ভগবান শিব কে আমরা যখনি দেখি, তার জটায় দেখতে পাই গঙ্গা আর তার পাশে বাসুকি নাগ, গঙ্গা কিভাবে শিবের জটায় স্থান পেলো সেই পৌরাণিক ঘটনা আমাদের অনেকেরই জানা কিন্তু বাসুকি নাগ কেনো সদা শিবের মাথায় সেই রহস্য অনেকের কাছেই রহস্য|আজ লিখবো এই রহস্য নিয়ে|কশ্যপ ও তার স্ত্রী কদ্রুর জ্যেষ্ঠ্ নাগ-পুত্র বাসুকি, শেষনাগ,আদিশেষনাগ ও বাসুকি – তিন নামেই ইনি পরিচিত। মাতা কদ্রুর অন্যায় আদেশ অমান্য করায় কদ্রু অনন্তকে শাপ দেন যে, তিনি জনমেজয়ের সর্প-যজ্ঞে দগ্ধ হয়ে মারা যাবেন। নানা পবিত্র তীর্থে কঠোর তপস্যার পর অনন্তনাগ ব্রহ্মার দেখা পান। ব্রহ্মা ওঁকে বলেন চঞ্চল পৃথিবীকে নিশ্চল করে ধারণ করতে। অনন্ত বা শেষ নাগ পাতালে গিয়ে মাথার ওপর পৃথিবী ধারণ করলেন। ব্রহ্মার অশীর্বাদে গরুড় তার সহায় হলেন এবং পাতালের নাগগণ তাকে নাগরাজ বাসুকিরূপে বরণ করলেন।বহু উল্লেখযোগ্য পৌরাণিক ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছেন এই বাসুকি নাগ |বাসুকীর বিশেষ অবদান ছিলো সমুদ্র মন্থন এর ক্ষেত্রে আবার কারাগারে জন্ম নেয়া কৃষ্ণ কে যখন পিতা বাসুদেব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন নদী মধ্যে প্রবল বৃষ্টি পাত থেকে বাসুকি তার বিশাল ফনা দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ কে রক্ষা করেছিলেন |এই প্রবল পরাক্রমী বাসুকি কিভাবে শিবের মাথায় স্থান পেলো তাই নিয়ে ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সবথেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনো বাসুকি শিব কে সাহায্য করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার জটায় আশ্রয় দেন |শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন |আপাতত আজকের পুরান রহস্য এই টুকুই, আপনাদের জানিয়ে রাখি নিয়মিত লেখা লেখির পাশাপাশি ইউটিউব নিয়েও ফিরে এসেছি নতুন রূপে, জ্যোতিষ চর্চার ক্ষেত্রেও চেম্বার ও অনলাইনে আমি আপনাদের পাশে, কলকাতার বাইরে এমনকি রাজ্যের বাইরেও আগামী দিনে আমাকে পাবেন|প্রয়োজন শুধু একটি ফোন কলের|নাম্বার পোস্টে উল্লেখ করাই আছে|ভালো থাকুন|নমস্কার|
মন্দির রহস্য – কালভৈরব মন্দির
বেশ কিছু দিনের বিরতির পর আবার একটি নতুন মন্দির রহস্য নিয়ে আমি আপনাদের সামনে, আজ বলবো মধ্য প্রদেশের উজ্জ্বয়িনীতে অবস্থিত রহস্যময় কালভৈরব মন্দিরের কথা|
উজ্জয়িনীতে এসে এই মন্দির দর্শন না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে উজ্জয়িনী ভ্রমণ। মন্দিরনগরী উজ্জয়িনী আর এই নগরেই রয়েছে জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ কালভৈরব মন্দির|শতশত বছর ধরে আজও সারাদিন তীর্থযাত্রী আর ভক্তদের অবিরাম স্রোত বয়ে চলেছে ভৈরবমন্দির অভিমুখে।
মন্দিরের ছোট্ট একটি পূজাবেদিতে অধিষ্ঠিত দেবতা কালভৈরব তিনি কোনও মত্ত মাতালের মতো সুরা পান করেন আকন্ঠ। এ চোখে না দেখলে কানে শুনে বিশ্বাস করা মুশকিল|
আশ্চর্যজনক ভাবে যে কোনও মানুষের দেওয়া সুরা-উপচার প্রকাশ্য দিবালোকে, এমনকি রাত্রিকালেও, যে কোনও সময়ে পান করার ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা কালভৈরবের আছে|আর এখানেই লুকিয়ে আছে এই মন্দিরের রহস্য|
কালভৈরবকে যে কোনও সুরাই পরিবেশন করা চলে। দিশি বা স্কচ, যে কোনও সুরা হলেই হল। কোনওটাতেই কালভৈরবের আপত্তি নেই। মন্দিরের পূজারি একটি স্টেনলেস স্টিলের থালায় সুরা পরিবেশন করে কালভৈরবের উদ্দেশ্যে তন্ত্রের মন্ত্রোচ্চারণ ও তান্ত্রিক অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে প্রার্থনা করে থালাপূর্ণ সুরা দেবতার ঠোঁটের ফাঁকে সামান্য কাত করে ধরলে তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের সামনে। এইভাবে বোতলের পর বোতল সুরা দিলে তা নিঃশেষ হয়ে যেতে বেশি সময় লাগে না।তবে একমাত্র পূজারি ছাড়া এই মন্দিরের আর কেউই কালভৈরবকে সুরা পান করাতে সক্ষম হন না|
শোনা যায় সুরা কোনও গর্তের ভিতরে গড়িয়ে পড়ছে কিনা তা জানার সন্দেহ প্রকাশ করে ইংরেজ আমলে একবার গোটা মন্দিরটা জব্বর খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল। কিন্তু ভৈরবের সুরাপানের রহস্যের ছিটেফোঁটাও মীমাংসা হয়নি|রহস্য রহস্যই থেকে গেছে|
আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন লেখালেখি আর চোখ রাখুন আমার প্রতিটি অনুষ্ঠানে, আর যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার চান তারা ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
জগৎ জননী মা সারদা
আজকের দিনটি আমাদের অর্থাৎ রামকৃষ্ণ ও মা সারদার অনুরাগী দের কাছে একটি বিশেষ দিন, আজ দেবী সারদার একশো আটষট্টি তম জন্ম তিথি|আজ মা সারদার ব্যাক্তিত্বের একটি বিশেষ দিক আলোচনা করে তাকে শ্রদ্ধা জানাবো, তার দিব্য চরনে আমার প্রনাম নিবেদন করবো|
আজ আমরা মায়ের এক ভক্ত আমজাদের কথা স্মরণ করতে পারি।মা নিজের হাতে তাকে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।
ভাবতেও অবাক লাগে কত বছর আগে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে শ্রীশ্রীমা এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।
এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ, তিনি প্রকৃত অর্থেই সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|
বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম|
পুরান রহস্য – নারদ মুনি কে?
হিন্দু ধর্মের অসংখ্য দেব দেবী ও পৌরাণিক চরিত্র দের মধ্যে এক রহস্যময় ও ব্যতিক্রমী চরিত্র দেবর্ষি নারদ |তিনি এক জনপ্রিয় পৌরাণিক চরিত্র, আচার আচরণে তিনি পরম বৈস্নব |মুখে সদা হরিনাম, সর্বত্র তার অবাধ যাতায়াত, সব সংবাদ, সব জ্ঞান তার মধ্যে সদা বর্তমান |দেব লোক থেকে জমলোক সব স্থানে তিনি সমান জনপ্রিয় | কিন্তু তিনি দেবতা হিসেবে পূজিত হন না| তাকে নিয়ে আছে হাজার বিতর্ক আছে অনেক বদনাম ও |কিন্তু কে তিনি? কি তার স্বরূপ? কোথাথেকে তার উৎপত্তি? আমরা অনেকেই এই প্রশ্ন গুলির সঠীক উত্তর জানিনা বা কখনো জানার চেষ্টা করিনি | আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে জানবো দেবর্ষি নারদের কথা|
সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মা প্রজাপতিদের সৃষ্টি করেন সৃষ্টি কার্যে তাকে সাহায্য করার জন্য । এই প্রজাপতিরাই মানবজাতির আদিপিতা।ব্রম্হার মন থেকে এদের সৃষ্টি তাই এদের ব্রম্হার মানসপুত্র বলাহয়, মনুস্মৃতি তে এদের উল্লেখ আছে । এঁরা হলেন মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরস, পুলস্ত, পুলহ, ক্রতুজ, বশিষ্ঠ, প্রচেতস বা দক্ষ, ভৃগু ও নারদ। এই ভাবে মহর্ষি নারদ এর জন্ম হয় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে|কিন্তু ঈশ্বর সাধনা ও ভগবৎপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কায় তিনি তাতে রাজি না হওয়ায়, ব্রহ্মার অভিশাপে নারদকে গন্ধর্ব ও মানবযোনিতে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিলো। এছাড়া নারদের জন্ম নিয়ে বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন উল্লেখ রয়েছে।ব্রহ্মাবৈবর্ত পুরাণে এই ঘটনার সব থেকে সুন্দর বর্ণনা রয়েছে |আবার কোথাও নারদ প্রজাপতি ব্রহ্মা ও দেবী সরস্বতীর সন্তান।
কিছু শাস্ত্রে তার জন্ম বৃত্তান্ত সামান্যআলাদা,এঁর জন্ম হয়ে ছিল ব্রহ্মার কণ্ঠ থেকে।প্রথমে ব্রহ্মা তাঁকে সৃষ্টির ভার দেন। সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত থাকলে ঈশ্বর চিন্তা বিঘ্নিত হবে বিবেচনা করে ইনি ব্রহ্মার আদেশ মানতে রাজী হলেন না। ফলে ব্রহ্মা তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলেন যে, নারদকে গন্ধমাদন পর্বতে গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহণ করতে হবে।যথা সময়ে ইনি গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহ করেন।এই সময় তাঁর নাম ছিল উপবর্হণ।
নারদের বাহন ঢেঁকী, এইরূপ প্রবাদ প্রচলিত, কিন্তু শাস্ত্রে তার বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় না । এই প্রবাদের মূলে কোন সত্য আছে কি না, তাছা নির্ণয় করা কঠিন ।তবে তার যে চিত্র পুরানে বর্ণনা করা হয়েছে সেখানে তার বাহন সমেত তিনি স্বমহিমায় বিরাজমান |এই বাহন এ চড়েই তাকে এক লোক থেকে আরেক লোকে ছুটে বেড়াতে দেখাযায় সর্বদা
কিছু হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে- ব্রহ্মার মানসপুত্র নারদ একজন ত্রিকালজ্ঞ, বেদজ্ঞ ও তপস্বী|তার বৈরাজ্ঞ ও জ্ঞানের জন্য তিনি দেবর্ষি উপাধিতে ভূষিত ।তার নামের ও একটা অর্থ আছে নার শব্দের অর্থ জল।ইনি সবসময় তর্পণের জন্য জলদান করতেন বলে এঁর নাম হয় নারদ।
বহু গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক ঘটনার সাথে তিনি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন ভূমিকায় দেখা যায় তাকে । ইনি কৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত পূর্বেই কংসকে জানিয়েছিলেন,ধ্রুবের তপস্যায় মন্ত্রদাতা ছিলেন, মহাদেব-পার্বতীর বিবাহের ঘটক ছিলেন, দক্ষের অহঙ্কার নাশে ইনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। আবার রাময়ণের মূল কাহিনী তিনি বাল্মীকিকে শুনিয়েছিলেন। পরে এই কাহিনী অবলম্বনে বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন।
এছাড়া ইনি দূত হিসাবেও বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।কথিত আছে ইনি কথা গোপন করে রাখতে পারতেন না, এজন্য তিনি শাস্ত্রে নানা ভাবে বহুবার সমালোচিত হয়েছেন । কখনো কখনো অবিবেচকের মতো কথা বলে, বিপর্যয় ডেকে আনতেন। কংসের কাছে কৃষ্ণের জন্মগ্রহণ এবং কৃষ্ণকর্তৃক কংসবধের কথা বলেছিলেন।যার ফলে ফলে কংস চরম অত্যাচারি হয়ে উঠেছিলো, অন্ধকার নেমে এসে ছিলো দেবকী ও বাসুদেবের জীবনে, এমনকি বিন্ধ্যপর্বতের কাছে সুমেরুর গুণকীর্তন করে, পৃথিবী বিপর্যস্ত করেন।পরে এই বিপর্যয় থেকে অগস্ত্য মুনি পৃথিবী রক্ষা করেন পৃথিবী কে|সে গল্প আমরা পরে কখনো শুনবো |
সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক চরিত্র এই দেবর্ষি নারদ দেবলোক আর মানবলোকের মধ্যে এক প্রকার সংযোগসেতু। তিনি মানবের যাবতীয় সংবাদ দেবলোকে পৌঁছন আবার দেব লোকের সংবাদ অন্যত্র পৌঁছে দেন । এমন বর্ণনাই রয়েছে পুরাণাদি গ্রন্থে।বিভিন্ন দেবতা ও মানবের মধ্যে ঝগড়া বাধানোর যে বদনাম নারদের উপরে আরোপ করা হয়, তা প্রকৃত অর্থে সত্য নয়। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কখনই বৈরিতার জন্ম দেননি। তর্ক ও বিসংবাদের মধ্যে দিয়ে যাতে সত্য উদঘাটিত হয় এবং অধর্মের উপর ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় তিনি সেই কাজই করেছেন। এই প্রক্রিয়া ভারতীয় সংস্কৃতিতে মান্যতাপ্রাপ্ত।তাছাড়া তিনি বিষ্ণু ভক্ত, ভগবানের লীলায় তিনি সহায়ক হয়েছেন মাত্র |তিনি সদা কৃষ্ণ নাম করেছেন ও নাম বিলিয়েছেন, ভক্তি মার্গে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন সবাই কে, পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন সর্বদা |যেকোনো কার্যে তিনি নিমিত্ত মাত্র, যাই হয়েছে তা ভগবান এর ইচ্ছায় হয়েছে |
টিভির পর্দায়, সাহিত্যে বা সিনেমায় তাকে কিছুটা বিকৃত করেই দেখানো হয়েছে মানুষ কে আনন্দ দেয়ার জন্য তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে তার স্বরূপ ধরা দেয়নি সে ভাবে | তিনি প্রকৃত অর্থে ভক্তি, জ্ঞান ও বৈরাজ্ঞর প্রতীক |আজ দেবর্ষি নারদের কথা এখানেই শেষ করছি, ফিরবো আগামী পর্বে নতুন কোনো চরিত্র এবং তার জড়িয়ে থাকা অনেক গল্প ও রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন, যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও কথা বলুন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শক্তিপীঠ – আম্বাজী
অনেক আশা ভরসা নিয়ে একটি নতুন বছরে আমরা পা রাখলাম, আশা করি ভালো আছেন সুস্থ আছেন,পুরান রহস্য ও মন্দির রহস্য নিয়ে নিয়মিত লিখছি, লাইভ অনুষ্ঠান ও শুরু হয়েছে, শিগ্রই আরো কিছু নতুন ধরণের অনুষ্ঠান নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে, তবে আজ নতুন বছরের শুরুতেই আপনাদের একটি শক্তিপীঠের কথা বলবো, আজকের পর্বে গুজরাটের আম্বাজী শক্তি পীঠ|আমাদের শাস্ত্রে বর্ণিত একান্নটি শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম এই আম্বাজী মাতার মন্দির যা গুজরাটের পালনপুর থেকে 65 কিলোমিটার এবং মাউন্ট আবু থেকে 45 কিলোমিটার দুরে অবস্থিত|শাস্ত্র মতে এখানে দেবী সতীর হৃদয় পতিত হয়েছিলো|অত্যান্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ এই আম্বাজী মন্দির|সারা বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এই মন্দিরে|দেবীর কোনো মূর্তি বা প্রতিরূপ এখানে নেই তার বদলে রয়েছে একটি শ্রীযন্ত্র যা ভক্তি ভরে পুজো করেন দর্শনার্থীরা তবে কিছু বিধি নিষেধ মেনে এবং ছবি তোলা কিন্তু কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ|রহস্যজনক ভাবে এই শ্রীযন্ত্র কিন্তু জন সমক্ষে আনা হয়না,পুজোর সময় পুরোহিতের চোখ ও ঢেকে দেয়া হয় বলে শোনা যায়|স্বর্ণ জড়িত এই প্রাচীন শ্রী যন্ত্র টি স্থাপিত আছে মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ কক্ষে|এখানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বিশেষ পুজো উপলক্ষে ভিড় হয় বেশি|তবে প্রায় সারাবছরই মানুষ আসেন, মন্দির দর্শন করেন ও দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন|আজ এক শক্তি পীঠের কথা এখানেই শেষ করছি, আবার দেখা হবে আগামী পর্বে|টিভির অনুষ্ঠান, ফেসবুক ও ইউটিউব এ নিয়মিত আসছি, নিয়মিত বসছি চেম্বারে, আগামী দিনে শহরের এবং রাজ্যের বাইরেও যাবো আগের মতো, তবে জ্যোতিষ পরামর্শর জন্যে আমাকে প্রয়োজন হলে অনুগ্রহ করে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে একবার আগে সরাসরি কথা বলে নেবেন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য – গনেশের মুন্ডুচ্ছেদ
আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে আলোচনা করবো সিদ্ধিদাতা গণেশ ও তার অদ্ভুত দর্শন রূপের সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু রহস্য ময় ঘটনা, জানবো তার শিরোচ্ছেদ সংক্রান্ত কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য|
ভগবান গণেশের জন্ম ও তার শিরোচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে তার স্থানে হাতির মাথা প্রতিস্থাপন নিয়ে
পুরান ও শাস্ত্রের নানা রকম ব্যাখ্যা ও ঘটনার উল্লেখ পাওয়াযায়|গনেশ মাতা পার্বতী এবং ভোলানাথের সন্তান। কিন্তু তার জন্ম বৃত্তান্ত একটু আলাদা, আগে জেনে নেওয়া যাক গণেশের জন্মের কাহিনি। কথিত আছে, পরবর্তী খেলার ছলে নিজ গাত্র ধূলি দিয়ে একটি বালকের মূর্তি তৈরি করেন । এর পর তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনদানের পর ওই বালককে নিজের পুত্র স্বীকার করেন পার্বতী|
গনেশ এর শিরোচ্ছেদ ও হাতির মাথা স্থাপন নিয়ে কয়েকটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বিভিন্ন গ্রন্থে|
একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে একেবারে ভিন্ন এখানে বিষ্ণুর কৃপায় পার্বতীর এক পুত্র হয় এবং পুত্রের অন্ন প্রাসনে আমন্ত্রিত শনির দৃষ্টি পড়ায় মুণ্ডলোপ হল তার। তখন পুনরায় তাকে জীবিত করতে সেখানে বসল হাতির মাথা।সেই থেকে ওই রূপেই বিরাজমান গণেশ |
আরেকটা ব্যাখ্যা আছে যেখানে বলা হয় পার্বতী গাত্রমল নিয়ে এক শিশু গড়ছেন। মাথার মাটি কম পড়েছে। তখন উপায় না দেখে মাথার স্থানে এক পাগলা হাতির মাথা কেটে বসিয়ে দিয়ে মূর্তির সম্পূর্ণ করেন | সেই কারণে এই রুপ |
অন্য একটি পৌরাণিক ঘটনা অনুসারে একদিন শিব কৈলাশ ফেরার পর গুহাদ্বারে একটি বালককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেই গুহাতেই ছিলেন স্নান করছিলেন পার্বতী। মা-এর আদেশ মেনে শিবকে ওই গুফায় প্রবেশ করতে দেননি গণেশ। ফলে গণেশের ওপর রেগে যান মহাদেব। এর পরই দেবতাদের সঙ্গে গণেশের যুদ্ধ বাধে। একে একে সমস্ত দেবতাই গণেশের শক্তির সামনে পরাজিত হন। এর পর ত্রিশূল দিয়ে নিজের অজান্তেই পুত্র গণেশের শিরোশ্ছেদ করেন মহাদেব।পরে গণেশের মৃত্যুতে ক্রুদ্ধ পার্বতীকে শান্ত করতে গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দেন শিব এবং তা করতে হাতির মাথা ওই বালকের দেহে যুক্ত করা হয় শিবের নির্দেশে |
মনে করা হয় উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে পাতাল ভুবনেশ্বর গুহা অবস্থিত। এইখানেই রয়েছে গনেশের কাটা যাওয়া মাথা যা দেখতে আসেন বহু মানুষ এমনকি দেবতারাও আসেন পুজো দিতে|
আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে|সঙ্গে থাকুন, পড়তে থাকুন আর যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কলকাতার কালী – হংসেশ্বরী কালী মন্দির
কলকাতার কালী মন্দির নিয়ে অনেকগুলি পর্ব আগে লিখেছি যা আপনারা বেশ পছন্দ করেছেন|এবার কলকাতার বাইরে জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দির নিয়ে লিখবো|আজকের পর্বে হংসেশ্বরী কালী মন্দির|
হুগলি জেলার বাঁশ বেড়িয়াতে অবস্থিত এই প্রাচীন ও সুবিশাল কালী মন্দির টি|
রাজা নৃসিংহদেব ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে হংসেশ্বরী কালীমন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন এবং তার মৃত্যুর পর ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে তার বিধবা পত্নী রাণী শঙ্করী মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করেন|
শোনা যায়, মন্দির তৈরির পাথর আনা হয়েছিল চুনার থেকে। আর রাজস্থানের জয়পুর থেকে কারিগরদের আনা হয়েছিল। ২১ মিটার মিনারে রূপ যেন একটি ফোটা পদ্মফুল। মন্দিরের মূল চূড়ার শীর্ষে সহস্রদ্বারে রয়েছেন পরম পুরুষ শ্বেতবর্মধারী মহাদেব আর সভাগৃহের মূলধারে কুলকুন্ডলিনী শক্তিরূপ হংসেশ্বরী।
এই মন্দিরের পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, পুজোর দিন মা হংসেশ্বরীর মুখে মা কালীর একটি মুখোশ পরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পুজোর পরের দিন সেই মুখোশ খুলে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম মেনেই চলে আসছে মায়ের পুজো|
দেবী হংসেশ্বরী দর্শনের জন্য বহু সারা বছরই মানুষ আসেন দূর দূরান্ত থেকে তার পাশাপাশি এটির স্থাপত্য পরিদর্শনের জন্য বহু শিল্পী বাঁশবেড়িয়ায় আসেন|
আশা করি ভালো লাগলো আজকের পর্ব আবার ফিরবো পরের পর্বে|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে জ্যোতিষ পরামর্শ ও জ্যোতিষ প্রতিকার নিতে হলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কলকাতার কালী – কৌটা কালী
বিগত কয়েকটি পর্ব থেকে কোলকাতার কালী শীর্ষক ধারাবাহিক লেখায় জেলার কিছু প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|সেই পরম্পরা কে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এই পর্বে|আজকের পর্ব লিখবো চন্দ্র কোনার পুরশুঁড়ি গ্রামের কৌটা কালী কে নিয়ে|
প্রায় তিনশো বছর ধরে চন্দ্রকোণা এক নম্বর ব্লকের পুড়শুড়ি গ্রামে পূজিতা হয়ে আসছেন সিংহ পরিবারের কৌটো কালী মা|এই দেবীর পুজো ও মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কিছু বিচিত্র প্রথা যা শুনতে বেশ অদ্ভুত লাগে|কয়েকশ বছর ধরে এই রীতি নীতি পালিত হয়ে আসছে এখানে|
মনে করা হয় পুড়শুড়ি গ্রামের সিংহ পরিবারের এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন জমিদার রাম চন্দ্র সিংহ ১২৭৪ সালে |নিয়ম অনুযায়ী, দেবী প্রতিমাকে পুরোহিত ছাড়া কেউ দর্শন করতে পারেন না। মহিলারা তো রীতিমতো ব্রাত্য মাতৃদর্শনে। এমনকি ওই পরিবারের বাড়ির লোকজনও মাতৃদর্শন করেন না|পুজোর সব দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় ঘোষ পরিবার সিংহ পরিবার কেবলমাত্র অতিথি হিসেবে থাকে|
কৌটো কালী মাকে বিষ্ণু মন্দিরে ঠাঁই দেন জমিদার নীলকন্ঠ সিংহ। সেই থেকে সারা বছর বিষ্ণু মন্দিরেই অধিষ্ঠান করেন কৌটো কালী মা। জানা যায়, কালীপুজোর সময় মাত্র চার ঘন্টার জন্য মন্দির থেকে দেবী প্রতিমাকে বার করা আনা হয়| সেই কারণেই দেবী এখানে কৌট কালী নামে প্রসিদ্ধ|
আজও পুজো উপলক্ষে দেবীর সামনে দেওয়া হয় ছাগল বলিও। রীতি মেনে চার ঘন্টার মধ্যে পুজো ও ছাগল বলি সম্পন্ন করে, ফের দেবীপ্রতিমা বিষ্ণু মন্দিরে রেখে আসেন পুরোহিত| এই ভাবে নিয়ম ও প্রথা মেনে প্রতিটি বিশেষ তিথি তে এখানে কালীপূজা হয়|স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় দেবী কৌটা কালী|
আগামী পর্বে আবার কোন বিশেষ কালী মন্দিরের কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো| যাওয়ার আগে মনে করিয়ে দিও আগামী কালী পূজা উপলক্ষে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা এখনি যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কোলকাতার কালী – সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির
কোলকাতার কালী পর্ব গুলির মধ্যে কলকাতা ও জেলার প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির কয়েকটির কথা আমি ইতিমধ্যে আপনাদের বলেছি।আজকের পরবে কোলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় একটি কালী মন্দির নিয়ে লিখবো যা আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।আজ সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির।
উত্তর কোলকাতার কুমোরটুলির কাছাকাছি ৫১২ রবীন্দ্র সরণিতেই প্রতিষ্ঠিত দেবী সিদ্ধেশ্বরী। এই মন্দিরের প্রথম প্রতিষ্ঠার সাল তারিখ আজও অন্ধকারে তবে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী ও জনশ্রুতি জড়িয়ে আছে বাগবাজারের দেবী সিদ্ধেশ্বরী কালীকে নিয়ে যার কিছু আজ আমি আপনাদের শোনাবো।
সে অনেক কাল আগের কথা । আজকের বারাকপুর তথা অতীতের চণক থেকে ভাগ্যের খোঁজে সুতানুটিতে এলেন গোবিন্দরাম মিত্র। বসতি গাড়লেন কুমোরটুলিতে। ভাগ্যের চাকা ঘুরল। পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতায় সাহেব জমিদারের সহকারী হলেন গবিন্দ রাম মিত্র মশাই। ১৭২০-১৭৫৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে থেকে উপার্জন করলেন অগাধ ধনরত্ন ও অর্থ। বাগবাজারের মন্দিরটি তিনি নির্মাণ করলেন ১৭৩০ ও মতান্তরে ১৭৩২ সালে।
মন্দিরে স্থাপিত দেবী মূর্তিটি মৃন্ময়ী। আয়ত নয়ন। প্রায় সাধারণ মানুষের উচ্চতা। দেবীর বাম চরণের দিকে সম্পূর্ণ দিগম্বর শ্বেত মহাদেবের মাথা। অনাড়ম্বর দেবী বিবস্ত্রা নন, বসনে দেবী নয়নাভিরাম।
শোনা যায় । একসময় এই মন্দিরের দুয়ারে এসে আকুল আকুতি জানিয়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, ‘ওরে এই মা সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তোদের যা যা কামনা তাই তিনি পূর্ণ করতে পারেন’। ব্রাহ্ম সমাজের কেশবচন্দ্র সেন একবার বেশ অসুস্থ হলেন। এ কথা জানতে পেরে রোগমুক্তির কামনায় পরমহংসদেব বাগবাজারে সিদ্ধেশ্বরীর কাছে মানত করেছিলেন ডাব আর চিনি।
একটি জনশ্রুতি অনুসারে একসময় হিমালয়ের গিরি কন্দরে তপস্যারত কালীবর নামে এক সন্ন্যাসী দেবী কালিকার প্রত্যাদেশ পেলেন। হিমালয় ছেড়ে এসে সাধন আসন স্থাপন করলেন সুতানুটির বেত আর হোগলা বনে। তিনিই প্রথম ওই স্থানে দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শোনা যায় । কোম্পানির আমলেও সন্ন্যাসী কালীবর প্রতিষ্ঠিত দেবী কালিকার সামনে দেওয়া হত নরবলি। সেসব এখন অতিত তবে দেবীর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভক্তি আজও অটুট আছে। আজও বিশেষ তিথিতে , বিশেষ পূজা উপলক্ষে বহু মানুষের ভীর হয় এই মন্দিরে।
আজকের পর্ব এখনেই শেষ করছি । ফিরবো নতুন পর্বে। যোগাযোগ করুন জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য। ভালো থাকুন ধন্যবাদ।