বহুদিন পরে আজ আবার আপনাদের ভারতের এক প্রাচীন রহস্যময় মন্দিরের কথা বলবো যার সাথে জড়িত আছে বহু কিংবদন্তী ও অলৌকিক ঘটনা|রয়েছে অশরীরী বা ভূতেদের উপস্থিতি নিয়ে নানান জনশ্রুতি|মধ্যপ্রদেশ এর ভোপাল থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরে মালাজপুরের একটি ছোট্ট গ্রাম বেতুল। এই বেতুলে অবস্থিত দেবজি মহারাজ মন্দির|কথিত আছে গুরু দেওজি সন্ত একজন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন রাজপুরোহিত ছিলেন। শোনা যায় তিনি বালিকে চিনিতে, পাথরকে নারকেলে, কাদাকে ফসলে পরিবর্তিত করতে পারতেন। অশুভ শক্তি কে বিতাড়িত করার অদ্ভুত ক্ষমতাও তাঁর ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিতে গ্রামবাসীরা একটি সমাধি মন্দির তৈরি করে|কথিত আছে এই মন্দিরে এলে দেবজী মহারাজের আশীর্বাদে ও কৃপায় যেকনো ব্যাক্তির উপর ভর করে থাকা অশুভ শক্তি বা আত্মা পলায়ন করতে বাধ্য হয়|এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় চারশো বছরের পুরোনো অদ্ভুত মেলা। সারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই অদ্ভুত মেলা প্রত্যক্ষ করার জন্য এই মন্দিরে উপস্থিত হন।এই মেলা ভূত মেলা নামে খ্যাত|চিরাচরিত প্রথা অনুসারে ভক্তরা শরীরে থাকা প্রেতকে তাড়ানোর জন্য হাতে কর্পূর জ্বালিয়ে দেবতাকে উপাসনা করেন । এছাড়াও এখানে ঝাড়ু পেটা করে ভূত তাড়ানোরও রীতি রয়েছে ।মেলা চলাকালী এবং সারা বছর গুরু দেওজি সন্ত মহারাজের সমাধির সামনে প্রতিদিন বিকেল বেলা আরতির পর অশুভ আত্মাকে তাড়িয়ে মানুষদের সুস্থ করা হয়।দেবজী মহারাজের এই মন্দিরে বহু কাল থেকে অলৌকিক এই ঘটনা ঘটে আসছে| আরতির পর সাধারণ দর্শনার্থীরা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং ভূতে ধরা মানুষেরা ঘড়ির কাঁটার দিকে মন্দিরটি পরিক্রমা শুরু করেন। এই পরিক্রমার সময় গুরু মহারাজের নামে মন্ত্রোচ্চারণের মাঝেই মন্ত্রঃপুত জল ছিটানো হয়। এরপরেই ভূতে ধরা মানুষেরা পাগলের মতো আচরণ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ও পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে যান|ভারত আস্থা ও বিশ্বাসের দেশ আর মানুষের বিশ্বাস যুক্তি তর্কের উর্দ্ধে|এমন আরো অনেক রহস্যময় মন্দিরের কথা বলবো আগামী দিনে|আপাতত চেম্বারে ও অনলাইনে নিয়মিত ভাগ্যবিচারের কাজ চলছে|প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ঝুলন যাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
আজ ঝুলন পূর্ণিমা বা ঝুলন যাত্রা উৎসব|ভারতের সনাতন সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমাদের জীবন ও দর্শনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ধর্মীয় উৎসব ঝুলন যাত্রা এই উৎসব গুলির মধ্যে অন্যতম|এই ঝুলন উৎসব বা ঝুলন পূর্ণিমা হল শ্রীকৃষ্ণেরঅনুগামীদের অর্থাৎ বৈষ্ণবদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব|দোল ও জন্মাষ্টমীর পর ঝুলন তাদের কাছে অতি পবিত্র একটি অনুষ্ঠান|অমাবস্যায় পরের একাদশী থেকে আরম্ভ করে শ্রাবনী পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে এই উৎসব|এই দিন দোলনা সাজানো, ভক্তিমূলক গান,কীর্তন, বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরনের মাধ্যমে রাধাকৃষ্ণের ঝুলন লীলাকে উদযাপন করেন সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ|মনে করা হয় বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল এবং সেই তিথি ও উৎসব আজও পালিত হয়ে আসছে সমান উৎসাহের সাথে|ঝুলন যাত্রা এমনই এক লীলা যেখানে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরাধার মাধুর্যপূর্ণ প্রেমের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে|আসলে এখানে রাধা ও কৃষ্ণ ভক্ত ও ভগবানের চিরন্তন সম্পর্কের প্রতীক|সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সাথে তাল মিলিয়ে ঝুলন পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে দোলে|শুধু তাই নয় সূর্য হচ্ছে পৃথিবীতে সর্ব প্রকার শক্তির উৎস। আর পৃথিবীর গতি হচ্ছে-দু’টো, আহ্নিকগতি ও বার্ষিক গতি। দুই গতিধারায় বছরে দু-বার কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখায় গিয়ে অবস্থান করে। তখন ঘটে সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ন অবস্থান। সেই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা অনুষ্ঠানে দোলনাটিকে ঝোলানো হয় উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে|মায়াপুর, বৃন্দাবন সহ দেশের বহু জায়গায় ঝুলন উৎসবকে মহা সমারোহে নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়, এক কালে বাংলার ঘরে ঘরে ঝুলন সাজানোর চল ছিলো|এখনও হয় কোথাও কোথাও|সব মিলিয়ে এ এক অসাধারন সুন্দর ও তাৎপর্যপুর্ন উৎসব|প্রতিটি উৎসবই কোনো না কোনো কারনে বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ|আর এই সকল উৎসব গুলি পালিত হয় তিথি নক্ষত্র ধরে বিশেষ বিশেষ সময়ে|মানুষের জীবনেও এই বিশেষ তিথি নক্ষত্রর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে যা আমাদের প্রাচীন জ্যোতিষ শাস্ত্রে সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে|সামনেই জন্মাষ্টমী এবং তারপর কৌশিকী অমাবস্যা|যারা পূজা পাঠ হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহ দোষ খণ্ডন করে প্রতিকার চান তারা এই তিথি গুলি কাজে লাগাতে পারেন কিভাবে তা বলে দেয়ার জন্য আমি আছি আর আছে হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দির|এই সময় কে কাজে লাগিয়ে জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা যারা দুর করাতে চান তারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ঝুলন পূর্ণিমার শুভেচ্ছা সবাইকে|ভালো থাকুন |ধন্যবাদ|
মা মনসার উৎপত্তি ও পূজার প্রচলন
আজ মা মনসার পূজার দিন|মনসা পূজা প্রধানত বাংলা ও উত্তর ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে প্রচলিত। বর্ষার প্রকোপে এ সময় সাপের বিচরণ বেড়ে যায়, তাই সর্পদংশন প্রতিরোধ ও সাপের বিষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তাঁর পূজা করা হয়। বাঙালি মেয়েরা শ্রাবন মাসের নাগ পঞ্চমীর দিন উপবাস ব্রত করে সাপের গর্তে দুধ ঢালেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে, প্রতিমায় মনসা পূজা করা হয় না। মনসা পূজিতা হন বিশেষভাবে সর্পচিত্রিত ঘট বা ঝাঁপিতে। যদিও কোথাও কোথাও মনসা মূর্তিরও পূজা হয়। দেবী মনসা একদিকে যেমন লৌকিক দেবী অন্যদিকে পুরানে এমনকি মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে|মনসার স্বরূপ ও তার উৎপত্তি এবং পরিচয় নিয়ে একাধিক শাস্ত্রে কিছু পরস্পর বিরোধী তত্ব উপস্থিত রয়েছে| মা মনসা হিন্দুধর্মের লৌকিক সর্পদেবী। মধ্যযুগের লোককাহিনী বিষয়ক মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র। সর্পদেবী হিসেবে মনসার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অথর্ববেদে। পুরাণে তাঁকে ঋষি কাশ্যপ ও নাগ-জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দী নাগাদ মনসা প্রজনন ও বিবাহের দেবী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং শিবের আত্মীয় হিসেবে শৈব দেবমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, শিব বিষপান করলে মনসা তাঁকে রক্ষা করেন সেই থেকে তিনি বিষহরি নামে পরিচিতা হন। মনসার জন্মকাহিনি প্রথম উল্লিখিত হয়েছে পুরাণ গ্রন্থেই মঙ্গলকাব্যে তাঁকে শিবের কন্যা বলা হলেও, অন্য একটি পুরাণ অনুসারে তিনি ঋষি কশ্যপের কন্যা।পুরা কালে সর্প ও সরীসৃপগণ পৃথিবীতে কলহ শুরু করলে কশ্যপ তাঁর মন থেকে মনসার জন্ম দেন। ব্রহ্মা তাঁকে সর্প ও সরীসৃপদের দেবী করে দেন। মনসা মন্ত্রবলে বিশ্বের উপর নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। এরপর মনসা শিবের সঙ্গে সন্ধিস্থাপন করেন। শিব তাঁকে কৃষ্ণ-আরাধনার উপদেশ দেন। মনসা কৃষ্ণের আরাধনা করলে কৃষ্ণ তুষ্ট হয়ে তাঁকে সিদ্ধি প্রদান করেন এবং প্রথামতে তাঁর পূজা করে মর্ত্যলোকে তাঁর দেবীত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মহাভারতে মনসার বিবাহের উল্লেখ রয়েছে। ঋষি জগৎকারু এক প্রচণ্ড তপস্যায় রত ছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে বিবাহ করবেন না। একদা তিনি দেখতে পান যে একদল লোককে গাছে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঁরা ছিলেন তাঁরই পূর্বপুরুষ। তাঁদের সন্তানেরা তাঁদের শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ না করায় তাঁদের এই দুঃখজনক অবস্থা হয়েছিল। তাঁরা জগৎকারুকে বিবাহ করার উপদেশ দিয়ে বলেন যে তাঁর পুত্রই শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ করে তাঁদের দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে পারবে। বাসুকী জগৎকারুর সঙ্গে নিজ ভগিনী মনসার বিবাহ দেন। আস্তিক নামে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয়। আস্তিক তাঁর পূর্বপুরুষদের মুক্তি দেন। রাজা জনমেজয় সর্পজাতির বিনাশার্থে সর্পনিধন যজ্ঞ শুরু করলে আস্তিকই নাগদের রক্ষা করেন। মনসাবিজয় কাব্য থেকে জানা যায়, বাসুকীর মা একটি ছোটো মেয়ের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। শিবের শিবের ক্রিপায় এই মূর্তি থেকেই মনসার জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে বাসুকী তাঁকে নিজ ভগিনীরূপে গ্রহণ করেন। বাসুকী তার কাছে গচ্ছিত বিষের ভান্ডার মনসাকে দেন যা পরবর্তীতে মনসার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে| অর্থাৎ মনসার উৎপত্তি মূলত পুরানে বর্ণিত এবং তার জনপ্রিয়তা ও পুজোর প্রচার তাকে বাংলার লৌকিক দেবী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে|প্রনাম জানাই মা মনসা কে|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো পুরান সম্পর্কিত কোনো নতুন পর্ব নিয়ে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজন বা তন্ত্র মতে সমস্যার সমাধানে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ভারতের সাধক – শ্রী শ্রী রামদাস কাঠিয়া বাবাজি
ভারতের সিদ্ধ যোগী দের মধ্যে অন্যতম একটি নাম শ্রী শ্রী রামদাস কাঠিয়া বাবাজি|তিনি আধ্যাত্বিক জগতের সিদ্ধ সাধকদের মধ্যে একজন এবং তার জীবন ও সাধনা আজও তার অসংখ্য ভক্ত ও অনুরাগীর ম্যধ্যে এক রহস্য স্বরূপ|
পাঞ্জাবের এক সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নিয়ে কিকরে তিনি এতো উচ্ছ কোটির যোগী হয়ে উঠলেন তা নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়| তাঁর কৈশোরে একবার মাঠে মহিষ চরাতে চরাতে তিনি একজন উজ্জ্বলকান্তি সাধু পুরুষের দর্শন লাভ করলেন। সাধুজী তাঁর নিকট কিছু আহার যাচনা করলে, কাঠিয়া বাবাজী মহারাজ নিজ গৃহ থেকে প্রচুর পরিমানে ময়দা, চিনি, ঘি, আদি তাঁকে এনে দিলেন। সাধু প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বরদান করলেন যে, “তুমি যোগীরাজ হবে।” এই বরদান করে সাধু অন্তর্হিত হলেন। তখন সেই সময় কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের মনে হল যেন সংসারের প্রতি তাঁর সমস্ত আসক্তি কেটে গেছে|ক্রমে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার পথ বেছে নিলেন শুরু করলেন শাস্ত্র পাঠ ও ধ্যান|
তিনি গায়ত্রী মন্ত্রে সিদ্ধি লাভের জন্য জপ করতে লাগলেন এবং শেষে তিনি গায়ত্রীতে সিদ্ধি লাভও করলেন|কথিত আছে স্বয়ং গায়ত্রীদেবী আবির্ভূত হয়ে তাঁকে দর্শন দিয়ে কৃতার্থ করেন|পরবর্তীতে বিরাট জটা-জুটধারী এক সাধুকে তিনি দর্শন করে তাঁর প্রতি ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট হন ও তৎক্ষণাৎ তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করে তার কাছে দীক্ষা ও সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন।সেই সাধু ছিলেন আচার্য, শ্রীশ্রী দেবদাসজী কাঠিয়া বাবাজী মহারাজ যিনি ছিলেন যোগীশ্বর সিদ্ধ মহাপুরুষ|
সন্ন্যাস গ্রহণের পর কাঠিয়া বাবার নামকরণ হল, “রামদাস”। গুরুর সন্নিধানে থেকে তিনি সর্বতোভাবে গুরুসেবায় নিযুক্ত থাকতেন। তাঁর গুরুদেব তাঁকে হঠযোগের সঙ্গে অষ্টাঙ্গযোগ ও মন্ত্র শিক্ষা দিতে শুরু করলেন তবে সাধনার এই পর্যায় ছিলো অত্যন্ত কঠিন|পদে পদে গুরু শিষ্যের কঠিন পরীক্ষা নিতেন|একবার গুরু দেব নির্দেশ দিলেন যে, “যত ক্ষণ না আমি ফিরে আসি তুমি এখানে এই আসনে বসে থাকবে। আসন ছেড়ে অন্য জায়গায় কোথাও যাবে না।” গুরুদেব যে গেলেন ত এলেন আট দিন পরে। শ্রীরামদাসজী আট দিন একটানা সেই আসনে বসে রইলেন, কিছু আহার করলেন না, প্রকৃতির ডাকেও সারা দিলেন না অষ্টম দিনে গুরুদেব ফিরে এলে শ্রীরামদাসজী আসন থেকে উঠে গুরুদেবকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করলেন। তাঁর গুরু আজ্ঞা পালনের প্রতি এই একনিষ্ঠতা ও দৃঢ়তা দেখে গুরুদেব খুব প্রসন্ন করলেননা|
এক্ষেত্রে আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করা যায় একদিন হঠাৎ গুরু তার শ্রীরাম দাসজীকে বেদম পেটাতে লাগলেন, চিমটা আদি দিয়ে এমন মারতে লাগলেন যে শ্রীরামদাসজীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফুলে উঠল। মারতে মারতে তিনি বললেন, “তুই কেন আমার পিছনে পড়ে আছিস্, আমার সব বড় বড় চেলা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, তুইও চলে যা। আমি কারুর সেবা চাই না।” শ্রী রামদাসজী গুরুদেবকে বিনীত ভাবে বললেন, “মহারাজ, আমি আপনাকে সাক্ষাৎ ভগবান মনে করি, সেই জন্য আপনাকে ছেড়ে ত আমি কোথাও যাব না। তবে এই রকমও আর সহ্য করতে পারছি না। আমি আপনাকে ছুরি দিচ্ছি আপনি আমার গলা কেটে নিন্, কিন্তু প্রাণ থাকতে ত আমি আপনাকে ছেড়ে অন্য কোথাও যাব না।” শিষ্যের এই বিনীত ও আর্ত কথাগুলি শুনে গুরুদেব প্রসন্ন হয়ে বললেন, “আজকে তোমাকে আমি শেষ বার পরীক্ষা করলাম, তোমার সেবায় ও গুরুভক্তিতে আমি প্রসন্ন হয়েছি। আমি বরদান করছি যে তোমার সর্বাভীষ্ট সিদ্ধ হবে, তুমি ইষ্টদেবের সাক্ষাৎকার পাবে,” ইত্যাদি বহু বর শ্রীরামদাসকে প্রদান করলেন|
সাধনার সকল স্তর অতিক্রম করে সিদ্ধি লাভ করে প্রকৃত অর্থে যোগিরাজ হয়ে উঠেছিলেন রাম দাস বাবাজি|সারা ভারতের তীর্থ দর্শন করে বৃন্দাবনে পাকাপাকি ভাবে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি|নির্বাক সম্প্রদায়ের গুরুদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ট গুরু ও সাধক যার কাছে দীক্ষা নিয়েছেন অসংখ্য মানুষ যার মধ্যে রয়েছেন বহু বাঙালি|তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন যার পরিচয় পাওয়া যায় একাধিক ঘটনায়
তিনি দেহে থাকাকালীন নিজেরই ছবি থেকে বহির্গত হয়ে একজনকে দীক্ষা দিয়েছিলেন। আকাশমার্গে বৃন্দাবন থেকে কলকাতায় আগমন করে অপর একজনকে মন্ত্র প্রদান করেছিলেন। তিনি এক কালে দুই পৃথক স্থানে ভক্তদের দর্শন দান করতে সমর্থ ছিলেন। শুধু তাই নয়, এখনো পর্যন্ত তিনি কোন কোন ভক্তকে প্রত্যক্ষদর্শন প্রদান করে থাকেন। তাঁর জীবনের সম্পূর্ণ বিবরণ এই স্থানে দেওয়া অসম্ভব। ১৩১৬ বঙ্গাব্দে ৮ই মাঘের ভোর রাত্রে এই মহাপুরুষ স্বেচ্ছায় যোগাসনে স্থিত হয়ে পরলোক গমন করেন|
প্রনাম জানাই এই মহান সাধককে|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বার যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিবকথা – শিবের জন্ম
শিব কথার আজকের এই নতুন পর্বে আপনাদের স্বাগত|চিদ্ জগতে শিব সদাশিব রূপে অবস্থান করেন। কখনও কখনও শিবকে বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষকও বলা হয়।আবার তিনি দেবাদিদেব অর্থাৎ দেবতাদের আরাধ্য দেবতা|তিনি তম গুনের অধিকারী তাই সংহার কর্তা|লৌকিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি আপাদমস্তক সংসারী আবার তিনিই আদি অঘোরী|বৈচিত্রপূর্ণ এই একাধিক গুণাবলীর অধিকারী শিবের জন্মের উল্লেখ আছে শাস্ত্রে আছে তার পিতৃ পরিচয়|আদি শিব লিঙ্গ প্রকট হয়েছিলো আদি অন্ত হীন রূপে তবে জন্মসূত্রে শিবের পিতা হলেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁর প্রথম মানস পুত্র চতুষ্কুমারগণ প্রজা সৃষ্টিতে লিপ্ত হতে অস্বীকার করলে ব্রহ্মারঅন্তরে দুর্বিসহ ক্রোধ উৎপন্ন হয়েছিল। যা তিনি সংবরণ করার চেষ্টা করলেও তা তাঁর ভ্রূর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং নীললোহিত বর্ণের একটি শিশু উৎপন্ন হয়েছিল। জন্মের পরেই শিশু ক্রন্দন বা রোদন করতে শুরু করে। ব্রহ্মা তখন বলেছিলেন “হে সুরশ্রেষ্ট। যেহেতু তুমি উৎকন্ঠিত হয়ে রোদন বা ক্রন্দন করেছ তাই প্রজাসমূহ তোমাকে ‘রুদ্র’ নামে অভিহিত করবে।” এই হোলো সংক্ষেপে শিবের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার রূদ্র নামের ব্যাখ্যা|শিবের নিত্যধাম-মহেশধাম জড়জগৎ ও বৈকুণ্ঠ লোকের মধ্যবর্তী। এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মসংহিতাতে বলা হয়েছে “গোলোকনাম্নি নিজ ধান্মি তলে চ তস্য দেবী-মহেশ-হরি ধামসু তেষু তেষু” এখানে দেবীধাম অর্থে জড় জগৎ এবং হরিনাম অর্থে বৈকুন্ঠ লোক এবং মহেশ ধাম তার মধ্যবর্তী। সেই সদাশিবই জড় জগতে রুদ্র রূপে নিজেকে প্রকাশ করেন|আগামী পর্বে শিব সংক্রান্ত এমনই কোনো তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্যে|নিয়মিত লেখা ও ইউটিউবের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি টিভির অনুষ্ঠানেও নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসছি প্রায় প্রতিদিন|পাশাপাশি সরাসরি ও অনলাইনে বহু মানুষের ভাগ্য গণনা ও প্রতিকার প্রদান চলছে|আপনারাও নিজের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য- জাটোলি শিব মন্দির
শ্রাবন মাস জুড়ে শিব সংক্রান্ত নানান তথ্য আপনাদের সামনের উপস্থিত করবো লেখা লেখি ও টিভির অনুষ্ঠানেরা মাধ্যমে|পাশাপাশি ইউ টিউব এও প্রতি নিয়ত নিত্যনতুন ভিডিও আপলোড হচ্ছে|আজকের পর্বে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি রহস্যময় শিব মন্দিরের কথা লিখছি|জাটোলি শিব মন্দির নামে একটি সুউচ্ছ শিবমন্দির দেবভূমি হিমাচল প্রদেশের সোলানে অবস্থিত রয়েছে|অনেকের মতেই এই মন্দির দেশের উচ্চতম শিব মন্দির|এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অতি প্রাচীন এমননি একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে প্রাচীনকালে স্বয়ং মহাদেব এই জায়গায় এসেছিলেন ও কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে যান|একটি বিশেষ কারনে এই মন্দির রহস্যময় মন্দিরে পরিনত হয়েছে|কথিত আছে এই মন্দিরের দেয়াল থেকে ডমরুর শব্দ উৎপন্ন হয়ে|এই মন্দিরের দেয়ালে আঘাত করলে এক বিশেষ ধরণের শব্দের তরঙ্গ তৈরি হয়। যা হুবহু মহাদেব হাতের বাদ্যযন্ত্র, ডমরুর শব্দের মতো|আস্থাশীল ও নিষ্ঠাবান দর্শিনার্থীদের কাছে এই অলৌকিক শব্দ বা ডমরু ধ্বনি অতি পবিত্র|শিব সাধক স্বামী কৃষ্ণানন্দ পরমহংস ১৯৭৪ সালে বর্তমানে অবস্থিত মন্দিরের স্থাপনা কার্য শুরু করেন| মন্দিরের উচ্ছতা ১১১ ফুট|মন্দিরের ভিতরের এক ক্রিস্টাল শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে এবং শিব পার্বতীর মূর্তিও রয়েছে|পাশাপাশি আরও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তিও রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১১ ফুট উঁচু সোনার কলসি রাখা আছে মন্দিরের সর্বোচ্চ স্থানে|কলকাতারা দুর্গোৎসবের থিম পুজোর দৌলতে অনেকেই হয়তো এই মন্দির দেখেছেন তবে হিমাচল প্রদেশে যাত্রা কালে কখনো এই মন্দির দর্শনের সুযোগ এলে হাতছাড়া করবেন না|আজ বিদায় নিলাম চেম্বারে জ্যোতিষ চর্চা ও অনলাইন জ্যোতিষ পরামর্শ দেয়ার ফাঁকে সময় বের করে আবার ফিরে আসবো নতুন পর্ব নিয়ে|প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|
কবি গুরুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি
আজ বাইশে শ্রাবন অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবস|বাঙালিরা পৃথিবীরা যে প্রান্তেই থাকুক দুটি তারিখ তারা কখনোই ভুলতে পারেনা এক পঁচিশে বৈশাখ এবং তারপর এই বাইশে শ্রাবন|আজকের দিনটি তাকে স্মরণ করার দিন, তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার দিন আর এই কাজ টা সাধারনত করা হয় তার গানের মাধ্যমে|তার কবিতার মাধ্যমে এবং তার জীবন দর্শন ও কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনারা মাধ্যমে|
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিশ্ববাসি তথা বাঙালি কে নতুন করে আর কি বলার আছে তা ভাবার বিষয়|উনি শুধু বিশ্ব কবি নন বিশ্ব গুরুও বটে | সারা পৃথিবীতে এমন প্রতিভা খুব কমই জন্মেছে | শিল্প,সাহিত্য,আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার,দর্শন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার অবাধ ও সফল বিচরণ |নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন মানব কল্যানে| তার জীবন ও কার্যকলাপ এক রহস্য, যেন বিশাল সমুদ্র তিনি, যার খুব সামান্যই আমরা দেখতে পাই|তার জন্মদিন ও মৃত্যু দিন দুটোই বাঙালির তেরো পার্বন এর সাথে জুড়ে যাওয়া দুটি উৎসব হিসেবে আজ পালন হয় গোটা বিশ্বের দরবারে |
কিন্তু কিকরে এলো একটি মানুষের মধ্যে এতো প্রতিভা, এ এক বিস্ময় | শুধু তার কর্ম ক্ষেত্র নয় ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ নাথ ও এক গবেষণার বিষয়, অসংখ্য শোক ও অফুরন্ত প্রান শক্তি এই দুয়ের সংঘর্ষ চলেছে তার সারা জীবন ধরে |নানা ভাবে তার জীবন ও কাজ কে ব্যাখ্যা করা হয়| ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তাকে নিয়ে লিখেছি|তার প্রেত চৰ্চা নিয়ে|তার রসবোধ নিয়ে|আলোচনা করেছি তার আধ্যাত্মিক চেতনা নিয়ে এমনকি তার জন্মছক বিশ্লেষণ ও করেছি|তবু তাকে নিয়ে লেখা বলা যেনো শেষ হতে চায়না|তিনি এক বিরল এবং বিস্ময় প্রতিভা যার আদি অন্ত খুঁজে পাওয়া মুশকিল|
ব্যাক্তিগত ভাবে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন আত্মার অমর তার সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই,তিনি সকল ধর্মীয় গোড়ামির উর্ধে ছিলেন আবার ধ্যান ও প্রার্থনা সংগীত কে গুরুত্ব দিতেন |তিনি নির্দ্বিধায় বলতে পারতেন –
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছো আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনা জলে
করি হে ছলনা ময়ী “
রবীন্দ্রনাথ নাথ কে নিয়ে, তার সৃষ্টি কে নিয়ে গবেষণা চলছে, চলবে |আগামী দিনে হয়তো তাকে নিয়ে আরো নতুন নতুন তথ্য সামনে আসবে হয়তো নতুন করে আবিষ্কৃত তার প্রতিভার অন্য কোনো দিক| আপাতত তার সৃষ্টিরা মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়ার এই প্রচেষ্টা চলতে থাকুক|প্রয়ান দিবসে গুরুদেবের চরনে রইলো প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
পুরান রহস্য – পঞ্চকেদার সৃষ্টি হলো কিভাবে?
শিব ক্ষেত্র বলতেই প্রথমেই কাশি বা অমরনাথ বা কৈলাস মানস সরোবরে নাম মনে হলেও শৈব্য দের কাছে পাঁচটি শিব মন্দিরের আলাদা মাহাত্ম্য আছে|এই পাঁচটি শিবমন্দিরকে একত্রে পঞ্চ কেদার ও বলে|এগুলি হলো যথাক্রমে কেদার নাথ, তুঙ্গনাথ যা উত্তরাখণ্ড এর রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির, মদমহেশ্বর,রুদ্রনাথ যা পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম রুদ্রনাথ। কল্পেশ্বর ,কল্পগঙ্গা নদীর তীরে কল্পেশ্বর মন্দির।এই পাঁচটি মন্দির বা পঞ্চকেদার কিভাবে সৃষ্টির হোলো তা নিয়ে মহাভারতে একটি সুন্দর ঘটনার উল্লেখ আছে|কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের হত্যা করলেন পঞ্চ পাণ্ডব এবং স্বজন হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যার মত গুরুতর পাপের ভাগী হলেন। যুদ্ধ শেষে শোকে দুক্ষে মর্মাহত পাঁচ ভাই বেড়িয়ে পড়লেন দেবাদিদেব মহাদেব-এর খোঁজে। উদ্দেশ্য তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে কিছুটা হলেও মনের শান্তি ফিরে পাওয়া।প্রথমেই তাঁরা গেলেন শিবধাম কাশীতে যেখানে রয়েছে অসংখ্য শিব মন্দির|কাশীতে শিবের দেখা না পেয়ে বিমর্ষ পঞ্চপাণ্ডব গেলেন গাড়োয়াল হিমালয়ে। সেখানে গুপ্তকাশীর কাছাকাছি তাঁরা দেখলেন প্রকাণ্ড এক ষাঁড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পঞ্চপাণ্ডবদের অন্যতম ভীম দর্শনমাত্র চিনে ফেললেন যে এই ষাঁড়ের ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছেন স্বয়ং মহাদেব|ওদিকে পাণ্ডবদের দেখেই শিব পালানোর চেষ্টা করলেন। ছুটে গিয়ে ভীম ষাঁড়টিকে জড়িয়ে ধরলেন। শিব তৎক্ষণাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন মাটীর নীচে এবং ওই আত্মগোপনরত অবস্থায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় শিব পঞ্চপাণ্ডবদের দর্শন দেন। কেদারনাথে ষাঁড়ের কুঁজ আবির্ভুত হয়। তুঙ্গনাথে বাহুদ্বয়, রুদ্রনাথ-এ মস্তক, নাভি ও পেট আবির্ভূত হয় মদমহেশ্বর-এ, চুল ও জটা কল্পেশর-এ। এভাবেই খণ্ডিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এই সকল জায়গায়। এরপর পাণ্ডব ভাইয়েরা এই পাঁচ জায়গাতেই শিবের মন্দির স্থাপন করলেন, যা বর্তমানে একত্রে পঞ্চ কেদার নামে হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থস্থান ও জগৎ প্রসিদ্ধ|আগামী পর্বে এমনই কোনো রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ঘটনার সহজ ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|আপাতত অনলাইন ও চেম্বারে পেশাগত ব্যাস্ততা বেশ বেড়েছে পাশাপাশি নিয়মিত টিভির অনুষ্ঠানতো আছেই|দেখতে থাকুন এবং পড়তে থাকুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে সাক্ষাতের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিব কথা – শিব অবতার পিপলাদ
সনাতন ধর্মে যেমন বিষ্ণুর দশ অবতারের উল্লেখ আছে তেমনই দেবাদিদেব মহাদেবের একাধিক অবতার ও আছে|নানা অবতারের রূপ ধারণ করে বারবার পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন মহাদেব। পুরাণ থেকে তাঁর মোট ১৯টি অবতারের কথা জানা যায়|আজ শিবের একটি বিশেষ অবতার সম্পর্কে জানবো এই পর্বে|ত্যাগের মূর্ত প্রতীক সাধু দধিচি ও তাঁর স্ত্রী স্বর্চার সন্তান পিপলাদ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শিব। শৈশবে পিসি দধিমতির কাছে পালিত হয়েছিলেন তিনি। প্রবল পরাক্রমী ছিলেন পিপলাদ|এই পিপলাদ ও গ্রহ রাজ শনির মধ্যে একবার বিবাদ দেখা দেয়|বড় হয়ে যখন পিপলাদ জানতে পারেন যে তাঁর বাবাকে সমস্যায় ফেলেছিলেন শনি। ক্ষুব্ধ পিপলাদ শনিকে অভিশাপ দিলে স্বর্গ থেকে পতন হয় শনির। দেবতারা এসে পিপলাদের কাছে শনির হয়ে ক্ষমাভিক্ষা করলে পিপলাদ শনিকে ক্ষমা করে দেন কিন্তু বলেন যে শনির দৃষ্টি যার ওপর পড়বে, তিনি শিবের পুজো করলে শনির দশা কেটে যাবে। আজও জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শিবের পুজো করলে ও শিব কৃপা লাভ করলে শনি গ্রহের কু প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ হয়|আপনারাও এই শ্রাবন মাস কে কাজে লাগিয়ে নিজের গ্রহ গত দোষ খণ্ডন করাতে পারেন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলতে চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার শিব – ঝাড়েস্বর শিব মন্দির
পন্ডিত জি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার শিব শীর্ষক এই ধারাবাহিক লেখনী তে আগেও বেশ কয়েকটি পর্বে বাংলার প্রাচীন ও জনপ্রিয় শিব মন্দির গুলি কথা লিখেছি|মেদিনীপুরে কানাশোলে রয়েছে এমনই এক প্রাচীন শিবমন্দির যা ঝাড়েশ্বর শিব মন্দির নামে খ্যাত| কানাশোলের এই ঝাড়েশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন|সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি আগে থেকে এখানে ঝাড়েশ্বর মহাদেবের পুজোর প্রচলন রয়েছে|১২৪১ বঙ্গাব্দে নাড়াজোলের রাজা অযোধ্যা রাম খানের দেওয়ান রামনারায়ণ জানা এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। কঠিন অসুখ থেকে সেরে ওঠার পরেই তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মহাদেব এখানে ঝাড়েশ্বর রূপে পূজিত হন|শোনো যায় একটি দীঘি খননের সময়ে এখানে এই শিব লিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়|কিংবদন্তী অনুসারে একটি গাভী গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে এই শিব লিঙ্গকে নিজের দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে যেতো| রাজ্যের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই মন্দির একদিকে স্থাপত্য শৈলীর অনুপম নিদর্শন, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। এখানে রয়েছে মহাকাল ভৈরবের থান, নাটমন্দির, ভোগমন্দির|শোনা যায় ঝাড়েশ্বর মহাদেব খুব দয়ালু বহু ভক্ত তার কাছে মনস্কামনা করে ফল পেয়েছেন| শিব রাত্রি ও শ্রাবন মাসে বিশেষ তিথি গুলিতে এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়|দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন ঝাড়েশ্বর মহাদেবের দর্শন করতে ও তার কৃপা লাভ করতে| আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো বাংলার শিবের নতুন পর্বে|যারা সরাসরি সাক্ষাৎ চান বা অনলাইনে জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান তারা নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|