Home Blog Page 154

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজা : দাঁ পরিবারের পুজো

দুর্গোৎসব এর এই পুন্য সময়ে আমি চেষ্টা করছি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আমাদের বাংলার তথা কলকাতার এক হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস যে ইতিহাসের সাথে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য গল্প ও ঘটনা|শুরু করলাম কলকাতা দিয়ে পরবর্তীতে জেলার ঐতিহাসিক ও বনেদি পুজোর কথাও লিখবো আজ বনেদি বাড়ির পুজোতে বলবো দাঁ পরিবারের পুজোর কথা|

সেকালের কলকাতায় দূর্গা পুজো কে ঘিরে একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিলো যে দেবী মর্ত লোকে পা রেখে প্রথমে সাজতে আসেন দাঁ বাড়িতে তার পর এখান থেকে অন্য কোথাও যান|কেনো এই প্রবাদ সৃষ্টি হলো তার পেছনেও একটি কারন আছে|সে বিষয়ে পড়ে আসছি আগে আগে এই এই পরিবার দুর্গাপূজার প্রচলন নিয়ে কয়েকটা কথা জানিয়ে রাখি|

কালী প্রসন্ন সিংহ তার বিখ্যাত হুতোম পেঁচার নকশা গ্রন্থে এই পরিবার সম্পর্কে অনেক তথ্যই দিয়েছেন|এই বংশের প্রতিষ্ঠা ও দূর্গা পুজোর প্রচলন করেন এই বংশের গোকুলচন্দ্র দাঁ সময় টা খুব সম্ভবত 1840 সাল| তিনি পরবর্তীতে শিবকৃষ্ণ দাঁ কে দত্তক নেন|এই শিব কৃষ্ণ দাঁ এর আমলে এই পরিবারের ও তাদের দূর্গা পুজোর নাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র|পারিবারিক লোহা, কয়লা আর হার্ডওয়ারের ব্যবসায় প্রভূত লাভ করেন তিনি এবং লাভের একটা বড়ো অংশ ব্যয় করেন নিজের সৌখিনতা ও পরিবারের দূর্গা পুজোয়|শোনা যায় শিবকৃষ্ণ দাঁ সাজগোজ করতে বড় ভালবাসতেন এবং দূর্গা পুজোয় দেবীর রূপ সজ্জায় তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন|

তার আমলে তিনি ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে বিশেষ কাজ করা অলঙ্কার ও পোশাক আনালেন ঠাকুরকে পরানোর জন্য|সোনা রুপো ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে তৈরী পোশাকs ও গয়নায় দেবীকে সাজানো হতো|

আর একটি মজার ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়|শোনা যায় জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির সঙ্গে ছিলো এই দাঁ পরিবারের খুব রেষারেষি তাই তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ঠাকুরবাড়ির সামনে দেবীকে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তারপর গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হতো বিসর্জনের জন্য|

সেই রাজা আর নেই, রাজত্বও নেই|সবই ধূসর অতীত|তবু দাঁ বাড়িতে পুজো হয়|দেবীর সেই বিখ্যাত সাজ আজও হয়|এখানে রথের দিন গড়ানকাঠ পুজোর মধ্য দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় এবং জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামোতে দেবীর মস্তক স্থাপন করা হয়|এ বাড়ির রীতি অনুসারে
দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় তেরোটি শাড়ি ও তেরোটি কাঁসার পাত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও একশো আটটি পেতলের প্রদীপ সাজানো হয়|এখানে বলী প্রথা নেই কারন পুজো হয় বৈষ্ণব মতে|কুমারী পুজোও এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|
ফিরবো আগামী পর্বে|মহালয়া অমাবস্যা এবং আগামী দিনের বিশেষ তিথি গুলিতে বিশেষ পুজোর ও গ্রহদোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকবে|সবাইকে আসন্ন দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজার : ছাতু বাবু লাটু বাবুর দূর্গা পুজো

আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি তারপর শুরু হয়ে যাবে দুর্গোৎসব, যে উৎসবের জন্য সারাটা বছর অপেক্ষা করে বসে থাকেন প্রতিটা বাঙালি|এবছর দূর্গা পুজোয় নিশ্চই কিছু স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ থাকবে কিন্তু তবু পুজো কে ঘিরে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি|যদিও আজ কাল থিম পুজোর ভিড়ে দূর্গা পুজোর আসল অন্তর্নিহিত অর্থ বা শাস্ত্রীয় আচার অনেকটাই ম্লান তবুও ব্যতিক্রম আছে|আজও বাংলার বহু জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ি সহ একাধিক বনেদি বাড়িতে নিষ্ঠা সহকারে, শাস্ত্রীয় মতে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়|এই সব পুজোর রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং এক গৌরবময় ইতিহাস|আজ থেকে এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী শুরু করছি যেখানে পর্বে পর্বে এই সব বনেদি বাড়ির পুজোর কথা লিখবো|আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এই পর্ব গুলি|আজ প্রথম পর্বে কলকাতার ছাতু বাবু লাটু বাবুর বাড়ির পুজো|আজকের বিডন স্ট্রিটে রয়েছে একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা যার পোশাকি নাম রামদুলাল নিবাস|এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাম দুলাল দে ছিলেন|পুরোনো কলকাতার বাবু সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র|শোনা যায় তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম লাখপতি|তিন ব্রিটিশ আমলে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করে এই অগাধ সম্পত্তি করেছিলেন|তিনিই প্রথম এই বাড়িতে দূর্গা পূজা শুরু করেছিলেন|তার অবর্তমানে তার দুই পুত্র আশুতোষ দেব ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথনাথ দেব ওরফে লাটুবাবুর সময়েই এই পুজো বিখ্যাত হয়|প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যায় করে ও ব্যাপক ধুম ধাম করে দূর্গা পুজো হতো এই বাড়িতে|দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রায় গোটা কলকাতার নিমন্ত্রণ থাকতো এই বাড়িতে|পুজোর সময় যাত্রা হত এমন কি বাঈ নাচের আসর ও বসতো|সেই পুরোনো জৌলুস আর নেই তবু নিষ্ঠা সহকারে সকল প্রথা মেনে দূর্গা পুজো হয়|রথের দিন কাঠামো পুজোর পর প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো|এখানে শুরুর দিন থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত গৃহদেবতা শালগ্রাম শিলার পুজো করা হয় এবং তৃতীয়াতে দেবীকে আসনে বসানো হয়|এই বাড়িতে শাক্ত শৈব এবং বৈষ্ণব তিনটি মতেই পুজো হয়|উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই বাড়ির পুজোয় দেবীর পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী থাকেন না এবং পদ্মের উপর থাকেন মা দুর্গার দুই সখী জয়া আর বিজয়া|শোনা যায় এককালে এখানে পশু বলীও দেয়া হতো কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলী প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বহু কাল আগে|বলা হয় একবার বলি দেওয়ার সময় পাঁঠাটি ছুটে চলে আসে সামনে দাঁড়ানো রামদুলাল দের কাছে। সেই থেকে এই পুজোয় পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে তার বদলে এখন আঁখ, চালকুমড়ো, শসা বলি হয় পুজোর তিন দিন|এছাড়া এখানে কুমারী পুজোও হয় নিষ্ঠা সহকারে|আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে পরের পর্বে অন্য কোনো জমিদার বাড়ি বিক্রি রাজবাড়ির পূজার কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন আর যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যা বা নবরাত্রির পবিত্র সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ এবং গ্রহ দোষ খণ্ডনের কথা ভাবছেন অবশ্যই যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – পরশুরামের কুঠার

দেবতাদের নানাবিধ অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আগেও লিখেছি আজ পরশুরাম ও তার কুঠারের কথা বলবো|হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী শান্তি আনতে ধরিত্রিকে ২১ বার ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম মাতৃ হত্যার জন্যও তিনি আলোচিত|তার কর্ম কাণ্ডের সাথে জড়িত তার বিখ্যাত কুঠার|জমদগ্নির ঔরসে রেণুকার গর্ভে পাঁচ পুত্রের মধ্যে পরশুরাম ছিলেন কনিষ্ঠ।জমদগ্নি একবার নিজ স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে পুত্রকে মাতৃ হত্যার আদেশ দিলেন|পরশুরাম পিতৃ আজ্ঞা পালন করেন ও কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যা করলেন এই পাপে তার কুঠার তার হাতে সংযুক্ত হয়ে যায়|পরবর্তীতেপুত্রের কাজে জমদগ্নি খুশি হয়ে তাকে বর প্রার্থনা করতে বলেন এবং অন্য সন্তানদের অভিশাপ দেন। পরশুরাম মায়ের পুনর্জন্ম, মাতৃহত্যাজনিত পাপ ও মাতৃহত্যা স্মৃতি বিস্মৃত হওয়া, ভাইদের জড়ত্বমুক্তি, নিজের দীর্ঘায়ু ও অজেয়ত্বের বর প্রার্থনা করেন। জমদগ্নি তাঁকে সবগুলো বরই প্রদান করেন এবংব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করার পর হাত থেকে কুঠার বিচ্ছিন্ন হয়েছিল পরশুরামের|ক্ষত্রিয়দের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে একুশবার পৃথিবী নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন। ক্ষত্রিয়দের রক্ত দিয়ে সমস্তপঞ্চক প্রদেশের পাঁচটি হ্রদ পূর্ণ করেন তিনি।তার সব কর্মকান্ড সম্পাদিত হয়েছিলো তার অস্ত্র কুঠারের মাধ্যমে|পরশুরাম ও তার কুঠার যেনো বীরত্বের প্রতিশব্দ|সনাতন ধর্ম শাস্ত্র গুলিতে অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী অস্ত্র পরশুরামের কুঠার|আগামী পর্বে নতুন কোনো অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবো|পড়তে থাকুন যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত নিয়ে আসতে পারেন চেম্বারে অথবা অনলাইনে |যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য : কলকাতার বৌদ্ধ মন্দির

কলকাতায় কালী মন্দির, শিব মন্দির, দূর্গা মন্দির রয়েছে অসংখ্য যার কয়েকটির কথা আপনাদের ইতিমধ্যে বলেছি|আজ একটি বৌদ্ধ মন্দিরের কথা বলবো যা স্বাধীনতার আগে থেকেই রয়েছে এই কলকাতায়, অসংখ্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের আস্থার স্থান এই মন্দির রয়েছে দক্ষিণ কলকাতায়|নিপ্পনজান মায়োহোজি নামের জাপানি বুদ্ধ মন্দিরটি দক্ষিণ কলকাতার লেক রোডে অবস্থিত| এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩১ সালে। এটি স্থাপিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মের নিপ্পনজান মায়োহোজি বা নিপ্পনজান-মায়োহাজি-ডাইসাঙ্গা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুসরণে। বৌদ্ধধর্মের এই ভাগটি চালু হয় ১৯১৭ সালে।মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনেকটা এই রকম ১৯৩১ সালে নিচিদাৎসু নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী কলকাতায় আসেন নিপ্পনজান-মায়োহাজি-ডাইসাঙ্গা ভাবধারা প্রচার করতে শুরু করেন। মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৩৫ সালে।মন্দিরে ঢুকলেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করা যায়, ফুলের বাগান, ঘন্টা ধ্বনি, বৌদ্ধ মন্ত্র, প্রার্থনা কক্ষের বিশাল বেদীতে বিরাজমান শ্বেত পাথরের বুদ্ধ,সব মিলিয়ে মনে হবে যেনো কোনো সুদূরে বৌদ্ধ গুম্ফায় এসে পড়েছেন|পূর্ণিমার রাতে মন্দিরের সৌন্দর্য যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে|ঠাকুর বলতেন যত মত ততো পথ, এই সত্য উপলব্ধি করতে ও বুদ্ধের স্মরণে যেতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন এই বৌদ্ধ মন্দিরে|ভালো থাকুন পড়তে থাকুন|প্রয়োজন পোস্টে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী

আজ আবার পুরান রহস্যর একটি নতুন পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনের উপস্থিতি|আজ শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী নিয়ে লিখবো|যদিও বিষয়টি নিয়ে ইউটিউবে একটি অনুষ্ঠান করেছি আজ ফেসবুকের পাঠকদের জন্যে আরো একবার এই উপস্থাপনা|

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের ঘটনা আমরা অনেকেই জানি|কংস মৃত্যুর পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। কিন্তু ১৭ বার মথুরা আক্রমণের পরও জরাসন্ধ মথুরা জয় করতে ব্যর্থ হন। তবে এই ১৭ বার আক্রমণে মথুরার অধিবাসী যাদবরা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষ্ণ যখন বুঝতে পারেন জরাসন্ধ আর একবার আক্রমণ করলে তারা আর তা প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তখন তিনি তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী|

দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় তার তার আশ্রিত ও পরিবার নিয়ে বাস করতে শুরু করেন|

পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো। গোটা নগরীটি ছিল জলবেষ্টিত। এটি ছিল মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।

কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এ দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শেষের দিকে তিনি ভাল্কা তীর্থের এক বনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত এক শিকারীর তীর বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|মহাভারতে উল্লেখ আছে, কৃষ্ণের মৃত্যুর ৩৬ বছর আগে নাকি সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছিল দ্বারকা।

যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে এক সূত্রে|দ্বারকা নগরী নিয়ে রহস্যর শেষ নেই, শেষ নেই পুরান রহস্যর|আবার আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন|প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার কালী : কঙ্কালেস্বরী কালী মন্দির

কিছুদিন আগেই গেছে কৌশিকী অমাবস্যা, সামনে মহালয়া অমাবস্যা ও দীপান্বিতা অমাবস্যা, প্রতিটি অমাবস্যা তিথিই জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে গুরুত্বপূর্ণ এই শক্তি সাধনার প্রাক্কালে আজ আরো একবার বাংলার এক প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখবো|দক্ষিণ বঙ্গের প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমানের কাঞ্চন নগরের কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির|বর্ধমানের মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাবের উদ্যোগে এই মূর্তি কাঞ্চন নগরের এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় এই নবরত্ন মন্দির কোনও বিগ্রহ ছিল না। এই পাথরের কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠার দিন থেকে এখানে নিত্য পূজা শুরু হয়|এই মূর্তি প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত আছে এক অলৌকিক ঘটনা ও এক ধার্মিক পরিব্রাজকের নাম|কমলানন্দ পরিব্রাজক নামে এক সাধক মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তিনি দামোদরের তীরে গিয়ে ধোপাদের কাপড় কাঁচার কাজে ব্যবহৃত পাথরটি উদ্ধার করেন। সেই পাথরই খোদাই করা ছিলো এই দেবী মূর্তি। এই পাথরের দেবী মূর্তি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয় মন্দিরে|পাথরে খোদাই দেবী কঙ্কালের মতো দেখতে। নাম তাই কঙ্কালেশ্বরী কালী। দেবী এখানে অষ্টভূজা। শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপত্তি হয়েছে পদ্মের। সেই পদ্মার ওপর দেবী বিরাজমান। তাঁর চালচিত্রে একটি হাতি রয়েছে।প্রতিটি বিশেষ তিথিতে নিষ্ঠা সহ দেবীর পুজো হয়|এখানে চামুন্ডা মতে দেবীর পুজো হয় এবং এখানে বলী হয়না কখনো|বর্ধমান সহ গোটা বাংলার প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম এই কঙ্কালেস্বরী কালী মন্দির|আগামী পর্বে এমন কোনো কালী মন্দির ও অলৌকিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|আগের মতোই চেম্বারে ও অনলাইনে নিয়মিত থাকছি জ্যোতিষ চর্চায়|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা

আজ বিশ্বকর্মা পূজা|সাধারনত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তেই বিশ্বকর্মা পূজা হয়ে থাকে|আজ সারা বাংলা তথা দেশের শিল্প ও নির্মানশিল্প কেন্দ্র গুলিতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকর্মাপূজার|আসুন আজকের এই পবিত্র দিনে জেনে নেই দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার আধ্যাত্মিক স্বরূপ ও তার সাথে জড়িত কিছু পৌরানিক ঘটনা|আমাদের সনাতন ধর্মে ভগবান বিষ্ণু তার সৃষ্টি কর্মের একএকটি গুরু দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এক একজন দেবতার উপর|অর্থাৎ ও বাণিজ্যর ভার দেবী লক্ষীর উপর, শিক্ষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব স্বরস্বতীর আবার প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন দেবী দূর্গা|এদের মধ্যে বিশ্বকর্মা হলেন স্থাপত্য ও নির্মাণের দেবতা|তিনি দেব শিল্পী|বিশ্বকর্মা মূলত বৈদিক দেবতা|ঋগ বেদ সহ একাধিক ধর্ম গ্রন্থে এবং রামায়ন মহাভারতের মত মহাকাব্যে উল্লেখ রয়েছে বিশ্বকর্মার|তিনি ব্রহ্মা সৃষ্টি কর্মের অন্যতম সহযোগী|সৃষ্টির একদম আদি লগ্ন থেকে বিভিন্ন সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে তিনি জগৎ নির্মাণের কাজে যুক্ত|বিশ্বকর্মার পুত্র বিশ্বরূপকে ইন্দ্র বধ করেছিলেন এবং ইন্দ্র ও বিশ্বকর্মার শত্রুতাও দেখা দিয়েছিলো|যদিও নিজের কর্তব্যে সদা অবিচল বিশ্বকর্মা এবং নিজের সৃষ্টিকর্মে সর্বদা মগ্ন তিনি|আজ তার পুজোর মধ্যে দিয়ে তাকে ও তার সৃষ্টিশীলতাকে আসুন শ্রদ্ধা জানাই|আপনাদের সবাইকে বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রাধাষ্টমী ব্যাখ্যা

আজ রাধাষ্টমী|প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরবর্তী অষ্টমী তিথি রাধাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়| এটি কৃষ্ণ সঙ্গিনী শ্রীরাধার পবিত্র জন্মতিথি। মথুরার পবিত্র বারসনা শ্রীরাধার জন্মস্থান। রাজা বৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী কীর্তি স্বর্ণপদ্মের উপর শ্রীরাধাকে পেয়েছিলেন। ভক্তিভরে রাধাষ্টমী পালন করলে মনের সব কামনা পূরণ হয়। ভাদ্র মাসের শুক্ল অষ্টমী তিথি শ্রী শ্রী রাধারানির জন্মতিথি রাধাষ্টমী।আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২৮ ভাদ্র, মঙ্গলবার শ্রী শ্রী রাধাষ্টমী।সূর্য দেব বিষ্ণুর বর প্রাপ্ত হয়ে বৃষ ভানু রূপে জন্মে রাধাকে তাদের কন্যা রূপে পেয়েছিলেন|রাজা শ্রীবৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীকীর্তি তাঁদের কন্যা হিসাবে রাধা-কে বড় করেছিলেন। রাধা এই তিনটি কল্প, ব্রহ্মকালপ, ভারহাকল্প এবং পদ্মকাল্পে কৃষ্ণের সর্বোচ্চ শক্তি হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।এ কারণেই বেদ ও পুরাণ প্রভৃতি তাদের ‘কৃষ্ণবল্লভা’, ‘কৃষ্ণাত্মা’ কৃষ্ণপ্রিয়া ‘বলে অভিহিত করা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনিগুলিতে এমন একটি বিবরণ পাওয়া যায় যে, কৃষ্ণ রূপে অবতার নেওয়ার আগে ভগবান শ্রীবিষ্ণু তাঁর ভক্তদেরও পৃথিবীতে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় বিষ্ণু প্রিয়া লক্ষ্মীও রাধা রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন।রাধাষ্টমী উপাসনা পদ্ধতি সহজ সরল|সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন।ঠাকুরের স্থানে লাল বা হলুদ কাপড় পেতে তার উপরে, শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধার মূর্তিটি স্থাপন করুন। পাশাপাশি পুজোর ঘটও স্থাপন করুন।এই দিন পঞ্চামৃত দিয়ে রাধা ও কৃষ্ণের স্নান করান। এরপর দুজনকেই নতুন বস্ত্র পরিয়ে সাজিয়ে দিন।আপনার নিয়ম মেনে পুজো সারুন, ফুল-ফল নৈবেদ্য সাজিয়ে দিন, প্রয়োজনে ভোগও দিতে পারেন।এরপর রাধা কৃষ্ণের মন্ত্রগুলি জপ করুন, ও রাধা কৃষ্ণের আরতি করুন।সনাতন ধর্মে রাধা-কৃষ্ণ ভক্তদের জন্য রাধা অষ্টমীর বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্রে একটি বিশ্বাস রয়েছে যে, যিনি এই ব্রত রাখেন তাঁর কোনওদিন অর্থের অভাব হয় না। শ্রী কৃষ্ণ ও রাধাআশীর্বাদ সর্বদা তাঁধের উপর বজায় থাকে।এই কারণেই ভক্তরা প্রথমে তাঁর আরাধ্য কৃষ্ণের পুজো করার আগে, রাধা রানীর পুজো করেন। বিশ্বাস করা হয় রাধা অষ্টমীর উপবাস করলে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়।আপনাদের সবাইকে রাধাষ্টমীর শুভেচ্ছা|পালন করুন এই তিথি|ভালো থাকুন|নমস্কার

পুরাণ রহস্য – হনুমানজি কি বিবাহিত ?

যদিও আমরা সকলেই হনুমানজীকে ব্রহ্মচারী বলে জেনে এসেছি। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না হনুমানজীর একবার বিবাহও হয়েছিল|শাস্ত্রে উল্লেখিত এই রহস্যই আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো| পবনপুত্র একাধারে বিবাহিত ছিলেন এবং আবার তিনি বাল ব্রহ্মচারীও ছিলেন।  কিছু বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জগতের কল্যাণে বজরঙ্গবালীকে সর্বচ্চলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়েছিল। এই ঘটনার উল্লেখ আছে পরাশর সংহিতায়।পরাশর সংহিতায় বলা আছে যে সূর্যদেব নিজেই এই বিবাহ সম্পর্কে বলেছেন যে – এই বিবাহ বিশ্বজগতের কল্যাণে করা হয়েছে এবং হনুমানজীর ব্রহ্মচর্য এতে কোন ভাবেই প্রভাবিত হয়নি।হনুমানজীকেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়েছিল।  তবে এর অর্থ এই নয় যে ভগবান হনুমান ব্রহ্মচারী ছিলেন না। হনুমানজীকে একবার বিশ্বজগতের কল্যাণে বিবাহ করেতে হয়েছিল। তিনি বিবাহ করেছিলেন সূর্য দেবের কন্যা সর্বচ্চলাকে। ছোট বেলায় হনুমানজী সূর্যদেবকে ফল মনে করে খেতে যাওয়া সূর্যদেবকেই তার গুরু মেনে নেন। তিনি সূর্যদেবের কাছ থেকে মোট নয়টি বিদ্যা রপ্ত করতে গেছিলেন। প্রথম পাঁচটি বিদ্যা উনি শেখার পর শেষ চারটি বিদ্যার জন্য উনি অসমর্থ ছিলেন। কারন শেষ চারটি বিদ্যার জন্য ওনাকে বিবাহিত হতে হত। কিন্তু উনিতো ব্রহ্মচারী। শেষে উনি বিবাহের জন্য রাজি হন। উনি বিবাহ করেন  সূর্যদেবেরকন্যা সর্বচ্চলাকে। সর্বচ্চলা ছিলেন একদিকে তপাস্বী ও তেজস্বী। সূর্যদেব ওনাকে বলেছিলেন সর্বচ্চলার তেজ এক তুমিই সম্বরণ করতে পারবে। হনুমানজী কিন্তু বিবাহ করলেও ব্রহ্মচারীই ছিলেন।সর্বচ্চলা বিবাহের পর আবার তপস্বায় চলে যান। হনুমানজী সূর্যদেবের কাছে তাঁর সম্পূর্ন বিদ্যা শেষ করেন।তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলায় হনুমানজী ও সর্বচ্চলার একটি মন্দির আছে অনেক পুরোন।তাঁকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকেরা আসেন। কথিত আছে যে হনুমান জি তাঁর স্ত্রী সর্বচ্চলার মন্দির দর্শনের পরে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলার সমস্ত উত্তেজনা শেষ হয়। আগামী দিনে পুরান রহস্যর নতুন পর্বে নতুন কোনো রহস্য নিয়ে ফিরে আসবো|চেম্বার ভিসিট ও অনলাইন জ্যোতিষ চর্চা দুই চলছে সমান তালে প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেননা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গণেশ বন্দনা

আজ গণেশ চতুর্থী তে মূলত তার আমরা বিঘ্নহর্তার জন্ম তিথি উদযাপন করি ঘরে ঘরে এবং তার কাছে প্রার্থনা জানাই নিজেদের আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক উন্নতির|গণেশকে নিয়ে আমাদের পুরানে অসংখ্য ঘটনার উল্লেখ আছে|গনেশের মূর্তিতে তার একটি দাঁত ভাঙা|এনিয়েও আছে পৌরাণিক ব্যাখ্যা|মনে করা হয়, একবার পরশুরাম দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর গৃহে যান। কিন্তু গণপতি দরজাতেই তাঁকে আটকে দেন। ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। কারণ সেই সময় মহাদেব ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তখনই ক্রোধান্বিত হয়ে পরশুরাম গণপতির একটি দাঁত কেটে দেন তার অস্ত্র দিয়ে|

আরেকটি ব্যাখ্যা আছে,পুরাণ অনুসারে, একটি শর্তেই এই মহাকাব্য বলা ও লেখার কাজ করা হয়েছিল। শর্ত ছিল, একটানা বলে যাবেন বেদব্যাস আর তা একটানা একটুও না থেমে লিখে যাবেন গণপতি|তাই চলছিল,এই ভাবে টানা লিখতে লিখতে এক সময় হঠাৎই লেখার পালকটি ভেঙে যায়। তখন লেখা না থামিয়ে গণপতি নিজের একটি দাঁত ভেঙে নিয়ে তা দিয়ে লেখা চালিয়ে যান।

গণেশ বন্দনা চলবে সারা বছর তবে এই বিশেষ দিনে তাকে শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুসারে সন্তুষ্ট করুন পুজোর মাধ্যমে ও উপাচারের মাধ্যমে|সবাইকে গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|