ইতিমধ্যে বহু বিখ্যাত মন্দির ও বহু শিব লিঙ্গের কথা আপনাদের সামনে এনেছি তবে আজ আর দুরে কোথাও নয়, আজ যে শিব মন্দিরের কথা বলবো তা আমার বাড়ির একদম পাশেই অবস্থিত, বলা ভালো এই শিব আমার প্রতিবেশী|আমাদের হৃদয়পুরের শিব তলায় রয়েছে এক প্রাচীন শিব মন্দির যা লোক মুখে বুড়ো শিব নামেই খ্যাত|এই মন্দির যে কতো প্রাচীন তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন তবে এলাকার বয়স্ক মানুষদের মতামত অনুসারে এই বুড়ো শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক দুশো থেকে তিনশো বছর|মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পরিবারের এক সদস্য বঙ্কিম বিহারী রায় এই অঞ্চলে জমিদার ছিলেন এবং তিনিই এই মন্দির প্রতিষ্টা করেছিলেন|মতান্তরে তারও আগে থেকে ছিলো এই মন্দির|প্রাচীন হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ এই মন্দিরের বুড়ো শিব|শুধু স্থানীয় নন গোটা জেলা এবং জেলার বাইরের মানুষও এই শিব মন্দিরের মহাত্ম এক বাক্যে স্বীকার করেন|প্রতি বছর নীল ষষ্ঠী উপলক্ষে বিশেষ পুজো হয় এখানে যা নিয়ে শিব ভক্তদের উৎসাহ থাকে চরমে এবং তারপরদিন চরক উপলক্ষে ঝাঁপ আয়োজিত হয়, সেও এক দেখার মতো জিনিস গাজন সন্ন্যাসী নিষ্ঠা সহকারে সমস্ত উপাচার পালন করেন ফল ও বাতাসা বিলিয়ে দেয়া হয় অসংখ্য ভক্তদের মধ্যে যার নাগাল পাওয়া বেশ পুণ্যের বলে মনে করা হয়|একটি প্রচলিত রীতি অনুসারে চরক উৎসবের আগে গাজন সন্যাসীরা বাদুর কুবের পুরের প্রাচীন একটি শিব মন্দিরের পুজো দিয়ে তারপর এই বুড়ো শিবের পুজোতে অংশগ্রহণ করেন|এই রীতি আজও চলছে|আলাদা করে একটি দুটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ না করলেও, সংক্ষেপে বলতে পারি বহু অলৌকিক ও দৈব ঘটনার সাক্ষী এই প্রাচীন শিব মন্দির যে সব ঘটনার কিছু কিছু শোনা যায় ভক্তদের মুখে|এই মন্দিরের শিবের কৃপা তার অগণিত ভক্তদের পাশাপাশি আমি নিজেও পেয়েছি|আমি নিজেও শিব তলার এই বুড়ো শিবের অসংখ্য ভক্তদের এক জন|চলবে শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিব ভূমি – রাজ রাজেশ্বর শিব মন্দির
আজকের পর্বে শিব ভূমি তে বলবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে, বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার তিন কিমি দূরে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ব বৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর|বাংলার ইতিহাস বলছে , নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন, শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির, শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই|আগামী দিনে নদীয়া বেড়াতে গেলে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই অদ্ভুত কীর্তি, ভালো লাগবে, আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিব ভূমি – ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দির
আজ শিব ভূমির এই পর্বে আমি আপনাদের বলবো সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সর্ব বৃহৎ শিবলিঙ্গের কথা যা এই বাংলার খুব কাছেই অবস্থিত|একটি পুরান কাহিনি অনুসারে ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণ মহাদেবের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি শিব লিঙ্গ পান কিন্তু রাবণ যখন তাঁর পুস্পক রথে করে এই শিবলিঙ্গটি নিয়ে চলে যেতে দেখেন তখন ক্ষুব্ধ হন দেবতারা এবং ঠিক করেন এই শিবলিঙ্গ নিয়ে যাওয়া আটকাতে হবে৷ দেবতারা ওই শিবলিঙ্গ চাইলেও তা দিতে রাজি হন না রাবণ, ফলে এই টানা পোড়েনে রাবণ তখন পথের মধ্যই কোনও এক স্থানে ওই লিঙ্গটি নামিয়ে রাখেন৷ কিন্তু তারপর আবার ওই লিঙ্গটি তুলতে গেলে এত ভারী লাগে যে রাবণ তা তুলতে পারেন না,বহু চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতে রাবনকে লংকায় ফিরতে হয় এবং সেই বিশাল ও অপূর্ব সুন্দর শিব লিঙ্গটি চীরকালের জন্যে রয়ে যায় মর্তে|মনে করা হয় কৈলাশে এই শিবলিঙ্গটি দেবী পার্বতী পুজো করতেন|এই স্থানটি হলো বাংলা থেকে অল্প দুরে, দিঘার কাছে উড়িষ্যায়,বালাসোরে এবং এখানেই ভুশন্ডেশ্বর শিব মন্দিরে সেই শিব লিঙ্গ স্বমহিমায় বিরাজমান|শিবলিঙ্গটি মাটি থেকে ১২ ফুট উচু এবং পরিধি ১৪ ফুট|ভুশন্ডেশ্বর শিব লিঙ্গটির অর্ধেক আসলে দেখা যায় যা মাটির উপর রয়েছে বাকী অর্ধেক রয়েছে মাটির তলায়|স্থানীয় দের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় এই শিব মন্দির, বহু মানুষ আসেন পুজো দিতে, আর শিব রাত্রিতে অসংখ্য শিব ভক্তের সমাগম হয় এখানে|চাইলে আপনারাও একদিন ঘুরে আসতে পারেন|চলবে শিব ভূমি|দেখতে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার শিব – মহাকাল শিব মন্দির
চলছে চৈত্র মাস গোটা শ্মাস জুড়েই দেবাদিদেব মহাদেব কে নিয়ে লিখছি |আজকের পর্বে বাংলার এক জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো|উত্তর বঙ্গের দার্জিলিং অনেকেরই প্ৰিয় ভ্রমণ স্থান|এই দার্জিলিং এর চৌরাস্তা থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে পৌঁছানো যায় মহাকাল মন্দিরে যা বাংলার প্রাচীনতম শিব মন্দির গুলির অন্যতম|দার্জিলিং স্থানটির সাথে আধ্যাত্মিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে|শোনা যায় ঐ জায়গাটি কোনো এক সময় সিকিমের রাজারদের অধীনে থাকার সময় সেখানে বৌদ্ধদের আশ্রম ছিল। বৌদ্ধ সন্যাসীরা এই জায়গার নামকরন করেছেন ‘দোর্জে’ ও ‘লিং’ দুটি শব্দ থেকে যার অর্থ বজ্রের দেশ|মহাকাল শিব মন্দিরের মূল মন্দিরের সামনে প্রবেশ দ্বারের কাছেই রয়েছে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি|এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অপূর্ব সহাবস্থান চোখে পড়ে| গোলাকার মন্দিরের মাঝখানে শিবলিঙ্গ ও বুদ্ধ মূর্তির সাথে হিন্দুদের ব্রাহ্মন পুরোহিত ও বৌদ্ধদের সন্যাসীকে একসাথে নিজ নিজ আরাধ্য ভগবানের অর্চনা করতে দেখা যায়|হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মের মানুষের কাছেই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র এবং আস্থার|আগামী দিনে দার্জিলিং ভ্রমন কালে পাহাড় দর্শনের পাশাপাশি অবশ্যই মহাকাল মন্দির দর্শক করুন|আগামী পর্বে অন্য কোনো শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন শিব ভূমি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিব ভূমি – জলেস্বর শিব মন্দির
চৈত্র মাস জুড়ে চলছে শিব নিয়ে আলোচনা,আজ বাংলার আরেকটি প্রাচীন শিবমন্দিরের কথা আপনাদের বলবো, নদিয়ার শান্তিপুরে রয়েছে ‘জলেশ্বর শিব মন্দির এখানে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিশাল আকারের শিবলিঙ্গ।এই মন্দিরের ইতিহাস খুব প্রাচীন কিন্তু জলেশ্বর মন্দিরে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি নেই। তবে ‘নদিয়া গেজেটিয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির, নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন নদিয়া রাজ রাঘব রায়। তাঁর রাজত্বকাল ছিল আনুমানিক ১৬৩২ থেকে ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ। সেই সূত্রেই মনে করা হয় ওই সময়ের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়|একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়, শোনা যায় এক বছর খরায় চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার উপক্রম,প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ|গ্রামের চাষিরা এক শিবলিঙ্গের মাথায় প্রচুর জল ঢালেন বৃষ্টির প্রার্থনায়। অলৌকিক ভাবে তার পরেই বৃষ্টি নামে। শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় ‘জলেশ্বর’|পাশাপাশি শিবের মাথায় জল ঢালতেও প্রতি দিন ভক্ত সমাগম হয়। আর শ্রাবণের শেষ সোমবারে ভক্তদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে|আপনারাও পারলে অবশ্যই দর্শন করবেন জলেস্বর শিব মন্দির|সারা বছরই শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে এই মন্দিরে তবে চৈত্র মাসে এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এই মন্দিরে প্রচুর মানুষ পুজো দেন।ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো শিব ভূমি নিয়ে|দেখতে থাকুন|
শিব ভূমি – এক্তেশ্বর শিব মন্দির
আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির নিয়ে লিখবো|এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী ও অলৌকিক ঘটনা|প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|এক্তেশ্বরে পাথরের শিব মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটি পশ্চিমমুখী|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি নাকি দেখতে অনেকটা মানুষের পায়ের মতো এবং শিব লিঙ্গটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া নামের উৎপত্তি|শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|আজও ফাল্গুন মাসে, শিব চতুর্দশী তিথিতে এক্তেশ্বর মন্দিরে শিবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|আবার আগামী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিবভূমি – জটেশ্বর শিব মন্দির
বাংলার বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিবমন্দির নিয়ে ইতিমধ্যে বলেছি,সেই পরম্পরা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো আজকের পর্বে, আজ উত্তর বঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত জটেশ্বর শিব মন্দির|এই শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক প্রায় দুশো বছর, এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার মন্দিরের সংস্কার হয়েছে তবে জটেশ্বর শিব কে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও ভক্তি রয়েছে একই রকম, অনেক রহস্যময় ঘটনা ও অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে এই মন্দির নিয়ে, মন্দিরের স্থাপনা নিয়েও রয়েছে একটি জনশ্রুতি|শোনা যায়, একবার মন্দির সংলগ্ন কাঠালবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন জঙ্গলের ভিতর একটি দুগ্ধবতী গাভীর বাঁট থেকে অনবরত দুধ পড়ে যাচ্ছে, কৌতুহলী গ্রামবাসী খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন , তারা সামনে গিয়ে দেখতে পান মাটি ভেদ করে একটি পাথর উঠে আছে, এবং সেই পাথরেই গাভীর দুধ অনবরত পড়ে চলেছে|লোক মুখে এই অলৌকিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র|পরবর্তীতে জমিদারের আদেশে লোক জন গিয়ে শিব লিঙ্গ টি বহন করে জমিদার বাড়িতে আনার সময় পথে এক স্থানে তা নামিয়ে রাখলেন বিশ্রামের জন্যে, অলৌকিক ভাবে পরে সেই স্থান থেকে শিব লিঙ্গকে ওঠানো আর সম্ভব হয়নি, এমনকি জমিদারের হাতিও ওই স্থান থেকে শিব লিঙ্গ এক চুল নাড়াতে পারেনি, ঐখানেই ছোট মন্দির বানিয়ে পুজো শুরু হয়|এর পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়|একদিন হঠাত্ করে এক উলঙ্গ সাধুর আবির্ভাব ঘটলো, ওই স্থানে তাকে সবাই ‘ কাথেয়া বাবা’ বলে ডাকতো, উনি দীর্ঘদিন পুজো দিয়েছিলন তারপর একদিন তিনিও কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেলেন|এরপর একদিন মিথিলা থেকে এক পুরোহিত এলেন, তিনি এসে স্থানীয়দের জানালেন তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন এখানে আসার জন্য এবং এই স্থানে তিনি এসে দেখেন স্বপ্নে যা যা দেখেছেন সব একশো শতাংশ সত্যি, তিনি লোকেদের সাথে কথা বলে নিয়মিত পুজোর ব্যাবস্থা করেন তৈরি হয় মন্দির|জটেশ্বর মহাদেব নামে এখানে পূজিত হন শিব|আবার পরের পর্বে বলবো অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা|দেখতে থাকুন|
আন্তর্জাতিক বিশ্ব জ্যোতিষ দিবসের শুভেচ্ছা
আজ আন্তর্জাতিক বিশ্ব জ্যোতিষ দিবস,আজ এই মহান পেশা কে উদযাপন করার দিন, আজ রাশি চক্রের সূচনা উপলক্ষে সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক জ্যোতিষ দিবস|হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে রয়েছে জ্যোতিষ শাস্ত্র, প্রাচীন মায়া সভ্যতা থেকে ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতি, সর্বত্র মানুষের সাথে থেকে তার সব প্রশ্নর উত্তর দিয়ে ভবিষ্যতকে সহজ করেছে জ্যোতিষ শাস্ত্র, গণনা পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিছু বেসিক রীতি নীতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সব দেশে, সব সময়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রের মূল আদর্শ একই তা হলো মানব জীবনে গ্রহ নক্ষত্রর প্রভাব নির্ণয় ও সঠিক পথনির্দেশ|তাই এই পেশা মহান এবং যুগউপযোগী|ঐতিহ্য, প্রাচীনত্ব এবং গণনা শৈলীর দিক থেকে ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অত্যন্ত উন্নত এবং বিজ্ঞান সম্মত|ইদানিং কালে জ্যোতিষ শাস্ত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছেন, অনলাইন পরিষেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভার্চুয়াল কনফারেন্স,আরো অনেককিছু, এক কথায় প্রযুক্তি আগের থেকে বেশি ব্যবহিত হচ্ছে ব্যাবহারিক জ্যোতিষ শাস্ত্রে, হচ্ছে আধুনিকীকরণ, এর সুফল পাচ্ছেন জ্যোতিষী এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ|তবে আধ্যাত্মিকতার সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের সম্পর্ক দিন দিন আরো দৃঢ় হচ্ছে|ভারত বর্ষের যত মহান ঋষি বা শাস্ত্রজ্ঞ জ্যোতিষ নিয়ে কাজ করেছেন এবং নিজেদের গবেষণাদিয়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা কেউই জ্যোতিষ শাস্ত্র থেকে এই আধ্যাত্মিকতা কে আলাদা করে দেখেন নি|ভৃগু থেকে পরাশর, বরাহ মিহির থেকে খনা কিংবা আধুনিক সময়ের বেজান দারুওয়ালা, এরা কেউ ব্যতিক্রম নন আর অভিজ্ঞতা ও অধ্যাবসায়ের এখনো কোনো বিকল্প নেই|নিজের দীর্ঘ জ্যোতিষ জীবনে অসংখ্য মানুষের সমস্যা শুনেছি এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে তার সমাধান করেছি|আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনেও এই কর্মকান্ড চলতে থাকবে|বিশ্বাস রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে, আস্থা রাখুন নিখুঁত ভাগ্যবিচার ও সঠিক প্রতিকারে, আমার সকল শুভাকাঙ্খী ও সব জ্যোতিষ প্রেমীদের জানাই আন্তর্জাতিক জ্যোতিষ দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শিব ভূমি – ঝাড়েস্বর শিব মন্দির
শিবভূমি শীর্ষক এই ধারাবাহিক লেখনী তে আগেও বেশ কয়েকটি পর্বে বাংলার প্রাচীন ও জনপ্রিয় শিব মন্দির গুলি কথা বলেছি |মেদিনীপুরে কানাশোলে রয়েছে এমনই এক প্রাচীন শিবমন্দির যা ঝাড়েশ্বর শিব মন্দির নামে খ্যাত| কানাশোলের এই ঝাড়েশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন|সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি আগে থেকে এখানে ঝাড়েশ্বর মহাদেবের পুজোর প্রচলন রয়েছে|১২৪১ বঙ্গাব্দে নাড়াজোলের রাজা অযোধ্যা রাম খানের দেওয়ান রামনারায়ণ জানা এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। কঠিন অসুখ থেকে সেরে ওঠার পরেই তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মহাদেব এখানে ঝাড়েশ্বর রূপে পূজিত হন|শোনো যায় একটি দীঘি খননের সময়ে এখানে এই শিব লিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়|কিংবদন্তী অনুসারে একটি গাভী গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে এই শিব লিঙ্গকে নিজের দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে যেতো| রাজ্যের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই মন্দির একদিকে স্থাপত্য শৈলীর অনুপম নিদর্শন, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। এখানে রয়েছে মহাকাল ভৈরবের থান, নাটমন্দির, ভোগমন্দির|শোনা যায় ঝাড়েশ্বর মহাদেব খুব দয়ালু বহু ভক্ত তার কাছে মনস্কামনা করে ফল পেয়েছেন| শিব রাত্রি ও শ্রাবন মাসে বিশেষ তিথি গুলিতে এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়|দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন ঝাড়েশ্বর মহাদেবের দর্শন করতে ও তার কৃপা লাভ করতে| আজকের শিব ভূমি পর্ব এখানেই শেষ করছি|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো দেখতে থাকুন|
দোল যাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
আজ পবিত্র দোল পূর্ণিমা|শাস্ত্র মতে বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন। কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে। অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর তার রক্ত ছিটিয়ে সকলে আনন্দ করে। এই অশুভ শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহানন্দে পরিণত হয়।আবার দৈত্যরাজ হিরণ্যকিশপুর কাহিনি আমরা সকলে জানি। ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক ছিলেন। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে প্রহ্লাদের কোনো ক্ষতি হয় না কিন্তু হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদের এই অক্ষতের আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়। এই দহনকে হোলিকা দহন বলা হয়।দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৭ম শতাব্দীর এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়।হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্মাবলী’তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে। এমনকি আল বেরুনীর বিবরণে জানা যায় মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে হিন্দু ছাড়াও অন্য বহু ধর্মের মানুষ ও হোলিকোৎসবে সংযুক্ত হত। মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব।শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন থেকে দোল কথার উদ্ভব। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। বাংলা অঞ্চলে বৈষ্ণব প্রাধান্য রীতি প্রচলিত। রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে। শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ হয়। পরের দিন রঙ খেলা। বাংলাতেও কোথাও কোথাও দোলের আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম, একে আমরা কোথাও বলী ন্যাড়া পোড়া আবার কোথাও বলা হয় ‘চাঁচর’।আবার বাঙালি তথা হিন্দু সমাজের অন্যতম মহাপুরুষ শ্রীচৈতন্যের জন্মতিথি হচ্ছে এই পূর্ণিমা তিথি তথা হোলি তিথি। এই মহান পুরুষের জন্ম উৎসবের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ ও পরবর্তীতে ইস্কন এই দোল উৎসবকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করেছে|আজ প্রায় সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় দোল এবং হোলি|রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায় হোলির রঙ আমাদের মর্মে লাগুক- ওরে গৃহবাসী খোল, দ্বার খোল, লাগলো যে দোল স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল । দ্বার খোল, দ্বার খোল|আপনাদের সবাইকে আমার তরফ থেকে দোল যাত্রার অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|