নেতাজীকে নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই, বিশেষ করে আজকের এই তারিখে, আজ নেতাজীর জন্মদিন|আজকের দিনে অনেকটা গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করার মতো তার জীবনের একটি ঘটনা স্মরণ করে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবো|স্বাধীনতার যুদ্ধ চলা কালীন একটি বিশেষ পর্যায়,ব্রিটিশ উপনিবেশ গুলোতেও স্বাধীনতার দাবি জোরালো হচ্ছিল। বুদ্ধিমান নেতাজী বুঝেছিলেন এটাই সুযোগ ব্রিটিশকে কোণঠাসা করার এবং শুধু ঘর থেকে নয়, ঘরের বাইরে থেকেও আক্রমণ শানানো উচিত। আর তার জন্য যদি জার্মানির সামান্য সাহায্যও পাওয়া যায়, তাহলে সোনায় সোহাগা|নেতাজী ঠিক করেছিলেন দেখা করতেই হবে জার্মান রাষ্ট্র নায়ক হিটলারের সাথে|যেমন ভাবা তেমন কাজ, রাতের অন্ধকারে ব্রিটিশদের সামনে দিয়ে পালিয়ে আসা, আফগানিস্তান থেকে রাশিয়া এবং সেখান থেকে জার্মানি। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’— এই প্রবাদ বহু আগে থেকেই আমরা শুনে এসেছি। নেতাজি সেটাকে বাস্তবে প্রয়োগ করলেন|অবশেষে বহু চেষ্টার পর এলো সেই সুবর্ণ সুযোগ, বার্লিনে বার্লিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলা কালীন দেখা হলো দুই বিতর্কিত রাষ্ট্র নায়কের, বহু কথাই শোনা যায় এই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ঘিরে|কথিত আছে হিটলার সামনে এলেও নেতাজী সুভাষ জায়গা ছেড়ে উঠলেন না। কেন? সটান জবাব, ইনি হিটলার নন ! বহুরূপী। আরও একজন এলেন, এবং এবারও একই ঘটনা। সুভাষ উঠলেন না। তারপর হঠাৎই একটা হাত সুভাষের কাঁধে নেমে এল। এবার উঠে দাঁড়ালেন তিনি, বাড়িয়ে দিলেন হাত। হ্যাঁ, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আসল অ্যাডলফ হিটলার।হিটলারের এরকম বেশ অনেক বহুরূপী রয়েছে, সেটা নেতাজী জানতেন এবং এও জানতেন যে তাঁর পিঠে হাত রাখার মতো সাহস একমাত্র আসল হিটলারের আছে, আর কারোর নেই। ঐতিহাসিক এই সাক্ষাৎ ঘিরে কিঞ্চিৎ বিতর্ক থাকতেই পারে কিন্তু নেতাজীর দেশপ্রেম প্রশ্নতীত ও সব বিতর্কের উর্ধে|সারাজীবন সুভাষের মাথায় একটাই চিন্তা ছিলো স্বাধীনতা। ভারতের স্বাধীনতা যার জন্য তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে লড়ে গেছেন |আজ স্বাধীন ভারতের জনগণের কাছে তাই তিনিই শ্রেষ্ট বীর, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ট সন্তান|জন্মদিনে নেতাজীকে জানাই আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি|জয় হিন্দ|
মন্দির রহস্য – যমেশ্বর শিব মন্দির
বহুদিন পর আজ আবার একটি প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা বলবো যা অবস্থিত আমাদের পার্শবর্তী রাজ্য উড়িষ্যায়|মন্দিরের নাম যমেশ্বর শিব মন্দির|কেনো এই অদ্ভুত নাম সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি আগে মন্দিরের স্থাপত্য ও নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে কিছু কথা বলে নিই|আনুমানিক আজ থেকে প্রায় ৭০০-৬০০ বছর পূর্বে মন্দির টি নির্মিত হয়েছিলো এবং নির্মাণ করেছিলেন সেই সময়ের পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের রাজারা|সুপ্রাচীন যমেশ্বর মন্দিরটিতে প্রাচীন দেউল স্থাপত্য লক্ষ্য করা যায়।সম্পূর্ণ মন্দিরটি বেলে পাথরে নির্মিত|যদিও কালের নিয়মে মন্দিরের অনেক অংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবুও প্রাচীন এই শিব মন্দির আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সমহিমায়|কথিত আছে কথিত আছে এই মন্দিরে যমের দ্বারা শিবের পূজা হয়ে থাকেন তাই মন্দিরের নাম যমেশ্বর শিব মন্দির|আপাতত এই শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি আগামী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|যারা জ্যোতিষ বিষয়ে কথা বলতে অনলাইন বা চেম্বারে দেখা করতে চান অনুগ্রহ করে কমেন্ট বা ইনবক্সে ম্যাসেজ না করে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য – গণেশদেবের পুজো কেনো সবার আগে হয়!
সনাতন ধর্মে ভগবান একজনই তিনি স্বয়ং বিষ্ণু তবে দেবতা অনেক আবার এই দেবতাদের মধ্যে সর্ব প্রথম গণেশের পুজোর রীতি প্রচলিত রয়েছে সেই পুরাকাল থেকে, তার পুজোর পর হয় অন্য সব পুজো|কিন্তু কেনো? আজ পুরান রহস্যর এই পর্বে সেই কথাই বলবো এবং জানাবো এক পৌরাণিক ঘটনা যেখান থেকে এই রীতির সূত্রপাত|দেবলোকে কোন দেবতা শ্রেষ্ট এবং কার পূজা প্রথম হয়ে দরকার এই বিতর্ক ছিলো বহু প্রাচীন এবং কিছুতেই নিষ্পত্তি হচ্ছিল না, শেষে ঠিক হল, যে দেবতা ত্রিলোক পরিক্রমা করে এই স্থানে প্রথমে পৌঁছবেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর পুজো প্রথম করা হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ|শুরু হলো প্রতিযোগিতা, অংশ নিলেন সব দেবতারা|ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দেবতাগণ নিজ নিজ বাহনে চড়ে ত্রিলোক পরিক্রমা করতে চলে গেলেন।কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ সেই পথে গেলেননা তিনি তার পিতা মাতা অর্থাৎ শিব ও পার্বতীকে পরিক্রমা করলেন কারন পিতা মাতা তার সন্তানের জন্য ত্রিভুবন সমতুল্য|ত্রিলোকের সকল সুখ সম্পদ মাতা-পিতার চরণে বিরাজমান। মাতা-পিতার চরণের সেবাই সর্বোত্তম। যুক্তিতে জিতে গেলেন গণেশ, সব দেবতারা উপায় না দেখে গণেশদেবের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন|সেই থেকে শুরু হয় সবার প্রথমে গণেশ দেবের পুজোর প্রচলন|আজও চলছে সেই রীতি|ফিরে আসবো পুরান রহস্য নিয়ে আগামী পর্বে, সঙ্গে থাকুন, পড়তে থাকুন এবং যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা
আজ মকর সংক্রান্তি এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। হালে পিঠে থেকে পায়েস সবই সহজলভ্য নির্দিষ্ট দোকানে। তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন। বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়, পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের এক রাশি হতে অন্য রাশিতে সঞ্চার বা গমন করাকেও সংক্রান্তি বলা যায়।শাস্ত্রের কথা বলতে গেলে মহাভারত দিয়ে শুরু করতে হয়, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন। আবার পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে।আবার অন্য মতে, সূর্য এ দিন নিজের ছেলে মকর রাশির অধিপতি শনির বাড়ি এক মাসের জন্য ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাই এই দিনটিকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিন হিসাবেও ধরা হয় কারন শনিদেব সূর্যের পুত্র|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সূর্য এ দিনই ধনু থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এর থেকেই মকর সংক্রান্তির উৎপত্তি টি জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম, মানুষের জীবনকে নানা ভাবে সরাসরি প্রভাবিত করে এই গ্রহের সঞ্চার| মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করেন, যাতে সমস্ত রকম ‘অপরিশুদ্ধতা’ দূর হয়। প্রায় নিত্যদিনই দর্শন আর রূপ পাল্টে যাচ্ছে এই পৃথিবীর। সামাজিকতার যে বিষয়গুলো কোনও এক সময় পরিবার-পরিজনদের মধ্যে অনাবিল আনন্দের পরশ এনে দিত, সেই আনন্দঘন সময়ের ছবি ধীরে ধীরে কমে আসছে। সংক্রান্তির আগেই গ্রামে গ্রামে ঢেকিতে, গানের মধ্যে চাল গুঁড়ো করার ছবিও হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে নগরায়নের ঠেলায়। আশঙ্কা জাগে, আধুনিকতার প্রসারে পৌষ সংক্রান্তিও না কোনও একদিন কাহিনি হয়ে বেঁচে থাকে ইতিহাসের পাতায়|আপনাদের সবাইকে মকর সংক্রান্তির অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
অজানা বিবেকানন্দ – স্বামীজির জন্মদিনে বিশেষ রচনা
আজ হিন্দু ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ট আইকন স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিন|আজকের দিনেই অর্থাৎ এই 12ই জানুয়ারি তে উত্তর কলকাতায় শিলমা স্ট্রিটে তার জন্ম|তার নরেন থেকে বিবেকানন্দ হয়ে ওঠার এই যাত্রা খুবই ঘটনা বহুল ও রোমাঞ্চকর এবং পরবর্তীতে স্বামীজীর বাল্য জীবন, তার আধ্যাত্মিক জীবন,বিদেশ যাত্রা, সন্ন্যাস জীবন, রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে তার মহা মানবে রূপান্তর এবং তার সারা জীবন ব্যাপী সমাজ সংস্কার নিয়ে অসংখ্য লেখা লেখি হয়েছে, গবেষণা হয়েছে, হয়েছে সিনেমা, থিয়েটার ও তথ্যচিত্র|তবে তার চরিত্রের কয়েকটি বিশেষ দিক আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, আজ লিখবো স্বামী বিবেকানন্দর রসবোধ নিয়ে,জানবো তার রসনা প্রীতি ও জানাবো কয়েকটি ঘটনার কথা যা তার ক্রীড়া প্রেমী ও ক্রীড়াবিদ সত্ত্বাকেও প্রকাশ করে|ঠাকুর তার শিষ্য দের বলতেন ” সর্বদা রসে বসে থাকবে, কেঠ সন্ন্যাসী হবে না ” আর এই দিকটি সব থেকে বেশি প্রতিফলিত হয়েছিলো তার প্ৰিয় শিষ্য নরেনের জীবনে|স্বামীজীর রসবোধ ছিলো অতুলনীয়|আপনি কোন সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী? এই প্রশ্ন পরিব্রাজক বিবেকানন্দ কে বহুবার শুনতে হয়েছে আর প্রতিবারই তিনি হেসে উত্তর দিতেন, ” আমি কচুরি সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী ” আসলে কচুরি ছিলো বিবেকানন্দর অন্যতম প্ৰিয় খাদ্য|রসগোল্লা ইলিশ মাছ ছিলো খুব প্ৰিয়, এমনকি ছাত্র জীবনে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘পেটুক সংঘ’|শুধু খেতে নন স্বামীজী রান্না করতে ও খাওয়াতেও ভালো বাসতেন, নিজে হাতে রান্না করে গুরুভাইদের তিনি বহুবার কাটলেট ও পোলাও খাইয়েছেন,কচুরি ও বানাতেন দুর্দান্ত|স্বামী বিবেকানন্দ একদিন অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন। সারদানন্দ স্বামী। অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে তঁরা কী কথাবার্তা বলেছিলেন সে কথা কাউকে বলেননি ঠিকই, কিন্তু মজা করে বিবেকানন্দ ম্যাকস্মুলারদের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে ঘনিষ্ট মানুষদের সামনে উপস্থাপন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন|আমেরিকায় থাকার সময়ে এক বিদেশী বিবেকানন্দকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা স্বামীজী, শুনেছি ভারতবর্ষে নাকি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে গঙ্গার জলে ফেলে দেওয়া হয়?বিদেশীটির মুখে এইরকম অশিক্ষিত-প্রশ্ন শুনে স্বভাবতই স্বামী বিবেকানন্দের মাথাগরম হয়ে গেল। তবু তিনি রাগ সংবরণ করে ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি লাগিয়ে বললেন, আমি কিন্তু বেঁচে গিয়েছি।বিদেশী ভদ্র লোক থামলেন না। আবার প্রশ্ন করলেন বিবেকানন্দকে, স্বামীজী, আপনাদের দেশে কন্যা সন্তান জন্মালেই নাকি তাকে কুমীরের মুখে ছুঁড়ে দেওয়া হয়? এবার রাগের মাত্রা ছাড়িয়ে গেল| তবু বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ মুখে একগাল হাসি নিয়ে বিদেশীকে বললেন, আপনি ঠিকই শুনেছেন মশাই, সেই জন্যই তো আজকাল ভারতে পুরুষ রা সন্তান প্রসব করছে|তার এই রস বোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিতে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে উঠেছিলেন|খেলতে ভালো বাসতেন স্বামীজী, কলকাতার ময়দানে ক্রিকেট খেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সেকালে, আবার নিয়মিত মুগুর ভাজা ও ব্যায়াম করা তার রুটিন ছিল|ফুটবল ছিলো তার খুব প্ৰিয়, তিনি বলতেন ঘরে বসে গীতা পড়লে শুধু হবেনা মাঠে গিয়ে ফুটবল ও খেলতে হবে|বিবেকানন্দর আদর্শ ও বাণী যেমন আমরা মেনে চলবো তেমনই তার জীবন ও অভ্যাস থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে, ভাববার আছে|নেয়ার আছে অনেক কিছু|এই মহান সন্ন্যাসীর জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধা জানাই, প্রনাম জানাই বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দকে|ভালো থাকুন|নমস্কার|
পুরান রহস্য – কপিল মুনীর অভিশাপ
আর কিছুদিন পরেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় মিলন উৎসব গঙ্গা সাগর মেলা অনুষ্ঠিত হবে|প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির পুন্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী ভিড় জমান এই মেলায়|এই স্থান ঘিরে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ যার প্রধান চরিত্র কপিল মুনী|গঙ্গা সাগর ও কপিল মুনীর আশ্রম প্রায় সমার্থক! কিন্তু কে এই কপিল মুনী? আর কিভাবেই বা তার অভিশাপের ফলে মর্তে আগমন ঘটলো মা গঙ্গার?আসুন জেনে নিই|সূর্য বংশীয় রাজা সগর অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। নিজের আসন বিপন্ন হবে তাই ভীত হয়ে দেবরাজ কপিল মুনির অজান্তেই যজ্ঞের ঘোড়া চুরি করে বেঁধে রাখেন তাঁর আশ্রমে।এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত|রাজার আদেশে তার ষাট হাজার সন্তান যজ্ঞর নিরুদ্দেশ ঘোড়া খুঁজতে এসে উপস্থিত হন কপিল মুনির আশ্রমে। না বুঝেই তাঁরা মুনিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন এবং চোর ও চক্রান্তকারী অপবাদ দেয়।অসীম ক্ষমতাধর কপিলমুনি রেগে গিয়ে তাঁদের অভিশাপ দেন এবং তাঁরা ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে মুক্তির পথ বলে দেন, গঙ্গা জলের স্পর্শই একমাত্র প্রতিকার|বহুকাল অতিক্রান্ত হয়, ওই রাজবংশের উত্তরপুরুষ ভাগীরথ, মহাদেবকে তুষ্ট করে পতিত পাবনী গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্তে নিয়ে আসেন। গঙ্গার ধারার ভষ্মিভূত সেই সন্তানরা পুনর্জীবন লাভ করে সশরীরে স্বর্গে ফিরে যান। এই স্থানেই মা গঙ্গা মিশে যান সাগরে আর এই কারণেই হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে এটি একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।কিন্তু কি কপিল মুনির পরিচয় এবং তার গুরুত্ব কেনই বা এতো বেশি?কপিল মুনি একজন বৈদিক ঋষি ছিলেন এবং তাঁকে সংখ্যা দর্শনের অন্যতম প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। ভগবত গীতায় কপিল মুনির উল্লেখ রয়েছে|আবার কিছই শাস্ত্র অনুসারে অনুসারে তিনি ব্রহ্মার পৌত্র মনুর বংশধর। আবার অনেকে বলেন কপিল মুনি হলেন বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদের পুত্র|এবছর গঙ্গা সাগর মেলা হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় তবে মকর সংক্রান্তির ঠিক আগে কপিল মুনি ও এই পবিত্র তীর্থস্থানকে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম নিজের মতো করে|আপাতত অনলাইন ও চেম্বারে আমাকে পাবেন প্রায় প্রতিদিন যেকোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে |ভালো থাকুন|নমস্কার|
হোম যজ্ঞ কেনো করা হয়?
এই যে আমরা আধ্যাত্মিক জগতের মানুষরা প্রতিটি বিশেষ তিথিতে হোম যজ্ঞ করি বা সনাতন ধর্ম মতে প্রত্যেকটি শুভ অনুষ্ঠানের প্রধান অংশ হিসেবে হোম যজ্ঞ করা হয়, তা কেনো করা হয়? হোম ও যজ্ঞ কি শুধুই একটি উপাচার বা শাস্ত্রীয় পরম্পরা নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? আজ এই বিশেষ পর্বে খুঁজবো এই সব প্রশ্নের উত্তর পাশাপাশি জানাবো পুরান ও অন্যান্য শাস্ত্রে হোম যজ্ঞ সম্পর্কে কি তথ্য আছে, কত রকম যজ্ঞ হয়, ও যজ্ঞ সংক্রান্ত আরো অনেকে ব্যাখ্যা ও পৌরাণিক ঘটনবলী|সনাতন ধর্মে,পুজো করার যত পদ্ধতি আছে , তারমধ্যে যজ্ঞ সর্ব্বশ্রেষ্ঠ।যে কোন ধরনের পূজা সম্পূর্ণ হয় যজ্ঞ সম্পদানের মাধ্যমে|দেবতার অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে বেদমস্ত্র উচ্চারণপূর্বক অগ্নিতে আহুতি প্রদান অনুষ্ঠানই যজ্ঞ।এই যজ্ঞর দেবতা হলেন স্বয়ং অগ্নিদেব তার মাধ্যমেই আহুতি পৌঁছে যায় নিদ্দিষ্ট গন্তব্যে|যেকোনো যজ্ঞেই স্বহা উচ্চারিত হয় বার বার তার পেছনেও আছে এক পৌরাণিক ব্যাখ্যা|অগ্নিদেবের স্ত্রী হলেন স্বহা,অগ্নিদেবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়।কৃষ্ণ স্বয়ং স্বাহাকে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র তাঁর মাধ্যমেই দেবতা হবিষ্য গ্রহণ করতে পারবেন। যজ্ঞ তখনই পূর্ণ হবে যখন আমন্ত্রিত দেবতাদের তাঁদের পছন্দের ভোগ পৌঁছে দেওয়া যাবে।সেই থেকে যজ্ঞের আহুতির মুহূর্তে তাকে স্মরণ করার প্রথা শুরু হয়|

শাস্ত্রে বিভিন্নরকমের যজ্ঞর উল্লেখ আছে|নব-গ্রহের সমসার জন্য নব-গ্রহ যজ্ঞ , সন্তান সমসার জন্য গোপাল-হোম , আর্থিক সমসস্যার জন্য মহা-লক্ষ্মীর যজ্ঞ ইত্যাদি করার বিধান দেওয়া আছে আমাদের শাস্ত্রাগুলোতে আবার পুরান ও রামায়ণ মহাভারতে উল্লেখ আছে অস্বমেধ যজ্ঞ, রাজশুয়ো যজ্ঞ, সর্প যজ্ঞ, এমনকি নর মেধ যজ্ঞর উল্লেখ ও রয়েছে|মহাভারতে রাজা যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছেন। এই যজ্ঞে একটা ঘোড়া বেঁধে রেখে হোম যজ্ঞ করা হতো আগুন জ্বালিয়ে তাতে ঘি, চন্দন কাষ্ঠ ইত্যাদি সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারিত হতো তার পর সেই ঘোড়াকে ছেড়ে দেয়া হতো। বৈদিক যুগের রাজা সম্রাটরাই এই অশ্বমেধ যজ্ঞ করতো। যজ্ঞের পর ঘোড়াকে ছেড়ে দিয়ে তার পিছনে সম্রাটের সেনাবাহিনী থাকত। ঐ ঘোড়া বিভিন্ন রাজ্যে প্রবেশ করতো। যে রাজা ঐ ঘোড়া আটক করতো না সেই রাজা যজ্ঞকারী সম্রাটের অধীনতা স্বীকার করেছেন বলে ধরে নেয়া হতো। আর যে রাজা ঘোরা আটক করতো তার সাথে যুদ্ধ হতো এবং জিতলে সাম্রাজ্য বিস্তার হতো|শাস্ত্র মতে প্রত্যেক যজ্ঞর রয়েছে নিদ্দিষ্ট বৈদিক মন্ত্র, নিদ্দিষ্ট কাঠ এবং বিশেষ উপাচার তাছাড়া যজ্ঞর সাফল্য নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর যেমন যজ্ঞের আগুন যেন নিভে না যায়,আহুতি-মন্ত্র শুদ্ধ উচ্চারণ করতে হবে,শুদ্ধ ঘী হতে হবে গরুর দুধের,প্রতিটা যজ্ঞের নির্দিষ্ট তিথি নক্ষত্র আছে,সে খেয়াল রাখতে হবে।যদি যজ্ঞ সঠিক নিয়ম মেনে হয় এবং সফল হয় সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পূরণ অবশম্ভাবি এবং হোম শিখায় দিব্য রূপ দর্শনও অসম্ভব নয়|সদ্য ফিরেছি তারাপীঠে বকুল অমাবস্যায় হোম যজ্ঞ সেরে |তার রেশ কিছুটা টিকিয়ে রেখে আজ হোম যজ্ঞ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার চেষ্টা করলাম|জানাবেন কিরকম লাগলো |ভালো থাকুন |ধন্যবাদ |
বকুল অমাবস্যা – এক পুন্য তিথি
আজ 2 জানুয়ারি অমাবস্যা|পৌষমাসের এই বিশেষ অমাবস্যা তিথিকে বলা হয় ‘বকুল অমাবস্যা’৷ পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী অমাবস্যা নিয়ে বহু কথা রয়েছে ৷ আর পৌষমাসের এই অমাবস্যার গুরুত্ব এবং মাহাত্ম্যও প্রচুর|বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রতিকার বিধানের একটি অন্যতম পন্থা তন্ত্র|বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে জাতক জাতিকার জিবনের গ্রহগতঅশুভ প্রভাব কে দূর করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে আসছে তা মূলত তন্ত্র মতেই হয়ে থাকে|এক্ষেত্রে সময় ওতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সর্বদা|এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ তিথি আজকের বকুল অমাবস্যা বা পৌষ অমাবস্যা|অমাবস্যার কারনে যে বিশেষ গ্রহগত অবস্থান সৃষ্টি হয় তা সরাসরি প্রভাবিত করে আমাদের জীবনকে এবং এই সময়ে তন্ত্র মতে শক্তি সাধনা ও আধ্যাত্মিক উপায়ে গ্রহের প্রতিকার বা গ্রহদোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে|আমার নিজের তিন দশকের বেশি পেশাদার জ্যোতিষ জীবনে আমি বহুবার উপলব্ধি করেছি এই অমাবস্যা তিথিতে শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন জাতক জাতিকার জীবনে কিভাবে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে, গ্রহ গত শুভ প্রভাব সৃষ্টি করেছে তাদের জীবনে|তন্ত্র ক্রিয়ার গুপ্ত তথ্য জন সমক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, উচিত ও নয়|শুধু এটুকু বলবো এই অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে 2 রা জানুয়ারি অমাবস্যা চলা কালীন বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে|সারা বছর জুড়ে প্রত্যেক অমাবস্যা তিথিতেই এমন বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে, অনলাইন পুজো এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন ও করাতে পারেন, আপনারা চাইলে এই তিথিকে গুলিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনের গ্রহগত অশুভ প্রভাবকে কাটিয়ে উঠতে পারেন|শাস্ত্রে বিশ্বাস থাকলে, আমার উপর আস্থা থাকলে ফোন করুন আমার নাম্বারে, সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|কি কি করনীয় তা আমি বিস্তারিত জানাবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কল্প তরু উৎসব নিয়ে কিছু কথা ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা
আরো একটা বছর শেষ এবং যথারীতি নতুন বছরে পদার্পন|এবার 2021|মহামারী, লকডাউন, মৃত্যু মিছিল সব মিলিয়ে সত্যি একটা খারাপ বছর গেলো|অনেক অভিজ্ঞতা হলো যা আজীবন সঙ্গে থাকবে|আর এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি নতুন এই বছরকে|
বছরের এই প্রথম দিন আরো একটা কারনে উল্লেখযোগ্য তাহলো কল্পতরু উৎসব ইতিহাস বলে, আজকের দিনেই ১৮৮৬ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ভক্তদের ইচ্ছাপূরণে কল্পতরু হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং তার গৃহি ভক্ত শিষ্য দের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তোমাদের চৈতণ্য হোক|কথিত আছে, ওই দিন রামকৃষ্ণ যাঁদের ছুঁয়েছিলেন, তাঁদের মনোস্কামনা পূরণ হয়েছিলেন। তারপর থেকেই নিজেদের মনোস্কামনা পূরণে কল্পতরু উৎসবে পুজো দিতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয় কাশীপুর উদ্যানবাটী এবং দক্ষিণেশ্বরে।
নতুন বছরে ফিরে আসবো নতুন লেখা, নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে অবশ্যই থাকবে কিছু নতুন চমক যা নিয়ে যথা সময়ে বলবো|আশা করবো সবার সব স্বপ্ন পূরণ হোক এই বছরে,আর যেনো কোনো নতুন বিপদে আমাদের না পড়তে হয়, মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার কৃপায় দূর হোক সব বাঁধা বিপত্তি, সব দিয়ে সার্থক ও সুম্দর হোক 2022|আমার সব শুভাকাঙ্খী ও দর্শকদের জানাই নতুন কল্প তরু উৎসব ও বছরের শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য – হনুমানজি ও সিঁদুর
আমরা বিশ্বাস করি ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করেন এবং bপ্রতি মঙ্গলবার হনুমানজি-কে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে গৃহস্থের মঙ্গল হয় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।এই উপাচারের সাথে জড়িত আছে এক পৌরাণিক ঘটনা রামভক্ত হনুমান-কে সিঁদুর দান করার পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে।পুরানে উল্লেখ আছে একদিন দেবী সীতাকে সিঁদুর পড়তে দেখে হনুমান সীতাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি কেন সিঁদুর পড়ছেন, উত্তরে সীতা হনুমানকে জানিয়েছিলেন,ঈশ্বর রামের দীর্ঘায়ুর জন্যই সিথিতে সিঁদুর পড়েন তিনি।হনুমান তখন ভাবেন যদি সিঁদুরই তাঁর প্রভু রামের দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি হয় তাহলে তিনিও সিঁদুর পড়বেন।তাই সীতার কথা শুনেই নিজের পুরো শরীরেই সিঁদুর মেখে নেন হনুমান।এখান থেকেই সূত্রপাত হয় তার সিঁদুর প্রীতির |গুরুর প্রতি শিষ্যের এমন ভালোবাসা ও ভক্তির কথা জানতে পেরে শ্রীরামচন্দ্র হনুমানকে আশীর্বাদ করেন যে, সবাই তাকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করবে। আর সেই থেকে আজও ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দান করে পুজো করা হয়।এরপর থেকেই হনুমান ভক্তরা মনে করেন, বীর হনুমানকে সিঁদুর দান করলে তিনি সেই সিঁদুর নিজের গায়ে মাখেন এবং ভক্তের সমস্ত ইচ্ছে পূরণ করে দেন।আপনারাও নিজ মনোস্কামনা জানিয়ে তার উদ্দেশ্যে সিঁদুর অর্পণ করতে পারেন|ভালো ফল পাবেন|এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনার ব্যাখ্যা পেতে পড়তে থাকুন প্রতিটি লেখা|জ্যোতিষ বিষয়ে পরামর্শ ও সমস্যার সমাধানের জন্য যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|