Home Blog Page 141

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কন্যা কুমারী

কখনো পেশাগত কারনে কখনো আবার নিছক বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে ঘুরে বেড়িয়েছি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে|শুধু তীর্থ যাত্রা নয়, বৈচিত্র পূর্ণ আমাদের দেশের মানুষ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি সবই আমায় মুগ্ধ করেছে বার বার|নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে|সেই সব উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেবো এক এক করে|আজ শুরু করবো দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ দিয়ে, শুরুতেই কন্যাকুমারী প্রথমেই বলি কন্যাকুমারী থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত অনবদ্য।এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার অদ্ভুত বৈচিত্র লক্ষ করা যায়|সমুদ্রের তীরে দেবী কুমারী আম্মান মন্দির। আজও পার্বতী এখানে কুমারীরূপে শিবের প্রতীক্ষারত। কাছেই লঞ্চঘাট। বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে যাওয়ার জন্য লঞ্চ ছাড়ছে। সাগরের মাঝে পাথুরে টিলার ওপর অজন্তা ও ইলোরার গুহামন্দিরের আদলে তৈরি রক টেম্পলটি।ভৌগোলিক ভাবে ভারতবর্ষের ম্যাপের একেবারে শেষবিন্দুতে তিনসাগরের মিলনক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিমাখা শহর কন্যাকুমারী ভারতের একেবারে দক্ষিণে পুণ্যতীর্থ কন্যাকুমারী এর অবস্থান। আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের ত্রিবেণী সঙ্গম হয়েছে এখানে।চারপাশে সমুদ্র আর উত্তাল জল রাশি আপনাকে নিয়ে যাবে এক অপার্থিব কল্পনার স্বর্গ রাজ্যে|বিবেকানন্দর সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এই স্থানের|বিদেশ পাড়ি দেয়ার আগে এই স্থানে ধ্যান মগ্ন হয়েছিলেন স্বামীজী|আজও এখানে ব্রোঞ্জের অবয়বে দাঁড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ।অন্যদিকে আরও এক বিশাল পাথরখণ্ডের ওপর ১৩৩ ফুটের মূর্তি তামিল কবি তিরুভাল্লুভারের। কুমারী মন্দিরের কাছে গান্ধী মেমোরিয়ালও একটি দর্শনীয় স্থান। গান্ধীজির চিতাভস্ম এখানে রাখা হয়েছিল।তিনটি কারণে কন্যাকুমারী বিশেষ এবং ব্যাতিক্রম প্রথম এটি ভারতের শেষ বিন্দু বা মূল ভূখণ্ডের শেষ প্রান্ত। দ্বিতীয় এখানে বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর আর ভারত মহাসাগরের মহামিলনে নীল জলরাশির এক রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চ থাকে সব সময়। তৃতীয় এখানে আছে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম চিন্তাবিদ এবং গুরু স্বামী বিবেকানন্দের নামাঙ্কিত ‘বিবেকানন্দ রক’। ভারতের বৈচিত্র ও বিশালত্ত্ব অনুভব করতে হলে আসতেই হবে এখানে|আবার পরের পর্বে দক্ষিণ ভারতের অন্য কোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে ফিরে আসবো|ভাগ করে নেবো আমার অভিজ্ঞতা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ঘাট শিলায় পন্ডিতজি

পেশাগত কারনে এই মুহূর্তে ঘটশিলার পথে, যেতে যেতে এই আদিম অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছে হলো তাই কলম ধরলাম,

চারিদিকে উঁচু নীচু পাহাড়ের টিলা,নদী, জঙ্গলে ঘেরা এই শান্ত পরিবেশ ঘিরেই ঘাটশিলার প্রকৃতি।
ঘাটশিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। কথিত আছে এই নদীর বালুতটে নাকি সোনা পাওয়া যায় এখনও তাই এই নদীকে সুবর্ণরেখা নদী বলা হয়।

ঘাটশিলা মহান বাঙালি ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্যও বিখ্যাত, তাঁর অন্যতম প্রধান উপন্যাস “পথের পাঁচালী” অনুপ্রাণিত হয়েছিলো এই মনোরম প্রকৃতির দ্বারা যে গল্প নিয়ে পরবর্তীতে সিনেমা বানিয়েছেন সত্যজিৎ রায়।প্রকৃতিপ্রেমী লেখক এখানে একটি বাড়িও করেছিলেন, নাম দিয়েছিয়েন “গৌরী কুঞ্জ”, তাঁর স্ত্রী’র নাম অনুসারে এই বাড়ির নামকরণ করা হয়।

ঘাটশিলার একটি পৌরাণিক সংযোগ ও রয়েছে, এখানে রয়েছে পঞ্চপান্ডব পাহাড় যা মহাভারতের পাণ্ডবের পাঁচ ভাইয়ের প্রাকৃতিক সৃষ্টি বলে ধরা হয়|পাহাড়ের কথা উঠলে এখানকার ফুলডুংরী পাহাড়ের কথা এসেই পরে, এই পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘাটশিলা শহরের একটি দুর্দান্ত দৃশ্য দেখতে পারবেন|

ঘাটশিলায় একটি অতি প্রাচীন ও জনপ্রিয় মন্দির ও রয়েছে, ধলভূম রাজা জগন্নাথ গালুদিহে “রঙ্কিনী মন্দির” নির্মাণ করেছিলেন যা ঘটশিলার দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম|

আপনার মধ্যে যদি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে একবার অবশ্যই আসতে হবে ঝাড়খন্ডের এই পাহাড়ি এলাকায়|পাহাড়, নদী, অরণ্যে, টিলা, মন্দির, প্রাকৃতিক ঝর্না সব মিলিয়ে এই ঘাটশিলা আপনাকে নিয়ে যাবে এক আদিম নৈসর্গিক প্রকৃতির মাঝে যেখান থেকে হয়তো আর কৃত্তিম ও যান্ত্রিক শহরে ফিরে আসতে মন চাইবেনা|

আপাতত এই প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাওয়ার পালা নিদ্দিষ্ট গন্তব্যে|আবার লিখবো যথা সময়ে, অন্য কোনো পর্যায়ে অন্য কোনো স্থান নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

জয় হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আজ হনুমান জয়ন্তী, আজ তার জন্মতিথিতে তার জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা হয়তো অনেকেরই অজানা|অনেকেই মনে করেন বজরংবলী ব্রহ্মচারী, অবিবাহিত| একথা আংশিক সত্য,পুরান অনুসারে হনুমান বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে|আবার তিনি ব্রহ্মচারী এবং সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীও বটে! কিকরে সম্ভব?সূর্যদেব ছিলেন হুনুমানের শিক্ষক, তিনি নয়টি ব্যাকরণ সূত্রের নবনিধীর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নবম সূত্রটি কেবল মাত্র বিবাহিত দের জন্যে তাই বিবাহ করা বাধ্যতামূলক ছিলো|এই কারনে শিবের আশীর্বাদে শুভ্রলা নামে একটি কন্যা সৃষ্টি হয় এবং হনুমানের সাথে তার বিবাহ হয় ও বিবাহের পরের মুহূর্তেই শুভ্ৰলা অদৃশ্য হয়|এই ভাবে বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী রয়ে গেলেন হনুমান|অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে হনুমান তার স্ত্রী শুভ্ৰলার সাথে একত্রে পূজিত হন|এবার আসি হনুমানের পুত্রের বিষয়ে, হ্যাঁ তার একটি পুত্র ছিলো যার জন্ম হয়ে ছিলো অদ্ভুত ভাবে, লঙ্কা অভিযানের সময়ে হনুমানের শরীরের এক ফোঁটা ঘাম পড়েছিলো সমুদ্রে এই ঘামের বিন্দু থেকে জন্মান হনুমান পুত্র মকরধজ|আজ হনুমান জয়ন্তীতে এইটুকুই|সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|সুস্থ থাকুন|জয় হনুমান|ধন্যবাদ|

শুভ নববর্ষ

আজ আমাদের মানে বাঙালিদের বড়ো আনন্দের দিন, আজ নতুন বাংলা বছরের সূচনা,আমরা ঢুকে পড়ছি একটি নতুন বছর 1429 সালে|প্রথমেই আপনাদের জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা|

বাংলায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়|
এককালে এই দিনটায় হতো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে|

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে|

পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা বছর গণনা শুরু হয় আকবরের আমল থেকে, সেদিক দিয়ে আলাদা করে বাংলা নব বর্ষ বা পয়লা বৈশাখ পালনের কারন কিছুটা অর্থনৈতিক|জমিদাররা এই দিন থেকে রাজস্ব দানের নতুন খাতা শুরু করতেন|
মুঘল আমলের প্রথম দিকে ইসলামিক রীতি অনুসারে হিজরি সন অনুযায়ী চলত শাসন। কিন্তু সমস্যা হত খাজনা আদায়ে। কারণ চাঁদের ওপর এই সন নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। খাজনা আদায়ের বিষয়টিকে আরও মসৃণ  করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন সম্রাট আকবর। তাঁর নির্দেশেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেউল্লাহ সিরাজি বাংলা সন গণনা শুরু করেন। প্রথমে একে বলা হত ফসলি সন। পরে বঙ্গাব্দ শব্দটি প্রবর্তিত হয়।  সেই সময়ে চৈত্র মাসের শেষের দিন খাজনা আদায়ের শেষ দিন বলে ধরা হত।আর তারপর দিন উৎসব হিসেবে নব বর্ষের সূচনা বা পয়লা বৈশাখ পালন করা হতো|এই রীতি অনুসরণ করেছিলেন মুর্শিদকুলি খা যা বাঙালির ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রে এখনো চলছে, আজও এই দিনে নতুন হাল খাতা চালু হয়|

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রেও পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব রয়েছে সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুবসংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়কপূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে, গ্রহের এই সঞ্চার মানুষের জীবনকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে|সে নিয়ে পরে কখনো বিস্তারিত আলোচনা করবো|

এখন বাঙ্গালীর প্রধান উৎসব গুলোর অন্যতম এই পয়লা বৈশাখ তবে এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই পয়লা বৈশাখ পালন, এই বিশ্বায়নের যুগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালি আর পয়লাবৈশাখ ও পালিত হচ্ছে গোটা বিশ্ব জুড়ে, আজ বাঙালির শ্রেষ্ট উৎসব গুলোর মধ্যে অন্যতম এই বর্ষবরণ উৎসব|গাজনের মেলা, চরক উৎসব এই নববর্ষ উদযাপনকে অন্য মাত্র দেয়|

সব গ্লানি ও ব্যার্থতা ভুলে নতুন বছর নতুন করে শুরু করুন|আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – কলেশ্বর শিব মন্দির

আজ শুরু করবো এই চরক এবং গাজন উৎসব নিয়ে,চরক মূলত বাংলার লৌকিক উৎসব হলেও পুরানে এর উল্লেখ আছে , লিঙ্গ পুরানে স্পষ্ট বলা আছে চৈত্র মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা নাচ গানের প্রথাকে বলে চরক|আবার অন্য একটি তথ্য অনুসারে বানরাজ দ্বারকাধীশ কৃষ্ণর কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার আরাধ্য মহাদেবকে নিজ রক্ত নিবেদন করে তুষ্ট করেন অমরত্ব লাভের আশায় সেই সাধনাকে স্মরণ করা হয় চরক উৎসবের মাধ্যমে|লোকমুখে শোনা যায় যে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা প্রথম করেছিলেন এই পুজো এবং ক্রমে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সারা বাংলা জুড়ে|এককালে সাধু সন্ন্যাসীরা বিরাট শোভাযাত্রা বের করতো চরক উপলক্ষে, শরীরে তীক্ষ্ণ অস্ত্র বিঁধিয়ে দেয়া থেকে আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ, বঁটি ঝাঁপ অনেক রীতিই পালন হতো|গ্রামবাংলায় আজও চৈত্রের শুরু থেকেই ধ্বনিত হয় ‘বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে’। সমাজের প্রান্তিক স্তরের নারী-পুরুষের একাংশ সন্ন্যাস পালন করেন। কেউ কেউ আবার শিব-পার্বতী সেজে হাতে ‘ভিক্ষাপাত্র’ নিয়ে বের হন।কিছু অঞ্চলে চরকের মেলাও বসে যা চলে পয়লা বৈশাখ অবধি|এই চরক স্থান বিশেষে কোথাও নীল পুজো কোথাও গম্ভীরা কোথাও গাজন উৎসব|আজকের শিব ভূমি নিয়ে আলোচনায় এবার শুরু করাযাক শিবভূমি বীরভূমে বিক্ষিপ্ত ভাবে বহু ঐতিহাসিক শিবমন্দির রয়েছে যারা মধ্যে অন্যতম কলেশ্বর শিব মন্দির|নানা সময় নানা কিংবদন্তি, জনশ্রুতি, লোককথা প্রচলিত আছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, বহু মুনি ঋষির সাধনাক্ষেত্র ছিল কলেশ্বর ধাম। পর্বত নামে এক ঋষি এখানে দেবী পার্বতীর তপস্যায় রত ছিলেন। তাঁরই নামানুসারে গ্রামের নাম ছিল পার্বতীপুর। ঘন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল তখনকার এই অঞ্চল। আবার লোকমুখে শোনা যায়, ধানঘড়া গ্রামের কলেশ ঘোষ পুজো করে শিবকে তুষ্ট করেন|তার নাম অনুসারেই নাম কলেশ্বর হয়েছে|মন্দিরটির ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানা যায়, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে স্থানীয় ঢেকার স্বাধীনচেতা নরপতি রামজীবন রায় মন্দিরটি সংস্কার বিষয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি নিজে শিব শক্তির উপাসক ছিলেন আর স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে মন্দিরটি মোহনীয় রূপে তৈরিতে ব্রতী হন। তখনই নির্মিত হয় নয়টি চূড়া বিশিষ্ট সুউচ্চ মন্দির।বর্তমান কলেশ্বর-কলেশনাথ মন্দিরের উচ্চতা একশো ফুটেরও বেশি। ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী তিথিতে শৈবতীর্থ কলেশ্বর ধামে শিবরাত্রি ব্রত উৎসব পালন করা হয়। আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|চরক ও গাজন উৎসবের আনন্দে নিন|শুভ নব বর্ষের আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – জল্পেশ শিব মন্দির

আজ নীল ষষ্টি উদযাপন তাই শুরু করবো নীল ষষ্ঠীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়ে |এই নীল পুজো আসলে শিবেরই পুজো, নীল আর কেউ নয় স্বয়ং শিব|নীল বা নীলকণ্ঠ মহাদেব শিবের অপর নাম। চৈত্র মাসে সেই নীল বা শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর শিবজায়া সতী পুনরায় সুন্দরী কন্যারূপে নীলধ্বজ রাজার গৃহে আবির্ভূতা হন ৷ রাজা তাঁকে নিজ কন্যারূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন ৷ বাসর ঘরে নীলাবতী শিবকে মোহিত করেন এবং পরে মক্ষিপারূপ ধরে ফুলের সঙ্গে জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৷ রাজা-রাণীও শোকে প্রাণবিসর্জন দেন ৷ নীলপূজা শিব ও নীলাবতীরই বিবাহ-অনুষ্ঠানের স্মারক ৷আজ উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত এক শিব তীর্থর কথা উল্লেখ করবো|উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র হল জল্পেশ মন্দির।কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের বাবা বিশ্ব সিংহ ১৫২৪ সালে প্রথম এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।১৫৬৩ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৬৬৩ সালে রাজা প্রাণ নারায়ণও একবার মন্দিরটি নতুন করে গড়ে তোলেন।জল্পেশ মন্দির প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন তত্ত্বর অস্তিত্বও রয়েছে|কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন|জল্পেশ নামে কোনো এক প্রতাপশালী রাজবংশী ক্ষত্রিয় রাজা অথবা সর্দারের নাম ছিল জল্পেশ। তাঁর নাম অনুসারে মন্দিরের নাম হয়েছে জল্পেশ। হয়ত তিনি কোনো দৈব শক্তির অধিকারী ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁকে দেবতায় উন্নীত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে এমন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন নর দেবতায় রূপান্তরিত হয়েছে এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে। জল্পেশ হয়ত কোনো শক্তিশালী গ্রামদেবতা ছিলেন। পরে কোচবিহারের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শিবের সঙ্গে একীভূত হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রধান দেবতা বলে স্বীকৃত হয়েছেন ।তবে শাস্ত্র মতে ভ্রামরী শক্তিপিঠের ভৈরব হলেন জল্পেশ। শিব এখানে গর্তের মধ্যে রয়েছেন, তাই তিনি অনাদি নামেও পরিচিত।উত্তর বঙ্গ ভ্রমন অসম্পূর্ণ থেকে যায় বাবা জল্পেশ্বর এর দর্শন ছাড়া|বিশেষ করে শ্রাবন ও চৈত্র মাসের বহু দর্শণার্থী আসেন|বিশেষ পুজো হয় এবং সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় থেকে দূর দুরন্তর মানুষ|আবার দেখা হবে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন শিব ভূমি|ফিরে আসবো অন্য কোনো শিবভূমি নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – বাণেশ্বর শিবমন্দির

আজ শিব ভূমির শুরুতে শিবের অস্ত্র ত্রিশূল নিয়ে বলবো, পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু যিনি নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি স্বয়ং কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র, এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমায় বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যপত্নী সংজ্ঞাও কিছুটা স্বস্তি পান|আজকের শিব ভূমি বানেশ্বর শিব মন্দির|কোচবিহারের বিখ্যাত মন্দিরগুলির মধ্যে বাণেশ্বর শিবমন্দির অন্যতম। মন্দিরটির উত্তর দিকে অবস্থিত একটি চালামন্দির ত্রিরথ; সিংহাসনের শীর্ষে পদ্মের উপর শিবমূর্তির উপবিষ্ট বিগ্রহ ও এক অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি অধিষ্ঠিত। পিতলের মূর্তি উচ্চতায় ৬ ইঞ্চির মতো। অর্ধনারীশ্বরের অর্থাৎ শিবদুর্গার সম্মিলিত পৌরাণিক রূপ বাণেশ্বর বলেও আখ্যাত। মূর্তির ডান দিকে শিবের জটা আর বাম দিকে দুর্গার মাথায় অর্ধ পদ্মাকৃতি মুকুট দেখা যায়।মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে নানা মতবাদ চালু আছে। কেউ বলেন বাণরাজা কেউ বলেন রাজা জল্পেশ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে মহারাজা প্রাণনারায়ণই ইটের প্রাচীর ঘিরে মন্দিরটি সংস্কার করেছিলেন।কিংবদন্তি অনুসারে দৈত্যরাজ বাণাসুর বাহুবলে স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবতাদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাণাসুর ছিলেন শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত। দেবতাদের দুর্দশা দেখে শিব বাণাসুরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বর্গরাজ্য দেবতাদের ফিরিয়ে দিতে। বাণাসুর একটি শর্তে স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছিলেন। সেটি হল যদি তাঁর উপাস্য দেবতা এই স্থানে অধিষ্ঠান করেন। সেই সময় থেকেই বাণেশ্বর শিবের প্রতিষ্ঠা।বানেশ্বর মন্দিরটি উচ্চতায় ৪০ ফুট, গম্বুজাকৃতি, বাঁকানো কার্নিশ এবং মন্দিরটি পশ্চিমমুখী। মন্দিরের গর্ভগৃহটি মাটির সমতল থেকে ৭ ফুট নীচে সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয়। মন্দিরের অভ্যন্তরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ এবং গৌরীপট্ট প্রতিষ্ঠিত। পাশেই আরেকটি মূর্তি রয়েছে দু’হাতে ত্রিশূল নিয়ে। দেবী চণ্ডীর পিতলের মূর্তি। পাশে রয়েছে পাথরের তৈরি একটি ছোটো বিষ্ণুপট্ট, তাতে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গঙ্গা, যমুনা মূর্তি খোদিত।শিব চতুদর্শীতে এবং চৈত্র মাসে বাণেশ্বর মহাসমারোহে পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সপ্তাহব্যাপী মেলা চলে।চলবে শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|আপনাদের সবাইকে নীল ষষ্ঠীর আগাম শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|নমস্কার|

শিব ভূমি – তারকেশ্বর মন্দির

বাংলার শৈব্য তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম তারকেশ্বর শিব মন্দির যা হুগলীতে অবস্থিত|দেশ বিদেশের শিব ভক্ত দের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র এই স্থান|অবশ্য তারকেশ্বর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে একটি বৌদ্ধ মন্দির। এই স্থানটির নাম দেউলপাড়া। এটি হুগলি জেলার একমাত্র বৌদ্ধ মন্দির।শোনা যায়, তারকেশ্বর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বিষ্ণুদাস নামের এক শিবভক্ত। উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে হুগলিতে বসবাস শুরু করেন তিনি।লোককথা অনুযায়ী, বিষ্ণুদাসের ভাই দেখেন স্থানীয় জঙ্গলে একটি কালো পাথরের ওপর গরুরা নিয়মিত দুধ দান করে আসে। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে সে তিনি কথা বিষ্ণুদাসকে জানান। আর এর পরই স্বপ্নাদেশে ওই পাথরটিকে শিবজ্ঞানে পুজো শুরু করেন বিষ্ণুদাস।শিবের তারকেশ্বর রূপ অনুসারে এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়। তারকেশ্বরের মহাদেবকে বলা হয় স্বয়ম্ভূলিঙ্গ ৷ কারণ তারকেশ্বরের শিবলিঙ্গ কেউ স্থাপন করেননি। অন্যদিকে, গঙ্গার পলল ভূমিতে ওই ধরনের পাথর মেলাও মুশকিল। তাই মনে করা হয়, শিব এখানে স্বয়ং অবির্ভূত হয়েছিলেন|তারকেশ্বর শিবের মন্দির এই তীর্থের প্রধান আকর্ষণ। মন্দিরটি বাংলা আটচালা শৈলীর মন্দির। মন্দিরের সামনে একটি নাটমন্দির অবস্থিত। অদূরেই কালী ও লক্ষ্মী-নারায়ণের দুটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের উত্তরে অবস্থিত পুকুরটির নাম দুধপুকুর। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুকুরে স্নান করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে অসংখ্য মানুষ এই পুকুরে স্নান করেন|সারাবছরই তারকেশ্বর মন্দিরে পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। প্রতি সোমবার ও শ্রাবণ মাসে শ্রাবনী মেলাতে প্রচুর জনসমাগম হয়। এছাড়া ফাল্গুন মাসে শিবরাত্রিও চৈত্র-সংক্রান্তিতে গাজন উৎসবেও বহু মানুষ আসেন। সমগ্র শ্রাবণ মাস জুড়ে প্রতি সোমবার শিবের বিশেষ পূজা হয়ে থাকে এবং সেই উপলক্ষে বহু মানুষের আগমন ঘটে এই তীর্থে|আগামী পর্বে বাংলার নতুন কোনো শিব ভূমি নিয়ে ফিরে আসবো |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

রামনবমীর শুভেচ্ছা

রামচরিতমানস অনুসারে আজকের তিথিতে অভিজিৎ নক্ষত্রে জন্মে ছিলেন প্রভু শ্রী রাম|শাস্ত্রমতে এই রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন। সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় বইগুলি থেকে পাঠ করে শোনাবার রীতি আছে| এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে সহজেই বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায়, অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয় আজকের দিনে|ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে। বিশ্বের বহু দেশেই রামের মন্দির আছে,ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম রাম মূর্তি|শ্রী রাম সততার প্রতীক, ত্যাগের প্রতীক,অসত্যর উপর সত্যর জয়ের প্রতীক|রাজ ধর্ম পালন করতে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেনতা এক দৃষ্টান্ত|রাম নামকে বলা হয় কলিযুগের সব অন্ধকারকে দূর করে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র|বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতেনানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেন|ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মেছিলেন আজকের দিনে, এই দিনটি প্রতি বছর পালিত হয় রামনবমী রূপে, অর্থাৎ রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা। মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা|আপনাদের সবার জীবনে শুভ শক্তির বিকাশ হোক, ঘুচে যাক অন্ধকার|সবাইকে জানাই রামনবমীর অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবী অন্নপূর্ণা ও মহাদেব

আজ একটি বিশেষ পর্ব লিখছি আপনাদের জন্য, আজ মা অন্নপূর্ণার পূজার দিন,তিনি অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|কথিত আছে তার পুজোর পর দরিদ্রকে অন্ন দান করলে জীবন থেকে সব অভাব দূর হয়|নিষ্ঠাভরে দেবীর আরাধনায় সংসার হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ|আজ জানাবো দেবীর আবির্ভাবের কথা এবং মহাদেব কিভাবে যুক্ত দেবীর অন্নপূর্ণার সাথে তাও বলবো|এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে|পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে দেবাদিদেবের মতবিরোধে দেবী কৈলাস ত্যাগ করলে মহামারি, খাদ্যাভাব ঘটে। ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও আকাল ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবকে চিনতে মহাদেবের একটুও দেরি হয় না। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করেন ও অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন|এরপর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী তার কৃপায় কাশিতে ইচ্ছা থাকলেও অনাহারে থাকা যায়না, প্রত্যেক কাশী বাসির অন্নদানের ভার দেবী অন্নপূর্ণার|অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদাতিনি দেবী দুর্গার আরেক রূপভেদ।মূলত দ্বিভূজা বা চতুর্ভূজা । গায়ের রঙ লালচে। দ্বিভূজা দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে, আবার অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে|সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম|আজ দেবীর পুজোর দিনে তার মহিমা সংক্ষেপে বর্ণনা করলাম|দেবীকে আমার প্রণাম জানাই|আগামী পর্বে আবার শিব ভূমি নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|