বাংলার কালী – শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালী

385

নদিয়ার শান্তিপুর স্টেশন থেকেব প্রায় দু কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির যেখানে মা সিদ্বেশ্বরী রূপেই পূজিত হন|অবশ্য মা কালীর এখানে একটি পোশাকি নাম আছে, তাহলো চাঁদুনি, এবং এই মন্দিরে পুজোর ক্ষেত্রে মহিলারাই প্রধান ভূমিকায় থাকেন|কেনো এই নাম এবং কেনো মহিলা দের এতো বেশি গুরুত্ব তার সাথেও জড়িত আছে এক কিংবদন্তী|বহুকাল আগে নদিয়ার শান্তিপুর ছিল বর্ধিষ্ণু জনপদ৷ তখন শান্তিপুর দিয়ে প্রবাহিত হত মা গঙ্গা৷ আর সেই গঙ্গার পাড়ে একটি কুটিরে বাস করতেন সাত্ত্বিক গোপীনাথ সার্বভৌম যিনি ছিলেন শ্রীচৈতন্যর শিক্ষা গুরু|কথিত আছে এক রাতে গোপীনাথ মায়ের স্বপ্নাদেশ পান৷ স্বপ্নাদেশে তিনি জানতে পারেন মা সিদ্ধেশ্বরীরা প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে তাঁরই পত্নীকে৷ মায়ের নির্দেশে বাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে গোপীনাথ প্রতিষ্ঠা করেন মা চাঁদুনিকে৷মায়ের এহেন নাম নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে৷ কারও মতে চাঁদুনি নামটি এসেছে চাঁদনি থেকে৷ চাঁদনি মানে জ্যোৎস্না৷তবে অনেকেই একমত নন তাই নামের উৎস নিয়ে কিঞ্চিৎ বিতর্ক রয়েছে|সার্বভৌমর পরিবারের লোকেরাই বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছেন মা সিদ্বেশ্বরীরা| এখানে দুর্গাপুজোর শেষে দুর্গা দেউলেই শুরু হয় মায়ের কাঠামো গড়া৷ পারিবারিক রীতি অনুযায়ী আজও বংশের বড় বউ কাঠামোতে প্রথম মাটি দিয়ে এর শুভারম্ভ করেন৷প্রতি অমাবস্যায় মায়ের কাঠামো শক্তিরূপে পুজো করা হয়৷ কালীপুজোর দিন মা চাঁদুনিকে দুর্গাদেউল থেকে বাতাস করতে করতে কালীমন্দিরে আনা হয়৷ দেবীর পুজো হয় নিষ্ঠা ও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে যদিও একসময় এখানে মোষবলি হত৷ এখন তা না হলেও পাঁঠাবলি হয়|আপাতত আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে ব্যাস্ততা চূড়ান্ত|প্রতিবারের ন্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরীর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পুজো ও গ্রহ দোষ খণ্ডন যজ্ঞ|অনেকেই ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন|সবাইকে জানাই স্বাগত|এখনো যারা যোগাযোগ করবেন ভাবছেন তারা নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করুন|দেখা হবে পরের পর্বে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|