন্দিরটির নির্মাণ করে দেন।মন্দির গাত্রে টেরাকোটার কাজ লক্ষ্যণীয়। তিন খিলান যুক্ত এই মন্দিরের একটিই প্রবেশ দ্বার। মন্দির সম্মুখে সুন্দর একটি নাটমন্দির রয়েছে। প্রতিটি অমাবস্যা ও দীপাবলি কালীপুজো হয় তন্ত্রমতে। চার প্রহরে চারবার মায়ের পুজো হয়। নয় রকম বলি দেয়া হয়। এক কালে যথেচ্ছ ছাগবলি চালু থাকলেও বর্তমানে তার সংখ্যা ১০-১২ তে এসে ঠেকেছে।তবে মানুষের আস্থা ও ভক্তি অটুট ও অগাধ এই মা সারদার স্মৃতি বিজড়িত কালী মন্দির ঘিরে| মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মন্দিরে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে গ্রহ দোষ খণ্ডন ও হোম যজ্ঞে অংশ নিতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – বাসুদেবপুর ডাকাতকালী মন্দির
আর কয়েকটিদিন পরেই কৌশিকী অমাবস্যা মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডন এর হোম যজ্ঞর আয়োজন শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই|বহু মানুষ যোগাযোগ করছেন|সব মিলিয়ে ব্যাস্ততা এখন তুঙ্গে|তার মাঝেই আজ আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে|এই মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম|সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন ও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|
রঘু ডাকাতের আমল থেকেই মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরে নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা| ছাগবলি হয়|
এই ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও রোমাঞ্চকর|
শোনা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে বাগহাটির জয়পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের মায়ের মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত|
সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়েরঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত।
সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মাকে দেখতে পায়। এরপর থেকে রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।
আজও রঘু ডাকাত কতৃক স্থাপিত এই কালী মন্দিরে পুজো হয়|বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়|বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন আরো অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দিরে|আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা শোনাবো আপনাদের|মনে করিয়ে দিই এখনো যারা ভাবছেন কৌশিকী অমাবস্যায় গ্রহদোষ খণ্ডন করাবেন বা বিশেষ পুজোয় অংশগ্রহন করবেন তারা নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার কালী – পাতাল কালী
সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা|তন্ত্র ও শক্তি সাধনার শ্রেষ্ঠ সময়|জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বড়ো ভূমিকা আছে এই বিশেষ অমাবস্যা তিথির|এই সময়ে কালী কথা বলবো সেটাই স্বাভাবিক|আজ বাংলার যে রহস্যময় কালী মন্দির নিয়ে লিখবো তা এপার বাংলায় নয় ওপার বাংলায় অবস্থিত|চট্টগ্রামের কাছে, সীতাকুন্ড নামক স্থানে অবস্থিত এই পাতাল কালী মন্দির|চন্দ্রনাথ পাহাড় অঞ্চলে অবস্থিত এই পাতাল কালী মন্দির যাকে গঠন শৈলীর জন্যে অনেকেই উল্টা কালী ও বলেন|শুধু পাতাল কালী নয় এই অঞ্চলে রয়েছে শিব লিঙ্গ এবং হনুমানমন্দির|কথিত আছে নেপালের এক রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পৃথিবীর পাঁচ কোণে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এর মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শিবমন্দির অন্যতম|মনে করা হয় মহাভারতের সময়ে এখানে মহামুনি ভার্গব বসবাস করতেন|রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। তারা আসবেন জানতে পেরে মহামুনি ভার্গব এখানে স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন। এরপর রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন। এরপর থেকেই স্থানের নামকরণ করা হয় সীতাকুণ্ড|চন্দ্রনাথ পাহাড়ের এক খাদে শীলা খন্ডে প্রকট হয়েছেন মা কালীর যা পাতাল কালী বা উল্টা কালী নামে জগৎ বিখ্যাত|স্থানটি অতি দুর্গম ও রহস্যময়|কথিত আছে সত্য যুগে এখানে স্থাপিত হয় পাতাল কালী|শাস্ত্র অনুসারে এই স্থানে মা কালীর নির্দেশে হনুমান পাতাল রাজ মহিরাবনে কে হত্যা করেন|আজও বিপদ কে উপেক্ষা করে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে জয় করে বহু মানুষ আসেন পাতাল কালীর দর্শন করতে|পুজো করতে|আগামী পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য বা বাংলার কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে জ্যোতিষপরামর্শ বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্যে নির্দ্বিধায় সরাসরিযোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
রাখী বন্ধন
আজ রাখী পূর্ণিমা|ভারতীয় সনাতন সভ্যতায় বহু প্রাচীন কালথেকে চলে আসছে এই উৎসব|ভারতের পুরাণ, মহাকাব্য থেকে ইতিহাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রক্ষাবন্ধনের গল্প|রামায়নে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে রাম-সীতার দুই সন্তান লব-কুশের জন্মের পর তাদের হাতে সুরক্ষা কবচ হিসেবে একটি বিশেষ সুতো বেঁধে দেন বাল্মীকি|মহাভারতে, মা কুন্তী যখন কর্ণকে জন্মের পর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যোজাতের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন একটি সুতো যা রাখীর মতোই রক্ষা কবচ হিসেবে রক্ষা করেছিলো তার সন্তানকে|শিশুপালের দিকে সুদর্শন চক্র ছুড়ে দেওয়ার সময় কৃষ্ণের হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। কৃষ্ণসখী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। বড়ো ভাইয়ের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণও দ্রৌপদীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন|এও তো একপ্রকার রাখী বন্ধন|পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী রাজা বলীর হাতে রাখী পড়িয়ে বিষ্ণু কে বৈকুন্ঠ লোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন|রাখী বন্ধন প্রতিশ্রুতি রক্ষার উত্সব। ভাইবোনের মধ্যেই হোক কিংবা প্রিয় দুই মানুষের মধ্যে। সেই জন্যই তো প্রেম পর্যায়ের গানেও রবি ঠাকুর লিখেছেন … ” মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী– তোমার কনককঙ্কনে|আপনাদের সকলকে জানাই রাখী বন্ধনের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|